post
এনআরবি বিশ্ব

ফ্লোরিডায় ৪ দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ফেয়ার এ্যান্ড ফেস্ট’ ৯ দেশের শতাধিক বিজ্ঞানী-উদ্ভাবক-শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: চার দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ফেয়ার এ্যান্ড ফেস্ট’ ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডোতে শুরু হয়েছে বৃহস্প্রতিবার ৯ জুন। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ছাড়াও সাত দেশের বিষয় বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিচ্ছেন।ব্যবসা-সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক অর্থনীতি, ট্যুরিজম, ইভেন্ট মার্কেট, ইয়ুথ ট্যালেন্ট ইত্যাদি আলোকে ৮টি সেমিনার ছাড়াও থাকবে উদ্ভাবনী জগতের লোকজনের নেটওয়ার্কিং। রয়েছে জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনাও। এই উৎসবের মূল পর্ব অর্থাৎ সকল গবেষক-উদ্ভাবক-বিজ্ঞানীগণের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন শনিবার লিজেন্সী ইভেন্ট অডিটরিয়ামে। ৭ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এই উৎসবের হোস্ট ‘এসোসিয়েশন অব ওয়ার্ল্ড ফেয়ার এ্যান্ড ফেস্ট ইউএসএ’র নেতৃবৃন্দ আরো জানান, বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য উপস্থাপনাকারিগণের মধ্যে থাকবেন ময়লা-অবর্জনাকে মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবনকারি বাংলাদেশি আমেরিকান বিজ্ঞানী এবং কানেকটিকাটে অবস্থিত ‘ওয়াস্ট টেকনোলজিজ’র সিইও ড. মঈনুদ্দিন সরকার, ইউনিসেফ স্টাফ এসোসিয়েশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এ কে মাসুদ আহমেদ, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী নাঈম খান, আনোয়ার হোসেন, উদ্যোক্তা ফারজানা আলী, জিউনেস গ্লোবালের পরিচালক বেটি পেরেজ, মিন্টু কুমার রায়, লুইসা ইউ, ড. ইশাক শরিফ, ভেরনিকা কে ফাজিও, তাকভির শাহ, সাদমান রহমান প্রমুখ। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়কে এ উৎসবে আজীবন সম্মাননা জানানো হবে। আরো উল্লেখ করা হয় যে, এটি হবে প্রথম আয়োজন। উৎসবের দ্বিতীয় বার্ষিক আয়োজনটি হবে সামনের বছর নিউইয়র্কে-এ তথ্য জানিয়ে এখন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের আশা পোষণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এ আয়োজনের বিষয়ে কথা বলেন, ট্রেড এ্যান্ড ফেয়ার কমিটির পরিচালক মৃধা জসীম, অর্থ বিষয়ক পরিচালক আতিকুর রহমান, যুগ্ম সচিব আতিয়ার রহমান মার্শাল, পরিচালক ফাহাদ সোলায়মান, মাহমুদুল আলম দিপু, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সেলিম ইব্রাহিম, হোস্ট সংগঠনের পরিচালক জিল্লুর রহমান, জান্নাত রহমান তারামনি, পুরো আয়োজনের প্রিমিয়াম স্পন্সর ড. মঈনুদ্দিন সরকার প্রমুখ। মঞ্চে আরো ছিলেন কন্ঠশিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, কন্ঠশিল্পী মেহজাবিন মেহা, কন্সালট্যান্ট আলী এইচ ডনার।

post
এনআরবি লাইফ

বাগডিসির বনভোজনে ছিলো আনন্দ অপার

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি বা বাগডিসি আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত ৫ জুন রবিবার।আলেকজান্দ্রিয়া ফ্রন্ট হান্ট পার্কে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলে এই আনন্দ আয়োজন। সুশৃংখল এ আয়োজনে বাড়তি আনন্দ যোগ করে সাংস্কৃতিক পর্ব। ছোট-বড় ছেলেমেয়েদের জন্য ছিলো নানান ধরনের খেলা বা প্রতিযোগিতা। সঙ্গে উপহারতো ছিলোই। আর ছিলো রাফেল ড্র। তাতে টেলিভিশনসহ নানান লোভনীয় পুরস্কার। বাগডিসির এ বনভোজন সকলের জন্য ছিলো ফ্রি। তাদের জন্য ছিলো প্রচুর খাবারের আয়োজন। গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ডাল-ভাত ছাড়াও ছিল প্রায় ১৫ পদের বাঙালি ভর্তা ভাজি । মিষ্টি ,চানাচুর, চা সাথে গরমের সময়ে উপযোগী তরমুজ। এইদিন ফ্রন্ট হান্ড পার্ক পুরোদস্তুর বাঙালি সাজে সেজেছিলো। তবে সবচেয়ে চোখে পড়ে আয়োজকদের গোছানো ব্যবস্থাপনা আর সকলের সুশৃংখল অংশগ্রহণ। বাংলাদেশ থেকে আসা সবার প্রিয় শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী সংগীতের মূর্ছনা আর স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসানের উপস্থিতি ও বাগডিসি পরিবারের জন্য তার নৃত্য পরিবেশনা বনভোজনে অনন্য মাত্রা যোগ করে। ওগো মা ,দূরে কেন বলো না, মাগো মা॥ এই গানের মধ্যে দিয়ে বনভোজন শেষ হলেও শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী তার শাশুড়ি মাকে মাত্র একদিন আগে হারাবার যে কষ্ট বুকে চেপে শিল্পীর দেয়া কমিটমেন্ট রক্ষা করেন তা ছিলো সকলের মুখে মুখে। কিন্তু মাকে উৎসর্গ করে গাওয়া গানটির শেষ করতে পারেননি দিনাত জাহান মুন্নি... এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার এই হারানোর বেদনায় সমব্যাথি ছিলো বাগডিসি পরিবারও। তবে ভালোবাসা ,শান্তি-সম্প্রীতি শৃঙ্খলা ,আনন্দ উৎসব এবং কমিটমেন্ট সবকিছু মিলে মিশে একাকার হয়েছিল বাগডিসি পরিবারের এই বনভোজনে। পুরো ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা মন খুলে উপভোগ করছেন বনভোজনের এই দিনটি।

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের জালালাবাদ সমিতি নির্বাচনে বদরুল-মঈনুল প্যানেলের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে ‘বদরুল-মইনুল’ প্যানেল।৫ জুন (রবিবার) নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং পেনসিলভেনিয়া স্টেটে স্থাপিত ৫ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মোট ১১ হাজার ভোটারের মধ্যে ৩৭১৫ জন ভোট দেন। ভোটে বদরুল এইচ খান (২৬৬৭) সভাপতি এবং মঈনুল ইসলাম (২৩৫৯) সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন।সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত যথাক্রমে মাসুদুল হক ছানু ৯৮০ ভোট এবং সাইকুল ইসলাম ১২১৪ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন পেয়েছেন ২৫৮৯ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শাহ মিজানুর রহমান ৮৮০ ভোট পেয়েছেন।মিসবাহউদ্দিনকে হারিয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে জয় পেয়েছেন মোহাম্মদ আলিম।যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা ইফজাল চৌধুরী ২৪৭১ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শাহীদুল হক রাসেল পেয়েছেন ১০২৬ ভোট।উল্লেখ্য, ১৯ সদস্যের কার্যকরী পরিষদের অপর কর্মকর্তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা সকলেই বদরুল-মইনুল প্যানেলের প্রার্থী। এরা হলেন সহ-সভাপতি-মোহাম্মদ শাহীন কামালী (সুনামগঞ্জ), শফিউদ্দিন তালুকদার (হবিগঞ্জ), বশির খান (মৌলভীবাজার), সহ-সাধারণ সম্পাদক-রোকন হাকিম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক-হোসেন আহমদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক-ফয়ছল আলম, ক্রীড়া সম্পাদক-মান্না মুনতাসির, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক-বোরহানউদ্দিন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক-জাহিদ আহমেদ খান, মহিলা সম্পাদক-সুতিপা চৌধুরী এবং নির্বাহী সম্পাদক-হেলিমউদ্দিন, শামীম আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন মানিক এবং মিজানুর রহমান।নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ায় স্থাপিত কেন্দ্রে ভোটের এই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আতাউর রহমান সেলিম। এ সময় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী এবং তাদের বিপুলসংখ্যক সমর্থকরাও ছিলেন। প্রত্যাশার পরিপূরক সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এ সময়। কমিশনের অপর সদস্যরা হলেন মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, আহমেদ এ হাকিম, মোশারফ আলম এবং সাব্বির হোসেন।ফলাফল ঘোষণার পর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত বিজয়ী সভাপতি বদরুল খান এবং সেক্রেটারি মঈনুল ইসলাম ভোটারগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অঙ্গীকার অনুযায়ী তারা ১০০ দিনের মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটিতে ‘জালালাবাদ ভবন’ প্রতিষ্ঠা করবেন।তারা জালালাবাদবাসীর প্রত্যাশার পরিপূরক যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেন।  

post
খেলা

টরোন্টোয় এসসিসি চ্যাম্পিয়নশিপ কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার ভেতর দিয়ে টরোন্টোয় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসসিসি চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল কাপ-২০২২। স্থানীয় অক্রিজ মাঠে টরোন্টোর বাঙালি কমিউনিটির শীর্ষ আটটি ফুটবল দল নিয়ে মূল প্রতিযোগিতা শুরু হয়।স্বাধীন কমিউনিটি কানাডা ইন্ক আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো হচ্ছে- বাংলা পাড়া ক্লাব, ডেন্টোনিয়া এফ সি, সিলেট ঈগলস, ওয়াটারলু, স্বাধীন এফ সি, সোলজারস, স্নাইপার,স্বাধীন কমিউনিটি কানাডা ইনক এবং মন্ট্রিয়েল। চারটি করে দল ২ গ্রুপে মোট ১২টি খেলায় অংশগ্রহন করে ৪ দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিটা খেলা ছিলো উপভোগ্য এবং মানসম্মত। দর্শকবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্য করার মতো। স্থানীয়রা নিজ নিজ ব্যাকইয়ার্ড অথবা ঘাসের উপর বসে পুরো প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন ।সেমিফাইনাল খেলে যে চারটি দল তারা হলো- স্বাধীন এফসি, সোলজার্স, মন্ট্রিয়েল এবং ওয়াটারলু। মন্ট্রিয়েল ২-১ গোলে স্বাধীনকে এবং সোলজার্স উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে ওয়াটারলুকে পরাজিত করে ফাইনালে উন্নীত হয় । ফাইনালের শুরুতেই সোলজার্স আক্রমণাত্মক খেলে এক গোলে এগিয়ে যায় । পরবর্ততে মন্ট্রিয়েল মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেও গোল পরিশোধ করতে পারেনি । সোলজারস 'এসসিসি চ্যাম্পিয়নশিপ কাপ-২০২২' জিতে নেয়। খেলা পরিচালনায় আয়োজক সংস্থার সমন্বয়কবৃন্দ ডিরেক্টর দেলওয়ার হোসাইন মিন্টু এবং ডিরেক্টর জুয়েল আহমেদকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন সংগঠনের ডিরেক্টর ইত্তেজা আহমেদসহ অতিথি আহমেদ নাসিরউদ্দিন, সাদ চৌধুরী, ফয়সল আহমেদ, রাব্বি, দিল আহমেদ, জবরুল ইসলাম, ফয়সল কবির, সৈয়দ সোয়েব,, রিয়াদ, নিসার চৌধুরী, মোঃ আজিজ এবং রায়ান। এই প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন ব্যারিস্টার জনাব ওমর হাসান আল-জাহিদ, রিয়েল্টর ইনভেস্টর সাব্বির চৌধুরী, ডেভেলপার দেলওয়ার হোসাইন মিন্টু, রিয়েল্টর মাহবুব ওসমানী, রিয়েল্টর শামসুল আলম রিয়াজ, ডেভেলপার নাজমুল জায়গিরদার রানা, সিইও সিএম ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফয়সাল আহমেদ এবং সিইও বাংলা মোটরস্ আনোয়ার আহমেদ।

post
যুক্তরাষ্ট্র

এনওয়াইপিডিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার: গর্ব ও সাফল্যের নতুন অধ্যায়

নূর এলাহী মিনা, নিউইয়র্কযতদুর জানা যায় সংস্থা হিসেবে প্রথম পুলিশি ব্যবস্থার সুত্রপাত হয় খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে, মিশরীয় সভ্যতায়। ঠিক সমসাময়িক সময়ে ইউরোপীয় সভ্যতাসমূহেও কোনো না কোনো ধারায় পুলিশি ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। নরম্যানদের ইংল্যান্ড বিজয়ের আগে ১০৬৬ সাল থেকে ইংল্যান্ডে সূচনা হয়েছিল অপেক্ষাকৃত পরিশীলিত এক পুলিশি ব্যবস্থা। এটি ছিল সম্প্রদায়ভিত্তিক। স্যাক্সন ফ্র্যাঙ্কপ্লেজ (অ্যাংলো-স্যাক্সন সিস্টেম) এর আওতায় পরিচালিত এই ব্যবস্থায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ একে অপরের সদাচরণের জন্য দায়ী থাকতেন এবং তাদের আরও দায় ছিল একত্রিতভাবে সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখার। আরও পরে ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ রবার্ট পিল, আধুনিক পুলিশিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে যার কথা বলা হয়ে থাকে, ‘গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের নীতি’ চালু করেন। পুলিশ শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ polis থেকে, যার অর্থ "শহর"।এসব তথ্যে ধারণা করা যায়, সভ্যতার সূচনালগ্নে যে সকল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, পুলিশ তার মধ্যে অন্যতম। যুগে যুগে কালে কালে সকল তর্ক-বিতর্কের বাইরে এসে একটিই প্রতিষ্ঠিত সত্য পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য, তা হলো ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’। ‘পরিক্ষীত বন্ধু’।২০১৭ সালের কথা। তখন কোনো এক কারণে আমার থার্ড গ্রেডার কন্যাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাস্তায় বিপদে পড়লে প্রথমে কার কাছে সাহায্য চাইবে? তার সহজ উত্তর ছিল ‘পুলিশ’। কারন ক্লাস টিচার এটি তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। সকালে বাচ্চাদেরকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় দেখি প্রতিটি ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করেন স্কুল পুলিশ সদস্যরা। পরম যত্নে ও নিরাপত্তার সাথে বাচ্চাদের স্কুল অব্দি পৌঁছে দেন তাঁরা। স্কুল চলাকালে ফ্রন্ট ডেস্কেও দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ সদস্যরা। ‘৯১১’ নিউইয়র্কের বিশ্বস্ত তিনটি ডিজিট। যার ওপর ভরসা করে বাঁচেন এই নগরবাসী। কল হলে মূহুর্তের মধ্যে পৌঁছে যাবে পুলিশ আপনার ঠিকানায়, পরের সকল দায়িত্ব তাঁদের। এমন হাজারো মানবীয় উদাহরণ রয়েছে পুলিশকে ঘিরে, সারা পৃথিবীতেই।আমার এই আলোচনা অবশ্য সকল পুলিশ কিংবা পুলিশ বাহিনী নিয়ে নয়। বরং সুনির্দিষ্ট করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)’-তে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসারদের গৌরবগাঁথা নিয়ে। এটি আমেরিকার মতো দেশে বাংলাদেশিদের একটি বড় অর্জন বলেই আমি বোধ করি। ডেটলাইন ৩১ মে ২০২২, সন্ধ্যা। লোয়ার ম্যানহাটানের ওয়ান পুলিশ প্লাজা। এটি এনওয়াইপিডি’র সদরদপ্তর। এর সুপরিসর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “এশিয়ান হেরিটেজ সেলিব্রেশন ২০২২”। অনুষ্ঠানটিতে আমার উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। এনওয়াইপিডি’র ভ্রাতৃবৎ (Fraternal) সংস্থাসমূহের এশিয়ান অংশ সেদিন প্রদর্শণ করেছিল তাদের সম্মৃদ্ধ ঐতিহ্যের নানা দিক। সাথে ছিল আবহমান সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ ‘খাবার’। একে একে মঞ্চে এলো এশিয়ান জাদে (Jade), কোরিয়ান আমেরিকান অফিসার্স এসোসিয়েশন, দেশি সোসাইটি, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান অফিসার্স সোসাইটি, পাকিস্তানি অ্যামেরিকান ল' এনফোর্সমেন্ট সোসাইটি, ও শিখ (Sikh) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। নিউইয়র্কের খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক সংগঠন “বাপা” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করল বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে। হল জুড়ে ভেসে এলো রবীন্দ্র সঙ্গীতের মূর্ছনা... “চেনা শোনার কোন বাইরে..”; আর হাল সময়ের দুর্দান্ত জনপ্রিয় “চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে চলো বাংলাদেশ..”। গানের সাথে মনকাড়া নৃত্য।একটি টেবিলে বসে আছি। আশেপাশে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ। খাবারের প্লেটে বিরিয়ানি, বাংলাদেশি মিষ্টি, মুরগির কোর্মা, ও বিভিন্ন দেশি ফিঙ্গার ফুড। এছাড়া রয়েছে ভারতীয়, কোরীয়সহ অন্যান্য আমেরিকান-এশিয়ান সংমিশ্রণের খাবার। পাশের সাংবাদিক বন্ধুটি বলে উঠলেন, “ভাবা যায়, এনওয়াইপিডি হেডকোয়ার্টারে বসে বাঙালি খাবার খাচ্ছি!”। মৃদ্যু হেসে বললাম, যা ভাবা যেতনা, তা এখন বাস্তবতা। সুদীর্ঘ পথচলায় এনওয়াইপিডির বাঙালি অফিসার ভাইয়েরা এটি অর্জন করেছেন, আমরা আজ তার স্বাক্ষী। দৃঢ়তার সাথে বললাম, হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশি অফিসারদের মধ্য থেকে কেউ চিফ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট হবেন, পুলিশ কমিশনার হবেন।বর্তমানে ১৬০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি অফিসার এনওয়াইপিডির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৩২ জন ইউনিফর্মড অফিসার এবং ১১০০ সিভিলিয়ান। রয়েছেন ৪ জন ক্যাপ্টেন, ১ জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, ১০ জন লেফটেন্যান্ট, ৪০ সার্জেন্ট ও ১২ জন ডিটেক্টিভ। সিভিলিয়ান (আন-আর্মড) পুলিশ সদস্যরা স্কুল সেফটি এজেন্ট, ট্রাফিক এজেন্ট, স্কুল ক্রসসিং গার্ড হিসাবে কর্মরত।এখানে পুলিশ বাহিনীর পদক্রমের প্রাথমিক ধাপে যোগ দিতে হয় ক্যাডেট প্রবেশনারি পুলিশ অফিসার হিসেবে। প্রশিক্ষণ ও প্রবেশনারি পেরিয়ড শেষে পুলিশ অফিসার হিসবে পদায়িত হন। এরপর সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট, লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন, ক্যাপ্টেন থেকে ডেপুটি ইন্সপেক্টর, ডেপুটি ইন্সপেক্টর থেকে ডেপুটি চিফ এবং ডেপুটি চিফ থেকে অ্যাসিসট্যান্ট চিফ, সেপদ থেকে চিফ হয়ে হন চিফ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট এবং সবশেষে সর্বোচ্চ পদ পুলিশ কমিশনার। এছাড়া ডিটেকটিভদের জন্য রয়েছে সার্জেন্ট থেকে ক্যাপ্টন পর্যন্ত আলাদা পদবিন্যাস। অফিসার থেকে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। ক্যাপ্টেন থেকে শীর্ষপদ পর্যন্ত আর কোনো পরীক্ষা নেই। দক্ষতা ও যোগ্যতার আলোকে সিটি মেয়রের সুপারিশে এসকল কর্মকর্তা চিফ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট এমনকি পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত হতে পারেন। তবে বলে রাখা ভালো চিফ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট হচ্ছেন ইউনিফর্মধারী পুলিশের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ পদ, এটি চার তারকা মর্যাদার। পুলিশ বাহিনীর অভিভাবক হিসেবে সিটি মেয়র পুলিশ কমিশনার নিয়োগ দেন। তিনি যে কোনো ব্যক্তি হতে পারেন, তবে অব্যশই আইন-শৃঙ্খলা বা পুলিশিং সংক্রান্ত পড়াশোনা বা জ্ঞানধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটি পাঁচ তারকা মর্যাদার। এছাড়া ডেপুটি কমিশনার বা ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার পদে যে কোনো কাউকে (প্রযোজ্য যোগ্যতাসম্পন্ন) নিয়োগ দিতে পারেন মেয়র। ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার পদটি সিভিলিয়ান পদ হলেও তা চার-তারকা মর্যাদার। বর্তমানে একজন সাংবাদিক জন মিলার এনওয়াইপিডি’র ডেপুটি কমিশনার এর দায়িত্ব পালন করছেন।যাহোক আবার ফিরে আসি বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সফল্যগাঁথা নিয়ে। এনওয়াইপিডির ৬৯ প্রিসিঙ্কট'র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন খন্দকার আব্দুল্লাহ। প্রথম বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা স্কোয়াডে লেফট্যানেন্ট কমান্ডার পদে দায়িত্ব পালন করছেন শামসুল হক। এছাড়া ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন মিলাদ খান, ক্যাপ্টেন পারুল আহমেদ নগরীর বিভিন্ন ডিভিশনে নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোহাম্মদ রহমান ও আনোয়ারুল কাদির। সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস এর এক্সিকিউটিভ ডিটেইলে রয়েছেন সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী ও সার্জেন্ট হুমায়ুন কবীর।১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এনওয়াইপিডি যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম পুলিশি প্রতিষ্ঠান, যার রয়েছে ৩৬ হাজার অফিসার এবং ১৯ হাজার সিভিলিয়ান সদস্য। প্রত্যাশা, হাডসন ও ইস্ট নদীর প্রবাহের মতো অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবেন এনওয়াইপিডিতে কর্মরত বাংলাদেশি অফিসাররা। কোন একদিন হয়তো নির্ঘুম এই নিউইয়র্ক নগরীর জল-স্থল-অন্তরীক্ষের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধানের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন কোনো এক বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার; যাঁর অবয়বে থাকবে বজ্রকঠিন দৃঢ়তা, অসম সাহস- কারণ তার পূর্বপুরুষগণ যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেটি অদম্য এক জাতিরাষ্ট্র, যেটি অদম্য এক দেশ -বাংলাদেশ; যার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান।আবার এমনই উষ্ণ বা শীত শীত কোন সন্ধ্যায় আলোঝলমল নিউইয়র্কের মঞ্চ কাঁপিয়ে সমস্বরে গেয়ে উঠবে বাংলাদেশি কোনো দল .. “চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে চলো বাংলাদেশ..”। কৃতজ্ঞতা জামিল সারোয়ারের প্রতি। খ্যাতনামা ডিটেকটিভ, এনওয়াইপিডি। তিনি লেখাটিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।

post
এনআরবি সাফল্য

নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি ও মেধাবী এক পাচকের গল্প

মাহমুদ মেননকাটলারির ঝনঝন শব্দ, রান্নার কড়াইয়ে তেল-পেয়াজের ভিজভিজ আওয়াজ কিংবা আঁচওঠা উনুনে হঠাৎ ঝলসে ওঠা আগুন এসবই ভালো লাগে খলিলের। দিনে রান্না ঘরে কাটে তার ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। আর তার হাতের যাদুতে সুস্বাদু হয়ে তৈরি হয় নানারকম খাবার। পুরো নাম মো. খলিলুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ভাগ্যের সন্ধানে ফেরা মানুষটি তার ভাগ্যের দেখা পেয়েছেন এই রান্নার চুলোয়, তেল-পেয়াজ-আলু-পোস্তয় আর থালা-চামচের সমারোহে। বেছে নিয়েছেন পাচকের জীবন। ইংরেজিতে আমরা বলি শেফ। সেটাই এখন তার সোনালী জীবন। বললেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এসেছিলেন, প্রতিদিন তার জন্য খাবার পাঠিয়েছিলাম, শুনেছি তিনি মজা করে খেয়েছেন।" কেবল কি শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর, মেয়র, অ্যাসেম্বলিম্যান, কাউন্সিলম্যানরা চেখে দেখেছেন খলিলের রান্না। প্রশংসা করেছেন। দিয়েছেন সাইটেশন, সনদ। খলিলুর রহমানের বিরিয়ানি হাউজে এসে তাকে পাশে নিয়ে ছবি তুলেছেন। সেসব ছবি বড় করে বাঁধাই করে বিরিয়ানি হাউসে সাজিয়ে রেখেছেন খলিল। তার দোকানের দেয়ালগুলো এখন সনদ, শংসাপত্রে ঠাসা। এটাই স্বার্থকতা, আর কীই চাই! বললেন খলিলুর রহমান। সত্যিই কি আর চাওয়ার থাকতে পারে একজন বিরিয়ানী ব্যবসায়ীর। যখন তার দেয়ালে শোভা পায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইভটাইম অ্যাচিভমেন্ট সার্টিফিকেট। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বাক্ষরিত। এসব খলিলকে গর্বিত করে। তবে তিনি আজও সবচেয়ে বেশি গর্বিত হন, যখন তার রান্না করা খাবার খেয়ে কেউ বলেন, বেশ মজা হয়েছে। খাবারটি তার জন্য উপভোগ্য ছিলো। প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বাক্ষরিত এই সনদ পাওয়ার অনেক আগেই খলিলুর রহমান বানিয়েছিলেন এক স্পেশাল বিরিয়ানি। যার নাম দিয়েছিলেন বাইডেন বিরিয়ানি। সেই নামের সাথে এই সনদের কোনো যোগসাজশ আছে কি? সে প্রশ্নে এক গাল হেসে খলিলুর বললেন, একেবারেই নেই। যেদিন প্রথম আমি বিরিয়ানির বিশেষ পদটি, সম্পূর্ণ নিজস্ব রেসিপিতে রান্না করি সেদিনটি ছিলো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল শপথ নেওয়ার দিন। সকলে তাকে বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কেউ ফুল দিয়ে, কেউ শুভেচ্ছাবাণি লিখে। আমি তার জন্য একটি নিজস্ব রেসিপি বানিয়ে বিরিয়াণি রান্না করে সকলকে খাওয়ালাম। সেটাই ছিলো আমার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রতি শুভেচ্ছা। কাজটি আমি করেছি স্রেফ ভালোবাসা থেকে। এই ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক খলিলুর রহমান গড়েছেন তার তৈরি খাবারের খদ্দেরদের সাথে। তিনি বলেন, মূল চিন্তাটি থাকে খদ্দের আমার তৈরি খাবার খেয়ে তার স্বাদ উপভোগ করতে পারলেন কিনা। তবে তেল-মসলায় জবজবে করে খাবার রান্না করা আমার কর্ম নয়। আমি চাই খাবারটি সুস্বাদু হবে ঠিকই তবে তা যেনো হয় স্বাস্থ্যকর। সে কারণে মসলার বাহুল্য যেমন আমার খাবারে থাকে না, তেমনি থাকে না তেল-ঘিয়ের মাখামাখি। এ জন্য যথেষ্ট মেধা খাটাতে হয়, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়, আর সর্বোপরি রাখতে হয় সর্বোচ্চ মনোযোগ। সে কারণেই আমরা খাদ্যপ্রেমি মানুষগুলোকে সেই খাবারই দিতে পারছি যা তাদের জন্য হয় স্বাস্থ্যকর। এটাই আমার খদ্দেরের প্রতি একমাত্র ভালোবাসা। কথাটি আরও গভীর উপলব্দির সাথেই উচ্চারণ করলেন মো. খলিলুর রহমান। তিনি বললেন, আমাদের দোকানে কেবল বয়ষ্করাই খেতে আসেন, তা নয়। তারা সাথে করে নিয়ে আসেন তাদের সন্তানদেরও। যারা এ দেশের নাগরিক। এদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতেও বড় হচ্ছে। এদেশে রয়েছে তাদের অপার সম্ভাবনা। আমার তৈরি খাবার মজা করে খায় নতুন প্রজন্মের এই ছেলে-মেয়েরাও। তাদের সুস্বাস্থ্যের দিকটি আমাদের চূড়ান্ত বিবেচনায় রাখতে হবে। সে কারণে এই খাবার রান্নাকে আমি কোনোভাবেই স্রেফ ব্যবসা হিসেবে দেখি না। আমি এটাকে সেবা হিসেবে দেখি, সর্বোপরি দেখি দায়িত্ব হিসেবে, বলছিলেন খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমানের সঙ্গে আরও কথা হলো নানা বিষয়ে তবে সেগুলোর আগে আসুন আমরা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে খলিল বিরিয়ানির পসরা কতটুকু বিস্তৃত তা দেখে আসি। এটা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস। ১৪৫৭, ইউনিয়ন পোর্ট রোড এটাই খলিলুর রহমানের মালিকানাধীন খলিল'স ফুডের ঠিকানা। এর আওতায় রয়েছে চারটি পৃথক প্রতিষ্ঠান - খলিল'স বিরিয়ানি হাউস- খলিল হালাল চায়নিজ- খলিল পিজা অ্যান্ড গ্রিল- খলিল সুপার মার্কেটবড় মার্কেটে বড় বড় চারটি দোকান। তবে খলিল বিরিয়ানি হাউসের মূল যে দোকানটি সেটি সেটি অপেক্ষাকৃত ছোট। ঠিক সড়কের উল্টো দিকে। যেখান থেকে খলিলুর রহমানের যাত্রা শুরু। এই দোকানটি এখনো তার সবচেয়ে প্রিয়। সেখানে কাউন্টার থেকে কথা বলছিলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। বলছিলেন তার স্বপ্নপূরণের কাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এসে আরও অনেকের মতো তিনিও একসময়ে অডজব করেছেন। তবে হোটেলেই কাজ বেশি করেছেন। ডিশ ক্লিনিংয়ের কাজ দিয়েই শুরু হয় এই ঢাবি স্নাতকোত্তরের। তবে তখন থেকেই মনে তার দানা বাঁধতে থাকে স্বপ্ন। একবার ভেবেছিলেন আইটিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে, আরও অনেকের মতো সে খাতেই ভাগ্য গড়বেন। কিন্তু সে চিন্তা খুব বেশি দিন কাজ করেনি। বরং মনে ইচ্ছা পোষণ করতে থাকেন একসময় শেফ হওয়ার। সেই চিন্তাটিকে কেন্দ্রে রেখেই তিনি শিখে নেন কালিনারি... অর্থাৎ রান্নার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষালব্দ জ্ঞান। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিয়েই, নিজ দেশের তথা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাবার বিরিয়ানি তৈরি ও বিক্রির উদ্যোগ নেন প্রথম। তাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় খলিল'স বিরিয়ানি হাউস। নিজের দীর্ঘ অড জব থেকে অর্জিত আয়, আর তা থেকে সঞ্চিত অর্থে মাত্র ৭০ হাজার ডলার খরচে কিনে নেন ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ছোট্ট দোকানটি। সেখানেই রান্না শুরু করেন বিরিয়ানি। সেটা ২০১৭ সাল। এরপরের গল্প কেবলই এগিয়ে চলার। সেই ৭০ হাজারের পূজি লগ্নি করে আজ পাঁচ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসার মালিক এই খলিলুর রহমান। একাগ্রতা আর কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাকে সাফল্য দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদটি তিনি দিতে চান তার তৈরি খাবারের খদ্দেরদের। খলিল বলেন, গ্রাহকই সবচেয়ে বড় কথা। আমি সেরা খাবার তৈরি করলাম, কিন্তু কেউ খেতে এলো না, তাতে আমার খাবার, তা যতই সেরা হোক, বিক্রি হবে না। তেমনি আবার গ্রাহক এলেন, খেলেন কিন্তু আমার খাবার মানসম্মত ছিলো না, তাহলে গ্রাহক চলে যাবেন। আর সর্বোপরি গ্রাহক খেলেন কিন্তু তৃপ্তি পেলেন না, তাতে ব্যবসা টিকবে না। সাথে রয়েছে একটি দামের প্রসঙ্গও। দাম যদি অনেক হয়, তা যদি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় তাহলে সে খাবারও খুব বেশি দিন কেউ খেতে আসবেন না। সুতরাং খাদ্যপ্রেমি মানুষের মুখের স্বাদ, পকেটের সামর্থ আর খাবারের সাধ এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে তিনি চেষ্টা করেন। তাতেই হয়তো এইটুকু সাফল্য এসেছে। কেবল বিরিয়ানি নাম হলেও খলিলুর রহমান তার ব্যবসা বিস্তৃত করেছেন চায়নিজ ফুড, পিজা অ্যান্ড গ্রিলেও। আর নান, রুটি, পরোটা- মাংস এগুলোতো রয়েছেই। নতুন প্রজন্ম পিজা খেতে পছন্দ করে তাদের কথা মাথায় রেখে পিজা তৈরি শুরু করেন। এবং বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বললেন, তার তৈরি পিজায় স্বাদের শতভাগ গ্যারান্টি রয়েছে এবং ব্র্যান্ডেড সব পিজার চেয়ে স্বাদে-গুনে কম কিছু নয়। তেমনি তার তৈরি চায়নিজ খাবার, ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, স্যুপ, ভেজিটেবল, চিকেন সিজলিং কিংবা বিফ চিলিজ এসবও বেশ সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। এত বড় ব্যবসা এক হাতে সামলান। তবে কর্মচারি ও সহকর্মীর সংখ্যা এখন শতাধিক। তার যে সুপার মার্কেট রয়েছে তাতে বিক্রি হয় মাছ-মাংস শাক-সব্জি। খলিল বলেন, তাজা তাজা খাদ্যপণ্য বিক্রির সুবাদে তার সুপারমার্কেটও এখন বেশ জমে উঠেছে। খলিল জানান, এই সুপারমার্কেটে কখনো বাঁসি গরুর মাংস, চিকেন বিক্রি হয় না। বললেন, সুপার মার্কেটে যে মাংস তোলা হয়, তার একটি বড় অংশই যায় তার প্রতিষ্ঠিত বিরিয়ানি হাউজ ও অন্য দোকানগুলোয়। আর বাকিটা দিনে দিনে খদ্দেররা কিনে নিয়ে যান। এতে প্রতিদিনই নতুন মাংস ওঠে। দিনশেষে বিক্রি হয়ে যায়। রান্না ঘরে খলিলকে ব্যস্ত দেখে সেখানে দাঁড়িয়েই কথা হচ্ছিলো। দক্ষ, শক্ত হাতে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ওলট-পালট করছিলেন কড়াই ভর্তি চওমিন ও ফ্রায়েড রাইস। বললেন, এগুলো করতেই তার সবচেয়ে ভালো লাগে। তাকে এক সঙ্গে তদারকি করতে হয়, ক্যাশ-কাউন্টার সামলাতে হয়। তবে এসবে এখন সিদ্ধহস্ত এক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের স্নাতকোত্তর এই খলিলুর রহমান। কথায় কথায় চলে গেলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। বললেন, বিশ্ববিদ্যলয় জীবনে একবার বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছিলাম গরুর মাংস রান্না করে খাওয়াবো বলে। তারা এলো কিন্তু আমার রান্নায় এতো লবন হয়েছিলো যে খাওয়া যাচ্ছিলো না। এতে আমার রোখ চেপেছিলো। এরপর আবারও মাংস রান্না করে বন্ধুদের দাওয়াত করলাম। তারা পেটপুরে চেটেপুটে খেলো। এই চেটেপুটে খাওয়া কাউকে খেতে দেখলে বেশ আনন্দ লাগে খলিলুর রহমানের। বললেন, খাবার স্বাদ হলেই খাদ্যপ্রেমিরা চেটেপুটে খান। আর সেটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। খলিল ফুডের চারটি দোকানের মধ্যে তিনটিই রেস্টুরেন্ট। এগুলো খাদ্য তালিকায় রয়েছে শতেক পদ। তবে খলিলের বিরিয়ানিটাই সকলের পছন্দ। খলিলের কাচ্চি বিরিয়ানি, গোট বিরিয়ানি, ল্যাম্ব বিরিয়ানি, বিফ বিরিয়ানি, ভেজিটেবল বিরিয়ানি এসবতো রয়েছেই, সাথে নানা পদের মাছ, ভর্তা-ভাত, রুটি সব্জি, মাংস রেজালা, ভাজাভুজি কি নেই খলিলের দোকানে। সবশেষ যুক্ত হয়েছে পিজা। তার সঙ্গে দই-মিষ্টিসহ আরও হরেক খাবার, হরেক পদ। গ্রাহকরা খলিলুর রহমানের চোকানে এলে কিছু না কিছু সেরা পছন্দের খাবার পেয়েই যান। তৃপ্তি করে খান। আর বলেন- বেজায় ভালো। 

post
শিক্ষা

বাংলাদেশে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফল সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বুধবার (২৫ মে) থেকে এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছে ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাস। এর আগে ঢাকায় দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানায়।দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, ফল সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মার্কিন দূতাবাসে আগামীকাল ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে। যারা ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য প্রস্তুত আছেন, তাদের দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। আগস্টের শেষ থেকে সাধারণত ফল সেমিস্টার শুরু হয়। ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে এ সেমিস্টার শেষ হলে শুরু হয় স্প্রিং সেমিস্টার। চলে মে পর্যন্ত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ফল সেমিস্টারেই বেশি ভর্তি হন।এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য- ডিএস-১৬০ পূরণ করা- সেভিস ফি জমা দেওয়া- ভিসা ফি জমা দেওয়া ও - দূতাবাসের প্রেসক্রাইবড ওয়েবসাইটে প্রোফাইল তৈরি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 

post
এনআরবি লাইফ

চলে গেলেন মাস্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন আজিজুল হক

মাস্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন আজিজুল হক চুন্নু আর নেই। জাপানের কোবে শহরে সোমবার (২৩ মে) ইন্তেকাল করেন এক সময়ের এই স্বনামধন্য মেরিনার (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।তিনি ছিলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার সুপরিচিত নূরুল হক উকিলের ছেলে। ক্যাপ্টেন আজিজুল ছিলেন প্রথম বাংলাদেশি মেরিনার যিনি ১৯৭১ সালে একটি পাকিস্তানি জাহািজ নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে গিয়েছিলেন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ছিলো তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর ফুপাতোভাই মোমিনুল হকের একটি লেখায় উল্লেখ রয়েছে এই ক্যাপ্টেন আজিজুল হকের কথা। ক্যাপ্টেন আজিজুল তখন প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী। সেই তারুণ্যেই তিনি বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করতেন ও তার সংগ্রামের সারথী ছিলেন, যা উল্লেখ রয়েছে মোমিনুল হকের ওই লেখায়। মার্চেন্ট নেভির ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আজিজুল হক চুন্নুর দীর্ঘ অবসর জীবন কাটছিলো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও জাপানের কোবেতে। মৃত্যুর আগে শেষ দিনগুলো তার কোবেতেই কাটছিলো বলে জানান মরহুমের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একজন।

post
শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার গল্প শোনালেন আবুবকর হানিপ

আবুবকর হানিপের নিজের গল্পটাই অনুপ্রেরণার এবং পথ দেখানোর গল্প। আর সে কারণে তিনি যে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে তার গল্পটাই সকলে শুনতে চান। আর শোনাতে চান আবুবকর হানিপ নিজেও। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটির (পূর্বনাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি) প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যান্সেলর, পিপলএনটেক'র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এনআরবিকানেক্ট টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সফল বাংলাদেশি আমেরিকান এই ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ।গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ'র উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ উৎসবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ, সংগ্রাম ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা ছিলো অনুষ্ঠানের মূল্য প্রতিপাদ্য। আবুবকর হানিপ ছিলেন এই আয়োজনের কিনোট স্পিকার।নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হয়েছিলেন সে আয়োজনে। অভ্যাগতদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটিতে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী ও ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর ছিলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি এবং পিপলএনটেক।পিপলএনটেকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিলেন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি এবং অন্য দেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিক্ষার্থী- প্রশিক্ষণার্থীরা। সেখানেই আবুবকর হানিপ তার নিজের জীবনের গল্পটি শোনাচ্ছিলেন। উপস্থাপনায় তিনি জানাচ্ছিলেন, কি করে এখানকার বাংলাদেশি ডায়াসপোরার মধ্যে একটি স্বপ্ন বুনে দিতে সক্ষম হয়েছেন। যার পথ ধরে এখানে প্রতিটি পরিবারে একসময় একজন করে ছিলেন ইয়ালো ক্যাব চালক; যা এখন ধীরে ধীরে প্রতি পরিবারে একজন করে আইটি প্রফেশনালে পরিবর্তিত হচ্ছে। এবং সে প্রক্রিয়ায় একটি বড় অবদান রেখে চলেছে তারই প্রতিষ্ঠিত পিপলএনটেক। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ৭০০০ বাংলাদেশি আজ আইটি প্রশিক্ষিত হয়ে চাকরির বাজারে ড্রিম জব করছে। যার প্রায় সবগুলোই সিক্সডিজিট প্লাস এর চাকরি।  আবুবকর হানিপ জানান, তার পরিচালনায় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি-ও একটি দক্ষতানির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এগুচ্ছে যা এখানকার সকল শিক্ষার্থীদের একটি ডিগ্রির পাশাপাশি সময়ের সবচেয়ে আগুয়ান ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলোতে দক্ষ করেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মবাজারে এগিয়ে দেবে। এতে করে এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী সেই একই রকম সিক্সডিজিট আর্নার হতে পারবে তাদের শিক্ষাপরবর্তী কর্মজীবনের শুরু থেকেই।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবুবকর হানিপ বলেন, ছাত্রাবস্থায় তারা যেনো এদেশের কোনো হাতছানিতে না ভুলে স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসটি অক্ষুণ্ন রাখেন এবং যথাযথভাবে তাদের ডিগ্রিটি সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে এটাই কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রধান চুক্তি। এদেশে শিক্ষা ভিসা নিয়ে যারা আসেন তাদের শিক্ষা শেষে রয়েছে অবারিত সুযোগ। তবে তা কোনোভাবেই শিক্ষা সম্পন্ন করার আগে প্রযোজ্য নয়।আমেরিকান ড্রিম সম্পন্ন করার একটি চমৎকার পথ এদেশে রয়েছে। ওপিটি, সিপিটি স্ট্যাটাসের পাশাপাশি এইচওয়ানবি স্ট্যাটাসের সুযোগ এবং তার পথ ধরেই গ্রিন কার্ড ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগটি আসে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সে পথেই চলতে হবে। অন্য কোনো শর্টকাট কিংবা অবৈধতার পথ বেছে নিলে তা পরিনামে ভালো কিছু বয়ে আনে না, উল্লেখ করেন কি-নোট স্পিকার আবুবকর হানিপ। তিনি আরও বলেন,, "নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজগতকে যতটা বুঝতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষ মানুষের দেশ। এখানে দক্ষদের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর সেই সম্ভাবনা থেকেই ডব্লিউইউএসটি তার শিক্ষার্থীদের দক্ষ করেই কর্মজগতে পাঠানোর প্রয়াস নিয়েছে। এবং শিগগিরই এই ঘোষণায় যাচ্ছে যে- নো জব নো ট্যুইশন। অর্থাৎ ডব্লিউইউএসটির গ্রাজুয়েটরা চাকরিবাজারে সুযোগ না পেলে তাদের ট্যুইশান ফি-ই ফেরত দেবে বিশ্ববিদ্যালয়।"  বিষয়গুলো যখন বলছিলেন একজন প্রত্যয়ী আবুবকর হানিপ, উপস্থিত দর্শকরা তা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন থার্টিসিক্সথ অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টএর অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান কে মামদানি, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলর সিডি ২৫ শেখর কৃষ্ণাণ, নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই, নিউইয়র্ক ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য মফিজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, অরগানাইজিয় সোসাইটি অ্যাট ডিআরইউএম-এর পরিচালক কাজি ফৌজিয়া, অ্যাস্টোরিয়া সোসাইটি ইউএসএ'র সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েদ উদ্দিন, বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার জামাল হক প্রমুখ। এরা সকলেই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন।তারা তাদের বক্তৃতায় বলেন, আবুবকর হানিপ নিজেই এখন নিজের পরিচয় এবং তিনিই এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তার নেতৃত্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে, যা প্রতিটি মানুষের গর্ব, উল্লেখ করেন বক্তারা।  দুটি পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রথম প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এশিয়ান অ্যামেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স অ্যান্ড এডুকেশন ফান্ড এর সিনিয়র স্টাফ এটর্নি স্টেইলি মার্ক।দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনায় একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষা জীবনের সংগ্রাম এবং পরে আমেরিকান ড্রিম অর্জনে তার সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। এই পর্বে আলো জনা করেন আরও দুইজন শিক্ষার্থী যারা পিপলএনটেক থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নেওয়ার পরে যে সফলতার পথ মাড়িয়ে চলেছেন তা নতুন শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।     সবশেষে ঈদ উৎসবে মজাদার সব ঈদের খাবার পরিবেশন করা হয় অতিথিদের মধ্যে।

post
দূতাবাস খবর

বাংলাদেশের ওয়াশিংটন দূতাবাসে বর্ষবরণ ও ঈদ পুণর্মিলনী

এক টুকরো বাংলাদেশ... এমনটাই বলা হয়। আর ঠিক তেমনই হয়ে উঠছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি'র বাংলাদেশ দূতাবাস... শুক্রবার সন্ধ্যায়। অভ্যগতরা এসেছিলেন বাঙালি সাজে। অনুষ্ঠান স্থলের সাজ-সজ্জ্বায়ও বাঙালিয়ানা। আর অনুষ্ঠান জুড়েও বাঙালি সব আয়োজন। খাবার পরিবেশনায় পুরোদস্তুর বাঙালি পদ- ভর্তা, পান্তা, শুটকি, শুক্তো, চিতই, পাটিশাপটা, সেমাই মিষ্টি। সাথে মাংস পোলাও তো রয়েছেই। বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়- আয়োজন ছিলো বৈশাখ বরণের। সাথে ঈদ পুণর্মিলনী। বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান দুটি উৎসব অবশ্য হয়ে গেছে আগেই। কিন্তু পহেলা বৈশাখে রমজান থাকায় এই উৎসবের আয়োজন বাংলাদেশ দূতাবাস তুলে রেখেছিলো ঈদের পরের জন্য। তাই এক সঙ্গে দুটি উৎসব হয়ে গেলো দূতাবাসে। সে কথাই বলছিলেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের মধ্যে ছিলেন অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরাও। এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা। তারা যেমন ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন আয়োজনের, তেমনি বাংলাদেশেরও। এসেছিলেন- দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কেলি কিডারলিন। তিনি বলেন, সংস্কৃতিতে সম্মৃদ্ধ একটি দেশ বাংলাদেশ। এই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনুস্বীকার্য। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কেলি কিডারলিন।  সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা পর্বের পরপরই শুরু হয় মঙ্গলশোভাযাত্রা। বাঙালির সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা নানা ধরনের প্লাকার্ড হাতে দেশি-বিদেশি অতিথিরা দুতাবাসের সামনের চত্ত্বরে ঘুরে এলেন সেই শোভাযাত্রা নিয়ে। আর সঙ্গে সেই প্রিয় গান--- এসো হে বৈশাখ এসো এসোমঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে অতিথিরা আবার চলে আসে অনুষ্ঠান স্থলে। সেখানে মঞ্চ সাজানো হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির নানা বিষয়কে তুলে ধরে। অতিথিরা আসন নিলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে উঠে পরপর দুটি গান গেয়ে শোনান। প্রথমে এসো হে বৈশাখ এসো এসো আর পরে ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম বলছিলেন এই দুটো উৎসব মানেই হচ্ছে পেটপুরে খাওয়া। সেই খাবারের আয়োজন ততক্ষণে শুরু হয়েছে। মুড়ি-মুরকি চটপটি ফুচকা কিংবা চানাচুর ভাজা। অন্যদিকে অনুষ্ঠানস্থলে চলছিলো একের পর এক গান... আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। তবে অনুষ্ঠানে সকলের মন ছুঁয়ে যায় চারটি বাংলা কবিতা শুনে। যারা এসব কবিতা পড়ে শোনান তারা কেউ বাংলাদেশি নন। গান- কবিতার পরে নাচ। এখানকার বাংলাদেশি নতনু প্রজন্মের মেয়েরা নাচে বাংলা গানের তালে। ততক্ষণে খাবারের মূল আয়োজন শুরু হয়ে যায়। চমৎকার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পর, বাঙালি সব খাবারে তৃপ্তি মিটিয়ে খান বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলো। মজা করে খান বিদেশি অতিথিরাও। এমন আয়োজন করতে পের খুশি রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটা দূতাবাসের একটি দায়িত্ব বাংলাদেশের উৎসবের দিনগুলোতে এখানকার বাংলাদেশিদের জন্য কিছু আয়োজন করা।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.