post
যুক্তরাষ্ট্র

‘ঈদ মোবারক’ লাইটিংয়ে ঝলসে উঠল জ্যাকসন হাইটস

১৩ বছর পর আবারও ‘ঈদ মোবারক’ লাইটিংয়ে ঝলসে উঠলো উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস। অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে ঈদ উপলক্ষে এই বিশেষ আলোক সজ্জার উদ্বোধন করেন ‘জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশন, এনওয়াই’র (জেবিবিএ) কর্মকর্তাসহ প্রবাসীরা। ‘ওয়েল কাম জ্যাকসন হাইটস’ লেখার নিচেই ‘ঈদ মোবারক’ ঝলসে উঠছে আলোক-প্রক্ষেপণে। এরমধ্য দিয়ে করোনায় বিপর্যস্ত প্রবাসীরা ঈদ আমেজে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুপ্রেরণা পেলেন বলে অনেক পথচারি মন্তব্য করেন।ফিতা কেটে আলোক-সজ্জা কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় ছিলেন জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট হারুন ভূইয়া, সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলম নমী, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কামরুজ্জামান বাচ্চু, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ পিয়ার, কাজী মন্টু, মহসিন ননী, সেলিম হারুন, ড. রফিক আহমেদ, মোহাম্মদ দুলাল, বারি হোমকেয়ারের কর্ণধার আসিফ বারি টুটুল, হাসিনা বারি, সাখাওয়াত বিশ্বাস প্রমুখ। ইফতারের পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ‘ঈদ মোবারক’ আলোক রশ্মিতে ভিন্ন এক আমেজে আপ্লুত হচ্ছেন ক্রেতা-সাধারণ। জেবিবিএর উদ্যোগে এর আগেও ঈদ উপলক্ষে রমজানের শুরুতে আলোকসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি জেবিবিএর নেতৃত্বে হারুন-ফাহাদ আসার পরই জ্যাকসন হাইটসে ক্রেতা-সাধারণের কাছে আরো বেশি আকৃষ্ট করতে নানামুখী পদক্ষেপের এটি অন্যতম একটি। জেবিবিএর সেক্রেটারি এবং কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের ডেলিগেট ফাহাদ সোলায়মান বলেন, অনেক স্বপ্ন রয়েছে জ্যাকসন হাইটসকে ঘিরে। পর্যায়ক্রমে তার বাস্তবায়ন ঘটাতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চাই। ফাহাদ বলেন, এটি শুধু ঈদে নয়, সারা বছরই চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ভিন্নভাবে। এটি যে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এলাকা, তা অন্য কম্যুনিটিকেও জানান দিতে চাই। সকলে যাতে সম্প্রীতির বন্ধনে আবব্ধ থেকে কেনাকাটা করতে পারেন-তারও একটি প্রয়াস।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে 'দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সুশীল সমাজের দায়িত্ব' শীর্ষক আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ে প্রবাসীদের ভূমিকা এবং সরকারের করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হলো নিউইয়র্ক সিটিতে সেন্টার ফর এনআরবি’র উদ্যোগে বৃহস্পতিবার 'দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব' শীর্ষক এক এক সমাবেশে। বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীরা দৃঢ় প্রত্যয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই অগ্রগতিকে টেকসই করতে দরকার বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত করা। এজন্য নিউইয়র্কে সোনালী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ একটি শাখা খোলা দরকার। যাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় কাজ এখান থেকেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এবং এ দাবিটি অনেক পুরনো হওয়া সত্বেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ নির্বিকার বলে মন্তব্য করা হয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলিক এই অবলম্বনকে বাস্তবায়িত করা হলে প্রবাসীদের বিনিয়োগের দৃশ্যমান অনেক কিছুই ঘটবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি। সরকারও প্রবাসীদের ব্যাপারে যথেষ্ঠ আন্তরিক। সহযোগিতার এই দিগন্তকে কাজে লাগিয়ে বহুজাতিক এ সমাজে বাংলাদেশের ইমেজকে সমুন্নত রাখতে প্রতিটি প্রবাসী একেকজন শুভেচ্ছা দূত বলে মনে করি। ড. মনিরুল বলেন, কনসাল জেনারেল অফিস, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস, লসএঞ্জেলেসে কন্স্যুলেট থেকে আমরা যাবতীয় সহযোগিতা দিতে বদ্ধ পরিকর। এনআরবি সেন্টারের এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারীরা অংশ নেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে সকলেই ব্র্যান্ডিং বিষয়ে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক এমপি এম এম শাহীন, ডা. মাসুদুল হাসান, শিক্ষাবিদ নাইমা খান, ইউএস আর্মি কর্মকর্তা জয় চৌধুরী, চেম্বার নেতা লিটন আহমদ, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রহিম হাওলাদার, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ও বাপার সাবেক সভাপতি সুমন সাইদ এবং মুহাম্মদ শামসুল হক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী ও নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা টিমের প্রধান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর, ব্যাংকার ইমতিয়াজ চৌধুরী, জ্যামাইকা ফ্রেন্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামিম আল রাসেল, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, তরুণ উদ্যোক্তা মফিজুল আহাদ শফি, সাংবাদিক এস এম সোলায়মান, আহাদ আলী সিপিএ, অধ্যাপক হোসনে আরা, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী তাসকিরুল ইসলাম নিবিড়, মূলধারার রাজনীতিক হাসান আলী, নিউ আমেরিকান ভোটার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডক্টর দিলীপ নাথ, কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহমান, মদিনা মসজিদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমদ, ব্যবসায়ী সানোয়ার চৌধুরী, জয়া হলের পরিচালক আব্দুল আহাদ, আইটি এক্সপার্ট শেখ গালিব রহমান, কমিউনিটি নেতা সৈয়দ আতিকুর রহমান। শেকিল চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে একেকজনের একেক মতবাদ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশি হিসেবে সকলেরই হৃদয় জুড়ে রয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। সবকিছুর উর্ধ্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন আর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে-তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার ক্ষেত্রে প্রবাসীরাও অনন্য ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হবেন। সে লক্ষ্যেই সেন্টার ফর এনআরবি কাজ করছে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীগণের প্রতি অনুরোধ জানান বাংলাদেশের ইতিবাচক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাস প্রজন্মকে সঠিক তথ্য অবহিত করার আহ্বানও জানান। আলোচনা শেষে জয়া হলের সৌজন্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কের এ সপ্তাহে ঈদমেলা, ইফতার মাহফিল ও অন্যান্য কর্মসূচি

ব্রঙ্কস বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে চাঁদ রাত মেলা শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। অন্যদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে চাঁদরাত মেলার আয়োজন করেছে ব্রঙ্কস বাংলাদেশি কমিউনিটি। ঈদের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ এপ্রিল অথবা ১ মে এটি অনুষ্ঠিত হবে। ব্রঙ্কসের স্টারলিং বাংলাবাজার ইউনিয়নপোর্ট রোডে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিল বিরিয়ানি হাউসের সত্ত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদ রাতের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন রোকসানা মির্জা, শাহ মাহবুব এবং নিলিমা শশী। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় থাকবেন সোনিয়া। চাঁদ রাত মেলায় ফ্রি থাকবে বিভিন্ন স্টল। থাকবে মেহেদি উৎসব এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।দারুল আহনাফের উদ্যোগে মজলিসে ইস্তেগফার ও সাহরি মাহফিলনিউইয়র্কের স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল আহনাফের উদ্যোগে মজলিসে ইস্তেগফার ও সাহরি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন সম্পন্ন হয় গতকাল ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে। ব্রঙ্কসের খলিল হালাল চায়নিজে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় রাত ২টায়। শুরুতেই ছিল থাকবে সালাতুত তাহাজ্জুদ, এটি পরিচালনা করেন মুফতি নোমান কাশেমী। রাত আড়াইটা থেকে ইসলাহি বয়ান করেন শায়খ হাম্মাদ গাজিনগরী। এরপর দোয়া ইস্তেগফার ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শায়খুত তাহকিক আল্লামা মুহিব্বুর রহমান। সবশেষে রাত ৪টায় সাহরি পরিবেশন করা হয়। পুরো আয়োজনে নিউইয়র্কের ইমাম, উলামা এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিলনিউইয়র্কে বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক ও মালিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ওয়াসিম উদ্দীন ভূইয়া। সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আবদুর রহিম হাওলাদার, সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী। এছাড়া জেবিবিএ-এর সভাপতি গিয়াস আহমেদ, নিউইয়র্ক গভর্নর প্রার্থী আগা মোহাম্মদ সালেহ, কুমিল্লা সোসাইটির সভাপতি মনিরুল চৌধুরী, শাপলা ওয়েলফেয়ারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা রিপন, সহ-সভাপতি মাহবুব হোসেন বিপ্লব, সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এস আলী বক্তব্য রেখেছেন অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলবাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন তথা বাপার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল নিউইয়র্কের জয়া হলে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র অ্যানে উইলিয়াম ইসম। উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশনের উর্ধ্বতন কমর্কতাবৃন্দ, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মুলধারার রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।ইফতার মাহফিলের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বাপার সভাপতি কারাম চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আলম। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, বাপার এই আয়োজনের সঙ্গে আমি ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তিনি উপস্থিত সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান।

post
এনআরবি লাইফ

যাকাত না দেওয়ার পরিণাম ও শাস্তি

যাকাত ইসলামের স্তম্ভ ও অবশ্য পালনীয় বিধান। এ বিধান পালন না করার অর্থ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা। যাকাত ফরজ হওয়ার মতো সম্পদের মালিক হওয়ার পরও যারা এ বিধান পালন করবে না পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহে তাদের জন্য ইহকালীন লাঞ্ছনা-গঞ্ছনা ও পরকালীন শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যার সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিম্নরূপ :যাকাত আদায় না করার ইহকালীন শাস্তিকোরআন ও হাদীসে যাকাত আদায় না করার ইহকালীন শাস্তির যে বর্ণনা এসেছে তা হলো, ১. আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, আমার রহমত সব কিছুতে পরিব্যাপ্ত। তা আমি সেই লোকদের জন্য লিখব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। ২. আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হওয়া : যে ব্যক্তি আল্লাহকে সাহায্য করেন তিনি তাকে সাহায্য করেন। যাকাত প্রদান আল্লাহকে সাহায্যকারীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে এসেছে, যে আল্লাহকে সাহায্য করবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ শক্তিসম্পন্ন, সর্বজয়ী। তারা সেই সব লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা প্রদান করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজে নিষেধ করে।  অতএব যাকাত আদায় না করলে আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ৩. নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী করে নেওয়া : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত দানে বিরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে আদিষ্ট হয়েছিলেন। ফলে যাকাত না দেওয়ার অর্থ নিজের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে নেওয়া। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অর্থ : আমি লোকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই ও মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে। যখন তারা এ কাজগুলো করবে তখন তারা আমার হাত থেকে তাদের জান-মাল রক্ষা করবে, অবশ্য তাদের চূড়ান্ত বিচারের ভার আল্লাহর উপর। ৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পৃষ্ঠপোষকতা হারানো : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন তাদের মধ্যে যাকাত প্রদানের গুণাবলি থাকতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের একমাত্র বন্ধু আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ঈমানদারগণ যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং তারা রুকুকারী। ৫. জাতীয় বিপর্যয় : যাকাত আদায় না করার কারণে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। হাদীসে এসেছে, যে সমাজের লোকেরা যাকাত দিতে অস্বীকার করবে আল্লাহ তাদের কঠিন ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত করবেন।যে জাতি যাকাত দেয় না মহান আল্লাহ তাদের উপর বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। স্থল ও জলভাগে ধন-সম্পদ বিনষ্ট হয় শুধুমাত্র যাকাত আটকে রাখার কারণে। যাকাত আদায় না করার পরকালীন শাস্তি  যাকাত দানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীকে পরকালে কঠিন ও ভয়ংকর আজাবের মুখোমুখি হতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদীসে তাদের সে আজাবের চিত্র ফুটে উঠেছে, ১. ধন-সম্পদ আগুনে গরম করে সেঁক দেওয়া : এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জিভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো। ২. বিষধর সাপের দংশন : মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন আর সে তার যাকাত দেয় না, কেয়ামতের দিন ঐ সম্পদকে দু’টি বিষের থলিবিশিষ্ট মাথায় টাকপড়া মারাত্মক বিষধর সর্পে পরিণত করা হবে, যা তাকে পেঁচিয়ে তার চোয়ালে আঘাত করে করে বলতে থাকবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত ধন...। ৩. কেয়ামতে বেড়ি পরানো : এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কেয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। আর আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য। আর তোমরা যা আমল করো, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত। ৪. পশু দ্বারা পদদলিত : হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিজের উটের হক আদায় করবে না, সে উট দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে খুর দিয়ে আপন মালিককে পিষ্ট করতে আসবে, যে ব্যক্তি নিজের ছাগলের হক আদায় করবে না, সে ছাগল দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে খুর দিয়ে আপন মালিককে পদদলিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে।... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন কেয়ামতের দিবসে কাঁধের উপর চিৎকাররত ছাগল বহন করে আমার নিকট এসে এ কথা না বলে যে, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তখন আমি বলব, তোমাকে করার আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি তো এ বিষয়টি পেঁৗঁছে দিয়েছিলাম। আর তোমাদের কেউ যেন কেয়ামতের দিবসে কাঁধের উপর চিৎকাররত উট বহন করে আমার নিকট এসে এ কথা না বলে যে, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তখন আমি বলব, তোমার জন্য কিছু করার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। আমি তো এ সতর্কবার্তা তোমাদেরকে (আগেই) পৌঁছে দিয়েছিলাম। ৫. উত্তপ্ত পাথর ব্যবহার : হযরত আবু যর (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, যারা সম্পদ জমা করে রাখে, তাদেরকে এমন গরম পাথরের সুসংবাদ দাও যা তাদেরকে শাস্তি প্রদানে জাহান্নামে উত্তপ্ত করা হচ্ছে। তা তাদের স্তনের বোঁটার উপর স্থাপন করা হবে আর তা কাঁধের পেশী ভেদ করে বের হবে এবং কাঁধের উপর স্থাপন করা হবে, তা নড়াচড়া করে সজোরে স্তনের বোঁটা ছেদ করে বের হবে। ৬. আগুনের চুড়ি পরিধান : গহনার যাকাত না দিলে তার শাস্তির বর্ণনা এসেছে এভাবে, আমর ইবন শুয়াইব (রাযি.) তাঁর পিতা, তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, একটি মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার কন্যাকে নিয়ে এলেন যার হাতে ছিল দু’টি স্বর্ণের মোটা চুড়ি। তিনি বললেন, তুমি কি এটার যাকাত দাও? সে বলল, না। তিনি বললেন, এ দু’টির পরিবর্তে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে দু’টি আগুনের চুড়ি পরিধান করলে তা কি তোমাকে খুশী করবে? বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে চুড়ি দু’টি খুলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রেখে বলল, এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।  উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, যাকাত ইসলামের এক বাধ্যতামূলক বিধান, যা আদায় না করলে ইহকালীন অশান্তি, লাঞ্ছনা-গঞ্ছনা ও পরকালীন শাস্তি অবধারিত।আরও পড়ুন** যাকাত কাকে দিবেন এবং কাকে দিতে পারবেন না

post
এনআরবি লাইফ

যাকাত কাকে দিবেন এবং কাকে দিতে পারবেন না

যাকাত ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এ বিধান পালনে প্রয়োজন সঠিক পথ ও পন্থা। যাকাতের বণ্টন সঠিক না হলে যাকাত আদায় হবে না। পবিত্র কোরআনে আট খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ পাক কোরআনে বলেন, যাকাত কেবল ফকির মিসকিন ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণে জর্জরিত ব্যক্তিদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। ১. ফকির : যে ব্যক্তি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা চায়, যারা সর্বদা অভাব অনটনে জীবন কাটায়, নিজ জীবিকার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী এরাই ফকির।২. মিসকিন : একজন দরিদ্র ভদ্রলোককে বুঝায়, যার বাহ্যিক অবস্থা দেখেও অভাবগ্রস্ত মনে হয় না, স্বীয় আত্মসম্মান বোধের জন্য অপরের নিকট সাহায্য চাইতে পারে না অথচ কঠোর শ্রম ও প্রাণান্তর চেষ্টার পরও সংসারের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে না। সমাজে তথা নিজ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এরকম কেউ থাকলে তারাই হকদার বেশি।৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী : সরকারিভাবে নিযুক্ত যাকাত আদায় ও বিতরণের কর্মচারী। বর্তমানে এই খাত বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।৪. মন জয় করার জন্য/নওমুসলিম : যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট তবে সামাজিক বা আর্থিক ভয়ে ইসলাম ধর্মে আসছে না তাদের সাহায্য করে প্রকাশ্যে দলভুক্তি করা অথবা যারা নওমুসলিম হয়েছে অন্য ধর্ম ছাড়ার কারণে পারিবারিক সামাজিক ও আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে তাদের সাহায্য করে ইসলামে সুদৃঢ় করা। যেমন, সফওয়া ইবনু উমাইয়াকে হুনাইন যুদ্ধের গনিমত দিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ইবনু হারবকে, আক্বা ইবনু হাবেসক এবং উয়াইনাহ ইবনু মিহসানকে যাকাত দিয়েছিলেন। ৫. ঋণমুক্তির জন্য : জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সঙ্গত কারণে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণমুক্তির জন্য যাকাত প্রদান করা যায়। সেসব গরিব যারা ঋণ করেছে এবং শোধ করার সামর্থ্য নেই তাদের যাকাতের টাকা দিয়ে সাহায্য করা যাবে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ ঋণ খেলাফি ধনী এর আওতায় আসবে না যারা ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে শোধ করতে পারছে না। তাদের ওই ঋণ জীবন বাঁচানোর তাগিদে নেওয়া হয়নি। বরং তা নেওয়া হয়েছিল নিজেদের বিলাসিতাকে পরিপূর্ণ করার মানসে।৬. দাসমুক্তি : কৃতদাস মুক্তির জন্য—এ-প্রথা এখন প্রযোজ্য নয়।৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে : সাবিলিল্লাহ শব্দের অর্থ ব্যাপক। যেসব কাজ দ্বারা আল্লাহর সন্তোষ ও নৈকট্য লাভ করা যায় তাকেই ফি-সাবিলিল্লাহ্ বুঝায়। অন্যকথায় মুসলিম জনগণের কল্যাণকর যাবতীয় কাজ যার ফলে দীন ও রাষ্ট্রের স্থিতি আসে এমন কাজ। যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। বর্তমানে জিহাদের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কাজেই এটি একটি বিতর্কিত বিষয়। এতিমখানায় দেওয়া যেতে পারে যেখানে গরিব বাচ্চারা লেখাপড়া করে। তবে প্রাপ্ত যাকাত বা ফিতরার টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতনভাতা দেওয়া যাবে না। ৮. মুসাফির/প্রবাসী : পথে বা প্রবাসে মুসাফির অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বিশেষ কারণে অভাবগ্রস্ত হলে ওই ব্যক্তির বাড়িতে যতই ধন-সম্পদ থাকুক না কেন তাকে যাকাত প্রদান করা যাবে। যাকাত কাকে দেওয়া যাবে না ১. নেসাব পরিমাণ মালের অধিকারী বা ধনীকে যাকাত দেওয়া যাবে না (মুসাফির ব্যতীত)। যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নেসাব পরিমাণ নেই কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ, যাতে যাকাত আসে না। যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও নিসাবের সমমূল্য পরিমাণ আছে, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। ২. যাকাতের টাকা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে না। ব্যয় করা হলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ করা, কূপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। কেননা শরীয়তে যাকাতের বিধান দেওয়া হয়েছে ব্যক্তির প্রয়োজন পূরণের জন্য; সামাজিক প্রয়োজন পূরণের জন্য নয়। যাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যয় করা, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ-মাহফিলের জন্য ব্যয় করা বা এগুলোতে সহায়তা দেওয়া, মিডিয়া তথা রেডিও, টিভি চ্যানেল করা জায়েয নয়; বরং যাকাতের টাকা তার হকদারকেই মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও যাকাত আদায় হবে না। ৩. নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিÑ যারা তার জন্মের উৎস তাদের নিজের যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। এভাবে নিজের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনী এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। ৪. সম্পদশালীর নাবালক পুত্র-কন্যাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। ৫. কুরাইশ গোত্রের বনু-হাশেমের অন্তর্গত আব্বাস, জাফর, আকীল (রাযি.)-এর বংশধরের জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়। ৬. অমুসলিম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে না। ৭. যেসব প্রতিষ্ঠানে ধনী-গরিব সবাই সেবা পায় সেখানে যাকাত দেওয়া যাবে না। যেমন : মসজিদ, মাদরাসা (এতিম ফান্ড বা লিল্লাহ বোডিং ব্যতীত), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, সেতু, টিউবয়েল, কূপ, পুকুর, রাস্তাঘাট ইত্যাদি।৮. দরিদ্র পিতামাতা, সন্তান, দাদা, নানা, স্বামী বা স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে না।  ৯. প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের এতিমখানা/লিল্লাহ বোডিং এর জন্য যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু হাদিয়া/উপঢৌকন হিসাবে দেওয়া যাবে না।  ১০. নিজ চাকর চাকরাণীকে যাকাতের টাকায় বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে না। 

post
ক্যাম্পাস লাইফ

"আইগ্লোবাল একটি পরিবার, শিক্ষার্থীদের জন্য এটাই তাদের বাড়ি"

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে গত ২২ এপ্রিল (শুক্রবার) হয়ে গেলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন। স্টুডেন্টস গভর্নর অ্যাসোসিয়েশন-এসজিএ'র কালচালার ক্লাব ছিলো এর মূল আয়োজনে। আর অংশ নেন বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি প্রখ্যাত সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলাবিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার শিক্ষার্থীদের জন্য মজাদার সব ইফতারি নিয়ে এসে যোগ দেন। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, সিএফও ফারহানা হানিপ, এসজিএ প্রেসিডেন্ট সেলিন ইগিত সহ আরও অনেকে। আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার, আন্তর্জাতিক সকল শিক্ষার্থীর জন্য এটাই তাদের বাড়ি, এসময় উঠে আসে তাদের বক্তৃতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ ক্লাস অনলাইনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামনাসামনি দেখা হওয়ার সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম থাকে। এই দিন ছিলো তাদের অনেকেরই ইনপারসন ক্লাস। আর সে কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস শেষে যোগ দেয় এই আয়োজনে। এতে ইফতার অনুষ্ঠানটিই হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম-এর উপস্থাপনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সম্মানিত অতিথি রোকেয়া হায়দার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সম্ভাবনার দেশ। এদেশে প্রত্যেকেই তার প্রত্যাশামত অর্জন করে নিতে পারে। তবে সে জন্য শিক্ষালাভটি সবচেয়ে জরুরি। "কেউ কারো বিদ্যা চুরি করে নিতে পারে না, তাই শিক্ষার্থীদের বলবো, আগে শিক্ষা নাও এরপর তারই মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাও। এই শিক্ষাই হয়ে উঠবে তোমাদের প্রধান সম্পদ," বলেন রোকেয়া হায়দার। একবার যদি কেউ তার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগুতে থাকে, এই দেশে তার অর্জন করার সকল সুযোগই বর্তমান, যোগ করেন তিনি। "একজন বাংলাদেশি আমেরিকান একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন, এমন একটি বিষয় আমাকে গর্বিত করে," চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের কথা উল্লেখ করে বলেন এই প্রথিতযশা সাংবাদিক। পরে চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের বক্তৃতায়ও রোকেয়া হায়দারের কথাগুলো প্রতিধ্বনিত হয়। তিনি বলেন, সকল সুযোগ ও সম্ভাবনা এই দেশে রয়েছে, তবে সবার আগে সকলের প্রাথমিক লক্ষই হওয়া উচিত যোগ্যতা ও মেধার প্রকাশ ঘটিয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এই দেশে অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে আসেন। অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, সে স্বপ্নপূরণের পথে কেউ কেউ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিটিকে সম্পন্ন করে যারা এগিয়েছেন তারাই তাদের স্বপ্নপূরণ করতে পেরেছেন। "সুতরাং শিক্ষার্থীদের বলবো, আগে যথাযথ শিক্ষালাভ, পরে এগিয়ে চলার পথ খোঁজা। আর সেই লক্ষ্যে আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ই হবে সকলের সহায়ক শক্তি," বলেন আবুবকর হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিনামূল্যে সফট লার্নিংয়ের সুযোগ। যা তাদের কাঙ্খিত লক্ষে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে, জানান তিনি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তিটিই হচ্ছে এর বহু সংস্কৃতি থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। আর এই শক্তিটিকে ধারণ করে স্টুডেন্ট গভর্নর অ্যাসোসিয়েশনের কালচারাল টিম যে আয়োজনটি করেছে, তা বহু সংস্কৃতির এই ধারাটিকেই শক্তিশালী করবে। এখানে দৃষ্টিভঙ্গিটি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসার করে সকল সংস্কৃতির প্রতি উদার মনোভাব পোষণের আহ্বান জানান তিনি। "আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার, শিক্ষার্থীদের জন্য এটাই তাদের বাড়ি," বলেন ড. কারাবার্ক। রমজান শুধু খাবার ভাগাভাগি করে নেওয়াই নয়, আন্তরিকতাকেও পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা দেয়, বলেন তিনি।নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং কমিউনিটির জ্ন্য কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসিডেন্ট। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা হানিপ বলেন, আমরা যদি সকলে একটি লক্ষ্য সামনে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে পারি, সাফল্য আসবেই। যুক্তরাষ্ট্রে একটি সুযোগের দেশ, তবে এখানে মূল লক্ষ্য ভিন্ন পথে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগও কম নেই। সুতারাং কারে কথায় মিসগাইডেড না হয়ে, শিক্ষার্থীরা যেনো তাদের শিক্ষা অর্জনের প্রতি মনোনিবেশ করে এই আহ্বান জানান ফারহানা হানিপ। ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার জন্য যারা নতুন এই দেশে এসেছে, তারা এখনই কাজের জন্য এলিজিবল নয়, সুতরাং কাজের পেছনে না ছুটে তাদের সকলকে শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সালমান কোরেশি আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্ককে অনন্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় একসময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মক্কা হয়ে উঠবে। সকলে একসাথে সমন্বিতভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।এসজিএ প্রেসিডেন্ট সেলিন ইগিত তার বক্তৃতায় জানান, একাধিক ক্লাব গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম বহির্ভূত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সকলের সহযোগিতায় এসজিএ আরও সুদৃঢ়ভাবে কাজ করতে পারবে। এসজিএ সদস্য মো. মুস্তাফিজুর রহমান একটি প্রেজেন্টেশনের মধ্য দিয়ে এসজিএ'র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। আর এসজিএ'র কালচারাল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট অমিত গুপ্ত কমিটির পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে শেষ ভাগে আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টার কনসার্ন প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের পক্ষ থেকে ছিলো একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। যেখান তুলে ধরা হয় পিপএল টেক কিভাবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এখান থেকে প্রযুক্তি দক্ষতা নিয়ে কিভাবে এর প্রশিক্ষণার্থীরা ক্যারিয়ার গড়ছেন সে পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। এবং জানিয়ে দেওয়া হয় আইগ্লোবালের শিক্ষার্থীরা পিপলএনটেক থেকে বিনামুল্যে এই স্কিল ডেভেলপমেন্টের কোর্স করতে পারবেন।

post
দূতাবাস খবর

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি করেন। এ সময় দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত বানী পাঠ, দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা এবং ‘মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন।আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক।রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়।তিনি আরো বলেন, প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে।ডেপুটি চীফ অফ দি মিশন ফেরদৌসি শাহরিয়ার, মিনিস্টার (ইকোনোমিক) মেহেদি হাসান এবং কাউন্সিলর (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) আরিফা রহমান রুমা আলোচনায় অংশ নেন।এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

post
এনআরবি সাফল্য

মর্যাদাকর ডব্লিউজিইএস নোভা অ্যাওয়ার্ড ২০২২ পেলেন আজিজ আহমদ

ওয়ার্ল্ড গ্রিন এনার্জি সিম্পোজিয়াম-ডব্লিউজিইএস কাউন্সিলের নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি থিংকট্যাংক ও উদ্যোক্তা আজিজ আহমদ। ১৩ এপ্রিল এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।ডব্লিউজিইএস'র সাইটেশনে বলা হলা হয় অনুকরণীয় নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও সামাজিক অসমতা নিরসনে টেকসই ও শিক্ষণীয় সমাধান দিতে অসাধারণ সক্ষমতা দেখানোয় ২০২২ সালে আজিজ আহমদকে দেওয়া হচ্ছে সম্মানজনক এই আন্তর্জাতিক পুরষ্কার।আজিজ আহমদ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস, কোডার্সট্রাস্ট ও প্রবিটি কেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একাধারে একজন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবক, গবেষক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা। একজন জনহিতৈষী, সমাজসেবক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রে সুবিদিত এই বাংলাদেশি-আমেরিকান।মর্যাদাকর এই আন্তর্জাতিক নোভা অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আজিজ আহমদ বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আর বার বার মনে পড়ছে সেইসব মুখগুলো যারা আমাদের এগিয়ে দেওয়া সুবিধা নিয়ে এখন আইটি জগতে তাদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। গ্লোবাল মার্কেট থেকে আয় করছে। তাদের একেকটি হাসিমুখ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। কিছু বিবেচক ও প্রত্যয়ী মানুষ বিশ্বটাকে বদলে দিতে পারেন, এমনটাই বলেছিলেন মার্গারেট মিড। এবারের নোভা পুরষ্কার হস্তান্তরের সময় এই উক্তিটিই স্মরণ করে ডব্লিউজিইএস।আর প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সিইও ডেইজি গ্যালাগার বলেন, আমাদের এবারের সিম্পোজিয়াম ও পুরস্কার মূল প্রতিপাদ্যে রয়েছে মানুষ। যারা এবার অ্যাওয়ার্ড ভূষিত হলেন তারা তাদের কাজ দিয়ে মানুষের কাছে যেতে পেরেছেন।আজিজ আহমদ ছাড়া নোভা অ্যাওয়ার্ড ২০২২ এ ভূষিত হয়েছে অপর দুই আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের একজন ফাদার এলবার্স জর্জ। এলডার জর্জ নামে যিনি সমধিক পরিচিত। গ্রিসের এই ক্যারিসম্যাটিক ধর্মযাজক মানবতা ও প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত একজন অন্যতম রোলমডেল। অপরজন হচ্ছেন কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি-সিএসআর এর পরিচালক মাইকেল জোন্স বে। টেকসই কর্পোরেট ব্যবস্থার চ্যাম্পিয়ন বলা হয় তাকে।ডেইজি গ্যালাগার আরও বলেন, ভীষণ ভিন্নরকম এই তিনটি মানুষকে পুরষ্কৃত করতে পেরে আমরা নিজেরা গর্বিত বোধ করছি।বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদ তাদেরই একজন। যিনি ১৯৮০'র দশকের শেষভাগে উচ্চশিক্ষা লাভে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে সেখানে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজ কৃতিত্বে তিনি অর্জন করেছেন মূলধারার একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গৌরব।এর আগে পুরষ্কার ঘোষণার পর ডব্লিউজিইএস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস বলেন, আজিজ আহমদের মতো ব্যক্তিত্বকে নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করতে পেরে ডব্লিউইজিএস গর্ববোধ করছে। আজিজ আহমদ একজন প্রভাবক ও গেম চেঞ্জার, বলেন রবার্ট গ্যালাগার। আজিজ আহমদ তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সুবিধা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এশিয়া ইউরোপ, আমেরিকার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রয়েছে তার কার্যক্রমের বড় বিস্তৃতি। এই মানুষগুলোর জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের দেওয়া হচ্ছে বিশ্বমানের আইটি দক্ষতা। আর তার মাধ্যমেই তারা অর্জন করতে পারছেন বিশ্ববাজার থেকে আইটি খাতে কাজের সুযোগ। তরুণ সমাজ, বিশেষ করে নারীরা যারা একটু সাচ্ছন্দের জীবনের সন্ধানে সংগ্রাম করে যাচ্ছে তারাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য, বলেন আজিজ আহমদ। শিক্ষার্থী-প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তির কিছু সফট-স্কিল দিতে পারলেই তারা বিশ্ববাজার থেকে কাজ খুঁজে নিয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা। আমরা তাদের কাছে প্রশিক্ষণের উপযোগী টুলসগুলো সহজলভ্য করে দিতে পারছি, দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিতে পারছি, যা হয়তো তাদের নাগালের মধ্যে ছিলো না। কিন্তু সামান্য সুযোগই তাদের করে তুলতে পারে বিশ্বমানের দক্ষ কর্মী, যার প্রমাণ আমরা আমাদের উদ্যোগসমূহের মধ্য দিয়ে পেয়েছি, বলেন এই ফিলানথ্রপিস্ট আইটি উদ্যোক্তা। কেবল বাংলাদেশেই এরই মধ্যে ৬০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে আইটি দক্ষতা দিয়েছে কোডার্স ট্রাস্ট, জানান তিনি।কেবল উদ্যোক্তাই নন, আইটি খাতে বিশ্ববরেণ্য একজন থিংকট্যাঙ্ক ও সুবক্তা হিসেবেও রয়েছে আজিজ আহমদের সুনাম। ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিসের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে আলোচনা করেছেন ডিজিটাল যুগে সাধারণের জন্য ভালো কি হতে পারে তা নিয়ে। বেলজিয়ামে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি কথা বলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অর্থবহ ব্যবহার ও নীতি কর্মকাঠামো নিয়ে। গুয়াতেমালায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান কনফারেন্সে প্রযুক্তির অগ্রসরতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেছেন। ডেভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামেও তিনি প্যানেলিস্ট হিসেবে আইটি খাতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন বিশ্বের অন্যান্য থিংকট্যাংকের সঙ্গে।পুরষ্কার নেওয়ার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিম্পোজিয়ামে মাস্টারক্লাস কিনোট স্পিকার হিসেবে আজিজ আহমদ কথা বলেন, টেকসই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে।উপস্থাপনায় তিনি জোর দেন আজিজ আহমদ বলেন, প্রযুক্তি যতটা এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে সাথে মানুষের এগিয়ে যাওয়াটাও সমানভাবে জরুরি। সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অগ্রসরতার পাশাপাশি আমরা কিছু অপরাধপ্রবণতাও দেখতে পাচ্ছি এই জগতে। সাইবার অপরাধের একটি তালিকা উপস্থাপন করে তিনি বলেন, এই অপচেষ্টাগুলো থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।অতীতে যে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই ডব্লিউইজিএস নোভা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে টেকসই কর্মসূচি গ্রিনওয়ার্কসের জন্য সিটি অব ফিলাডেলফিয়া। যার পুরস্কার গ্রহণ করেন সিটি মেয়র মাইকেল নাটার। রিও ডি জেনেরিওতে টেকসই কর্মসূচির জন্য দেশ হিসেবে এই পুরষ্কার পায় ব্রাজিল, কর্পোরেট লিডারশিপের জন্য পুরস্কার পেয়েছে তিশমান, ডিওডব্লিউ, জনসন কন্ট্রোলস, উদ্ভাবনী পণ্য ও প্রযুক্তির জন্য পেয়েছে ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিন ও শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি স্মার্ট হাউজের জন্য এই পুরস্কার পান। সাসটেইনেবল ডিসি প্ল্যান তৈরির জন্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এই পুরস্কারে ভূষিত হয়, যা গ্রহণ করেন এর মেয়র ভিনসেন্ট গ্রে। ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ককাস এই পুরস্কার পায় তাদের আরবান ফুড হাবের জন্য। যা গ্রহণ করেন এর ডিন সাবিন ও'হারা। শহুরে কৃষির একটি মডেল তৈরি করেছিলো এই বিশ্ববিদ্যালয়।   সিম্পোজিয়ামে ডব্লিউজিইএস সেইসব মানুষের সমাগম ঘটায় যারা বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় দক্ষ, নীতিনির্ধারক, ক্রেতা, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও চিন্তক।বিভিন্ন মাস্টার লেকচার, কেসস্টাডি ও ইন্টারঅ্যাকশনের মধ্য দিয়ে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই প্রচেষ্টাসমূহের বাস্তবায়নে প্রযোজনীয় শিক্ষা ও তথ্য বিনিময় করা হয় এই সিম্পোজিয়ামে।অন্যান্য বছরের মতো এবছরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চমাপের বহুমূখি প্রতিভার অধিকারী বক্তাদের আমন্ত্রণ জানায় ডব্লিউজিইএস। বক্তারা তাদের উপস্থাপনায় বাস্তবভিক্তিক কেসস্টাডি, টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ অতিমারি পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা কথা বলেন নিরাপদ ভবন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, জলবায়ূ, ক্লিন এনার্জি ও টেকসই অর্থায়ন, গ্রিড বিদ্যুতায়ন, সাইবার সিকিউরিটির সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা, পরিষ্কার পানির সুষ্ঠু সমাধান, সঠিক বিনিয়োগ, পরিবহণ ও ক্লিন এনার্জি কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাসমূহের পূর্বাভাস নিয়ে।কর্মসূচির মূল নেতৃত্বে ছিলেন ডব্লিউইজিএস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস। গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনার মাধ্যমে দিনভর আলোচনাকে যারা সম্মৃদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন, ইউএস জেনারেল সার্ভিসেস এডমিন্সট্রেশনের প্রধান সাসটেইন্যাবিলিটি অফিসার, ফেডারেল হাই পারফরম্যান্স গ্রিন বিল্ডিংস কার্যালয়ের পরিচালক কেভিন ক্যাম্পস্রোয়ার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী প্রধান সাসটেইন্যাবিলিটি অফিসার এন্ড্রু নক্স, ওয়াশিংটন এক্সিকিউটিভ ক্লাইমেট চেঞ্জ কাউন্সিলেন চেয়ারম্যান ও ক্লাইমেট উপদেষ্টা স্টেফেন অ্যাম্ব্রোস, ইউএস এয়ারফোর্সের পরিবেশ বিষয়ক সাবেক সহকারী সেক্রেটারি ও জ্যেষ্ঠ জ্বালানি নির্বাহী, জেনারেশনস অ্যাডভাইজরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইলিয়াম এন্ডারসন, ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট কলাম্বিয়ার আরবান সাসটেইন্যাবিলিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের কলেজ অব এনভায়রনমেন্টর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও প্রতিষ্ঠাতা ডিন ড. স্যাবিন ও'হারা, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স এমবিডিএ'র ব্যবসা উন্নয়ন কার্যালয়ের ব্যবসা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজর রন উবা, ক্যাপিটাল অ্যাকসেস অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেট এর সিনিয়র অ্যাডভাইজর ব্লক চেইন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিশেষজ্ঞ জন রবার্ট বাগুইডি, রুবিক্স লাইফ সায়েন্সেস এর প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী ড. রেগিনাল্ড সুইফট, সাসটেইনেবল অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট স্ট্রাটেজিস ডব্লিউ জিআই ইনকর্পোরেটেড এর পরিচালক গ্যারি লরেন্স, ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস ও কোডার্সট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা আজিজ আহমদ, জিজিডব্লিউ ইনক. এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও ডেইজি গ্যালাগার, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিকভারি, কন এডিসনের পরিচালক মাইকেল জোনস-বে, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাবস-এর মেরি রজার্স, সাসট্যাপ এলএলসি'র কো-ফাউন্ডার ভার্জিনিয়া গিবসন, আইএমএমআই'র প্রেসিডেন্ট সেলেস্টে উয়ান্ডার, ডিসি আরচেঞ্জেলস ইনভেস্টর গ্রুপ'র প্রেসিডেন্ট ড্যান লোয়াগ প্রমুখ।

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুবীর চৌধুরী

প্রকৌশল ব্যবস্থাপনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সোসাইটি অব অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর (এসএই)মর্যাদাপূর্ণ ‘আর্নল্ড ডব্লিউ সাইগেল হিউম্যানিটারিয়েন’ সম্মাননা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুবীর চৌধুরী। গত ৫ এপ্রিল মিশিগানের মোটর সিটি হিসেবে খ্যাত ডেট্রয়েটের গার্ডেন থিয়েটারে এসএই-র প্রেসিডেন্ট শ্রী শ্রীনাথ তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মানান তুলে দেওয়ার আগে শ্রীনাথ বলেন, “কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানেজমেন্টে আরো উৎকর্ষ সাধনে সুবীর চৌধুরী তার অসাধারণ মেধার খাটিয়ে সারাবিশ্বে বড় বড় কলকারখানায় নিজের অবস্থানকে সংহত করেছেন।” “তার পরামর্শ পেয়ে জরাজীর্ণ অনেক কর্পোরেশন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যমী যুব সমাজের মধ্যে তার স্টেম প্রচারের জন্য অসামান্য কাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈশ্বিক জনহিতকর কাজের কথাও এখন কর্পোরেট জগতে উচ্চারিত হচ্ছে।” শ্রীনাথ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সুবীর চৌধুরীর তার সিক্স সিগমা (প্রায় ৯৯ ভাগ ত্রুটিমুক্ত যন্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাপনা) এবং সিক্স সিগমার জন্য ডিজাইন প্রক্রিয়ার উন্নতিতে অবদান এখন অনস্বীকার্য। এসএই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা যেটি সারাবিশ্বে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রকৌশলীদের পেশাদারি মান উন্নয়নে কাজ করছে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যক্তি, সংস্থা, দল বা সত্তাকে সম্মাননা জানাতে ‘সাইগেল হিউম্যানিটারিয়েন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। সুবীর চৌধুরীর মালিকানাধীন এএসআই কন্সাল্টিং গ্রুপ অপারেশনারল এক্সিলেন্স, কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সাল্টিং ও প্রশিক্ষণের মতো কৌশলগত উদ্যোগে বিশ্বব্যাপি শীর্ষ সংস্থাগুলোর একটি।সুবীর চৌধুরী গত এক দশকে তার ক্লায়েন্টদের জরাজীর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের গুণগত মানের উৎকর্ষ সাধন এবং বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পথ দেখিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ‘থিঙ্কারস-ফিফটি’র মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ইতিমধ্যেই সুবীর চৌধুরী নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ভারতের খড়গপুরে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) স্থাপন করেছে ‘সুবীর চৌধুরী স্কুল অব কোয়ালিটি অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’। এটি হচ্ছে সারাবিশ্বে প্রথম একটি শিক্ষালয় যেখানে গবেষণার গুণগত মান ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, বাঙালিদের জীবন ব্যবস্থা এবং বাঙালির উত্থানের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ক্যাম্পাসে স্থাপিত হয়েছে ‘সুবীর অ্যান্ড মালিনি চৌধুরী সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ সেন্টার’। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি প্রথম একটি প্রতিষ্ঠান। ‘দ্য পাওয়ার অব সিক্স সিগমা’, ‘দ্য আইসিক্রিম ম্যাকার’, ‘দ্য ডিফারেন্স’ সহ ১৫টি বই লিখেছেন সুবীর চৌধুরী। এর সবকয়টি ভালো বিক্রি হয়েছে।সুবীর চৌধুরী বিশ্বব্যাপী সমাদৃৃত ১০টি পেশাজীবী সংগঠনের অনারারি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ‘আউস্ট্যান্ডিং আমেরিকান বাই চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’, সোসাইটি অব ম্যানফ্যাক্চারিং ইঞ্জিনিয়ারর্স’ এর ‘গোল্ড মেডেল’, যুক্তরাজ্যের আইটি কর্তৃক ‘মেনস্ফোর্থ ম্যানুফ্যাক্চারিং গোল্ড মেডেল’সহ ডজনখানেক সম্মাননা পেয়েছেন এ বাংলাদেশি-আমেরিকান। সম্প্রতি সুবীর চৌধুরীর সহযোগিতায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে।

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাজ্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর কন্যার মৃত্যুতে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের শোক

৫২'র মহান ভাষা আন্দোলনের অমর সঙ্গীত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী' -এর রচয়িতা, একুশের জীবন্ত কিংবদন্তী, যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর, বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক জনাব আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর তৃতীয়া কন্যা মিজ্ বিনীতা চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যে নিজুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম। গতকাল শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, পিতা জনাব গাফফার চৌধুরীর পরম স্নেহের এবং সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী সুপ্রিয় কন্যা বিনীতা চৌধুরীর এই অকাল মৃত্যুতে আমি বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শ্রদ্ধেয় আব্দুল গাফফার চৌধুরীসহ মরহুমার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন মিজ্ বিনীতা চৌধুরী তার নামের মতোই ছিলেন একজন অত্যন্ত বিনয়ী, মিষ্টভাষী এবং বন্ধুবৎসল নারী, যিনি তার শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধ পিতার সার্বক্ষণিক দেখভাল ও সেবাযত্নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। জনাব আব্দুল গফফার চৌধুরীর সাথে আমার ও হাই কমিশনের সকল যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন তার কন্যা বিনীতা চৌধুরী। তার এ অকালমৃত্যু তার পিতা ও ভাই-বোনসহ পরিবারের সকলের এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি মরহুমা বিনীতা চৌধুরীর প্রতি আমার অন্তিম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমীন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.