post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন, যৌথ আয়োজনে ৬ দেশ

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হলো। ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের এ আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এবারেও ২১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে ইভেন্টটির আয়োজন করে এলসালভাদর, নাইজেরিয়া, পর্তুগাল ও শ্লোভাকিয়া মিশন। এতে সহ-অংশীদারিত্ব করে জাতিসংঘ সচিবালয় ও ইউনেস্কো। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এছাড়া অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে শুভেচ্ছাবাণী প্রদান করেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।অনুষ্ঠানের বক্তারা যাতে নিজ নিজ মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখতে পারেন সেজন্য এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ছয়টি অফিশিয়াল ভাষায় গোটা অনুষ্ঠানটি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়। বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন এর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিম সঙ্গীত-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..’ একাধিক ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে মরক্কো, এলসালভেদর, শ্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর। এছাড়া জাতিসংঘ সচিবালয় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণের স্ব স্ব ভাষায় রেকর্ডকৃত বহুভাষিক ভিডিও বার্তা পরিবেশন করা হয় অনুষ্ঠানটিতে। জাতিসংঘ ওয়েব টিভিতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদগণ এবং ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই জাতির পিতার নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম যার চুড়ান্ত পরিণতি পায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের মাধ্যমে। মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশীদের উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে ইউনেস্কোর মাধ্যমে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর পূর্ণ স্বীকৃতি আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।শিক্ষাক্ষেত্রে কোভিডের ভয়াবহ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য -‘প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বহুভাষায় জ্ঞানার্জন: সঙ্কট এবং সম্ভাবনা’ বেছে নেওয়ার জন্য ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি বহুভাষিক শিক্ষার অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সকল ভাষার প্রাণশক্তি ফিরে পেতে আমাদের সকল অংশীজনকে একসাথে কাজ করতে হবে; কম খরচে ব্যবহার-বান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে বিনিয়োগ করতে হবে যা বহুভাষিক শিক্ষাকে সর্বত্র এগিয়ে নিতে পারে”।স্প্যানিশ ভাষাভাষী ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের সভাপতি হিসেবে জাতিসংঘে নিযুক্ত কোস্টারিকার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ভাষা বিষয়ক এনজিও কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতিসহ অন্যান্য বক্তাগণ জাতিসংঘে বহুভাষাবাদ ও মাতৃভাষার প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার কথা তুলে ধরেন তারা। নিজ নিজ মাতৃভাষায় কথা বলতে গিয়ে বক্তাগণ বিলুপ্তির পথে থাকা ভাষার সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আগে, সকালে, যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সফররত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব মো: তাজুল ইসলাম এমপি এবং একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মন্ত্রীর নেতৃত্বে সিনিয়র সচিব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং উপস্থিত মিশনের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সফরসঙ্গীগণ মিশনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। প্রদত্ত বক্তব্যে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ মিশনকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মাতৃভাষার গুরুত্ব, মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও অদম্য অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন। মিশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং মহান একুশের ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বাংলাদেশের একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয় সময় রোববার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ১ মিনিটে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হয়।জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট, বিভিন্ন রাজনীতিক, পেশাজীবী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, সাংষ্কৃতিক এবং আঞ্চলিক সংগঠনের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচী উদযাপিত হয়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর ৩১ বছর পূর্তি হল। নিউইয়র্ক থেকে খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন জানায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতিসংঘের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বাঙালির চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশার পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সম্মিলিত কন্ঠে ভাষার গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। সকলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে 'একুশের গান' (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি) পরিবেশন করলে অমর একুশের শোকাবহ আবহের সৃষ্টি হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দুপুর ১.০১ টায় উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশু তিথির পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পাঘ্য অর্পণ কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষে দূতালয় প্রধান রফিকুল ইসলাম ও প্রথম সচিব (প্রেস) মো. নুর এলাহি মিনা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর পক্ষে ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস. এম নাজমুল হাসান। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য করেন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, শিতাংশ গুহ, ফাহিম রেজা নূর, সাাখাওয়াত আলী, ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, সীকৃতি বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার ভূইয়া, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া, আব্দুন নূর বড় ভূইয়া, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, ডা. শাহানারা বেগম, ডা. মিতা চৌধুরী, মনোয়ারা বেগম মনি, জাহানারা বেগম লক্ষী, অধ্যাপক হুসনে আরা, ডা. এনামুল হক, চন্দন দত্ত, শেখ আতিকুল ইসলাম, আশফাক মাশুক, শাহীন আজমল, দুরুদ মিয়া রনেল, আলপনা গুহ, গোপাল সান্যাল, মোশাররফ হোসেন, কবি রওশন হাসান, সবিতা দাস, সাহাদাত হোসেন, নূরে আলম জিকু, কাজী রবি-উজ-জামান, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, আশরাফ আলী খান লিটন, ময়জুর লস্কর জুয়েল, আব্দুল কাদির লিপু, মাহবুবুর রহমান অনিক, সারোয়ার প্রমুখ। শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, বাঙালির চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইউএসএ, একুশের চেতনা মঞ্চ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক, চট্রগ্রাম সমিতি, পেষাজীবী সমন্বয় পরিষদ ইউএসএ, বঙ্গবন্ধু প্রচারকেন্দ্র সমাজকল্যাণ পরিষদ, সিলেট গণদাবী পরিষদ, বাংলাদেশ ল সোসইটি ইউএসএ, অনুপ দাশ ডান্স একাডেমী, সুচিত্রা সেন মেমোরিয়াল ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, শেখ রাসেল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টি, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া চক্র, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা, আবহানী ক্রীড়া চক্র, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছা সেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ভাষা সৈনিক আবদুস সামাদ পরিবার, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাবেক নেতৃবৃন্দ, নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটি, রাজনগর উন্নয়ন সমিতি, প্রবাসী মতলব সমিতি, নতুন বাংলা যুব সংহতি, মীরসরাই সমিতি ইউএসএ। এছাড়াও নিউইয়র্কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি লেখক শিল্পী সাহিত্যিক-সাংবাদিক, ইউনাইটেড নেশন্সের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের’ স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতিকে চিরজাগ্রত রাখার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে যেতে হবে সকলকে। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা গত ৩১ বছর ধরে জাতিসংঘের সামনে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার বাংলা সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক-আঞ্চলিক সংগঠন, কবি-লেখক-সাহিত্যিকসহ প্রবাসীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ওয়াশিংটনে ঢাকা দূতাবাসের শ্রদ্ধাঞ্জলি

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।স্থানীয় সময় সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বসানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলামসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। সেখানে তারা এক মিনিট নিরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তারা দূতাবাস ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্নারে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তির সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর আগে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভায় অংশ নেন তারা। এসময় অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওযা বাণি পড়ে শোনানো হয়। এছাড়াও পাঠ করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের পাঠানো বাণি। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও বাংলাদেশের অব্যহত উন্নয়ন কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় এ সময়। রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম তার বক্তৃতায় ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এসময় তিনি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে সেই আন্দোলনকে যেভাবে বেগবান করে ধীরে ধীরে জাতিকে স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যান বঙ্গবন্ধু, তা উঠে আসে এম শহীদুল ইসলামের বক্তৃতায়। বিশ্ব মানবতায় শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্বের সকল মানুষের মাতৃভাষার সুরক্ষায় জোর দেন রাষ্ট্রদূত। "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সকলকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, শান্তিময় ও সম্মৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে," বলেন এম শহীদুল ইসলাম। পরে একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দূতাবাস ভবনের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখেন। 

post
অনুষ্ঠান

তারা ভাসলো, সকলকে ভাসালো বাংলার আবেগে

মাহমুদ মেনন: তারা ভাসলো, জেগে উঠলো, জাগিয়ে তুললো সকলকে, বাংলার আবেগে। ছোট্ট শিশুটি যখন বললো, গাইলো-- কইতো যাহা আমার বাবায় কইতো যাহা আমার দাদায়, এখন কও দেহি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়। অপর শিশুটি যখন অনবদ্য অভিনয় করলো, 'মাগো ওরা বলে তোমার কথা কেড়ে নেবে, গল্প শুনতে দেবে না মা তোমার কোলে শুয়ে, সেই কবিতায়। কিংবা আরো যারা বড় তারা যখন গাইলো ভাই হারানোর ব্যাথার গান তখন কার বা জানতে বাকি থাকে- এরা বাঙালি, যারা আজ এই সন্ধ্যায় বাংলাদেশ থেকে ভূ-গোলকের ঠিক উল্টো দিকে অমর একুশের গান গাইছে, কবিতা পড়ছে। বুঝে নিতে হবে কেনো- সেইখানে ক্ষণে ক্ষণে তো বেজেই চলেছে হৃদয় নিংড়ানো সেই সুর- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।  তেমনই এক আবহ, তেমনই এক অনিন্দ্য উপস্থাপনায় অমর একুশে আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষেরা। তারা সেজেছিলেন একুশের সাজে সাদা-কালোয়া। তারা আবেগে ভেসেছিলেন। তারা মনের জোয়ারে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা মায়ের বন্দনা। তারা প্রভাতফেরী করতে হয়তো পারেননি, কিন্তু সেই সন্ধ্যায় ফুলের তোড়া সাজিয়ে নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে শহীদ মিনারে গেছেন। শ্রদ্ধার অঞ্জলি তারা তুলে দিয়েছেন শহীদের পদতলে, শহীদ মিনারের বেদীতে। শহীদ মিনার! এই সুদুর পরবাসে! হ্যা সত্যিই তাই। পরম আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে তারা বানিয়েছিলেন স্মৃতির মিনার। পেছনে রক্তঝড়া লাল সূর্য, সামনে নতমস্তক দাঁড়িয়ে থাকার সেই কাঠামো কার না ভালো লাগে। কে না এক নজর দেখতে চায়? বিশেষ করে এই দিনটি আসলে। তাই আয়োজকরা তৈরি করেছিলেন শহীদ মিনার। সে মিনার বয়ে এনে বসিয়েছিলেন অনুষ্ঠানে স্থলে। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে কেনমোর মিডল স্কুলের বিপুল মিলনায়তনের একপাশে বিপুলাকায় শহীদ মিনারটি তার সগৌরব অবস্থান নিয়েছিলো। আর মঞ্চ জুড়ে চলছিলো একুশের নানা আয়োজন। আয়োজক গ্রুপটি ডিসি একুশে অ্যালায়েন্স নামে সুপরিচিত। প্রায় তিন দশক ধরে তারা আয়োজন করছে এমন একুশের উদযাপন। তবে আয়োজকরাই বলছিলেন, এবারের উদযাপনটি তারা অনেক গুছিয়ে, প্রাণের মতো করে সাজিয়ে তবেই করতে পেরেছেন। সে কথার মিল খুঁজে পাওয়া গেছে আয়োজনেই। মূল আয়োজনটি শুরু হয় বিকেলে। এরপর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত ১০টা অবধি চলে। আয়োজনে ছিলো গান, কবিতা, নাচ, নাটিকা। সবগুলো উপস্থাপনাই ছিলো মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। তবে তারও চেয়ে বেশি বড় আকর্ষণের ছিলো ভিন্ন সংস্কৃতির ভিন্ন মাত্রার সব উপস্থাপনা। আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিকতা দিতে আয়োজকরা ডেকেছিলেন ভিন দেশি শিল্পী কুশলীদেরও। মেক্সিকান, মঙ্গোলীয় দুটি শিল্পী দলের অনবদ্য অনন্য উপস্থাপনাও উপভোগ করেছেন বাংলাদেশি আমেরিকানরা। এখানে এখন বাংলাদেশিদের কেউ কেউ চতূর্থ প্রজন্মেরও। কেউ দ্বিতীয় কেউ তৃতীয়। শিশু-কিশোর কিশোরীদের অনেকেরই জন্ম এদেশে। এদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতিই তাদের নিত্য চর্চায়। কিন্তু তারা ভুলে যায়নি বাংলার সংস্কৃতি। ধন্য সেই সব বাবা-মায়েদের যারা নিজের সংস্কৃতিবোধকে তাদের সন্তানদের মধ্যে দারুণ উপলব্দিতে সঞ্চারিত করতে পেরছেন। তাই ছোট্র শিশুটি যখন বলে ওঠে, এতো আমার প্রাণের বাংলা, তখন বুক ভরে ওঠে। অনুষ্ঠানে ছিলো অনেক কিছু। বেশ বড়সড় একটি ডালি সাজিয়ে বসেছিলেন শিল্পী-কলাকুশলীরা। তবে তার আগে জানিয়ে রাখি এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে, শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বাংলাভাষার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন ভার্জিনিয়া হাউজ অব ডেলিগেট আলফন্সো এইচ লোপেজ, আর্লিংটন কাউন্টি বোর্ডের চেয়ার কেটি ক্রিস্টল, সেনেটর মার্ক ওয়ার্নারের কার্যালয়ের প্রতিনিধি অ্যান ফন ও আর্লিংটন আর্টস কমিশনের চেয়ার অনিকা কিনানা। প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, ছিলেন ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বাংলাদেশি আমেরিকান আবুবকর হানিফ। তার প্রতিষ্ঠিত অপর প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক ছিলো আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে, আর অপর প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি টেলিভিশন ছিলো মিডিয়া পার্টনার। অনুষ্ঠানস্থলে যারা যখনই উপস্থিত হয়েছেন তাদের সকলের মুখেই প্রশংসা পেয়েছে মঞ্চের এক দিকে স্থাপিত শহীদ মিনার। সাদাটে ফ্রেমের পেছনে লাল সূর্য আর সামনে সাদা কাপড় দিয়ে তৈরি বেদী। তাতেই সকলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তবে এই অংশটি ছিলো অনুষ্ঠান আয়োজনের সব শেষে।জানিয়ে রাখি, যুক্তরাষ্ট্রে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের মতো ছুটি থাকে না, ফলে এখানের কোনো আয়োজন করতে হলে সপ্তাহান্ত বেছে ছুটির দিনগুলোতেই করতে হয়। আর সে কারণেই আয়োজনটি করা হয় রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। তবে পুরো আয়োজনেই ছিলো একুশে উদযাপনের সব আবহ। শুরু যখন হলো জাতীয় সঙ্গীতে ততক্ষণে হল কানায় কানায় পূর্ণ। তাদের সামনে পরপরই উপস্থাপিত হলো দলীয় গান ও নৃত্য- ২১ শুধু একটি সংখ্যা নয়, একটি মুক্তির মূলমন্ত্র। হিরণ চৌধুরীর পরিকল্পনা ও আবু রুমীর সহযোগিতায় এই উপস্থাপনায় সঙ্গীতের রচয়িতা ছিলেন অদিতি সাদিয়া রহমান, সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তাসলিম হাসান আর ধারা বর্ণনায় ছিলেন খায়রুজ্জামান লিটন। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন- আনিকা মেধা, মাসুমা আক্তার, স্যাম রিয়া, সারা লুদমিলা, শামীম সেলিমুদ্দীন, ইলা সোয়েব, মহসিনা রিমি, দোলা হোসেন, ক্লেমেন্ট গোমেজ স্বপন, শারাফাত হোসেন বাবু, হাসান চৌধুরী, মিজানুর ভূঁইয়া, সোয়েব রহমান, হাসনাত সানী। তবলায় ছিলেন পল ফেবিয়ান গোমেজ, একর্ডিয়ান-আবু রুমী, মন্দিরা বাজিয়েছিলেন প্রিয়লাল কর্মকার, কিবোর্ড বাজান হীরণ চৌধুরী, গিটারে ছিলেন শুভ্র। পুরো আয়োজনটির কোরিওগ্রাফার ছিলেন সঞ্জয় গোস্বামী। তার সঙ্গে নেচেছেন আদিবা রুপন্তি, সামাইলা মাহমুদ, মেহেক আজাদ, রুম্পা বড়ুয়া। আর উপস্থাপনায় ছিলেন ফয়সল কাদের, ফারহানা লিনা ও আতিয়া মাহজাবিন। এর পরপরই একুশের কবিতা পড়েন মিজানুর ভূঁইয়া- মায়ের শাড়ি ও বর্ণমালা এই শিরোনামে। কবিতার রেশ ফুরোতে ফুরোতেই ছোট্টদের একট নাচ হয়ে গেলো-আমার মুখের ভাষা- এই নামে। যার পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার শিল্পী রোজারিও। আর নাচের পরিবেশনায় ছিলো পিটার পালমা, মনিষা গোমেজ, রিতি রোজারিও, স্যান্ড্রা পেরেরা ও এলিজাবেথ পালমা। ভাষা দিবসের ইতিকথা নিয়ে পুঁথি পাঠ করে শোনালেন জাফর রহমান। তার সঙ্গে যোগ দেন আবু রুমি, প্রিয়লাল, সুকুমার পিউরিফিকেশন, তিলক কর, হাসনাত সানী, আবু সরকার, সারা লুদমিলা, আনিকা মেধা, ইলা সোয়েবরা। ততক্ষণে রাত গড়িয়ে আসে। মাঝে অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, প্রধান অতিথি এম শহীদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজন তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি আপ্লুত। ভাষা সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ছড়িয়ে দিতে আরও সঞ্চারিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানালেন তিনি। বললেন, দিবসটি আর কেবলই বাংলাদেশের নয়, গোটা বিশ্বের। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে আরও আন্তর্জাতিকতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রদূত।কেটি ক্রিস্টল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রশংসা করলেন এবং এমন একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে যে আনন্দিত হয়েছেন তা জানালেন। আবু বকর হানিপ বললেন, আমরা প্রবাসে দীর্ঘ জীবন কাটিয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রাণের মাঝে স্থান করে রেখেছে বাংলা, বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা। ভবিষ্যতে একুশে অ্যালায়েন্স আরো জমজমাট আয়োজন করবে এবং তিনি তার প্রতিষ্ঠিত সকল প্রতিষ্ঠান নিয়ে তার পাশে থাকবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চ্যান্সেলর। একুশে অ্যালায়েন্সের এবারের আয়োজনের মূল সমন্বয়কারী সামছুদ্দীন মাহমুদ সকলকে এই আয়োজনে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ চারমাস ধরে পরিশ্রমের এই ফসল। এই প্রজন্মের শিশু-কিশোররা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, ভিন দেশীয়রা তাদের সংস্কৃতি নিয়ে এসে পরিবেশন করছে নাচ গান এটাই অনেক আনন্দের, বললেন তিনি। আয়োজনে আরও ছিলো ভাষা শহীদ ও বর্তমান প্রজন্মের বর্ণমালার সেতুবন্ধনে-বর্ণমালার প্রজন্ম শিরোনামে অনন্য এক আয়োজন। যার রচনা ও পরিচালনায় ছিলেন শম্পা বনিক। সঙ্গীত পরিচালনা করেন মিলি গোমেজ। বর্ণনায় ছিলেন তারিফ আর গান গেয়েছে জিনা, শৌমিক, অপসরা, মিলি, নেচেছে সিন্থিয়া, স্বাগতা, সিমি, অভিনয় করেছে ঐশ্বর্য নাইফা ও তীলক। এই আয়োজনে তবলায় ছিলেন পল গোমেজ, গিটার বাজিয়েছেন শুভ্র। বহুসংস্কৃতির উপস্থাপনা ছিলো এবারের আয়োজনে। তাতে অংশ নেয় মঙ্গোলীয় নাচের দলা খুরি তসম। নৃত্য পরিচালক গাননা গানখুইয়াক নাতসাগ এর সঙ্গে নাচে অংশ নেয় মুনখাবিয়ার দাসজেভেগ, গানসুখ নাতসাগ ও গানবাত ওয়ুনবাত। লস কোয়েজালেজ মেক্সিকান ডান্স এসেম্বেল দলের নেতৃত্বে ছিলেন লরা ক্রিটস। তার পরিচালনায় অনন্য সঙ্গীত ও বাজনার তালে তালে নাচ করেছেন জেমস কাস্টিলো, ফ্রান্সিসকো হোবজা, সিসি মাসলাঙ্কা, অ্যাসলে কাস্টিলো, গ্রেট, জেসিকা মিরান্ডা, সিয়েরা উলার্ড ও পলিনা গার্সিয়া। সব হয়েও তখনো যেনো কিছুই হয়নি। কারণ তখনও শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া বাকি। সে কারণে হল তখনও কানায় কানায় পূর্ণ। রাত তখন প্রায় ১০টা। যে ২৩ টি সংগঠন তাদের সকলের প্রতিনিধিরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর বেজে উঠলো সেই প্রিয় গান। সকলে একসঙ্গে গেয়ে উঠলেন- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। খালি পায়ে তারা হেঁটে হেঁটে এগিয়ে গেলেন মঞ্চের দিকে। একে একে ফুলে ফুলে ভরে উঠলো শহীদ মিনারের বেদী। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

মহান একুশের নানা কর্মসূচি নিউইয়র্কে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে নিউইয়র্কে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে এবারও অনেক ক্ষেত্রেই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে দিবসটি উদযাপন করার প্রস্তুতি চলছে। তবে কোন কোন রাজ্যে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ, যাতে সশরীরে সমবেত হয়ে একুশে উদযাপন করা হবে।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের আয়োজন করেছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনামঞ্চ। গত ৩১ বছর যাবত এ দুটি সংগঠন যৌথভাবে শহীদ দিবসের পথবেয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে। বাংলাদেশের সাথে মিলিয়ে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি বেলা একটা ০১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় একুশের প্রথম প্রহর) কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়াও নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র শাখা, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ-সহ রাজনৈতিক দলসমূহের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হবে বলে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবারও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে একুশে উদযাপন করবে বলে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে জেবিবিএ, কুইন্স প্যালেসে শো-টাইম মিউজিক, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, জ্যামাইকায় অস্থায়ী শহীদ মিনারে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ছাড়াও কবিতা আবৃত্তি এবং শহীদ স্মরণে সঙ্গিতানুষ্ঠানও হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

ভার্জিনিয়ায় একুশে উদযাপনের সব প্রস্তুতি নিয়েছে ডিসি একুশে অ্যালায়েন্স

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে ফেব্রুয়ারি পালনে ব্যাপক প্রস্ততি চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে। গান গেয়ে, নেচে, আবৃতি করে আরও নানা আয়োজনে তারা উদযাপন করতে চান দিনটি। তৈরি হচ্ছে শহীদ মিনার। যা বসানো হবে অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে।বাঙালি চেতনাবোধে জাগ্রত মানুষগুলো সুদুর আমেরিকাতে বসে একুশের প্রভাতফেরীর মতো করে খালি পায়ে হেঁটে শহীদ মিনারে ফুল দেবেন। বরাবরের মতো এবারও পুরো আয়োজনটি হচ্ছে ডিসি একুশে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে। এনআরবিসি টিভির ক্রু ঘুরে দেখে এলো অ্যালায়েন্সের প্রস্তুতি। এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়ারাও নিচ্ছে নানান প্রস্তুতি। কেউ নাচের কেউ গানের রিহার্সাল করছে। ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে সে রিহার্সাল। আর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে কেনমোর মিডল স্কুলে। যুক্তরাষ্ট্রে এবছর দিনটি সপ্তাহের কাজের দিন এবং স্কুল কলেজ খোলার দিনে পড়ে যাওয়ায় মূল আয়োজনটি রাখা হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায়। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলে অংশ নেবেন এই আয়োজনে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েই পারফর্ম করবেন। একুশে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে এবারের আয়োজনের মূল সমন্বয়ক সামছুদ্দিন মাহমুদ জানালেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। নতুন প্রজন্মের শিশুকিশোররাই হবে এবারের আয়োজনের প্রাণ। দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করতে কমিউনিটির সকলেই এগিয়ে এসেছেন, বললেন তিনি। বিকেল ৫টায় শুরু হবে আয়োজন যা রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম। এছাড়াও কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত হবেন। ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, পিপলএনটেকের কর্ণধার আবুবকর হানিপ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সিএফও ও পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপও অংশ নেবেন এই কর্মসূচিতে। কর্মসূচির মিডিয়াপার্টনার হিসেবে থাকছে এনআরবি কানেক্ট টেলিভিশন। বাইটপোর ব্যবস্থাপনায় এবং আরলিংটন আর্টসের সহযোগিতায় ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ২৩টি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন অংশ নেবে এই আয়োজনে । সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কাউন্সিল, সুন্দরবন, স্বাধীন বাংলাদেশ কালচারাল অর্গানাইজেশন, স্বদেশ, প্রিয় বাংলা, পিপল অ্যান টেক ফাউন্ডেশন, মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন ডিসি, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি, ফাউন্ডেশন অব সোশ্যাল অরগেনাইজেশন অ্যান্ড লিডারশিপ, একাত্তর ফাইন্ডেশন, ধ্রুপদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম, বুয়েটিয়ান ইউএসএ ক্যাপিটাল রিজিয়ন, বাংলাদেশ এ্যান্টারপ্রেনারর্স সোসাইটি অব ট্যালেন্টস (বেস্ট), বাংলাদেশ আমেরিকান আইটি প্রফেশনালস অরগানাইজেশন, বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আমেরিকান কালচারাল অরগানাইজেশন অব ডিসি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েট অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা, আমরা নারী, আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, আমরা বাঙ্গালি ফাউন্ডেশন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে অমর একুশের এই আয়োজনের মূল পর্ব। এরপরপরই '২১ শুধু একটি সংখ্যা নয়, একটি মুক্তির মূলমন্ত্র' এমন কোরাস গানে হবে নৃত্য পরিবেশনা। এরপর একে একে থাকবে ছোটদের একুশে নৃত্য, একুশের কবিতা, একুশে পুঁথিপাঠ। বর্ণমালার প্রজন্ম ভাষা শহীদ ও আজকের প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধনে থাকবে বিশেষ আয়োজন। আর থাকবে একটি মাল্টি কালচার পরিবেশনা। আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই অংশটি রাখা হয়েছে এমনটা জানিয়ে সমন্বয়ক সামছুদ্দিন মাহমুদ বলেন, একটি মঙ্গোলীয় ও একটি মেক্সিকান ডান্স গ্রুপ এই অংশে তাদের নাচ পরিবেশন করবে। অনুষ্ঠান শেষ হলে সকলে প্রভাতফেরীর আদলে খালি পায়ে হেঁটে শহীদমিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন ভাষা শহীদদের স্মরণে। আর তার মধ্য দিয়েই শেষ হবে ভার্জিনিয়ায় এবারের ভাষাশহীদ দিবস পালন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন। 

post
শিক্ষা

আইজিইউর ইতিহাসে সফলতম কোয়ার্টার, ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্টের

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়- আইজিইউ এ বছরেরর উইন্টার সিমেস্টারে তার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোযার্টার শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক বলেছেন, এই কোয়ার্টারে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা এত বেশি, যা প্রত্যাশারও বাইরে ছিলো। "এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সফলতম কোয়ার্টার," বলেন তিনি।  এই সাফল্যের জন্য আইজিইউ'র সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক।সাফল্যজনক একটি কোয়ার্টার শুরু করার পর তা সেলিব্রেশনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এ সময তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মি. আবুবকর হানিপকে। আবুবকর হানিপ, যিনি একজন বাংলাদেশি আমেরিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ, এই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে বলেন, এই অর্জনের কৃতিত্ব আইজিইউ'র সকল অধ্যাপক ও কর্মকর্তাদের। চলতি কোয়ার্টারে আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। যাদের একটি বড় অংশ বিশ্বের অন্তত ১৯টি দেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ক্যাটেগরিতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে এসেছেন। তাদের স্বাগত জানিয়ে এই সাফল্য ধরে রাখার এবং দিন দিনে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান আবুবকর হানিপ।মাত্র এক বছর আগে আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানা কিনে নেন এই বাংলাদেশি উদ্যোক্তা। আইটি খাতে পিপলএনটেক নামের একটি ব্যাপক সাফল্যজনক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তার রয়েছে দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিস্তার। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে দীর্ঘ অবদান রাখার ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়টি কিনে নেন আবুবকর হানিপ। প্রত্যাশা, একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটিকে সুপ্রতিষ্ঠা দেওয়া।তবে এরই মধ্যে সাফল্যের ডানা মেলতে শুরু করেছে আই গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়। যার উদাহরণ চলতি বছরের শীতকালীন সিমেস্টার ও বছরের প্রথম কোয়ার্টার।আবুবকর হানিপ বলেন, "বিষ্ময়কর আমাদের এই পথচলা, আর আলোঝলমলে একটা সূচনা আমরা করতে পারলাম।" শিক্ষক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে নিজের করে নিতে পেরেছেন বলেই এই সাফল্য এসেছে।"সাফল্যের উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন আইগ্লোবালের সিএফও ও আবুবকর হানিফের স্ত্রী ফারহানা হানিপ। তিনি বলেন, সারাক্ষণ পাশে থেকে দেখেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন রয়েছে মি. হানিপের। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি কোয়ার্টারের সাফল্যের জন্য তিনি শিক্ষক- কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রেখে সকলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। "টুগেদার উই উইল গ্রো", বলেন ফারহানা হানিপ।বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরারেশনস অ্যান্ড রেজিস্ট্রার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. শ্যান চো বলেন, কোয়ার্টারটি সফলভাবে শুরু করার জন্য আইগ্লোবালের প্রতিটি কর্মী দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান ড. চো। ক্যারিয়ার সার্ভিস ও মার্কেটিং বিভাগের দায়িত্ব থাকা অপর ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. মামুন ওয়াহাব বলেন, চার বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করে আসছি। আর এই সময়ের মধ্যে এটিই আমাদের সেরা কোয়ার্টার। এই সময় শিগগিরই আসবে যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, এমনটাই ভবিষ্যতদ্বানি করেন তিনি। দূর শিক্ষণ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিমও একই কথা বলেন, তিনি দেখতে পাচ্ছেন আগামি কোয়ার্টারগুলোতে আরও বেশি বেশি শিক্ষার্থী আইগ্লোবালকে তাদের উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বেছে নেবে। "আমরা একটি দলে একসঙ্গে কাজ করেছি। টিম স্পিরিটই ছিলো আমাদের অন্যতম শক্তি, " বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস এর পরিচালক ড. মার্ক এল রবিনসন সকল কর্মীর অব্যহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এডমিশন ম্যানেজার সারাহ হেদায়েত, অ্যাসিস্ট্যান্ট আইটি ম্যানেজার কাজি বারী, অ্যাকাউন্ট্যান্ট কৌশিকা নাভাল, এডমিশন অফিসার সেমি জ্যাং সহ অন্যরা। বক্তারা প্রত্যেকেই ২০২২ সালের প্রথম কোয়ার্টারে আইগ্লোবাল যে সাফল্য দেখিয়েছে এই ধারা টিকিয়ে রাখতে তাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে বলে জানান। আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ, স্টেট কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশন অব ভার্জিনিয়া-এসসিএইচইভি'র সনদপ্রাপ্ত এবং অ্যাক্রেডিটেটিং কাউন্সিল অব ক্যারিয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এসিসিএসসি'র অ্যাক্রেডিটেশন প্রাপ্ত। এরই মধ্যে ২০২১ সালের শেষ কোয়ার্টারে বিশ্ববিদ্যালয়টির এমবিএ প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রের একটি র্যাংকিংয়ে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে।

post
শিক্ষা

কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় এবারও নেই বাংলাদেশি স্টল

এলামী মোঃ কাউসার, মিশর: ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মিশরের ৫৩তম কায়রো আর্ন্তজাতিক বইমেলা। আরব বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম এবারের মেলাটিকে ৮০ হাজার স্কয়ারফিটের বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত করা হয়েছে। যেখানে অংশ নিয়েছে ৫১টি দেশের ১০৬৩টি প্রকাশনীর ৮৭৯টি স্টল।ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ এশিয়ার ১৬টি দেশ প্রাচীনতম এই মেলায় অংশ নিলেও ,নেই বাংলাদেশি কোন স্টল। দেশী কোন স্টল না থাকায় হতাশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং শিক্ষার্থীরা। কায়রো আর্ন্তজাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি স্টলের যুক্ত হবার কথা গত দু'বছর ধরে শোনা যাচ্ছিলো। কিন্তু দুই দেশের দূতাবাসের নানা জটিলতায় এবারো তা বাস্তবায়ন হয়ে উঠেনি। সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের দাবী, খুব দ্রুতই যেন কেটে যায় এ সমস্যা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলার এবার প্রথম দিনে উপস্থিত হয়েছিলো ৯১ হাজার দর্শনার্থী। আর মেলার ডিজিটাল বুক সেলিং প্ল্যাটফর্মে ভিজিট করেছেন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন পাঠক। যা দেখে অভিভূত মেলার আয়োজকরা। প্রতিবছর গড়ে ২০ লাখ দর্শনার্থী এসে থাকে এই মেলায়। এবার তা ছাড়িয়ে যাবে প্রত্যাশা করছে মিশরের বর্তমান সিসি সরকার। তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে রয়েছে বেশ কড়াকড়ি। করোনার ভ্যাকসিন নেয়নি এমন কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে এবারের মেলাকে আরও আধুনিয়কায়ন করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং কৃত্তিম বুুদ্ধিমত্তার উপস্থিতি রাখা হয়েছে মেলায়। তিন স্তরের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কায়রো শহরকে রুপান্তরিত করা হয়েছে একটি আধুনিক আবাসিক শহরে। কায়রো এক্সিবেশন সেন্টার নামে যেটি এখন পরিচিত। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চালু করা হয়েছে বাস সার্ভিস। কায়রো বইমেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার সেরা আরব প্রকাশককে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে আয়োজক কমিটি। ২০০৬ সালে কায়রোর আর্ন্তজাতিক বইমেলা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলার মর্যাদা লাভ করে। প্রতিবছর মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ছুটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এই মেলা। আরবি ভাষা সাহিত্যপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় বইমেলা এটি। ২০১৯ সাল থেকে এটি নিউ কায়রোর আত্তাজাম্মুল খামিস সিটির ভৌগোলিক ও স্থাপত্য-শৈলীর অনিন্দ্য সুন্দর এলাকায় অবস্থিত কায়রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা কায়রো বইমেলা সাধারণত শুরু হয় জানুয়ারির শেষে। মেলার পর্দা নামে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষে। করোনার প্রাদুর্ভাবে গত বছর মেলা জুলাই মাসে হলেও এবার সময় মত শুরু হয়েছে, শেষ হবে ৭ফেব্রয়ারি।

post
যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এ দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা নির্মমভাবে নিহত হন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি এবং বিশ্ব ব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম কর্তৃক জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। অতঃপর রাষ্ট্রদূত সহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি, মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রদূতের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখার এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াতে নিরলসভাবে কাজ করার মাধ্যমে শোককে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন এবং জাতির অগ্রগতি বিপন্নকারী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার এ জঘন্য কাজের নিন্দা জানান। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতা হিসেবে নিজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি, তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান লক্ষ্যনীয়ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত এবং শেষ দিন পর্যন্ত জাতির প্রতি তার দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের মতো একটি নব্য স্বাধীন দেশকে পরিচালিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ আইন, বিধি এবং প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজটি বঙ্গবন্ধু তার রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে হয় সম্পন্ন করেছিলেন নতুবা সূচনা করেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৫ আগস্টের সকল শহীদ এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটি বিশেষ প্রার্থনাও অনুষ্ঠিত হয়।

post
এনআরবি সাফল্য

টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধু ও তার অর্জন

আগামী ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও অর্জন তুলে ধরা হবে। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এন ওয়াই ড্রিম ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রোডাকশনের কর্ণধার ফাহিম ফিরোজ এই প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছেন। নিউইয়র্কের খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে ফাহিম ফিরোজ এই উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট হতে পরের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ২ মিনিটে ১৫ সেকেন্ড এই প্রদর্শনী তুলে ধরা হবে। এর মোট ব্যাপ্তিকাল হবে ৩ ঘণ্টা এবং ৭২০ বার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এর জন্য মোট খরচ হবে প্রায় ১লাখ ডলার। ফাহিম ফিরোজ জানান, তিনি কাজ শুরু করেছেন। কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে তিনি সাদরে গ্রহণ করবেন। আর তা না হলেও তিনি তা সম্পন্ন করার সামর্থ্য রাখেন। কারণ এটি তাঁর স্বপ্ন। বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে ফাহিম ফিরোজ বলেন, জাতির জনকের প্রতি গভীর ভালবাসা আর শ্রদ্ধা থেকে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে তিনি প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্ক নগরীতে দর্শনার্থীরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করকে পারবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তোফা হোসেইন, সেলিনা সুলতানা সুইটিসহ প্রমুখ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.