post
নারী ও শিশু

বিশ্বকে গৃহহীনতার অভিশাপ মুক্ত করার আহ্বান শেখ হাসিনার

শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষকে ‘গৃহহীনতার অভিশাপ’ মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (সেপ্টেম্বর ২১) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে হোটেল লোটে প্যালেসে ‘টেকসই গৃহায়ন’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর‌্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃতপক্ষে গৃহহীনতা একটা অভিশাপ। এটি উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় মানুষকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে কিছু করার বিষয়টি আমাদের সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অংশদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা বলেন, এটি করতে (গৃহহীনতার অভিশাপ দূর করতে) এখানে জড়ো হওয়া আমাদের সকল বন্ধু এবং অংশীজনরা একটি শক্তিশালী অংশদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, আসুন আমরা সারা বিশ্বের জন্য এক সঙ্গে কাজ করি, যেখানে গৃহহীনতা অতিতের কোন বিষয়ে পরিণত হবে। গৃহহীনদের প্রতি নিজের মমত্ববোধের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এমন একটি ইস্যু যা আমি আমার হৃদয়ের গভীরে ধরে রেখেছি। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত আশ্রয় প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শেখ হাসিনা বলেন, সারা বিশ্বের মানুষকে গৃহহীনতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার পথে এগিয়ে যেতে ‘নিউ আর এজেন্‌ডা’ একটি দরকার ‘ব্লু প্রিন্ট’ হিসেবে আমাদের সহায়তা করতে পারে। এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দেশগুলোতে আমাদের অবশ্যই ইউএন-এইচএবিআইটিএটি এর কাজকে সমর্থন করতে হবে। এই ইস্যুটিকে সামনে নিউইয়র্কের বন্ধুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ঘর দেশের প্রতিটি নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা, এটি অন্যান্য চাহিদা পূরনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে আমরা একটি বাড়িতে শুধু থাকার জায়গা মনে করি না। আবাসনের নিরাপত্তা ব্যক্তির মর‌্যাদার সঙ্গে বসবাসের সঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তিকে ত্বরান্বিত করে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভুমিহীন-গৃহহীনদের বিনামূল্যে জমি ও ঘর দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সফলভাবে গৃহহীনতার সমস্যাটি সামলাতে পারে। তিনি বলেন, আমরা গৃহহীন-ভূমিহীনদের বিনামূল্যে জমির সঙ্গে বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। সারা দেশে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য টেকসই ঘর নির্মাণে আমাদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আমি এখানে এসেছি। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথম ভূমিহীন, গৃহহীন এবং ছিন্নমূল মানুষদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নেন। জাতির পিতার লক্ষ্যকে ধারণ করে ১৯৯৭ সালে আমরা ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের পুর্নবাসনে আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু করি। গত দুই দশকে আমাদের সরকার সবার জন্য বিনামূল্যে আবাসন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গত ২ বছরে আমরা ২ লাখ বাড়ি নির্মাণ করেছি, যেখানে ১ মিলিয়নের বেশি মানুষের আবাসন নিশ্চিত হয়েছে। আমার প্রধানমন্ত্রীত্বের ১৮ বছরে ৫ লাখেরও বেশি বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সাড়ে তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে আরও ৪০ হাজার বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাড়ি গুলোর বৈশিষ্ট তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক পরিবার দুটি বেড রুম, একটি লম্বা বারান্দা, একটি রান্নাঘর, একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ ৪০০ স্কয়ার ফুটের একটি পাকা বাড়ির মালিকানা পাচ্ছে। আমরা প্রতিটি বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি সরবরাহ করছি। পর‌্যাপ্ত বাড়ির আঙ্গিনাসহ আমরা বিনামূল্যে বাড়ি এবং জমি দিচ্ছি, এটি পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যন্য। প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব বাড়ির সুবিধাভোগীরা হলেন- ভূমিহীন-গৃহহীন, ভিক্ষুক, দিনমজুর, নিঃস্ব নারী, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক-জন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার, জাতিগত সংখ্যালঘু, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, কুষ্ঠ রোগী, ঝাড়ুদার এবং হরিজন সম্প্রদায়। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকেও একই ভাবে পুর্নবাসন করছি। ইতিমধ্যে কক্সবাজারে ১৩৯টি বহুতল ভবনে ৫ হাজার জলবায়ু-শরণার্থী পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের কারণে গৃহহীনদের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমেছে জানিযে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৃহহীন মানুষ কর্মসংস্থান এবং বাসস্থানের সন্ধানে শহরে ছুটে আসতো, আগে বাংলাদেশে এটি সাধারণ দৃশ্য ছিল। কিন্তু আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এই প্রবণতা প্রায় বন্ধ হযে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এসব মানুষ এখন তাদের নিজেদের এলাকা স্ব-কর্মসংস্থান করছে। আমরা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ মডেলটি অনুসরণ করছি। এই মডেলটি একজন পুর্নবাসিত ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সঙ্গে আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর‌্যাদা সম্পন্ন করে গড়ে তোলে। এই প্রকল্পে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের জন্য জমি এবং বাড়ির মালিকানার সমান অংশদারিত্ব নিশ্চিত করে।

post
বাংলাদেশ

শিশুদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আমাদের শিশুদের সত্যিকারের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য আমরা আগামী বছর থেকে একটি নতুন জাতীয় পাঠ্যক্রম চালু করছি।সোমবার (নিউইয়র্ক স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ মহাসচিবের ট্রান্সফর্মিং এডুকেশন সামিটে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও রেকর্ডিংয়ে জাতীয় বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন পাঠ্যক্রম আমাদের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করবে। এ প্রয়াস তাদের জলবায়ু সহনশীল হওয়ার বিষয়ে সচেতন করবে এবং দেশকে একটি উন্নত, জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত করতে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের সত্যিকারের এজেন্ট হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কারিগরি শিক্ষার জন্য, আমাদের লক্ষ্য হলো আরও ভালো সংযোগ শিল্প স্থাপন করা। আমাদের সন্তানদের এমন দক্ষতা থাকা উচিত যা তারা বিশ্বের যে কোনো স্থানে ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বুনিয়াদী এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বহু ভাষিক শিক্ষার প্রসারের জন্য দেশে আমাদের কিছু নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং আমাদের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ শিশুকে মিয়ানমারের পাঠ্যসূচিতে শিক্ষা দিচ্ছি। মানসম্পন্ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য সরকারকে শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনার জন্য বিনিয়োগ করতে হয়েছে। আমরা আমাদের জিডিপির অনুপাতে শিক্ষার জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের এসডিজি-৪ অর্জনের জন্য তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় করা সম্পদকে শিক্ষার জন্য একটি সুষ্ঠু অংশীদারিত্বের জন্য প্রদান করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করেছি। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি এবং বৃত্তি পাচ্ছে। সরকার কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন পরিবারগুলোকে মোবাইল গেটওয়ের মাধ্যমে নগদ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রাখবে। উপবৃত্তি, দুপুরের খাবার এবং বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাদের সফল কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী বছরের মধ্যে প্রায় ৫৯,৭৮০টি মাল্টি-মিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করব। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল বিভাজন কমানোর দিকে মনোনিবেশ করব। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাতে সমতা অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে।

post
বাংলাদেশ

নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগদান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দেবেন।স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৪ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২৪ মিনিট) নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরআগে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৯১০ ভিভিআইপি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।নিউইয়র্ক সফরকালে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস এবং সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বরুত পাহরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ২০ সেপ্টেম্বর নারী নেতাদের নিয়ে জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।২১ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলেমে ল্যাসো মেন্ডেজো, কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী সাদ্রিউ এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এদিন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে ‘টেকসই গৃহায়ন’ বিষয়ে একটি অনুষ্ঠান এবং ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন’ শীর্ষক সভায় অংশ নেবেন। এছাড়া জাতিসংঘ সদরদপ্তরে পদ্মা সেতুর স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন তিনি।২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে গোলটেবিল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক একটি বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।এদিন তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন আইওএম এর মহাপরিচালক অ্যান্তেনিও ভিটোরিনো, আইসিসি প্রসিকিউটর নিক ক্লেগ ও করিম খান।২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে (ভার্চ্যুয়াল) অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপরবিকেলে নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন এবং অক্টোবরের দুই তারিখ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি ব্রিটেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের সংবর্ধনা এবং রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন।ওয়াশিংটন থেকে দুই অক্টোবর রওয়ানা হয়ে লন্ডনে যাত্রাবিরতি দিয়ে আগামী ৪ অক্টোবর রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব পেল ‘রব-রুহুল প্যানেল’

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেলো ‘রব-রুহুল প্যানেল’। ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার ৫ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ২৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ব্যালট যুদ্ধে অংশ নেয় মাত্র সাড়ে ৫ হাজার ভোটার। বিজয়ীদের প্রায় সকলেই বহুবছর যাবত এই সোসাইটির বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। কেবলমাত্র সভাপতি রব মিয়া এবারই প্রথম নির্বাচিত হলেন। তিনি পেয়েছেন ৩১৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী নয়ন পেয়েছেন ২৫৪০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় নির্বাচিত রুহুল আমিন সিদ্দিকী পেয়েছেন ৩১৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিদায়ী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ২৪৭৫ ভোট। অন্য সকল পদেই প্যানেলভিত্তিক ভোট পড়ে বলে নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর এই নির্বাচন হবার কথা ছিল । মামলার কারণে তা ঝুলে যায়। এরপর করোনা মহামারির জন্যে ঝুলে থাকা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা তারিখ নির্দ্ধারণ করা হয় গত বছরের ১৪ নভেম্বর। সেটিও থমকে গিয়েছিল মামলার কারণেই। এবারও মামলার অবতারণা হয়। কিন্তু সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এম আজিজ আদালত প্রাঙ্গনে টানা দুদিন এটর্নীসহ অবস্থান নেয়ায় নিরা নিরু এবং ওসমান চৌধুরীদের দায়ের করা মোট ৫টি মামলা (যেগুলোতে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল) রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত মেশিনে ভোট গ্রহণ শেষে গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যগণকে পাশে নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন। সে সময় প্রার্থী এবং সমর্থকগণের অনেকেই ছিলেন গুলশান টেরেস মিলনায়তনে। দু’বছর মেয়াদি এ বিজয়ী কমিটির অপর কর্মকর্তারা হলেন : সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান (৩২১৪), ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক চৌধুরী (৩০৫২), সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী (২৮৭৫), কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন (২৯৮২), সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভ’ইয়া (২৯৩৭), সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহনাজ লিপি (২৯৯০), প্রচার সম্পাদক রিৎু মোহাম্মদ (৩২৯১), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ টিপু খান (২৯৪৩), সাহিত্য সম্পাদক ফয়সল আহমেদ (৩০২০), ক্রীড়া সম্পাদক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব (২৯৭৫), শিক্ষা সম্পাদক প্রদীপ কান্তি (২৭৫৯)। নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন ফারহানা চৌধুরী (৩২১০), আকতার বাবুল (৩১৬২), বাশার ভ’ইয়া (২৯৯৩), শাহ মিজান (২৯৬২), সুশান্ত দত্ত (২৯৪৯) এবং সাদী মিন্টু (২৯১৩)। বহুল আলোচিত-সমালোচিত এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নে কমিশনের অপর সদস্য মোহাম্মদ এ হাকিম মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কাওসারুজ্জামান কয়েস, মোহাম্মদ রুহুল সরকার এবং খোকন মোশারফ আন্তরিকভাবে সচেষ্ট ছিলেন বলে ভোটাররা জানান। কেন্দ্রসমূহ ছিল উডসাইডে গুলশান টেরেস, ব্রুকলীনে পিএস ৭৯, ওজোনপার্কে দেশী সেন্টার, ব্রঙ্কসে গোল্ডেন প্যালেস এবং জ্যামাইকায় ইকরা পার্টি সেন্টারে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাগ্রত রাখার সংকল্প

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সংহত করার সংকল্প ব্যক্ত করা হলো ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার সমাবেশে।২০২২-২০২৫ মেয়াদের নয়া কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের ‘গুলশান টেরেস’র মিলনায়তনে এ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা। ছিলেন নতুন প্রজন্মের সদস্যরাও। এসময় ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৩১ সদস্যের কার্যকরী কমিটির সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ফলে বহুজাতিক এ দেশে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এ সমাবেশ পরিণত হয় লাল-সবুজের একখন্ড বাংলাদেশে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াল সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং হামলাকারিদের প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে শুরু এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের সদস্যরা। নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি এবং মহিলা সম্পাদিকা সবিতা দাস। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তিন কন্ঠযোদ্ধা এ সময় দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গানে সকলকে আপ্লুত করেন। প্রবীন প্রবাসী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সকলেই ৫২ বছর আগের স্মৃতির অতলে হারিয়ে যান রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরি কিবরিয়া আর শহীদ হাসানের গানে। প্রথিতযশা এই ৩ শিল্পীর গানে মাতোয়ারা মিলনায়তনকে আরেক দফা নাচিয়ে নেয় নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের দরাজকন্ঠের গান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’র চ্যান্সেলর এবং মার্কিন আইটি সেক্টরে বাংলাদেশিদের কাজ পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালনরত পিপলএনটেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবুল মোহিতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা।অনুষ্ঠানে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্কে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখতে চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরালো করার আহবান জানান প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ সমুন্নত রাখতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন প্রবাসীগণের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি। আবুবকর হানিপ নয়া কমিটির কর্মকর্তাগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির কোর্স গ্রহণে ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদেরকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। তার ভার্সিটিতে পড়তে উচ্ছুকদেরকেও বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন বিপুল করতালির মধ্যে। এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে ৭ হাজারের অধিক প্রবাসীকে বিশেষ কোর্স প্রদানের মধ্যদিয়ে লাখ ডলারের অধিক বেতনের চাকরি সংগ্রহ করে দিয়েছে পিপল এ্যান্ড টেক। গত দু’বছরে বাংলাদেশ থেকে তার ভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার জন্যে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থী। নূরএলাহি মিনা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কার্যক্রমকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় অনন্য এক সহযোগি হিসেবে অভিহিত করেন। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে। তার এই সফরের সময় যে কোন মহলের অপতৎপরতা রুখে দিতে সচেতন প্রবাসীদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আয়োজনে নতুন কমিটির পরিচিতি পর্বে সকলকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আহবান করা হয়। ছোট্টমণি আলিশা খান, নিহাল হাসান, আরিয়া হাসান, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, উর্নিষা হাওলাদারের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছাকালে পুরো অডিটরিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা হলেন ক্যাপ্টেন (অব:) ডা. সিতারা রহমান বীর প্রতিক, মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমদ বীর প্রতীক, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা কাদেরি কিবরিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ পাটোয়ারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মলিনচন্দ্র সাহা এবং হারুন ভূইয়া। নয়া কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুৃন্নু, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া এবং আলিম খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ হাজী জাফরউল্লাহ, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. রফিক খান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক তানভির হাবিব শুভ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, যুব সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন। নির্বাহী সদস্যরা হলেন : বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা গুলজার হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, আবুল হাসান মিলন, মোহাম্মদ শামীম শরিফ, নুরুন্নাহার নিশা খান, কাজী মনসুর খৈয়াম, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, নাহিদ রেজা জন এবং আবু সাঈদ সিদ্দিক জামি। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ গত ৫ বছর দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় নয়া কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার দায়িত্ব গ্রহণ পর্বে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এবং ফোবানার আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার ও সাবেক চেয়ারপার্সন জাকারিয়া চৌধুরি এই ফোরামের নয়া কমিটির সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তথা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারনা দিতে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেছে, সামনের দিনগুলোতে তা আরো প্রস্ফুটিত হবে। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর মানুষের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বাঙালির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই ফোরাম। মুক্তচিন্তার কলামিস্ট ও কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এই প্রবাসে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। ওদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। আলোচনা সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেন, জয় বাংলা হচ্ছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলাদেশের সমার্থক। তাই প্রবাসে জন্মগ্রহণকারিদেরকে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে একাকার করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। যারা বাংলাদেশের সংবিধান মানে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে থামিয়ে দিতে বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত-তাদের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে প্রবাসীদের পাশে থাকবে এই ফোরাম। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশেদ আনোয়ার বাবলু, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমেদ বীর প্রতিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া এবং অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, সহ-সভাপতি শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ, ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ, এটর্নী জান্নাতুল রুমা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সমিরুল ইসলাম বাবলু, সুলতানা রহমান, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন, আবুধাবির আল আইন সেন্ট্রাল বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার উত্তম কুমার হাওলাদার, মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলম, নিউ আমেরিকান ডেমক্র্যাট আহনাফ আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মনিকা রায় চৌধুরী, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সদস্যপ্রার্থী সিরাজদৌলাহ হক বাশার, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ওসমান চৌধুরী, কম্যুনিটি লিডার শাহিন খান, নাসরীন শিল্পী, এটিএম মাসুদ প্রমুখ। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর, মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন সামনে রেখে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজন করতে যাচ্ছে, ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো-২০২২। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে। আর সে কর্মসূচি সামনে রেখে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজন করে মিট দ্য প্রেস। তাতে কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য দেন চেম্বারের পরিচালক শেখ ফরহাদ (পরিচালক, ইউএসবিসিসিআই), অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মো. লিটন আহমেদ (সভাপতি, ইউএসবিসিসিআই)। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST)'র চেয়ারম্যান ও সিইও আবুবকর হানিপ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-বিবিএফ এবং বিবিএফ গ্লোবাল (অফিসিয়াল পার্টনার বিডা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এর চেয়ারম্যান মাসুদ-এ-খান , ইউএসবিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট বখত রুম্মান বিরতীজ, ইউএসবিসিসিআই এর পরিচালক প্রফেসর হেনা সিদ্দিক, রাজিব খান ও আব্দুল কাদের শিশির এবং ফিনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি, ইউএসবিসিসিআই এর চেয়ারম্যান কাজী হেলাল আহমেদ।এসময় আবুবকর হানিপ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা বিনিয়োগে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছেন এমনটা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ীরা এখন শিক্ষা-চিকিৎসা খাতে বড় বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। শিক্ষাখাতে তার প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বড় সুযোগ।এবারের ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো'র প্রতিপাদ্য-‘এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট অপর্চুনিটি ফর ইউএস-বাংলাদেশ সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’। এই এক্সপো একটি B2B ট্রেড শো, কনফারেন্স এবং নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট।উদ্যোক্তারা জানান, তাদের লক্ষ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িকদের রপ্তানি-প্রস্তুত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রসারিত করতে সহায়তা করা।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আমাদের বিজনেস এক্সপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায় নতুন ক্রেতা, সরবরাহকারী এবং বিনিয়োগ সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। অতীতেও আমরা নানান ইভেন্ট আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছে ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো ২০২২-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাদার এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকছে। এছাড়া এক্সপোতে বিভিন্ন কর্মশালা থাকবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা প্রসারিত করার নানান কৌশল সম্পর্কে জানা যাবে। এই এক্সপোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ব্যবসার সবচেয়ে আধুনিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের আপডেট রাখা।বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ শতাধিক প্রতিনিধি এবং স্টেকহোল্ডার ইউএসবিসিআই বিজনেস এক্সপোতে অংশ নেবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসাকে একে অন্যের দেশে প্রসারিত করার পাশাপাশি কীভাবে বিশ্ববাজারেও নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন, ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারেন এসব বিষয়ে এক্সপোতে আলোচনা করা হবে। এখানে সফল ব্যবসায়ীরা নিজেদের সফলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। তাছাড়া এই এক্সপোর মাধ্যমে ব্যবসায়িরা নিজেদের ব্যবসার ব্র‍্যান্ডকে কীভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া যায়, সেসব বিষয়ে জানতে পারবেন। সর্বোপরি এই এক্সপো হলো ব্যবসা উন্নয়নের একটা প্লাটফর্ম।এক্সপোতে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের মেজরিটি লিডার চাক শ্যুমার, নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর ক্যাথি হকুল, নিউইয়র্কের মেয়র এরিক এডামস্, নিউইয়র্ক স্টেট কংগ্রেস উইম্যান গ্রেস ম্যাং, সিনেটর জন লু, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডস্, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নী মেলিন্দা কাটজ্, এসেম্বলিম্যান ক্যাটেলিনা ক্রুজ, জেনিফার রাজকুমার, এডওয়ার্ড সি ব্রাউনস্টেইন এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলামকে। এছাড়াও নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এক্সপোতে উপস্থিত থাকবেন।ইউএসবিসিসিআই চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে বিজনেস এক্সপো-২০২২ এর কো-পার্টনার হয়েছে- শিল্প মন্ত্রণালয় (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার) এবং এনওয়াইসি ডিপার্টমেন্ট অফ স্মল বিজনেস সার্ভিসেস। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার-বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-বিবিএফ এবং বিবিএফ গ্লোবাল (অফিসিয়াল পার্টনার বিডা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)। আর সহযোগিতায় রয়েছে- ইউএস চেম্বার অব কমার্স, ব্রুকলিন চেম্বার অব কমার্স এবং কুইন্স চেম্বার অব কমার্স।অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ আগামি ২৩, ২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর আসন্ন ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো-২০২২ এ সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সকল পেশাজীবীদের আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

post
এনআরবি লাইফ

গ্রাজুয়েট ক্লাব ইউএসএ’র উদ্যোগে ঢাবির শতবর্ষ পূর্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাব ইউএসএ-এর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর সাড়ম্বরভাবে নিউইয়র্কের উডসাইডের গুলশান টেরেসে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। দুই পর্বে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠানটি। প্রথম পর্বে ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও র‌্যালি। দ্বিতীয় পর্বে কেক কাটা, আলোচনা ও বিভিন্ন প্রকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা এদিন দুপুরের পর থেকেই জড়ো হতে থাকেন নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে। টি-শার্ট বিতরণের পর শুরু হয় র‌্যালি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৩৭-৭৩ এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ প্লাজার সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়। এটি পরিচালনা করেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বাঁশি, ঢোল-তবলা বাজিয়ে, গান গেয়ে র‌্যালিকে আরও আনন্দঘন করে তোলেন।বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এনথেম গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরুতে কোরআনুল কারিম থেকে তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। এরপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তার আগে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাব ইউএসএ-এর আহ্বায়ক মো. মাসুদুল ইসলাম। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেক কাটার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়পর্ব। মহুয়া মৌরি ও মুহাম্মদ শফীর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনভেনর মো. মাসুদুল ইসলাম, নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মুনিরুল ইসলাম, ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস এম নাজমুল ইসলাম, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজিং অফিসার এমডি লোকমান হোসাইন। গ্রাজুয়েট ক্লাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. রোকানুজ্জামান ও মহসিন উদ্দীন মোল্যা।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তারা কেউ ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে মেতে উঠেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাব ইউএসএ-এর সদস্যরা।ড. মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাবের এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছি কনসাল জেনারেল হিসেবে নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে। যখন থেকে এই অনুষ্ঠানের খবর পেয়েছি, তখন থেকেই এই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মনের আঙিনায় এখন ভাসছে সেই টিএসসি, কলাভবন, নীলক্ষেত, মলচত্বর, কার্জন হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি আর রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের প্রতিটি স্মৃতি।গ্রাজুয়েট ক্লাবের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে সত্য সুন্দর ও উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্ন। জীবনের অনিবার্য ডাকে আমরা হয়তো ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসেছি, তবে আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো প্রাক্তন হয় না। এই গ্রাজুয়েট ক্লাবের মাধ্যমে আমরা আবার সবাইকে এক সুঁতোয় গাঁথবো।সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রোকানুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বসবাস করছি, আমাদের মাঝে কীভাবে একটি সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, সেই ভাবনা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাবের যাত্রা শুরু।মোহাম্মদ মহসিন উদ্দীন মোল্যা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটদের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সমর্থ হবো। এর মধ্য দিয়ে স্বার্থকতা খুঁজে পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাবের পথচলা।অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল- র‌্যাফেল ড্র টিকিট বিতরণ, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বক্তৃতা, স্মৃতিচারণ, দলীয় ও একক সংগীত পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি, ফ্যাশন শো, নৃত্য পরিবেশনা, ক্যাম্পাসভিত্তিক নাটিকা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। রাতের খাবারের পর র‌্যাফেল ড্র এর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সবশেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় রাত ১১টায়।গ্রাজুয়েট ক্লাব কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে একটি ম্যাগাজিন বের করা হয়। ‘অপরাজেয় মিলনমেলা ম্যাগাজিন-২০২২’ নামের এই স্মরণিকায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধ, কবিতা, গল্প প্রকাশিত হয়েছে। ম্যাগাজিনটি সম্পাদনা করেছেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সিলভিয়া সাবেরীন ও মামুন রশীদ।শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের এই অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসেবে ছিলেন- আকরাম হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, ফারুক হোসেন, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, রেদোয়ান চৌধুরী এবং মো. মাসুদুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে এসেছে- ফ্রেন্ডস অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ট্যাক্স সার্ভিসেস এবং এটর্নি রাজু মহাজন অ্যান্ড এসোসিয়েটস।প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাব ইউএসএ-এর আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন- মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন- মোহাম্মদ রোকানুজ্জামান, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ মহসিন উদ্দীন মোল্যা, মামুন রশীদ, মহুয়া পারভীন, সিলভিয়া সাবেরীন এবং কোহিনূর বেগম। মামুন বলেন, গতবছর ৩১ জুলাই ,২০২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র‍্যাজুয়েট ক্লাব, ইউএসএ’র শুরু হয়েছিলো একটি আবেগ মিশ্রিত ভাবনা নিয়ে।যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র‍্যাজুয়েটদের মাঝে কিভাবে একটি সুন্দর ও সমমনা বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করা যায়- এ ভাবনা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র‍্যাজুয়েট ক্লাবের পথচলা শুরু। পরিশেষে তিনি আরও বলেন ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে একটি ভালোবাসার নাম, একটি চেতনার নাম। বিশ্বে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যাবে না, যেটি জাতির আশা-আকাংক্ষাকে এককভাবে ধারণ করে। এসব চেতনাকে ধারণ করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ক্লাব, ইউএসএ’র পথচলা শুরু।মিলনমেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর পরিচালনা করেন মামুন রাশিদ এবং সিলভিয়া সাবেরীন। রম্য বিতর্ক এবং ভিন্নধর্মী ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানে আরও মনোরম করে তুলে। ফ্যাশন শো তে ঢাবি'র বিশেষ গুলো এবং ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়। মামুন রাশিদ আর আরিফিন টুলুর কন্ঠে ক্যাম্পাসের প্রিয় গুলো দিয়ে মুখরিত হয়ে উঠে গুলশান টেরেস। র‍্যালীতে লালবাসের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। আরও ছিলো ঢাবিকে নিয়ে লেখা ভালবাসায় সিক্ত প্ল্যাকার্ড।

post
এনআরবি লাইফ

শিকাগোতে শেষ হলো ৩ দিনের ফোবানা সম্মেলন, বিশেষ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত আবুবকর হানিপ

যুক্তরাষ্ট্রের এলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোতে শেষ হলো উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলাখ্যাত ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোশিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন। শিকাগো শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্বাগতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন অব শিকাগোল্যান্ড’-এর আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ৩৬তম ফোবানা সম্মেলন ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার শুরু হয়ে শেষ হলো ৪ সেপ্টেম্বর রোববার। উত্তর আমেরিকার ৬০টিরও বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগঠন এই সম্মেলনে অংশ নেয়। এছাড়া সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রান্ত থেকে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি যান শিকাগোতে। এদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম বাংলাদেশি আমেরিকান শিক্ষা উদ্যোক্তা ওয়াশিংট ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। যুক্তরাষ্ট্রে আইটি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ফোবানা সেন্টার কমিটির পক্ষ থেকে সম্মামনা দেয়া হয় ওয়াশিংটন ইউনিভাসির্টি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেল ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপকে। কমিউনিটি সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ভূষিত করা হয় বিশেষ পুরস্কারে। আবুবকর হানিপের দুই প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও পিপলএনটেক এই আয়োজনের গোল্ড স্পন্সর।স্কোকি শহরের ডাবল ট্রি হিলটন হোটেলের বল রুমে শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘এক্সিকিউটিভ ডিনারে’ অন্য অতিথিদের সঙ্গে অংশ নেন আবুবকর হানিপ। তিনি এতে বক্তব্য রাখেন। এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এদেশে উচ্চতর শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একমাত্র শিক্ষা ও প্রযুক্তিজ্ঞানই পারবে বাংলাদেশিদের এদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে।এ জন্য তিনি বাংলাদেশিদের তার পরিচালনায় এগিযে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার আহ্বান জানান। এবং সন্তানদেরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে বলেন। পরে সন্ধ্যায় নর্থ শোর সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস-এ শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে ফোবানা নির্বাহী কমিটি ও হোস্ট কমিটির সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো বাণী পাঠ করেন এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মাসুদ রব চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদের বাণী পাঠ করেন সম্মেলনের আহ্বায়ক মকবুল এম আলী।সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ফোবানার চেয়ারপার্সন রেহান রেজা, মাসুদ রব চৌধুরী, মকবুল এম আলী, সাঈদ আহমেদ কোকো। আলোচনা সভায় ফোবানার চেয়ারপার্সন রেহান রেজা বলেন, একটি মহল ফোবানার সুনামকে বিনষ্ট করতে ফোবানার নাম ব্যবহার করে লস আঞ্জেলসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।তিনি আরও বলেন, ফোবানা সম্মেলন শুধুমাত্র নাচগানের বিনোদন নয়, আর্তমানবতার জন্যও কাজ করে ফোবানা। মহামারি করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে পৃথক পৃথকভাবে সাহায্য করেছেন ফোবানার নেতৃবৃন্দ। দেশে বন্যার্ত মানুষের সাহায্য ছাড়াও প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থাও করেছেন ফোবানা।শিকাগোতে ফোবানার দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ছিলো আয়োজকদের কমিটির মিটিং গ্লোবাল বিজনেস নেটওয়ার্ক সহ বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা। এগুলোতে অংশ নেন শিকাগোসহ বিভিন্ন স্টেটথেকে আসা ফোবানার নেতৃবিন্দু। এসময় এবাররে ফোবানার বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকদের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সম্মেলনের মুল মঞ্চ নর্থ শো সেন্টার ফর পারফরমিং আটর্সের সুপরিসর জায়গা জুড়ে ছিলো মেলার আয়োজন। যেখানে স্থানীয় সহ বিভিন্ন শহর থেকে আসা ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। ছুদির দিন থাকায় মেলায় দর্শক সমাগমও ছিলো অনেক। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মেলা উপভোগ করেছেন স্থানীয়সহ বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা দর্শকরা। সন্ধ্যায় মুল মঞ্চে ছিলো কিছু আনুষ্ঠানিকতা যেখানে এ বছর সেরা প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার দেয়া হয় প্রিয় বাংলাকে। সন্ধ্যায় হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। যেখানে পারফর্ম করেন দুই জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভীন ও বেবী নাজনীন। তৃতীয় ও শেষ দিনে হয় জমজমাট সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে স্থানীয়দের পারফরম্যান্সের পর গান পররিবেশন করেন জনপ্রিয় দুই শিল্পী ফাহমিদা নবী ও শুব্র দেব। এরপরই পর্দা নামে ৩৬দম ফোবানার তিন দিন ব্যাপীর আয়োজনের। আগামী বছর ফোবানার ৩৭তম আসর বসবে টেক্সাসের ডালাসে। এবং ২০২৪ সালের ফোবানা হবে ওয়াশিংটন ডিসিতে।ফোবানার নতুন কমিটিএবারের ফোবানা থেকে ২০২২-২৩ সালের জন্য ফোবানার নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়। এতে চেয়ারপারসন হয়েছেন ড. আহসান চৌধুরী হিরো। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মাসুদ রব চৌধুরী। নির্বাহী সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নাহিদুল খান। যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক আবির আলমগীর ও কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন মাহমুদ আলী। আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য পদে এসেছেন রেহান রেজা, মকবুল এম আলী, সাইয়েদ আহসান, রবিউল করিম, জসিম উদ্দিন মো. এম রহমান, বাবুল হাই ও নূরুল আমিন। নির্বাহী সদস্য সংগঠন ও যারা সেগুলোর প্রতিনিধিত্ব করবেন তা হচ্ছে- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাস, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি, বাংলাধারা'র মাহবুবুর ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব গ্রেটার শিকাগোর খালেদ রউফ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হস্টন-এর খালেদ জুলফিকার খান, বাইটপোর সামসুদ্দিন মাহমুদ, বাঙালি বয়েস কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের মহিন উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা (বাই)-এর সালেহ আহমেদ, বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন এর ইমতিয়াজ আহমেদ, বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার কানসাস সিটির আসিফ আই ইকবাল, ভার্জিনিয়ার ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি, ইউএস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডার মোহাম্মদ মুজিব উদ্দিন, বাংলাদেশ থিয়েটার হস্টন এর নাহিদা নাসের বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি অব জর্জিয়ার মোহাম্মদ আরেফিন, বাংলাদেশ আমেরিকান উইমেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেক্সাস, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

করোনায় আমেরিকানদের গড় আয়ু কমেছে ৩ বছর, ১০০ বছরের রেকর্ড

করোনাভাইরাস মহামারি এবং অন্যান্য কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে আমেরিকানদের যে হারে গড় আয়ু কমেছে, তা গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিক্স’ সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর গড় আয়ু কমেছে ৩ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ছিল ৭৯ বছর, গত বছর হয়েছে ৭৬ বছর। নেটিভ আমেরিকান এবং আলাস্কার আদিবাসীদের গড় আয়ু কমার হার আরও বেশি। ২০২০ সালে তাদের গড় আয়ু চার বছর কমেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারীর সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য গবেষকরা বুধবার আরও জানান, করোনায় বহু আমেরিকানের প্রাণহানির ফলে গড় আয়ু উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার অন সোসাইটি এ্যান্ড হেলথ’র পরিচালক ড. স্টিভেন উফ বলেছেন, গড় আয়ু কমার এ ঘটনা অবশ্যই ‘ঐতিহাসিক’ একটি বিপর্যয়। অবশ্য বিশ্বের অন্য ধনী দেশসমূহেও ২০২০ সালে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয় করোনা মহামারির জন্যে। তবে আমেরিকার মতো এত বেশি গড় আয়ু অন্য দেশে কমেনি। চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা বলেছেন, করোনাকালে হৃদরোগ, পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এবং মানসিক হতাশার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিম্নআয়ের ক্ষেত্রে ২০০০০ ডলার শিক্ষাঋণ মওকুফ করলেন বাইডেন, উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে মওকুফ ১০০০০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেছেন এদেশের শিক্ষা ঋণের বোঝা যারা বইছে, তা কিছুটা লাঘব করা হবে। এখন যাদের আয় বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের কম তাদের প্রত্যেকের ঋণের বোঝা থেকে ১০ হাজার ডলার করে মওকুফ করা হবে। আর যারা নিম্ন আয়ের কারণে পেল-গ্র্যান্টস পাচ্ছেন তারা মওকুফ পাবেন ২০ হাজার ডলার করে।ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘ সময় ধরে এই ঋণ মওকুফের ব্যাপারে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তাদের প্রত্যাশার কিংবা দাবির চেয়ে মওকুফের অংক কম হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আসা এই ঘোষণাকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর মধ্য দিয়ে মানুষগুলো ঋণের পাহাড় থেকে কিছুটা হলেও সস্তির জায়গায় পৌঁছাবে, বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, এই মানুষগুলো এখন হয়তো একটি বাড়ি কেনার কথা, কিংবা পারিবারিক জীবন শুরুর কথা কিংবা একটি ব্যবসা শুরুর কথা ভাবতে পারবেন। বাইডেন এসময় কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে শিক্ষাঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার কথা উল্লেখ করেন, যা ২০২০ সালের মার্চ থেকে কার্যকর করা হয় এবং সে বছরের শেষ মাস অবধি চলে। সেন্ট লুইসের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি) ডলার; ২০০৬ সালে যা ছিল ৪৮১ বিলিয়ন (৪৮ হাজার ১০০ কোটি) ডলার। মার্কিন শিক্ষার্থীদের এ ঋণের পরিমাণ বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ‘দ্য এডুকেশন ডেটা ইনিশিয়েটিভ’ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছর মেয়াদি কোর্স করার টিউশন ফি ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণা গ্রুপ ‘দ্য এডুকেশন ডেটা ইনিশিয়েটিভ’ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছর মেয়াদি কোর্স করার টিউশন ফি ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। যদিও অনেক দেশ যেমন: জার্মানি, আইসল্যান্ড ও সুইডেনে টিউশন ফি হয় নির্ধারিত, না হয় সম্পূর্ণ ফ্রি। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছরের কোর্স করতে বছরে একজন শিক্ষার্থীর খরচ হয় গড়ে ৩৫ হাজার ৫৫১ ডলার। খরচের খাতের মধ্যে আছে টিউশন, বিবিধ ফি, আবাসিক হল ফি, বই, অন্যান্য খরচ—বলছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস। যুক্তরাষ্ট্রে একজন শিক্ষার্থী যে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আবেদন করে, সে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কতটুকু উপযুক্ত, সেটি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তাঁর পড়াশোনার ব্যয় বহনের ব্যক্তিগত সক্ষমতা, পরিবারের সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে থাকে। পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ফেডারেল অনুদান, ভর্তুকিতে ঋণ, কাজের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এরপরই পড়াশোনার অবশিষ্ট খরচ মেটাতে ঋণের আবেদন করতে পারেন শিক্ষার্থী। নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মুডিস’–এর অর্থনীতিবিদ ক্রিশ্চিয়ান ডেরিটিসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় তরুণ–তরুণীরা আসলেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। তাঁদের অনেকেরই ঋণের বোঝা আসলে কেমন ও স্নাতক শেষে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে ছয় অঙ্কের বেতনের স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই।’ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রথম চাকরিতে তাঁরা বছরে মোটামুটি ১ লাখ ৩ হাজার ৮৮০ ডলার বেতন পাবেন। তবে প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। দেখা গেছে, স্নাতক শেষে চাকরিতে ঢোকার পর বছরে একজন গড়ে ৫৫ হাজার ২৬০ ডলার বেতন পেয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব বলছে, পকেটে টান পড়লে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দেশটিতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে করোনার সময় জমানো অর্থে হাত দিয়েছে মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে খুব শিগগির ঋণখেলাপি বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ক্রিশ্চিয়ান ডেরিটিস। তাঁর ভাষ্যমতে, সরকার যখন শিক্ষাঋণ পরিশোধ স্থগিত করল, তখনই অনেক ঋণগ্রহীতা সমস্যার মধ্যে ছিলেন। ভবিষ্যতে তাঁদের ঋণখেলাপি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.