post
এনআরবি সাফল্য

কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে ফয়সাল কাদেরের গানচিত্র ‘শ্রাবণের ধারার মতন’

গত ৭ আগস্ট ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষ্যে গত ১৬ আগস্ট প্রকাশ করা হলো স্বপ্নীল ফাউন্ডেশনের গান-কবিতার অভিনব গানচিত্র ‘শ্রাবণের ধারার মতন’।এতে রবীন্দ্র কাব্য পাঠে আছেন জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাক এবং রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ফয়সাল কাদের। ফয়সাল কাদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি বিশেষজ্ঞ। রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তার নিষ্ঠা ও সাধনা তাকে দুই বাংলায় তথা এই প্রবাসেও সমাদৃত করেছে। শ্রাবণের ধারা, কবিগুরুর ব্যবহৃত একটি প্রতীকী শব্দ, তার অতিপ্রিয় বিচিত্র চরিত্রের শ্রাবণ নিয়ে বহু বিচিত্র ভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন গানে, কবিতায়- এমনকি গ্রামবাংলাভিত্তিক পদ্মা পর্বের কিছুসংখ্যক ছোটগল্পে। এই পরিবেশনায় শ্রাবণ বহুভাবে শ্রোতাদের কাছে ধরা দেবে। যেমন- শ্রাবণ ঘনমোহে, ঘনশ্রাবণমেঘ, শ্রাবণের বরিষায় বা শ্রাবণের ধারার মতো, বলেছেন এই গানচিত্রের শিল্পীরা। তারা বলেন, শ্রাবণের অঝোর ধারার বৃষ্টি বাস্তবিকই রোমান্টিক মনের জন্য এক একক নিঃসঙ্গ অনুভূতির ভুবন তৈরি করে। গীতাঞ্জলি ও মানসী কাব্যের ৩টি কবিতার নির্বাচিত কিছু অংশ ও পূজা পর্যায়ের গানের মেলবন্ধনে এক শ্রাবণ কথন। এই প্রযোজনাটির ভাবনা ও শৈল্পিক নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী স্বপ্নীল সজীব। গানচিত্রে বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় মডেল অনীলা তাবাসসুম হৃদিকে। নির্দেশনা দিয়েছেন ইমরান এফ রহমান এবং সংগীতায়োজন করেছে মার্সেল। গানচিত্রটি দেখা যাচ্ছে স্বপ্নীল ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সার্জেন্ট ফারুককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তের গুলি, তবে একটিও তার গায়ে লাগেনি

সশস্ত্র দুর্বৃত্তের তাক করা তিন রাউন্ড গুলির একটিও বিদ্ধ হয়নি বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের (৩৫) শরীরে। প্রথম গুলির শব্দ শুনেই তিনি নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানের ব্যস্ততম স্ট্রিটে শুয়ে পড়েন। দ্বিতীয় গুলি তার পায়ের কাছ দিয়ে চলে যায়। তৃতীয় গুলি কাছে আসার আগেই দৌড়ে নিউইয়র্ক পুলিশের গাড়ির কাছে যান। সেই গুলি বিদ্ধ হয় রাস্তার পার্শ্ববর্তী গাছে।১৭ আগস্ট স্থানীয় বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের লেক্সিংটন এভিনিউ এবং ১১২ স্ট্রিটে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণের ঘটনায় পথচারীরাও হতবাক। কেউ ভেবেছেন হয়তো সিনেমার শুটিং চলছে। কারণ, এই এজেন্ট সে সময় কোনও গাড়িতে জরিমানার টিকিট দেননি। তাছাড়া ইন্টারসেকশনে রাস্তার জ্যাম কমানোর অহর্নিশ প্রয়াসে ছিলেন তিনি। গুলি বর্ষণের সংবাদ পেয়েই আশপাশের টহল পুলিশ সেখানে জড়ো হয় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বন্দুকধারী দৃর্বৃত্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় বলে এ সংবাদদাতাকে জানালেন ভীত-সন্ত্রস্ত্র ট্রাফিক এজেন্ট ফারুক হোসেন। ঝিনাইদহের সন্তান ফারুক মাত্র চার মাস আগে ঢুকেছেন এই চাকরিতে। বেআইনিভাবে পার্ক করার জন্য অনেকের গাড়িতে জরিমানার টিকিট দিয়েছেন কিন্তু কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। কোনও টিকিট ইস্যু না করেও এমনভাবে আক্রান্ত কেন হলেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। পরপর তিন রাউন্ড গুলি তাকে লক্ষ্য করে ছোঁড়ায় প্রতিয়মান হয় যে, তাকে টার্গেট করেই আক্রমণ করা হয়েছিল। পুলিশ গ্রেফতারকৃত দুর্বৃত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মোটিভ উদঘাটনের। জানা গেছে, ফারুকের স্ত্রী এবং একপুত্র ও এক কন্যা বাংলাদেশে বাস করেন। তিনি পরম করুণাময়ের শোকরিয়া আদায় করছেন গুলি থেকে বেঁচে যাওয়ায়। এই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ইউনিয়ন-সিডব্লিউ লোকাল-১১৮২’র পক্ষ থেকে একটি পোস্টিং দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কর্তব্যরত সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ এবং মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের জন্যে সকলের দোয়া চেয়েছেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশে তিন হাজারের মত ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টের প্রায় এক হাজার জনই হলেন বাংলাদেশি। প্রতিনিয়ত তারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

নিউজার্সিতে নজরুলময় দুই দিন, শতদল'র আয়োজনে সম্পন্ন নর্থ আমেরিকা নজরুল সম্মেলন

দিন দুটি হয়েছিলো নজরুলময়। নজরুলের গান, নজরুলের কবিতা, গান-কবিতায় নাচ আর নজরুলের নাটক এইসবে ভরে থাকলো সারাটিক্ষণ। ১৩ ও ১৪ আগস্ট- দুপুর থেকে রাত অবধি। এটি ছিলো নজরুল সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের বিদগ্ধ জনেরা জমায়েত হলেছিলেন গার্ডেন স্টেট খ্যাত নিউ জার্সির ইস্ট বার্নসউইকের জেএমপি আর্টস সেন্টারে। এটি ছিলো ১৯তম নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স। ১৩ আগস্ট দুপুর নাগাদ দর্শকরা জমায়েত হতে শুরু করেন কর্মসূচিতে। তাদের প্রায় সকলেরই ছিলো বাঙালি সাজ-পোশাক। অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয়েছিলো নজরুলের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্টারে। আর মঞ্চে চলছিলো... গান- নাচ- কবিতার আসর। শুরুতেই সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে গেলে খিলখিল কাজী, কবি নজরুলের নাতনি। তিনি এই আয়োজনকে উল্লেখ করলেন নজরুলকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিঁড়ি হিসেবে। আর বললেন, নজরুল তার গান কাব্যে মানুষকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন।আয়োজন শুরুতেই জমে ওঠে জার্সি ওয়েভের পরিবেশনায়। নিউ জার্সির সুপরিচিত এই ব্যান্ডসঙ্গীতের শিল্পীরা গাইলেন নজরুলের গান- দুর্গম গিরি-কান্তর-মরু দুস্তর পারাবার ও শুকনো পাতার নুপুর পায়ে...। অনুষ্ঠানটি সাজানো হয় নানা ঢঙে... তারই অংশ হিসাবে পরিবেশিত হলো "নানা রঙে নজরুল"। পরিবেশনায় ছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ জার্সি। গুলশান জাহান রিক্তার গাওয়া অগ্নিবীণার ফুল দিয়ে... তুমি হাত খানি যবে রাখো মোর হাতেরও পরে কিংবা আজি মধুরও বাশরি বাজে-র পর সৃজনও ছন্দে আনন্দে নাচো নটরাজ- গানে আমান্ডা আমানুল্লাহর নাচ দেখলো সকলে। শ্রীরূপা ঘোষালের খেলিছো এই বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু.... কিংবা সই ভালো করে বিনুনী বাঁধিয়া দে এইসবে গোটা মঞ্চ তথা চারিপাশ ততক্ষণে নজরুল আবহে। এমনই সময় বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে মঞ্চে এলো একটি দল। আবৃতির সাথে সাথে নাচ করে দেখালো শিশুরা। তার মধ্য দিয়ে শেষ হয় "নানা রঙে নজরুল"।এরপরপরই শুরু হয় সৃষ্টি অ্যাকাডেমির পরিবেশনায় "বর্ণিল নজরুল"। তাতেও ছিল গান আর নাচ। আলগা করো গো খোপার বাঁধন... কিংবা ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তোলে...এইসব গানে একের পর এক নাচের পালা চললো।রাঙামাটির পথে লো মাদল বাজে বাজের বাশের বাঁশি এই গানে পাহাড়ি সাজে সেজে ঘুঙুর পায়ে নেচে মঞ্চ মাতালো শিশু শিল্পীরা। এইসব নাচ গানের পারফরম্যান্স করে যাচ্ছিলো যারা, তারা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। যারা চেতনায় ধারণ করে বাংলার সংস্কৃতি। শামুসুন্নাহার নিম্মি আর সাদিয়া খন্দকারের উপস্থাপনায় এগিয়ে চলছিলো অনুষ্ঠান মালা। তাতে প্রথম দিনের আরও পরের দিকে মঞ্চে নাচ-গান আবৃত্তির পরিবেশনা নিয়ে এলো শতদল। এই শতদলই ছিলো এবারের নজরুল সম্মেলনের প্রধান আয়োজক। তাদের উপস্থাপনা "চেতনায় নজরুল"- এ গাইলেন ওস্তাদ সালাহউদ্দিন আহমেদ- অঞ্জলি লহ সঙ্গীতে। পাঠ হলো বিদ্রোহী কবিতা। বলবীর চির উন্নত মম শির। আরো পরিবেশিত হলো- একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী... নমো নমো নমো বাংলাদেশ মমো।লাল-সাদায় সেজে মেয়েরা নাচলো জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখায়। নিল-সাদায় সেজে মেয়েরা নাচলো মেঘেরও ডমরু ঘন বাজে। হলো কবিতা পাঠ- তোমারে পড়েছে মনে। আর পাঠ হলো কবি নজরুলের সেই কালজয়ী বক্তৃতা... যদি আর বাঁশি না বাজে।"যদি কোনদিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকীত্বের পরম শুন্য থেকে অসময়ে নামতে হয় তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না আমি সেই নজরুল....এই আয়োজনের শেষভাগে পরিবেশিত হলো কারার ওই লৌহ কপাটে একক নৃত্য। এইভাবে নাচে গানে কবিতায় ভরপুর করে তুলে মঞ্চে শুরু হলো উদ্বোধনীর আনুষ্ঠানিকতা। ততক্ষণে নজরুল আবহে দর্শক শ্রোতা মুগ্ধ। আয়োজনের মূল সমন্বয়ক কবির কিরণ অতিথিদের নিয়ে উঠলেন মঞ্চে। মঞ্চে ছিলেন মাহমুদ মোশাররফ হোসেন, ড. জিয়া উদ্দিন, ইঞ্জি. আবুবকর হানিপ, আজিজ আহমদ, সুলতান আহমেদ, রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, খিলখিল কাজী, রাহাত চৌধুরী, অ্যান্থনী পিযুষ, সালাহউদ্দিন আহমেদ,সুজিত মুস্তফা, লিনা তাপসী, গুলশান আরা কাজিসহ আরও অনেকে। মাহমুদ মোশাররফ হোসেন এবারের আয়োজনের পাশাপাশি নজরুল সম্মেলনের গোড়ার দিকের কথা তুলে ধরেন। এই আয়োজনের অন্যতম দুই পৃষ্ঠপোষক রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী ও ইঞ্জি. আবুবকর হানিপ এতে বক্তব্য রাখেন। রায়হানুল তার বক্তব্যে তুলে ধরেন কবি নজরুল আজ থেকে ১০০ বছর আগে যে বক্তব্য রেখে গিয়েছিলেন তা পরিবেশ আন্দোলনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আবুবকর হানিপ জোর দেন শিক্ষার ওপর। তিনি এই প্রবাসে নজরুলের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্ম যেভাবে তাদের গড়ে তুলছে তার প্রশংসা করেন। নিজের পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা- তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে এখানকার ডিগ্রি অর্জন জরুরি। আর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই নিজ নিজ সংস্কৃতির চর্চায় জোর দেওয়া সম্ভব। এই আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। একজন বাংলাদেশ আমেরিকান একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে তা পরিচালনা করছেন এমন একটি বিষয় সকলকে মুগ্ধ করে। দর্শকরা করতালির মাধ্যমে আবুবকর হানিপকে অভিনন্দন জানান। এরপর আবার গান। সুদুর অস্ট্রেলিয়া থেকে গাইতে এসেছিলেন আদিলা নুর। যেনো সুরের লহরী তুললেন তার একের পর এক তিনটি উপস্থাপনায়- সুরেরও বাণি মালা দিয়ে তুমি আমায় ছুঁইয়া ছিলে। আরও গাইলেন- স্বপ্নে দেখি একটি নুতন ঘর। তুমি আমি দুজন প্রিয় তুমি আমি দুজন। আদিলা নুরের শেষ উপস্থাপনা ছিলো পদ্মার ঢেউ রে.... । পৃথিবীর উল্টো পীঠে বসে দর্শক যেনো সত্যিই শুনতে পেলো পদ্মার কুলুকুলু ঢেউয়ের শব্দ তার সুরের লহরীতে। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষ হয় সামিয়া মাহবুবের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই শিক্ষার্থী শোনালেন গান- অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে... আর চাঁদ হেরিছে চাঁদ মুখ তার। দর্শক শ্রোতারা সে গানের সুর কানে নিয়ে, চেতনায় নজরুলকে ধারণ করে রাতে ঘরে ফেরেন...।পরের দিন আবার আসেন তারা। নজরুলের টানে। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় নজরুল বিষয়ক সেমিনার। আর বিকেলে গান-কবিতা-নাচের আসর। দ্বিতীয় দিনটিকে মাতিয়ে রাখে বিপা- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস। নিউইয়র্কভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি এদেশে নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির চেতনা। বিপার উপস্থাপনায় অনন্যভাবে পরিবেশিত হলো- বিদ্রোহী কবিতা। বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে অসাধারণ আবৃতির সাথে বিপা'র শিল্পীদের নাচ। সে পরিবেশনায় মুহুর্মূহু করতালি আর ছিলো দর্শকের মুগ্ধতা। দিনের পরের ভাগে গাইলেন সুজিত মুস্তাফা। ঢাকা থেকে এই নজরুল সম্মেলনে অংশ নিতেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এই গুণি শিল্পী। আর আসর শেষ হয় ওস্তাদ সালাহউদ্দিনের গান দিয়ে। কবি নজরুলের প্রয়ান দিবস সামনে রেখে তিনি গাইলেন- সে চলে গেছে দূরে...নজরুল দূরে চলে গেছেন। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন চেতনা। সেই চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি তাকে আজও স্মরণ করে। বাংলাদেশ থেকে সুদুর আমেরিকায় এসেও বাঙালি সেই চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ। তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকলো এই ১৯ তম নর্থ আমেরিকা নজরুল সম্মেলন।

post
বাংলাদেশ

জ্বালানি সমস্যা কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার আশাবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীরবিক্রম, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে হাডসন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শহিদুল ইসলামসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। হাডসন ইনস্টিটিউটের ইনিশিয়েটিভ অন দ্য ফিউচার অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার ডিরেক্টর ড. অপর্ণা পান্ডে গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের একার নয়, এটি এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তিনি বলেন, গণমাধ্যমসহ দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে প্রচেষ্টা চালালে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। তিনি বলেন, জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিশ্বে যে আঘাত এসেছে তা বাংলাদেশেও পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি এই বৈশ্বিক সংকটের সমাধান খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে তাদের আরো সোচ্চার ভুমিকা রাখা দরকার। জ্বালানি উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং কৃষি ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যাপক অবদানের কারণে দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়াতে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছে, এবং বাংলাদেশ জলবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ন্যাশনাল ব্যুরো অফ এশিয়ান রিসোর্সেস, ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা ঘণ্টাব্যাপী গোলটেবিলে অংশগ্রহণ করেন।

post
দূতাবাস খবর

ওয়াশিংটনে শহীদ শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শুক্রবার (৫ আগস্ট) বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।সমাজ ও জাতির উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে শহীদ শেখ কামালের অসামান্য অবদানের স্মরণে দূতাবাস বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এ উপলক্ষে প্রদত্ত বাণী পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মিনিস্টার (ইকোনোমিক) মোঃ মেহেদি হাসান এবং মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) দেওয়ান আলী আশরাফ এই বাণী পাঠ করেন। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল ইসলাম মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়নে শহীদ শেখ কামালের অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এবং একজন তারুণ্যের রোল মডেল। তিনি বলেন, খেলাধুলা, সঙ্গীত, নাটকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে শহীদ শেখ কামালের অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, শহীদ শেখ কামালের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে। আলোচনায় আরো অংশ নেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ফেরদৌসি শাহরিয়ার, মিনিস্টার (ইকোনোমিক) মো. মেহেদি হাসান ও মিনিস্টার (প্রেস) এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন। কাউন্সেলর এবং হেড অফ চ্যান্সেরি মোঃ মাহমুদুল ইসলাম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। আলোচনা শেষে শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে শহীদ শেখ কামাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তাদের পরিবারের শহীদ সদস্যদের এবং অন্যান্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রদূত শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

এনআরবি কানেক্ট-কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার: বাংলাদেশের সাফল্যে প্রবাসে কিছু লোক হিংসায় জ্বলে-পুড়ে মরছে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘কিছু লোক আছে এই প্রবাসে, বাংলাদেশে গত এক যুগে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেটি তাদের সহ্য হচ্ছে না। হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে। এজন্যে তারা সারাক্ষণ অপপ্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। বানোয়াট কিছু গল্প-কাহিনী রটাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হোক।’জাতিসংঘে পরমাণু বিস্তাররোধ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে ৩১ জুলাই নিউইয়র্কে এসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিনই অপরাহ্নে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন হোটেল কক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘এনআরবি কানেক্ট টিভি’কে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ড. মোমেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২/১৩ বছরের সাফল্য অকল্পনীয়। সকল সেক্টরে সাফল্য এসেছে। শুধু আমাদের জিডিপি বাড়ছে তা নয়, গত ১২ বছরে জিডিপি গড়পরতা ৬.৬% ছিল। কোভিডের আগের বছরে ৮.১৫% ছিল। করোনাকালেও ছিল ৬.৯৮%। এটা মিরাকল বলতে হবে। অলৌকিক ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। দারিদ্রসীমাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেভাবে আমরা এগুচ্ছি, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ অতি-দারিদ্র মুক্ত একটি দেশে পরিণত হবে। আমরা সে হার ৩% এ নিয়ে আসতে চাই। অর্থাৎ বাংলাদেশ খুবই ভালো করছে। শিশু মৃত্যু কমেছে। মাতৃ মৃত্যু কমেছে। বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারি একটি দেশ যেখানে পরিবার পরিকল্পনা তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৯৮%, সেটি কমে এখন ১.২২% হয়েছে। জন্মহার আমরা জোর করে কমাইনি। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণকে অধিক জনসংখ্যার কু প্রভাব সম্পর্কে সজাগ করতে পেরেছি। এসব বিষয় সুবিস্তারে গণমাধ্যমে আশা উচিত।’পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের নেতা, তার মত সেক্রিফাইসিং লিডারশিপ তো সারাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি সেজন্যে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস, কন্স্যুলেট রয়েছে, সবগুলোতে বঙ্গবন্ধু কর্নার চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো, বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, আদর্শ, মূল্যবোধ, চিন্তাধারা ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, শান্তি এবং স্থিতি, উন্নয়নের অপরিহার্যতা ইত্যাদি চিন্তা-ধারাকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা। এর সাথে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে চলমান অভাবনীয় সাফল্যের কাহিনী বিস্তারিতভাবে প্রকাশ ও প্রচার করাই হচ্ছে এ সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তবে কোন ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হবার আগেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সাশ্রয়ী হতে বলেছি সকলকে। ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার। তা নিয়েও বাংলাদেশ বড়াই করতো সে সময়। এখন আমাদের সব ধরনের ব্যয় করার পরও রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। এতদসত্বেও কিছু লোক অহেতুক বক্তব্য দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে তারা ফায়দা লুটতে চায়। ১ আগস্ট সোমবার অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের সেই বৈঠক। সেটিতে যোগদানের পরদিনই কম্পোডিয়ার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। 

post
এনআরবি সাফল্য

নিউইয়র্কে সাকিব আল হাসান ও শাকিব খান, সম্মাননা স্মারক তুলে দিলেন আবুবকর হানিপকে

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন বাংলাদেশের দুই সুপার স্টার। একজন ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। অন্যজন বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খান। এই দুই তারকা ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সফল ব্যক্তিত্বরা সমবেত হয়েছিলেন শো টাইম মিউজিক'র আয়োজনে। যাদের অন্যতম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি আমেরিকান, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। অনুষ্ঠানে আবুবকর হানিপকে প্রবাসীদের সামগ্রিক উন্নয়নে অশেষ অবদানের জন্যে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন দুই সুপার স্টার। আর আবুবকর হানিপও ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে দুই সুপারস্টারকে দেন বিশেষ সম্মাননা স্মারক। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ডফেয়ার মেরিনার আলো ঝলমল মিলনায়তনে ‘মিট এ্যান্ড গ্রিট এক্সক্লুসিভ’ শীর্ষক মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন শো টাইম মিউজিক’র কর্ণধার আলমগীর খান আলম।কোন ভূমিকা ছাড়াই দুই রাজাধিরাজকে মঞ্চে আলিশান চেয়ারে বসার আহবান জানালেন আলমগীর খান। এরপর দুই শাকিবের পাশে দু’জন করে বসেন এবং তারা সরাসরি উভয়ের মতামত ও মন্তব্য জানতে চান নানা ইস্যুতে। তারই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলাজি’র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের সঙ্গেও আলাপচারিতায় অংশ নেন সাকিব আল হাসান ও শাকিব খান। আবুবকর হানিপ শাকিব ও সাকিবকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে জানতে চান, নিজ নিজ ক্ষেত্রে আপনারা উভয়ে শীর্ষে আরোহন করেছেন। কঠোর অধ্যাবসায়ের পাশাপাশি আর কোন বিষয়টি আপনাদের সুপার স্টারে পরিণত করেছে বলে মনে করেন। ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বললেন, "পরিশ্রম তো করতে হয়েছে এবং এখনো করছি। এরকম পরিশ্রম অনেকেই করেন। কিন্তু সবাই তো হতে পারেন না। এজন্যে কপাল লাগে। মাশআল্লাহ আমার কপাল বড়, সেটি বড় একটি ব্যাপার।"সুপার স্টার শাকিব খান বলেন, "ভাগ্য লাগে। সেটি নির্দ্ধারণ করেন আল্লাহ তা’লা। এটাই বড় সত্য। আমি চেষ্টা করে আসছি। এই চেষ্টা জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে সহায়তা করে অনেককেই। আমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে ভাগ্য প্রসন্ন হয়েছে এবং সেটি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার দান।" চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের অপর এক কৌতুহলের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন, আমি বাস্তববাদি মানুষ। বর্তমান নিয়েই ব্যস্ত থাকি। তাই মারা যাবার পর কে কী ভাবলেন সেটি তো আমি জানতে পারবো না। তবে আমি জানি যারা একান্তই কাছের মানুষ তারা স্মরণ করবেন, দোয়া করবেন। আর যদি সমগ্র জাতির কল্যাণে কিছু করছি বলে বিবেকসম্পন্নরা অনুধাবনে সক্ষম হন, তাহলে তারাও স্মরণ রাখবেন বহুদিন।ইউএস সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান এটর্নি এবং কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার মঈন চৌধুরীর কৌতুহলের জবাবে সাকিব ও শাকিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা যখন করবেন, তখোন নিশ্চয়ই ইমিগ্রেশনের এটর্নি হিসেবে তার (মঈন চৌধুরী) শরণাপন্ন হবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রসারে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে ক্রিকেটার সাকিব বলেন, অবশ্যই করার ইচ্ছা আছে। নতুন প্রজন্মে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটের প্রতি। সেই আবেগ কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছেন সকলেই।মার্কিন মূলধারার চলচ্চিত্রে প্রতিভাসম্পন্ন অন্যদেরকে নিয়ে সম্পৃক্ততার কোন চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে ঢালিউডের কিং শাকিব বলেন, বাংলাদেশিসহ এশিয়ানদের মেধা এবং প্রতিভা অত্যন্ত প্রখর-এটি মার্কিন মুল্লুকের বিদগ্ধজনেরা ইতিমধ্যেই উপলব্ধিতে সক্ষম হয়েছেন। এ আর রহমান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এর অন্যতম উদাহরণ। নিশ্চয়ই আমরাও একই অবস্থানে উঠতে সক্ষম হবো। এজন্যে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে নিরন্তরভাবে কর্মরত শো-টাইম মিউজিকের উদ্যোগে কয়েকস মাস আগে এই নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো দুই কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী রুনা লায়লা এবং সাবিনা ইয়াসমীন একই মঞ্চে গেয়েছেন। এরপর এই দুই সুপার স্টারকেও একই মঞ্চে প্রাণবন্ত মতবিনিময়ে হাজির করার মধ্যদিয়ে কম্যুনিটিতে অনন্য এক উদাহরণ সৃষ্টি করলেন আলমগীর খান আলম। এই আলাপ-চারিতায় বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক নুরুল আজিম, রাহাত মুক্তাদির, রায়হান জামান, ডা. চৌধুরী সারওয়ার হাসান, ফাহাদ সোলায়মান, মোহাম্মদ এ কে আজাদ, শাহনেওয়াজ, রানু নাওয়াজ প্রমুখ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় নাম ‘প্রিসিলা নিউইয়র্ক’ তথা প্রিসিলা ফাতেমাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সকলেই আলমগীর খান আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এমন একটি আয়োজনের জন্যে।

post
এনআরবি লাইফ

এস্টোরিয়ার পথমেলায় জাগলো বাংলাদেশের প্রাণ

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় ঘেরা মঞ্চের পাশাপাশি বর্ণাঢ্য আয়োজনে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর এস্টোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘এস্টোরিয়া পথমেলা’। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আশপাশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাণভরে মেলাটি উপভোগ করেন।এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইনক ২৪ জুলাই রবিবার এই মেলার আয়োজন করে। বেলা তিনটার দিকে একগুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউএস কংগ্রেসওম্যান নিদিয়া ভেলাসকুয়েজ ও সিটি কাউন্সিলওম্যান জুলি উন। সাথে ছিলেন আসন্ন নির্বাচনে ষ্টেট সিনেট প্রার্থী নিয়ো মিকি এবং মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। সিটি কাউন্সিলওম্যান জুলি উন-এর পক্ষ থেকে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। এরা হলেন আব্দুল হাসিম হাসনু, সাব্বির আহমেদ, কাজী কায়নাত মরিয়ম, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, তানিম চৌধুরী, নিউজ প্রেজেন্টার ও উপস্থাপিকা দিমানেফার তিথি এবং এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি সোহেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন। হোস্ট সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মেলায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিম, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সহ সভাপতি মিজানুর রহমান জগলু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিসবা মজিদ, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উপদেষ্টা দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী ও হাজী আব্দুর রহমান, মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ রুহুল, বিশ্বনাথ সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি মনির আহমেদ, কুলাউড়া এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জালাল আহমেদ সহ বসির খান, সালেহ চৌধুরী, জুনেদ চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, আহবাব চৌধুরী খোকন, আবুল বাসার মিলন, আজহারুল হক খোকা, আবুল কালাম, ফেরদৌস ভূইয়া, এহসানুল হক, এরশাদুল আমীন, মীর জাকির, কয়েস আহমেদ, এমদাদ রহমান তরফদার, আবু সোলায়মান, সাব্বির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী কালা মিয়া ও মরিয়ম মারিয়াসহ প্রবাসী শিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, মনিকা দাস, বাউল ফখরুল, আমানত হোসেন আমান, গাজী এস এ জুয়েল, শাহেদ আহমেদ, বাবলী হক, মোহর খান ও শাহাদৎ সিয়াম। এছাড়াও নৃত্য পরিবেশন করেন নিতুন নেহার হেরা। সবশেষে ছিলো র‌্যাফেল ড্র। এতে স্বর্ণের চেন, টিভি, ট্যাব সহ আকর্ষনীয় পুরষ্কার ছিলো। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আবু হামিদ আহমেদসহ মেলা আয়োজন ও সফলতায় বিশেষ সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাবেদ উদ্দিন। উল্লেখ্য, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (২৯ জুলাই) বাদ জুমা ২০০০ পরিবারে মাঝে ফুড সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জাবেদ উদ্দিন জানিয়েছেন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

বিএসপি'র নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট লং আয়ল্যান্ডে, পিপলএনটেকের অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ আমেরিকা সোসাইটি অব প্রফেশনালস (বিএসপি)'র উদ্যোগে সামার নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট হয়ে গেলো নিউ ইয়র্কের লং আয়ল্যান্ডে। গত ২৪ জুলাই বেলমন্ট পার্কে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, ব্যাংকার, সফটওয়্যার ডেভেলপা, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, রিয়েলটর ও মার্কেটিং পেশায় সম্পৃক্ত এমন অনেকেই।এখানে নানা পেশার মানুষ কিভাবে একে অন্যের উপকারে আসতে পারেন, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে পারেন সে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিএসপি সভাপতি ও সিটকো গ্রুপের ম্যানেজার মাহদী ভূঁইয়া, ভ্যালি ব্যাংকের প্রফেশনাল প্র্যাকটিসেস স্পেশালিস্ট ইমতিয়াজ চৌধুরী, এসজে ইনোভেশন'র সিইও সাহেদ ইসলাম, পিপলএনটেক'র পরিচালক শফি চৌধুরী, গ্রিন রিয়েলটর প্রোগ্রামের পরিচালক দেলোয়ার খান, সিপিএ মিজানুর রহমান, ক্রেডিট এগ্রিকোল'র ভিপি অনিতা খবির, আইনজীবী লুৎফর রহমান লিমন প্রমুখ। এতে পিপলএনটেক ও ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে কথা বলেন নিউইয়র্কে পিপলএনটেক'র পরিচালক শফি চৌধুরী। তিনি এসময় বলেন, পিপলএনটেক তার কর্মসূচির মাধ্যমে ৭০০০ বাংলাদেশিকে আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি আধুনিক আইটি শিক্ষার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এসময় অনেকেই পিপলএনটেক থেকে তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। কমিউনিটির সুবিধার্ধে কাজ করতে কিভাবে একে অন্যের সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন সে ব্যাপারে জোর দেন আলোচকরা। 

post
শিক্ষা

ঢাবিএমএএ’র বার্ষিক সভায় কর্মকৌশল বেগবানের সিদ্ধান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইক্রো-বায়োলজি এলামনাই এসোসিয়েশন- নর্থ আমেরিকার কার্যনির্বাহী কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ জুলাই জুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় মোট ৬৫ জন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। সভায় অনুমোদনের জন্য নির্বাহী কমিটি সমস্ত বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপন করার পর বিস্তারিত আলোচনা শেষে অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১. ড. মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদের সভাপতির প্রতিবেদন, ২. সহ-সভাপতি ড. সুবর্ণা খান কর্তৃক সংবিধান সংশোধন উপস্থাপন, ৩. ড. লুকমান সরকার কর্তৃক সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন উপস্থাপন। ওয়ার্কস্ট্রীম সদস্যদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ড. শারমিনা দেলোয়ার (মিডিয়া ও প্রচার), ড. মুসাব্বির খান (যোগাযোগ ও আউটরিচ), ড. শাহজাদা খান (পেশাগত উন্নয়ন), ড. খায়রোল এ সিদ্দিকী (সাংগঠনিক উন্নয়ন), মো. দ্বীন ইসলাম (স্টুডেন্টস এনগেজমেন্ট) এবং ইফতেখার রফিকুল্লাহ (বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিজ্ঞাননীতি)। শেষে কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মীর তাইফুর আলম। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। সভার দ্বিতীয় পর্বে অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনকে অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ হিসেবে এবং উপদেষ্টা কমিটির ১৫ জন সদস্য অধ্যাপক ড. কে এম এস আজিজ, মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. এ এস এম মতিউর রহমান, ড. ফিরদৌসী কাদরী, ডা. শামিউল ইসলাম, ড. আক্তার মোল্লা, ড. এ কে আজাদ, অধ্যাপক ড. সেলিনা পারভীন, অধ্যাপক, ড. আফসার আলী, অধ্যাপক ড. মাহফুজ সরকার, ড. সামিরা সাঈদ, ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ড. সাঈদ মুনিরুজ্জামান, ড. আবু বকর সিদ্দিকী, ড. হাসান জাকি, এবং ড. বিভূতি রায়কে স্বাগত জানানো হয়। সভায় সদস্যরা তাদের মূল্যবান মন্তব্য উপস্থাপন এবং এই সংস্থার ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বৃদ্ধি এবং সাফল্যের জন্য নিঃশর্ত সমর্থন প্রদানের অঙ্গিকার করেন। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.