post
সংবাদ

শিক্ষক-সাংবাদিক আনিস আহমেদের ‘প্রদীপ্ত প্রেম’র মোড়ক উন্মোচন

শিক্ষক ও সাংবাদিক আনিস আহমেদের নতুন কবিতার বই ‘প্রদীপ্ত প্রেম’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত রবিবার ওয়াশিংটনে নিভৃতচারী এই কবির ৮ম কবিতার বই প্রকাশ পেল। সহযোগিতায় ছিল-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম ইনক্।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ওয়াহিদ হোসায়নি। ভিডিও প্রদর্শন করেন শফিক ইসলাম ও স্বাগত ভাষণ দেন ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক শতরূপা বড়ুয়া। করোনা পর বাঙালি কমিউনিটি দীর্ঘদিন পরে অনুষ্ঠানকে ঘিরে আবৃত্তি, নাচে-গানে খুবই মজেছিল। আবৃত্তি ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লাইলা হাসান, ‘নিদ্রা তোমার, নিঃস্ব আমি’ কবিতা পাঠ করেন সরকার কবীরুদ্দিন, কবিতার বই নিয়ে আলোচনা ড. আনিসুর রহমান, চাই প্রদীপ্ত প্লাবন কবিতা পাঠ করেন সোমা বোস। সঙ্গীত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে ভিন্নতা আনেন রুমা ভৌমিক, ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবিতে নৃত্য করেন রোকেয়া হাসি, দ্বন্দ্বের ধন্দ কবিতা আবৃত্তি করেন শাহনাজ ফারুক, ‘সেদিনের সোনা ঝরা সন্ধ্যায়’ সঙ্গীত জুয়েল বড়ুয়া, ‘বিষাক্ত বাতাস ও অধর্মের কল’ কবিতা নাকিবুদ্দিন, ‘ইচ্ছেরা সব’ কবিতা সুলতানা আহমেদ, তুমি রবে নিরবে নৃত্য করেন রোজমেরি রেবেইরো মিতু, ছিঁটেফোটা ভালোবাসা কবিতা সাদিয়া খান জেরি, আমি যে জলসাঘরে সঙ্গীত পরিবেশনা করেন ক্লেমেন্ট গোমেজ, তোমরা যা বল তাই বল সঙ্গীত ডারোথি বোস। রম্য আলোচনা করেন, কুলসুম আলম খুকি ও মিজানুর রহমান খান। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন-কাইউম খান, আর সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইশরাত সুলতানা মিতা। অনুষ্ঠানে কবি তার বই সম্পর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন আনিস আহমেদ। বইটি সম্পর্কে কবি বলেন, ‘প্রদীপ্ত প্রেম সে কেবল নিজের হৃদয়কে আলোকিত করে। ইশ্বর প্রেম, দেশ প্রেম এবং মানব-মানবীর প্রেমে।’ আনিস আহমেদ বলেন, কবিতাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে একটি বিমূর্ত শিল্প বলে মনে করি। অন্যান্য বিমূর্ত শিল্পের মতো কবিতার ও সহজ ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। পাঠকই নিজের অনুভূতি অনুযায়ী কবিতাকে বেছে নেবেন নান্দনিক আনন্দের উপাদান এবং সম্ভবত উৎস হিসেবে। কবি আনিস আহমেদের জন্ম ১৯৫৬ সালের ৬ মার্চ ঢাকার ধানমন্ডিতে। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ সালে বেতার সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন বিবিসি লন্ডনে এবং ২০০১ সাল থেকে একই পদে কর্মরত রয়েছেন ভয়েস অফ আমেরিকা ওয়াশিংটনে । এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে আনিস আহমেদের কবিতার বই , ইলিশিয়ামের প্রতীক্ষায় ; শব্দ ও নৈঃশব্দের সুর; আলোকিত পালকের জলবিন্দু এবং অন্তরপুরের নিরন্তর স্বপ্ন।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে শেষ হলো আবিয়া'র ৩ দিনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন, দেওয়ার-নেওয়ার, মিলিবার-মেলাবার এক দারুণ সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে তারা সকলেই সক্রিয়, সফল এবং সদা ব্যস্ত। তারা এখানে প্রকৌশলী, স্থপতি কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। কেউ রয়েছেন এখানকার সরকারের উচ্চ কোনো পদে। কেউ রয়েছেন বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তি হিসেবে। আবার কেউ নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে হয়েছেন বড় ব্যবসায়ী- উদ্যোক্তা।তাদেরই একটি সংগঠন- নাম আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড আর্কিটেক্টস। সংক্ষেপে আবিয়া। প্রকৌশলী, স্থপতি, উদ্ভাবকদের সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার তথা বিশ্বের আরও দেশের নন রেসিডেন্সিয়াল বাংলাদেশিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠন।আবিয়ার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ২০২২ হয়ে গেল গত ৭, ৮ ও ৯ অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিলান্ডে পোটোম্যাক নদীর তীর ঘেঁষা মনোরম পরিবেশে সাত তারকা বিশিষ্ট হোটেল গেলর্ডে আবাসিক এই সম্মেলনে টানা তিন দিন হোটেলে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেন এর সদস্যরা। তাতে তারা সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরো কি করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করলেন, সিদ্ধান্ত নিলেন। যার কেন্দ্রে ছিলো বাংলাদেশ। অর্থাৎ দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা কে কি করতে পারেন স বিষয়েই আলোচনা। আর একইসঙ্গে সময়টিকে তারা উপভোগ করলেন নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। যাতে ছিলো নাচ-গান-আবৃতি। আর ছিলো নৌভ্রমণ। গোটা তিন দিন ধরে চলছিলো এক মিলন মেলা। সে মিলন মেলায় তারা যোগ দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। তবে এবারের সম্মেলন ছিলো আরও বেশি অন্যরকম কারণ বাংলাদেশ থেকেও এসেছিলেন কয়েকজন প্রকৌশলী, স্থপতি তথা আইটি উদ্যোক্তা। যারা স্রেফ দেখতে আসেননি, এসেছিলেন বাংলাদেশে তাদের সাফল্যের গল্প শোনাতে। আর এখান থেকে সাফল্যের কথাগুলো জানতে।দেওয়ার-নেওয়ার, মিলিবার-মেলাবার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছিলো এখানে।শুক্রবার ছিলো সম্মেলনের প্রথম দিন। এই দিন সন্ধ্যায় ছিলো সোশ্যালাইজেশন ডিনার। আর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।বিকেলের মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে যান অংশগ্রহণকারীদের অনেকে। কারণ পারস্পরিক যোগাযোগ-দেখাশোনার এই সুযোগ তারা মিস করতে চাননি। হয়েছও তাই। মধ্যরাত পেরিয়ে সেখানে চলে গান-উৎসব আর মতবিনিময়। আর এখানে ওখানে দাঁড়িয়ে আলাপ-পরিচয়। ছবি তোলা সেলফি সেসবতো ছিলোই।সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলতে থাকে একের পর এক সেমিনার। তাতে     - ন্যানোটেকনোলজি ফর দি এডভান্সড টারশিয়ারি ওয়েষ্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রসেস,     - এ স্মার্ট এপ্রিলের মনিটরিং সিস্টেম ফর ইন্টারনেট অব থিংস(আইওটি) এপ্লিকেশন ইন বাংলাদেশ,    - দি ট্রান্সপোর্ট প্রোটকল ইভোলুশন ইন দি ইন্টারনেট এন্ড চেঞ্জ অব ট্রাফিক প্যাটার্ন,     - বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন,     - চ্যালেঞ্জেজ অব টার্শিয়ারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ এন্ড রোল অব এলামনাই অ্যাট হোম এন্ড অ্যাবরোড,    - কনস্সট্রাকন অব পদ্মা ব্রিজ:চ্যালেঞ্জেজ এন্ড সোলিউশনস    - দি ইকোনমিকস এন্ড ইম্পিলিকেশনস অব দি পদ্মা ব্রিজ    - হাউ টু ডিজাইন ওয়াটার ফ্রন্ট স্ট্রাকচার সিম্পল এন্ড সেইফ    - স্টুডেন্ট লোন ক্রাইসিস এন্ড দি ফিউচার অব ইয়াং আমেরিকান    - ডেভেলপমেন্ট অব স্পেস প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ    - সেমিকনডাক্টর ফোরাম: মিনিংফুল কোলাবোরেশন বিটুইন বাংলাদেশ, ইউএসএ এন্ড আদার স্টেকহোল্ডার্স    - সিস্টেম সিমুলেশন গাইডিং ইনোভেশন টুয়ার্ডস অ্যাচিভিং নেয়ার-জিরো ইমিশনস ভেহিকলস    - জিডিপি পার-কেপিটা - এ হিস্টোরিক পার্সপেকটিভ অব ইকোনমিক গ্রোথ এন্ড মানিটরি ইকোনমিকস- বাংলাদেশ,     ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এন্ড ভিয়েতনাম    - ডিজিটাল ক্লাউড ট্রান্সফরমেশন এন্ড ডেভসেকঅপস ইন ফিন্যানসিয়াল টেকনোলজি    - বাংলাদেশ-দি রাইজিং টাইগার: অ্যান ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল এক্সপেডিশন    - পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইন ঢাকা - প্রেজেন্ট ইস্যুজ/ডিরেকশনস এন্ড পোটেনশিয়াল সোলিউশনস/ইম্প্রুভমেন্টস    - ইট্রোডাকশন টু কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এন্ড হাউ ইট ক্যান বেনিফিট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সআলোচনার বিষয়বস্তুগুলোই বলে দেয় পৃথিবীর ঠিক উল্টো পাশে বসে দেশ নিয়ে কতটা আগ্রহ, আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে তারা ভেবেছেন নিজের দেশ সম্পর্কে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ ও প্রক্রিয়া সম্পর্ক।কি-নোট স্পিকারদের একের পর এক উপস্থাপনা হলভর্তি দর্শকদের জন্য তৈরি করে নানা-কিছু জানা ও শোনার সুযোগ। অন্যান্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম সফল আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষা উদ্যোক্তা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র চ্যান্সেলর ও বোর্ড চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপও এতে তার কি-নোট উপস্থাপন করেন। তিনি তুলে ধরেন শিক্ষাভিত্তিক সমাজের এই দেশে বাংলাদেশি আমেরিকানদের দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব ও নানা দিক।ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (আই-ট্রিপল-ই)-এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ও ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমান বলেন, এ ধরণের সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ দেশে বসবাসরত অনেকের উদ্ভাবনী জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পর্কে দেখার ও জানার সুযোগ পায় এবং বাংলাদেশের প্রকৌশল ও তথ্য প্রযুক্তির পেশার সাথে সম্পর্কিত পেশাজীবীদের সাথে ঐ জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের সূত্রপাত ঘটে।দিনটি আরও সম্মৃদ্ধ ছিলো শিশুদের জন্য আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা, ম্যাথ কুইজ ও ট্রিভিয়া দিয়ে। এদেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলো তাতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রকল্প নিয়ে। ছিলো চাকুরি মেলা ও চাকুরি প্রদান, নেটওয়ার্কিং সেশন। ও ইয়ুথ ফোরামের প্যানেল ডিসকাশন। দিন শেষে রাত নামলে অনুষ্ঠান জমে ওঠে আনন্দ আয়োজনে। তাতে ছিলো গান নাচ কবিতা আবৃত্তি। ইন্ডিয়ান আইডলের রক কুইন ও সারে গা মা পা-খ্যাত শিল্পী মনীশা কর্মকার, আধুনিক বাংলা গানের প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী এলিটা করিম ও অনিলা চৌধুরী প্রখ্যাত কবিতা আবৃত্তিকার প্রজ্ঞা লাবনীসহ আন্তর্জাতিক শিল্পীরা এতে পারফর্ম করেন। ছিলো স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনাও।আর অনন্য নৃত্য উপস্থাপন করে এখানকার নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে অসাধারণ এক নৃত্যানুষ্ঠান। যা তুলে ধরে এক অগ্রসরমান বাংলাদেশকে। পরে প্রখ্যাত অভিনেতা ও শিল্পী তাহসান খান যখন মঞ্চে ওঠেন তখন প্রায় মধ্যরাত। তার পরিবেশনায় একের পর এক গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। গানের তালে নেচে ওঠেন এমন দর্শকের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিলো না।  আয়োজনের তৃতীয় দিনে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশি টেক কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্রেকআউট সেশন। পরে আবিয়া'র সংবিধান ও বাই-লজ নিয়ে আলোচনার পর সংগঠনটির এজিম সম্মন্ন হয়। এবং দুপুরে অত্যাধুনিক ইয়াটে সকলে যোগ দেন নৌভ্রমণে। পোটোম্যাক নদীতে সে ভ্রমণ সকলের মধ্যে যোগাযোগ ও আড্ডার মধ্য দিয়ে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। পোটোম্যাক নদীর দুই তীরে প্রকৃতি ও আধুনিক সব ভবনে সৃষ্ট মনোরম দৃশ্য দেখে সময় কেটে যায়। আর ইয়াটে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করে সকলে নেমে আসেন। আর ফিরে যান যে যার গন্তব্যে। একটি মিলন মেলা ভাঙ্গে ঠিকই। কিন্তু এখানেই শুরু হয় আরও সম্মিলিত হওয়ার আরও একসঙ্গে কাজ করার নতুন সুযোগ। যা সংগঠনকে যেমন এগিয়ে নেবে। তেমনি এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে। যা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারই সকলে গ্রহণ করেছেন আবিয়ার এই তিন দিনের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে।

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্কে শুরু ১৪ দিনব্যাপী ৩৪ শিল্পীর চিত্রপ্রদর্শনী

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা আলোকে ১৪ দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়েছে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এ্যান্ড লার্নিং’ এ। ‘শিল্পের সাথেই থাকুন’ স্লোগানে উজ্ঝীবিত ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম’র এই প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর যাপিত জীবনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ৮ অক্টোবর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোস্তফা সারোয়ার। বাংলাদেশের এক সময়ের সেরা মেধাবিদের অন্যতম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘ ৩৯ বছর শিক্ষকতায় (ডীন, ভাইস চ্যান্সেলর) নিয়োজিত থাকা মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমি সমাজ-সংস্কৃতির গভীরে অনেক কিছু দেখেছি। লিবারেল আর্টস এ্যান্ড ফাইন আর্টসের সাথেও আমি পরিচিত। তবে আজকের এই শিল্পীবৃন্দের আয়োজনে আমি অভিভূত এবং বিনয়ের সাথে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি সকলের প্রতি। তিনি বলেন, এখানে বিচক্ষণতার অপূর্ব উপস্থাপন ঘটেছে। সর্বজনীনতার ঘটনাবলি দৃশ্যমান হয়েছে আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থানকারি নিউইয়র্ক সিটিতে। সারাবিশ্বের মানবতার উৎকর্ষ সাধনের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হতে পারে এসব চিত্র, মত দেন অধ্যাপক মোস্তফা সারোয়ার। তিনি বলেন, বাঙালি শিল্পীরা এভাবেই বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এজন্যে আমি গৌরববোধ করছি। এরপর সকল বিশিষ্টজনকে সাথে নিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোস্তফা সারোয়ার।এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের কর্মকর্তা আলমা লিয়া বলেন, এটি শুধু স্মৃতিকথা নয়, সকল শিল্পীর জীবনের ধারাবিবরণী, যা পরিণত হয়েছে চমৎকার একটি কানভাসে। সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উঠেছে প্রদর্শনী স্থানটি।শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন ড. মহসিন পাটোয়ারি এবং মূলধারায় প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলমও এমন আয়োজনের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন এবং বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্যে এটি হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস। তারা উভয়েই শিল্পীদের অসীম ধৈর্য এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যার শিল্পীরা হলেন আর্থার আজাদ, আলমা লিয়া, আজমীর হোসাইন, বশিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দীনা জামান, ফারহানা ইয়াসমীন, কীয়ো চি মঙ, কায়সার কামাল, কানিজ হুসনা আকবরী, কাউসার ফেরদৌসী, কাজী রকিব, লায়লা আঞ্জুমান আরা, মুতলুব আলী, মোহাম্মদ টুকন, মাসুদুল আলম, মাসুদা কাজী, মোহাম্মদ হাসান রুকন, মোস্তফা টি আরশাদ, নুরুল হক মিন্টু, নাজ হোসাইন পলি, জাহাঙ্গির রুদ্র, সাঈদ এ রহমান, সাজেদা সুলতানা, মোহাম্মদ সাঈদুল হাসান, শামীম সুবর্ণা, সালমা কানিজ, শামীমা এ রহমান, সুজিত কুমার সাহা, তাজুল ইমাম, তারিক জুলফিকার, তাসনোভা রহমান, ওয়াহিদ আজাদ, জেবুন্নেসা কামাল এবং ইকবাল হোসাইন।প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ২২ অক্টোবর।

post
এনআরবি সাফল্য

পর্দা উঠলো আবিয়া'র তিন দিন ব্যাপী দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২২-এর

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস। সংক্ষেপে আবিয়া হিসেবে গোটা উত্তর আমেরিকায় পরিচিত। এই সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন চলছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ন্যাশনাল হারবার সংলগ্ন সাত-তারকা হোটেল গ্যালর্ড ইন্টারন্যাশনালে। এ যেনো এক মিলন মেলা। সে মিলন মেলায় সমবেত যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় বাংলাদেশি সেইসব প্রকৌশলী, স্থপতি, আইটি বিশেষজ্ঞরা যারা এখানে তাদের স্বনামে ধন্য এবং স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। আর এরই মধ্যে একেকজন সফল নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি। তবে এবারের সম্মেলন আরও বেশি অন্যরকম কারণ বাংলাদেশ থেকেও এসেছেন কয়েকজন প্রকৌশলী, স্থপতি তথা আইটি উদ্যোক্তারা যারা স্রেফ দেখতে আসেননি, এসেছেন বাংলাদেশে তাদের সাফল্যের গল্প শোনাতে। আর এখান থেকে সাফল্যের কথাগুলো জানতে। দেওয়ার-নেওয়ার, মিলিবার-মেলাবার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে এখানে। শুক্রবার ছিলো সম্মেলনের প্রথম দিন। এই দিন সন্ধ্যায় ছিলো সোশ্যালাইজেশন ডিনার। আর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।বিকেলের মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে যান অংশগ্রহণকারীদের অনেকে। কারণ পারস্পরিক যোগাযোগ-দেখাশোনার এই সুযোগ তারা মিস করতে চাননি। তাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই কথা হয় এনআরবি কানেক্ট টিভির। তারা এই সম্মেলন নিয়ে তাদের উৎসাহ ও উচ্ছাস দুই-ই প্রকাশ করলেন। জানালেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা এখানে এসেছেন। পোটোম্যাক রিভার ঘেঁষা এই অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশে অনেকটা মজার সময় কাটানোও তাদের উদ্দেশ্য। আর সাথে সংগঠনটির জন্য আরও বড় কিছু কি করা যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করা। এমনটাই বলছিলেন আবিয়ার প্রেসিডেন্ট ফয়সাল কাদের। আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে থাকছে বেশ কয়েকটি টেকনিক্যাল সেমিনার ও প্যানেল ডিসকাশন। যা সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। আর সাথে চলবে বিজ্ঞান মেলা, ম্যাথ কুইজ, ট্রিভিয়া। রয়েছে ইয়ুথ ফোরামের ইয়ুথ প্যানেল ডিসকাশন। এই দিন সন্ধ্যায় ডিনারের পরপরই শুরু হবে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা। তারা এই সম্মলনে তাদের কি-নোট উপস্থাপন করবেন। অন্যান্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম সফল আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষা উদ্যোক্তা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র চেয়ারম্যান ও সিইও আবুবকর হানিপও এতে তারা কি-নোট উপস্থাপন করবেন। আয়োজনের তৃতীয় দিনে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশি টেক কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্রেকআউট সেশন। পরে আবিয়া'র সংবিধান ও বাই-লজ নিয়ে আলোচনার পর সংগঠনটির এজিম সম্মন্ন হবে। এবং দুপুরে শুরু হবে অত্যাধুনিক ইয়াটে নৌভ্রমণ। যা শেষ হবে ওইদিন বিকেল সাড়ে চারটায়। যার মধ্য দিয়েই শেষ হবে এই সম্মিলন। 

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়ায় উদযাপন শারদীয় দুর্গোৎসব

‘যা দেবী সর্বভুতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা/নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমো’ মন্ত্রে গোটা মানবতার সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধি কামনায় যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হলো শারদীয়া দুর্গোৎসব। নিউইয়র্কে শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, ভার্জিনিয়ায় নীলাচল সর্বজনীন শারদ উৎসববের পূজা অর্চনা গেল সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা সমিতির ‘৩৩তম দুর্গাপূজা’র অনুষ্ঠান হবে নিউইয়র্ক সিটির ফ্রেশ মেডোজে গুজরাট সমাজ মিলনায়তনে ৮ ও ৯ অক্টোবর। এ ছাড়া নিউইয়র্ক, নিউজার্সি এবং পেনসিলভেনিয়া স্টেটের প্রবাসীদের উদ্যোগে আরো ৩০টির মত মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের সংবাদ এসেছে। প্রতিটি মন্ডপেই বিপুল লোকসমাগম ঘটে। সকলেই ছিলেন ধর্মীয় সম্প্রীতির পরম বন্ধনে। নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘বাংলা ক্লাব’র পূজানুষ্ঠানের আয়োজনেও ছিলেন কয়েকজন মুসলমান যুবক। এভাবেই বাঙালি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত হয়েছে বহুজাতিক এ সমাজে। জ্যামাইকায় শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের পূজা-অর্চনায় নেতৃবৃন্দপূজা-অর্চনা চলাকালে সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের শীর্ষ নেতারা সেখানে গিয়ে সকলের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অন্যতম উপদেষ্টা একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট জাকির হোসেন বাচ্চু এবং ভার্জিনিয়ার নীলাচল সার্বজনীন শারদ উৎসবের অন্যতম সংগঠক শুভ রায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস, সাংবাদিক কানু দত্ত, আদিত্য শাহীন, সুজন আহমেদ প্রমুখ। জ্যামাইকা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি আনিসুর রহমান জানান, শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে প্রতিদিনই বিপুল লোক-সমাগম ঘটে পূজা-অর্চনায়। ভার্জিনিয়ায় নীলাচল সর্বজনীন পূজা উৎসবে মেতেছিল নতুন প্রজন্ম১ অক্টোবর শুরু এ দুর্গোৎসব শেষ হয় মঙ্গলবার ৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে। প্রতিদিনই অঞ্জলী, সন্ধ্যা আরতী,প্রসাদ বিতরণ, কোজাগরী লক্ষীপূজা,শ্যামা পূজার আয়োজন ছিল লক্ষনীয়। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে অভিভাবকের সকলেই মুগ্ধ। পূজা-অর্চনার মূল লক্ষ্য এভাবেই অর্জিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের কর্মকর্তারা। সমাপনীতে সিঁদুর দান উৎসব,শুভ বিজয়ের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান, মিষ্টি বিতরণ ছিল উল্লেখ করার মতো। মন্ডপ প্রাঙ্গণে সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন কৃষ্ণাতিথি, সবিতা রায়, রুনা রায়, জয়শ্রী রায়, অর্পণা রায়, সম্পা রায়, উইলি নন্দী, অঞ্জলী সরকার, মমতা ভৌমিক, বিথিকা কুন্ডু, মিনাক্ষী রায়,শিপ্রা রায়, অঞ্জলি সরকার, প্রিনা নন্দী,অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, স্নেহা দেবনাথ প্রমুখ। এই পূজা আয়োজক সংগঠন ছিল ‘শ্রীকৃষ্ণ ভক্তসংঘ’। দুর্গোৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কর্মসূচিগুলোর পরিচালনায় ছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ডা. প্রভাত চন্দ্র দাস, আহবায়ক সুভাস কুমার সাহা, যুগ্ম আহ্বায়ক ইন্দ্রজিৎ মজুমদার, পঙ্কজ রায়, সুমন মিত্র, নিতাই পাল, সঞ্জয় কর, জয়শ্রী রায়, অমরেন্দু নাথ দাস, রঞ্জিত বণিক এবং সুরঞ্জন বণিক, সমন্বয়কারি রঞ্জিত রায়। এছাড়াও ছিলেন সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি অজিত চন্দ, সাধারণ সম্পাদক অর্ধেন্দু কিশোর বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন ভট্টাচার্য। অর্থ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুরেশ চন্দ্র রায়। আয়োজনের সহায়তায় আরো ছিলেন সুশীল সাহা এবং রূপকুমার ভৌমিক।  ভার্জিনিয়া থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে সবথেকে বড় উৎসব শারদীয়া। শরৎকালের মনোরম আবহাওয়ায় দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত থাকেন বঙ্গ সন্তানেরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর শনিবার ভিয়েনায় কিলমার মিডল স্কুল মিলনয়াতনে অনুষ্ঠিত হয় ‘নীলাচল সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। জ্যাকসন হাইটসে বাংলাক্লাবের পূজা উৎসবে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতৃবৃন্দষোড়শোপচারে দেবী বোধনের মধ্যে দিয়ে যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে পূজিত হলেন দুর্গতিনাশীনি দেবী দুর্গা। দুর্গাপূজার পোরহিত্য করেন বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির "ঢাকেশ্বরী মন্দিরের" সাবেক পুরোহিত রণজিৎ চক্রবর্তী এবং সহযোগিতায় ছিলেন সাধক চক্রবর্তী ও মিতা চক্রবর্তী। ঢাকের তাল, মন্ত্র উচ্চারণ, চন্ডীপাঠ, কাঁসর ঘন্টা থেকে শুরু করে শঙ্খ ধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মন্দির থেকে মন্ডপগুলো রীতিমতো ভক্তদের পদভাওে সরব হয়ে ওঠে সকাল থেকেই। বেলা ১২টায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন আগত ভক্তরা। দুপুর ২টায় এবং সন্ধা ৭টায় আগত হাজারো ভক্ত’র মাঝে ভোগ এবং সুস্বাদু প্রসাদ বিতরন করা হয় বলে জানান সংগঠনের সভাপতি বাবু প্রানেশ হালদার।প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও দৃষ্টিনন্দন মন্ডপ ও কারুকাজে দশ প্রহরণধারিণীর বন্দনায় থিম ছিল "কুড়ে ঘরে মা রাজ রাজেশ্বরী"। বিগত দেড়মাস যাবৎ নীলাচল টিম নিরলসভাবে কাজ করেছেন শোলা ও রংয়ের কারুকাজে। এ তথ্য জানান মঞ্চ ও মন্ডপ কমিটির নিত্যানন্দ সরকার ও আকাশ সরকার। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে বিকেল ৪টায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমবেতসংগীত "দুর্গে দুর্গে দূর্গতিনাশিনী" পরিবেশনায় ছিল নীলাচল পূজা পরিবার। শিশু কিশোরদের মনমাতনো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিল নুতন প্রজন্মের পুনম ও মালিশা।ওয়াশিংটন ডি.সি'র অনতম্য পারফর্মিং আর্ট ইষ্টিটিউট "মুদ্রা"র নিবেদন " অজ্ঞলী" ছিল মনোমুগ্ধকর। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও ভারত থকে আগত ইন্ডিয়ান আইডল বিজয়ী " রাহুল দত্তের মন মাতানো গানে মুহুর্মুহ করতালি আর নাচে মেতে উঠেছিলেন সকলে। স্থানীয় শিল্পীর মধ্যে ছিলেন ক্লেমেন্ট গমেজ, মনোজ দাস, রোজমেরী মিতু, জুয়েল বড়োয়া, রুম্পা বড়োয়া, স্বপ্না শর্মা, হ্যাপি দেবনাথ, রিজয়া রায়, প্রিয়াঙ্কা সরকার, সিনথিয়া গমেজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এবং সার্বিক তত্বাবধয়ক সোমা হালদার এবং ক্লেমেন্ট গমেজ জানান, ধমীয় সম্প্রীতির বন্ধনে এবারের দুর্গোৎসবের এ আয়োজন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে সফল হয়েছে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রানেশ হালদার এবং অপর কর্মকর্তা নিত্যানন্দ সরকার, মনোজ দাশ, সুমন দেবনাথ, পরিতোষ মৃধা, বিজন সিংহ, সনজিৎ সাহা, অখিল নাগ, বিমল রাহা, শুভ রায়, আকাশ সরকার, অলক রাহা, অমিত কর্মকার, অঙ্শুমান চক্রবর্তী, দীপংকর দেবনাথ, জীবন সরকার, রাজ বাজগেইন, উত্তম সরকার এবং বিদ্যুৎ ব্যাণার্জী ছিলেন অভ্যর্থনাসহ কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয়ে।

post
শিক্ষা

ডব্লিউইউএসটি চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও সিএফও'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ড. শাহজাহান মাহমুদের

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র চেয়ারম্যান ও সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লি. এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে ডব্লিউইউএসটি'র ভার্জিনিয়াস্থ ক্যাম্পাসে এই সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় ড. শাহজাহান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক ও সিএফও ফারহানা হানিপের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়ে ড. শাহজাহান যুক্তরাষ্ট্রে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার মতো মহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য আবুবকর হানিপকে ধন্যবাদ জানান এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ গর্বিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দুয়ার খুলে দিয়েছে, আইটি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে যা সময়োপযোগী। আবুবকর হানিপ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই তার নতুন ক্যাম্পাস পেতে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান হারে শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ার কারণেই নতুন ও বড় ক্যাম্পাস প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার ইউনিক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইটি ইন্ডাস্ট্রি থেকে লব্দ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে শিক্ষকরা এখানে ক্লাস নেন। ফলে শিক্ষার্থীরা কর্মজগতের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করছে তাদের শ্রেণিকক্ষে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুইশন ফি শিক্ষার্থীরা সামর্থ্যের মধ্যে। ফলে এখানে ড্রপআউটের সংখ্যা খুবই সামান্য। প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সকল দফতর থেকে অনুমোদন ও সনদপ্রাপ্ত। বিশেষ করে এমবিএতে টপ র্যাংকড এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা এখানে আস্থা খুঁজে পায়। বিশ্বের ১২১টি দেশের শিক্ষার্থী এরই মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে জানিয়ে ফারহানা হানিপ বলেন, এটি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ডাইভার্সিফায়েড ক্যাম্পাসে পরিণত করেছে। শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ, উল্লেখ করেন তিনি। পরে ড. শাহজাহান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতনদের সঙ্গে ফটোশেশনে অংশ নেন। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস স্কয়ারে র‌্যালি থেকে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি

১৯৭১ সালে পাক বাহিনীরা নির্বিচারে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা, চার লাখের অধিক নারীর সম্ভ্রমহানী ঘটিয়েছেন। ওরা কোটি বাঙালির বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুড়িয়ে হত্যা করেছে অসংখ্য শিশু-নারী এবং প্রবীণ বাঙালিকে। পাকিস্তানী হায়েনার দল সাড়ে ৭ কোটি মানুষের একটি জাতি-গোষ্ঠিকে নিশ্চিহ্ন করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ওরা বাঙালির মায়ের ভাষা মুছে ফেলতে চেয়েছিল। বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার নির্লজ্জ প্রয়াসন চালিয়েছে। এসব কী ‘গণহত্যা’ নয়। তাহলে গত ৫১ বছরেও কেন এই গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়নি জাতিসংঘ। এই দাবি আদায়ের জন্যে আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? এমন ক্ষুব্ধ-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ১২ বছর বয়েসী ডেনিস জুলিয়াস ঐশো বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারের র‌্যালিতে। প্রায় অভিন্ন আকুতি ব্যক্ত হয় ছোট্টমনি আব্রাহাম আরজু, জুবাইদা বাতেন এবং সারাহ’র কণ্ঠেও। একইস্থানে খ্যাতনামা আর্টিস্ট এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম আঁকছিলেন একাত্তরের গণহত্যার প্রতিকী চিত্র।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাজুল বলেন, আমি গণহত্যার জন্যে যে ফায়ারিং স্কোয়াড ছিল, সেই দেয়ালের ছবি আঁকছি। পেছনে ধ্বংসযজ্ঞ-বাড়ি ঘরে আগুন লাগানোর দৃশ্য, সামনে লাশ পড়ে আছে। সেটাই হচ্ছে এই ছবির থিম অর্থাৎ জেনোসাইডের ব্যাপারে বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে অবিকল একটি চিত্র উপস্থাপনের প্রয়াস এটি। এরকম আরো ৫টি ক্যানভাসে ছবি আঁকেন শিল্পী মাহমুদুল হাসান রোকন, কাইসার কামাল, জেবুন্নেসা কামাল, আলমা লিয়া এবং মিথুন আহমেদ। আর এভাবেই জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রবাসী বাঙালিরা ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার অপরাহ্নে জয় বাংলা স্লোগানে। ‘হাই টাইম টু রিকগনাইজ জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ ১৯৭১-এ্যানিহিলেশন অব ৩ মিলিয়ন ইন অনলি ৯ মান্থ’ লেখা ব্যানারের পেছনে একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত প্রবাসীদের এ র‌্যালি চলে ঘণ্টা দুয়েকের মত। সকলের কণ্ঠে ছিল ‘জাতিসংঘ-৩০ লাখ মানুষ নিধনের বাংলাদেশ, জেনোসাইড ১৯৭১ কে স্বীকৃতি দিতে হবে।’একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের চিহ্নিত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় এর স্বীকৃতির প্রশ্নে প্রবাসী বাঙালিরা আগে থেকেই সোচ্চার থাকলেও তা এখন প্রবল হয়ে উঠেছে তা জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের এজেন্ডায় পরিণত হওয়ায়। ৩ অক্টোর এই পরিষদের ৫১তম অধিবেশনে ৩ নম্বর এজেন্ডায় রয়েছে বাংলাদেশের জেনোসাইড। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে এটি এক মাইলফলক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান। চিত্রাংকন পর্বের উদ্বোধন করেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমেদ।ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আশরাফুল হাসান বুলবুল, লুৎফুন্নাহার লতা, সুব্রত বিশ্বাস, মুজাহিদ আনসারী, মিনজাহ আহমেদ সাম্মু, সেমন্তি ওয়াহেদ প্রমূখ। টাইমস স্কয়ারের এই কর্মসূচির সমন্বয় করে আর্টস ফোরাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, প্রগ্রেসিভ ফোরাম, গণজাগরণ মঞ্চ, একুশের চেতনা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জেনোসাইড একাত্তর, প্রজন্ম একাত্তর, মানবী, আমরা একাত্তর। এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমদাদুল হক নাসিমুন্নাহার নিনি, ওবায়দুল্লাহ মামুন, আল আমিন বাবু, ফাহিম রেজা নূর, লুৎফুন্নাহার লতা, রোকেয়া রফিক বেবী, জাকির হোসেন বাচ্চু, সঞ্জিবন সরকার, জাকির আহমেদ রনি, মাহফুজা হাসান, সাগর লোহানি, ক্লারা রোজারিয়ো, শরাফ সরকার, কানু দত্ত, শাহ ফারুক, মাসুদ মোল্লাহ, এম এ বাতিন, সুলেখা পাল, হিরো চৌধুর, আলীমউদ্দিন প্রমুখ

post
বাংলাদেশ

বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-নমপেন এফটিএ চুক্তিতে সম্মত

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারনে উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হওয়ায় এটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন বৃহস্পতিবার রাতে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মত হন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমের ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এখানে তাঁর বাসস্থানের কক্ষে ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠক রুমে’ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সাথে এফটিএ’র চুক্তির ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ ব্যক্ত করলে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এই প্রস্তাবে সম্মত হন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশ থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানীর ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।তিনি কম্বোডিয়ায় কৃষি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান। হুন সেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, আসিয়ানের সভাপতি দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর সুপারিশমালা প্রনয়ণের মাধ্যমে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে। এসব দেশ মহামারি করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নানা সমস্যা মোকাবেলা করছে।প্রধানমন্ত্রী এখানে তাঁর বাসস্থানের কক্ষে ‘দি¦পক্ষীয় বৈঠক কক্ষে’ আইওএম’র মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনোর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চলাকালে এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ভূক্তভুগিদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএম’কে ধন্যবাদ জানান। আইওএম মহাপরিচালক অভিবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও আইওএম’র মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।পরে, প্রধানমন্ত্রী কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানি-সাদ্রিউর সঙ্গে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিল একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

সংকট-মন্দা মোকাবিলায় ‘বৈশ্বিক সংহতি’ চান শেখ হাসিনা

করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞায় সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক সংহতির ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকট ও মন্দা থেকে উত্তরণে ৬ টি প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থবিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গঠিত জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের তৈরি প্লাটফর্ম ‘চ্যাম্পিয়নস গ্রুপ অফ গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স’ (জিসিআরজি) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চলমান এ সংকট এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক সংহতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকটগুলো আমাদের সমাজ এবং অর্থনীতিতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। করোনা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের পথে যোগ করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। চলমান এ বিপর্যয়ের একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি টানতে উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা নিষেধাজ্ঞা গোটা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে যুদ্ধরত, উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সঠিক নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, এজন্য অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতেও আমরা প্রস্তুত। অ্যান্তেনিও গুতেরেসের উদ্যোগে শিগগিরই একটি পারস্পরিক সমাধান নিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংকট সামলাতে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশে আমরা সুনির্দিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থা অনুসরণ করছি। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বহুগুণে প্রসারিত করা হয়েছে। কৃষি, ক্ষুদ্র, কুঠির ও মাঝারি শিল্প এবং অন্যান্য দুর্বল খাতগুলো রক্ষায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানিখাতে নবায়নযোগ্য অংশ বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ সময় সংকট ও বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আমাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, আইএফআই ও এমডিবির মতো সংস্থাগুলোকে সংকট সমাধানে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সংকটগুলোর মধ্যে আছে- এসডিজিতে অর্থায়নের অভাব, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ও ওডিএ কমে আসা এবং ঋণ পরিষেবা। ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন’ উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় মহাসচিবের প্রশংসা করে দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ-সংঘাতের সময় খাদ্য উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগ সমর্থনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারি। তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করতে সাহসী ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। চতুর্থ প্রস্তাবে উৎপাদনশীলতা এবং কার্যকর খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি, প্রযুক্তি সহায়তা, ওডিএ উন্নত করা এবং রেয়াতি অর্থায়নে সরকার থেকে সরকার (জি টু জি) এবং বাণিজ্য থেকে বাণিজ্য (বি টু বি) খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। পঞ্চম প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু সহযোগিতায় বিশ্ব স্থাপত্যকে আরও কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত করতে হবে। আমাদের উচিত আসন্ন কপ-২৭-এর সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করা। ৬ষ্ঠ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তাক্ত ও সর্বনাশা সংকটের (রাশিয়া-ইউক্রেন যুদধ) একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাপ্তির উপায় খুঁজে বের করার কথা বলেন। নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা নিষেধাজ্ঞাগুলো সারা বিশ্বের মানুষকে গভীর ভাবে আঘাত করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলো এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো। অংশীদারদের সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তায় কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো, খাদ্য-জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে জিসিআরসি গঠনে এগিয়ে আসে জাতিসংঘ। এ গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য যুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্বের দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এ গ্রুপে যোগ দেন। গত ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে জিসিআরজি গঠনের কথা জানান অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ১৩ এপ্রিল জিসিআরজিতে যুক্ত হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ প্লাটফর্মে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

post
বাংলাদেশ

দিস ইজ এ নিউ মডেল শেখ হাসিনা প্রমোটিং থ্রো-আউট দ্য ওয়ার্ল্ড: ড. মোমেন

জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা কী বার্তা দেবেন তা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, কভিড১৯ সদস্যা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য এবং জ্বালানী নিরাপত্তা সমস্যা-তা কোন একক দেশ সমাধানে সক্ষম নয়। সেজন্যে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করা উচিত। এমনকি বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যে স্যাঙ্কশন-ট্যাঙশন দেয়া হয়, সেগুলোও সবাইকে নিয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্যে করলে সাধারণ নাগরিকেরা অসুবিধায় কম পড়বে। এটা হবে জাতিসংঘে চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান বার্তা।‘এর পাশাপাশি আমরা ক্লাইমেট ইস্যু উপস্থাপন করবো। কারণ আমরা হলাম ক্লাইমেট ইস্যুতে লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড। আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরো জোরালোভাবে উপস্থাপন করবো’, যোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আলোকে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ম্যানহাটানে ‘লটে প্যালেস’ হোটেলে স্থাপিত বাংলাদেশ মিশনের কন্ট্রোল রুমে প্রেস ব্রিফিংকালে ড. মোমেন আরো উল্লেখ করেন, ১গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের যে অভাবনীয় সাফল্য-সে সম্পর্কে সকল ফোরামে আমাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো। এটা সকলেরই জানা যে, বাংলাদেশ হচ্ছে গোটাবিশ্বে নারী ক্ষমতায়নে লিডার। সে কথাও তুলে ধরবো।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরো একটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরবো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন যে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যাদের জমি নেই, গৃহ নেই-প্রত্যেককে জমিসহ গৃহ দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই সেই কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখের বেশী মানুষকে জমির মালিকানা দলিল সহ গৃহ তৈরী করে দেয়া হয়েছে। একজন মানুষ যখন জমিসহ গৃহ পায় তখোন তার মনে যে শান্তি তা অকল্পনীয়। এই কর্মসূচির কথা ব্যক্তকালে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাবো যেন কোন দেশেই মানুষ গৃহহীন না থাকেন।’ ‘এসবই হবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার গুড মেসেজ। এবং আমি মনে করছি আপনারা সকলে তার প্রশংসা করবেন। দিস ইজ এ নিউ মডেল, শেখ হাসিনা প্রমোটিং থ্রো-আউট দ্য ওয়ার্ল্ড’, বলেন করেন ড. মোমেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মোহিত, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাখাওয়াত মুন, বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা। এর আগে দিনব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি আলোকে লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক পৌছানোর পর মঙ্গলবার ছিল প্রথম দিন। সারাদিন প্রধানমন্ত্রী কর্মব্যস্ত একটি দিন কাটিয়েছেন। সকাল হতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বিভিন্ন সভা ও অধিবেশনের সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.