post
এনআরবি লাইফ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি স্থপতি-প্রকৌশলীদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ৭-৯ অক্টোবর

যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশল বিদ্যা, স্থাপত্যবিদ্যা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংগঠন - আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস (এএবিইএ)'র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন আগামী ৭-৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান বিনিময় এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষে প্রতি দুই বছরে মিলিত হন গোটা আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে কর্ম ও অবস্থানরত বাংলাদেশি স্থপতি-প্রকৌশলীরা। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের সম্মেলন আয়োজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার ৭ তারকা হোটেল গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট এ আয়োজন করা হচ্ছে এই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে বিজ্ঞান মেলা, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, চাকরি মেলা ও তার মাধ্যমে চাকরি দেওয়া, নেটওয়ার্কিং সেশন থাকবে। শিশুদের জন্য গণিত প্রতিযোগিতা এবং তুচ্ছ বস্তু নিয়ে খেলার বিশেষ ধরনের প্রতিযোগিতা ট্রিভিয়া কম্পিটিশন থাকবে। আর থাকবে ক্যাটার্ড ডিনারসহ রোমাঞ্চকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও থাকবে , পোটোম্যাক নদীতে ক্রুজ মধ্যাহ্ণভোজ, সঙ্গীত পরিবেশনাসহ মনোমুগ্ধকর সব পারিবারিক আনন্দ আয়োজন। হোটেল গেলর্ডে আবাসিক এই সম্মেলনে বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন করবে এএবিইএ। আয়োজকরা জানান, এবারের সম্মেলনে ইন্ডিয়ান আইডলের রক কুইন ও সারে গা মা পা-খ্যাত শিল্পী মনীশা কর্মকার, প্রখ্যাত অভিনেতা ও শিল্পী তাহসান খান, সারে গা মা পা'র প্রথম রানার-আপ এবং প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী শুভশ্রী দেবনাথ, আধুনিক বাংলা গানের প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী অনিলা চৌধুরী এবং প্রখ্যাত কবিতা আবৃত্তিকার প্রজ্ঞা লাবনীসহ আন্তর্জাতিক শিল্পীরা পারফর্ম করবেন।যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনের প্রতিটি শাখার সদস্য এবং প্রকৌশলী নন এমন আগ্রহীদের চলতি জুলাই মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, জুলাই মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করলে হোটেল কক্ষের ভাড়ায় ১০০ ডলার ছাড় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জুলাই মাসের মধ্যে সম্মেলনের পুরো তিন দিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করলে ছাড়কৃত মূল্য ১৫০.০০ ডলারে করার সুযোগ পাবেন!রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফয়সাল কাদের (৩০১) ৫২৬ ৭৮৮৮; মিজান রহমান (২১৬) ৩৫৬ ৫৫২১; শাহ আহমেদ (২০২) ২৯৭ ৮৪৪২; কাজী জামান (৭০৩) ৯৮৯ ০৬৩৩; মনি হাসান (৩০১) ৩৪৬ ৮৮৩৭; আলী খান (৫০২) ৭১৪ ১২২৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।আরো তথ্যের জন্য সংগঠনের ওয়েবসাইট https://aabea.org এ ভিজিট করা যেতে পারে।

post
এনআরবি সাফল্য

নিউইয়র্কে আরেকটি ‘লিটল বাংলাদেশ’ হাজারো প্রবাসীর অভিবাদন কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফকে

লাবলু আনসার, নিউইয়র্ক থেকে: নিউইয়র্ক সিটির ৩৬৯ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান নারী এবং প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে গত বছরের নির্বাচনে (সিটি কাউন্সিল ডিিিস্ট্রক্ট ৩৯) বিজয়ী হয়ে ইতিহাস রচনার পর বহুজাতিক এই সমাজে আরেকটি ইতিহাসের স্রষ্টা হলেন কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ।ব্রুকলিনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে নামকরণ করতে শাহানার উত্থাপিত বিলটি (০৮৮০-২০২২) ১৪ জুলাই ৪৭-০ ভোটে সিটি কাউন্সিলে পাশ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এখন যে কোন সময় ওই ইন্টারসেকশনে ‘লিটল বাংলাদেশ’ সাইন লাগানো যাবে। উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই সিটির কুইন্সের একটি সড়কের নামফলক ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে উম্মোচন করা হয়। দু’লাখের অধিক বাংলাদেশির বসতিওয়ালা এই সিটিতে ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে আরেকটি সড়কের নামকরণ করায় ১৬ জুলাই শনিবার ব্রুকলিনের ঐ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘ব্রুকলীন মেলা ও ঈদ আনন্দ উৎসব’। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারি হাজার হাজার প্রবাসী বিপুল করতালিতে শাহানাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় মেলামঞ্চে শাহানাকে হোস্ট সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি’র পক্ষ থেকে আনন্দ উৎসবের ‘গ্র্যান্ড মার্শাল স্কার্প’ পরিয়ে দেয়া হয়। কম্যুনিটির উদিয়মান সমাজ-সংগঠক নুরুল আজিম এটি পরিয়ে দেয়ার সময় গোটা এলাকা উৎসবের আমেজে ভেসে উঠে। উৎফুল্ল শাহানা এ সময় বলেন, আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা এ এলাকাতেই। তাই এখানকার উন্নয়নে বাঙালিত্বকে উদ্ভাসিত করতে দ্বিধা করবো না। তবে প্রতিটি মানুষকে ব্যালট যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে এমন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে ভোট দানের হিসাবটি সামনে আসে সব সময়। শাহানা বলেন, আমি ঘটা করেই ‘লিটল বাংলাদেশ’ সাইন ঝুলাবো। সে সময় আপনাদেরকে আবশ্যই আমন্ত্রণ জানাবো। উল্লেখ্য, এই আনন্দ-উৎসবের আয়োজক কমিটির প্রায় সকলেই চট্টগ্রামের সন্তান। শাহানার বাবা মোহাম্মদ হানিফও উত্তর আমেরিকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি ছিলেন। এখনও বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান। এ প্রসঙ্গে মেলা কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তা কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ এবং মাকসুদ এইচ চৌধুরী এ সংবাদদাতাকে বলেন, আমাদের প্রত্যেকের সন্তানকে শাহানার পথ অনুসরণ করতে হবে। তাহলেই আমেরিকান স্বপ্ন পূরণ করা সহজ হবে। মেলায় অন্যান্যের মধ্যে আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কুইন্স ডেমক্র্যাটিক অর্গানাইজেশনের ‘ডিস্ট্রিক্ট লিডার’ এটর্নি মঈন চৌধুরী। ‘লিটল বাংলাদেশ’র আমেজে গানে গানে আপ্লুত করেন কন্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভিন, এস আই টুটুল, শাহ মাহবুব, শামীম সিদ্দিকী, রানু নেওয়াজ, অনিক রাজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সোনিয়া এবং এস এম ফেরদৌস।

post
যুক্তরাষ্ট্র

বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে তৃতীয় বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু

আগামী ২৯-৩০শে অক্টোবর বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠেয় তৃতীয় বইমেলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আয়োজক কমিটির সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীদের প্রথম প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বইমেলা আয়োজনের বিস্তারিত বিষয়ে উঠে আসে।সভায় বইমেলা সফলভাবে আয়োজনের কর্মকৌশল নির্ধারণ ও বিভিন্ন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকসহ লেখক, সাহিত্যিক, কবি, শিশু সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিত্বগণ উপস্থিত থাকবেন বলে সভায় জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, এবারের বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে - বইমেলায় আগতরা প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে আলাপচারিতার সুযোগ। এছাড়া, পাঠ উন্মোচন, কিশোর-কিশোরীদের চিত্রাংকন, বিশেষ নৃত্য, গানের ছোঁয়ায় কবিতা, শর্ট ফিল্ম ইত্যাদি থাকছে এবারের বই মেলায়। আয়োজকরা জানান, পারিবারিক ছুটিতে বইমেলা উপভোগের পাশাপশি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি’র আশেপাশের ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শণের সুযোগ গ্রহণ করতে ডিসকাউন্ট মূল্যে ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের হলিডে ইন এক্সপ্রেস হোটেলে অবস্থানের সুবিধা পাওয়া যাবে।  সভায় আয়োজক কমিটির আহবায়ক দস্তগীর জাহাঙ্গীরের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বইমেলার প্রধান উপদেষ্টা ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার। মেলার প্রধান পৃষ্টপোষক মাজহারুল হক, উপদেষ্টা ড. নজরুল ইসলাম ও ড. আরিফুল ইসলাম, প্রধান সমন্ময়ক আতিয়া মাহজাবীন নীতু, গত বইমেলার প্রধান সমন্ময়ক সামিনা আমিন, শিল্পী মনি দিনা ও মেরিনা রহমান, ম্যাগাজিন কমিটির প্রধান রায়হান আহমেদ, চিত্রকর ইফতেখার সিদ্দিক, সমন্ময়ক মনি রিয়াদ, রিয়াদ, রাশেদ, হাসনাত সানী, আসিফ ও তারেক মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।

post
দূতাবাস খবর

আনন্দময় আয়োজনে বাংলাদেশ হাউজে সম্পন্ন ঈদ পুণর্মিলনী

আয়োজনটি ছিলো পরিপাটি ও বেশ গোছানো। অভ্যাগত অতিথিরা ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ হাউজে এসেছিলেন ঈদ পুণর্মিলনীতে অংশ নিতে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বাসভবন। মেরিল্যান্ডের একটি মনোরম নেইবারহুডে এই বাড়িটি বাংলাদেশ সরকার কিনে নিয়েছে। সুপ্রশস্ত বাড়ির ভেতর ও বাইরের বারান্দা মিলিয়ে শতাধিক মানুষের আয়োজন সহজেই করে ফেলা যায়। তাই অতিথিদের বাড়িতেই নিমন্ত্রণ করেছিলেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম বীথি। বিকেল থেকে আসতে শুরু করেন অতিথিরা। সাজ পোশাকে কারও বাঙালিয়ানা, কেউ আবার ফরমাল পোশাকে। সব মিলিয়ে এক আনন্দ আমেজ। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, স্টেট ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দায়িত্বশীল অনেকেই। আর ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা। তাদের কেউ শিক্ষক কেউ সাংবাদিক কেউবা সফল উদ্যোক্তা।  তারা কেউ ফুল হাতে কেউ অন্য কোনো উপহার হাতে পৌঁছান বাড়িটিতে। আর ধীরে ধীরে তা জমে ওঠে আড্ডায় আর অ্যাপেটাইজারে। এই আয়োজনে অংশ নিতে এসেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে একটি কর্মসুচিতে যোগ দেওয়ার পর ব্রাজিল সফরে যাওয়ার পথে ওয়াশিংটনে আসেন এই নিমন্ত্রণে যোগ দিতে। আয়োজনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শাহরিয়ার আলম বলছিলেন সে কথাই। এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে সহায়তা পেয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট এসেছিলেন বিশেষ অতিথি হয়ে। বাংলাদেশে তার চমৎকার সময়ের কথা স্মরণ করেন এবং আশাপ্রকাশ করেন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক সবসময় বজায় থাকবে।আর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় অভ্যগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় উৎসব মিশে থাকার বিভিন্ন দিক নিয়ে দু-চার কথা বলেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। সবশেষে বলেন, এই যা কিছু তার চেয়েও বড় কারণ এই উৎসব গ্রিট অ্যান্ড ইট-এর আর তা বলে সকলে খাবার গ্রহণের আহ্বান জানান। ততক্ষণে সারিবদ্ধ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা পদের উপাদেয় খাবার, মাংস পোলাও, রুটি, ডাল, সব্জি সালাদ আর সাথে হালুয়া পায়েশ। টেবিলে টেবিলে তখন খাওয়া আর আড্ডার ধুম পড়ে। সকলেই উপভোগ করে খেলেন উপাদেয় সব খাবার। কি দেশি কি বিদেশি অতিথি... সকলেই। খাওয়া শেষে এবার দেখা যায় ছবি তোলার ধুম। আনন্দময় দিনটিকে তারা চাইছেন ফ্রেমবন্দি করে রাখতে। করলেনও তাই। কেউ ঘরে কেউ বাইরে, এ ওর সাথে ছবি তুলে কাটলো সময় তাদের। অনেকেই সেখানে খুঁজে পেয়েছিলেন মার্শা বার্নিকাটকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তার সঙ্গে ছবি তুললেন কেউ দল বেধে কেউ একা। ওদিকে টেবিলে টেবিলে আড্ডা তখনও চলছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দেখা গেলো অন্যান্য দেশের কূটনীতিক আর এদেশীয় সরকারের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে বসে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাদের মধ্যে কংগ্রেসম্যানও ছিলেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সফল আইটি উদ্যোক্তা বর্তমানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও সিএফও ফারহানা হানিপ। আবুবকর হানিপ এই আয়োজনের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এমন আয়োজন বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে এদেশীয়দের কাছে তুলে ধরারই সুযোগ করে দেয়। তিনি নিজেও ঘুরে ঘুরে সকলের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও ছবি তুলছিলেন। জাতির জনকের প্রতিকৃতি সাজিয়ে রাখা রয়েছে বাড়িটির একদিকে। এছাড়াও বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে এমন বেশকিছু ছবি টাঙ্গানো দেয়ালে দেয়ালে। সেসবও অতিথিদের মুগ্ধ করে। এভাবেই আড্ডায় আড্ডায় সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। আর ধীরে ধীরে অতিথিরা বিদায় নিতে থাকেন। তখন অনেককেই দেখা যায় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছবি তুলতে। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি সস্ত্রিক সকলকে বিদায় জানান। আর তার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আনন্দঘন আয়োজনের একটি ঈদ পুণর্মিলনী। 

post
অনুষ্ঠান

নিউ ইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন

পয়লা জুলাই ২০২২ । এই দিন ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম জন্মদিন। এই দিন অপরাহ্ণে নিউ ইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট রূপ পেয়েছিল এক টুকরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শতবর্ষী এই দেশশ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের প্রবাসী এলামনাইরা নিজেদের স্মৃতির স্বর্ণসুষমায় হিরন্ময় করে তুলেছিলেন সময়টাকে। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সঞ্চালনায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম জন্মদিনে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হয়। ম্যারিয়টের ফরেস্টহিল ও ফ্রেশমেডো রুম তখন দেশমাতৃকার প্রতি অপ্রতিরোধ্য আবেগের ফল্গুধারায় সিক্ত হতে থাকে। প্রথা মেনে পরিবেশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতও। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, অর্জন ও ঐতিহ্য নিয়ে দুটি ডকুমেন্টরি প্রদর্শিত হয়। চিরচেনা জায়গার প্রিয়তম স্থানগুলো দেখতে দেখতে মনের অজান্তেই সকলে ফিরে যান নিজেদের জীবনের শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোতে। শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের এ অনুষ্ঠানটি ছিলো একেবারেই ব্যতিক্রমী। অনুষ্ঠানে সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি বা বক্তৃতার প্রচলিত প্রথার অনুসরণ ছিলো না। অনুষ্ঠানটিকে সকলের অংশগ্রহণে সর্বজনীন আনন্দের স্মারক হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যয়ই অনুসৃত হয়েছে সকল কর্মকাণ্ডে। উপস্থিত প্রত্যেকের পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ ছিল অনুষ্ঠানের একমাত্র উপজীব্য। স্মৃতিচারণে প্রত্যেকে নিজেদের জীবনের শ্রেষ্ঠতম সময় হিসেবে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বকালকে উল্লেখ করেছেন পাশাপাশি নিজেদের বর্তমান অবস্থান ও অর্জনের নেপথ্যেও এই প্রতিষ্ঠানের অনবদ্য ভূমিকার কথা অকুণ্ঠচিত্তে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে প্রায় সবাই গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া, বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করণ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান ও মানসম্পন্ন খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাহতাব উদ্দিন আহমদ (লোক প্রশাসন, ১৯৭৫-৭৬), সাবিনা ইয়াসমিন (আইন, ১৯৯০-৯১), ফারহানা পারভীন (আইন, ১৯৯০-৯১), মাহমুদ স্বপন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ১৯৯০-৯১), ইব্রাহীম খলিল (ইসলামিক স্টাডিজ, ১৯৯১-৯২), খলিলুল্লাহ (গণিত, ১৯৯৬-৯৭), রাজীব মুক্তাদির (সমাজবিজ্ঞান, ১৯৯৮-৯৯), কোহিনূর বেগম (মৃত্তিকাবিজ্ঞান, ১৯৯৮-৯৯), মোহাম্মদ রোকন (ইতিহাস, ১৯৯৮-৯৯), মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (ইসলামের ইতিহাস, ১৯৯৮-৯৯), ইমরান আনসারী (রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ২০০০-০১), সজল রোশন (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ২০০০-০১), মামুন রশীদ (ইসলামের ইতিহাস, ২০০৪-০৫), সিলভিয়া সাবরিন (পুষ্টিবিজ্ঞান, ২০০৬-০৬), রেজোয়ানা নাজনিন (সমাজবিজ্ঞান, ২০০৭-০৮), রুখসানা করিম (সঙ্গীত, ২০০৭-০৮), লোকমান হোসাইন (আইন, ২০০৭-০৮), আহসান হাবীব (আইন), শামীম আল আমিন, উম্মে সিদ্দীকা, সামিরা তহসূন, এস সালেহ, এম সুদাইস, মারুফুল ইসলাম, আহমাদ আফনান প্রমুখ। উদ্যোক্তা আইটিভি ইউএসএ’র কর্ণধার মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, অতিমারী কোভিডের কারণে শতবর্ষপূর্তির উৎসব এক বছর পরে হলেও এ অনুষ্ঠান নিউ ইয়র্কে আমাদের আত্মিক বন্ধন সুদৃঢ়করণে এবং সর্ববিধ নেটওয়ার্কিং-এ ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। তিনি এলামনাইদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, এমআইটি, ইয়েলের মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতি ও সমৃদ্ধির পেছনে এলামনাইদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এলামনাই হিসেবে আমাদেরকেও এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। স্টেট ইউনির্ভার্সিটির শিক্ষক ও সাংবাদিক ইমরান আনসারী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জাতিসত্ত্বা গঠনে অনবদ্য অবদান রেখেছে। জনগণের জীবনমান ও চিন্তাধারার মানদণ্ড ঠিক করে দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস রচনা করেছে। তিনি শীঘ্রই এলামনাইদের জন্য একটি ফলউৎসব আয়োজনেরও ঘোষণা দেন।অনুষ্ঠানে সোশ্যল মিডিয়ার জনপ্রিয় ব্যক্তি সজল রোশন তার সহজাত ঢংয়ে বলেন, বাংলাদেশে খ্যাতিমান হওয়ার জন্য তিনটি ডিগ্রি আপনার অবশ্যই থাকতে হবে। এসএসসি, এইচএসসি এবং টিএসসি! জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক রুকসানা করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি বছর সঙ্গীতে বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করার দূর্লভ সুযোগ পেয়েছিলাম, নিউ ইয়র্কে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সকল উদ্যোগের সাথে একাত্ম হতে চাই।নিউ ইয়র্কে অন্যতম বাঙালি উদ্যোক্তা খলিল বিরিয়ানীর স্বত্ত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজের নামকে ব্র্যান্ডিং করার প্রেরণা আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পেয়েছি। এ প্রতিষ্ঠানের কাছে আমার ঋণ অশেষ। তিনি নিজের ব্র্যান্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত করার মাধ্যমে এ ঋণ পরিশোধের প্রত্যয় ঘোষণা করেন।এটর্নি আহসান হাবীব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার পরিচিতি ও বিশ্বস্ততার মাত্রা ঠিক করে দিয়েছে। এখানে আইনবিদ হিসেবে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও পরিচয় আমাকে সবিশেষ সহযোগিতা করেছে। এ কারণে এখনো কেউ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় নিয়ে সামনে এলে তার আর কোনো পরিচয় প্রয়োজন পরে না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আইন কর্মকর্তা ফারহানা পারভীন বলেন, নিউ ইয়র্কে এসে আইনকর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরুর সাহস ও সফলতার পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই ছিল আমার মূলধন। নিউ ইয়র্কের হাইস্কুল থেকে সদ্য অবসরগ্রহণকারী শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন বলেন, দারুন অস্থির সময়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শুরু করেছিলাম। কিন্তু সময়ের অস্থিরতা অতিক্রমের সক্ষমতা বরাবরের মতোই এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখাতে পেরেছিল বলেই অদ্যবধি প্রিয়দেশ কাঙ্খিত গন্তব্যেই অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে যেতে পারছে।মামুন রশীদ বলেন, নিউ ইয়র্কে এলামনাইদের একটি অভিন্ন ও সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি এ চেষ্টা সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও লেখক ড. মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব হলো, বিভিন্ন জাতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠা করেছে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে একটি জাতিকে।সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও স্মৃতিচারণ শেষে উম্মে সিদ্দীকা ও সামিরা তাহসূন তৈরিকৃত সুদৃশ্য ও বিশালাকৃতির কেক কাটা হয়। অভ্যাগতদের বৈকালিক নাস্তায় আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাইদের অভিন্ন একীভূত প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রত্যয় নিয়ে অভ্যাগতরা ঘরে ফিরে যান। আইটিভি ইউএসএ ও রেডিও ৭৮৬ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একশ বছর ধরে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান তৈরি এবং বিতরণ করে আমাদের ওপর নিরন্তর আলো ছড়িয়ে চলেছে। দেশের খ্যাতিমান রাজনীতিক, কবি, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তাসহ প্রায় সকল পেশার সফল মানুষের আতুঁড়ঘর এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যার রাজনৈতিক সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্রষ্টা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী- মুজিববর্ষ একই সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে। মুজিববর্ষ উদযাপনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মরণোত্তর সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবান্বিত। ১৯১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ দেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। অতপর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভায় ‘দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’ পাস হয়। সে সময় যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ির নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখ অগ্রগণ্য। শিক্ষার্থীদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের পয়লা জুলাই। শুরুতে কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভূক্ত বিভাগগুলো ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৮৩টি বিভাগ, ৫৬টি গবেষণা কেন্দ্র, ১২৩টি অ্যাফিলিয়েটেড কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন প্রায় ৪০,০০০। আর, পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় দুই হাজার শিক্ষক।

post
এনআরবি লাইফ

সবাই গরম ভাতে ইলিশ ভাজা খেলেন স্বজনবর্গে

গরম ভাতে ধোয়া উড়ছে, ডুবো তেলে ভাজা হচ্ছে ইলিশ, পাশে গরুর রেজালা তার লাল কড়া লোভনীয় রঙ ছড়াচ্ছে আর সাথে আলু ভর্তা ও শুটকির পদ। ভাবছেন বাংলাদেশের গ্রামে বাবুর্চির রান্নার বিবরণ দিচ্ছি। না এই দৃশ্য দেখা গেলো যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ফোর্ট হান্ট পার্কে। সেখানে ছিলো ইলিশ উৎসব। বাংলাদেশের চাঁদপুরের দম্পতি কবীর ও পারভীন পাটোয়ারির আমন্ত্রণে একাত্তর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই পার্কে অতিথি ছিলো চার হাজারের বেশি মানুষ। মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ডিসিই কেবল নয়, অতিথিরা এসেছিলেন নিউজার্সি, নিউইয়র্ক থেকেও।উৎসব শুরু হয় সকাল ১১টায়। তখন থেকেই মানুষের আনাগোণা। একধারে রান্না চলছে, খাওয়া চলছে অন্নধারে।  ক্যাম্পেইন চলছিলো কয়েকমাস ধরে। তাতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলা হয়েছিলো "আপনাদের সামনেই ভেজে দেওয়া হবে, আপনাদের পছন্দের ইলিশ"। আর হয়েছেও তাই। বেলা দেড়টা বাজতেই সেই খাবার নেওয়ার জন্য অপেক্ষারত মানুষের সারি পার্কের শেষমাথা ছাড়িয়ে সড়কে নেমে পড়েছে। এই দিকে বড় বড় হাঁড়িতে চড়ছে ভাত, উঠছে ভাত। আর জুব জুব শব্দে রেডি হচ্ছে তেলেভাজা ইলিশ। খাবার তুলে নিয়ে যে যার মতো ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পার্কের এখানে ওখানে। অনেকেই এসেছেন সপরিবারে। স্ত্রী সন্তান পরিজন নিয়ে। তারা গোটা দিনটিকে সত্যিকার অর্থেই একটি পিকনিকের আমেজে কাটিয়ে দিলেন।  আয়োজন করতে পেরে ভীষণ খুশি কবীর পাটোয়ারি। ভার্জিনিয়ার এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জানালেন, ১৫ দিন ধরে চলেছে তার এই আয়োজন। আর এটা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। বললেন, অনেকের সহযোগিতায় আয়োজনটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এমন একটি আয়োজনে প্রচারটাই বড় বিষয়। কয়েকমাস ধরে আমরা জনে জনে বলেছি, দাওয়াত দিয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম সকলেই যেনো আসেন। আজ এসেছেন, তাই ভালো লাগছে। তবে সবকিছুর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন স্ত্রী পারভীন পাটোয়ারীকে। বললেন তার উদ্যমেই এত কিছু সম্ভব হলো। কথা হচ্ছিলে পারভীন পাটোয়ারীর সঙ্গেও। তিনি বললেন, আজ আমি খুব খুশি সুদুর আমেরিকায় বসে মানুষ ইলিশের স্বাদ উপভোগ করে পেটপুরে খেলো। এদিকে যখন খাবার বিতরণ চলছে ওদিকে মঞ্চে ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে গান-নাচের আয়োজন। সেখানে গাওয়া হচ্ছিলে নানা ধরনের দেশি গান। মাটি ও মানুষের গান। সেই গান শুনতে মঞ্চের সামনেও তখন অনেক মানুষ। পরিবেশিতও হলো নানা ধরনের গান ও নাচ। এই ভাবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বাইরে তখনও চলছে খাবার রান্না আর গরম গরম খাবার বিতরণ। বিকেল ৫টা নাগাদ লাইন ক্রমশ ছোটো হলে এলো কিন্তু জনতার ভীড় যেনো কমছেই না। কারণ তারা তখনও অপেক্ষায় দিনের প্রধান আকর্ষণ তাহসানের। বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা এসেছিলেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের গান শোনাতে। তাহসান শোনালেন তার জনপ্রিয় কয়েকটি গান। তাতে সুর মিলিয়ে আর নেচে নিজেরাও গাইলেন দর্শকরা। তাতেই পূর্ণতা পেলো আয়োজন। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ শেষ হয় এই আনন্দ আয়োজন। সবাই একটি অনিন্দ্যসুন্দর দিন কাটানোর উচ্ছ্বাস নিয়ে ঘরে ফেরেন। শেষ হয় ভার্জিনিয়ার ইলিশ উৎসব।

post
এনআরবি সাফল্য

'শাহ নেওয়াজ জিতলে, বাংলাদেশিরাই জিতবে'

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪এ থেকে ডিষ্ট্রিক্ট লিডার পদে প্রার্থীতার লড়াই করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাহ নেওয়াজ। আগামীকাল মঙ্গলবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আগে কমিউনিটিসহ সকল ভোটারদের সমর্থন পেতে ব্যপক প্রচার চালিয়েছেন কমিউনিটির জনপ্রিয় মুখ শাহ নেওয়াজ। ভোট সামনে রেখে শাহনেওয়াজ সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শাহ নেওয়াজ জিতলে, বাংলাদেশিরাই জিতবে, এটাই ক্যাম্পেইন তাদের। এবারের প্রাইমারিতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আমেরিকান প্রার্থী রয়েছেন। যাদের পক্ষেও ভোট চাইছেন অনেকেই।এদিকে ভোটের আগের রাতে এনআরবিসি টিভিকে শাহ নেওয়াজ বলেন, এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী। এরই মধ্যে আর্লিভোট যা হয়েছে, তা থেকেই তিনি অনেকটা আন্দাজ করতে পারেছেন, এই জয় আসবে। আগামীকাল বাংলাদেশি কমিউনিটির সকলকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শাহ নেওয়াজ বলেন, ভোটটাই এদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় শক্তি। ফলে সকলকে ভোট দিতে হবে। বেশি ভোট পাওয়া মানেই হচ্ছে কমিউনিটির মানুষদের জন্য কাজ করার বেশি সুযোগ তৈরি হওয়া, বলেন তিনি।  বাংলাদেশি ছাড়াও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মানুষদেরও ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।এরই মধ্যে স্টেট অ্যাসেম্বলির ডিস্ট্রিক্ট ২৪এ থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার পদে শাহ নেওয়াজ-কে সমর্থন জানিয়েছেন কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকান। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নিউইয়র্ক ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজ এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার-এর কর্ণধার শাহ নেওয়াজ একজন স্বনামধন্য , কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও লায়ন।কমিউনিটির বন্ধু হিসেবে তিনি সুপরিচিত। এবং অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে শাহ নেওয়াজ কমিউনিটিকে দিয়ে এসেছেন, এখন কমিউনিটির সুযোগ এসেছে তাকে দেওয়ার।যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি এগিয়ে চলেছে। কমিউনিটির এই চলার পথে নেতৃত্ব দিতে শাহ নেওয়াজ-এর মতো ডায়নামিক, এনার্জেটিক, ফ্যামিলিম্যান ও বন্ধুবৎসল নেতার প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। শাহ নেওয়াজ নির্বাচনী অঙ্গীকারে আগেই বলেছেন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ কে সুন্দর, শান্তিময় এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সচেষ্ট থাকবেন। এই দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।শাহ নেওয়াজের পক্ষে ভোট চেয়ে তার সমর্থকরা বলেন, বহুমুখি প্রতিভাধর ও সংস্কৃতি প্রেমি শাহ নেওয়াজ আমাদের বাংলাদেশিদের গর্ব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সকল অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি দেখা যায়। কমিউনিটির কর্মকাণ্ডগুলোতে তার সহায়তামূলক অবদান থাকে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই বাড়িয়ে দেন ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত। শুধু তাই নয়, বরং সব জায়গায় তার কন্টিবিউশন থাকে। বাংলাদেশর সকল কর্মকান্ডে তিনি মুক্তহস্তে দান করেন। এমনকি কোনো মানুষ ব্যাক্তিগত সহযোগীতার জন্য গেলেও কাউকে ফিরিয়ে দেন নি। নীবরে কাজ করতে যাওয়া শাহ নেওয়াজের জন্য ভোট চাইতে গিয়ে সমর্থকরা বলেন, শাহ নেওয়াজের মতো একজন কমিউনিটি নেতা বাংলাদেশিদের প্রয়োজন। যিনি কমিউনিটির হয়ে কাজ করবেন। কমিউনিটির কথা বলবেন। 

post
এনআরবি লাইফ

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় বাংলাদেশিদের অবদান বাড়ছে: চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ

"যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি এখন বিভিন্ন শ্রেণি পেশায় অগ্রসরতার পথে হাঁটছে। এখানে শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি-আমেরিকানরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। আর ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবেও তারা নাম কুড়াচ্ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হলেও এই মানুষগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একেকজন আমেরিকান। এই দেশের মূলধারায় নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়োজিত করেই কাজ করে যাচ্ছেন তারা।"এসব কথা বলছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ।ভার্জিনিয়ার মন্টেগমারিতে শনিবার (২৫ জুন) কংগ্রেসম্যান ডেভিড ট্রোনের সমর্থনে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন এই প্রকৌশল, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। কমিউনিটির অন্য নেতারাও এতে অংশ নেন। যাদের মধ্যে ছিলেন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান অ্যামেরিকান লেবার-অ্যাসাল'র প্রেসিডেন্ট এমএএফ মেজবাহ উদ্দীন।সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় কংগ্রেসম্যান ডেভিড ট্রোন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রশংসা করেন এবং মূলধারায় তাদের আরও বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় আইটি খাতে বিশেষ গুরুত্ব রেখে ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ভার্জিনিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে, বিষয়টি তাকে আনন্দিত করেছে, উল্লেখ করেন ডেভিড ট্রোন।তিনি বলেন, কমিউনিটিগুলো শক্তি ও সম্ভাবনাকে অন্তর্ভূক্ত করেই যুক্তরাষ্ট্র তার সকল বিভাগ পরিচালনা করে। শিক্ষা যার অন্যতম খাত। তিনি এই খাতে বাংলাদেশিরা আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন।চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ এসময় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা আইন-কানুন মেনে চলে এবং এখানে মূলধারায় বাংলাদেশিরা আরও বেশি অন্তর্ভূক্ত হতে চায়। এবং দিনে দিনে সে সংখ্যা বেড়েই চলেছে।এদেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের পূর্ণাঙ্গ আমেরিকান নাগরিক হিসেবে শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণাখাতে উচ্চ থেকে উচ্চতর স্থানে নিয়ে যেতে সচেষ্ট, উল্লেখ করে এই সফল আইটি উদ্যোক্তা বলেন, কমিউনিটির দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানরা এখন বিভিন্ন খাতেই এই উচ্চ অবস্থানে পৌঁছে গেছে এবং ভবিষ্যতে আরও যাবে।অনুষ্ঠানে এমএএফ মেজবাহ উদ্দিন শ্রমিক আন্দোলনের মূলধারায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে বলেন, এখন এর নেতৃত্বেও অনেককে পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে কংগ্রেসম্যান ডেভিড ট্রোনকে তার সমর্থনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বক্তারা।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

বিপুল উদ্দীপনা ও আনন্দ আয়োজনে সম্পন্ন ডব্লিউইউএসটি'র কনভোকেশন ২০২২

অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র কনভোকেশন ২০২২। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে তুলে দেওয়া হলো তাদের গ্রাজুয়েশন সনদ ও সম্মাননা। শনিবার (১৮ জুন) ভার্জিনিয়ার জর্জ সি. মার্শাল হাইস্কুল মিলনায়তনে সম্পন্ন হয় এই গ্রাজুয়েশন সেরিমনি। কালো গাউন মাথায় গ্রাজুয়েশন হ্যাট পরে সেরিমনির মূল আকর্ষণ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সনদ নিলেন, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুললেন দিনটিকে। এতে প্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির বোর্ড অব সুপারভাইজর এর চেয়ারম্যান জেফরি সি. ম্যাককে। কর্মসূচিটিকে স্রেফ সনদ বিতরণে সীমিত না রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে একটি বিশেষ সেমিনারের। তাতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ড. রায়ান সাদী, যুক্তরাষ্ট্রে সমহিমায় প্রতিষ্ঠিত একজন অনন্য বাংলাদেশি আমেরিকান চিকিৎসা-গবেষক। ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করে তিনি কুড়িয়েছেন বিরল সম্মান। শিক্ষার্থীদের তিনি নিজের জীবনের সাফল্যের গল্পটি শোনান এবং তাদের উদ্ধুদ্ধ করেন ভবিষ্যতের পথ চলার নানা দিকনির্দেশনায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ বিতরণের পাশাপাশি তাদের বক্তৃতায় তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যত কর্মপন্থার কথা। অনুষ্ঠানে অভ্যাগত অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অন্য আরও অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান। যারা এই গ্রাজুয়েশন-কনভোকেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে সফল বাংলাদেশি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেখ রহমান, যুক্তরাষ্ট্রে কূটনীতিতে সফল ব্যক্তিত্ব প্রথম মুসলিম বাংলাদেশি-আমেরিকান রাষ্ট্রদূত এম. ওসমান সিদ্দিক,  শিক্ষা ও গবেষণায় সফল ব্যক্তিত্ব আইট্রিপলই'র প্রেসিডেন্ট ড. সাইফুর রহমান ও মনমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গ্লোবাল সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন কমিশনের কো-চেয়ার ও কমিশনার ড. গোলাম এম. মাতবর, তথ্যপ্রযুক্তির সফল প্রবক্তা ও উদ্যোক্তা, ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস, কোডার্সট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সিইও আজিজ আহমদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সিদ্দিক শেখ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম ও ড. শ্যান চো ছাড়াও শিক্ষকদের অনেকেই অংশ নেন এই কনভোকেশনে। দর্শক সারিতে অন্যান্য বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নাতি ডেভিড রিগবি। যিনি নিজেও একজন বিজ্ঞানী। মাস্টার অব দ্য সেরিমনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস'র পরিচালক ড. মার্ক এল রবিনসন। সঞ্চালনায় ছিলেন ডব্লিউপিএলজি এবিসি- টেন'র সিনিয়র প্রডিউসার ও করেসপন্ডেন্ট ড. আনিভা জামান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেফরি সি. ম্যাককে বলেন, বহুজাতির সম্মিলনই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তি। তাদের অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে নীতিতে  যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত তারই একটি উদাহরণ এই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এর শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নানা দেশ থেকে এদেশে এসে তাদের উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছে, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা এই সময়ের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন তিনি। জেফরি বলেন, ভার্জিনিয়ায় ৯০০০ টেকনোলজি কোম্পানি রয়েছে, এই শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ করে এসব কোম্পানিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে যোগ দিতে পারবে, এটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। "আহা আমি নিজেও যদি পারতাম এমন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ে শিক্ষা নিতে," আক্ষেপের সুরে বলেন জেফরি সি. ম্যাককে। কি-নোট স্পিকার ড. রায়ান সাদী তার ব্যক্তি জীবনের গল্প দিয়ে শুরু করেন এবং একটি স্বপ্ন লালন করলে তা যে পূরণ হবেই সে কথাই শোনান শিক্ষার্থীদের। জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্বে ব্যবহার করার কথা বলেন আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে তা উল্লেখ করে প্রত্যেককে মানবতার শক্তিতে বলিয়ান হওয়ার আহ্বান জানান। আত্মপ্রত্যয়ী হতে বলেন আর পরিশুদ্ধ মনের অধিকারী হতে বলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তা হচ্ছে নিজেকে জানা, প্রত্যেকে তাকে নিজেকে জানতে পারলে, নিজের সক্ষমতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা জানলে এরপর আত্ন নিয়োজনেই যে কোনো অর্জন সম্ভব, বলেন ড. রায়ান সাদী। চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ তার বক্তৃতায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন যারা গ্রাজুয়েটেড হলেন তারা সকলেই গত বছরগুলোতে একটি কঠিন ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমি দেখেছি শিক্ষার্থীদের অসীম শক্তি ও আত্মপ্রত্যয়। আর সে কারণেই তারা সফল হতে পেরেছেন। আর তারই পথ ধরে আজ তাদের সেই সাফল্যই আজ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য সাফল্যের একটি দৃঢ় ভিত রচনা করে দিয়েছে। এখন প্রত্যেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে অর্জনের সকল সম্ভাবনা। যা ভবিষ্যতের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করবে, বলেন আবুবকর হানিপ।   এই গ্রাজুয়েটরা প্রত্যেকেই এখন ওয়াশিংটন সায়েন্স অ্যান্ট টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র এলামনি এবং গোটা বিশ্বের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়র প্রতিনিধি। তাদের প্রত্যেকের সাফল্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়াবে। আর ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীরা তাদের যে কোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়কে পাশে পাবে, বলেন চ্যান্সেলর হানিপ। ড. হাসান কারাবার্ক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেটিই সবচেয়ে বড় কথা। অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প কিছু নেই। শিক্ষার্থীেদর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সেটি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। যা তাদের একই ধরণের উদ্যোগ নিতে উদ্যমী করে তুলবে।এসময় শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রিপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করেন ড. হাসান কারাবার্ক। সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গ্রাজুয়েটদের এবং কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানান সেনেটর শেখ রহমান। এম. ওসমান সিদ্দিক শিক্ষার্থীদের দৃঢ়প্রত্যয়ী ও সাহসী হওয়ার উদ্দীপনা যোগান। এবং বলেন, জীবনের পথ চলায় সেটাই করবেন, যা আপনার হৃদয়ে লালিত। ড. সাইফুর রহমান বলেন, দেশ আপনার জন্য কি করতে পারবে সেটি যেমন জরুরি তেমনি আপনি দেশের জন্য কি করতে পারছেন সেটিও জরুরি। কারো কাছে সহায়তা প্রত্যাশার আগে তাকে কি সহায়তা করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর জন্য উপযোগী উৎপাদনমুখী কর্মশক্তি তৈরিতে কাজ করছে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, এখানকার শিক্ষার্থীরা তাদের যাত্রা শুরুই করতে পারছে এই ভবিষ্যত কর্মশক্তিতে তাদের স্থান করে নিয়ে, এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার, বলেন অধ্যাপক ড. গোলাম এম মাতবর। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সক্ষমতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ওপর জোর দেন। এবং বলেন, এসব কিছুর সমন্বয়েই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। সিদ্দিক শেখ এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের জন্য একটি সফল ভবিষ্যত অর্জনের পথ খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতের একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আপনার বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে গ্রাজুয়েটেড হলেন এটাই হতে পারে আপনাদের গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি মনযোগী, সৎ ও বিনয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতাভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে ভাগ্যবান বলে উল্লখ করেন আজিজ আহমদ। এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে যে দক্ষতা অর্জিত হয়েছে সেটাই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিশ্বের কর্মজগতের উপযোগী করে তুলবে। আর সময়ের প্রয়োজনগুলো সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তাদের এই জ্ঞানকে যতটা সম্পৃক্ত করতে পারবে তাদের সাফল্যই তত বেশি আসবে, বলেন তিনি।  ফারহানা হানিপ তার বক্তৃতায় নতুন গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজ আপনাদেরই দিন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজি'র গ্রাজুয়েটরা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আয়না। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা একে অন্যের প্রতিবিম্ব হয়ে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা দেশের নানা জাতির শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে, তাদের উপস্থিতিতে প্রতিটি ক্লাসরুম যেনো জাতিসংঘের সম্মেলন কক্ষ হয়ে ওঠে। আর এই ডাইভার্সিটিই প্রকৃত সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করে, বলেন ফারহানা হানিপ। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাইবার সিকিউরিটিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত জোসেফাইন মিলি চুং। তিনি বলেন, একটি পূর্ণসময়ের চাকরি করে, শিশু সন্তান লালন পালন করেও আমি এই ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের সর্বোচ্চ যত্ন ও গুরুত্ব আরোপের কারণে। অনলাইনে সাইবার সিকিউরিটি কোর্স সম্পন্ন করে এই ডিগ্রি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখন কাজ করছেন মিলি চুং। পরে একে একে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্রাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ তুলে দেওয়া হয়। আর সবশেষে শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠে ফটো সেশনে এবং তারই সঙ্গে আনন্দ বিনোদনে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই এসেছিলেন তাদের পরিবার-পরিজন সাথে নিয়ে।দিনের পরের ভাগে সন্ধ্যায় অভ্যাগত অতিথিরা যোগ দেন কনভোকেশন ডিনারে। স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এই ডিনারে অতিথিরা একজন বাংলাদেশি আমেরিকান হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য আবুবকর হানিপকে অভিনন্দিত করেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, ভয়েস অব আমেরিকার অপর বর্ষিয়ান সাংবাদিক সরকার কবিরউদ্দিন, এএবিজিএম'র সিইও আবদুল আলিম, ই-লার্নিংয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল খান, সাংবাদিক উপস্থাপক কবিতা দেলাওয়ার, ভারতীয় সাংবাদিক রঘুবীর গোয়েল প্রমুখ। বক্তারা আবুবকর হানিপের  এই উদ্যোগকে পাহাড় সড়ানোর মতো একটি কাজ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে এই যাত্রা অব্যহত রাখতে ইঞ্জি. আবুবকর হানিপকে উৎসাহ যোগান এবং তার ভিশন ও মিশনের প্রশংসা করেন তারা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ অ্যান্ড ফোটোনিক্স'র প্রেসিডেন্ট ড. আনিস রহমান, এএবিইএ সেন্ট্রাল এর চেয়ারম্যা ড. ফয়সল কাদের, বাংলাদেশের প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হোসেন, কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন, ক্রিকপয়েন্ট'র সিইও কাজী জামান, বাই'র সভাপতি সালেহ আহমেদ, ভারতীয় সাংবাদিক রঘুবীর গোয়েল, টার্কিস কমিউনিটি নেতা ও উদ্যোক্তা ড. ইউসুফ চেতিনকায়া,  ড. তার্গে পোলাদসহ কয়েকজন। সঙ্গীত ও উপাদেয় খাবারে এই সান্ধ্যভোজ হয়ে ওঠে আনন্দময়। গান গেয়ে শোনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্মের শিল্পী নাফিসা নওশিন, আনিকা হোসাইন ও আনিসা হোসাইন।সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়েছে। গ্রাজুয়েটেডরা সকলেই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তাদের সনদপত্র পাবেন।২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জি. আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন নয়তো বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

post
শিক্ষা

ডব্লিউইউএসটি'র কনভোকেশন ১৮ জুন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র গ্রাজুয়েশন কনভোকেশন ২০২২ আগামী ১৮ জুন শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ক্যান্সার চিকিৎসায় সাফল্য অর্জনকারী অন্যতম চিকিৎসা-গবেষক টেভোজেন বায়ো'র প্রেসিডেন্ট ও সিইও বাংলাদেশি আমেরিকান ড, রায়ান সাদি। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ভার্জিনিয়ার ফ্যায়ারফ্যাক্স কাউন্টির বোর্ড অব সুপারভাইজর এর চেয়ারম্যান জেফরি সি. ম্যাককে।সূচনা বক্তব্য রাখবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও সিইও বাংলাদেশি আমেরিকান ইঞ্জি. আবুবকর হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি ঘোষণা করবেন। কর্মসূচির মাস্টার অব সেরেমনি হিসেবে সকলকে স্বাগত জানাবেন ও কনভোকেশন পরিচালনা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস'র পরিচালক ড. মার্ক এল রবিনসন। সঞ্চালনায় থাকবেন ডব্লিউপিএলজি'র সিনিয়র প্রডিউসার ও করেসপন্ডেন্ট ড. আনিভা জামান। যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয়ক্ষেত্রে সফল এবং বিদেশের মাটিতে দেশের মুখ উজ্জ্বলকারী বাংলাদেশি আমেরিকানদের আরও অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কনভোকেশনে আসছেন অভ্যাগত অতিথি হয়ে। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশায় রয়েছেন এমন অনেকেই এতে অংশ নেবেন। উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আইটির পরিচালক প্রফেসর অ্যাপোটোলস এলিওপোলোস, সিএফও ফারহানা হানিপ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম ও ড. শ্যান চো। এই গ্রাজুয়েশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি থেকে পাবেন সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যোগ দেবেন এই গ্রাজুয়েশন কনভোকেশনে। ভার্জিনিয়ার টাইসন্সে জর্জ সি. মার্শাল হাইস্কুল মিলনায়তনে আয়োজন করা হচ্ছে এই গ্রাজুয়েশন কনভোকেশন। যা ওই দিন দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। এরই মধ্যে কনভোকেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে এখন কর্মজগতে প্রবেশের অপেক্ষায় এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে এই কর্মসূচি নিয়ে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। তারা এরই মধ্যে তাদের কনভোকেশন গাউন সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও প্রস্তুতি পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছে। কর্মসূচি সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার গ্রাজুয়েশন সেলিব্রেশন ও স্বীকৃতির জন্য কনভোকেশন একটি অন্যতম দিন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি দিনটিকে শিক্ষার্থীদের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে চায়। তিনি বলেন, প্রখ্যাত চিকিৎসা-গবেষক বাংলাদেশি রায়ান সাদীকে আমরা এই কনভোকেশনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে পাচ্ছি। আশা করি তার বক্তৃতা শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় ও ভবিষ্যতের পাথেয় হয়ে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক বলেন, কোভিড-১৯ প্যানডেমিকের কারণে গত কয়েক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। কয়েক বছরের গ্রাজুয়েটরা এবছর একসঙ্গে তাদের সনদ নিতে পারবে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে আশা করি এবছরের গ্রাজুয়েশন শিক্ষার্থীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে যথা সময়ে গ্রাজুয়েশন কনভোকেশন উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান ড. হাসান কারাবার্ক। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়েছে। গ্রাজুয়েটেডরা সকলেই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তাদের সনদপত্র পাবেন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জি. আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন নয়তো বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.