"যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি এখন বিভিন্ন শ্রেণি পেশায় অগ্রসরতার পথে হাঁটছে। এখানে শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি-আমেরিকানরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। আর ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবেও তারা নাম কুড়াচ্ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হলেও এই মানুষগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একেকজন আমেরিকান। এই দেশের মূলধারায় নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়োজিত করেই কাজ করে যাচ্ছেন তারা।"
এসব কথা বলছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ।
ভার্জিনিয়ার মন্টেগমারিতে শনিবার (২৫ জুন) কংগ্রেসম্যান ডেভিড ট্রোনের সমর্থনে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন এই প্রকৌশল, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। কমিউনিটির অন্য নেতারাও এতে অংশ নেন। যাদের মধ্যে ছিলেন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান অ্যামেরিকান লেবার-অ্যাসাল'র প্রেসিডেন্ট এমএএফ মেজবাহ উদ্দীন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় কংগ্রেসম্যান ডেভিড ট্রোন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রশংসা করেন এবং মূলধারায় তাদের আরও বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় আইটি খাতে বিশেষ গুরুত্ব রেখে ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ভার্জিনিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে, বিষয়টি তাকে আনন্দিত করেছে, উল্লেখ করেন ডেভিড ট্রোন।
তিনি বলেন, কমিউনিটিগুলো শক্তি ও সম্ভাবনাকে অন্তর্ভূক্ত করেই যুক্তরাষ্ট্র তার সকল বিভাগ পরিচালনা করে। শিক্ষা যার অন্যতম খাত। তিনি এই খাতে বাংলাদেশিরা আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ এসময় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা আইন-কানুন মেনে চলে এবং এখানে মূলধারায় বাংলাদেশিরা আরও বেশি অন্তর্ভূক্ত হতে চায়। এবং দিনে দিনে সে সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
এদেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের পূর্ণাঙ্গ আমেরিকান নাগরিক হিসেবে শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণাখাতে উচ্চ থেকে উচ্চতর স্থানে নিয়ে যেতে সচেষ্ট, উল্লেখ করে এই সফল আইটি উদ্যোক্তা বলেন, কমিউনিটির দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানরা এখন বিভিন্ন খাতেই এই উচ্চ অবস্থানে পৌঁছে গেছে এবং ভবিষ্যতে আরও যাবে।
অনুষ্ঠানে এমএএফ মেজবাহ উদ্দিন শ্রমিক আন্দোলনের মূলধারায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে বলেন, এখন এর নেতৃত্বেও অনেককে পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে কংগ্রেসম্যান ডেভিড ট্রোনকে তার সমর্থনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বক্তারা।
