দূতাবাস খবর

আনন্দময় আয়োজনে বাংলাদেশ হাউজে সম্পন্ন ঈদ পুণর্মিলনী

post-img

আয়োজনটি ছিলো পরিপাটি ও বেশ গোছানো। অভ্যাগত অতিথিরা ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ হাউজে এসেছিলেন ঈদ পুণর্মিলনীতে অংশ নিতে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বাসভবন। মেরিল্যান্ডের একটি মনোরম নেইবারহুডে এই বাড়িটি বাংলাদেশ সরকার কিনে নিয়েছে। সুপ্রশস্ত বাড়ির ভেতর ও বাইরের বারান্দা মিলিয়ে শতাধিক মানুষের আয়োজন সহজেই করে ফেলা যায়। তাই অতিথিদের বাড়িতেই নিমন্ত্রণ করেছিলেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম বীথি। 


বিকেল থেকে আসতে শুরু করেন অতিথিরা। সাজ পোশাকে কারও বাঙালিয়ানা, কেউ আবার ফরমাল পোশাকে। সব মিলিয়ে এক আনন্দ আমেজ। 


অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, স্টেট ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দায়িত্বশীল অনেকেই। আর ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা। তাদের কেউ শিক্ষক কেউ সাংবাদিক কেউবা সফল উদ্যোক্তা।  


তারা কেউ ফুল হাতে কেউ অন্য কোনো উপহার হাতে পৌঁছান বাড়িটিতে। আর ধীরে ধীরে তা জমে ওঠে আড্ডায় আর অ্যাপেটাইজারে। 

এই আয়োজনে অংশ নিতে এসেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে একটি কর্মসুচিতে যোগ দেওয়ার পর ব্রাজিল সফরে যাওয়ার পথে ওয়াশিংটনে আসেন এই নিমন্ত্রণে যোগ দিতে। 

আয়োজনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শাহরিয়ার আলম বলছিলেন সে কথাই। এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে সহায়তা পেয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট এসেছিলেন বিশেষ অতিথি হয়ে। বাংলাদেশে তার চমৎকার সময়ের কথা স্মরণ করেন এবং আশাপ্রকাশ করেন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক সবসময় বজায় থাকবে।


আর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় অভ্যগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় উৎসব মিশে থাকার বিভিন্ন দিক নিয়ে দু-চার কথা বলেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। 

সবশেষে বলেন, এই যা কিছু তার চেয়েও বড় কারণ এই উৎসব গ্রিট অ্যান্ড ইট-এর আর তা বলে সকলে খাবার গ্রহণের আহ্বান জানান। 

ততক্ষণে সারিবদ্ধ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা পদের উপাদেয় খাবার, মাংস পোলাও, রুটি, ডাল, সব্জি সালাদ আর সাথে হালুয়া পায়েশ। 


টেবিলে টেবিলে তখন খাওয়া আর আড্ডার ধুম পড়ে। 


সকলেই উপভোগ করে খেলেন উপাদেয় সব খাবার। কি দেশি কি বিদেশি অতিথি... সকলেই। 


খাওয়া শেষে এবার দেখা যায় ছবি তোলার ধুম। আনন্দময় দিনটিকে তারা চাইছেন ফ্রেমবন্দি করে রাখতে। করলেনও তাই। কেউ ঘরে কেউ বাইরে, এ ওর সাথে ছবি তুলে কাটলো সময় তাদের। 

অনেকেই সেখানে খুঁজে পেয়েছিলেন মার্শা বার্নিকাটকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তার সঙ্গে ছবি তুললেন কেউ দল বেধে কেউ একা। ওদিকে টেবিলে টেবিলে আড্ডা তখনও চলছে। 


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দেখা গেলো অন্যান্য দেশের কূটনীতিক আর এদেশীয় সরকারের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে বসে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাদের মধ্যে কংগ্রেসম্যানও ছিলেন। 


অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সফল আইটি উদ্যোক্তা বর্তমানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও সিএফও ফারহানা হানিপ। আবুবকর হানিপ এই আয়োজনের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এমন আয়োজন বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে এদেশীয়দের কাছে তুলে ধরারই সুযোগ করে দেয়। 


তিনি নিজেও ঘুরে ঘুরে সকলের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও ছবি তুলছিলেন। 

জাতির জনকের প্রতিকৃতি সাজিয়ে রাখা রয়েছে বাড়িটির একদিকে। এছাড়াও বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে এমন বেশকিছু ছবি টাঙ্গানো দেয়ালে দেয়ালে। 


সেসবও অতিথিদের মুগ্ধ করে। এভাবেই আড্ডায় আড্ডায় সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। আর ধীরে ধীরে অতিথিরা বিদায় নিতে থাকেন। তখন অনেককেই দেখা যায় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছবি তুলতে। 


ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি সস্ত্রিক সকলকে বিদায় জানান। আর তার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আনন্দঘন আয়োজনের একটি ঈদ পুণর্মিলনী। 

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.