গরম ভাতে ধোয়া উড়ছে, ডুবো তেলে ভাজা হচ্ছে ইলিশ, পাশে গরুর রেজালা তার লাল কড়া লোভনীয় রঙ ছড়াচ্ছে আর সাথে আলু ভর্তা ও শুটকির পদ। ভাবছেন বাংলাদেশের গ্রামে বাবুর্চির রান্নার বিবরণ দিচ্ছি। না এই দৃশ্য দেখা গেলো যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ফোর্ট হান্ট পার্কে।
সেখানে ছিলো ইলিশ উৎসব।
বাংলাদেশের চাঁদপুরের দম্পতি কবীর ও পারভীন পাটোয়ারির আমন্ত্রণে একাত্তর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই পার্কে অতিথি ছিলো চার হাজারের বেশি মানুষ। মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ডিসিই কেবল নয়, অতিথিরা এসেছিলেন নিউজার্সি, নিউইয়র্ক থেকেও।
উৎসব শুরু হয় সকাল ১১টায়। তখন থেকেই মানুষের আনাগোণা। একধারে রান্না চলছে, খাওয়া চলছে অন্নধারে।
ক্যাম্পেইন চলছিলো কয়েকমাস ধরে। তাতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলা হয়েছিলো "আপনাদের সামনেই ভেজে দেওয়া হবে, আপনাদের পছন্দের ইলিশ"। আর হয়েছেও তাই।
বেলা দেড়টা বাজতেই সেই খাবার নেওয়ার জন্য অপেক্ষারত মানুষের সারি পার্কের শেষমাথা ছাড়িয়ে সড়কে নেমে পড়েছে। এই দিকে বড় বড় হাঁড়িতে চড়ছে ভাত, উঠছে ভাত। আর জুব জুব শব্দে রেডি হচ্ছে তেলেভাজা ইলিশ।
খাবার তুলে নিয়ে যে যার মতো ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পার্কের এখানে ওখানে।
অনেকেই এসেছেন সপরিবারে। স্ত্রী সন্তান পরিজন নিয়ে। তারা গোটা দিনটিকে সত্যিকার অর্থেই একটি পিকনিকের আমেজে কাটিয়ে দিলেন।
আয়োজন করতে পেরে ভীষণ খুশি কবীর পাটোয়ারি। ভার্জিনিয়ার এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জানালেন, ১৫ দিন ধরে চলেছে তার এই আয়োজন। আর এটা করতে পেরে তিনি আনন্দিত।
বললেন, অনেকের সহযোগিতায় আয়োজনটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এমন একটি আয়োজনে প্রচারটাই বড় বিষয়। কয়েকমাস ধরে আমরা জনে জনে বলেছি, দাওয়াত দিয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম সকলেই যেনো আসেন। আজ এসেছেন, তাই ভালো লাগছে।
তবে সবকিছুর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন স্ত্রী পারভীন পাটোয়ারীকে। বললেন তার উদ্যমেই এত কিছু সম্ভব হলো।
কথা হচ্ছিলে পারভীন পাটোয়ারীর সঙ্গেও। তিনি বললেন, আজ আমি খুব খুশি সুদুর আমেরিকায় বসে মানুষ ইলিশের স্বাদ উপভোগ করে পেটপুরে খেলো।
এদিকে যখন খাবার বিতরণ চলছে ওদিকে মঞ্চে ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে গান-নাচের আয়োজন। সেখানে গাওয়া হচ্ছিলে নানা ধরনের দেশি গান। মাটি ও মানুষের গান।
সেই গান শুনতে মঞ্চের সামনেও তখন অনেক মানুষ। পরিবেশিতও হলো নানা ধরনের গান ও নাচ।
এই ভাবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বাইরে তখনও চলছে খাবার রান্না আর গরম গরম খাবার বিতরণ।
বিকেল ৫টা নাগাদ লাইন ক্রমশ ছোটো হলে এলো কিন্তু জনতার ভীড় যেনো কমছেই না। কারণ তারা তখনও অপেক্ষায় দিনের প্রধান আকর্ষণ তাহসানের।
বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা এসেছিলেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের গান শোনাতে।
তাহসান শোনালেন তার জনপ্রিয় কয়েকটি গান। তাতে সুর মিলিয়ে আর নেচে নিজেরাও গাইলেন দর্শকরা। তাতেই পূর্ণতা পেলো আয়োজন। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ শেষ হয় এই আনন্দ আয়োজন। সবাই একটি অনিন্দ্যসুন্দর দিন কাটানোর উচ্ছ্বাস নিয়ে ঘরে ফেরেন। শেষ হয় ভার্জিনিয়ার ইলিশ উৎসব।
