post
বিশেষ প্রতিবেদন

এখানে বাড়িগুলো ছিলো ভুতের দখলে

এখানে বাড়িগুলো ছিলো ভুতের দখলে। বাড়ির আঙিনা, দরজাপাট, দেয়াল সবখানে ভুতের বিস্তার। আঙিনার গাছে ভুত-ভুতুনিরা হল্লায় মেতেছিলো। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো, কেউ হয়তো ব্যালকনিতে দোলনা পেতে দোল খাচ্ছে। কেউ সেঁটে আছে দেয়ালে। শুধুই কি মানুষ ভুত। আছে কুকুর ভুতও। মরেছে কোনকালে কে জানে? এখন দেখা যাচ্ছে বাড়ির আঙিনায় কংকাল দেহে ফিরে এসেছে ভুত কুকুর হয়ে। কোনো কোনো বাড়ির আঙিনাই হয়ে উঠেছিলো গ্রেভইয়ার্ড। সেখানে এপিটাফ গুলোয় লেখা প্রয়াতদের নাম। দেখা গেলো কালো বেড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই গ্রেভইয়ার্ডে। আর একধারে গাছের ডালে নিজেকে পেঁচিয়ে মরে পড়ে আছে দাঁতাল ভালুক। একজনকে দেখা গেলো বাড়ির আরেক ভুতের পরিচর্যায় ব্যস্ত। সেই ভুত স্থান করে নেয় ঘরের চালে। আকর্ণ বিস্তৃত তার হা করে মস্তকে শিংওয়ালা সেই দাতাল দানবের গায়ে মাখানো হচ্ছিলো লাল রঙ। এক বাড়িতে দেখা গেলো ভুত-ভুতনির পাশাপাশি বড় বড় মাকরসা জাল বিস্তার করে বাড়িগুলোকে পোড়ো বাড়িতে পরিণত করেছে। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে ভুতের কংকাল। হুডি পড়া বৃহৎ এক কংকাল হাসছে দাতাল হাসি। তার ভয়াল নখরগুলো ছড়াচ্ছে ভীষণ ভয়। এটাই হ্যালোইন। পশ্চিমা বিশ্বের অগ্রসরতার পাশে এক ভীষণ প্রাচীণ কু-সংস্কার। শুধু কি সাজানো ভুত? অনেক তরুণ-তরুণী ছেলে বুড়োও সাজে এই ভুত ভুতনীর সাজে। আর ঘুড়ে বেড়ায় সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে। কেউ কেউ নেয় রক্তখেকো ভয়ঙ্কর রূপ। যেনো কারো রক্ত চুষে নিয়েছে আর তাতে রক্তাক্ত হয়েছে তার গায়ের সফেদ পোশাক। কেউ আবার ওরা মুখে সাদা রঙ মেখে ঘুরে বেড়ায় দিন ভর। যোগ দেয় ভুত-প্রেতের মিছিলে। এরা সব ভুত-ভুতনী-ডাইনি-পিশাচের দল। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সড়কগুলোও ভুত-প্রেতের দখলে চলে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা যখন নেমে আসে তার আগেই এরা নেমে আসে শহরে। কেউ বড় ভূত, কেউ ছোট ভূত, কেউ বুড়ো ভূত, কেউ কুঁজো ভূত, কেউ লাঠির মতো সটান ভূত। কেউ আবার রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার। মুখের দুই দিক দিয়ে রক্ত বেয়ে নামছে। কারো দাঁত দুপাটি আকর্ণ বিস্তৃত। কারও মুখের হা নাসিকার উপর থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে। এখানেই শেষ নয়, কেউ সাজে ডাইনোসর কেউ বা গডজিলা। কেউ অতিকায় ভয়ঙ্কর আরও কোনও প্রাণী। সবমিলিয়ে ভূত-প্রেতের আনাগোনায় ভীতির জনপদ হয়ে ওঠে নগর-নগরী। মূলত হ্যালোস' ইভনি- অর্থাৎ ভূত প্রেতের সন্ধ্যা এটাই হ্যালোইনের মূল কথা। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর দিনটি উদযাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রই কেবল নয় আরও কিছু দেশের নগরে নগরে এই সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে ভূত-প্রেতদের। এটি একটি বার্ষিক উদযাপন। মূলত শিশুদের উদযাপন। শিশুরাই সাজে এইসব ভূত-প্রেতের সাজ। বড়রাও অবশ্য কম যায় না। তারাও সাজে শিশুদের সাথে পাল্লা দিয়ে। প্রাচীন কেলটিক ফেসটিভাল থেকেই এই উৎসবের জন্ম। প্রায় দুই হাজার বছর আগে বর্তমান আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সে ছিলো এই কেলটিক জাতির বাস। অক্টোবরের শেষ দিনের সন্ধ্যাটিকে তারা মনে করতো সবচেয়ে খারাপ সময়। এ সময় সব প্রেতাত্মা ও অতৃপ্ত আত্মা ধরাধামে নেমে আসে। এই ভূত-প্রেতরা মানুষের ক্ষতি করতে পারে। সে কারণে তাদের হটিয়ে দিতে মানুষরা নিজেরই নানা রকম ভূতের মুখোশ ও ভূতের কাপড় পরে থাকতো। পরে ধীরে ধীরে বিষয়টি উৎসবে পরিণত হয়। এই দিন সকাল থেকেই ছোট ছোট শিশুরা হ্যালোইনের কস্টিউম পরে নানা ধরনের ভূত-প্রেত সেজে ঘুরতে থাকে। আর ঘরে ঘরে, দোকান-পাটে গিয়ে হানা দেয়। বলে ট্রিক অর ট্রিট। হয় আমাকে কৌশলে ধরো নয়তো খেতে দাও। এসময় শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্যান্ডি। দিনভর ঘুরে ঘুরে ক্যান্ডি তুলে ঝুড়ি ভরে ফেলে শিশুরা। আর সন্ধ্যায় তারা নামে ভূত-প্রেতাত্মার মিছিলে। ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়াও দিনটি উদযাপিত হয় জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে। একটি তথ্য বলছে, দিনটি এমনকি ঘটা করে পালন করে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)ও। এদিন ভূত সেজে ট্রিক অর ট্রিট করে যে ক্যান্ডি তোলে শিশুরা সেগুলো পরে বিতরণ করা হয় অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে। তবে এদিন আসলে মজা করে ক্যান্ডি খাওয়ার দিন। এই দিন নেই বাবা-মায়ের মানা। ফলে হ্যালোইনের মিছিলে শিশুদের দেখা গেলো ক্যান্ডি চিবুচ্ছে আর ভয় দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। এক সময় কু-সংস্কার থেকে করা হলেও এখন হ্যালোইন স্রেফ এক উৎসব। যে উৎসব হয়ে গেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতেও। হ্যালোইনের দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছিলো ডাইনি-পিশাচ আর মাকরসার জালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, সিএফও ফারহানা হানিপ এতে অংশ নেন। চলে মমি সাজানোর প্রতিযোগিতা। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা সেজে ছিলো ভূত-প্রেতের সাজে। সেরা সাজের পুরস্কার পায় কিনানা। তাকে পুরস্কার তুলে দেয়ার পর চলে পিজা উৎসব। সকলে মজা করে পিজা খেয়ে হ্যালোইন উৎসব শেষ করে।

post
শিক্ষা

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে হ্যালোইন পার্টি

হ্যালোইন উদযাপন হয়ে গেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হ্যালোইনের নানান সাজে সেজে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করলো। ওকে ওকে ভয় দেখালো। আর মাতলো হ্যালোইন উৎসবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও বোর্ড চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম, সিএফও ফারহানা হানিপ যোগ দেন এই হ্যালোইন পার্টিতে। ডাইভার্সিটিকে গুরুত্ব দেয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। আর সে কারণে বিভিন্ন উৎসব উদযাপন এর একটি নিয়মিত চর্চা। ক্যাম্পাসের দেয়ালগুলোতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো ভুত-প্রেত- ডাইনির মুর্তি। আর মাকরসাসহ অন্যান্য প্রাণি। ছিলো মমি তৈরির প্রতিযোগিতা। চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপসহ কয়েকজনে মমি বানানোর লড়াইয়ে নামে কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীদের দল। মমি তৈরি হলে শুরু হয় তার দৌড় প্রতিযোগিতা। সেরা হ্যালোইন সাজের জন্য দেওয়া হয় পুরস্কার। বিশ্ববিদ্যালয়র কর্মকর্তা কিনানা এই পুরস্কার জয় করেন। সবশেষে ছিলো পিজা উৎসব। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সকলে মিলে উপভোগ করেন পিজা। যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসব।

post
আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে সরে এসেছিল রাশিয়া। মূলত রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং ইউক্রেনীয় শস্যের পরিবহনে রাশিয়ার আরোপিত অবরোধ এই বছরের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের সৃষ্টি করেছিল।আর তাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত খাদ্যশস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে রাশিয়ার বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, বিশ্ব ক্ষুধার্ত থাকলে রাশিয়ার কিছু যায়-আসে না। বুধবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্য সংকট লাঘবে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত খাদ্যশস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে রাশিয়ার বেরিয়ে যাওয়া উন্নয়নশীল বিশ্বকে ‘ক্ষুধার্ত’ করবে এবং এমন পদক্ষেপের জন্য মস্কোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির অন্যতম তত্ত্বাবধানকারী ও অংশীদার দেশ তুরস্ক। চুক্তি থেকে রাশিয়া সরে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি। সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হালুসি আকার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে রাশিয়ার সরে আসার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। এটা এমন এক পদক্ষেপ, যার ফলে কেউই লাভবান হবে না।’ এমনকি রাশিয়া চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় বুধবার থেকে শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে আঙ্কারা। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘এই (শস্য রপ্তানির) উদ্যোগকে ব্যাহত করার জন্য ক্রেমলিনের যে কোনও সিদ্ধান্ত মূলত এমন একটি বিষয় যা মস্কো পাত্তা দেয় না।’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ব ক্ষুধার্ত হলে তাতে মস্কোর কিছু যায়-আসে না। মানুষ না খেয়ে থাকলেও মস্কোর কিছু যায়-আসে না। বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করলেও মস্কো সেটা পাত্তা দেয় না।’ প্রাইস বলেন, চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘আমাদের জন্য যা দরকারী বলে তিনি মনে করবেন’ সেটিকেও সমর্থন করবে ওয়াশিংটন। রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। মূলত, ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সাথে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী ইউরোপের বৃহত্তম রেল ও সড়ক সেতুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে গত ৮ অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোগুলোতে আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। এর মধ্যে সম্প্রতি অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের বৃহত্তম বন্দরনগরী সেভাস্তোপলের কাছে কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত খাদ্যশস্য চুক্তি স্থগিত করে রাশিয়া। একইসঙ্গে গত সোমবার ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে রাশিয়া কার্যত ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি চালায়। পরে দেওয়া এক বক্তৃতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করেন। আর পুতিনের এই দাবিকে রাশিয়ার ‘চাঁদাবাজি’ বলে আখ্যা দেন প্রাইস। তিনি জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, চুক্তির পর ইউক্রেন থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন শস্য পাঠানো হয়েছে। বৈশ্বিক রুটির ঝুড়ি বলে পরিচিত এই দেশটিতে আক্রমণের পর বিশ্বব্যাপী বেড়ে যাওয়া খাদ্যের মূল্যকে কমিয়ে আনতে সহায়তা করেছে এই চুক্তি। প্রাইস বলছেন, ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা ‘প্রতি আউন্স’ খাদ্যও বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষকে উপকৃত করেছে।

post
বাংলাদেশ

বিদেশে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী বাংলাদেশিরাও পাবেন ডলারের সর্বোচ দর ১০৭ টাকা

এখন থেকে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের প্রবাসী পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো আপাতত রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না বলে জানা গেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদা। ওই বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ব্যাংকাররা জানান, এত দিন উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা দেশে প্রবাসী আয় পাঠালে ডলারের দাম পেতেন রপ্তানি আয়ের জন্য নির্ধারিত দরের সমান, ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এতে তারা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছিলেন। এ কারণে তাদের জন্য ডলারের দাম বাড়িয়ে ১০৭ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রবাসী আয়ে সর্বোচ্চ ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা। উচ্চ আয়ে পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উৎস থেকে ডলার সংস্থান করে ঋণপত্র বা এলসি খুলতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল ও কাজী ছাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন, বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন প্রমুখ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের মধ্যে সোমবার হঠাৎ করেই এ বৈঠক ডাকা হয় বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে ওয়েজ আর্নার হিসেবে সব প্রবাসীর সমান রেমিট্যান্স দর পাওয়ার কথা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রার বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে হোয়াইট কলার বলে পরিচিত চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, ব্যাংকার, নার্সসহ উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বিনিময় হার কমিয়ে ধরে ব্যাংকগুলো। সে সময় থেকে এ ধরনের পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম রপ্তানি বিলের সমান হারে অর্থাৎ ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হচ্ছিল। তবে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো তাদের ভালো দর দিত। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বর্তমানে এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে ১০৭ টাকা করেই দাম দিচ্ছিল। এতে করে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে অনেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় উভয় ক্ষেত্রে ডলারের অভিন্ন দর দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও সেবিকাদের আয় ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালেও ওয়েজ আর্নার্সদের মতো সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা দর দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আহরণ উৎসাহিত করতে দেশের বাইরে নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউজ বাড়াতে বলা হয়েছে বৈঠকে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ডলার সংকটের এ সময়ে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোকে উদ্বুদ্ধ করতে কোনো ধরনের চার্জ বা মাশুল না নিতে বলা হয়েছে বৈঠকে। ব্যাংকগুলোও এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

post
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে এই শীতে 'ট্রিপলডেমিক' এর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে এই শীতে তিনটি ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা এই আশঙ্কার নাম দিয়েছেন 'ট্রিপলডেমিক'। এর একটি ফ্লু, অপরটি শ্বাসজনিত সিনসিটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) আর সঙ্গে রয়েছে করোনা ভাইরাস। এরই মধ্যে হাসপাতালগুলোতে এই তিন রোগে আক্রান্ত রোগীর ভীর ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করেছে।আগামী মাসগুলোতে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে এমন আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে পরিস্থিতি আগে থেকেই খারাপের পথে যাচ্ছিলো। আর যুক্তরাজ্যে এরই মধ্যে পরিস্থিতি যথেষ্টই খারাপ। যুক্তরাষ্ট্রে এখনও সংক্রমনের হার অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু শীত আসছে। আর তাতে সন্দেহমাত্রই নেই পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাবে। দেখার বিষয় ঠিক কতটা খারাপ হয়। এদিকে কোভিডের নতুন দুটি ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। এর একটি বিকিউ.১.১ এবং অপরটি এক্সবিবি। এর মধ্যে বিকিউ.১.১ এবং এর নিকট ভ্যারিয়েন্ট বিকিউ.১ এখন মোট সংক্রমনের ১৭ শতাংশ। আর এই সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে। সপ্তাহে সপ্তাহে এই সংক্রমন দ্বিগুন হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোতে এই ভ্যারিয়েন্টগুলো আরো আগেই সক্রিয় হয়। যা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য অংশে। 

post
এনআরবি সাফল্য

দক্ষ পেশাজীবি প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, পেশাগত খ্যাতি, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ স্থানীয় ব্যবসার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। দেশের উন্নয়নের প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রবাসীদের “জ্ঞান হস্তান্তর” ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই “জ্ঞান হস্তান্তর” হচ্ছে অর্জিত জ্ঞান, মেন্টরশিপ, পরামর্শ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়। এছাড়া মানবপ্রীতি, ব্যবসা এবং একাডেমিক নেটওয়ার্ক, ইন্সটিটিউশনাল লিংকিং ইনিশিয়েটিভস, বিভিন্ন সোর্স থেকে নিজ দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকনিক্যাল পরামর্শের মত বিষয়গুলোতে প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে অবদান রাখতে পারেন।গত রবিবার ভার্জিনিয়ার টাইসন্স কর্ণারে বাংলাদেশি আমেরিকান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুববর হানিপের প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভাসির্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজিতে আয়োজিত “বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তথ্য প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ প্রবাসীদের সংগঠন “বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন্স -বাইটপো” এই সেমিনারের আয়োজন করে। বাইটপোর প্রেসিডেন্ট শামসুদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমির মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। অধ্যাপক নাসরুল্লাহ তার প্রবন্ধে বলেন, প্রবাসীদের অবদানের মূল ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে বিনিয়োগ, নেটওয়ার্কিং এবং অর্জিত জ্ঞান বিনিময়। সেক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে একই পেশার লোকজনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার উপায় সম্পর্কিত তথ্যে ঘাটতি রয়েছে। প্রফেসর নাসরুল্লাহ বলেন, প্রথম ধাপ হিসেবে অন্যান্য দেশের মত ইন্টারনেটভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তার মাধ্যমে অর্জিত নলেজ ট্রান্সফার তথা জ্ঞানের বিনিময় করা যেতে পারে। এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য হবে প্রবাসে কর্মরত ও বসবাসকারী অত্যন্ত দক্ষ বিজ্ঞানী, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা বাংলাদেশীদের একটি নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশে কাজের সুযোগের উপর আপডেটেড তথ্য দেওয়া। এক্ষেত্রে বাইটপোর মত সংগঠনগুলো সরকারের সাথে কাজ করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ সাফিউল আলম বলেন, এ বিষয়টি সত্য যে দেশের আমলা ও পেশীশক্তিধারীদের মানসিকতার কারণে প্রবাসীরা দেশে গিয়ে ফলপ্রসূ কিছু করতে পারেনা। একারণে অনেক প্রবাসীরা দেশে কিছু করতে গিয়ে ফিরে এসেছে। নিউইয়র্ক ও হিউস্টোনে বসবাসরত পেশা ও ব্যবসায় সফল তার দু’জন বন্ধুর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা উভয়েই দেশে কিছু করতে গিয়ে কাষ্টমস, ইনকাম ট্যাক্স, ল্যান্ড অফিস, গ্যাসের অফিসে বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন! সফিউল আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন সেক্টরে সেবা প্রদানকারীদের মানসিকতা অনুকূলে নয়। তারা আপনাদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়াবেনা। তারা চাইবে আপনাকে আটকিয়ে কিভাবে কিছু আদায় করা যায়। তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালেই বলেছিলেন - আমাদের কৃষক-শ্রমিকরা দুর্নীতি করেনা, আমাদের মত শিক্ষিত লোকেরাই দুর্নীতি করে। এটা এখনও সত্য। আমাদের এই দুর্নীতির কারণে আমরা এগুতে পারিনা। তারপরও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে আমাদের কিছু করার মানসিকতা নিয়েই এগুতে হবে। তিনি প্রযুক্তি সেক্টরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে বেপজার মত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়ার জন্য প্রবাসীদের পরামর্শ দেন। ভার্জিনিয়া টেক এর ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং দি ইন্সটিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. সাইফুর রহমান বলেন, শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে আমাদের উদ্দেশ্য হলো বাইটপোর মত সংগঠনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করে অপরকে সুযোগ করে দেয়া। তিনি বলেন, কতিপয় শিক্ষক আমেরিকায় বসে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা দিচ্ছেন। একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে। সর্বোপরি আমরা প্রত্যেকে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন একজন প্রবাসী হিসেবে আমরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার বলেন, আমাদের শেকড় বাংলাদেশ, এর বিপুল জনগোষ্ঠী আমাদের সম্পদ। এই সম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের মতো আমাদের দেশেও বিভিন্ন জায়গায় আইটি হাব গড়ে তুলতে দেশে শিক্ষার্থীদের আইটি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। নিউ জার্সির মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সোস্যাল ওয়ার্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং আমেরিকান ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম এম মাদবর বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়নে কতিপয় লোকের উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ জনগোষ্ঠী লাভবান হতে পারছেনা। আর্থিক প্রবৃদ্ধি হলেও সামাজিক সমস্যা বেড়েই চলেছে। আর তাই এই ব্যাপক জনগোষ্ঠী ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তি, বায়োটেক, ফার্মা টেক, রিয়েল স্টেট, হেল্থ এন্ড এডুকেশন, ট্যুরিজমের মত ক্ষেত্রগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনোযোগ দিতে পারেন। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট (আবিয়ার) প্রেসিডেন্ট ড. ফয়সাল কাদের বলেন, বাংলাদেশে অনেক মেধাবী থাকলেও তাদের সুযোগের অভাব রয়েছে। আমাদের বৃহৎ এনটিটি ব্যবহার করে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি। আমাদের এনটিটি ব্যবহার করে আউট সোর্সিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দুর্ণীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মেরিল্যান্ডের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সীর বিজ্ঞানী ড. মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমেই আমাদের দুর্নীতি সমূলে দূর এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে যেখানে নৈতিকতা আর গণতন্ত্রের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি সাইন্স ডিপ্লোমেসিকে প্রাতিষ্ঠনিক রূপদানের উপরও গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা অ্যান্থনী পিউস গোমেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারের অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক ড. আনোয়ার করিম, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন এর পিই ট্রান্সপোর্টেশন স্পেশালিস্ট প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ড. আমিনুর রহমান, মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারী কলেজের বায়োলজি বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর ড. সোয়েব চৌধুরী, রেডিও টুডে’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর রফিকুল হক, সাংবাদিক শাহিদ মোবাশ্বের, বাইটপোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউএস কাস্টমস এন্ড বর্ডার প্রোটেকশ এর সোলিউশন আর্কিটেক্ট আইটি বিশেষজ্ঞ সাইফুল্লাহ খালেদ, বাইটপোর পরিচালক ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সিনিয়র আইটি কনসালটেন্ট শ্যাম রিয়া প্রমুখ। 

post
বিশেষ প্রতিবেদন

পিপলএনটেক এক ভাগ্য পরিবর্তনের সিঁড়ি, অ্যালামনাই সামিটে বললেন বক্তারা

সন্ধ্যাটি ছিলো পিপলএনটেকের প্রাক্তনদের। তারা সকলে এসেছিলেন তাদের এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প শোনাতে। শুনিয়েছেন মাত্র চার মাসের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কিভাবে তাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে। তারা বলেছেন তাদের নিজেদের কেবল নয়, বদলে গেছে তাদের পরিবারের চালচিত্র। আর সর্বোপরি তারা গড়ে তুলতে পারছেন একটি যোগ্য ভবিষ্যত প্রজন্ম। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় তারা একেকজন এখন দক্ষ আইটি প্রফেশনালস। তাদের কেউ আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার কেউ বা প্রজেক্ট লিড। আবার কেউ কেউ নিজেই এখন প্রশিক্ষক-শিক্ষক। আয়োজনটি ছিলো পিপলএনটেকের অ্যালামনাই সামিট ২০২২। নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি পার্টি হলে মিলনমেলা বসেছিলো এই অ্যালামদের । আয়োজনের মধ্যমনি হয়ে ছিলেন পিপলএনটেকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপ। ছিলেন পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ। আর তাদের ঘিরে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, নিউজার্সি কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা। তবে আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিলেন সেইসব অ্যালাম যাদের গল্পগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছেন উপস্থিত সকলে। নিউইয়র্কের বিশিষ্টজনেরা এতে নিমন্ত্রিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে আরটিভি'র সিইও সৈয়দ আশিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রধানরা। সফল অ্যালামরা তাদের গল্প শোনালেন। এর একেকটি গল্পই ছিলো ইউনিক। তারা যেমন নিজেদের এগিয়ে চলার কথা শুনিয়েছেন তেমনি শুনিয়েছেন, পিপলএনটেক তাদের জীবন গড়ে দিতে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পিপলএনটেক-কে তারা উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের সিঁড়ি হিসেবে। আর প্রত্যেকের মুখেই বারবার উচ্চারিত হচ্ছিলো এই ভাগ্য পরিবর্তনের কারিগর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের কথা। তারা বলছিলেন প্রশিক্ষকদের কথা। যাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজেরাই এখন একেকজন প্রশিক্ষক। তারা বলছিলেন পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপের কথা। যিনি সকল প্রচেষ্টায় পিপলএনটেককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ তাদের শোনান তার নিজের জীবনের গল্পটিও। দেশে স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে এদেশে পড়তে এসে কিভাবে একটি সংগ্রামময় সময় পার করে নিজেকে এই আইটি খাতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আবুবকর হানিপের সে গল্প সকলের জন্যই অনুপ্রেরণার। আবুবকর হানিপ বলেন, নিজে টু হান্ড্রেড থাউজেন্ড প্লাস মাইনের চাকরি করতেন যুক্তরাষ্ট্রে তথা বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কিন্তু ভেবেছিলেন একার উন্নতি শুধু নয়, আরও মানুষ যাতে এই ভাবে তাদের জীবনটিকে পাল্টে দিতে পারে সেই প্রচেষ্টাই তাকে নিতে হবে। আর সেই ভাবনা থেকেই পিপলএনটেক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তিনি জানান, বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলোকে এদেশে সংগ্রামের জীবন থেকে বের করে এনে সুন্দর জীবন দেওয়ার ব্রত তিনি নিয়েছিলেন আজ থেকে ১৮ বছর আগে ২০০৪ সালে। গড়ে তুলেছিলেন পিপলএনটেক। শুরুটা হয় মাত্র একজন ছাত্রকে দিয়ে। তিনি যখন পেয়ে গেলেন মূলধারায় বড় মাইনের চাকরি... এরপর আরও ছাত্র আসতে থাকে। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। আর এই সময়ের মধ্যে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে আইটি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারায় কাজ পাইয়ে দিয়েছে পিপলএনটেক। যারা এখন স্বাচ্ছন্দের জীবন যাপন করছেন। আর গড়ে তুলছেন নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ভূমিকা রাখতে পারছেন বাংলাদেশের অগ্রগতিতেও।বক্তৃতায় আবুবকর হানিপ বর্তমানে তার পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা তুলে ধরে বলেন, এটি পিপলএনটেকেরই একটি ধারাবাহিকতা এবং তার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নপূরণ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মূলধারায় এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি একটি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত। এখানকার শিক্ষকরা একাধারে স্কলার ও ইন্ডাস্ট্রি থেকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাদের লব্দ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তারা নিয়ে আসেন শ্রেণিকক্ষে। এবং তার মাধ্যমে শিক্ষাদানের কারণে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়েই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মজগতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীরাও পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণার্থীদের মতো মূলধারায় বড় বড় কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন। একসময় ডব্লিউইউএসটির অ্যালামরা এদেশের ফরচুন হান্ড্রেড কোম্পানির উচ্চপদে আসীন হবে এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। এবং বলেন, এটাই তার লক্ষ্য। পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ বলেন, আজ আমরা আমাদের এলামদের সাফল্যকেই উদযাপন করতে চাই। অ্যালামরা এখন আর ক্যাম্পাসে নেই কিন্তু তারা সকলেই আমাদের অন্তরে রয়েছেন। কেউ কেউ এখন উচ্চ পর্যায়ে উঠেছেন, তাদের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে সফল করে তুলতে পিপলএনটেকের অ্যালামদের পাশে থাকার আহবান জানান তিনি। কমিউনিটির পক্ষ থেকে পাওয়া অব্যহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান ফারহানা হানিপ। পিপলএনটেকের সফল অ্যালামদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের সাফল্য আমাদের মুগ্ধ করে এবং একজন বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করে। আবুবকর হানিপ একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি মানুষকে দিতে পছন্দ করেন। তিনি মানুষকের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, শিক্ষাদান করছেন এবং একই সঙ্গে তাদের কাজ দিতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। অপরকে দেওয়ার এই মানসিকতাই তাকে এমন একটি উচ্চতায় নিয়ে গেছে যে সকলেই তার জন্য গৌরব বোধ করে। বাংলাদেশি ডায়াসপোরার অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পদচিহ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আবুবকর হানিপ তাদের অন্যতমদের একজন, বলেন ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি সৈয়দ আশিকুর রহমান পিপলএনটকের এই সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে সামনে এগিয়ে নিতে আবুবকর হানিপ ও ফারহানা হানিপ যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তা অনুসরনীয়। অতিথিদের মধ্যে এটর্নি এন মজুমদারসহ অন্যরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। আর ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে সফল অ্যালামদের সাফল্যের গল্প। বক্তব্য রাখেন পিপলএনটেকের কর্তা ব্যক্তিরাও। পরে সফল অ্যালামদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হয়। এরপর পিপলএনটেকের সকল কর্মকর্তাকেও তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া। আবুবকর হানিপ ও ফারহানা হানিপকেও জানানো হয় বিশেষ সম্মাননা। আর সবশেষে বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। এরপর গ্রুপ ছবি তোলা হয়। আর সবশেষে মজাদার নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পিপলএনটেকের ২০২২ সালের অ্যালামনাই সামিট।

post
এনআরবি সাফল্য

করোনা ও ক্যান্সারের চিকিৎসা উদ্ভাবনের জন্যে বিশেষ সম্মাননা পেলেন ড. রায়ান সাদী

বয়স্ক এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করোনা রোগীকে সারিয়ে উঠানোর চিকিৎসা-ব্যবস্থা তথা ইমিউনোথেরাপি তৈরির পাশাপাশি অনকোলজি, নিউরোলজি এবং ভাইরোলজিতে কোষ এবং জিন থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্নকারি গবেষণা-প্রতিষ্ঠান ‘টেভোজেন বায়ো’র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বাংলাদেশি আমেরিকান ড. রায়ান সাদীকে বিশেষ সম্মাননা (প্রক্লেমেশন) দিলো নিউজার্সির ওয়ারেন সিটির (টাউনিশিপ) মেয়র ভিক্টর সরডিলো। ২০ অক্টোবর বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় ওয়ারেন সিটি হলে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রক্লেমেশন হস্তান্তরের সময় মেয়র বলেন, করোনা মহামারিতে গোটাবিশ্ব যখন লকডাউনে সে সময়ে অর্থাৎ ২০২০ সালের জুনে ‘টেভজেন বায়ো’ প্রতিষ্ঠার পর এ বছরের শুরুতে এই সিটির ইন্ডিপেন্ডেন্স বুলেভার্ডে তার গবেষণাগারের সদর দফতর স্থাপন করেছেন। "ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা পাবনার সন্তান এবং সপরিবারে নিউজার্সিতে বসবাসরত ড. সাদীর উদ্ভাবিত সেল এবং জিন থেরাপি তথা চিকিৎসা-ব্যবস্থা সকল রোগীর জন্যে সহজলভ্য হবে অর্থাৎ মানবতার কল্যাণে তা অশেষ অবদানে সক্ষম হবে বলেই বিশ্বখ্যাত ইয়েল ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্কুলের এমিরিটাস প্রফেসর কার্টিস প্যাটোন ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যে ড. সাদী এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘টেভজেন বায়ো’কে মনোনয়ন দিয়েছেন। ব্যাপারটি আমাদের এই সিটির জন্যে অবশ্যই অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের। তাই ওয়ারেন টাউনশিপ কমিটি এবং আমি মেয়র হিসেবে ড. সাদীকে এই ‘প্রক্লেমেশন’ প্রদান করছি সানন্দচিত্তে।"উল্লেখ্য, ড. রায়ান সাদীর এই চিকিৎসা-ব্যবস্থার মাধ্যমে করোনা-সহ জটিল অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং তা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ ইতিমধ্যেই চিকিৎসা জগতে তা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আসছে শীতে করোনা ভিন্ন নামে এবং ভয়ংকর রূপে আবারো আবির্ভূত হবার আশংকা করা হচ্ছে। এজন্যে মার্কিন স্বাস্থ্য দফতর ‘টেভজেন বায়ো’র সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে খুব দ্রুত এই চিকিৎসাকে বাজারজাত করার জন্যে। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ড. রায়ান সাদী ও তার পুরো টিম। 

post
শিক্ষা

ব্যাংক অব মঙ্গোলিয়ার গভর্নরের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বহু দেশ থেকে পড়তে এসেছে। এ পর্যন্ত ১২১টি দেশের শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে। যাদের মধ্যে বেশ কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে মঙ্গোলিয়ার।সম্প্রতি পূর্ব-এশীয় এই দেশটির ব্যাংক অব মঙ্গোলিয়ার গভর্নর খাগভাসুরেন বাদ্রান এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। এখানে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিচ্ছিলেন তিনি। এই সময়ে কাজের অবসরে তিনি এসেছিলেন মঙ্গোলীয় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির- ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও বোর্ড চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক ও অন্যান্যের সঙ্গে মত বিনিময় করেন ব্যাংক অব মঙ্গোলিয়ার গভর্নর। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস এর পরিচালক ড. মার্ক রবিনসন এসময় উপস্থিত ছিলেনব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিষয়ক মহাপরিচালক বায়াদ্রাভা বায়ারাসসাইখান এবং মনিটারি পলিসি কমিটির সদস্য মুনখবায়ার সেদেভাসুরেন গভর্নরের সঙ্গে ছিলেন। এসময় তারা মঙ্গোলীয় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ-খবর নেন। এবং শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের পক্ষ থেকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন। আবুবকর হানিপ এসময় মঙ্গোলীয় প্রতিনিধি দলকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সেরা শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে তাদের ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি পাচ্ছেন। এছাড়া তাদের লেখাপড়া শেষে যাতে কর্মজগতে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে সে লক্ষে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হাসান কারাবার্ক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাইভার্সিফায়েড কালচার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা রয়েছে। এটা আরও সংহত করতে হবে। আমরা চাই মঙ্গোলিয়া থেকে এখানে আরও শিক্ষার্থী আসুক, কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অ্যাফোর্ডেবল, বলেন হাসান কারাবার্ক। ব্যাংক অব মঙ্গোলিয়ার গভর্নর এ সময় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এবং ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী মঙ্গোলিয়া থেকে এখানে পড়তে আসবে বলে আসাবাদ ব্যক্ত করেন।

post
দূতাবাস খবর

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সান্ধ্যভোজ, উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক দৃঢ়তর করায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রদূতের

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সান্ধ্যকালীন ভোজে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বলেছেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ তার সহযোগিতার সম্পর্ক দৃঢ়তর করতে সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। একটি অগ্রসরমান বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংক আইএমএফ-এর মতো সংস্থাগুলোর অব্যহত সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেছেন তিনি। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ'র বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এই ভোজসভায় অংশ নেন। দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার মো. মেহেদী হাসানের নিমন্ত্রণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মো. হাবিবুর রহমান, আইএমএফ-এর এশিয়া প্রশান্তমহাসাগরীয় বিভাগে বাংলাদেশ মিশন চিফ রাহুল আনন্দ।বিশেষ নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র চ্যান্সেলর ও বোর্ড চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. টমাজ মরোস্কোবস্কি। এছাড়াও দূতাবাসের কর্মকর্তারা এই ভোজসভায় যোগ দেন। অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বিশ্বব্যাংক আইএফএর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফল আলোচনা হচ্ছে এমনটা উল্লেখ করে জানান, বিষয়গুলো বাংলাদেশে ফিরে ফলোআপ করা হবে। মেহেদি হাসান তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের আগামী ৫০ বছরের অভিযাত্রায় এই দুই উন্নয়ন সহযোগীর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্ব রাখবে বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নযাত্রায় অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. টমাজ আর উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন রাহুল আনন্দ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.