নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা আলোকে ১৪ দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়েছে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এ্যান্ড লার্নিং’ এ।
‘শিল্পের সাথেই থাকুন’ স্লোগানে উজ্ঝীবিত ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম’র এই প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর যাপিত জীবনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ৮ অক্টোবর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোস্তফা সারোয়ার।
বাংলাদেশের এক সময়ের সেরা মেধাবিদের অন্যতম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘ ৩৯ বছর শিক্ষকতায় (ডীন, ভাইস চ্যান্সেলর) নিয়োজিত থাকা মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমি সমাজ-সংস্কৃতির গভীরে অনেক কিছু দেখেছি। লিবারেল আর্টস এ্যান্ড ফাইন আর্টসের সাথেও আমি পরিচিত। তবে আজকের এই শিল্পীবৃন্দের আয়োজনে আমি অভিভূত এবং বিনয়ের সাথে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি সকলের প্রতি।
তিনি বলেন, এখানে বিচক্ষণতার অপূর্ব উপস্থাপন ঘটেছে। সর্বজনীনতার ঘটনাবলি দৃশ্যমান হয়েছে আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থানকারি নিউইয়র্ক সিটিতে।
সারাবিশ্বের মানবতার উৎকর্ষ সাধনের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হতে পারে এসব চিত্র, মত দেন অধ্যাপক মোস্তফা সারোয়ার।
তিনি বলেন, বাঙালি শিল্পীরা এভাবেই বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এজন্যে আমি গৌরববোধ করছি।
এরপর সকল বিশিষ্টজনকে সাথে নিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোস্তফা সারোয়ার।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের কর্মকর্তা আলমা লিয়া বলেন, এটি শুধু স্মৃতিকথা নয়, সকল শিল্পীর জীবনের ধারাবিবরণী, যা পরিণত হয়েছে চমৎকার একটি কানভাসে। সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উঠেছে প্রদর্শনী স্থানটি।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন ড. মহসিন পাটোয়ারি এবং মূলধারায় প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলমও এমন আয়োজনের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন এবং বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্যে এটি হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস।
তারা উভয়েই শিল্পীদের অসীম ধৈর্য এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।
প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যার শিল্পীরা হলেন আর্থার আজাদ, আলমা লিয়া, আজমীর হোসাইন, বশিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দীনা জামান, ফারহানা ইয়াসমীন, কীয়ো চি মঙ, কায়সার কামাল, কানিজ হুসনা আকবরী, কাউসার ফেরদৌসী, কাজী রকিব, লায়লা আঞ্জুমান আরা, মুতলুব আলী, মোহাম্মদ টুকন, মাসুদুল আলম, মাসুদা কাজী, মোহাম্মদ হাসান রুকন, মোস্তফা টি আরশাদ, নুরুল হক মিন্টু, নাজ হোসাইন পলি, জাহাঙ্গির রুদ্র, সাঈদ এ রহমান, সাজেদা সুলতানা, মোহাম্মদ সাঈদুল হাসান, শামীম সুবর্ণা, সালমা কানিজ, শামীমা এ রহমান, সুজিত কুমার সাহা, তাজুল ইমাম, তারিক জুলফিকার, তাসনোভা রহমান, ওয়াহিদ আজাদ, জেবুন্নেসা কামাল এবং ইকবাল হোসাইন।
প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ২২ অক্টোবর।
