post
যুক্তরাষ্ট্র

ছেলের হত্যায় মা গ্রেপ্তার জর্জিয়ায়

২০ মাস বয়সী শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিলো না গত অক্টোবর থেকে। জর্জিয়ার সাভানাতে নিজ বাড়ি থেকেই শিশুটি হারিয়ে যায়। আর তা পুলিশে রিপোর্ট করে তার মা। এর মাসাধিক কাল পর পুলিশ শিশু ছেলেটির দেহাবশেষ খুঁজে পায় জর্জিয়ার একটি ভরাটকৃত জমিতে। এখন পুলিশ এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে তার মাকেই।পুলিশ বলেছে, শিশুটির মা লিলানি সিমনকেগত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ গুম ও পুলিশে মিথ্যা রিপোর্ট করার মতো অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে লিলানির বিরুদ্ধে। চাথাম কাউন্টি পুলিশের প্রধান জেফরি হ্যাডলি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ২২ বছর বয়সী এই মা তার ছেলে কুইনটন সিমন হারিয়ে যাওয়ার খবর জানিয়ে পুলিশে রিপোর্ট করেন গত ৫ অক্টোবর। তখনই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে একটি টুইট করে। মি. জেফরি বলেন, "ছোট্ট কুইনটনের হারিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে। লাখ লাখ মানুষ বিষয়টিতে তাদের উদ্বেগ জানায়। এবং এর একটি সুরাহার অপেক্ষায় ছিলো।" ছেলেটির মাকে চাথাম কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে। আর এই ঘটনায় অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানায়, ছেলেটির হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্টের পরপরই এফবিআই'র এজেন্টরা ঘটনাস্থলে যান। এছাড়াও বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ছেলেটিকে খুঁজে বের করার কাজে লেগে পড়ে। পরে ১২ অক্টোবরেই পুলিশ ঘোষণা করে, তারা ধারণা করছে কুইনটনকে হত্যা করা হয়েছে। এবং তার মাকেই রাখা হয়েছে সন্দেহভাজনদের তালিকার শীর্ষে। এরপর গত শুক্রবার পুলিশ জানায়, চাথাম কাউন্টির একটি আবর্জনা ভরাট করা জমিতে শিশুটির লাশ থাকতে পারে এমনটা তারা অনেকাংশেই নিশ্চিত হয়। এরপর সেখানে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এফবিআই'র এজেন্টরা ও জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস এর কর্মকর্তারা গত ত্রিশ দিন ধরে ফেলা রাখা ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড আবর্জনা সরিয়ে কিছু দেহাবশেষ খুঁজে পায়। এরপর সেই দেহাবশেষ ভার্জিনিয়ার কোয়াটিকো ল্যাবে পাঠানো হয়। এছাড়াও দেহাবশেষগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয় এফবিআই। তবে সেই রিপোর্ট আসার আগেই, পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করে ছেলেটির মা লিলানি সিমনকে। 

post
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ওয়ালমার্ট স্টোরে গুলি, নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রে ফের বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ নিহত হয়েছেন। আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বন্দুকধারীও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার রাতে উত্তর আমেরিকার ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের চেসাপিক শহরে অবস্থিত মার্কিন বহুজাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের একটি স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির। বুধবার রয়টার্স, সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— এই গোলাগুলির ঘটনায় বন্দুকধারী নিজেও প্রাণ হারিয়েছেন। রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার রাতে ভার্জিনিয়ার চেসাপিকের ওয়ালমার্টে গোলাগুলির ঘটনায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বন্দুকধারী নিজেও মারা গেছে বলে চেসাপিক সিটি জানিয়েছে। টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় চেসাপিক সিটি জানিয়েছে, ‘শহরের স্যাম সার্কেলের ওয়ালমার্টে গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছে চেসাপিক পুলিশ। অভিযুক্ত বন্দুকধারী মারা গেছে।’ অবশ্য বন্দুক হামলায় আহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। এদিকে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চেসাপিক পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে চেসাপিক শহরের ওয়ালমার্ট স্টোরের ভেতরে একাধিক লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র লিও কোসিনস্কি এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, অভিযুক্ত বন্দুকধারীকে মঙ্গলবার রাতেই দোকানে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে তার নাম কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। কোসিনস্কি আরও বলেন, বন্দুকধারী ওই স্টোরের কর্মচারী কিনা বা তিনি আত্মহত্যা করে মারা গেছেন কিনা তা তদন্তকারীরা জানেন না। এ ছাড়া এই ঘটনায় পুলিশ অফিসাররা কোনো গুলি চালাননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

post
যুক্তরাষ্ট্র

আগুনে পুড়িয়ে শিশুপুত্রকে হত্যা, ত্রিশ বছর পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ফেয়ারচাইল্ড তার নাম। ত্রিশ বছর আগে তার হাতে খুন হয়েছিলো নিজের তিন বছরের শিশুপুত্র। তাও স্রেফ বিছানা ভিজিয়ে ফেলার জন্য। শিশুটিকে সে ধরে রেখেছিলো জ্বলন্ত অগ্নিচুল্লিতে। এরপর ছুঁড়ে মারে এটি টেবিলের ওপর। তাতে মাথায় আঘাত পায় শিশুটি। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি। চির বিদায় নেয় এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হয়ে। হত্যাকারী রিচার্ড ফেয়ারচাইল্ডের বয়স হয়েছিলো ৬৩। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ম্যাকঅ্যালেস্টার পেনিটেনশিয়ারিতে তার মৃত্যূদণ্ড কার্যকর করা হয়। নির্মম সেই ঘটনার ৩০ বছর পর। ১৯৯৩ সালে রিচার্ড হত্যা করে তার শিশুপুত্র অ্যাডাম ব্রুমহলকে। মৃত্যূদণ্ড কার্যকর করার আগে ২৫ ডলারের শেষ খাবার খেতে দেওয়া হয় তাকে। যুক্তরাষ্ট্র মেরিনের সাবেক এই সদস্যকে তার পছন্দ মতো চিজ বার্জার, বড় একপ্যাকেট চিপস, পামকিন পাই, একপিন্ট চকোলেট আইসক্রিম ও একটা বড় কোক খেতে দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন রিচার্ড। আর বলেন, আজ তার একটুও খারাপ লাগছে না। "আমি ইশ্বরের শান্তিতে আছি। আমার কোনো দুঃখ নেই। কারণ আজ আমি আমার স্বর্গীয় বাবার কাছে যেতে পারবো," এমনটাই বলছিলেন রিচার্ড ফেয়ারচাইল্ড। মামলা চলাকালে প্রসিকিউটররা জানান, ফেয়ারচাইল্ড শিশুটিকে দাউদাউ জ্বলতে থাকা ফারনেসের মধ্যে ধরে রাখেন এরপর শিশুটিকে টেবিলের ওপর ছুঁড়ে মারেন। তিন বছরের শিশুটি সেই যে জ্ঞান হারায় আর কোনোদিন তা ফিরে পায়নি। পরের দিন তার মৃত্যূ হয়। ওকলাহোমার এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বলা হয়, অ্যাডামকে হত্যার ঘটনাটিকে নির্মম নিপীড়ণ ছাড়া আর কিছুই বলা চলে না। এদিকে অ্যাডাম ব্রুমহলের চাচা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তিনি অবাক হয়েছেন এই জেনে যে ফেয়ারচাইল্ড তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এই নির্মমতার বিচার প্রত্যাশার দীর্ঘযাত্রা ত্রিশ বছরে শেষ হলোা। তবে পরিতাপের বিষয় এই ত্রিশ বছরে কোনোদিনই ফেয়ারচাইল্ড বলেননি তিনি অনুতপ্ত।

post
বিনোদন

শুক্রবার আমেরিকায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দামাল’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ভারতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিম সেসময়ে জনমত সুসংগঠিত করার পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহের অবিস্মরণীয় যে অবদান রেখেছিলো সে চিত্র তুলে ধরতে টিভি ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা গল্প অবলম্বনে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘দামাল’ ছবিটি ১৮ নভেম্বর শুক্রবার নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ সিটিতে একযোগে মুক্তি পাবে।এরপর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ সিটিতে। ছবিটির প্রিমিয়ার শো হচ্ছে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সে ‘জ্যামাইকা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা’ হলে। এ উপলক্ষে ১৬ নভেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর আমেরিকাস্থ বায়োস্কোপ ফিল্ম’র কর্ণধার রাজ হামিদ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, আমেরিকা ও কানাডার প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি ছাড়াও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানরাও ছবিটি দারুনভাবে উপভোগ করতে সক্ষম হবেন। কারণ, ছবি চলাকালে স্ক্রিণে ইংরেজি অনুবাদ থাকবে। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল থেকে আমি উত্তর আমেরিকায় বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছি। বেশ কটি ছবি ব্যবসা সফল ছিল। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে। নির্মাতারা জীবন-ঘনিষ্ঠ স্ক্রিপ্ট রচনার পাশাপাশি পরিবারের সকলে একত্রে উপভোগ করা যায়-এমন ছবি নির্মাণে কথা ভাবছেন। অর্থাৎ প্রবাসের দর্শকগণের আবেগ-অনুভূতি গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন ছবি তৈরীর ক্ষেত্রে। গত ৫ বছরে এটাই বড় সাফল্য ‘বায়োস্কোপ ফিল্ম’র। আর এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে আমেরিকা আর কানাডার দর্শকদের। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, এ যাবত আমরা ২৮টি ছবি প্রদর্শন করেছি। দামাল হবে ২৯তম ছবি। সকলকে ছবিটি দেখার অনুরোধ রাখছি। আশা করছি, ভিন্ন মাত্রায় তৈরী ছবিটি সকলের ভালো লাগবে। বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো জনপ্রিয় করার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো পুনরায় চালুর জন্যে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ হামিদ। তিনি বলেন, বায়োস্কোপের প্যারেন্ট অর্গানাইজেশন হচ্ছে ‘আমেরিকান’-বায়োস্কোপ এলএলসি ইউএসএ’। আমরা ২০২০ সালে ‘বায়োস্কোপ সাউথ আফ্রিকা’ নিবন্ধন করেছি। কিন্তু আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখনও সেটির কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। এ বছর আমরা ‘বায়োস্কোপ-কানাডা’ নিবন্ধন করেছি। এবং ‘পরাণ’ হবে ডিসেম্বরে বায়োস্কোপ কানাডার ব্যানারে প্রদর্শিত প্রথম ছবি। সামনের বছরের প্রথম দিকে আসবে ‘বায়োস্কোপ ডিভাইন’। কারণ আমরা ঐ মার্কেটেও ঢুকতে চাই। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, আমরা প্রথম যখন শুরু করি সে সময় অনেকে হাসাহাসি করেছেন। বলেছেন যে, কেন আমরা বাংলা ছবি নিয়ে এত মাতামাতি করছি। সময়ের পরিক্রমায় এখন ঐসব প্রবাসীরাই জানতে চান যে, পরের ছবি কোনটি আসছে। তারা দুয়েকটি ছবি আনার অনুরোধও জানাচ্ছেন। এখানেই বিরাট একটি প্রাপ্তি বলে মনে করছি। সংবাদ সম্মেলনে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের পক্ষে উত্তর আমেরিকাস্থ চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের ছবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে রিলিজ করার পদক্ষেপ নেয়ায় আমেরিকান বায়োস্কোপ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজ সাম্মু, উত্তর আমেরিকাস্থ প্রথম আলোর সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন প্রমুখ।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

অ্যাক্রেডিটেশন হারিয়েছে আসা কলেজ, নতুন ভর্তি বাতিল, বিভ্রান্তির জন্য লক্ষ ডলার জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এএসএ কলেজের (আসা কলেজ নামে বেশি পরিচিত) অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। অ্যাক্রেডিটর মিডল স্টেটস কমিশন অন হায়ার এডুকেশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এখানকার সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে।অ্যাডভান্সড সফটওয়্যার অ্যানালিসিস- এএসএ ১৯৮৫ সালে ম্যানহাটনে একটি ছোট্ট ক্লাসরুমে যাত্রা শুরু করে পরে বৃহৎ কলেজে রূপ নিলেও ব্যবসাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের অ্যাক্রেডিটেশন ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো। অ্যাক্রেডিটর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজটি এখন থেকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সুবিধা পাবেনা। অথচ এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি থেকে প্রতিষ্ঠানটির মোট রেভিনিউর দুই-তৃতীয়াংশ আসতো বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১১ নভেম্বর মিডল স্টেটের পাঠানো একটি চিঠিতে আসা কলেজকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শর্তগুলো না মানতে পারলে আগামী ১ মার্চ ২০২৩ এর পর অ্যাক্রেডিটেশন আর থাকবে না। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনে আসা কলেজের দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার হিয়ালিতেও রয়েছে একটি ক্যাম্পাস। প্রতিষ্ঠানটি নার্সিং, হেলথ কেয়ার, ইনফরমেশন টেকনোলজি, বিজনেস ও ক্রিমানাল জাস্টিসে ডিগ্রি অফার করে আসছে। সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫২ মিলিয়ন ডলার রেভিনিউ আয় করেছে যার মধ্যে ৩৩.৬ মিলিয়ন ডলারই ছিলো যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থ। যা স্টুডেন্ট গ্র্যান্ট ও লোনের মাধ্যমেই আসতো। সরকারের এই বিপুল অংকের অর্থ পাওয়ার পরেও আসা'য় নিয়ম নীতির বালাই ছিলো না। মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানটি মনকাড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সংগ্রহে ও অর্থ আয়ে ব্যস্ত ছিলো। নিউইয়র্কের সাবওয়েগুলোতে এমন বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জন্য নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ এবছর ১ লাখ ১২ হাজার ডলার জরিমানা করে এই প্রতিষ্ঠানকে। নিউইয়র্ক লিগ্যাল এসিস্ট্যান্স গ্রুপ তথা সাবওয়েতে ওঠা সাধারণ মানুষও এ বিষয়ে অভিযোগ আনে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আসা কলেজ তার বিজ্ঞাপন তুলে নিতে বাধ্য হয়। এবং জরিমানা দেয়। মিডল স্টেটস অ্যাক্রেডিটর কমিশন বলেছে, আসা তার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কাছে কোনো কার্যকর টিচ-আউট প্ল্যানও নেই। কমিশনের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন আসা কলেজকে তার পে-রোল বাধ্যবাধকতা মানতে ব্যর্থ হওয়ার কারলে এইচসিএম২ স্ট্যাটাস বাতিল করেছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি তার বন্দোবস্ত চুক্তির শর্তগুলো মানতে পারেনি। আরও খবর হচ্ছে, কমিশনকে না জানিয়ে কলেজটির ফ্লোরিডার ক্যাম্পাস এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুর্ব অনুমোদন ছাড়া এভাবে ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া ও স্টেট কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নবায়ন না করাটিও অন্যায় বলে জানিয়েছে মিডল স্টেট। স্থানীয় সরকার এজেন্সিগুলোর তরফ থেকেও মিডল স্টেটের কাছে কলেজটির বিরুদ্ধে কনজুমার প্রোটেকশন আইনগুলো না মানার অভিযোগ এসেছে। এ অবস্থায় মিডল স্টেটস এরই মধ্যে আসা কলেজকে যথাযথ টিচ-আউট প্ল্যান দাখিল করতে বলেছে এবং তাদের অ্যাক্রেডিটেশন যে বাতিল করা হয়েছে তা সকল শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও নতুন কোনো শিক্ষার্থী যাতে এই কলেজে আর ভর্তি করা না হয় সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আরও গুরুতর বিষয় হচ্ছে এই কলেজের মালিক অ্যালেক্স শেগলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ। যে কারণে তিন বছর আগে কলেজ বোর্ড তাকে সরিয়ে দেয়। এরপর গেলো বছর শেগল নিজেই স্কুল বোর্ড সদস্যদের অধিকাংশকে সরিয়ে দেন এবং ফের এর নিয়ন্ত্রণ নেন। গত ডিসেম্বর থেকে তিনি স্কুলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আর নেই। তবে স্কুলের সত্ত্বাধিকারী হিসেবে রয়ে গেছেন। তবে, অবাক করার বিষয় হচ্ছে, বিষয়গুলো বেমালুম চেপে যাচ্ছে আসা কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আসা কলেজের ওয়েবসাইটে এই অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল বিষয়ক কোনো তথ্যই দেওয়া হয়নি। বরং এতে এখনো ঝুলে রয়েছে অনেকগুলো নজরকাড়া ভর্তির বিজ্ঞাপন।

post
শিক্ষা

আমেরিকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১০,৫০০ এরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় আমেরিকাতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিগত শিক্ষাবর্ষের ১৪তম স্থান থেকে উন্নীত হয়ে ১৩তম হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ১৪-১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন উপলেক্ষ্যে এই ঘোষণা দিয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছেন, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১০, ৫৯৭ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকাকে বেছে নিয়েছে। এই তথ্য আমেরিকাতে ভর্তি হওয়া বিদেশী শিক্ষার্থী বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন "২০২২ ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ"-এ প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে আমেরিকাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানোর দেশের তালিকায় বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে আগের বছরের ১৪তম স্থান থেকে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের ৩,৩১৪ জন শিক্ষার্থী থেকে বেড়ে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১০, ৫৯৭ জন হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর ১৯৭৪-১৯৭৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকাতে লেখাপড়া করতে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৮০ জন।"যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবসময় স্বাগত জানায়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন যুগান্তকারী গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের জীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, “আমরা জেনে আনন্দিত যে সময়ের সাথে আরো বেশি সংখ্যক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে," ।যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক/স্কলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষা-তহবিল/বৃত্তির সুযোগ সম্পর্কিত ভার্চুয়াল ও সশরীরে উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটি তথ্যবিনিময় সেমিনার ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশস্থ এডুকেশনইউএসএ পরামর্শ কেন্দ্রগুলো শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের উপর যেমন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার অনন্য সুবিধাগুলো কী তা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করবে এবং সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করার জন্য স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করবে। এই ধরনের বিশেষ অধিবেশনগুলোতে বক্তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা, আমেরিকার কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তি বিষয়ক কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, যারা আমেরিকাতে পড়াশোনা করতে যাওয়ার আবেদন প্রস্তুত প্রক্রিয়া, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা ও পেশাজীবী বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। আরো তথ্যের জন্য https://www.facebook.com/EdUSABangladesh ব্রাউজ কিংবা ইমেইলে [email protected] যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।প্রতি বছর, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া-সহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার সমর্থনে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষা বিভাগের নীতি বিষয়ক যৌথ বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।এডুকেশনইউএসএ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শিক্ষা বিষয়ক একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, যার অধীনে ৪৩০টিরও বেশি পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমেরিকাতে অধ্যয়ন করার বিষয়ে সঠিক, সর্বশেষ এবং বিস্তারিত তথ্য দেয়। এডুকেশনইউএসএ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পরামর্শ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নের সুযোগ সম্পর্কিত তথ্য বিনামূল্যে দিয়ে আসছে। যেসব আমেরিকান স্পেস কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত পরামর্শক/উপদেষ্টারা ভার্চুয়াল এবং ব্যক্তিগত তথ্য অধিবেশনের আয়োজন করে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিনামূল্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও দলভিত্তিক পরামর্শ সেবা দেয় তার মধ্যে রয়েছে:• আমেরিকান সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকা;• এডওয়ার্ড এম. কেনেডি (ইএমকে) সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দা আর্টস, ধানমন্ডি, ঢাকা;• আমেরিকান কর্নার খুলনা (নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনা, শিববাড়ী মোড়, খুলনা);• আমেরিকান কর্নার সিলেট (সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শামীমাবাদ, বাগবাড়ী, সিলেট);• আমেরিকান কর্নার রাজশাহী (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাড়ি # ৫৩২, জাহাঙ্গীর সরণি, তালাইমারি, রাজশাহী- ৬২০৪); এবং• আমেরিকান কর্নার চট্টগ্রাম দূতাবাস বর্তমানে একজন এডুকেশনইউএসএ এডভাইজরের মাধ্যমে এই কর্নারে ভার্চুয়াল পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছে। আরো তথ্যের জন্য [email protected] করতে বলা হয়েছে। ওপেন ডোরস হলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা শিক্ষাদানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এবং আমেরিকান শিক্ষার্থী যারা বিদেশে তাদের নিজ দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্রেডিট অর্জন করার জন্য অধ্যয়নরত তাদের বিস্তারিত তথ্যভান্ডার। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষক এবং শিক্ষাপূর্ব নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রকাশ করে। বার্ষিক প্রতিবেদনটি সোমবার, ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে৷ ওপেন ডোরস ২০২২ রিপোর্ট সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে দেখুন: https://opendoorsdata.org/annual-release/ ৷ আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ (আইইডব্লিউ) সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য দেখুন: https://iew.state.gov 

post
এনআরবি লাইফ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অজানা এক বীরত্বগাঁথা ‘নওফেলরা কখনো মরে না’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন সতেরো থেকে আঠারোতে পা দেওয়া অসীম সাহসী যুবক মেজবাহ উদ্দিন নওফেল। ৯ ডিসেম্বরে ফরিদপুর জেলা সদরের করিমপুরে পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে দিনভর যুদ্ধ করেন কাজী সালাউদ্দিন ও মেজবাহ উদ্দিন নওফেলের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা। লক্ষ্য একটাই, প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করা। তুমুল গোলাগুলির এক পর্যায়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে সবুজের কপালে লাল টিপ পরিয়ে দেন বাংলা মায়ের সূর্য সন্তান মেজবাহ উদ্দিন নওফেল। আমরা কজনেইবা জানি, কজনেইবা স্মরণ করি নওফেলের আত্মত্যাগের কথা! মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জন দেওয়া আরও লাখো মায়ের সন্তানের মতো নওফেল যেন ইতিহাস থেকে হারিয়ে না যায়, সেই দুরূহ কাজটিই করেছেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা নাদিম ইকবাল। তৈরি করেছেন প্রামাণ্যচিত্র ‘নওফেল কখনো মরে না’।যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আয়োজনে রবিবারে (৬ নভেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে প্রদর্শিত হল নাদিম ইকবালের সেই প্রামাণ্যচিত্র। সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী। নিউইয়র্কে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ছাড়াও, লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে ভরপুর জুইস সেন্টারে অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের টাইটেল স্পন্সরে নির্মিত 'ফিরে এসো বঙ্গবন্ধু' সঙ্গীত চিত্রটি দেখানো হয়। এরপরেই পরিবেশন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেলকে নিয়ে নাদিম ইকবালের নির্মিত ৪০ মিনিটের প্রামাণ্য চিত্রটি। পিনপতন নীরবতায় ছল ছল চোখে উপস্থিত সবাই প্রামাণ্য চিত্রটি দেখেন এবং নওফেলের করুন বীরত্বগাঁথার ইতিহাস জেনে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এই অনন্য অসাধারণ প্রামাণ্য চিত্রটি তৈরি ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সভাপতি ড. নুরুন নবী নির্মাতা নাদিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানান এবং আবেগাপ্লুত হয়ে যেন নাদিম ইকবালের মাঝেই নওফেলকে দেখতে পাচ্ছিলেন।  প্রধান অতিথির বক্ত্যবে খ্যাতিমান কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। আবারও ১৯৭১ সালে অনেক রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছি স্বাধীনতা। গৌরবময় এই অর্জন যেমন আনন্দের, তেমন বেদনার। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে আছে বিজয় গাঁথার পাশাপাশি নির্যাতন-নিপীড়ন গণহত্যার বীভৎসতা। এই প্রামাণ্যচিত্র থেকে বুঝা যায় স্বাধীনতা অর্জনটা কত ত্যাগের বিনিময়ে হয়েছে। এই ভাষা, এই দেশ রক্ষার, স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম বলেন, প্রামাণ্য চিত্রটি দেখে আমি বারবার একাত্তরে ফিরে যাচ্ছিলাম। নওফেলের মতো আরও কতো বীর সন্তানেরা আমাদের থেকে হারিয়ে গেছেন। আমাদের সকলের বয়স বাড়ে, ধীরে ধীরে আমরা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হই। কিন্তু নওফেল? নওফেল যেই মুহূর্তে শহীদ হয়েছে, সেই মুহূর্তেই তার বয়স স্থির হয়ে গেছে। বাংলার আর বাঙালির ইতিহাসে নওফেলের বয়স আর বাড়বে না, চির যুবক হয়েই সে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফুন নাহার লতা বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর হয়ে গেল, মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী অনেক বীরের কথা আমাদের জানা নেই। এখন যেসব মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন, তারাও ধীরে ধীরে প্রকৃতির নিয়মে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু আমরা যদি তাদের ত্যাগের কথা ধরে রাখতে না পারি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা তেমন কিছু দিতে পারবো না। তাই আসুন আমরা খুঁজে খুঁজে তাদের ত্যাগের কথা, তাদের বীরত্বগাঁথা সংরক্ষণ করি।  আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরান মজুমদার রুনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা জারিফ আশরাফ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রামাণ্য চিত্র নির্মাতা নাদিম ইকবাল, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সমাজ চিন্তক বেলাল বেগ ও শুক্লা গাঙ্গুলি। বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ। কবিতা আবৃত্তি করেন গোপন সাহা ও স্বাধীন মজুমদার। অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ড. জিনাত নবী, ফাহিম রেজা নূর, জাকিয়া ফাহিম, মাহাবুবুর রহমান টুকু, কবি মিশুক সেলিম ও ছড়াকার খালেদ সরফুদ্দীন।

post
বিনোদন

ওরা বাংলায় গান গায়, বাংলা গানে নাচে, ওরা বাংলা স্কুলে পড়ে

ওরা বাংলায় গান গায়... ওরা বাংলার গান গায়। ওরা নিজেকে বাংলায় খুঁজে পায়। ওরা হয়তো বাংলার মায়া ভরা পথে হাঁটেনি কখনো.. কিন্তু ওরা বাংলাকে ভালোবাসে। বাংলার হাত ধরে মানুষের কাছে আসে। কারণ ওরা বাংলা স্কুলে পড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ফলসচার্জ এলাকায় শনিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই বাংলাপ্রেমি, বাংলাপাঠী একগুচ্ছ শিশু-কিশোর-কিশোরীর মেলা বসেছিলো এখানকার জেমস লি কমিউনিটি সেন্টারে। এই শিশু-কিশোররা সকলেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি নতুন প্রজন্ম। এদের কেউ হয়তো প্রবাসে তৃতীয় প্রজন্মের, কেউ দ্বিতীয়। নিয়মিত স্কুলে ওদের বাংলা শেখার সুযোগ নেই। সাধারণ কথা যখন বলে তখন বোঝা যায় ওদের ভাষাটাই ইংরেজি। তারপরেও ওরা বাংলাকে ভালোবাসে। আর তাই ওরা বাংলাস্কুলে পড়ে। সেই পাঠে তাদের আত্মনিয়োজন আছে। আছে ভালোবাসা। তারই স্বীকৃতি দিতে জেমস লি সেন্টারের মিলনায়তনে ওদের পুরষ্কৃত করা হলো। তুলে দেওয়া হলো উপহার। অনুষ্ঠানের নামটাই ছিলো- বাংলাস্কুল আয়োজিত ৩০তম উপহার বাংলাদেশ মেলা। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো সনদ। তাদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হলো মেডাল। এদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলো সেরাদেরও সেরা। তারা ভূষিত হলো বিশেষ পুরষ্কারে। তবে উপহার নিতে এসে সবচেয়ে বড় উপহার যেনো দিয়ে গেলো এই শিশু-কিশোর-কিশোরীরাই। তারা গাইলো। তারা নাচলো। শোনালো কবিতা। বাংলা গানের সুরে সুরে তারা ভরে তুললো মিলনায়তন। নৃত্যতালে তারা মুগ্ধ করলো দর্শকদের। মিলনায়তন দর্শকে ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। তারা উপভোগ করছিলেন এই শিশু-কিশোরদের একের পর এক দারুণ সব উপস্থাপনা। স্কুলের শিক্ষক আর স্কুল বোর্ডের পরিচালকরা এই অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে যে ছিলেন কতটা আন্তরিক তা এর গোছানো পরিবেশনা থেকেই আন্দাজ করা গেলো। তবে শিক্ষকরা বিশেষ করে স্কুলে মিউজিক একাডেমির নাচ ও গানের শিক্ষকরা যেনো তাদের সবটুকু ঢেলে দিয়ে তৈরি করেছিলেন ওদের। বিশেষ করে যখন একসঙ্গে এক তালে শিশুরা গাইলো সমবেত কণ্ঠে বাংলার দুই প্রধান কবির দুই গান... ববি ঠাকুরের- ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা আর কাজী নজরুলের ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি। দেশের জন্য এই দুই গানের এমন সুমিশ্রিত পরিবেশনা আর কেউ কি শুনেছে কখনো? পরে শিশুরা সমবেত ভাবে গাইলো আরেকটি গান- তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে। তাতে কেউ গাইলো কেউ কণ্ঠ মেলালো, কেউ বা হাত দুলিয়ে দিলো তাল।একজন কবিতা পড়ে শোনালো যা লেখা হয়েছিলো এই স্কুল আর এই উপহার আয়োজন নিয়েই। মাঝে একবার পরিচিতি পর্ব হয়ে গেলো স্কুল বোর্ডের পরিচালকদের। তবে মূল পরিবেশনা তখনো বাকি। ষড়ঋতুতে আবর্তিত প্রিয়দর্শিনী জননী আমার গীতিনৃত্যাল্লেখ্য এই শিরোনামে যে উপস্থাপনাটি হয়ে গেলো তা দর্শকদের যেনো ভাসিযে নিয়ে গেলো তাদের প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশে। বাংলার ষড়ঋতুকেই তারা দেখতে পেলেন নাচের মুদ্রায়... শুনতে পেলেন গানে ও কথায়। তবে পুরোটাই ঋতু সৈন্দর্যের কবি রবীন্দ্রনাথে ভর করে। দারুণ এক গ্রীস্মবন্দনায় নৃত্যে শিক্ষক ও স্বনামধন্য শিল্পী রোজমেরি মিতু রোজারিও নেচে গেলেন মঞ্চে আর শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন গ্রীস্মের গান দারুণ অগ্নিবানেরে হৃদয়ে তৃষা হানেরে... এই গানের ঝংকারে নাচার জন্য। আর বর্ষার আবাহনী নৃত্যে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণ জাগা এক মওসুম এই বর্ষাকে উপস্থাপন করলেন রোজমেরী। সেই বর্ণনা নৃত্যের পর মেয়েরা এসে নাচলো ময়ুরের পেখম খুলে- নাচ ময়ুরী নাচ রে পেখম খুলে নাচরে এই গানে। শরতকে ডাকা হলো শিউলি সৌন্দর্য্যের জপে। শিক্ষক রোকেয়া জাহান হাসি তার অনন্য নাচের মুদ্রায় মঞ্চ রাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিলেন। আর সেই রবি ঠাকুরের গান দেখো দেখো দেখো শুকতারা আঁখি মেলে চায় প্রভাতের কিনারায়...বাদ্যগানে মেয়েরা মঞ্চকে ভরে তুললো তাদের নাচের কিন্নরিতে। হেমন্তের আবাহনে তারা দেখালো নাচ মেঠোসুরের বিপরীতে সেই অনন্য গান আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা। শিক্ষক রোজমেরি রোজারিও নেচে গেলেন কথায় আরা মেয়েরা মঞ্চে এসে যেনো তারাই নীল আকাশে ভাসিয়ে দিলো সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতিতে শীতল পরশ নিয়ে আসা পৌষের বর্ণণায় এলো নবান্নের কথা। পিঠে পায়েসের কথা। সেসব কথামালায় নাচলেন শিক্ষিকা রোকেয়া জাহান হাসি। তার আহ্বানে মঞ্চে মাতিয়ে বাংলা স্কুলের মেয়েরা সব নাচলো পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয় আয় আয়... গানে। এরপর ঋতুরাজ। শিক্ষক রোজমেরি বসন্ত আবাহন শেষ করলেন কথামালার বিপরীতে নেচে। আর মেয়েরা নাচলো কিছু স্বপ্ন, কিছু মেঘলা, কিছু বই টই ধুলো লাগা কিছু ইচ্ছে, সাড়া দিচ্ছে এ বসন্ত রাত জাগা... এই গানে ওদের নাচের মুদ্রায় আর কিন্নরিতে মঞ্চ মাতলো, মাতলো দর্শকও। এমন একটা অনন্য পরিবেশনায় দর্শকের স্ট্যান্ডিং ওভেশন থাকবে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। হলোও তাই। করতালিতে মঞ্চ কাঁপলো কাঁপলো মিলনায়তন। এই শিশুদের উৎসাহ দর্শকরা যেমন দিচ্ছিলেন তেমনি বাংলাস্কুলের কর্তৃপক্ষের মুখেও শোনা গেলো গর্বের সব উচ্চারণ। এই শিশুদের কথা বলছিলেন স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শামীম চৌধুরী। তিনি বলছিলেন কেনো তারা বাংলা স্কুলে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি নাচ ও গান শেখান। এরপরে একটি একক নৃত্য হয়ে গেলো মরিয়ম ইসলামের। বাংলাস্কুলের প্রাক্তন। এখন যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী। সে নেচে দেখালো বাঁশি কেনো গায় আমারে কাঁদায় এই গানে। এরপর কিছু সম্মাননা দেওয়ার পালা চললো। সম্মানিত করা হলো বাংলাস্কুলের আজীবন সদস্যপদ পাওয়া কয়েকজনকে। তবে শিশুদের গান তখনও বাকি। এরপর কিছু ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক গানের পরিবেশনা হলো। এভাবে কয়েকটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাস্কুলের এই উপহার। একটি অনন্য সন্ধ্যা কাটালেন ভার্জিনিয়া-ডিসি মেরিল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলো। নিশ্চয়ই তারা থাকবেন বছর পার করে আরেকটি উপহার কবে আসবে তার অপেক্ষায়।

post
এনআরবি লাইফ

বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত, ওজন পার্কে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সোসাইটির নতুন কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা গত ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া। সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন সিদ্দিকীর পরিচলনায় সভায় অন‍্যান‍্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি-মোঃ মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি- ফারুক চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক- আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ- মোঃ নওশেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক- আবুল কালাম ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- ডাঃ শাহনাজ আলম লিপি, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ, সাহিত্য সম্পাদক- ফয়সল আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- প্রদীপ ভট্টাচার্য, কার্যকরী সদস্য- ফারহানা চৌধুরী, মোঃ আখতার বাবুল, আবুল বাশার ভূঁইয়া, মোঃ সাদী মিন্টু, শাহ মিজানুর রহমান।নতুন কমিটির প্রথম এই কার্যকরী সভায় শুরুতেই দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া। তিনি বলেন, শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নানান সংকট মোকাবেলা করে আজকের এই কার্যকরী কমিটির সভায় আমরা সকলে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আর এই সুযোগটি সোসাইটির সম্মানিত ভোটার প্রবাসী বাংলাদেশীরা আমাদের কেন দিয়েছেন তা আমাদের সব সময় স্মরণ রাখতে হবে। নিরঙ্কুশ এই বিজয়ে আমাদের সকলের দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা অনেক অনেক গুন বেড়েছে তাও মনে রাখতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত কার্যকরী কমিটির সকল কর্মকর্তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ববোধের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তা পালন করার জন্য অনুরোধ করেন।সভাপতির বক্তব্যের পর একে একে কার্যকরী কমিটির সকল কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একে অন্যের সাথে পরিচিত হন এবং সংক্ষিপ্তভাবে সংগঠন নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর ওজন পার্কের দেশী সিনিয়র সেন্টারে উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফারুক চৌধুরীকে আহবায়ক আবুল কালাম ভূঁইয়াকে সদস্য সচিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, যুগ্ম সদস্য সচিব টিপু খান প্রধান সমন্বয়কারী আবুল বাশার ভূঁইয়া ও সমন্বয়কারী প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং শাহ মিজান কে দিয়ে উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। অনুষ্ঠান সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয় ।এদিকে সভায় মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বৃহৎ পরিসরে উদযাপনের লক্ষ্যে মহিউদ্দিন উদ্দিন দেওয়ান কে আহবায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক চৌধুরী, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহানা চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী মাইনুল উদ্দিন মাহবুব ও সমন্বয়কারী সাদী মিন্টু এবং আক্তার বাবুল।কার্যকরী কমিটির প্রথম এই সভা সমাপ্তির পূর্বে সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন সিদ্দিকী কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সোসাইটির আজীবন সদস্য হননি তারা আগামী কার্যকরী মিটিং এর আগেই তা সম্পূর্ণ করবেন। একই সাথে কমিউনিটির অন্যান্য মানুষদেরও আজীবন সদস্যপদ গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

ম্যানহাটানে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় আহত বাংলাদেশি

বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন গোলাম মহিউদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি। শত মাইল বেগে গাড়ি চালিয়ে ম্যানহাটানের ব্যস্ততম সড়কের ট্রাফিক লাইট অমান্য করে ইয়েলো ট্যাক্সিকে আঘাত করায় এই ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণে বাঁচলেও তার পাঁজরের ৮টি হাড় এবং বামের ঘাড়ের হাড়ও ভেঙ্গে গেছে।কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রামপুরা গ্রামের সন্তান গোলাম মহিউদ্দিন বেলভ্যু হাসপাতালে ১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতেও প্রায় অচেতন অবস্থায় ছিলেন। জানা গেছে ম্যানহাটানে রবিবার সকাল সাড়ে ৪টার দিকে হামজা সালমান (২৭) নামক ড্রাইভারের বেপরোয়া গতির গাড়িটিও ট্যাক্সিও মতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, গোলাম মহিউদ্দিনের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক ব্লকের মত সামনে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ফিফথ এভিনিউ এবং ৪৪ স্ট্রিট অতিক্রম করার সময় গোলাম মহিউদ্দিনের ট্যাক্সির পেছনে হামজার গাড়ি (নীল রংয়ের বিএমডব্লিউ-এম৫) ধাক্কা দিয়ে ৪৩ স্ট্রিট পর্যন্ত ছেচড়ে নেয়। এরপর ট্যাক্সিটির বাম পাশ (ড্রাইভার সীটের দিক) দুমড়ে-মুচড়ে গেলে আর সম্মুখে নেয়া সম্ভব হয়নি। সংবাদ পেয়েই এ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং মুমূর্ষাবস্থায় গোলাম মহিউদ্দিনকে নিকটস্থ বেলভ্যু হাসপাতালে ভর্তি করেছে। হামজা দ্রুত কেটে পড়েছিলেন। তবে বেশী দূর যেতে পারেনি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই। মঙ্গলবার তাকে ম্যানহাটান ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে বলেছে যে, আমি রেড লাইটে থাকাবস্থায় ঐ ট্যাক্সিকে ধাক্কা দেই। তবে আমি ট্রাফিক লাইট অতিক্রমের সময় তা রেড ছিল না। ঠিক মধ্যখানে থাকাবস্থায় হলুদ ছিল। এবং ট্যাক্সিটি ছিল মাঝের লেনে। মঙ্গলবার আদালত হামজাকে জামিনে মুক্তি দেয়ায় গোলাম মহিউদ্দিনের স্ত্রী মাসুমা আকতার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ‘এটা কী করে সম্ভব, বেপরোয়া চালককে তারা মুক্তি দিয়েছেন। আমার স্বামী হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সে আমার স্বামীর ট্যাক্সি ভেঙ্গেছে, স্বামীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। আদৌ পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে পারবেন কিনা-তার নিশ্চয়তা নেই। অথচ লোকটিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে মাত্র একদিন হাজতে রাখার পর।’ মাসুমা আকতার উল্লেখ করেন, আমাদের ৭টি সন্তান রয়েছেন। সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের বয়স মাত্র ৭ মাস। জ্যেষ্ঠ সন্তান ২১ বছরের। স্বামীর উপার্জনেই সংসার চলে। এখন কীভাবে সামলাবো পরিবারের বোঝা? মাসুমা বলেন, টানা ২৭ বছর যাবত ট্যাক্সি চালিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন। কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার হইনি। ট্যাক্সি মেডেলিয়ন নিজের হওয়ায় মোটামুটি ভালই চলছিল সবকিছু। এদিকে, কুমিল্লা সোসাইটির সভাপতি কাজী আসাদউল্লাহ এবং সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান মিঠু মঙ্গলবার রাতে জানান, গোলাম মহিউদ্দিন খুব শান্ত মানুষ। রাতের শিফটে ট্যাক্সি চালান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়। শিফট শেষ করে ভোরে বাসায় ফেরার সময় এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তিনি। এটি খুবই দুঃখজনক। তারা উভয়ে গোলাম মহিউদ্দিনের দ্রুত আরোগ্যে সকলের দোয়া চেয়েছেন। উল্লেখ্য, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গোলাম মহিউদ্দিন বাস করেন কুইন্সের ওজোনপার্কে। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.