post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ব্যবহার যোগ্য রিজার্ভ সাত বছরে সর্বনিম্ন

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধ করায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আরও ১১৮ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার কমেছে। এতে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে, যা গত সাত বছরে সর্বনিম্ন। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের অঙ্ক আরও ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার কম হবে। সংস্থাটির হিসেবে বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আকু হলো একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানের মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর সুদসহ আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। দায় পরিশোধের মতো রিজার্ভ না থাকায় গত বছরের অক্টোবরে আকু থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে চরম আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলংকা। ব্যাংকারদের মতে, বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফেরাতে আমদানি দায় কমানোর উদ্যোগের মধ্যেও সংকট কাটেনি। নতুন এলসি কমলেও আগের দায় পরিশোধের চাপ রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে। এ কারণে সংকট কাটছে না অর্থনীতিতে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। তবে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডলার সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে রিজার্ভ। ওই অর্থবছরের শেষে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ৭ বছর পর আবারও ২৯ বিলিয়নের ঘরে নেমে এসেছে রিজার্ভ। ২০১৭ সালের ২২ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। করোনার আগ পর্যন্ত ৩২ থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ওঠানামা করেছিল রিজার্ভ। কিন্তু করোনার প্রভাব শুরু হলে বিশ্ববাজারে সুদহার অনেক কমে আসে। তখন বিশ্বের অনেক দেশ বৈদেশিক ঋণ কমালেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়। মূলত, ২০২১ সালের মধ্যে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে এমন পথ বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। তবে করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বেশির ভাগ জিনিসের দাম বেড়েছে। এরপর রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের জুন শেষে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে ১৩ বিলিয়নের বেশি কমে বর্তমানে এ পর্যায়ে নেমে এসেছে।

post
বাংলাদেশ

হিট অফিসার ঢাকার তাপমাত্রা কমাবেন যেভাবে

ঢাকার তাপ নিয়ন্ত্রণে চিফ হিট অফিসার বা প্রধান তাপ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি)। পুরো এশিয়ার মধ্যে ঢাকাতেই প্রথম এই পদে কাউকে নিযুক্ত করা হলো বলেও দাবি করেছে ডিএনসিসি। ফলে রাজধানীবাসীর কাছে হিট অফিসার ধারণাটি নতুন। পদটি আসলে কেমন, পদের কাজ কী, কীভাবে তিনি কাজ করবেন এরকম নানা প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।সিএইচও হিসেবে বুশরা আফরিন প্রচণ্ড গরমের প্রেক্ষাপটে ঢাকা উত্তরকে নিরাপদ করার জন্য নেতৃত্বে দেবেন। তাপমাত্রা কমাতে তিনি শহরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। ঢাকা উত্তরের জনগণের মধ্যে তাপ সচেতনতা বৃদ্ধি, সুরক্ষা প্রচেষ্টা ত্বরান্বিতকরণসহ নতুন নতুন কাজ করবেন।একজন চিফ হিট অফিসারের দায়িত্ব শহর বা সংস্থার ওপর নির্ভর করে। তিনি শহরের পরিস্থিতি বুঝে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। তবে একজন চিফ হিট অফিসের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে শহরের তাপ হ্রাস করার জন্য কৌশল গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা। এরমধ্যে রয়েছে শহরের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ, এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করা। এই এলাকাগুলোর সবুজ অবকাঠামো, যেমন- পার্ক, গাছ, ছাদ ও ফুটপাত ব্যবহার ও সংস্কার করে সেখানকার তাপ কমানো। এছাড়া শহর যারা বয়স্ক, ছোট শিশু আছে তাদের চরম তাপের স্বাস্থ্যগত প্রভাব থেকে রক্ষা করার পরিকল্পনা তৈরি করেন চিফ হিট অফিসার। একই সঙ্গে একজন চিফ হিট অফিসার জনসাধারণের মাঝে প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত তাপের সময় কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয় সে সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান ও প্রচারণা চালাবেন। যেহেতু নগরের তাপ নিয়ন্ত্রণে একজন চিফ হিট অফিসার কাজ করে থাকেন, তাই নগর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করেন। সামগ্রিকভাবে একজন প্রধান তাপ কর্মকর্তার লক্ষ্য হলো জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং পরিবেশের ওপর তাপের নেতিবাচক প্রভাবগুলো হ্রাস করা এবং পরিবর্তনশীল জলবায়ুর চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকা যায় এমন কার্যক্রম গ্রহণ করেন।ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য বলছে, চিফ হিট অফিসার এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চরম তাপের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা করার কাজে নেতৃত্ব দেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে ফ্লোরিডার মিয়ামির ডেইড কাউন্টিতে বিশ্বের প্রথম চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।একজন চিফ হিট অফিসারের ভূমিকা একজন চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার বা চিফ রেজিলিয়েন্স (পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা) অফিসারের মতোই। তবে তিনি তাপতরঙ্গ এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবগুলো কমানোর জন্যও কাজ করবেন।এছাড়াও একজন চিফ হিট অফিসার নগর পরিকল্পনাবিদ, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে শহরের তাপ কমাতে এবং প্রচণ্ড তাপের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রভাব থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষা করে একটি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেন।অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, সিয়েরা লিওনের সান্টিয়াগো, গ্রিসের এথেন্স, চিলির সান্টিয়াগো ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে চিফ হিট অফিসার রয়েছে।ঢাকার প্রথম চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন ঢাকায় তথা এশিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়োগ প্রাপ্ত হিট অফিসার বুশরা আফরিন। তিনি কানাডায় গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে লেখাপড়া করেছেন। বুশরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের কন্যা। বাংলাদেশে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শক্তি ফাউন্ডেশনে একজন নির্বাহী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

post
বাংলাদেশ

রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধর করা আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আইনজীবীদের প্রতীক কালো গাউন পরা অবস্থায় রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আরতি রানী ঘোষ। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্তজা স্বাক্ষরিত নোটিশ আজ মঙ্গলবার সকালে আরতি রানীর বাড়িতে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে আবু মোর্তজা বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনজীবীদের গাউন পরা অবস্থায় একজন রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধর করা আইনজীবীদের জন্য মর্যাদাহানিকর। এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আরতি রানী ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিশে আগামী তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে যশোর আদালতের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়কে এক রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগ ওঠে আইনজীবী আরতি রানী ঘোষের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য গতকাল থেকে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আইনজীবী আরতি রানী ঘোষকে পাওয়া যায়নি। কেউ তাঁর ফোন ধরেননি।

post
বাংলাদেশ

রিকশাচালকের কলার ধরে আইনজীবীর চড়থাপ্পড়, ভাইরাল ভিডিও

যশোরে প্রকাশ্যে এক রিকশাচালককে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একজন আইনজীবীকে রিকশাচালকের কলার ধরে চড়থাপ্পর দিতে দেখা গেছে। গতকাল রোববার দুপুরে যশোর আদালতের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়কে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম আরতি রানী ঘোষ। তিনি যশোর শহরের আম্বিকা বসু লেনের বাসিন্দা। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা ফেসবুকে ওই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইসহক বলেন, রিকশাচালককে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করার যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। তাঁরা ওই রিকশাচালকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে আইনজীবী আরতি রানী ঘোষকে সতর্ক করাসহ সমিতির বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো গাউন পরিহিত এক আইনজীবী প্রেসক্লাবের সামনে রিকশাচালকের জামার কলার ধরে চড়থাপ্পড় দিচ্ছেন। মারতে মারতে তাঁকে রিকশার চাবি নিয়ে পৌরসভায় যেতে বলেন। জামার কলার ধরে বারবার রিকশাচালককে পৌরসভায় নিয়ে গিয়ে লাইসেন্স বাতিল করার হুমকিও দিতে দেখা যায়। এ সময় রিকশাচালক হাত উঁচু করে মাফ চান। এরপরও ওই আইনজীবীকে চড়াও হতে দেখা যায়। এ সময় সড়কে পথচারীরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ভিডিওতে অপর এক পথচারীকে বলতে শোনা যায়, ওই আইনজীবী রিকশা চালককে জুতাপেটাও করেছেন। তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ করলেও ওই আইনজীবী রিকশা চালককে চড়থাপ্পড় মেরেই যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে এক নারী এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে ক্ষান্ত হন তিনি। এ সময় ওই রিকশাচালক তার রিকশা নিয়ে চলে যান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যশোর প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী মীর রবিউল ইসলাম বলেন, ওই নারী আইনজীবীকে বারবার অনুরোধ করার পরেও তিনি কারও কথা শোনেননি। একের পর এক রিকশাচালককে তিনি মেরেই যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান করা বিভিন্ন পথচারী প্রতিবাদ করলে তিনি কিছুটা শান্ত হন।

post
বাংলাদেশ

আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রয়োজনে তারা সবসময় জনগণের পাশে থাকায় আগামী সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাদের তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে। সবাইকে (নেতা-কর্মী) আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে, কারণ, নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হব। স্থানীয় সময় রোববার লন্ডন ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। দেশের জনগণ বিএনপি-জামায়াতের ওপর আস্থা রাখবে না বলেও মনে করেন সরকার প্রধান। বলেন, ‘তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং এভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে। তাহলে, জনগণ কীভাবে তাদের প্রতি আস্থা রাখবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে জেনে গেছে যে তারা চোর, দুর্নীতিবাজ, খুনি, গ্রেনেড হামলাকারী ও লুটেরা এবং তারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষক। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট অর্থ আত্মসাৎ করে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানকে তার দুর্নীতির দায়ে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর পাচার করা প্রায় ৪০ কোটি টাকা সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত চক্রকে ভোট চোর হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশবাসীকে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা দেশকে ধ্বংস করতে চায়। তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি-জামায়াত) বাংলাদেশকে ধ্বংস করবে। তাই, সতর্ক থাকুন, যাতে বিএনপি-জামায়াত চক্র আবার ক্ষমতায় না আসে।’  

post
বাংলাদেশ

সুদানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৩৬ জন দেশে ফিরেছেন

ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বে যুদ্ধ শুরুর পরে সুদানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৩৬ জন দেশে ফিরেছেন। আজ সোমবার সকালে তারা হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, বাকিদেরও শিগগির দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, 'এয়ার ফোর্স ওখানে ৩টি প্লেন রেডি করে দিয়েছিল, আপনারা রেডি হলেই আমরা প্লেন ছাড়তে পারব। ওখানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। আজকে আসার কথা ছিল ২৫০ জন আর আপনারা আসতে পেরেছেন ১৩৬ জন।' 'প্রথম তালিকা ছিল ৫০০ জনের, এরপর হয়ে গেল ৪০০ জন। এদের সবাইকে যে আমরা ইমিডিয়েট আনতে পারিনি এটার জন্য আমি দুঃখিত। আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন এদের আমরা অতি সত্ত্বর নিয়ে আসব,' বলেন ইমরান আহমদ। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, 'আপনারা সব কিছু হারিয়েছেন। দেশে দিয়েছেন কিন্তু ওখান থেকে খালি হাতে এসেছেন। আজকে আমরা যা কিছু দেই না কেন, আইওএম আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সাহায্য ছাড়া এই কাজটা অত তাড়াতাড়ি হতো না। আজকে আইএমও আপনাদের কিছু আর্থিক সাহায্য দেবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ বোর্ড থেকে আপনাদের জন্য কিছু আর্থিক সাহায্য দেবো।' সবাইকে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'পরবর্তীতে কীভাবে আপনাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এটা ঠিক করতে নাম-ঠিকানার প্রয়োজন হবে।' গত ১৫ এপ্রিল একসময়ের মিত্র সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (মে ০৬) সন্ধ্যায় লন্ডনের হোটেল ক্ল্যারিজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগায়েল ওয়াংচুক ও রানি গায়ালতসুয়েন জেতসুন পেমা বৈঠক করেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এর আগে হোটেলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ভুটানের রাজা ও রানিকে স্বাগত জানান। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ভুটানের রাজা ও রানি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভুটানের রাজা বলেন, তাদের দেশেও তারা একটা অ্যাডমিনিসট্রেটিভ ইকোনোমিক জোন করতে চান। যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসে। ভৌগলিক আয়তনে ছোট দেশ ভুটানের রাজা বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল করা নিয়ে তারা খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ তারা (ভুটান) তাদের পরিবেশকে দূষিত করতে চান না। তারা সুখী দেশ। কোনভাবে পরিবেশকে বিকৃত করতে চান না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের দেশে অনেকগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। আপনারা আমাদের দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে পারেন। এটি ভুটান অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইন্ডিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সবাইকে একের অধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল দিয়েছি। আপনারা চাইলে আমরা একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে পারি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব প্রতিবেশির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছি। এ প্রসঙ্গে ভুটানের রাজা বলেন, এটা ভালো হয়েছে। রেলওয়ে কানেকটিভিটি প্রসঙ্গে ভুটানের রাজা বলেন, আগামীতে তারা এটা করতে চান। রাজা বলেন, আমি দুটা চাই। একটা হচ্ছে ভারতের মধ্যে দিয়ে, আরেকটা হচ্ছে আমি ডাইরেক্ট ট্রানজিট চাই। সরাসরি প্রবেশ চাই বাংলাদেশে। ভুটানের রাজার এই চাওয়াকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। সেই জন্য ভারতকে কিছু বলতে হলে আমরা সেটা বলবো। বাংলাদেশকে কানেকটিভিটির হাব হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের জন্য বাংলাদেশের দুইটা বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভুটানের রাজা ও রানি বলেন, আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তারা সবাই বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছে। এই জন্য আমাদের দেশের মানুষের বাংলাদেশের প্রতি একট বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বাংলাদেশে বেড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে ভুটানের রাজা ও রানি বলেন, তারা বাংলাদেশে আরও সফর করতে চান। রাষ্ট্রীয়ভাবে না, তারা বাংলাদেশে বেড়াতে চান। বাংলাদেশের সংস্কৃতি তাদের খুব পছন্দ। তারা ভিজিটর হিসেবে বাংলাদেশে বেড়াতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের রাজা ও রাণীর এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের দুয়ার সব সময় আপনাদের জন্য খোলা। আন্তরিক পরিবেশ প্রায় ঘণ্টা খানেক আলাপ হয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, অনেক পারিবারিক আলাপ হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে খালা হিসেবে, অভিভাবক হিসেবে সম্মান করেন। ভুটানের রাজা-রানি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।

post
বাংলাদেশ

ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের রিজার্ভের ওপর চাপ থাকবে: আইএমএফ

'একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পটভূমিতেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি বাংলাদেশের। ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রধান অগ্রসর বাণিজ্যিক অংশীদারদের মন্দায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।'আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দলের বাংলাদেশ সফর শেষে লিখিত বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ। বিবৃতিতে রাহুল আনন্দ আরও বলেছেন, 'সফরের সময় আমরা সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিকখাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা তহবিল-সমর্থিত প্রোগ্রামের অধীনে মূল প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছি। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) বা এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) বা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) ব্যবস্থার প্রথম পর্যালোচনায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে, যা এ বছরের শেষের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।' 'আইএমএফ দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আমরা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, দ্বিপাক্ষিক দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও দেখা করেছি।' 'আমরা আন্তরিক আলোচনা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বাংলাদেশ এবং এ দেশের জনগণের সমর্থনে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আমরা উন্মুখ।'

post
বাংলাদেশ

‘আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছি’

আগামীতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। শনিবার লন্ডনে হোটেল ক্ল্যারিজে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি জানান, তার দেশ বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।সাক্ষাতের পর হোটেল ক্ল্যারিজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ছাড়াও দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন নিয়ে আলাপের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সম্পর্কে কথা বলেন। তারাও চান একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’ একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাও চাই একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন। আর আমার দল (আওয়ামী লীগ) সবসময় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখেছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ একটা অবস্থান তৈরি করেছি। আমাদেরও প্রতিশ্রুতি— আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্যরা যদি আমাদের সহযোগিতা করে তা হলে ভালো।’ বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ, সুন্দর করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যা যা করার তাই করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সময় এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোট ছিল, সেই ভুয়া ভোট যাতে না হয়, সে জন্য বায়োমেট্রিক ফটোআইডি, ফটোযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, কেউ যাতে আগে বাক্সে ব্যালট ঢুকাতে না পারে, সেই জন্য স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আর অত্যন্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া যত ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, স্বচ্ছ-সুন্দর করা হয়েছে। ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ওয়েস্টমিনস্টারে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সেটিতে আমরা বিশ্বাস করি। ওয়েস্টমিনস্টারের মতোই আমিও আমার দেশে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছি। ব্রিটিশ এ সিস্টেম অনুসরণ করে বাংলাদেশে প্রতি বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর চালু করেছি। রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসন আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগদান করায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন জেমস ক্লেভারলি। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এ দেশে থাকেন। এরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে জেমস ক্লেভারলি বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ব্যবসাবাণিজ্য সব দিক থেকে আমাদের সম্পর্ক বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সেই সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথম জেল থেকে বের হয়ে এই লন্ডনে এসেছিলেন। তখন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আর সেই থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, রানি সবসময় তার এবং তার ছোট বোনের (শেখ রেহানা) খোঁজখবর রাখতেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানান, শুক্রবার ‘কমনওয়েলথ লিডার্স ইভেন্টে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাজা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান। আবদুল মোমেন জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, নির্যাতিত লোকদের সাহায্য করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। ব্রিটিশমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। আগামীতেও তারা এ সমস্যা যাতে তাড়াতাড়ি সমাধান হয়, সেই জন্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রিফিংয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজুলেশন আনে। তারা এই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এই রেজুলেশন তখন পাশও হয়।

post
বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অধিকাংশই স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত ছিলেন না: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে কতজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যে নেতৃত্ব আছে তাদের অধিকাংশই স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে আমাদের দিকে আঙুল তোলেন।বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক মন্ত্রী বাবু সুনীল কুমার গুপ্তের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি দেখিয়ে দিতেন পারবেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা আছেন তাদের কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? আমাদের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটি রয়েছে, আমাদের সঙ্গে যারা আছেন তাদের অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।’‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেক পুরোনো। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এই দলের প্রতিষ্ঠাতা। তাকেও আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে দিয়েছে। কারণ তার চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা এসেছেন তার সঙ্গে মিল ছিল না। আজকের যে আওয়ামী লীগ, পরবর্তীতে যারা নেতৃত্বে এসেছিলেন, তাদের সঙ্গে আজকের নেতৃত্বের তেমন একটা মিল আছে বলে আমি মনে করি না’- বলেন ফখরুল।বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‌‘গতকাল ওয়াশিংটনে বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনোমতেই স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। আমিও একই কথা বলি। কোনোমতেই স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, লজ্জাজনকভাবে আজকে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই সরকার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’তিন বলেন, ‘আজকে যখন সব মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তখন তারা বলছে এই আইন বাতিল করা হবে না। কেন হবে না? তাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য।’এই সরকার জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.