post
বাংলাদেশ

৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ; রাজস্ব আদায়ে বড় চ্যালেঞ্জ; চাপে পড়বে অর্থনীতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে রাজস্ব আদায়ে। এর মধ্যেই এই খাতে আগামী বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে মোটা অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইএমএফ-এর শর্ত পূরণ করতে গিয়েই মূলত সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। যদি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কম হয়, সেক্ষেত্রে ব্যয় মেটাতে বেড়ে যাবে সরকারের ব্যাংক ঋণ।এছাড়া আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি, বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ, আয় কমে যাওয়ায় একধরনের অর্থ সংকটে ভুগছে সরকার। এসব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আজ ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করবেন। আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছরের এই বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি এবং (অনুদান ছাড়া) ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেলা ৩টায় বাজেট পেশ করার আগে দিনের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হবে। এটি হবে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের পঞ্চম এবং শেষ বাজেট। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ’। স্মার্ট বাংলাদেশ চারটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছে-স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটটি হবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে প্রথম বাজেট। এর মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে স্মার্ট যুগে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাবেন অর্থমন্ত্রী। যদিও সেখানে পৌঁছতে রয়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা। আগামী বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ খাতে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রাখা হচ্ছে। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থবছরের পুরো সময় থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা। এছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা সমন্বয়ের ঘোষণা থাকতে পারে। তবে বেতনভাতা বাড়ানোর কাজ শুরু হবে বাজেটের পর। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেতন বাড়তে পারে, যা কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে পহেলা জুলাই থেকে। কিন্তু এরপরও সাধারণ মানুষের বড় অংশই মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে আরও পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ, এখনো সহনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি নিত্যপণ্যের দাম। আগামী বাজেটে সবচেয়ে বড় চাপ আইএমএফ-এর ঋণ শর্ত। এই শর্ত পালন করতে গিয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় করতে হবে জনগণের কাছ থেকে। এজন্য চালু করা হবে সর্বজনীন কর-ব্যবস্থা। অর্থাৎ, কমপক্ষে দুই হাজার টাকা কর প্রত্যেককে গুনতে হবে। স্বাভাবিক জীবনযাপনে ৪৪ ধরনের সেবা পেতে এই কর দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে করপোরেট কর কমানো হচ্ছে না এবার। তবে মূল্যস্ফীতি থেকে লাঘব দিতে ব্যক্তি আয়করসীমা তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ধার্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া প্লট, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার খরচ বাড়বে। শঙ্কার জায়গা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে এপ্রিল-এই সময়ে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। এই নেতিবাচক ধারার মধ্যে আগামী অর্থবছরে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বেশি। কিন্তু কোনো কারণে সেটি আদায় সম্ভব না হলে সরকারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে। আর ঋণ বেশি নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম হবে। কারণ, ঋণপ্রবাহ কমবে বেসরকারি খাতে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। এদিকে রাজস্ব আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী বাজেটে করহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যব্যবহার্যসামগ্রী যেমন: প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, টয়লেট টিসু, কলম, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া গৃহস্থালিসামগ্রীর ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালিসামগ্রী উৎপাদনে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। একই হারে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালিসামগ্রী ও তৈজসপত্রের (হাঁড়িপাতিল, থালাবাসন) ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিসু, ন্যাপকিন টিসু, ফেসিয়াল টিসু/পকেট টিসু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিসু পেপারের দাম বাড়তে পারে। শহরে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত বাড়িতে খাবার গরম করতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে থাকে। শুল্ক ফাঁকি রোধে বাজেটে সব ধরনের ওভেন আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়াচ্ছে, মোট করভার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ করছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে। সিলিন্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাজারে সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। এটি অর্জন কঠিন হবে। তবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ। পার্শ্ববর্তী নেপালের চেয়েও কম আদায় হয়। অথচ নেপালের মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়েও কম। আইএমএফ বলেছে, প্রতি অর্থবছরে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ কর আহরণ বাড়াতে হবে। এজন্য আমাদেরও চেষ্টা থাকতে হবে কর আদায় বৃদ্ধির জন্য। এদিকে আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কম নেবে সরকার। চলতি অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আগামী বছর এ খাত থেকে নেওয়া হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কৃচ্ছ সাধনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে আকাশপথে প্রথম শ্রেণিতে বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ হচ্ছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সব ধরনের ভাতা ও আওতা বাড়ছে। এ খাতে বরাদ্দ থাকছে সম্ভাব্য ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে নতুন হচ্ছে-জুলাই থেকে সীমিত আকারে সর্বজনীন পেনশন চালু করা হবে। প্রবাসী, চাকরিজীবী, সাধারণ মানুষসহ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে সীমিত আকারে তা করা হবে-এমনটি ঘোষণা থাকবে বাজেটে। বর্তমানে বৈশ্বিক সংকট চালমান। এর প্রভাবে একধরনের সংকট বিরাজ করছে অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও। এর আগে গেছে কোভিড-১৯ মহামারি। ফলে অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি কালো মেঘ কাটেনি। এরপরও আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জিডিপির প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে-এমনটি ধরে নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। মোট ব্যয় : ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হচ্ছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি এবং মূলধনি ব্যয় ৩৯ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি, বিদেশি ঋণ পরিশোধে ১২ হাজার ৩৭৬ কোটি, অভ্যন্তরীণ ঋণ শোধে ৮২ হাজার কোটি, ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ হাজার ৪২০ কোটি, বিশেষ প্রকল্পে ৭ হাজার ৯৮৬ কোটি, কাবিখাতে ২ হাজার ৮২৮ কোটি, স্কিমে ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ আছে ৫৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। আয় খাত : মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৫০ হাজার এবং বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। মোট করের মধ্যে এনবিআর কর হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি এবং নন এনবিআর ২০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি : মোট ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি এবং (অনুদান ছাড়া) ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। এই অভ্যন্তীরণ খাতের ঋণ আসবে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইএমএফ-এর ঋণের অনেকগুলো সংস্কার কর্মসূচির শর্ত বাংলাদেশকে মানতে হচ্ছে। কিন্তু এসব সংস্কারের কথা বিশেষজ্ঞমহল অনেকদিন থেকেই বলে আসছে। গত কয়েকটি বাজেটেও সরকার এসব সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে। শর্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য বাড়তি রাজস্ব আহরণের প্রস্তাব বাজেটের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হতে পারে। এজন্য শক্ত উদ্যোগ নিলে বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব। আর এনবিআরকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও দক্ষ হতে হবে। সরকার ও সমাজের প্রতিটি অংশের তাদের কাছে প্রাপ্য কর ও ফি পরিশোধে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। কর ও ভ্যাট সম্পর্কিত সব বকেয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভালো আইনজীবী নিয়োগ এবং অনানুষ্ঠানিক মামলা নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রম নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। এবার বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd-এ বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন। এজে/

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আবারও বেড়েছে। গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। ফলে গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের যে তথ্য দিয়েছিল, তা নিরীক্ষিত ছিল না। তাই পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি করে দেওয়া হয়। আবার কিছু ব্যাংকের ঋণ খেলাপি করার উপযুক্ত হলেও তা নিয়মিত দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাই মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে যায়। জানা যায়, গত বছরের মার্চে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। গত মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো এখন নিজেই নিজেদের ঋণ পুনঃতফসিল করছে। ফলে ব্যাংক চাইলেই খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। তাই খেলাপি ঋণের এ তথ্য প্রকৃত চিত্র নয়। বাস্তবে খেলাপি ঋণ আরও বেশি হতে পারে। অনেক ব্যাংক ঋণ আদায় করতে না পেরে তারল্য–সংকটে ভুগছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে তা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। কারণ, আইএমএফ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও আদালতের আদেশে খেলাপি স্থগিতাদেশ থাকা ঋণকেও খেলাপি দেখানোর পক্ষে।

post
বাংলাদেশ

গাজীপুরের নির্বাচনে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জানা গেল ২২০ কেন্দ্রের ফলাফলে যিনি এগিয়ে

গাজীপুর সিটির নির্বাচনে ৪৮০ কেন্দ্রের মধ্যে ২২০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফল ঘোষণা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ ফল জানানো হয়। এতে দেখা যায়, নৌকা মার্কার প্রার্থী আজমত উল্লা খান পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৪৬ ভোট। আর টেবিল ঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৮৩ ভোট। গাজীপুর জেলা পরিষদের ভবনের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে এ নির্বাচনের ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন পুরুষ, ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন নারী ও ১৮ জন হিজড়া। এই সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড আছে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি, মোট ভোটকক্ষ ৩ হাজার ৪৯৭টি।নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা হলেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান, টেবিলঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন (সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা), লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ, মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রশীদ ও হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভোটে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কোনো বাংলাদেশিকে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি নতুন ভিসানীতি করেছে দেশটি। তবে এ ভিসানীতি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি নিয়ে বুধবার রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। এটি নিয়ে বিএনপির চিন্তার কারণ আছে। কারণ নির্বাচনের আগে বা পরে কোনো নৃশংসতা হলেও ভিসায় বিধিনিষেধ আসতে পারে। তিনি বলেন, নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর বৃহস্পতিবার (২৫ মে) তারা বিস্তারিতভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন। এর আগে বুধবার রাতে বাংলাদেশের জন্য আলাদাভাবে ভিসানীতি ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, এ নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে। এর মধ্যে বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারপন্থি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র গত ৩ মে বাংলাদেশ সরকারকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

post
বাংলাদেশ

মার্কিন ভিসা নীতি যা বললেন নির্বাচন কমিশনার

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতিকে আন্তরাষ্ট্রীয় বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু নির্বাচন করা। আর এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তাঁরা তা করবেন। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেন। এই নীতির আওতায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, কে বাধা দিয়েছে, তা কমিশনের অংশ না। সে বিষয়ে কোনো রাষ্ট্র বা সরকারের সঙ্গে তাদের কী বোঝাপড়া আছে বা কী হবে, তা তারা বলতে পারবে।এদিকে নির্বাচন ভবনে বসে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করে মো. আলমগীর বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি ভালো। এখন পর্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গেই ভোট হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষকেরা প্রথম আড়াই ঘণ্টার যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তাতে ভালোভাবেই ভোট হচ্ছে।’টিভি ক্যামেরা ও ইভিএমে ত্রুটির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম ট্রাবলশুট করার পর ৫ থেকে ১০ মিনিটে ঠিক হয়ে গেছে। আর ইন্টারনেট না থাকার কারণে কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ভোটের পরিস্থিতি আমরা এখান থেকে দেখতে পাইনি। তবে রেকর্ড হচ্ছিল। আজকে ১২টা ক্যামেরা দেখা যায়নি।’

post
বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (২৪ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।ওই অনুষ্ঠান থেকে চট্টগ্রামের ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্পের গ্রাউন্ড ব্রেকিং কাজের উদ্বোধন করেন সেতুমন্ত্রী। ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বের ভারতে যাবেন। এর মধ্যে আমাদের পার্টি টু পার্টি একটি আলোচনা হবে। সেটার জন্য ভারতের বিজেপি থেকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, জুলাই মাসে যাব।এসময় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ এলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে তারা (বিএনপি) নৈরাজ্য করবে, তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে, এটা তাদের পুরোনো স্বভাব। কাজেই যখন যেটাকে মোকাবিলা করতে হয়, সেই পরিস্থিতিই বলে দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কী করতে হবে বা তাদের দায়িত্ব কী। রাজনৈতিক যেকোনো বিষয় আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিরও একটা ভাষা আছে। বিএনপি দু’দিন আগে যে ঘটনা ঘটিয়েছে... রাজশাহীতে তারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তিনি (রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ ওরফে চাঁদ) কোনো সামান্য ব্যক্তি এটা মনে করার কারণ নেই। তিনি বিএনপির জেলা আহ্বায়ক, বিএনপির সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার৷ আমি অবাক হলাম মির্জা ফখরুল, যিনি দলের মহাসচিব, একটা শব্দও করলেন না। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যদি বেগম খালেদা জিয়াকে এমন আক্রমণাত্মক কিছু বলে তখন কী বলবেন? তিনি কোনো বিশেষ ব্যক্তি নন, তিনি জেলার নেতা... এগুলো মানবেন?

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার প্রশংসা, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা

কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল সানি আজ বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। এখানে র‌্যাফেলস টাওয়ারের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে (শেখ হাসিনার) বলেন, তারা (কাতার) বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করে। ‘আমরা চাই আপনি জ্বালানি দিয়ে আমাদের সহায়তা করুন,’ তিনি তার সমকক্ষকে বলেন উদ্ধৃত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বলেন, তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে কাতার বাংলাদেশের জন্য যতটা সম্ভব করবে। ২০২৩ সালের ফিফা বিশ্বকাপের পর কাতারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা সম্পর্কে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের সম্পদ এবং বন্ধু এবং কাতার তাদের যতটা সম্ভব তাদের দেশে রাখবে। পরে কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল কাবি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবস্থানস্থলে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বিষয়ে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রেস ব্রিফিং-এ ড. মোমেন বলেন, শেখ হাসিনা কাতার থেকে বৃহত্তর পরিমাণে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলেছেন। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যমান ১৫-বছরের চুক্তিটি ২০৩২ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, তবে, ২০২৫ সালের পরে বৃহত্তর পরিমাণে জ্বালানি পেতে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে, তিনি বলেন। মোমেন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দরদাম সংক্রান্ত সমস্যা ঠিকঠাক করে অবিলম্বে চুক্তিতে সই করতে বলেছেন। বাংলাদেশকে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বর্ণনা করে এবং যে দেশটি দুঃসময়ে কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছিল উল্লেখ করে, তারা (কাতার) প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তারা কাতারের পক্ষে যত দূর সম্ভব সব ধরনের ছাড় দেয়ার কথা বিবেচনা করবে। এছাড়া র‌্যাফেলস টাওয়ারে কাতার ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে উদ্ধৃত করে মোমেন বলেন, বৈঠকে কাগামে শেখ হাসিনাকে বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনেন এবং তিনি বাংলাদেশ সফর করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে খুব গর্বিত।’ রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং আপনি (শেখ হাসিনা) খুব ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। আমি এটা দেখতে চাই।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী কাগামেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পল কাগামে বলেন, তিনি বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মধ্যে একটি সেতু তৈরি করতে চান, বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপন করতে চান। সম্প্রতি রুয়ান্ডায় একটি বাংলাদেশি কোম্পানির ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা খোলার উল্লেখ কওে প্রেসিডেন্ট তার দেশে বিভিন্ন খাতে আরও বাংলাদেশি বিনিয়োগ আমন্ত্রণ জানান। শেখ হাসিনা পল কাগামের প্রশংসা করে বলেন, তার ভালো নেতৃত্বের কারণে আফ্রিকায় রুয়ান্ডা খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি কাগামেকে বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সমস্যা তৈরি করেছে এবং যা বাংলাদেশ, রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ‘আমরা যদি একে অপরকে সহযোগিতা করি, তবে, আমরা এই ধরণের পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবো,’ তাঁকে উদ্ধৃত করেন বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রশংসা করে কাগামে বলেন, সহযোগিতা জোরদার করার এখনই সময়।

post
বাংলাদেশ

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণ করাই আওয়ামী লীগের এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আবু জাকির ও হারুন উর রশিদ-  বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদলগুলোকে নিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক অথবা নূন্যতম অংশগ্রহণমূলক করাই এখন আওয়ামী লীগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এই বক্তব্যে এখনও অনড় আওয়ামী লীগ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থায় দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে অনাস্থা প্রকাশ করেছে।অন্যদিকে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু দেখতে চায় বিদেশি সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের বর্তমান ও পূর্বে কয়েক বছরের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। গেলো ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পর জাতীয় পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ভাই জি এম কাদের। গেলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করলেও এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হযবরল হতে পারে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ইতিহাসের বড় ঘটনার জন্ম দিতে পারে। সেটা খারাপের দিকেও যেতে পারে আবার ভালোর দিকেও যেতে পারে। তাই এবারের নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কে বেগ পেতে হতে পারে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের অধীনে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি পূরণ না হলে দলটি হরতাল (হরতাল) ও অবরোধের মতো আরও আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে চায় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দল আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার তাদের দাবি না মানলে দলটি হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। গত রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক আলাপচারিতায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আন্দোলন-বিবৃতির প্রতি অসামাজিক অবস্থান ব্যক্ত করেন। কাদের জোর দিয়ে বলেন, এসব দলের নেতাদের বক্তব্য এবং তাদের বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে চরম বৈষম্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কার্যক্রম বা ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগ মাথা ঘামায় না। তার মতে, এই দলগুলোর নেতাদের দেওয়া বক্তব্য এবং তাদের প্রদর্শিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে বৈষম্য আওয়ামী লীগকে তাদের দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ওবায়দুল কাদের দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে তার দল একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নিজস্ব এজেন্ডায় মনোনিবেশ করছে। কাদের বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের উদ্বেগ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের সক্ষমতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক নীতিকে সমুন্নত রাখে এমন পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি তাদের অঙ্গীকার তুলে ধরে।

post
বাংলাদেশ

৪১৫ যাত্রী নিয়ে জেদ্দায় পৌছেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে হজযাত্রার প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ মে) সকাল ৭টায় বিমানটি জেদ্দায় পৌঁছে। এ ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন ৪১৫ জন। রোববার (২১ মে) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শনিবার (২০ মে) দিনগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে।এর আগে রাত সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর কনকোর্স হলে ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, প্রথম দফায় ৪১৫ হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১। রোববার (২১ মে) আরও চারটি ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্য হজযাত্রীদের নিয়ে ঢাকা ছাড়বে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (১৯ মে) রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে হজ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২২ হাজার ২২১ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করতে যাচ্ছেন।এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বহন করবে অর্ধেক। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সৌদিভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইনাস ও সৌদি এয়ারলাইন্স। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন হজ অনুষ্ঠিত হবে।

post
বাংলাদেশ

চলতি হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট রোববার

৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে চলতি হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট রোববার (২১ মে) ভোরে যাত্রা শুরু করবে । এ অবস্থায় হজযাত্রীদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. হজযাত্রীদের জেদ্দা বা মদিনাগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ও সিকিউরিটি চেক-ইন এবং বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন হজক্যাম্প আশকোনা ঢাকায় সম্পন্ন হবে। সুতরাং প্রত্যেক হজযাত্রীকে অবশ্যই নির্ধারিত ফ্লাইটের কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা আগে হজক্যাম্প আশকোনা ঢাকায় যাবতীয় ডকুমেন্টসসহ উপস্থিত হতে হবে। ২. ফিরতি হজ ফ্লাইটের হজযাত্রীকে নির্ধারিত হজ ফ্লাইটের কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা আগে জেদ্দা হজ টার্মিনাল অথবা মদিনা এয়ারপোর্টে উপস্থিত হতে হবে।৩. প্রত্যেক হজযাত্রী ইকোনমি ক্লাসের জন্য সর্বাধিক ২টি ৪৬ কেজি (প্রতি পিস ব্যাগেজের সর্বোচ্চ ওজন ২৫ কেজি) এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। ইনফ্যান্ট বা ২ বছরের নিচের যাত্রী সর্বোচ্চ ১০ কেজি মালামাল পরিবহনের সুবিধা পাবেন। ৪. গোলাকৃতি বা গাঁইট জাতীয় ব্যাগেজ বিমানে পরিবহন করা যাবে না। এ ছাড়া পাটের দড়ি দিয়ে বাঁধা ব্যাগ, কাপড়ে মোড়ানো ব্যাগ বহনে সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ৫. বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক হজযাত্রীকে ঢাকা বা চট্টগ্রাম অথবা সিলেটে আগমনের পর টোকেন প্রদর্শন সাপেক্ষে ৫ লিটার জমজমের পানির ব্যবস্থা করবে। সৌদি কর্তৃপক্ষের নীতিমালা অনুযায়ী হজযাত্রীর ব্যাগেজে পানি বহন করার ক্ষেত্রে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ৬. হাতব্যাগে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার ও গ্যাস জাতীয় বস্তু, অ্যারোসল এবং ১০০ এমএলের বেশি কোনো তরল পদার্থ বহন করা যাবে না এবং কোনো প্রকার খাদ্য সামগ্রী নেওয়া যাবে না। ৭. প্রত্যেক হজযাত্রীকে বহন করা ব্যাগেজের ওপর নাম ও ঠিকানা সংবলিত স্টিকার লাগাতে হবে। যেখানে যাত্রীর নাম, জাতীয়তা, পাসপোর্ট নম্বর, এয়ারলাইন্সের নাম ও ফ্লাইট নম্বর ইংরেজিতে উল্লেখ করতে হবে। ৮. নিরাপত্তাজনিত কারণে হজযাত্রীরা নিজস্ব মালামাল ছাড়া অন্য কারো মালামাল বহন করতে পারবেন না। উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবার হজের খরচ বেশি হওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটা খালি রেখেই হজের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে সরকার। এবার সবচেয়ে বেশি ১৬২টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার যাত্রী নেবে বিমান বাংলাদেশ। এ ছাড়া ৫৩টি ফ্লাইটে ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স নেবে ২০ হাজার এবং ১১৩টি ফ্লাইটে ৪১ হাজার হজ যাত্রী পরিবহন করবে সৌদি এয়ারলাইন্স।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.