post
বাংলাদেশ

দাবি না মানলে রাজপথ উত্তপ্ত হবে - জামায়াত আমির মোহাম্মদ তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত নিরপেক্ষ সরকার। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে হবে। দাবি না মানলে রাজপথ উত্তপ্ত হবে। শনিবার (১০ জুন) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জামায়াত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।দীর্ঘ এক দশক পর রাজধানীতে ইনডোরে (ঘরোয়াভাবে) সমাবেশ করেছে জামায়াত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ, জামায়াত নেতা শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতা এবং ওলামায়ে কেরামের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাতে কিছু মৌখিক শর্তে জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বাইরের খোলা জায়গা এবং ফুটপাতে অসংখ্য নেতাকর্মী জড়ো হন। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি মূল সড়কে গিয়ে ঠেকে। এতে মৎস্য ভবন ক্রসিং থেকে শাহবাগ অভিমুখী সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামী সংগীত পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সমাবেশ ঘিরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করে জনগণের দাবি মেনে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান নির্বাচন। সেটা হতে হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। সেটা করতে হলে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে করতে হবে। কিন্তু এরা (আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে) দিনের ভোট রাতে করে। লজ্জা তো ঈমানের অঙ্গ। কিছুটা তো লজ্জা থাকা উচিত নেতাদের। সুতরাং বলবো, ২০১৪ ও ২০১৮ গেছে যাক। এবার ২০২৪ আর সেভাবে যাবে না। এটা যদি আওয়ামী লীগ বুঝে তাহলে বলবো- আসুন, আলোচনা করুন। এবারের নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সে দাবি আদায়ে যা করা দরকার আমরা তা করবো, ইনশাআল্লাহ্। তিনি বলেন, আজ দেশের শাসকগোষ্ঠী ও সুবিধাভোগী মানুষ সৎ হলে ডোনার দেশ হতাম। কিন্তু সেটা করতে পারিনি। আপনারা না পারলে আমাদের সহযোগিতা করুন। তাহলেই দেশের পরিবর্তন হবে। সব ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ্। এসময় তিনি সমাবেশের অনুমতি দেওয়া ও শেষ পর্যন্ত সহায়তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জামায়াত কখনো বিশৃঙ্খলা করেনি, করে না এবং করবেও না। যদি বিশৃঙ্খলা হয় তবে সেটা বাইরে থেকে কেউ করতে পারে, স্যাবোটেজ। জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস, নাশকতা, বিশৃঙ্খলা এবং হামলায় বিশ্বাস করে না।নায়েবে আমির আরও বলেন, জামায়াত দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সুশৃঙ্খল আদর্শিক দল। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা থাকেন তাদের জামায়াত সম্পর্কে জানতে হবে। আজকে যারা সোনার বাংলা গড়তে ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা ব্যর্থ। সেখানে সোনার বাংলাদেশ ও সোনার নাগরিক তৈরির কাজ করছে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির। যে কারণে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ইভটিজিং, মাদক বা নারী কেলেংকারির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মীর নাম আসে না। কারণ, জামায়াত ও শিবির মডেল সোনার মানুষ তৈরি করে। তাহের দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করে এবং একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে জামায়াত মুক্ত করবে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি এবং একটি নৈতিকতাসম্পন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যারা আমাদের সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করছে তারা জমায়াতের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বরং তাদেরই ক্ষতি হয়েছে। নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে আমরা মুক্তি দিতে বাধ্য করবো, ইনশাআল্লাহ্। আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েমের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। তাদের কাছে গণতন্ত্র কখনোই নিরাপদ ছিলো না। কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায় না, তেমনই ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ সাধু হয় না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব দল যদি রাজপথে সভা-সমাবেশ করতে পারে জামায়াতও করবে। চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রেখেছেন কেন? অধিকার আদায় করতে হলে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল সমাবেশ করবো। বিশৃঙ্খলা জামায়াতের ঐতিহ্যে নেই। সরকার জনগণকে ভয় পেয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে গেছে। তারা মুখে বলে গণতন্ত্র আর ক্ষমতায় গিয়ে বাকশাল কায়েম করে মুখ চেপে ধরে। হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সরকারের সময় প্রায় শেষ। কয়েক মাস বাকি। অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ যত সুন্দর কথা বলুক তাদের বিশ্বাস করা যায় না। জামায়াত আবিষ্কৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা সঠিক। অতীতে তিনটি জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের অধীনে আর নির্বাচন নয়।সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, যারা আমাদের নিষিদ্ধ ও অবৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিহিত করেছেন তারাই আজ আমাদের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কই, আমাদের সমাবেশ থেকে তো একটি ঢিল ছুড়তেও দেখা যায়নি। তাহলে জামায়াতের বিরুদ্ধে সংঘাতের অভিযোগ কেন? সংঘাত-বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের নাম। দেশের ১১টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে আমরা চারটিতে অংশ নিয়েছি। বাকি সব সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই দলকে আপনারা বলেন অবৈধ? আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাধা দেবেন না। বাধা দিলে জাতির চির দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক নেতাকে আওয়ামী লীগ সরকার ফাঁসি কার্যকর করেছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন আমি চিরদিনের জন্য কেয়ারটেকার সরকার চাই। আজকে তিনি কি কথা রেখেছেন? সুতরাং আমাদের আন্দোলন থামানো যায়নি, যাবে না। কেয়ারটেকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আমির মুজিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুর রহমান মুসা, সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর আ. জব্বার, ঢাকা মহানগরীর উত্তরের নায়েবে আমীর গোলাম মোস্তফা, সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিমুদ্দিন মোল্লা, ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন, আবদুল মান্নান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মঞ্জুরুল ইসলামসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৭.৮৮ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটিইএক্সএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছিল। কিন্তু এই বছর এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করে ৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সব দেশ থেকে পোশাক আমদানি কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে তা কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু এরপরেও আগামী আরও কয়েক মাস সেখানে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি কমই থাকতে পারে। তিনি বলেন, 'মার্কিন ক্রেতারা পোশাকের মতো খাতে এখনো কম অর্থ ব্যয় করছেন। তাই আমরা আশা করছি যে আমাদের রপ্তানি ডিসেম্বর নাগাদ স্বাভাবিক হবে।' 'চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি মূল্যমান বিবেচনায় ১৯ শতাংশ এবং আকার বিবেচনায় ৩০ শতাংশ কমেছে', যোগ করেন তিনি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোয় আরও কয়েক মাস এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ওটিইএক্সএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য পোশাক রপ্তানিকারকদের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো করছে। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় পোশাক সামগ্রী রপ্তানিকারক দেশ চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে ৩২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। ভিয়েতনাম থেকে রপ্তানি ২৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ভারত থেকে ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়া থেকে রপ্তানি ২৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। ওটিইএক্সএর তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ২২ দশমিক ১৫ শতাংশ কম।

post
বাংলাদেশ

ঢাকাসহ যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে আজ

ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।বুধবার সকালে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এতে বলা হয়, এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপপ্রবাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে— রাজশাহী, দিনাজপুর, যশোর ও সৈয়দপুর জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। এতে জানানো হয়, ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার, যা দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বইছে। সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৮ শতাংশ। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর বসুন্ধরায় বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু

রাজধানী ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তেলাপোকা মারার স্প্রের বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের অদক্ষ কর্মীদের কারণে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নিহত শিশুরা হলো– শায়েন মোবারত জাহিন (১৫) ও শাহিল মোবারত জায়ান (৯)। তারা দুজনেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় দুই শিশুর মা শারমিন জাহান লিমা ও বাবা মোবারক হোসেন বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।রোববার (৪ জুন) বসুন্ধরা আবাসিকের আই বক্লে এ ঘটনা ঘটে।সোমবার (৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। পুলিশ ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ জুন) বসুন্ধরা আই বক্লের নতুন বাসায় স্প্রে পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের কর্মীরা এসে স্প্রে করে যান। এর দুই দিন পর পরিবারের সদস্যরা বাসায় প্রবেশ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে রোববার ভোরে শাহিল মোবারত জায়ান মারা যায়। এরপর রোববার রাত ১০টায় বড় ছেলে শায়েন মোবারত জাহিন মারা যায়।নিহতের খালা ডা. রওনক জাহান রোজি অভিযোগ করে বলেন, পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের অদক্ষ কর্মীদের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন সঠিক উত্তর পাইনি। এ বিষয়ে ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, দুই শিশু বিষক্রিয়াজনিত কারণে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের মরদহ এখন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি আমরা। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

post
বাংলাদেশ

পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

কয়লা না থাকায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। ডলার-সংকটে বিল বকেয়া থাকায় কয়লা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে। নতুন করে কয়লা এলে চলতি মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার উৎপাদনে ফিরতে পারে।তিন বছর আগে উৎপাদনে আসে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। তারপর এবারই প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। এতে বাড়তে পারে লোডশেডিং। এর আগে ডলার-সংকটে কয়লা কিনতে না পেরে দুই দফায় বন্ধ হয়েছিল বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন উৎপাদনে রয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানায় রয়েছে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসি)। পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলে উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।বিসিপিসির দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে এই কেন্দ্র দিনে গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। কয়লা না থাকায় গত ২৫ মে কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়। এরপর ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাকি ইউনিট থেকে দিনে ৩০০ থেকে ৬২০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। এভাবে ২ জুন পর্যন্ত চালানোর কথা ছিল। তবে উৎপাদন কমিয়ে দুই দিন বাড়তি চালানো হয়। এখন উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, কয়লা আসতে অন্তত ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সে হিসাবে জুনের শেষ সপ্তাহে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। কয়লা আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। ১২ জুন জাহাজে কয়লা তোলার কথা।আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিপিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম। খোরশেদুল আলম বলেন, বকেয়ার ১০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এতে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর আস্থা রেখে কয়লা সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। যত দ্রুত কয়লা আনা যায়, তার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, তিন বছর ধরে পায়রা থেকে বিদ্যুৎ আসছে। আগে এক দিনের জন্যও বিদ্যুৎ আসা বন্ধ হয়নি। দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন অনেক কমে যাবে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হবে। এ কারণে লোডশেডিং বাড়তে পারে। এমনিতেই গ্যাসের অভাবে এখন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখনো ইউরোপের দেশগুলোর মতো দুরবস্থায় পড়েনি

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো ইউরোপের দেশগুলোর মতো দুরবস্থায় পড়েনি, পড়বেও না।রোববার সকালে চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটি রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন। ইউরোপের উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, গত শীতের সময় ইউরোপের দেশগুলো; তারা গরম পানি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ সব কিছু ইলেকট্রিসিটিতে চলে। গরম পানি বন্ধ, হিটিং বন্ধ— এ রকম তাদের দুরবস্থা। এমনকি বাজারে গেলে সীমিতভাবে কিনতে হবে। একটি পরিবার ছয়টির বেশি ডিম কিনতে পারবে না। ১ লিটারের বেশি তেল কিনতে পারবে না, ৩টার বেশি টমেটো কিনতে পারবে না—ঠিক এই অবস্থাটা। বাংলাদেশ এখনো সেই দুরবস্থায় পড়ে নাই, ইনশাআল্লাহ পড়বেও না। তবে সেখানে আমাদের দেশের মানুষকে একটা কাজ করতে হবে, আমি বারবার যেটা বলছি— আমাদের যত অনাবাদি জমি আছে সব জমি চাষ করতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের যত জলাধার আছে সেখানে মাছের চাষ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশে বাজেট দিয়েছি। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বাজেট ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর ১ জুন আমরা যে বাজেট দিয়েছি, সেটি ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট। বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে বড় বাজেট আমরা দিয়েছি। এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমরা তা পারব। আওয়ামী লীগ পারবে। তিনি বলেন, আমি জানি অনেকে অনেক কথাই বলার চেষ্টা করেন; কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে চিনি, জানি, আর এই বাংলাদেশের মানুষের অবস্থাটাও আমাদের জানা। অবশ্য ঢাকা শহরে বসে... আমরা এখন বিদ্যুৎ দিয়েছি, সেখানে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে; আমি এতগুলো টেলিভিশন বেসরকারি খাতে খুলে দিয়েছি, সেখানে বসে টকশোর সুবিধা পাচ্ছেন। ভালোমতো টকশোও দিচ্ছেন এবং আমরা যা কাজ করি, সেখানেই একটা সমালোচনা, সেখানেই একটা কিন্তু খুঁজে বেড়ানো। আর মানুষকে হতাশ করার কতগুলো কথা বলে বেড়ায়। তিনি আরও বলেন, আর বাংলাদেশের বদনাম বিদেশিদের কাছে বলে বলে নিজেরা সেখান থেকে বোধ হয়...কী পায় আমি জানি না। কিছু হাদিয়া-টাদিয়া জোগাড় করে কিনা তাও বলতে পারব না কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলেই তারা যেন তৃপ্তি পায়। যারা এসব বলছেন এবং বাজেট দেওয়ার পরেই তারা প্রতিবারই বলেন, এটা সম্ভব না, এটা করতে পারবে না—আমরা কিন্তু সেটা করি এবং করে দেখাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস এবং বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ। তার ওপর স্যাংশন-কাউন্টার স্যাংশনের ফলে সারা বিশ্বব্যাপী প্রত্যেকটা পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে। আমাদের জ্বালানির মূল্য বেড়েছে, গ্যাসের মূল্য বেড়েছে, খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে, গম-চিনি যা কিছু আমরা কিনতে যাচ্ছি, সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে, পরিবহণ বেড়ে গেছে, সঞ্চালন বেড়ে গেছে। এমনকি বিদেশে আমরা যে ঋণ নিয়েছি, তারা সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আমাদের অর্থনীতির ওপর একটা চাপ আছে। সেটা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নিজেদেরও কিছু উদ্যোগ আছে। তিনি বলেন, আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দেব— প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছিলাম; কিন্তু আজকে সারা বিশ্বব্যাপী গ্যাস-তেল-কয়লা সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়াতে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। টাকা দিয়েও কেনা যাচ্ছে না এ রকমই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। যার জন্য... আমি জানি, এই গরমে মানুষের একটু কষ্ট হচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি আর অপরদিকে এখন বিদ্যুৎ নেই— এই দুটি কষ্ট আমার দেশের মানুষ পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর একবার যদি পাংখায় বাতাস খাওয়ার অভ্যাস হয়ে যায় তারপরে না পেলে তো আরও কষ্ট হয়! এটাও তো বাস্তব কথা। অভ্যাস হয়ে গেছে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু যুদ্ধটা যদি না বাধতো আর স্যাংশন যদি না থাকত তাহলে আমাদের কোনো অসুবিধাই হতো না। আমরা ঠিকই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। আজকে যুদ্ধের কারণেই কিন্তু সারা বিশ্বব্যাপী...প্রত্যেকটা দেশই কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র – যুগান্তরের অন্যতম শিরোনাম এটি। খবরে বলা হয় আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা সংকটে ২৫ মে এর একটি ইউনিট বন্ধ হয়েছিল। কয়লার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট ইউনিটও বন্ধ হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকেও সমাধান মেলেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ডলার সংকটে বিদেশ থেকে কয়লা আনা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে কয়লা এনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল রাখা হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটির দেনা প্রায় ৩৬ কোটি ডলার। এই বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন করে কয়লা আনা সম্ভব হবে না। এই গরমে লোডশেডিং চরমে - দেশ রুপান্তরের শিরোনাম। খবরে বলা হয় টানা চার দিন ধরে বাড়ছে তাপমাত্রা। গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন সে তুলনায় না বাড়ায় লোডশেডিং ক্রমে বাড়ছে। আগে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং তেমন না হলেও এখন বিভিন্ন এলাকায় চার-পাঁচবার করে পাঁচ-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ঢাকার বাইরের শহরে এবং গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাজেট নিয়ে গতকাল দুটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। একটি আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়, আর অন্যটি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। এ দুটি সংবাদ সম্মেলনের খবর ঘিরেই প্রধান শিরোনাম করেছে সংবাদপত্রগুলো। দৈনিক যুগান্তর তাদের প্রথম পাতায় পাশাপাশি দুটি শিরোনাম করেছে এই দুই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে। একটা হল আইএমএফের পরামর্শ নেই - বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী। যেখানে বলা হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেটে আইএমএফকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই-আইএমএফ’র পরামর্শে বাজেট দেওয়া হয়নি। সার্বিকভাবে তারা পরামর্শ দিয়েছে। তবে যেটুকু গ্রহণযোগ্য তা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিপিডির বাজেট মূল্যায়ন ঘিরে যুগান্তরের শিরোনাম আইএমএফের শর্তের প্রতিফলন রয়েছে। এখানে বলা হয় বাজেটে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।Budget not shaped under IMF conditions: govt অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের প্রধান শিরোনাম এটি। শুক্রবার অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের কোন শর্ত মেনে বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি। তবে খবরে বলা হয় এই বাজেটের অনেক প্রস্তাবই সরাসরি ৪.৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণের সাথে সম্পর্কিত। আইএমএফের শর্ত মেনে বাজেট নয়, তবে তাদের পরামর্শ ভালো : অর্থমন্ত্রী – এমন শিরোনাম দৈনিক সংবাদের। তাদের খবরে বলা হয় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের শর্ত বা পরামর্শের কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে আইএমএফের তদারকি বা পরামর্শ ‘ভালো’ বলেই মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।সূত্র - বিবিসি

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে চলমান তাপপ্রবাহ আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে

দেশের ওপর দিয়ে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি হলেও তা পরিমাণে খুব কম হবে। ফলে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।'আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুএক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, রাজশাহী, দিনাজপুর, নীলফামারী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা ও বরিশাল বিভাগসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাকি অংশ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। সিলেটে সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

post
বাংলাদেশ

২০২৩-২৪ বাজেট : দাম বাড়ছে ও দাম কমছে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। এ বাজেটে মোটা দাগে করহার বাড়ানো হচ্ছে। ফলে অনেক নিত্যব্যবহার্য জিনিস যেমন: প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, টয়লেট টিস্যু, কলম, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে বাড়বে অনেক পণ্যের দাম, কমতেও পারে কিছু। দেখে নেওয়া যাক যেসব পণ্যের দাম বাড়তে-কমতে পারে।দাম বাড়বেমোবাইল ফোন: স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজন পর্যায়ে মোবাইল ফোনের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। তাই মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে।এলপি গ্যাস: উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিলিন্ডার বানানোর কাজে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ হয়েছে। এ কারণে এলপি গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।কলম: কলম উৎপাদনে বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতি ছিল, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হয়েছে। এতে শিক্ষা উপকরণ কলমের দাম বাড়তে পারে।চশমার ফ্রেম: চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। তাই বাড়তে পারে চশমার ফ্রেমের দামও।সাইকেল: সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তাই সাইকেলের দাম বাড়তে পারে।প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র: বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র উৎপাদনে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে তৈজসপত্রের দাম বাড়তে পারে।টিস্যু পেপার: কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু/পকেট টিস্যু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিস্যু পেপারের দাম বাড়তে পারে।মাইক্রোওয়েভ ওভেন: শুল্ক ফাঁকি রোধে মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমদানির শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে।বাসমতি চাল: নন ফর্টিফাইড বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানো হয়েছে। এতে এই চালের দাম বাড়তে পারে।খেজুর: শুল্ক-ফাঁকি রোধে তাজা ও শুকনো খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে খেজুরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কাজুবাদাম: স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। এছাড়াও ফল-বাদাম আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।সিগারেট: এবারও সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। কাজেই সব ধরনের সিগারেটের দামই বাড়তে পারে।সিমেন্ট: সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আছে। এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে বিধায় সিমেন্টের দাম বাড়তে পারে।এছাড়াও দাম বাড়তে পারে শিরিষ কাগজ, আঠা বা গ্লু, মাছের টুকরা, চিজ ও দই, চা-কফিমেট, গ্যাস লাইটার প্রভৃতি পণ্যের।দাম কমবেমিষ্টি: বিপণন পর্যায়ে মিষ্টিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। এটি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করায় মিষ্টির দাম কমতে পারে।কীটনাশক: কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক, বালাইনাশক ও আগাছানাশকের দাম কমতে পারে। কারণ এসব উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।স্প্রেয়ার মেশিন: কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ড্রায়ার, স্প্রেয়ার মেশিনে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

post
বাংলাদেশ

করযোগ্য আয় নেই তবুও দিতে হবে ন্যূনতম ২ হাজার কর : অর্থমন্ত্রী

আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন অথচ করযোগ্য আয় নেই—এমন ব্যক্তিদের ওপর ন্যূনতম কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেছেন।  এই প্রস্তাব পাস হলে করমুক্ত আয়সীমার নিচে আয় থাকলেও নির্ধারিত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) ধারীদের রিটার্ন দাখিলে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে।এর আগে দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২৩তম ও বাংলাদেশের ৫২ তম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেট ২৬ জুন অনুমোদন হবে আর ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হবে।২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বিশাল এ বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.