post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখনো ইউরোপের দেশগুলোর মতো দুরবস্থায় পড়েনি

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো ইউরোপের দেশগুলোর মতো দুরবস্থায় পড়েনি, পড়বেও না।রোববার সকালে চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটি রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন। ইউরোপের উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, গত শীতের সময় ইউরোপের দেশগুলো; তারা গরম পানি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ সব কিছু ইলেকট্রিসিটিতে চলে। গরম পানি বন্ধ, হিটিং বন্ধ— এ রকম তাদের দুরবস্থা। এমনকি বাজারে গেলে সীমিতভাবে কিনতে হবে। একটি পরিবার ছয়টির বেশি ডিম কিনতে পারবে না। ১ লিটারের বেশি তেল কিনতে পারবে না, ৩টার বেশি টমেটো কিনতে পারবে না—ঠিক এই অবস্থাটা। বাংলাদেশ এখনো সেই দুরবস্থায় পড়ে নাই, ইনশাআল্লাহ পড়বেও না। তবে সেখানে আমাদের দেশের মানুষকে একটা কাজ করতে হবে, আমি বারবার যেটা বলছি— আমাদের যত অনাবাদি জমি আছে সব জমি চাষ করতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের যত জলাধার আছে সেখানে মাছের চাষ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশে বাজেট দিয়েছি। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বাজেট ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর ১ জুন আমরা যে বাজেট দিয়েছি, সেটি ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট। বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে বড় বাজেট আমরা দিয়েছি। এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমরা তা পারব। আওয়ামী লীগ পারবে। তিনি বলেন, আমি জানি অনেকে অনেক কথাই বলার চেষ্টা করেন; কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে চিনি, জানি, আর এই বাংলাদেশের মানুষের অবস্থাটাও আমাদের জানা। অবশ্য ঢাকা শহরে বসে... আমরা এখন বিদ্যুৎ দিয়েছি, সেখানে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে; আমি এতগুলো টেলিভিশন বেসরকারি খাতে খুলে দিয়েছি, সেখানে বসে টকশোর সুবিধা পাচ্ছেন। ভালোমতো টকশোও দিচ্ছেন এবং আমরা যা কাজ করি, সেখানেই একটা সমালোচনা, সেখানেই একটা কিন্তু খুঁজে বেড়ানো। আর মানুষকে হতাশ করার কতগুলো কথা বলে বেড়ায়। তিনি আরও বলেন, আর বাংলাদেশের বদনাম বিদেশিদের কাছে বলে বলে নিজেরা সেখান থেকে বোধ হয়...কী পায় আমি জানি না। কিছু হাদিয়া-টাদিয়া জোগাড় করে কিনা তাও বলতে পারব না কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলেই তারা যেন তৃপ্তি পায়। যারা এসব বলছেন এবং বাজেট দেওয়ার পরেই তারা প্রতিবারই বলেন, এটা সম্ভব না, এটা করতে পারবে না—আমরা কিন্তু সেটা করি এবং করে দেখাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস এবং বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ। তার ওপর স্যাংশন-কাউন্টার স্যাংশনের ফলে সারা বিশ্বব্যাপী প্রত্যেকটা পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে। আমাদের জ্বালানির মূল্য বেড়েছে, গ্যাসের মূল্য বেড়েছে, খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে, গম-চিনি যা কিছু আমরা কিনতে যাচ্ছি, সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে, পরিবহণ বেড়ে গেছে, সঞ্চালন বেড়ে গেছে। এমনকি বিদেশে আমরা যে ঋণ নিয়েছি, তারা সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আমাদের অর্থনীতির ওপর একটা চাপ আছে। সেটা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নিজেদেরও কিছু উদ্যোগ আছে। তিনি বলেন, আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দেব— প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছিলাম; কিন্তু আজকে সারা বিশ্বব্যাপী গ্যাস-তেল-কয়লা সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়াতে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। টাকা দিয়েও কেনা যাচ্ছে না এ রকমই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। যার জন্য... আমি জানি, এই গরমে মানুষের একটু কষ্ট হচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি আর অপরদিকে এখন বিদ্যুৎ নেই— এই দুটি কষ্ট আমার দেশের মানুষ পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর একবার যদি পাংখায় বাতাস খাওয়ার অভ্যাস হয়ে যায় তারপরে না পেলে তো আরও কষ্ট হয়! এটাও তো বাস্তব কথা। অভ্যাস হয়ে গেছে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু যুদ্ধটা যদি না বাধতো আর স্যাংশন যদি না থাকত তাহলে আমাদের কোনো অসুবিধাই হতো না। আমরা ঠিকই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। আজকে যুদ্ধের কারণেই কিন্তু সারা বিশ্বব্যাপী...প্রত্যেকটা দেশই কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র – যুগান্তরের অন্যতম শিরোনাম এটি। খবরে বলা হয় আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা সংকটে ২৫ মে এর একটি ইউনিট বন্ধ হয়েছিল। কয়লার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট ইউনিটও বন্ধ হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকেও সমাধান মেলেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ডলার সংকটে বিদেশ থেকে কয়লা আনা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে কয়লা এনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল রাখা হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটির দেনা প্রায় ৩৬ কোটি ডলার। এই বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন করে কয়লা আনা সম্ভব হবে না। এই গরমে লোডশেডিং চরমে - দেশ রুপান্তরের শিরোনাম। খবরে বলা হয় টানা চার দিন ধরে বাড়ছে তাপমাত্রা। গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন সে তুলনায় না বাড়ায় লোডশেডিং ক্রমে বাড়ছে। আগে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং তেমন না হলেও এখন বিভিন্ন এলাকায় চার-পাঁচবার করে পাঁচ-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ঢাকার বাইরের শহরে এবং গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাজেট নিয়ে গতকাল দুটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। একটি আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়, আর অন্যটি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। এ দুটি সংবাদ সম্মেলনের খবর ঘিরেই প্রধান শিরোনাম করেছে সংবাদপত্রগুলো। দৈনিক যুগান্তর তাদের প্রথম পাতায় পাশাপাশি দুটি শিরোনাম করেছে এই দুই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে। একটা হল আইএমএফের পরামর্শ নেই - বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী। যেখানে বলা হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেটে আইএমএফকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই-আইএমএফ’র পরামর্শে বাজেট দেওয়া হয়নি। সার্বিকভাবে তারা পরামর্শ দিয়েছে। তবে যেটুকু গ্রহণযোগ্য তা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিপিডির বাজেট মূল্যায়ন ঘিরে যুগান্তরের শিরোনাম আইএমএফের শর্তের প্রতিফলন রয়েছে। এখানে বলা হয় বাজেটে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।Budget not shaped under IMF conditions: govt অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের প্রধান শিরোনাম এটি। শুক্রবার অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের কোন শর্ত মেনে বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি। তবে খবরে বলা হয় এই বাজেটের অনেক প্রস্তাবই সরাসরি ৪.৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণের সাথে সম্পর্কিত। আইএমএফের শর্ত মেনে বাজেট নয়, তবে তাদের পরামর্শ ভালো : অর্থমন্ত্রী – এমন শিরোনাম দৈনিক সংবাদের। তাদের খবরে বলা হয় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের শর্ত বা পরামর্শের কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে আইএমএফের তদারকি বা পরামর্শ ‘ভালো’ বলেই মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।সূত্র - বিবিসি

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে চলমান তাপপ্রবাহ আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে

দেশের ওপর দিয়ে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি হলেও তা পরিমাণে খুব কম হবে। ফলে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।'আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুএক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, রাজশাহী, দিনাজপুর, নীলফামারী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা ও বরিশাল বিভাগসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাকি অংশ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। সিলেটে সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

post
বাংলাদেশ

২০২৩-২৪ বাজেট : দাম বাড়ছে ও দাম কমছে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। এ বাজেটে মোটা দাগে করহার বাড়ানো হচ্ছে। ফলে অনেক নিত্যব্যবহার্য জিনিস যেমন: প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, টয়লেট টিস্যু, কলম, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে বাড়বে অনেক পণ্যের দাম, কমতেও পারে কিছু। দেখে নেওয়া যাক যেসব পণ্যের দাম বাড়তে-কমতে পারে।দাম বাড়বেমোবাইল ফোন: স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজন পর্যায়ে মোবাইল ফোনের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। তাই মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে।এলপি গ্যাস: উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিলিন্ডার বানানোর কাজে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ হয়েছে। এ কারণে এলপি গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।কলম: কলম উৎপাদনে বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতি ছিল, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হয়েছে। এতে শিক্ষা উপকরণ কলমের দাম বাড়তে পারে।চশমার ফ্রেম: চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। তাই বাড়তে পারে চশমার ফ্রেমের দামও।সাইকেল: সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তাই সাইকেলের দাম বাড়তে পারে।প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র: বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র উৎপাদনে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে তৈজসপত্রের দাম বাড়তে পারে।টিস্যু পেপার: কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু/পকেট টিস্যু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিস্যু পেপারের দাম বাড়তে পারে।মাইক্রোওয়েভ ওভেন: শুল্ক ফাঁকি রোধে মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমদানির শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে।বাসমতি চাল: নন ফর্টিফাইড বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানো হয়েছে। এতে এই চালের দাম বাড়তে পারে।খেজুর: শুল্ক-ফাঁকি রোধে তাজা ও শুকনো খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে খেজুরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কাজুবাদাম: স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। এছাড়াও ফল-বাদাম আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।সিগারেট: এবারও সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। কাজেই সব ধরনের সিগারেটের দামই বাড়তে পারে।সিমেন্ট: সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আছে। এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে বিধায় সিমেন্টের দাম বাড়তে পারে।এছাড়াও দাম বাড়তে পারে শিরিষ কাগজ, আঠা বা গ্লু, মাছের টুকরা, চিজ ও দই, চা-কফিমেট, গ্যাস লাইটার প্রভৃতি পণ্যের।দাম কমবেমিষ্টি: বিপণন পর্যায়ে মিষ্টিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। এটি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করায় মিষ্টির দাম কমতে পারে।কীটনাশক: কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক, বালাইনাশক ও আগাছানাশকের দাম কমতে পারে। কারণ এসব উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।স্প্রেয়ার মেশিন: কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ড্রায়ার, স্প্রেয়ার মেশিনে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

post
বাংলাদেশ

করযোগ্য আয় নেই তবুও দিতে হবে ন্যূনতম ২ হাজার কর : অর্থমন্ত্রী

আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন অথচ করযোগ্য আয় নেই—এমন ব্যক্তিদের ওপর ন্যূনতম কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেছেন।  এই প্রস্তাব পাস হলে করমুক্ত আয়সীমার নিচে আয় থাকলেও নির্ধারিত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) ধারীদের রিটার্ন দাখিলে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে।এর আগে দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২৩তম ও বাংলাদেশের ৫২ তম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেট ২৬ জুন অনুমোদন হবে আর ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হবে।২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বিশাল এ বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।

post
বাংলাদেশ

৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ; রাজস্ব আদায়ে বড় চ্যালেঞ্জ; চাপে পড়বে অর্থনীতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে রাজস্ব আদায়ে। এর মধ্যেই এই খাতে আগামী বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে মোটা অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইএমএফ-এর শর্ত পূরণ করতে গিয়েই মূলত সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। যদি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কম হয়, সেক্ষেত্রে ব্যয় মেটাতে বেড়ে যাবে সরকারের ব্যাংক ঋণ।এছাড়া আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি, বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ, আয় কমে যাওয়ায় একধরনের অর্থ সংকটে ভুগছে সরকার। এসব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আজ ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করবেন। আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছরের এই বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি এবং (অনুদান ছাড়া) ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেলা ৩টায় বাজেট পেশ করার আগে দিনের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হবে। এটি হবে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের পঞ্চম এবং শেষ বাজেট। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ’। স্মার্ট বাংলাদেশ চারটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছে-স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটটি হবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে প্রথম বাজেট। এর মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে স্মার্ট যুগে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাবেন অর্থমন্ত্রী। যদিও সেখানে পৌঁছতে রয়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা। আগামী বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ খাতে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রাখা হচ্ছে। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থবছরের পুরো সময় থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা। এছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা সমন্বয়ের ঘোষণা থাকতে পারে। তবে বেতনভাতা বাড়ানোর কাজ শুরু হবে বাজেটের পর। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেতন বাড়তে পারে, যা কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে পহেলা জুলাই থেকে। কিন্তু এরপরও সাধারণ মানুষের বড় অংশই মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে আরও পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ, এখনো সহনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি নিত্যপণ্যের দাম। আগামী বাজেটে সবচেয়ে বড় চাপ আইএমএফ-এর ঋণ শর্ত। এই শর্ত পালন করতে গিয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় করতে হবে জনগণের কাছ থেকে। এজন্য চালু করা হবে সর্বজনীন কর-ব্যবস্থা। অর্থাৎ, কমপক্ষে দুই হাজার টাকা কর প্রত্যেককে গুনতে হবে। স্বাভাবিক জীবনযাপনে ৪৪ ধরনের সেবা পেতে এই কর দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে করপোরেট কর কমানো হচ্ছে না এবার। তবে মূল্যস্ফীতি থেকে লাঘব দিতে ব্যক্তি আয়করসীমা তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ধার্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া প্লট, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার খরচ বাড়বে। শঙ্কার জায়গা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে এপ্রিল-এই সময়ে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। এই নেতিবাচক ধারার মধ্যে আগামী অর্থবছরে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বেশি। কিন্তু কোনো কারণে সেটি আদায় সম্ভব না হলে সরকারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে। আর ঋণ বেশি নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম হবে। কারণ, ঋণপ্রবাহ কমবে বেসরকারি খাতে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। এদিকে রাজস্ব আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী বাজেটে করহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যব্যবহার্যসামগ্রী যেমন: প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, টয়লেট টিসু, কলম, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া গৃহস্থালিসামগ্রীর ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালিসামগ্রী উৎপাদনে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। একই হারে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালিসামগ্রী ও তৈজসপত্রের (হাঁড়িপাতিল, থালাবাসন) ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিসু, ন্যাপকিন টিসু, ফেসিয়াল টিসু/পকেট টিসু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিসু পেপারের দাম বাড়তে পারে। শহরে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত বাড়িতে খাবার গরম করতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে থাকে। শুল্ক ফাঁকি রোধে বাজেটে সব ধরনের ওভেন আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়াচ্ছে, মোট করভার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ করছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে। সিলিন্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাজারে সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। এটি অর্জন কঠিন হবে। তবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ। পার্শ্ববর্তী নেপালের চেয়েও কম আদায় হয়। অথচ নেপালের মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়েও কম। আইএমএফ বলেছে, প্রতি অর্থবছরে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ কর আহরণ বাড়াতে হবে। এজন্য আমাদেরও চেষ্টা থাকতে হবে কর আদায় বৃদ্ধির জন্য। এদিকে আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কম নেবে সরকার। চলতি অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আগামী বছর এ খাত থেকে নেওয়া হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কৃচ্ছ সাধনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে আকাশপথে প্রথম শ্রেণিতে বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ হচ্ছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সব ধরনের ভাতা ও আওতা বাড়ছে। এ খাতে বরাদ্দ থাকছে সম্ভাব্য ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে নতুন হচ্ছে-জুলাই থেকে সীমিত আকারে সর্বজনীন পেনশন চালু করা হবে। প্রবাসী, চাকরিজীবী, সাধারণ মানুষসহ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে সীমিত আকারে তা করা হবে-এমনটি ঘোষণা থাকবে বাজেটে। বর্তমানে বৈশ্বিক সংকট চালমান। এর প্রভাবে একধরনের সংকট বিরাজ করছে অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও। এর আগে গেছে কোভিড-১৯ মহামারি। ফলে অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি কালো মেঘ কাটেনি। এরপরও আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জিডিপির প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে-এমনটি ধরে নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। মোট ব্যয় : ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হচ্ছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি এবং মূলধনি ব্যয় ৩৯ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি, বিদেশি ঋণ পরিশোধে ১২ হাজার ৩৭৬ কোটি, অভ্যন্তরীণ ঋণ শোধে ৮২ হাজার কোটি, ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ হাজার ৪২০ কোটি, বিশেষ প্রকল্পে ৭ হাজার ৯৮৬ কোটি, কাবিখাতে ২ হাজার ৮২৮ কোটি, স্কিমে ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ আছে ৫৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। আয় খাত : মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৫০ হাজার এবং বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। মোট করের মধ্যে এনবিআর কর হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি এবং নন এনবিআর ২০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি : মোট ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি এবং (অনুদান ছাড়া) ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। এই অভ্যন্তীরণ খাতের ঋণ আসবে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইএমএফ-এর ঋণের অনেকগুলো সংস্কার কর্মসূচির শর্ত বাংলাদেশকে মানতে হচ্ছে। কিন্তু এসব সংস্কারের কথা বিশেষজ্ঞমহল অনেকদিন থেকেই বলে আসছে। গত কয়েকটি বাজেটেও সরকার এসব সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে। শর্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য বাড়তি রাজস্ব আহরণের প্রস্তাব বাজেটের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হতে পারে। এজন্য শক্ত উদ্যোগ নিলে বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব। আর এনবিআরকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও দক্ষ হতে হবে। সরকার ও সমাজের প্রতিটি অংশের তাদের কাছে প্রাপ্য কর ও ফি পরিশোধে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। কর ও ভ্যাট সম্পর্কিত সব বকেয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভালো আইনজীবী নিয়োগ এবং অনানুষ্ঠানিক মামলা নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রম নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। এবার বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd-এ বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন। এজে/

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আবারও বেড়েছে। গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। ফলে গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের যে তথ্য দিয়েছিল, তা নিরীক্ষিত ছিল না। তাই পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি করে দেওয়া হয়। আবার কিছু ব্যাংকের ঋণ খেলাপি করার উপযুক্ত হলেও তা নিয়মিত দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাই মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে যায়। জানা যায়, গত বছরের মার্চে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। গত মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো এখন নিজেই নিজেদের ঋণ পুনঃতফসিল করছে। ফলে ব্যাংক চাইলেই খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। তাই খেলাপি ঋণের এ তথ্য প্রকৃত চিত্র নয়। বাস্তবে খেলাপি ঋণ আরও বেশি হতে পারে। অনেক ব্যাংক ঋণ আদায় করতে না পেরে তারল্য–সংকটে ভুগছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে তা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। কারণ, আইএমএফ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও আদালতের আদেশে খেলাপি স্থগিতাদেশ থাকা ঋণকেও খেলাপি দেখানোর পক্ষে।

post
বাংলাদেশ

গাজীপুরের নির্বাচনে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জানা গেল ২২০ কেন্দ্রের ফলাফলে যিনি এগিয়ে

গাজীপুর সিটির নির্বাচনে ৪৮০ কেন্দ্রের মধ্যে ২২০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফল ঘোষণা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ ফল জানানো হয়। এতে দেখা যায়, নৌকা মার্কার প্রার্থী আজমত উল্লা খান পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৪৬ ভোট। আর টেবিল ঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৮৩ ভোট। গাজীপুর জেলা পরিষদের ভবনের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে এ নির্বাচনের ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন পুরুষ, ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন নারী ও ১৮ জন হিজড়া। এই সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড আছে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি, মোট ভোটকক্ষ ৩ হাজার ৪৯৭টি।নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা হলেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান, টেবিলঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন (সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা), লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ, মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রশীদ ও হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভোটে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কোনো বাংলাদেশিকে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি নতুন ভিসানীতি করেছে দেশটি। তবে এ ভিসানীতি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি নিয়ে বুধবার রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। এটি নিয়ে বিএনপির চিন্তার কারণ আছে। কারণ নির্বাচনের আগে বা পরে কোনো নৃশংসতা হলেও ভিসায় বিধিনিষেধ আসতে পারে। তিনি বলেন, নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর বৃহস্পতিবার (২৫ মে) তারা বিস্তারিতভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন। এর আগে বুধবার রাতে বাংলাদেশের জন্য আলাদাভাবে ভিসানীতি ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, এ নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে। এর মধ্যে বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারপন্থি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র গত ৩ মে বাংলাদেশ সরকারকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

post
বাংলাদেশ

মার্কিন ভিসা নীতি যা বললেন নির্বাচন কমিশনার

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতিকে আন্তরাষ্ট্রীয় বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু নির্বাচন করা। আর এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তাঁরা তা করবেন। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেন। এই নীতির আওতায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, কে বাধা দিয়েছে, তা কমিশনের অংশ না। সে বিষয়ে কোনো রাষ্ট্র বা সরকারের সঙ্গে তাদের কী বোঝাপড়া আছে বা কী হবে, তা তারা বলতে পারবে।এদিকে নির্বাচন ভবনে বসে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করে মো. আলমগীর বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি ভালো। এখন পর্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গেই ভোট হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষকেরা প্রথম আড়াই ঘণ্টার যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তাতে ভালোভাবেই ভোট হচ্ছে।’টিভি ক্যামেরা ও ইভিএমে ত্রুটির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম ট্রাবলশুট করার পর ৫ থেকে ১০ মিনিটে ঠিক হয়ে গেছে। আর ইন্টারনেট না থাকার কারণে কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ভোটের পরিস্থিতি আমরা এখান থেকে দেখতে পাইনি। তবে রেকর্ড হচ্ছিল। আজকে ১২টা ক্যামেরা দেখা যায়নি।’

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.