post
বাংলাদেশ

সুদানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৩৬ জন দেশে ফিরেছেন

ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বে যুদ্ধ শুরুর পরে সুদানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৩৬ জন দেশে ফিরেছেন। আজ সোমবার সকালে তারা হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, বাকিদেরও শিগগির দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, 'এয়ার ফোর্স ওখানে ৩টি প্লেন রেডি করে দিয়েছিল, আপনারা রেডি হলেই আমরা প্লেন ছাড়তে পারব। ওখানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। আজকে আসার কথা ছিল ২৫০ জন আর আপনারা আসতে পেরেছেন ১৩৬ জন।' 'প্রথম তালিকা ছিল ৫০০ জনের, এরপর হয়ে গেল ৪০০ জন। এদের সবাইকে যে আমরা ইমিডিয়েট আনতে পারিনি এটার জন্য আমি দুঃখিত। আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন এদের আমরা অতি সত্ত্বর নিয়ে আসব,' বলেন ইমরান আহমদ। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, 'আপনারা সব কিছু হারিয়েছেন। দেশে দিয়েছেন কিন্তু ওখান থেকে খালি হাতে এসেছেন। আজকে আমরা যা কিছু দেই না কেন, আইওএম আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সাহায্য ছাড়া এই কাজটা অত তাড়াতাড়ি হতো না। আজকে আইএমও আপনাদের কিছু আর্থিক সাহায্য দেবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ বোর্ড থেকে আপনাদের জন্য কিছু আর্থিক সাহায্য দেবো।' সবাইকে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'পরবর্তীতে কীভাবে আপনাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এটা ঠিক করতে নাম-ঠিকানার প্রয়োজন হবে।' গত ১৫ এপ্রিল একসময়ের মিত্র সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (মে ০৬) সন্ধ্যায় লন্ডনের হোটেল ক্ল্যারিজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগায়েল ওয়াংচুক ও রানি গায়ালতসুয়েন জেতসুন পেমা বৈঠক করেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এর আগে হোটেলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ভুটানের রাজা ও রানিকে স্বাগত জানান। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ভুটানের রাজা ও রানি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভুটানের রাজা বলেন, তাদের দেশেও তারা একটা অ্যাডমিনিসট্রেটিভ ইকোনোমিক জোন করতে চান। যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসে। ভৌগলিক আয়তনে ছোট দেশ ভুটানের রাজা বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল করা নিয়ে তারা খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ তারা (ভুটান) তাদের পরিবেশকে দূষিত করতে চান না। তারা সুখী দেশ। কোনভাবে পরিবেশকে বিকৃত করতে চান না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের দেশে অনেকগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। আপনারা আমাদের দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে পারেন। এটি ভুটান অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইন্ডিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সবাইকে একের অধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল দিয়েছি। আপনারা চাইলে আমরা একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে পারি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব প্রতিবেশির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছি। এ প্রসঙ্গে ভুটানের রাজা বলেন, এটা ভালো হয়েছে। রেলওয়ে কানেকটিভিটি প্রসঙ্গে ভুটানের রাজা বলেন, আগামীতে তারা এটা করতে চান। রাজা বলেন, আমি দুটা চাই। একটা হচ্ছে ভারতের মধ্যে দিয়ে, আরেকটা হচ্ছে আমি ডাইরেক্ট ট্রানজিট চাই। সরাসরি প্রবেশ চাই বাংলাদেশে। ভুটানের রাজার এই চাওয়াকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। সেই জন্য ভারতকে কিছু বলতে হলে আমরা সেটা বলবো। বাংলাদেশকে কানেকটিভিটির হাব হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের জন্য বাংলাদেশের দুইটা বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভুটানের রাজা ও রানি বলেন, আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তারা সবাই বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছে। এই জন্য আমাদের দেশের মানুষের বাংলাদেশের প্রতি একট বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বাংলাদেশে বেড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে ভুটানের রাজা ও রানি বলেন, তারা বাংলাদেশে আরও সফর করতে চান। রাষ্ট্রীয়ভাবে না, তারা বাংলাদেশে বেড়াতে চান। বাংলাদেশের সংস্কৃতি তাদের খুব পছন্দ। তারা ভিজিটর হিসেবে বাংলাদেশে বেড়াতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের রাজা ও রাণীর এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের দুয়ার সব সময় আপনাদের জন্য খোলা। আন্তরিক পরিবেশ প্রায় ঘণ্টা খানেক আলাপ হয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, অনেক পারিবারিক আলাপ হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে খালা হিসেবে, অভিভাবক হিসেবে সম্মান করেন। ভুটানের রাজা-রানি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।

post
বাংলাদেশ

ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের রিজার্ভের ওপর চাপ থাকবে: আইএমএফ

'একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পটভূমিতেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি বাংলাদেশের। ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রধান অগ্রসর বাণিজ্যিক অংশীদারদের মন্দায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।'আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দলের বাংলাদেশ সফর শেষে লিখিত বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ। বিবৃতিতে রাহুল আনন্দ আরও বলেছেন, 'সফরের সময় আমরা সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিকখাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা তহবিল-সমর্থিত প্রোগ্রামের অধীনে মূল প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছি। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) বা এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) বা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) ব্যবস্থার প্রথম পর্যালোচনায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে, যা এ বছরের শেষের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।' 'আইএমএফ দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আমরা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, দ্বিপাক্ষিক দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও দেখা করেছি।' 'আমরা আন্তরিক আলোচনা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বাংলাদেশ এবং এ দেশের জনগণের সমর্থনে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আমরা উন্মুখ।'

post
বাংলাদেশ

‘আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছি’

আগামীতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। শনিবার লন্ডনে হোটেল ক্ল্যারিজে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি জানান, তার দেশ বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।সাক্ষাতের পর হোটেল ক্ল্যারিজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ছাড়াও দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন নিয়ে আলাপের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সম্পর্কে কথা বলেন। তারাও চান একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’ একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাও চাই একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন। আর আমার দল (আওয়ামী লীগ) সবসময় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখেছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ একটা অবস্থান তৈরি করেছি। আমাদেরও প্রতিশ্রুতি— আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্যরা যদি আমাদের সহযোগিতা করে তা হলে ভালো।’ বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ, সুন্দর করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যা যা করার তাই করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সময় এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোট ছিল, সেই ভুয়া ভোট যাতে না হয়, সে জন্য বায়োমেট্রিক ফটোআইডি, ফটোযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, কেউ যাতে আগে বাক্সে ব্যালট ঢুকাতে না পারে, সেই জন্য স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আর অত্যন্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া যত ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, স্বচ্ছ-সুন্দর করা হয়েছে। ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ওয়েস্টমিনস্টারে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সেটিতে আমরা বিশ্বাস করি। ওয়েস্টমিনস্টারের মতোই আমিও আমার দেশে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছি। ব্রিটিশ এ সিস্টেম অনুসরণ করে বাংলাদেশে প্রতি বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর চালু করেছি। রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসন আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগদান করায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন জেমস ক্লেভারলি। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এ দেশে থাকেন। এরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে জেমস ক্লেভারলি বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ব্যবসাবাণিজ্য সব দিক থেকে আমাদের সম্পর্ক বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সেই সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথম জেল থেকে বের হয়ে এই লন্ডনে এসেছিলেন। তখন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আর সেই থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, রানি সবসময় তার এবং তার ছোট বোনের (শেখ রেহানা) খোঁজখবর রাখতেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানান, শুক্রবার ‘কমনওয়েলথ লিডার্স ইভেন্টে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাজা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান। আবদুল মোমেন জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, নির্যাতিত লোকদের সাহায্য করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। ব্রিটিশমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। আগামীতেও তারা এ সমস্যা যাতে তাড়াতাড়ি সমাধান হয়, সেই জন্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রিফিংয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজুলেশন আনে। তারা এই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এই রেজুলেশন তখন পাশও হয়।

post
বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অধিকাংশই স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত ছিলেন না: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে কতজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যে নেতৃত্ব আছে তাদের অধিকাংশই স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে আমাদের দিকে আঙুল তোলেন।বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক মন্ত্রী বাবু সুনীল কুমার গুপ্তের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি দেখিয়ে দিতেন পারবেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা আছেন তাদের কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? আমাদের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটি রয়েছে, আমাদের সঙ্গে যারা আছেন তাদের অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।’‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেক পুরোনো। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এই দলের প্রতিষ্ঠাতা। তাকেও আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে দিয়েছে। কারণ তার চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা এসেছেন তার সঙ্গে মিল ছিল না। আজকের যে আওয়ামী লীগ, পরবর্তীতে যারা নেতৃত্বে এসেছিলেন, তাদের সঙ্গে আজকের নেতৃত্বের তেমন একটা মিল আছে বলে আমি মনে করি না’- বলেন ফখরুল।বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‌‘গতকাল ওয়াশিংটনে বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনোমতেই স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। আমিও একই কথা বলি। কোনোমতেই স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, লজ্জাজনকভাবে আজকে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই সরকার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’তিন বলেন, ‘আজকে যখন সব মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তখন তারা বলছে এই আইন বাতিল করা হবে না। কেন হবে না? তাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য।’এই সরকার জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

post
বাংলাদেশ

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জাহাঙ্গীরের প্রার্থীতা বাতিলের আদেশ বহাল

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর আলমের করা আপিল নামঞ্জুর হয়েছে। ফলে জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা বাতিল করে ওই সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা যে আদেশ দিয়েছিলেন সেটিও বহাল থাকছে।ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীর আলমের ওই আপিলের শুনানি হয়। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সূত্রমতে এই তথ্য জানা গেছে।এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেছেন ‘এখন আমি উচ্চ আদালতে যাব। আশা করি সেখানে ন্যায় বিচার পাব।যে ঋণের কারণে বাতিল হলো মনোনয়নপত্র, ‘অবিচার’ বললেন জাহাঙ্গীরগাজীপুরের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। আজ রোববার সকালেএর আগে গত ৩০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তবে তাঁর মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। তবে জাহাঙ্গীর আলম দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।

post
বাংলাদেশ

বহু দেশ সংকটে পড়লেও বাংলাদেশের অবস্থা এখনও ভালো : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে উন্নতসহ অনেক দেশ সংকটে পড়লেও বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা এখনও ভালো। তিনি ওয়াশিংটনে রিজ কার্লটন হোটেলের হলরুমে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনো সংকটে না পড়ে। দেশের দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ এবং অতি দারিদ্রের হার ৫.৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, দেশে কোনো চরম দারিদ্র্য থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাংক অনুসরণ করে সারাদেশে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে বাড়ি দিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যে আবাসন প্রকল্পের আওতায় ৩৫ লাখ লোককে বাড়ি দিয়েছেন এবং তাদের জীবিকা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না, কারণ সরকার প্রতিটি গৃহহীন লোককে বিনামূল্যে আবাসন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আরও ৬০ হাজার ঘর তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনের আগে আ.লীগকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ বিজেপির

আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে ‘পার্টি টু পার্টি’ এই সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিজেপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিভাগের প্রধান বিজয় মুরলিধর চৌথাইওয়াল স্বাক্ষরিত ওই চিঠি ইতোমধ্যে ওবায়দুল কাদেরের কাছে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র সব তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আমন্ত্রণ পেলেও আওয়ামী লীগের ভারত সফরের জন্য প্রতিনিধি দল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকও হয়নি। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য দশ-বারো সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারত সফরের জন্য চূড়ান্ত করা হতে পারে। চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের শুরুর দিকে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনের আগেও বিজেপি আওয়ামী লীগ কে ভারতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।  

post
বাংলাদেশ

৫ প্রকল্পে বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াশিংটন সফরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বড় অঙ্কের ঋণচুক্তি সই হয়েছে। ৫টি প্রকল্পে ২২৫ কোটি (২.২৫ বিলিয়ন) ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়েছে। আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ, দুর্যোগ প্রস্তুতি, পরিবেশ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশকে এ অর্থ ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে গতকাল সোমবার এ–সংক্রান্ত একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এ অর্থায়ন চুক্তির সময় উপস্থিত ছিলেন।পূর্ব–দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও বাণিজ্য সংযোগ ত্বরান্বিতকরণ (অ্যাকসেস)-বাংলাদেশ ফেজ-১ প্রকল্প, যার মূল্য ৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্থিতিস্থাপকতা, অভিযোজন ও দুর্বলতা হ্রাসের জন্য ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্ট (রিভার), যা বাংলাদেশের ডেলটা প্ল্যান ২১০০–কে সমর্থন করার জন্য প্রথম বড় বিনিয়োগ হবে। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ প্রস্তুতি উন্নত করতে সহায়তা করবে। ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি), প্রকল্পটি এ ধরনের প্রথম ঋণ, যা দেশের স্থিতিস্থাপক উন্নয়নে রূপান্তরে সহায়তা করবে। ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্পের লক্ষ্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, সম্পদ দক্ষ এবং জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধি খাতে রূপান্তর করতে সহায়তা করা। ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) প্রকল্পটি পরিবেশ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে এবং সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে।

post
বাংলাদেশ

বিএনপি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে: কাদের

বিএনপির দ্বিমুখী আচরণের কারণে জনগণ তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একদিকে বলছেন যে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। অন্যদিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি নেতাকর্মীরা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে জনগণ দ্বারা বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণে ভয় পায়। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারায় লিপ্ত থাকে। রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর অ্যাডভোকেট সায়েম খানের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি আজ নির্বাচন নিয়ে কথা বলে কোন মুখে? বিএনপির হাত ধরেই এদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। সামরিক শাসন জারি রেখে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে হ্যাঁ/না ভোট, সেনা প্রধানের দায়িত্বে থেকে ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছিল। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য ১৯৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন করেছিল। তাদের সময়ে অনুষ্ঠিত মিরপুর ও মাগুরা উপ-নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে স্থান পেয়েছে। বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ নাকি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসহ ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুদীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করেছে। এই দলের হাত ধরেই এদেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিশ্চিতভাবে বিএনপির কাছ থেকে গণতন্ত্রের পাঠ নেবে না। আওয়ামী লীগ বিএনপির চর্চিত গণতন্ত্রে বিশ্বাস বা আস্থা রাখে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষকে কারফিউ মার্কা গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিল। গণতন্ত্রের লেবাসে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের ভূত এদেশের জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। বিএনপি এদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে; মানুষের ভোটাধিকারকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে জনগণের হৃদয়ের অনুরণন প্রতিফলিত হয় তা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথকে মসৃণ করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। সফলরাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার কারণে বর্তমানে শেখ হাসিনাকে সমীহের দৃষ্টিতে দেখে বিশ্বের সব নেতৃবৃন্দ। শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশের সব স্তরের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। যা দেখে বিএনপি ও তার দোসরদের গাত্রদাহ হচ্ছে। তাই তারা এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.