post
এনআরবি লাইফ

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ হানিফ (৫০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, শুক্রবার হানিফ হামলার শিকার হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।জানা যায়, মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরে একটি দোকানে কাজ করতেন মোহাম্মদ হানিফ। শুক্রবার কাজের সময় কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ দোকানে ঢুকে সিগারেট নিয়ে চলে যায়। এসময় হানিফ তাদের বাধা দেন। তবুও দুর্বৃত্তরা চলে যেতে চাইলে পেছনে ধাওয়া করেন হানিফ। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত হানিফকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রোববার মারা যান। নিহত হানিফের জানাজা আগামী মঙ্গলবার বাদ জোহর মেরিল্যান্ডের ফ্রেডরিকের ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে আল-ফিরদৌস মেমোরিয়াল গার্ডেনে দাফন করা হবে। হানিফের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার আমিনবাজারে। 

post
এনআরবি বিশ্ব

টাইমস স্কয়ারে হাজারো মুসল্লির তারাবির নামাজ আদায়

গত বছরের ন্যায় এবারও নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হাজারো মুসল্লি তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। গত রোববার নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ পড়তে মুসলমানরা সমবেত হন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসল্লিদের কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তারা জানান, ইসলামভীতি দূর করা, ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য সম্পর্কে জানানো এবং সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এছাড়া সারা বিশ্বে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টাইমস স্কয়ারে তারাবির নামাজে নারীরাও অংশ নেন। এতে ইমামতি করেন ফরাজ হাসান।সিটি অব দ্য ওয়ার্ল্ডে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এমন আয়োজনের উদ্যোক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুসলিম ইনফ্লুয়েন্সার এসকিউ। সহযোগিতায় ছিল মুসলিমস গিভিং ব্যাক ও ড্রপলেটস অব মার্সি। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। টাইমস স্কয়ারে তারাবির জামায়াত শেষে এক মুসল্লি বলেন, সংযম, দান, প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজান পালন করা হয়। কুরআন তিলাওয়াত ও তরজমার মধ্য দিয়ে সে বিষয়টি প্রচার করতে চেয়েছি আমরা। তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় টাইমস স্কয়ার। সুশৃঙ্খলভাবে জামায়াত আদায় করা হয় মাগরিবের নামাজও। বহু অমুসলিমও হাজির হন এ আয়োজন দেখতে। নামাজ পড়তে যাওয়া একজন মুসল্লি বলেন, ইসলাম নিয়ে অনেকের মাঝে ভীতি আছে। উগ্র মানুষ সব ধর্মেই আছে। সেই অল্প সংখ্যক মানুষ কখনই সংখ্যাগরিষ্ঠের চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

post
এনআরবি লাইফ

যুক্তরাষ্ট্রে আজ প্রথম তারাবি, সোমবার রোজা

রমজান মাস শুরুর তারিখ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আজ রোববার (১০ মার্চ) প্রথম তারাবি অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার (১১ মার্চ) প্রথম রোজা পালন করবেন দেশটির মুসলমানরা। ফিকাহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে রমজানের তারিখ ঘোষণা করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকার দেশগুলো। এ হিসাব অনুসারে রোববার রমজান মাসের চাঁদের জন্ম হবে।এক বিবৃতিতে ফিকাহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা জানিয়েছে, ১৪৪৫ হিজরির রমজানের প্রথম দিন হবে সোমবার। আর প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে রোববার রাতে।প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১০ মার্চ ২০২৪ এ নতুন চাঁদ উঠবে। এদিন সূর্য থেকে চাঁদের দূরত্ব ৮ ডিগ্রির বেশি থাকবে। এ ছাড়া উত্তর আমেরিকার সব অঞ্চলে চাঁদ ৫ ডিগ্রির উপরে থাকবে।রমজান ও শাওয়াল মাসসহ সব চান্দ্রমাসের হিসাবের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে স্বীকৃতি দেয় ফিকাহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা। তবে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রমজান ও ঈদের তারিখ নির্ধারণে খালি চোখে চাঁদ দেখার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কেউ খালি চোখে চাঁদ দেখার স্বীকৃতি দিলে তার ওপর ভিত্তি করে রমজান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।এদিকে সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রোববার (১০ মার্চ) এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সুদাইর ও আল-হারিক এলাকায় রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল সোমবার (১১ মার্চ) থেকে দেশটিতে শুরু হবে মহিমান্বিত সিয়াম পালন।অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘ক্রিসেন্ট মুন ওয়াচ’ এর মতে ১১ মার্চ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ১২ মার্চ মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু হবে।

post
এনআরবি লাইফ

‘অগ্নিঝরা মার্চকে’ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মাস হিসেবে পালন করল নিউইয়র্ক

‘অগ্নিঝরা মার্চকে’ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মাস হিসেবে পালন করেছে  নিউইয়র্ক সিটি। বাংলাদেশের ইতিহাসে মার্চ মাসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই মাসটি বাংলাদেশের জন্ম মাস। এ মাসকে ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মাস’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে নিউ সুধী সমাবেশের আয়োজন করেননিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানেনিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা প্রশংসার কথা উল্লেখ করে বলেন, নিউইয়র্ক সিটি বাংলাদেশি আমেরিকানদের জন্য গর্বিত। সিটির প্রতিটি দপ্তরেই তাদের পদচারণা রয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় বাংলাদেশিরা সিটির মূলধারার রাজনীতিসহ সর্বত্র এগিয়ে যাচ্ছেন। সিটির দরজা বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২৬ মার্চ বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ ডে, বাংলাদেশ হেরিটেজ ডে, রমযানে ইফতার পার্টির আয়োজন হয় সিটির উদ্যোগে।তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্রঙ্কস, চার্চ ম্যাকডোনাল্ড, হিলসাইড ও রুজভেল্ট এভিনিউসহ সব এলাকার বাংলাদেশিদের সাথে অত্যন্ত পরিচিত। তাই বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণে তিনি আগামীতে আরও বেশি কাজ করতে চান।মেয়র এরিক এডামস বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মাস উপলক্ষ্যে ৪ জন বাংলাদেশিকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। তারা হলেন রুহিন হোসেন, আব্দুল চৌধুরী জ্যাকি, ডা. শামীম আহমেদ ও মনিকা রায় চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ শতাধিক বাংলাদেশি অংশ নেন। গেল বছর থেকে ম্যানহাটনস্থ মেয়রের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ হেরিটেজ দিবস উদযাপন শুরু হয়েছে।অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশি আমেরিকান মীর বাশার। অনুষ্ঠানে অন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা, মূলধারার রাজনীতিক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিসস্ট গিয়াস আহমেদ, ফাহাদ সোলায়মান, আমিন মেহেদি, মোহাম্মদ আলী, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি শাহ নেওয়াজ, রানো নেওয়াজ, ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার, যুবুদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরী, খলিলুর রহমান, রকি আলিয়ান, মোহাম্মদ কাশেম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিসস্ট এম এ ইসলাম মামুন, ডিটেকটিভ মাসুদুর রহমান, ইব্রাহিম বারো ভুঁইয়া, ফরিদা ইয়াসমীন, আব্দুস সামাদ জাকারিয়া খবির উদ্দিন ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ আলাউদ্দীন প্রমুখ।এর আগে মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে সীমিত আসনের এই আয়োজনে কাকে আমন্ত্রণ দেবেন এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন স্বয়ং মেয়র ও তার অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, কারণ শুধু নিউ ইয়র্কেই বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজার হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। সেখান থেকে সঠিক মানুষদের খুঁজে বের করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে মেয়র কার্যালয়ের কর্মচারীদের। গত বছর একই ধরণের কিছু বিতর্কিত লোকদের আমন্ত্রণ করে নানা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন মেয়র। তাই এবারে ভেবে চিন্তে প্রবাসীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।মার্চ মাসের ৭, ১৭, ২৫ এবং ২৬ তারিখ বাংলাদেশের স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এক সম্মিলন। আর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত জনসমুদ্রে জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর এই ভাষণ জাতিকে অনুপ্রাণিত করে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ৭ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশের এ আয়োজন করায় মেয়র এরিক এডামসকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

post
এনআরবি বিশ্ব

এমসি টিভির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা মেটাতে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করেছে এমসি টেলিভিশন। প্রবাসে মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলামের খেদমতে কাজ করবে এমন ঘোষণা দিয়ে দু’মাস আগে যাত্রা শুরু করে টেলিভিশনটি। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে গত ৮ মার্চ।  পবিত্র রমজানে ‘সত্যের সন্ধানে আল কোরআন' এ শিরোনামে নতুন একটি অনুষ্ঠানমালা শুরু করছে এমসি টেলিভিশন। এ উপলক্ষে গত ৮ মার্চ তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এমসি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান কাজী শামসুল হক ও সঞ্চালনা করেন নির্বাহী পরিচালক ফকির সেলিম। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটির নেতারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি ভালো মানের টেলিভিশনের প্রয়োজন। আর এ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এমসি টেলিভিশন। তারা বলেন, পৃথিবীতে সব প্রযুক্তিকেই ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়। আধুনিক যুগে নতুন নতুন প্রযুক্তিকে ইসলামের খেদমতে ব্যবহার করুন। প্রতিটি জিনিসকে ভালো কাজেও ব্যবহার করা যায়, আবার মন্দ কাজেও ব্যবহার করা যায়। দোষ কিন্তু জিনিসের বা প্রযুক্তির নয়। বরং এখানে ব্যবহারকারী মূলত দায়ী। আমরাও যদি প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করি তাহলে তা হবে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর।এমসি টেলিভিশনের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা ইসলামিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রবাসীদের সংবাদসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করব। সংবাদমাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ যে প্রবাদ রয়েছে এমন দিন আসবে সেদিন এ শব্দটিও মুছে যাবে।সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- এমসি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান কাজী শামসুল হক, নির্বাহী পরিচালক ফকির সেলিম, প্রেসিডেন্ট ও সিইও আব্দুর রব চৌধুরী মিরন, বাণিজ্যিক পরিচালক ফারহানা চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, নার্গিস আহমেদ, টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, দ্য অপটিমিস্টের প্রেসিডেন্ট মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, জয়নাল আবেদীন, প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, আকবর হায়দার কিরন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম, আলমগীর খান আলম, মাকসুদুল চৌধুরী, আবুল কাশেম, মেহের চৌধুরী, আবিদ রহমান, জাসির, মীর্জা প্রপেল, আব্দুস সাত্তার, এম মুজিব, জাহিদ রহমান, রিজু আহমেদ, সাজ্জাদ হোসেন ও রাজিব প্রমুখ।

post
এনআরবি লাইফ

বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দুই চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতা কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি জাহাঙ্গীর আলী সাজুর (২৫) মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগে ওই দুই চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাস্তায় ড্রাইভিং প্রতিযোগিতার অভিযোগ এনে ওয়ারেন পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা দুজনই বাংলাদেশি। তারা হলো- তায়াসুকা আমান (২০) ও গোলাম রহমান (২২)। ২৫ ফেব্রুয়ারি মিশিগানে ওই সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলী সাজুর (২৫) মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় নিহত সাজুর মেয়ে মোমো গুরতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। এতে তার ছেলে তামিমও আহত হন। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার জন্য তাদের ১৫ বছরের শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং আহতের ঘটনার জন্য ৫ বছরের শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।মিশিগানের ওয়ারেন পুলিশ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশি তরুণ রাস্তায় ড্রাইভিং প্রতিযোগিতা করছিলেন। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সাজুর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে তাদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। আদালত তাদের ৫০ হাজার ডলারে জামিন মঞ্জুর করেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো আইনজীবী কোর্টে আসেননি। আদালত তাদের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ১৪ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

post
দূতাবাস খবর

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও দূতাবাসে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে, ইউনেস্কো’র ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় অনুষ্ঠানটিতে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটির ভিডিও প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানটিতে।অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ও চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তৌফিক ইসলাম শাতিল। বক্তব্যের শুরুতে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এর পর তিনি বাংলাদেশের মুক্ত সংগ্রামে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভূমিকা ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন ৭ মার্চের ভাষণেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতির আহ্বান জানান এবং ভাষণের মধ্যেই মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অন্তর্নিহিত ছিল। ইউনেস্কো কর্তৃক ভাষণটিকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ এর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই প্রমাণ করে এটি শুধু বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকেই উজ্জীবিত করেনি, বরং পৃথিবীর সব মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস বলে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ও চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উল্লেখ করেন। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ ৭ মার্চের ভাষণের মর্মবাণী ধারণ করে কর্মে ও চিন্তায় এর প্রয়োগের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন: ২০৪১ অনুযায়ী স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত হয়েছে। সকালে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান কর্তৃক দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দূতাবাসের দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পরে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে অবস্থিত জাতির পিতার আবক্ষ প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।এ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন মিনিস্টার (কমার্স) মো. সেলিম রেজা এবং কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা। পরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার মহাকাব্যিক ভাষণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।৭ মার্চকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু’র এই কালজয়ী ভাষণ মুক্তিকামী জনতাকে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।রাষ্ট্রদূত মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে দেশে-বিদেশে এর ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।রাষ্ট্রদূত ইমরান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান ।ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) মুহাম্মদ আবদুল হাই মিলটনও আলোচনায় অংশ নেন এবং ৭ই মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ইউনেস্কো কর্তৃক এর স্বীকৃতি, ভাষণের কাব্যিক মূল্য এবং  বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট এর তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে এক বিশেষ  প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি।নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আজ যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ২০২৪ উদযাপন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সূচনা করেন কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা সহ কনস্যুলেটের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭১ ও ১৯৭৫ এর সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি  উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের নির্মিতি একটি ভিডিও  প্রদর্শন করা হয়। এরপর দিবসটির  গুরুত্ব ও তাৎপর্যের উপর উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়।কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা তাঁর বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্যের উপর আলোচনা করেন। তিনি দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে ইউনেস্কো কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব-ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন যে, ৭ মার্চের ভাষণ এখন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বরং বিশ্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে। তিনি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য মানসিক এবং চেতনাগত দিক থেকে প্রস্তুত করেন। তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বেই দীর্ঘ নয় মাসের অতুলনীয় ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সারাবিশ্বের মুক্তিকামী ও শান্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সকলকে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর গৌরবময় জীবন ও কর্ম এবং  বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য  তুলে ধরার আহ্বান জানান। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্য, ১৯৭১ সালের সকল শহিদ ও জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

post
নারী ও শিশু

মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটির কোর্সে ‘সুলতানা’স ড্রিম’

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে বেগম রোকেয়ার লেখা ‘সুলতানা’স ড্রিম’ গল্প। চলতি সেমিস্টারে একটি কোর্সে গল্পটি যুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশি তাসনুভা তাবাসসুম। তিনি বর্তমানে মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন ও একইসঙ্গে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে তাসনুভা জানান, ‘অনুভূতিটা ঠিক কেমন হচ্ছে সেটা নিজেও বুঝতে পারছি না, পেটের ভেতরে হাজার প্রজাপতি উড়ে বেড়ানোর মতো অনেকটা। ঘটনাটা হয়তো তেমন কিছুই না, কিন্তু আমার কাছে অনেক কিছু। যখন আমি গত সেমিস্টারে আমার গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করলাম, তখন আমার প্রফেসরদের কাছে গিয়ে গিয়ে বলছিলাম– কীভাবে বেগম রোকেয়ার একশ বছর আগের ‘সুলতানা'স ড্রিম’ আজকের দিনের ‘বারবি’ সিনেমার সাথে ভীষণভাবে মিলে যায়। যেহেতু এখানে কেউই আগে বেগম রোকেয়ার নাম শোনেননি, তাই আমাকে প্রতিজনের কাছে প্রতিবার বেগম রোকেয়াকে এবং ‘সুলতানা'স ড্রিম’-এর কাহিনি কী এটা নিয়ে বারবার বলতে হয়েছে। তাদেরকে আমার কাছে থাকা বইটাও ধার দিয়েছিলাম পড়ে দেখবার জন্যে। তারা বইটা শুধু পড়েনই নাই, মুগ্ধ হয়ে খুঁজে খুঁজে এই বই কিনেছেন!’‘আমি এতেই অত্যন্ত খুশি ছিলাম যে আমার আমেরিকান প্রফেসররা বেগম রোকেয়ার ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং তারা ভেবেছিলেন জিলম্যানের ‘হারল্যান্ড’ বুঝি প্রথম ফেমিনিস্ট ইউটোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন যা ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। যখন দেখলেন ‘সুলতানা'স ড্রিম’ আরও আগে ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, তারা যারপরনাই অবাক হলেন!’ এরপরই তার সফল হওয়ার কথা জানিয়ে পোস্টে লিখেছেন, ‘এখানেই ঘটনার শেষ? আমাকে অবাক করে দিয়ে ঘটনা সেখানে শেষ হয়নি। আমার সুপারভাইজার এই সেমিস্টারে একটা নতুন কোর্স ডিজাইন করেছেন যেখানে তিনি সিলেবাসে বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানা’স ড্রিম!’ পড়াচ্ছেন কয়েকদিন আগে আমি যখন দেখা করতে গিয়েছিলাম উনার সাথে, তিনি আমাকে সিলেবাস দেখিয়ে বললেন আমার ছাত্ররা এখন ‘সুলতানা’স ড্রিম’ পড়ছে এবং সবাই এই টেক্সট অসম্ভব পছন্দ করেছে! আমি কিছুক্ষণ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তার কম্পিউটার স্ক্রিনের সিলেবাসের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মুখ দিয়ে একটা শব্দই বেরিয়েছে ‘সিরিয়াসলি?’ ডক্টর উডেন মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন- থ্যাঙ্কস টু ইউ ফর ইন্ট্রোডিউসিং মি উইথ হোসেইন’ (বেগম রোকেয়ার নাম লেখক হিসেবে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন লিখা বইতে, তাই নামের শেষাংশ বলেছেন)। তিনি বেগম রোকেয়ার সমসাময়িক পরিবেশ, সমাজ নিয়ে আরও জানতে আগ্রহী। আমার মাথায় আর কিছুই ঢুকছিল না, আমি শুধু ভাবছিলাম আমেরিকার মিজৌরি নামক রাজ্যের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্ররা বেগম রোকেয়ার কথা জানবে, তার লিখা বই পড়বে.. আমার মতো তুচ্ছ-ক্ষুদ্র একটা মানুষ যে বেগম রোকেয়ার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যম হতে পেরেছে এই আনন্দ আমি কোথায় রাখব বুঝতে পারছিলাম না। এই নিয়ে গণমাধ্যমকে তাসনুভা জানান, আমি আসলে নিজের মাস্টার্সের থিসিসের বিষয় হিসেবে বেগম রোকেয়ার সুলতানা’স ড্রিম এবং বারবি সিনেমাকে বেছে নিয়েছিলাম ও এ জন্যই আমার প্রফেসরদের সঙ্গে সুলতানা'স ড্রিম এবং বেগম রোকেয়া বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে। বারবি সিনেমা দেখার সময় বারবার এর সঙ্গে সুলতানা'স ড্রিমের থিমের মিল চোখে পড়ছিল। তখন মনে হয়েছিল একশ বছরেরও বেশি সময় আগে বেগম রোকেয়া যেভাবে ভেবেছেন, হলিউড সেভাবে ভাবছে একশ বছর পরে, বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং। তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করি যেন আমার দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আমার পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারি। আমি জানি না কেন এ রকম চিন্তা কাজ করে ভেতরে, হয়তো দেশ থেকে এতদূরে আছি বলেই কোনো না কোনো উপায়ে দেশকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে ইচ্ছা করে। আর এর ফল হলো, তার সুপারভাইজার এই সেমিস্টারে একটা নতুন কোর্স ডিজাইন করেছেন যেখানে তিনি সিলেবাসে বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানা'স ড্রিম’ পড়াচ্ছেন। সেই অধ্যাপক জানিয়েছেন, ছাত্ররা এখন "সুলতানা'স ড্রিম" পড়ছে এবং সবাই এই টেক্সট অসম্ভব পছন্দ করেছে! খবরটা শোনার পরের অনুভূতি জানাতে তাসনুভা লেখেন, আমার মাথায় আর কিছুই ঢুকছিল না, আমি শুধু ভাবছিলাম আমেরিকার মিজৌরি নামক রাজ্যের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্ররা বেগম রোকেয়ার কথা জানবে, তার লিখা বই পড়বে.. আমার মতো তুচ্ছ-ক্ষুদ্র একটা মানুষ যে বেগম রোকেয়ার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যম হতে পেরেছে এই আনন্দ আমি কোথায় রাখবো বুঝতে পারছিলাম না। যার জন্যে আমি আজকে পড়াশোনা করতে পারছি, এতদূরে পড়াশোনার হাত ধরে এসে দাঁড়িয়েছি, তার ঋণ তো বাঙালি নারী হিসেবে কোনোদিন শোধ করতে পারব না.. এইটুকু পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছি যে তাকে ভিনদেশি ছাত্ররা চিনবে, জানবে।

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্কে এফবিআইয়ের ‘ধরিয়ে দিন, পুরস্কার নিন’ ঘোষণায় তৎপর বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একজন বাংলাদেশি অপহরণকারীকে ধরিয়ে দিতে এফবিআইয়ের ঘোষিত পুরুস্কার পেতে তৎপর হয়ে উঠেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশটির বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে চাঞ্চল্যকর এ অপহরণ মামলার সর্বশেষ আসামি রুহেল চৌধুরীকে (৩৪) ধরতে গত শুক্রবার (১ মার্চ) ওয়েবসাইটে ২০ হাজার মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পোষ্টার প্রকাশের পর নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদশিদের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুধু পুরুস্কারের আশায় নয়, একজন প্রকৃত আসামিকে ধরিয়ে বা সন্ধান দেওয়া বাংলাদেশিদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন অনেকেই। জানা গেছে, নিউইয়র্কের যে এলাকায় বাংলাদেশি অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছিলো সেটি জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউয়ে। এ এলাকার একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছি। কোনো সন্ধান পেলেই জায়গামতো খবর পৌঁছে দেবো। প্রবাসে এ ধরনের অপরাধের জন্য আমরা অনেকটাই লজ্জাবোধ করি। তাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি আসিফ আলী জানান, এ ধরনের অপরাধীদের জন্য গোটা বাংলাদেশি কমিউনিটি কলুষিত হচ্ছে। এদেরকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। গত ১০ জানুয়ারি নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে অপহরণ মামলার ৬ আসামিকে গ্রেপ্তারের পর একই মামলার সর্বশেষ আসামি রুহেল চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে শুক্রবার ২০ হাজার ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করে এফবিআই। তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে দুজনকে অপহরণ, নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং মুক্তিপণের জন্য হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

post
আন্তর্জাতিক

সরে দাঁড়ালেন হ্যালি, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সাউথ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর নিকি হ্যালি ছিলেন ট্রাম্পের সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী। স্থানীয় সময় আজ বুধবার সকালে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন হ্যালি। এতে রিপাবলিকান পার্টি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিশ্চিত হচ্ছে। আর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। খবর সিএনএনর‘সুপার টুয়েসডেতে’ অনুষ্ঠিত ১৫টি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারিতে (দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের) ১৪টিতে জয় পান সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একমাত্র ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকার সময় হ্যালিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে থাকা এক ডজন প্রার্থীর মধ্যে হ্যালি ট্রাম্পের সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী, যিনি সরে দাঁড়ালেন। সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা ট্রাম্পকে সমর্থন করেননি, তাদের ভোট তাকে অর্জন করে নিতে হবে। হ্যালির একজন উপদেষ্টা বলেন, যদিও সুপার টুয়েসডেতে হ্যালির টিম ভারমন্টে জয় পেয়েছে এবং ভার্জিনিয়ার শহরতলিতে শক্ত সমর্থন দেখাতে পেরেছে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে যে পরিমাণ ভোট পাওয়া দরকার, তা পাওয়া যায়নি। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সুপার টুয়েসডেতে ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর সব কটিতে জয়ী হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ককাসে হেরে গেছেন তিনি। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাইডেন যাঁর কাছে হেরেছেন, তিনি খুব স্বল্প পরিচিত একজন ব্যবসায়ী। তাঁর নাম জ্যাসন পামার। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট অঞ্চল আমেরিকান সামোয়ায় ডেমোক্র্যাটদলীয় ককাসে ভোট পড়েছে ৯১টি। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাসন পামার পেয়েছেন ৫১টি ভোট। আর বাইডেন পেয়েছেন ৪০টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পামার লিখেছেন, ‘আমেরিকান সামোয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদের প্রাথমিক বাছাইয়ে আমার বিজয়ের খবর ঘোষণা করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’ তাঁকে সমর্থন দেওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আমেরিকান সামোয়ায় জয়লাভের মধ্য দিয়ে জ্যাসন পামার শুধু চারজন প্রতিনিধির সমর্থন নিশ্চিত করেছেন। সেদিক থেকে প্রার্থী মনোনয়নের দৌড়ে তাঁর অবস্থান বাইডেনের ধারেকাছে নেই। সামোয়ায় হারলেও বাইডেনের প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বললেই চলে। এর আগে ২০২০ সালে আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে জয়ী হয়েছিলেন ধনকুবের মাইকেল ব্লুমবার্গ। যদিও তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাননি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে লক্ষাধিক নিবন্ধিত ভোটার ‘আনকমিটেড’ (ইচ্ছুক নই) ভোট দেন। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাইডেনের নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিবাদে এমন অবস্থান নেন এই ভোটাররা।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.