post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পেলেন ফাওজিয়া করিম

শান্তি, মানবাধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ওমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। সোমবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফাওজিয়াসহ আরও ১১ নারীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।এ বছর বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, বেলারুশ, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, মিয়ানমার, কিউবা, ইকুয়েডর, গাম্বিয়া, ইরান, জাপান, মরক্কো, নিকারাগুয়া ও উগান্ডার নারীরা এ পুরস্কার পেয়েছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম। তিনি ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্ল্যাড) চেয়ারম্যান। তাছাড়া পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে অধিকার আদায়ে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে একাই প্রায় তিন হাজার মামলা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা এবং ডমেস্টিকস ওয়ার্কার্স গাইডলাইনস তৈরিতে অবদান রেখেছেন। ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফাওজিয়া বাংলাদেশ উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এসিড সার্ভাইভরস ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। যৌন হয়রানির মামলা পর্যালোচনা এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য নির্বাচিত করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। 

post
ক্যাম্পাস লাইফ

সিনেটের পর এবার হাউজ অব ডেলিটগেটসরা ভার্জিনিয়ার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে সম্মাননা জানালো ডব্লিউইউএসটিকে

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪০ জন সিনেটরের পক্ষ থেকে রিকগনিশন পাবার পর এবার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ভার্জিনিয়ার ১০০জন হাউজ অব ডেলিগেটস বিশেষ সম্মানা জানালো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ডব্লিউইউএসটিকে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট সেভেনের ডেলিগেটস ডেমোক্রেট দলের ক্যারেন কিইস গামাররা তার উপস্থাপনায় তুলে আনেন এই বিশ্ববিদ্যালের কথা। জানান, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কে নেতৃত্বে অসাধারণ গতিতে এগিয়ে চলছে ডব্লিউইউএসটি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার বিস্তার এবং ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগানিয়া অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডেলিগেটস ক্যারেন কিইস গামাররা। তার উপস্থাপনা শেষ হতে স্পিকার ডন স্কটের নেতৃত্বে ১শ ডেলিগেটস ও গ্যালারিতে উপস্থিত সকল অতিথিগণ তুমুল করতালির মাধ্যমে সম্মননা জানান ডব্লিউইউএসটির প্রতিনিধি দলকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের নেতৃত্বে ১৩সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ, আবুবকর হানিপ ও ফারহানা হানিপের জৈষ্ঠ্য কন্যা সাইবার সিকিউরিটি শিক্ষার্থী নাফিসা নওশিন, বিজনেস অব স্কুলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন, স্কুল অব বিজনেস ফ্যাকাল্টি প্রফেসর সালমান ইলবাদর, জেনারেল এডুকেশন অ্যান্ড সেন্টার ফর স্টুডেন্ট সাকসেস এর অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর ড. হুয়ান লি, মার্কেটিং ডিরেক্টর হোসে উর্তেগা, স্টুডেন্ট সাকসেস ও ক্যারিয়ার সার্ভিস ম্যানেজার রিচেল রোজ, ক্যারিয়ার সার্ভিস ও আইটি ম্যানেজার আমিত গুপ্তা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট গর্ভামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সেলিন ইগিত এবং ইনফরমেশন টেকনলজির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো: নাঈম হাসান। ডব্লিউইউএসটির উচ্চ শিক্ষা বিস্তার ও এগিয়ে চলার কথা অবগত আছেন ভার্জিনিয়ার ৪৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল জেসন মিয়ারেস। তার ব্যাস্ত সময় থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের জন্য সময় তুলে রেখেছিলেন আলাদা করে। দুপুর আড়াইটায় কমনওয়েলথ অব ভার্জিনিয়ার বারবারা জনস বিল্ডিংয়ে তার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে আমন্ত্রণ জানান ডব্লিউএসটি টিমকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরে উৎসাহ প্রদান করেন এবং ধন্যবাদ জানান তিনি। ডব্লিউইউএসটির প্রতিনিধি দল রিপাবলিকান দলের এই অ্যাটর্নি জেনারেলের হাতে একটি সুভেনির তুলে দেয়। ফটোসেশনের মাধ্যমে শেষ হয় এই বৈঠক। এদিকে এশিয়ান কমিউনিটি নিয়ে বহুবছর ধরে সফলতার সাথে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে কাজ করে আসছে এমন চারটি সংগঠনের আয়োজনে একটি মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠান ছিলো সন্ধ্যায়। যেখানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়ার ৭৪তম গর্ভণর রিপাবলিকান দলের গ্লেন ইয়ংকিন। সেই সাথে উপস্থিত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সিনেটর ও হাউজ অব ডেলিগেটস। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ১৩ সদস্যের দলটিও আমন্ত্রিত ছিলো বিশেষভাবে। ভার্জিনিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নানা কথা উঠে আসে গর্ভণর গ্লেন ইয়ংকিনের বক্তৃতায়। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো নতুন নতুন প্রোগরামের মাধ্যমে ইন্ড্রাস্টিতে কিভাবে দারুণ ভূমিকা রাখছে সেসব উঠে আসে তার কথায়। গর্ভণের কথা ধরে উদাহরণ হিসেবে ডব্লিউইউএসটির সফলতার কথা উঠে আসে ডিস্ট্রিক সেভেনের ডেলিগেটস ক্যারেন কিইসের কথায়। ডব্লিউইউএসটির কার্যক্রম নিয়ে অবগত আছেন এবং তার স্টেটে শিক্ষা সেবায় অসাধারণ ভূমিকা রাখায় ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কে সাধুবাদ জানান গভর্ণর গ্লেন ইয়ংকিন। সাধরে গ্রহন করেন ডব্লিউইএসটির সুভেনির। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা কামনা করেন গভর্ণর। ডিনারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন। তবে এমন সম্মাননা পাবার দিনটিকে সঠিক পথে চলার স্বৃকীতি হিসেবে ধরে নিয়ে নতুন উদ্যোমে পথচলার উৎসাহ উদ্দীপনা হিসেবে নিয়ে রিচমন্ড থেকে ভার্জিনিয়ায় ফিরে আসে ডব্লিউইএসটি টিম। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষণ ও পরিচালন পদ্ধতিতে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। যার মধ্য দিয়ে ঘটেছে দ্রুত প্রসার, শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠে জনপ্রিয়। তিনবছরের ব্যবধানে তিনশো ছাত্রছাত্রী থেকে বর্তমানে সে সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭শ। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যবসায়িক প্রশাসনের উপর ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সে বর্তমানে বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। আর এসব কিছুর বিবেচনায় জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে টানা দ্বিতীয় বছরে মিলেছে এমন সম্মাননা।

post
আন্তর্জাতিক

বাইডেনকে ঠেকাতে আরব-আমেরিকানদের ঐক্যের ডাক

যুক্তরাষ্ট্রের আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলমান অধ্যুষিত প্রদেশ মিশিগানে আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে পরাজিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় মুসলিমরা। গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে অনড় অবস্থানে থাকার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক সংগঠক সামারা লুকমান গত এক সপ্তাহ ধরে নামাজের পর মসজিদের বাইরে প্রচারপত্র বিলি করেছেন। ‘ফিলিস্তিনের জন্য ভোট করুন, বাইডেনের জন্য নয়’ এসব শ্লোগানে চালানো হচ্ছে প্রচারণা।মিশিগানে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার শক্তিশালী আরব-আমেরিকান কমিউনিটি। ফিলিস্তিনের পতাকা, ব্যানার হাতে শ্লোগানে মুখরিত মুসলিম অধ্যুষিত ডিয়ারবোর্নের রাজপথ। একইসাথে আওয়াজ ওঠে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে। ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত এই অ্যাকটিভিস্ট আরবিতে বলেন, ‘বাইডেনকে ভোট দেবেন না।’ পথচারী অনেকেই তার সাথে একমত পোষণ করে বলছেন, ‘অবশ্যই’।মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশিগানকে ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশিগান। এখানে কে জিতবে তা বলা কঠিন। ২০২০ সালের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে মাত্র দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন বাইডেন। গাজা উপত্যকায় মৃত্যুর মিছিল বড় হতে থাকায় এখানকার বাসিন্দারা, যারা একসময় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বেছে নিয়েছিলেন, তারাই এখন বাইডেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। যেখানে বেশিরভাগই আরব-আমেরিকান। চলতি মাসের শুরুতে সেখানে প্রচারণায় গিয়েছিলেন জো বাইডেন। কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেও এড়িয়ে যান মুসলিম কমিউনিটিকে। তখনও বাইডেনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল মুসলিম আমেরিকানরা। নাখোশ মুসলিম ভোটারদের কমিউনিটি এবার আরও একাট্টা। ডিয়ারবোর্নের মেয়র আব্দুল্লাহ হামাউদ বলেছেন, মিশিগানে হাজার হাজার মুসলিম ভোটার রয়েছে, যারা তাদের সমর্থন তুলে নেয়ার পরিকল্পনা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তি আবার দায়িত্ব নিতে পারেন সে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাইডেনকে ভোট দিতে নারাজ তারা। অনেকে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রশ্ন করেন, গণতন্ত্র ধ্বংস ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেবেন তিনি?ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিলেও বাইডেন প্রার্থী হলে তাকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন মুসলিম কমিউনিটির নেতারা। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যে কাউকে ভোট দিতেও রাজি তারা।আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ আলম বলেন, এটা যুদ্ধ নয়। গণহত্যার মাধ্যমে জাতিগত নিধন। যথেষ্ট হয়েছে। দিন শেষে জো বাইডেন নিজেকে ব্যর্থ প্রমাণ করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন ইস্যুতে আমেরিকান মুসলিমরা ৩ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলাম। অথচ তার নির্দেশে বিশ্বে একটি বোমাও পড়েনি। জো বাইডেন প্রার্থী হলে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই ভোট দেবো। বাইডেনের বিপরীতে শয়তান দাঁড়ালেও তাকেই ভোট দেবো।এর আগে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬৪ শতাংশ মুসলিম ভোট পেয়েছিলেন জো বাইডেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঝুলিতে পড়েছিল ৩৫ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা এপি’র একটি জরিপ বলছে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর বাইডেনের সমর্থন নেমে এসেছে ১৭ শতাংশে। কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ২৫ শতাংশ মুসলিম আমেরিকান ভোটার।

post
অভিবাসন

ফের প্রেসিডেন্ট হলে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন ট্রাম্প

মেক্সিকোসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথে লাখ লাখ আশ্রয় প্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বাইডেন প্রশাসন। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জো বাইডেন ইমিগ্রেশন সিস্টেমকে ঢেলে সাজানোর অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আশ্রয় প্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বহুগুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যদি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নির্ধারকদের বরাত দিয়ে বুধবার ওয়াশিংটন পোস্ট এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  ডেমোক্র্যাটদের ধরাশায়ী করতে রিপাবলিকানরা আশ্রয় প্রত্যাশীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। বিষয়টি প্রেসিডেন্ট বাইডেন বুঝতে পেরে কিছুটা কঠোরতা অবলম্বন করছেন। খবরে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট হলে অবৈধ অভিবাসীদের থামাতে এবং আমেরিকার ভেতরে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন। গত মেয়াদেও তিনি অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে, তাদের আটক ও নিজ দেশের ফেরাতে মিলিটারি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। এবার তিনি মরিয়া হয়ে উঠবেন। এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি ইমিগ্রেশনকেই তার মূল এজেন্ডা রাখবেন এবং নির্বাসন প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবেন।ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন সূত্রের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসন কার্যক্রম শুরু করবেন। এটি এতটাই কঠোরতর হবে যা এর আগে আমেরিকায় ঘটেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার কঠোরভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠিয়েছেন লাখ লাখ অভিবাসীকে। তাদের ক্ষেতখামার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা থেকে ধরে গাদাগাদি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হতো। এই যাত্রায় অনেকে মারা গেলেও প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগণকে ব্যবহার করে ড্রোনের মাধ্যমে ইমিগ্রান্টদের শনাক্ত করে মিলিটারির তত্ত্বাবধানে তাদের ফেরত পাঠাবেন।  ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন মুখপাত্র ক্যারোলাইন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমেরিকানরা আশা করতে পারে যে, ট্রাম্প ওভাল অফিসে ফিরলে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার সমস্ত আগের নীতিগুলো ফিরে আনবেন। একেবারে নতুন করে অভিযানগুলো বাস্তবায়ন করবেন যা আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাসন।ক্যারোলাইন আরও বলেন, আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের স্বস্তির কারণ নেই, কারণ খুব শিগগিরই তারা বাড়ি ফিরছে। তার ক্যাম্পেইন থেকে বলা হয়েছে, ইমিগ্রান্টদের আটক করতে তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে বিপুল সংখ্যক কমী নিয়োগ দেবেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

শপথ নিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরামের র্কাযকরী পরিষদ

ভাবগাম্ভীর্য আর আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিস্থ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম ইনক ২০২৪-২৫ এর কার্যকরী পরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভার্জিনিয়ার এনানডেলস্থ ম্যাসন ডিস্ট্রিক্ট গভর্নমেন্ট সেন্টারে নয় সদস্যের এই কার্যকর কমিটির শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও ভয়েজ অব আমেরিকার সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান।এবারের নির্বাচনে মাহসাদুল আলম রূপম সভাপতি ও সোহানা সোনালী সিদ্দিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন  কানিজ জাফরিন - সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ জাভেদ চৌধুরী - সহ-সাধারণ সম্পাদক, ইসকাত আলম -অর্থ সম্পাদক, মিলড্রেড থমাস গনসালভেজ - প্রচার, প্রকাশনা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। নির্বাহী সদস্যরা হলেন - সামসুল আনোয়ার জামাল, মোহাম্মদ বদরুল আলম ভূঁইয়া ও মীর নাজিউর রহমান নিক্সন।অনুষ্ঠানে উত্তরীয় পরিয়ে নতুন কমিটিকে বরণ ও পুরাতন কমিটিকে বিদায় জানানো হয়। এছাড়া, এই প্রথমবারের মত একটি সুন্দর নির্বাচন পরিচালনার জন্য ফোরামের পক্ষ থেকে তিন নির্বাচন কমিশনার - আনিস আহমেদ, মোহাম্মদ আলম ও ড. তারিক আজিমকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বিশেষ সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।নতুন সভাপতি মাহসাদুল আলম রূপম ফোরামের সদস্যদের মাঝে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসী ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতা করা, চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের সিইউ অ্যালামনাই এবং ইউএসএ-ভিত্তিক সকল সিইউ অ্যালামনাইদের সাথে যোগাযোগ জোরদার, রিসোর্স পয়েন্ট হিসেবে ফোরামের ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুক পেইজ নতুন করে ডিজাইন করা, বছরব্যাপী প্রোগ্রাম ক্যালেন্ডার তৈরি, কমিউনিটি সার্ভিস প্রদান, পেশাগত উন্নয়নমূলক কর্মশালার আয়োজন ইত্যাদি কর্মসূচি তুলে ধরে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

post
দূতাবাস খবর

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের হঠাৎ ঢাকা ত্যাগ

মার্কিন প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের মাঝেই হঠাৎ ঢাকা ত্যাগ করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ঢাকা ছাড়েন তিনি।কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানযোগে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন পিটার হাস।এর আগে গত শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিন দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক আইলিন লাউবাচার; ইউএসএআইডির সহকারী প্রশাসক ও ব্যুরো ফর এশিয়ার কর্মকর্তা মাইকেল শিফার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতার ঢাকায় আসেন।

post
সংবাদ

র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ পর্যবেক্ষণ

এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় দুই দেশ ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন যুগের সৃষ্টি করতে চায় বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকা সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।  আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর এলিন লাউবাকের নেতৃ্ত্বে ঢাকা সফর করছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি।এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতেই মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর। রোহিঙ্গা ইস্যু,গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠির উত্তর মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সামরিক চুক্তি জিসোমিয়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’বৈঠক সূত্র জানায়, র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বলেছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বাহিনীটির সংস্কার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ পাঁচটি বিষয়ে জোর দেন।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে লিখেছে, ‘আমেরিকা একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে সমর্থন করে। আমরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি, আমাদের দুই দেশ কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শরণার্থী, জলবায়ু, শ্রম এবং বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

post
যুক্তরাষ্ট্র

সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বিস্তারিত আলোচনা

বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।আজ বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হাছানের সঙ্গে এক ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশ সফররত এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর আইলিন লবাখার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পত্রের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর লেখা পত্রের একটি কপি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী  লবাখারকে হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের একটি বড় উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র। দু'দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু নিয়ে, এই সম্পর্ককে কিভাবে আরও গভীর করা যায়, সে সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করেছে। তারাও চায় রোহিঙ্গারা সসম্মানে নিজ দেশে ফিরে যাক। সেই সাথে তাদেরকে সাময়িক আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মার্কিন প্রতিনিধিরা। হাছান বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধসহ যে কোনো যুদ্ধের বিরুদ্ধে ও শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছি। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে দেশে আনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তাদের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এটি দেখছে।  র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)  ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি পর্যবেক্ষণ (অবজারভেশন) দিচ্ছে, যে সব বিষয়ে বাংলাদেশ তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, শ্রম পরিবেশ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউএসএইডের সহযোগিতা আলোচনায় স্থান পায়, উল্লেখ করেন মন্ত্রী।সফররত ইউএসএইডের এশিয়া ব্যুরোর এসিস্ট্যান্ট এডমিনিস্ট্রেটর মাইকেল শিফার এবং ডিপার্টমেন্ট অভ স্টেটের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতার বৈঠকে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম এবং অন্যান্য কর্মকর্তাগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।এর আগে প্রতিনিধিদলের একাংশ পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়।এ দিন দুপুরে মন্ত্রণালয়ে আসিয়ান দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মন্ত্রী জানান,  আসিয়ানের পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ও এই জোটভুক্ত দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা বৈঠকে অংশ নেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘শহিদ দিবস’ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণে দূতাবাস বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গকারী সকল ভাষা বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে দিনব্যাপী এক কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ ইমরান এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব স্কট উরবম।রাষ্ট্রদূত ইমরান তাঁর বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বাঙালি জাতির ‘বাতিঘর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ভাষা সৈনিকদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সমৃদ্ধ বাংলা ভাষা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার উপযুক্ত কূটনৈতিক মাধ্যম হতে পারে। মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও জানার জন্য উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানাই।’অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি স্কট উরবম বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘গত ৫০ বছরে তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে বাংলাদেশে বিপুল পরিমান বিনিয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৫০ বছর এবং এরপরেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী।’স্কট উরবম বলেন, ‘মাতৃভাষা দিবস শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগনের হৃদয়েই নয়, সমগ্র পৃথিবীর মানুষের হৃদয়েও বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।’ তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে সেইসব বীরদের মহান আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও বাংলা ভাষা রক্ষায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।মার্কিন ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলা পৃথিবীতে অন্যতম সর্বাধিক উচ্চারিত ভাষা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এবং এটি সারা বিশ্বে বাংলা ভাষার প্রভাব ও গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।’ পরে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দূতাবাস পরিবার, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা এবং ভারত, নেপাল, জাপান ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা এবং একটি বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দল কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত ও দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন। পরে রাষ্ট্রদূত ইমরান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দূতাবাস আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।এর আগে সকালে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এই গৌরবোজ্জ্বল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান ও ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শাহেদুল ইসলাম অংশ নেন।রাত ১২টা ১ মিনিটে দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ‘প্রভাত ফেরি’ বের করার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল দূতাবাস প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ প্রতিকৃর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পন, ভাষা শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন, তথ্যচিত্র  প্রর্দশন এবং বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন।এ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন মিনিস্টার (ইকনোমিক) ড. মো. ফজলে রাব্বি, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) মোঃ রাশেদুজ্জামান এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান নূর।দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট এবং ভিসা উইং) মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিলটন এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. আতাউর রহমান।

post
আন্তর্জাতিক

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ ইহুদিদের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিপুল সংখ্যক ইহুদি। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার, কট্টর ইসরায়েলপন্থি গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’র নিউইয়র্ক অফিসের সামনে হয় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। এসময় গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার দাবিতেও দেন স্লোগান। ইহুদিদের সংগঠন ‘জিউস ভয়েজ ফর পিস’ এর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটি ইসরায়েল সরকারের ফিলিস্তিনি নীতির বিরোধিতা করে আসছে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.