ফেয়ারচাইল্ড তার নাম। ত্রিশ বছর আগে তার হাতে খুন হয়েছিলো নিজের তিন বছরের শিশুপুত্র। তাও স্রেফ বিছানা ভিজিয়ে ফেলার জন্য।
শিশুটিকে সে ধরে রেখেছিলো জ্বলন্ত অগ্নিচুল্লিতে। এরপর ছুঁড়ে মারে এটি টেবিলের ওপর। তাতে মাথায় আঘাত পায় শিশুটি। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি। চির বিদায় নেয় এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হয়ে।
হত্যাকারী রিচার্ড ফেয়ারচাইল্ডের বয়স হয়েছিলো ৬৩। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ম্যাকঅ্যালেস্টার পেনিটেনশিয়ারিতে তার মৃত্যূদণ্ড কার্যকর করা হয়। নির্মম সেই ঘটনার ৩০ বছর পর।
১৯৯৩ সালে রিচার্ড হত্যা করে তার শিশুপুত্র অ্যাডাম ব্রুমহলকে।
মৃত্যূদণ্ড কার্যকর করার আগে ২৫ ডলারের শেষ খাবার খেতে দেওয়া হয় তাকে। যুক্তরাষ্ট্র মেরিনের সাবেক এই সদস্যকে তার পছন্দ মতো চিজ বার্জার, বড় একপ্যাকেট চিপস, পামকিন পাই, একপিন্ট চকোলেট আইসক্রিম ও একটা বড় কোক খেতে দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন রিচার্ড। আর বলেন, আজ তার একটুও খারাপ লাগছে না।
"আমি ইশ্বরের শান্তিতে আছি। আমার কোনো দুঃখ নেই। কারণ আজ আমি আমার স্বর্গীয় বাবার কাছে যেতে পারবো," এমনটাই বলছিলেন রিচার্ড ফেয়ারচাইল্ড।
মামলা চলাকালে প্রসিকিউটররা জানান, ফেয়ারচাইল্ড শিশুটিকে দাউদাউ জ্বলতে থাকা ফারনেসের মধ্যে ধরে রাখেন এরপর শিশুটিকে টেবিলের ওপর ছুঁড়ে মারেন। তিন বছরের শিশুটি সেই যে জ্ঞান হারায় আর কোনোদিন তা ফিরে পায়নি। পরের দিন তার মৃত্যূ হয়।
ওকলাহোমার এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বলা হয়, অ্যাডামকে হত্যার ঘটনাটিকে নির্মম নিপীড়ণ ছাড়া আর কিছুই বলা চলে না।
এদিকে অ্যাডাম ব্রুমহলের চাচা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তিনি অবাক হয়েছেন এই জেনে যে ফেয়ারচাইল্ড তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এই নির্মমতার বিচার প্রত্যাশার দীর্ঘযাত্রা ত্রিশ বছরে শেষ হলোা। তবে পরিতাপের বিষয় এই ত্রিশ বছরে কোনোদিনই ফেয়ারচাইল্ড বলেননি তিনি অনুতপ্ত।
