post
বাংলাদেশ

রবিবার সারাদেশে বিএনপির সকাল-সন্ধা হরতাল

বিএনপি আগামীকাল রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। দলটি আজ শনিবার দ্বিতীয় দফায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ হরতালের কথা জানায়। দলটির মিডিয়া সেলের প্রধান জহিরউদ্দিন স্বপন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রথমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঢাকায় সকাল–সন্ধ্যা হরতালের কথা জানানো হয়েছিল।এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টনের মহাসমাবেশ থেকে ঢাকায় সকাল–সন্ধ্যা হরতালের এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ায় সমাবেশ পণ্ড হওয়ার আগমুহূর্তে তিনি ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন।ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কাকরাইল, বিজয়নগর এলাকায় সংঘর্ষ এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের এলাকায় বারবার বিকট শব্দের মধ্যে হরতালের ঘোষণা এল।এর আগে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখা হয়, ‘নয়াপল্টনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে আওয়ামী পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।’ তবে পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিএনপির পক্ষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, সারা দেশে নয়, আগামীকালের হরতাল শুধু ঢাকায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সারা দেশে হরতালের কথা জানানো হলো।বিএনপির মহাসমাবেশে অংশ নিতে নেতা-কর্মীরা সকাল থেকেই নয়াপল্টনে জড়ো হন। একপর্যায়ে কাকরাইল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ ব্যাপকভাবে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কাকরাইল মোড়ে একটি পুলিশ বক্স ও ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে রাখা দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।কাকরাইলের পর বেলা দুইটার দিকে শান্তিনগর মোড় ও বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকায়ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

post
বাংলাদেশ

যমুনা ফিউচার পার্কের ভিসা আবেদন সেন্টারের এ দৃশ্য প্রতিদিনের

বাংলাদেশের মানুষের নানা কারণে ভারতে যেতে হয়। অনেকের জন্য এটা এতটা জরুরি যে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোয় উপচে পড়া ভিড় দেখেই অনুমান করা যায়।যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা আবেদন সেন্টারের এ দৃশ্যটি প্রতিদিনের।মেডিকেল ভিসা, বিজনেস ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, ট্রানজিট ভিসাসহ প্রতিদিন আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। সারা দেশের ১৬টি কেন্দ্রে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের কম নয়।বুধবার (২৫ অ্ক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায় ভুক্তভোগীদের অসুস্থতা অবস্থায় ভিসা আবেদন করতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।এছাড়াও অনেক বাবা- মা ভিসা আবেদন করতে শিশুদের নিয়ে এসে পড়েছেন বিপাকে।এম. এ হামিদ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, 'ভিসা আবেদন করার পর শুধু পাসপোর্ট জমা দিতেই সময় লাগছে এক থেকে দেড় মাস, আবার প্রক্রিয়া শেষে শেষে সেই পাসপোর্ট ফিরে পেতে সময় লাগছে পনের থেকে বিশ দিন। ভিসা পেতে তাহলে কতদিন লাগবে? এই সমস্যাটি অত্যন্ত ভোগান্তির'।ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা আরো বলেন, 'একসময় ভারতীয় ভিসা দিনে দিনে পাওয়া যেত। সকালে ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন জমা দিলে বিকেলেই পাওয়া যেত ভিসা। পাকিস্তান আমল তো বটেই, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বেশ কয়েক বছর শুধু ভারত ভ্রমণের জন্য এক পাসপোর্ট ছিল; আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য আরেক পাসপোর্ট'।ক্রমান্বয়ে ভারতে যাওয়ার আলাদা পাসপোর্ট বিলুপ্ত হয়ে একক আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট হয়েছে। তবে সমস্যা হলো, ভারতীয় ভিসা পেতে এখন এক দিনের পরিবর্তে এক মাস নয়, তার চেয়েও বেশি সময় লাগছে। কখনো তা ৪০ দিন বা তারও বেশি।এর ফলে অনেকটা সময় ধরে পাসপোর্ট আটকে থাকছে, যা আবেদনকারীর জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এটাকে অনেকেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করছেন।

post
বাংলাদেশ

বৌভাতের শেরওয়ানি কিনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘা সুর এলাকায় ট্রাক ও মোটরবাইক সংঘর্ষে অংসু ( ২৬) নামে এক নববিবাহিত যুবক নিহত হয়েছেন।১৪ অক্টোবর, শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে বিকেল সোয়া চারটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা নিহতের বন্ধু আসিফ হোসেন শুভ বলেন, ‘গতকাল রাতেই বিয়ে করেছে অংসু। রাত তিনটার দিকে নতুন বউ নিয়ে বাসায় উঠে। আজ দুপুরের দিকে বৌভাতের আয়োজন ছিল। সে তার নিজের শেরওয়ানি কেনার জন্য বাসা থেকে বাইক নিয়ে যাবার পথে দুর্ঘটনায় মারা যায়।’নিহত মোটরবাইক চালক অংসু কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর এলাকার বাসিন্দা।

post
বাংলাদেশ

শাহজালাল বিমানবন্দর হবে আন্তর্জাতিক হাব, তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন শেষে শেখ হাসিনা

ঢাকাকেন্দ্রিক যোগাযোগের নির্ভরশীলতা কমাতে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বিমান যোগাযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর হবে বিমান যোগাযোগের আন্তর্জাতিক হাব।শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন নতুন টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করা হয়। আগামী বছর এর পুরোপরি কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের আন্তঃজেলা সংযোগ বিমানের মাধ্যমে যাতে হয়, সেই পরিকল্পনা নিয়েছি। কেউ যশোর থেকে সৈয়দপুর যাবে, সৈয়দপুর থেকে চট্টগ্রাম যাবে, যশোর থেকে কক্সবাজার যাবে অথবা কক্সবাজার থেকে যশোর যাবে, বিমানের মাধ্যমে হবে— এমন পরিকল্পনা আমাদের আছে।বিমানের নিরাপত্তার দিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি— উল্লেখ করে সরকার-প্রধান বলেন, ‘আমরা অত্যাধুনিক রাডার স্থাপন করেছি। তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপন করেছি। জেট ফুয়েল সবসময় নৌ-পথ বা সড়ক পথে পরিবহন করা হয়। এটি সরাসরি পাইপ লাইনে যাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসে, সেই পাইপ লাইন স্থাপনের কাজও শুরু করে দিচ্ছি। খুব শিগগিরই এটি সম্পন্ন হবে। যাতে আমাদের সময় বাঁচবে, অর্থ বাঁচবে।’তিনি বলেন, আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান হলো একদিকে ভারত মহাসাগর, অপরদিকে প্রশান্ত মহাসাগর; সঙ্গে আছে আমাদের বঙ্গোপসাগর। প্রাচীন যুগ থেকেই জায়গাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অবস্থানটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক এয়ার রুটের মাঝে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যদি উন্নত করতে পারি, যোগাযোগের জন্য একটা চমৎকার জায়গা হতে পারে। এ কারণে আমরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে যাচ্ছি। অন্যান্য বিমানবন্দরও আমরা উন্নত করছিপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমানসহ বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং (আংশিক উদ্বোধন) শেষে নবনির্মিত টার্মিনাল ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে বলে জানা গেছে।শনিবার সকাল ১০টার একটু পরই প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সেখানে শিশুরা নাচেগানে তাকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় টার্মিনালে যাত্রীদের কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, তা প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রীকে প্রতীকী একটি বোর্ডিং পাস দেন বিমানবন্দরের কর্মীরা। এরপর তিনি ইমিগ্রেশনে যান। ইমিগ্রেশন থেকে তিনি নিরাপত্তার ধাপগুলো পার হন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাবেক সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশের মানুষকে কিছুই দিয়ে যেতে পারেনি। আমরা এ দেশের মানুষকে সব দিয়েছি। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ ছিল না, পার্কিং ছিল না।‘১৯৯৬ সালে আমি যখন সরকারে আসি তখন আমরা বিমানবন্দরের উন্নয়নের উদ্যোগ নিই। চট্টগ্রাম ও সিলেট, এ দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও আমরা নির্মাণ করি। সঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরের উন্নয়নেপ্রকল্প গ্রহণ করি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১- এই সময়ে বিমানবন্দরের উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, যদি পারেন তাহলে ১৯৯৬ সালের আগ পর্যন্ত কী উন্নয়ন হয়েছিল, সেটি একটু দেখবেন।’‘যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একান্ত অপরিহার্য। আধুনিক যুগের নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ-পথও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে, বিদেশের সঙ্গে আমাদের যে যোগাযোগ, সেই যোগাযোগের মূল বাহন হচ্ছে বিমান। অর্থাৎ আকাশযাত্রাটা হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এটিকে গুরুত্ব দিই।’সরকার-প্রধান বলেন, আমাদের বিমানবন্দর যাতে আরও আধুনিক হয় এবং এতে যেন আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা যায়, সেজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ, আমাদের দেশ থেকে গিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা বসবাস করেন। তারা বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। আমাদের রেমিট্যান্স পাঠান। তারাও যাতায়াত করেন। তাদের সুবিধাটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের তৃতীয় টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) করা হয়েছে। দুই লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটারের মডার্ন টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে থাকবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। এতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইট এস্কেলেটর।নতুন এ টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাগের জন্য সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি ও ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের মতো অত্যাধুনিক তিনটি আলাদা স্টোরেজ এরিয়া করা হয়েছে। রেগুলার ব্যাগেজ স্টোরেজ, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড এবং অড সাইজ (অতিরিক্ত ওজনের) ব্যাগেজ স্টোরেজ। যাত্রীদের স্বাভাবিক ওজনের ব্যাগেজের ১৬টি রেগুলার ব্যাগেজ বেল্ট থাকবে টার্মিনালটিতে। অতিরিক্ত ওজনের (অড সাইজ) ব্যাগেজের জন্য স্থাপন করা হয়েছে আরও চারটি পৃথক বেল্ট।অত্যাধুনিক এ টার্মিনাল ভবনে থাকবে ১০টি সেলফ চেক-ইন কিওস্ক (মেশিন)। এগুলোতে নিজের পাসপোর্ট এবং টিকিটের তথ্য প্রবেশ করালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে বোর্ডিং পাস ও সিট নম্বর। এরপর নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী তার লাগেজ রেখে দেবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগেজগুলো এয়ারক্রাফটের নির্ধারিত স্থানে চলে যাবে। তবে নির্ধারিত ৩০ কেজির বেশি ওজনের ব্যাগেজ নিয়ে এখানে চেক-ইন করা যাবে না। সেসব যাত্রীদের জন্য আরও ১০০টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে এ টার্মিনালে।টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করছে স্যামসাং গ্রুপের কনস্ট্রাকশন ইউনিট স্যামসাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ট্রেডিং (সিঅ্যান্ডটি) কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুর্জ খলিফা, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, তাইপে ১০১, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনাল, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবুধাবির ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক। এছাড়াও টার্মিনালের ভেতরের ভবনটির নকশা তৈরি করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩, চীনের গুয়াঞ্জুর এটিসি টাওয়ার ভবন, ভারতের আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের নকশা তৈরি করেন।২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বৃহৎ এই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে অবশ্য প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

রোড মার্চ শেষে বিএনপির ৫ কর্মসূচি ঘোষণা

সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ও বিরোধীদের যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৬ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রোডমার্চ শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিবের ঘোষিত এই কর্মসূচির মধ্যে থাকছে- আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় শিক্ষক সমাবেশে। ৯ অক্টোবর খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা-মহানগরে সমাবেশে ও মিছিল। ১২ অক্টোবর সরকারের পদত্যাগের ১ দফা দাবিতে ঢাকায় ছাত্র কনভেনশন। ১৪ অক্টোবর খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা-মহানগরে অনশন। ১৬ অক্টোবর সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকায় যুব সমাবেশ। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় জনসমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা।

post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র স্যাংশন দিচ্ছে, আরও স্যাংশন দিতে পারে : ভয়েস অব আমেরিকাকে শেখ হাসিনা

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান শতরূপা বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াশিংটন সফরের সময় একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।তারা স্যাংশন দিচ্ছে, আরও স্যাংশন দিতে পারে, এটা তাদের ইচ্ছা। ২৭ সেপ্টেম্বর ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং র‍্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞাসহ মানবাধিকার ও ভোটসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করেন শতরূপা বড়ুয়া। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার এটাই প্রশ্ন যে হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই তারা আমাদের ওপর ভিসা স্যাংশন দিতে চাচ্ছে কী কারণে? আর মানবাধিকার বা ভোটের অধিকারের কথা যদি বলে, তাহলে আমরা আওয়ামী লীগ, আমরাই তো বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছি। আমাদের কত মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ভোটের অধিকার আদায় করার জন্য। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, তার জন্য যত রকমের সংস্কার, সেটা আমরাই তো করেছি—আজকে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, মানুষকে ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘“আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব”—এ স্লোগান তো আমার দেওয়া। আমি এভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছি। আমাদের দেশে বেশির ভাগ সময় মিলিটারি ডিক্টেটর (সামরিক স্বৈরাচার) দেশ শাসন করেছে। তখন তো মানুষের ভোট দেওয়া লাগেনি। তারা ভোটের বাক্স নিয়ে গিয়ে শুধু রেজাল্ট ঘোষণা দিয়েছে। এরই প্রতিবাদে আমরা আমাদের আন্দোলন–সংগ্রাম করে নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে নিয়ে আসতে পেরেছি। এখন মানুষ তার ভোটের অধিকার সম্পর্কে অনেক সচেতন। সেটা আমরা করেছি। কাজেই সেই ক্ষেত্রে হঠাৎ এই ধরনের কোনো স্যাংশন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমরা মনে করি না।’ র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী, আমাদের দেশের কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সেটা র‍্যাব হোক, পুলিশ বা যেটাই হোক, কেউ যদি কোনো রকম অন্যায় করে, আমাদের দেশে কিন্তু তাদের বিচার হয়। এই বিচারে কিন্তু কেউ রেহাই পায় না। অনেক সময় কোনো কাজ তারা অতিরিক্ত করে, করতে পারে। কিন্তু করলে সেটা আমাদের দেশের আইনেই সেটার বিচার হচ্ছে। যেখানে এমন বিচার হচ্ছে, এ ধরনের ব্যবস্থা আছে, সেখানে এই স্যাংশনে কী কারণে?’ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন—প্রতিটি সুষ্ঠুভাবে হয়েছে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এসব নির্বাচনে মানুষ তার ভোট দিয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এই নির্বাচনগুলো নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তবতাটা কী, বাংলাদেশের মানুষ তার ভোটের অধিকার নিয়ে সব সময় সচেতন। কেউ ভোট চুরি করলে তাদের ক্ষমতায় থাকতে দেয় না।’ ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল, বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথা, ‘এখন আর বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ নেই, এখন মানুষের সে রকম হাহাকার নেই, এমনকি আমাদের যে বেকারত্ব, সেটাও কিন্তু কমে এখন মাত্র ৩ শতাংশ। সেটাও তারা ইচ্ছা করলে কাজ করে খেতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ, ওয়াই–ফাই কানেকশন সারা বাংলাদেশে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটের অভূতপূর্ব উন্নয়ন আমরা করে দিয়েছি; মানুষ যেন কাজ করে খেতে পারে। আমাদের বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং; আমরা এগুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এভাবে দেশের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে এভাবে স্যাংশন দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেওয়া...। তো ঠিক আছে, স্যাংশন দিলে (বাংলাদেশিরা) আমেরিকা আসতে পারবে না, আসবে না। না আসলে কী আসবে-যাবে? আমাদের দেশে এখন যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। কাজেই আমরা দেখি, কী করে তারা। কেন তাদের এই স্যাংশন জারি।’ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বাধাদানকারী ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া শুরুর ঘোষণা আসে ২২ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ২৪ মে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না দেশটি। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

post
বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭ তম জন্মদিন আজ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মধুমতী নদীবিধৌত টুঙ্গিপাড়ার কৃতী সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনা টানা তিন মেয়াদে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে উন্নয়নের একটি রোল মডেল হিসাবে পরিচিত করেছেন তিনি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশের মাটিতে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সায়েরা খাতুনের আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেলসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন। তবে দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া কেউই এখন আর জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বাবা বঙ্গবন্ধু এবং মা বেগম ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন। সেদিন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দুই বোন। সঙ্গে ছিলেন শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া আর তাদের দুই শিশু সন্তান জয় ও পুতুল। এরপর বঙ্গবন্ধু পরিবারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। তিনি পশ্চিম জার্মানি হয়ে ভারতের দিল্লিতে আসেন এবং দেশে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ছয় বছর নির্বাসন জীবন কাটে দেশটিতে।শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে ১৯৬৮ সালে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। বদরুন্নেসার ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। দিল্লিতে ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেন তিনি। পরবর্তীকালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এরশাদ সরকারবিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৯০ সালে এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় আসে। ১৯৯৬ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বামপন্থি দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে মাথা নত করতে বাধ্য হয় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়। এরপর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠন করে।

post
বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জায়গায় আসছে সাইবার নিরাপত্তা আইন!

অবশেষে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনটির বেশকিছু ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইন করা হবে।৭ আগস্ট সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হচ্ছে না, পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর অনেকগুলো ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইন করা হবে- মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও দমনে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মোট ৫টি ধারা বিলুপ্ত করে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ পাস হয়। এর পর থেকেই এই আইন বাতিল ও সংশোধন চেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল। একই বছরের ৮ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হয়। শুরু থেকেই আইনটির অপব্যবহারের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচনা হয়। গত ২৫ জুলাই সচিবালয়ে ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জিডিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী আসছে। বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেকগুলো ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।লেখক, কবি, সাংবদিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহল দীর্ঘদিন ধরেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে বহুবার আইনটি সংশোধনের আশ্বাস দিলেও তা করা হয়নি। তবে গত ২৫ জুলাই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

post
বাংলাদেশ

বগুড়ায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

এক দশক পর ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ব্যানারে বগুড়ায় প্রকাশ্যে সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।সুইডেনে পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবার (৭ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে মিছিলটি বের হয়। পরে শহরের সাতমাথা হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।মিছিল শুরুর আগে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি ও জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির আলমগীর হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল বক্তব্য রাখেন।ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, সুইডেন সরকারের সহায়তায় একজন ব্যক্তি নিজস্ব উদ্দীপনা নিয়ে আল্লাহর কোরআন পুড়িয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, সুইডেনে ঈদুল আজহার দিনে একজন নাগরিক সরকারের সহযোগিতায় বাক স্বাধীনতার নামে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে অগ্নিসংযোগ করে বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের মনে আঘাত দিয়েছে।এসময় অবিলম্বে সুইডেন সরকারকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান জামায়াতের এ নেতা। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুইডেন সরকারের সঙ্গে সবরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানান।সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক ব্যানার ও স্লোগান ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। তবে দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মিছিলের পুরো সময় নিজস্ব রাজনৈতিক স্লোগান ও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।এদিকে জুমার নামাজের আগে থেকেই সমাবেশ স্থল ও বগুড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, সাধারণ মুসল্লিদের ব্যানারে মিছিল হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে কেউ এ কর্মসূচি ব্যবহারের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

post
বাংলাদেশ

জিআই পণ্যের মর্যাদা পেল বগুড়ার দই

শতকের সত্তরের দশকে জিনিসপত্রের দাম যখন চড়চড় করে বাড়ছিল, সেই সময় বগুড়ার শেরপুরের বিখ্যাত দইয়ের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে একলাফে ৫ টাকায় ওঠে। দইয়ের স্বাদ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। তখন এ নিয়ে গান বেঁধেছিলেন বগুড়ার বিখ্যাত গানের দল বগুড়া ইয়ুথ কয়্যারের শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার তৌফিকুল আলম টিপু। গানের কথা—‘গোবরা তুই খ্যায়া যা শেরপুরের দই, পাঁচ শিকা আছলো এখন পাঁচ টেকায় লই।’বগুড়ার বিখ্যাত সেই সরার দই এবার পেল ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ২৬ জুনের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিন বগুড়ার দই ছাড়া জিআই স্বীকৃতি পাওয়া অন্য পণ্যগুলো হলো শেরপুর জেলার তুলসীমালা ধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম। এ নিয়ে দেশের ১৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেল।কোনো একটি দেশের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মাটি, পানি, আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি। এরপর একে একে স্বীকৃতি পায় ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, মসলিন, বাগদা চিংড়ি, কালিজিরা চাল, বিজয়পুরের সাদা মাটি, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম। নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হলো বগুড়ার দইসহ চার পণ্য। এখন থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জুন দই ছাড়াও তিনটিকে জিআই পণ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।জিল্লুর রহমান বলেন, কোনো পণ্যের জিআই স্বীকৃতির আবেদন এলে তা যাচাই-বাছাই করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এরপর দুই মাস সময় দেওয়া, এ নিয়ে কারও কোনো আপত্তি আছে কি না। আপত্তি না থাকলে ওই পণ্যের স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হয়। বগুড়ার দইয়ের ক্ষেত্রেও কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি। তাই এর স্বীকৃতি মিলেছে।বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে দই। ছবিটি আজ বুধবার বগুড়ার শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকান থেকে তোলা।বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে দই। ছবিটি আজ বুধবার বগুড়ার শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকান থেকে তোলা।ছবি: প্রথম আলোবগুড়ার দইয়ের ইতিহাস শুরু শেরপুরেবগুড়ার দইয়ের জিআই পণ্যের স্বীকৃতির জন্য বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি তাদের আবেদনে এর ইতিহাস তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা কিংবা অঞ্চলে দই উৎপাদিত হলেও কিছু বিশেষত্বের কারণে ‘বগুড়ার দই’-এর খ্যাতি দেশজুড়ে।উৎপাদনব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরদের (উৎপাদক) বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা যত্নবান হওয়ায় বগুড়ার দই স্বাদে-গুণে তুলনাহীন। প্রায় ১৫০ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষ পরিবারের হাত ধরে বগুড়ার দইয়ের উৎপাদন শুরু হয়। শেরপুরে দই তৈরির প্রবর্তক ঘোষপাড়ার নীলকণ্ঠ ঘোষ।পরবর্তী সময়ে বগুড়ার নওয়াব আলতাফ আলী চৌধুরীর (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর বাবা) পৃষ্ঠপোষকতায় শেরপুরের ঘোষপাড়ার অন্যতম বাসিন্দা শ্রী গৌর গোপাল পাল বগুড়া শহরে দই উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে নওয়াববাড়ি রোডে তাঁর উত্তরসূরি দুই সন্তান শ্রী বিমল চন্দ্র পাল ও শ্রী স্বপন চন্দ্র পাল ‘শ্রী গৌর গোপাল দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামে সেই প্রাচীন দোকানটি চালু রেখেছেন।পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী তৎকালীন পার্লামেন্ট সদস্যদের দই খাইয়ে বাহবা পেয়েছিলেন বলে শ্রী স্বপন চন্দ্র পাল তাঁর দাদুর মুখে শুনেছেন।বিদেশে বগুড়ার দইয়ের খ্যাতি প্রথম ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছরের গোড়ার দিকে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন বগুড়া নওয়াববাড়িতে বেড়াতে এসে প্রথম দইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন।তাঁকে কাচের পাত্রে তৈরি করা বিশেষ ধরনের দই খেতে দেওয়া হয়। লোভনীয় স্বাদের কারণে গভর্নর এন্ডারসন বগুড়ার দই ইংল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।পণ্যের জিআই স্বীকৃতির গুরুত্ব কোথায়আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিপিডিটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি ও সনদ দিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন হয়। ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা তৈরির পর জিআই পণ্যের নিবন্ধন নিতে আহ্বান জানায় ডিপিডিটি।কোনো পণ্যের জিআই স্বীকৃতির অন্তত দুটো তাৎপর্য আছে। ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, প্রথম গুরুত্ব হলো এর মাধ্যমে কোনো পণ্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকার বলে চিহ্নিত হয়। এর বৈশ্বিক স্বীকৃতি মেলে। দ্বিতীয় গুরুত্ব হলো, এর মাধ্যমে পণ্যটির বাণিজ্যিকীকরণের সুবিধা হয়। পণ্যটি যখন বাইরের দেশে পাঠানো হয়, তখন জিআই স্বীকৃতি পণ্যের মান ও দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.