post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র স্যাংশন দিচ্ছে, আরও স্যাংশন দিতে পারে : ভয়েস অব আমেরিকাকে শেখ হাসিনা

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান শতরূপা বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াশিংটন সফরের সময় একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।তারা স্যাংশন দিচ্ছে, আরও স্যাংশন দিতে পারে, এটা তাদের ইচ্ছা। ২৭ সেপ্টেম্বর ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং র‍্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞাসহ মানবাধিকার ও ভোটসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করেন শতরূপা বড়ুয়া। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার এটাই প্রশ্ন যে হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই তারা আমাদের ওপর ভিসা স্যাংশন দিতে চাচ্ছে কী কারণে? আর মানবাধিকার বা ভোটের অধিকারের কথা যদি বলে, তাহলে আমরা আওয়ামী লীগ, আমরাই তো বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছি। আমাদের কত মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ভোটের অধিকার আদায় করার জন্য। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, তার জন্য যত রকমের সংস্কার, সেটা আমরাই তো করেছি—আজকে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, মানুষকে ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘“আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব”—এ স্লোগান তো আমার দেওয়া। আমি এভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছি। আমাদের দেশে বেশির ভাগ সময় মিলিটারি ডিক্টেটর (সামরিক স্বৈরাচার) দেশ শাসন করেছে। তখন তো মানুষের ভোট দেওয়া লাগেনি। তারা ভোটের বাক্স নিয়ে গিয়ে শুধু রেজাল্ট ঘোষণা দিয়েছে। এরই প্রতিবাদে আমরা আমাদের আন্দোলন–সংগ্রাম করে নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে নিয়ে আসতে পেরেছি। এখন মানুষ তার ভোটের অধিকার সম্পর্কে অনেক সচেতন। সেটা আমরা করেছি। কাজেই সেই ক্ষেত্রে হঠাৎ এই ধরনের কোনো স্যাংশন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমরা মনে করি না।’ র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী, আমাদের দেশের কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সেটা র‍্যাব হোক, পুলিশ বা যেটাই হোক, কেউ যদি কোনো রকম অন্যায় করে, আমাদের দেশে কিন্তু তাদের বিচার হয়। এই বিচারে কিন্তু কেউ রেহাই পায় না। অনেক সময় কোনো কাজ তারা অতিরিক্ত করে, করতে পারে। কিন্তু করলে সেটা আমাদের দেশের আইনেই সেটার বিচার হচ্ছে। যেখানে এমন বিচার হচ্ছে, এ ধরনের ব্যবস্থা আছে, সেখানে এই স্যাংশনে কী কারণে?’ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন—প্রতিটি সুষ্ঠুভাবে হয়েছে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এসব নির্বাচনে মানুষ তার ভোট দিয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এই নির্বাচনগুলো নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তবতাটা কী, বাংলাদেশের মানুষ তার ভোটের অধিকার নিয়ে সব সময় সচেতন। কেউ ভোট চুরি করলে তাদের ক্ষমতায় থাকতে দেয় না।’ ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল, বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথা, ‘এখন আর বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ নেই, এখন মানুষের সে রকম হাহাকার নেই, এমনকি আমাদের যে বেকারত্ব, সেটাও কিন্তু কমে এখন মাত্র ৩ শতাংশ। সেটাও তারা ইচ্ছা করলে কাজ করে খেতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ, ওয়াই–ফাই কানেকশন সারা বাংলাদেশে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটের অভূতপূর্ব উন্নয়ন আমরা করে দিয়েছি; মানুষ যেন কাজ করে খেতে পারে। আমাদের বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং; আমরা এগুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এভাবে দেশের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে এভাবে স্যাংশন দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেওয়া...। তো ঠিক আছে, স্যাংশন দিলে (বাংলাদেশিরা) আমেরিকা আসতে পারবে না, আসবে না। না আসলে কী আসবে-যাবে? আমাদের দেশে এখন যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। কাজেই আমরা দেখি, কী করে তারা। কেন তাদের এই স্যাংশন জারি।’ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বাধাদানকারী ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া শুরুর ঘোষণা আসে ২২ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ২৪ মে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না দেশটি। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

post
বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭ তম জন্মদিন আজ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মধুমতী নদীবিধৌত টুঙ্গিপাড়ার কৃতী সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনা টানা তিন মেয়াদে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে উন্নয়নের একটি রোল মডেল হিসাবে পরিচিত করেছেন তিনি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশের মাটিতে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সায়েরা খাতুনের আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেলসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন। তবে দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া কেউই এখন আর জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বাবা বঙ্গবন্ধু এবং মা বেগম ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন। সেদিন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দুই বোন। সঙ্গে ছিলেন শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া আর তাদের দুই শিশু সন্তান জয় ও পুতুল। এরপর বঙ্গবন্ধু পরিবারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। তিনি পশ্চিম জার্মানি হয়ে ভারতের দিল্লিতে আসেন এবং দেশে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ছয় বছর নির্বাসন জীবন কাটে দেশটিতে।শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে ১৯৬৮ সালে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। বদরুন্নেসার ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। দিল্লিতে ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেন তিনি। পরবর্তীকালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এরশাদ সরকারবিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৯০ সালে এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় আসে। ১৯৯৬ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বামপন্থি দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে মাথা নত করতে বাধ্য হয় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়। এরপর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠন করে।

post
বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জায়গায় আসছে সাইবার নিরাপত্তা আইন!

অবশেষে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনটির বেশকিছু ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইন করা হবে।৭ আগস্ট সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হচ্ছে না, পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর অনেকগুলো ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইন করা হবে- মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও দমনে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মোট ৫টি ধারা বিলুপ্ত করে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ পাস হয়। এর পর থেকেই এই আইন বাতিল ও সংশোধন চেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল। একই বছরের ৮ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হয়। শুরু থেকেই আইনটির অপব্যবহারের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচনা হয়। গত ২৫ জুলাই সচিবালয়ে ইইউর বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জিডিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী আসছে। বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেকগুলো ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।লেখক, কবি, সাংবদিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহল দীর্ঘদিন ধরেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে বহুবার আইনটি সংশোধনের আশ্বাস দিলেও তা করা হয়নি। তবে গত ২৫ জুলাই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

post
বাংলাদেশ

বগুড়ায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

এক দশক পর ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ব্যানারে বগুড়ায় প্রকাশ্যে সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।সুইডেনে পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবার (৭ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে মিছিলটি বের হয়। পরে শহরের সাতমাথা হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।মিছিল শুরুর আগে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি ও জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির আলমগীর হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল বক্তব্য রাখেন।ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, সুইডেন সরকারের সহায়তায় একজন ব্যক্তি নিজস্ব উদ্দীপনা নিয়ে আল্লাহর কোরআন পুড়িয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, সুইডেনে ঈদুল আজহার দিনে একজন নাগরিক সরকারের সহযোগিতায় বাক স্বাধীনতার নামে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে অগ্নিসংযোগ করে বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের মনে আঘাত দিয়েছে।এসময় অবিলম্বে সুইডেন সরকারকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান জামায়াতের এ নেতা। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুইডেন সরকারের সঙ্গে সবরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানান।সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক ব্যানার ও স্লোগান ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। তবে দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মিছিলের পুরো সময় নিজস্ব রাজনৈতিক স্লোগান ও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।এদিকে জুমার নামাজের আগে থেকেই সমাবেশ স্থল ও বগুড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, সাধারণ মুসল্লিদের ব্যানারে মিছিল হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে কেউ এ কর্মসূচি ব্যবহারের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

post
বাংলাদেশ

জিআই পণ্যের মর্যাদা পেল বগুড়ার দই

শতকের সত্তরের দশকে জিনিসপত্রের দাম যখন চড়চড় করে বাড়ছিল, সেই সময় বগুড়ার শেরপুরের বিখ্যাত দইয়ের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে একলাফে ৫ টাকায় ওঠে। দইয়ের স্বাদ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। তখন এ নিয়ে গান বেঁধেছিলেন বগুড়ার বিখ্যাত গানের দল বগুড়া ইয়ুথ কয়্যারের শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার তৌফিকুল আলম টিপু। গানের কথা—‘গোবরা তুই খ্যায়া যা শেরপুরের দই, পাঁচ শিকা আছলো এখন পাঁচ টেকায় লই।’বগুড়ার বিখ্যাত সেই সরার দই এবার পেল ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ২৬ জুনের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিন বগুড়ার দই ছাড়া জিআই স্বীকৃতি পাওয়া অন্য পণ্যগুলো হলো শেরপুর জেলার তুলসীমালা ধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম। এ নিয়ে দেশের ১৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেল।কোনো একটি দেশের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মাটি, পানি, আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি। এরপর একে একে স্বীকৃতি পায় ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, মসলিন, বাগদা চিংড়ি, কালিজিরা চাল, বিজয়পুরের সাদা মাটি, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম। নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হলো বগুড়ার দইসহ চার পণ্য। এখন থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জুন দই ছাড়াও তিনটিকে জিআই পণ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।জিল্লুর রহমান বলেন, কোনো পণ্যের জিআই স্বীকৃতির আবেদন এলে তা যাচাই-বাছাই করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এরপর দুই মাস সময় দেওয়া, এ নিয়ে কারও কোনো আপত্তি আছে কি না। আপত্তি না থাকলে ওই পণ্যের স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হয়। বগুড়ার দইয়ের ক্ষেত্রেও কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি। তাই এর স্বীকৃতি মিলেছে।বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে দই। ছবিটি আজ বুধবার বগুড়ার শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকান থেকে তোলা।বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে দই। ছবিটি আজ বুধবার বগুড়ার শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকান থেকে তোলা।ছবি: প্রথম আলোবগুড়ার দইয়ের ইতিহাস শুরু শেরপুরেবগুড়ার দইয়ের জিআই পণ্যের স্বীকৃতির জন্য বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি তাদের আবেদনে এর ইতিহাস তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা কিংবা অঞ্চলে দই উৎপাদিত হলেও কিছু বিশেষত্বের কারণে ‘বগুড়ার দই’-এর খ্যাতি দেশজুড়ে।উৎপাদনব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরদের (উৎপাদক) বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা যত্নবান হওয়ায় বগুড়ার দই স্বাদে-গুণে তুলনাহীন। প্রায় ১৫০ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষ পরিবারের হাত ধরে বগুড়ার দইয়ের উৎপাদন শুরু হয়। শেরপুরে দই তৈরির প্রবর্তক ঘোষপাড়ার নীলকণ্ঠ ঘোষ।পরবর্তী সময়ে বগুড়ার নওয়াব আলতাফ আলী চৌধুরীর (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর বাবা) পৃষ্ঠপোষকতায় শেরপুরের ঘোষপাড়ার অন্যতম বাসিন্দা শ্রী গৌর গোপাল পাল বগুড়া শহরে দই উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে নওয়াববাড়ি রোডে তাঁর উত্তরসূরি দুই সন্তান শ্রী বিমল চন্দ্র পাল ও শ্রী স্বপন চন্দ্র পাল ‘শ্রী গৌর গোপাল দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামে সেই প্রাচীন দোকানটি চালু রেখেছেন।পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী তৎকালীন পার্লামেন্ট সদস্যদের দই খাইয়ে বাহবা পেয়েছিলেন বলে শ্রী স্বপন চন্দ্র পাল তাঁর দাদুর মুখে শুনেছেন।বিদেশে বগুড়ার দইয়ের খ্যাতি প্রথম ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছরের গোড়ার দিকে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন বগুড়া নওয়াববাড়িতে বেড়াতে এসে প্রথম দইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন।তাঁকে কাচের পাত্রে তৈরি করা বিশেষ ধরনের দই খেতে দেওয়া হয়। লোভনীয় স্বাদের কারণে গভর্নর এন্ডারসন বগুড়ার দই ইংল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।পণ্যের জিআই স্বীকৃতির গুরুত্ব কোথায়আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিপিডিটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি ও সনদ দিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন হয়। ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা তৈরির পর জিআই পণ্যের নিবন্ধন নিতে আহ্বান জানায় ডিপিডিটি।কোনো পণ্যের জিআই স্বীকৃতির অন্তত দুটো তাৎপর্য আছে। ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, প্রথম গুরুত্ব হলো এর মাধ্যমে কোনো পণ্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকার বলে চিহ্নিত হয়। এর বৈশ্বিক স্বীকৃতি মেলে। দ্বিতীয় গুরুত্ব হলো, এর মাধ্যমে পণ্যটির বাণিজ্যিকীকরণের সুবিধা হয়। পণ্যটি যখন বাইরের দেশে পাঠানো হয়, তখন জিআই স্বীকৃতি পণ্যের মান ও দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

post
বাংলাদেশ

প্রেমের টানে মালয়েশিয়ান তরুণী ছুটে এলেন বাংলাদেশে

এবার প্রেমের টানে বাংলাদেশের নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এসেছেন মালয়েশীয় তরুণী স্মৃতি আয়েশা বিন রামাসামি (২২)। এই তরুণী বাংলাদেশে এসে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ফরহাদ হোসেনকে (২৬) বিয়ে করেছেন। মালয়েশিয়ায় একই কোম্পানিতে চাকরির সুবাধে ফরহাদের সাথে পরিচয় হয় রামাসামির। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে।চলতি বছর দেশে ফেরেন ফরহাদ। এর পর ফরহাদের প্রেমে ছুটে আসেন প্রেমিকা রামাসামি। গত ২৪ জুন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন রামাসামি। পরে একই দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার বাসায় পৌঁছান তিনি।জানা যায়, রামাসামি বাংলাদেশে আসার পর দিন ২৫ জুন এফিডেভিটের মাধ্যমে ফরহাদ ও স্মৃতি আয়েশা বিন রামাসামি বিয়ে করেন। অনেকেই মালয়েশীয় নববধূকে দেখতে ছুটে আসছেন ফরহাদের বাড়িতে। ভিনদেশী কন্যা পেয়ে খুশি ফরহাদের পরিবার। বর্তমানে চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার বাসায় ফরহাদের সঙ্গে সংসার করছেন মালয়েশীয় এই তরুণী।ফরহাদ জানান, তিনি মালয়েশীয় একটি কোম্পানিতে প্রায় পাঁচ বছর চাকরি করার পর চলতি বছর দেশে ফিরে আসেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের দুজনের পরিচয়। এক সময় পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা দুজই বিয়ে করার সিন্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর পর রামাসামি বাংলাদেশে আসেন। তিনি আসার একদিন পরই তারা বিয়ে করেন।  বিয়ের পর ভাঙা ভাঙা বাংলায় রামাসামি বলেন, সকলে আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আয়শা বিন রামাসামি আরও বলেন, তিনি ফরহাদকে ভালোবাসেন। শ্বশুর বাড়ির লোকজন অথিতিপরায়ণ। সবার আন্তরিকতা খুব ভালো লাগছে। শ্বশুরের পরিবারের সবাই তাকে আপন করে নিয়েছেন। বাংলাদেশি খাবার এবং পরিবেশ তার ভালো লেগেছে। এটা তার স্বামীর দেশ। এ দেশকে তিনি ভালোবাসেন। 

post
বাংলাদেশ

গাবতলী হাটে বিক্রি হল না ৪০ মণ ওজনের ডন নং ওয়ান

দুটি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে এসেছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর খামারি রফিকুল ইসলাম। শখ করে দুটি গরুর নাম রেখেছিলেন রাজা ও বাদশা। ইচ্ছে ছিল নিজের হাতে পালা এ দুটি গরুকে কোরবানির হাটে ভালো দামে বিক্রি করবেন। হাটে আনার পর মালা পরিয়ে রাজা-বাদশাকে সাজিয়েছিলেনও। কিন্তু আজ বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেও একটিও বিক্রি হয়নি। বিষণ্ন মনে রাজা-বাদশাকে শাসনের জন্য সঙ্গে রাখা বাঁশের লাঠিতে মাথা ঠেকিয়ে বসে ছিলেন তিনি।রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনটা খুব খারাপ ভাই। মানুষ খালি উল্টাপাল্টা দাম বলে। কত কষ্ট কইরা, কত আশা কইরা এই দুইটারে পালছি, এটার কথা মানুষ ভাবে না।’ তিনি জানান, বিক্রি করতে না পারলে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। পরে কসাইদের কাছে ভালো দাম পেলে বিক্রি করে দেবেন। আর যদি হাটেও কোনো কসাই ভালো দাম বলে, তাহলে বিক্রি করে দিয়ে যাবেন।কথা বলে জানা গেল, কালো রঙের রাজার ওজন প্রায় ২৩ মণ আর সাদা রঙের বাদশার ওজন ২৫ মণ। রাজা-বাদশার খাবারের পেছনে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা খরচ হয়েছে। রাজাকে ১৬ লাখ টাকায় আর বাদশাকে ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে আশা করেছিলেন। আর এখন রাজার জন্য চাইছেন ৭ লাখ টাকা আর বাদশার জন্য ৮ লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা।শুধু রফিকুল ইসলামের আনা বড় আকারের রাজা ও বাদশাই নয়, এবার গাবতলীর হাটে আনা বেশির ভাগ বড় আকারের গরুই এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। এসব গরুর মধ্যে রয়েছে ৪০ মণ ওজনের ডন নাম্বার ওয়ান, নেপালি সংকর প্রজাতির ৩০ মণ ওজনের লাল বাহাদুর, সাড়ে ২৭ মণ ওজনের রাজা বাবু এবং ২২ মণ ওজনের কালো মানিকসহ বাহারি নামের আরও অনেক গরু।এসব গরু হাটের যে অংশে রাখা হয়েছে, সেখানে ক্রেতাদের সমাগমও খুব বেশি একটা নেই। হাটে যাওয়া উৎসুক মানুষ সেলফি তুলতে এবং গরুর দাম শুনতেই গরুগুলোর আশপাশে ভিড় করছেন।৪০ মণ ওজনের ফরিদপুরের ডন নাম্বার ওয়ানকে এই হাটে বিক্রির জন্য এনেছিলেন খামারি রুবায়েত হোসেন। দাম চেয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকা। হাটে আনার পর সাড়ে ১৮ লাখ টাকা দামও উঠেছিল। তখন বিক্রি করেননি।মন খারাপ করে রুবায়েত হোসেন জানালেন, হাটে বড় গরুর ক্রেতা একেবারেই নেই। বিক্রি করার মতো দাম কেউ বলছে না। বিক্রি না হলে সাড়ে চার বছর বয়সের ডন নাম্বার ওয়ানকে তিনি আরেক বছর পালার চেষ্টা করবেন বলেও জানালেন।এদিকে ডন নাম্বার ওয়ানের সঙ্গে ছোট আকারের একটি গরু ফ্রি দেবেন বলেও সঙ্গে এনেছিলেন। বড় গরুটি বিক্রি করতে না পেরে শেষে ফ্রি দিতে নিয়ে আসা ছোট গরুটিই তিনি ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।নেপালি সংকর প্রজাতির ৩০ মণ ওজনের লাল বাহাদুরকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে এনেছিলেন খামারি আরিফুল ইসলাম। প্রথমে এই গরুর জন্য তিনি দাম চেয়েছিলেন ২২ লাখ টাকা। এখন ১০-১২ লাখ হলেও বিক্রি করে দেবেন বলে জানালেন। কিন্তু ক্রেতারা লাল বাহাদুরের জন্য সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গরুটিকে নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে গেলে আবার পালতে হবে। আর মাংস বিক্রির কসাইদের কাছে খুব বেশি দাম পাওয়া যাবে না।’ তাই যদি মোটামুটি দাম পান, তাহলেও বিক্রি করে দেওয়ার ইচ্ছা আছে।গরু বিক্রি করতে না পারায় মন খারাপ লাগা নিয়ে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে এই হাটে গরু নিয়ে আসা মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। তিনি ২২ মণ ওজনের কালো মানিক নামের গরুটিকে নিয়ে এসেছিলেন।কথা না বাড়িয়ে শুধু এইটুকু বললেন, ‘গরুটাকে আমি সাড়ে তিন বছর পালছি। দিনে ওর পেছনে ৫০০ টাকার ওপরে খাবার খরচ লাগছে। এই গরুটার জন্য দাম বলে মাত্র ৫ লাখ টাকা। এত কমে গরু বেচলে তো মরা ছাড়া কোনো গতি নাই।’ সবশেষ ৭ লাখ টাকা হলেও তিনি গরুটি বিক্রি করবেন বলে জানান।গাবতলীর হাটে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারিরা বড় আকারের গরু নিয়ে আসেন। বিশাল আকারের এসব গরুর বিভিন্ন ধরনের বাহারি নামও দেওয়া হয়ে থাকে। হাটে গরু নিয়ে আসা পাইকারেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই কোরবানিতে বড় গরুর চাহিদা অনেক কমে গেছে। এখন হাটগুলোতে খুব বেশি একটা বড় গরু বিক্রি হয় না। তাই নিজের ঘরে কোনো গরুকে পালন করে বড় করাও এখন অনেক ঝুঁকির।এদিকে হাটে বড় গরু খুব বেশি একটা বিক্রি না হলেও গত কয়েক দিনের মতো ঈদের এক দিন আগে আজ দিনভর ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি থাকায় বিকেলের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা হাটে পশু কিনতে ভিড় করতে থাকেন। আজকে গরুর দামও তুলনামূলকভাবে কমেছে বলে জানান হাটে গরু কিনতে যাওয়া ক্রেতারা।

post
বাংলাদেশ

'সাংবাদিক হত্যা মামলায় এখন ২ ও ৩ নম্বরসহ এজাহারভুক্ত ১৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি'

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত বাকি আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের মেয়ে রাব্বিলা তুল জান্নাত (১৯)। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ওই পোস্টে রাব্বিলা তুল জান্নাত লিখেন, ‘আমার আব্বু গোলাম রাব্বানী নাদিমকে মেরে ফেলা হয়েছে আজকে নিয়ে ৮ দিন হয়ে গেল। র‍্যাব কর্তৃক এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামিসহ চারজন সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয় ছয়দিন আগে। হাস্যকর বিষয় হলো–এখন পর্যন্ত ২ নম্বর আসামি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানের ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাত, ৩ নম্বর আসামি রাকিব বিল্লাহ, ৯ নম্বর আসামি শামিম খন্দকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন মণ্ডলসহ এজাহারভুক্ত ১৭ জন আসামি কেন এখনো গ্রেপ্তার হলো না। প্রশাসন কি ঘুমিয়ে আছেন, ঘুমিয়ে থাকলে জেগে উঠুন। এক কলম হারিয়েছে, কিন্তু হাজার কলম আমাদের পাশে আছে।’ তিনি আরও লিখেন, ‘সবার কাছে আমাদের চাওয়া একটাই, আমার বাবার খুনিরা যাতে রক্ষা না পায়। তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে। মামলা হয়েছে ৭ দিন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মামলা হওয়ার পর একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে আমাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা সন্দেহ দানা বাঁধছে।’ গত ১৪ জুন (বুধবার) রাতে জামালপুরের বকশীগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজের জেলা প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী নাদিম। পরদিন বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তিনি মারা যান।পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বকশীগঞ্জ থানার–পুলিশ নয়জনকে আটক করে। এরপর আর কোনো আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়নি। তবে মামলার আগে র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করে। তাঁদের সবাইকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেন। এর মধ্যে প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আজ (শুক্রবার) শেষ হয়েছে। পুলিশের হাতে আটক নয়জনের মধ্যে সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। বাকি চারজনকে পুলিশের তদন্তে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে।গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু, রেজাউল করিম, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মিলন মিয়া, মো. গোলাম কিবরিয়া, জাকিরুল ইসলাম, শহিদুর রহমান, মো. তোফাজ্জল, আয়নাল হক, মো. কফিল উদ্দিন, মো. ফজলু মিয়া, মো. মুকবুল ও মো. ওহিদুজ্জামান। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে ওই সব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।তবে আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাকি আসামিরা গ্রেপ্তার হবেন। একই সঙ্গে মামলাটি আমরা খুব গুরুত্ব দিয়েই দেখছি এবং কাজ করছি।’ এদিকে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে বলেন, ‘নাদিম হত্যার বিষয়ে আমি কোনো কথাই বলব না। আপনারা কার কাছ থেকে নেবেন নিয়ে লেখেন।’ 

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ শরীর গঠন ফেডারেশনের সভাপতি আদম তমিজি হক

বাংলাদেশ বডিবিল্ডিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আদম তমিজী হক। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে শেখ হামিম হাসানকে। বুধবার (২১ জুন) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিংহ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বডিবিল্ডিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী আদম তমিজী হক বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য আর শেখ হামিম হাসান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালকের (প্রশাসন) দায়িত্ব পালন করছেন।প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ বডিবিল্ডিং ফেডারেশনের কমিটিতে ডা. জায়াদুর রহমান ওয়াদুদ ও জব্বার হোসেনকে সহসভাপতি এবং আবুল হোসেন, ফজলে এলাহী ও মাহমুদ হোসেন খান দুলালকে সদস্য করা হয়।প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গঠিত অ্যাডহক কমিটি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ শরীর গঠন ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করবেন এবং ওই সময়ের মধ্যে সার্বক্ষণিক কার্যাবলী সম্পন্ন করবে।বাংলাদেশ শরীর গঠন ফেডারেশনের বিদ্যমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮ এর ২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অ্যাডহক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পালানোর সময় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার হয়েছেন প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম।বুধবার মধ্যরাতে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অর্থ পাচারের এক মামলায় বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার পর তিনি গ্রেফতার হলেন।গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিআইডির একটি সূত্র। সূত্রটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডির কাছে আবুল কাশেমকে বুঝিয়ে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হলে শুনানির জন্য ২৫ জুন তারিখ রাখেন বিচারক। সেইসঙ্গে আবুল কাশেমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।অর্থ পাচারের মামলায় বুধবার ই-কমার্স কোম্পানি আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর আলম শিকদারসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় আদালত নিষেধাজ্ঞা দেয় তাদেরই একজন আবুল কাশেম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি তিনি।দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া বাকি দুজন হলেন- আলেশা মার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মঞ্জুর আলমের স্ত্রী সাদিয়া চৌধুরী এবং আলেশা মার্টকে মোটরসাইকেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এস কে ট্রেডার্সের মালিক মো. আল মামুন। আবুল কাশেম গ্রেফতার হলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন।এ মামলার একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালকের পদ পাওয়ার জন্য এবং শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া একশ কোটি টাকা মঞ্জুর আলম ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে দিয়েছিলেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.