যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘কিছু লোক আছে এই প্রবাসে, বাংলাদেশে গত এক যুগে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেটি তাদের সহ্য হচ্ছে না। হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে। এজন্যে তারা সারাক্ষণ অপপ্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। বানোয়াট কিছু গল্প-কাহিনী রটাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হোক।’
জাতিসংঘে পরমাণু বিস্তাররোধ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে ৩১ জুলাই নিউইয়র্কে এসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিনই অপরাহ্নে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন হোটেল কক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘এনআরবি কানেক্ট টিভি’কে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ড. মোমেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২/১৩ বছরের সাফল্য অকল্পনীয়। সকল সেক্টরে সাফল্য এসেছে। শুধু আমাদের জিডিপি বাড়ছে তা নয়, গত ১২ বছরে জিডিপি গড়পরতা ৬.৬% ছিল। কোভিডের আগের বছরে ৮.১৫% ছিল। করোনাকালেও ছিল ৬.৯৮%। এটা মিরাকল বলতে হবে। অলৌকিক ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। দারিদ্রসীমাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেভাবে আমরা এগুচ্ছি, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ অতি-দারিদ্র মুক্ত একটি দেশে পরিণত হবে। আমরা সে হার ৩% এ নিয়ে আসতে চাই। অর্থাৎ বাংলাদেশ খুবই ভালো করছে। শিশু মৃত্যু কমেছে। মাতৃ মৃত্যু কমেছে। বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারি একটি দেশ যেখানে পরিবার পরিকল্পনা তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৯৮%, সেটি কমে এখন ১.২২% হয়েছে। জন্মহার আমরা জোর করে কমাইনি। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণকে অধিক জনসংখ্যার কু প্রভাব সম্পর্কে সজাগ করতে পেরেছি। এসব বিষয় সুবিস্তারে গণমাধ্যমে আশা উচিত।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের নেতা, তার মত সেক্রিফাইসিং লিডারশিপ তো সারাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি সেজন্যে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস, কন্স্যুলেট রয়েছে, সবগুলোতে বঙ্গবন্ধু কর্নার চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো, বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, আদর্শ, মূল্যবোধ, চিন্তাধারা ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, শান্তি এবং স্থিতি, উন্নয়নের অপরিহার্যতা ইত্যাদি চিন্তা-ধারাকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা। এর সাথে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে চলমান অভাবনীয় সাফল্যের কাহিনী বিস্তারিতভাবে প্রকাশ ও প্রচার করাই হচ্ছে এ সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তবে কোন ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হবার আগেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সাশ্রয়ী হতে বলেছি সকলকে। ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার। তা নিয়েও বাংলাদেশ বড়াই করতো সে সময়। এখন আমাদের সব ধরনের ব্যয় করার পরও রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। এতদসত্বেও কিছু লোক অহেতুক বক্তব্য দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে তারা ফায়দা লুটতে চায়।
১ আগস্ট সোমবার অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের সেই বৈঠক। সেটিতে যোগদানের পরদিনই কম্পোডিয়ার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
