post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে শিঙাড়া, বিরিয়ানি ও মিষ্টি দই পছন্দ করেন পিটার হাস

এক বছর ধরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিটার হাস। এই সময়ে তিনি বাংলাদেশের কয়েকটি খাবার খুব পছন্দ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—শিঙাড়া, বিরিয়ানি ও মিষ্টি দই। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বপালনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক নিবন্ধে পিটার হাস এসব কথা উল্লেখ করেছেন। ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পথে’ শিরোনামের নিবন্ধে পিটার হাস লিখেছেন, ‘আজ আমি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার দায়িত্বপালনের এক বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছি। গত এক বছরে আমি এই সুন্দর দেশের অনেক জায়গা দেখতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।’পিটার হাস আরও লিখেছেন, তিনি ঢাকার মনোমুগ্ধকর জায়গাগুলো ঘুরে দেখেছেন। পাশাপাশি সুন্দরবন, রাজশাহী ও কক্সবাজারের আকর্ষণীয় স্থানগুলো দেখেছেন। এই সময়ে তাঁর বাংলাদেশের সব বয়সী ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছে। আর তিনি খাবার হিসেবে শিঙাড়া, বিরিয়ানি ও মিষ্টি দই ভালোবেসে ফেলেছেন। নিবন্ধে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাত্রাপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন পিটার হাস। এই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের কেউ নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পিটার হাস বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান তাঁরা। বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনভাবে নিজেদের সরকার নিজেরাই নির্বাচন করুক, এমনটাই চান তাঁরা।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেলো ভারতীয় অটো জায়ান্ট মাহিন্দ্রা

দীর্ঘদিন আয়-রোজগার না থাকায় শেষ পর্যন্ত বন্ধই হয়ে গেলো ভারতীয় অটো জায়ান্ট মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার (এমঅ্যান্ডএম) বাংলাদেশি ইউনিট। গত মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) থেকে মাহিন্দ্রা বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের (এমবিপিএল) সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই এবং সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। খবরে বলা হয়েছে, মাহিন্দ্রা বাংলাদেশ গত ১৪ মার্চ অংশীদারদের সঙ্গে শেষবারের মতো সাধারণ সভা আহ্বান করেছিল। সভায় স্বেচ্ছায় ও চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে মার্চের ১৪ তারিখ থেকেই মাহিন্দ্রা বাংলাদেশের অস্তিত্ব কার্যকরভাবে বিলীন হয়ে গেছে।বিবৃতি জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ থেকে মাহিন্দ্রা বাংলাদেশের আয় পুরোপুরি শূন্য ছিল। উল্লেখিত তারিখে এমবিপিএলের নেট আর্থিক মূল্য ছিল ৩ কোটি ১৮ লাখ রুপি (৪ কোটি ৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা প্রায়), যা মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার সর্বমোট মূল্যের মাত্র ০.০১ শতাংশ।এমবিপিএলের অংশীদাররা ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় ইউনিটটি বন্ধ করা এবং বন্ধের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন। এরপর থেকে মাহিন্দ্রার বাংলাদেশ ইউনিট আর কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেনি।ভারতীয় গাড়িনির্মাতা মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ২০১৯ সালে তার বাংলাদেশ ইউনিট চালু করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল সবধরনের যাত্রী, পরিবহন ও ইউটিলিটি যানবাহন বিতরণ, গবেষণা ও উন্নয়নসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা। মাহিন্দ্রা বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২৫ বছর ধরে ব্যবসা করছে মাহিন্দ্রা। ব্যবহারকারী ও অংশীদার মিলিয়ে এ দেশে ৫০ হাজার মানুষ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক গাড়ি ও ট্র্যাক্টর সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে মাহিন্দ্রা। গাড়ি-ট্র্যাক্টরের পাশাপাশি বাংলাদেশে জেনারেটর, নির্মাণ সরঞ্জাম, কৃষি-ব্যবসা, তথ্য-প্রযুক্তি এবং সোলার প্যানেলেরও ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠানটির।

post
বাংলাদেশ

‘এমন কোনো চাপ নেই যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের চাপ আমলে নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এমন কোনো চাপ নেই, যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, বিদেশিদের যে চাপই আসুক না কেন, জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার, সরকার সেটাই করবে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত কাতার সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ, বিদেশি কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছিল, ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকেরা সম্প্রতি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি—দুই দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক চাপ অনুভব করছেন কি না? এই প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমন কোনো চাপ নাই, যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। আমার একমাত্র শক্তি জনগণ। আর ওপরে আল্লাহ আছে। বাবার আশীর্বাদের হাত আমার মাথায় আছে। কাজেই কে কী চাপ দিল না দিল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। জনগণের স্বার্থে যেটা করার সেটাই করব। জনগণের কল্যাণে যে কাজ করার সেটাই করব।’পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন জটিলতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম বহু চাপ তো ছিল। পদ্মা সেতুর আগে তো কম চাপ দেওয়া হয়নি। কোনো একটা দেশের একেবারে অ্যাম্বাসেডর থেকে শুরু করে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের টেলিফোনের ওপর টেলিফোন! কেন?’ প্রধানমন্ত্রী বললেন ■ সংলাপ কার সঙ্গে? ২০১৮ সংলাপের পর বিএনপি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ■ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থা উন্মুখ হয়ে আছে। ■ ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিতে হবে কেন? বক্তব্যের একপর্যায়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ভদ্রলোক একটা ব্যাংকের এমডি। তাকে এমডি পদে রাখতে হবে। এমডি পদের কী মধু তা তো আমি জানি না। আইনে আছে ৬০ বছর। তাঁর হয়ে গেছে ৭০ বছর। তারপরও এমডি পদে থাকতে হবে। এমডি পদে থাকলে হয়তো মানি লন্ডারিং করা যায়। পয়সা বানানো যায়। গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া যায়। সেই চাপও কিন্তু সহ্য করেছি। তারপরও নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু বানিয়ে তাঁদের দেখালাম যে, চাপে আমাদের কিছু আসে যায় না।’কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি বলেছে, শেখ হাসিনার অধীনে তাঁরা নির্বাচনে যাবে না। সাংবাদিক এই কথা বলে প্রশ্ন শুরু করার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন, ‘ভালো কথা!’ বিএনপি ছায়া সরকার করবে—এমন আলোচনার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে দল বেশি লাফায়, তাদের দুই নেতাই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা না পারবে ইলেকশন করতে, না পারবে ক্ষমতায় আসতে। বিএনপি তো তার নিজের গঠনতন্ত্র নিজেরাই ভঙ্গ করছে। তাদের গঠনতন্ত্রে আছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি দলের নেতা হতে পারে না। এখন সেই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকেই দলের নেতা বানিয়ে রেখে দিয়েছে। এই দলের কাছে কী আশা করবেন?’  ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির জোটের ৩০ আসন পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচন সব থেকে অবাধ, নিরপেক্ষ হয়েছে। সেই নির্বাচনেই যখন তাদের দুরবস্থা। এখন তো আওয়ামী লীগ অন্তত কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংলাপ কার সাথে করব? ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংলাপ করেছি, তাতে রেজাল্ট কী? নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই করেনি। ৩০০ আসনে ৭০০ নমিনেশন দিয়ে, টাকা খেয়ে নিজেরাই নিজেদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’ ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আরাফাত রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে অপমানিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এত কিছুর পর তাদের সঙ্গে আবার কীসের বৈঠক? যারা এটুকু ভদ্রতা জানে না, তাদের সঙ্গে বৈঠকের কী আছে? এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ। তাঁর বোন, ভাই, বোনের জামাই—সবাই এসে আমার কাছে, রেহেনার (শেখ রেহেনা) কাছে আকুতি করল। সাজাটা স্থগিত করে বাসায় থাকার ও চিকিৎসার সুযোগটা করে দিয়েছি। এটুকু যে করেছি, সেটাই যথেষ্ট। যারা বারবার আমাদের ওপর হত্যা করে, অপমান করে। এরপরও যে এটুকু সহানুভূতি পাচ্ছে, সেটা তো আমার কারণে। আর কী ক্ষমতা তাদের আছে? সন্ত্রাস করা ছাড়া তো তাদের আর কোনো ক্ষমতা নেই।’ ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে বিজ্ঞাপন দিতে হবে কেন? সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং অব্যাহতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন কথা উল্লেখ করে একটি খোলাচিঠি ছাপা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায়। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করে বলেন, আপনি যখন কাতারে ছিলেন, তখন ৪০ জন বিদেশি নাগরিকের একটি বিবৃতি বা আপিল প্রকাশ হয়েছে, সেটা আপনি পেয়েছেন কি না, জানতে চাই। সেটা ওয়াশিংটন পোস্ট–এ বিজ্ঞাপন হিসেবেও প্রকাশিত হয়েছে। এই বিবৃতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য আশা করছি। এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা বিবৃতি তো না, এটা একটা বিজ্ঞাপন। যে ৪০ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেটা আমাদের বিশেষ একজন ব্যক্তির পক্ষে, এটার কী উত্তর দেব জানি না, তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হলো, যিনি এত নামীদামি, নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত তাঁর জন্য এই ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিতে হবে কেন? তা–ও আবার বিদেশি পত্রিকায়। এটাই আমার প্রশ্ন আর কিছু না। অ্যাড দিতে হলো কেন?’ ড. ইউনূসের কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে যা–ই হোক, দেশে কতগুলো আইন আছে। সেই আইন অনুযায়ী সবকিছু চলবে এবং সেটা চলে। দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। দেশে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়। যারা আয়কর ঠিকমতো দেয়, সেটার আলাদা বিভাগ আছে। তারা তা আদায় করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি এখন এই সমস্ত বিষয়ে কোনো রকম আইন ভঙ্গ করে বা শ্রমিকদের কোনো অধিকার কেড়ে নেয়, শ্রম আদালত আছে, সেটা দেখে। এ ক্ষেত্রে আমার তো কোনো কিছু করার নেই সরকারপ্রধান হিসাবে।’ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু কিন্তু করে ফেলেছি, খালি এইটুকু সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।’ ‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে উন্মুখ হয়ে আছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রায়ই বলে থাকেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা রয়েছে। সামনে নির্বাচনে সেই চেষ্টা হতে পারে। এ ব্যাপারে আপনাদের প্রস্তুতি কী? এই প্রশ্ন করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এজেন্সি উন্মুখ হয়ে আছে। ৪০ জনের নামে (ওয়াশিংটন পোস্ট–এর বিজ্ঞাপন) যেটা এসেছে, ওটার পেছনেও কিছু অ্যাম্বিশন আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। যাদের ইচ্ছা, তারা জনগণের কাছে যাবে। নির্বাচন যাতে অবাধ-সুষ্ঠু হয়, তার জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংশোধনী বা সংস্কার আনা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা করা হয়েছিল। এই ঘটনাগুলোর যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যই সংস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন জনগণের ওপর নির্ভর করে, জনগণ কীভাবে চায়? জনগণ যেন ভোট দিতে পারে, আমাদের সে প্রস্তুতি সব সময় আছে।’

post
বাংলাদেশ

রমজানে অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ

পবিত্র রমজানে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস চলবে সকাল নয়টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। আর জোহরের নামাজের জন্য বেলা সোয়া একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পবিত্র রমজান মাসে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট অফিস চলবে নিজেদের বিধি অনুযায়ী। প্রতিবছরই রমজান মাসের জন্য অফিস সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

post
বাংলাদেশ

হজের খরচ কমাতে হাইকোর্টে রিট

হজের খরচ কমাতে সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে রিট করা হয়েছে হাইকোর্টে। রিটে সৌদি আরব ও বাংলদেশ এয়ারলাইন্স বাদেও যে কোনো এয়ারলাইন্সের টিকিটে হজে যাওয়ার অনুমতি দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।জনস্বার্থে রোববার (১২ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আল কোরআন স্টাডি সেন্টার সুপ্রিম কোর্টের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ্-জামান এ রিট করেন।চলতি বছর হজে যেতে সরকারিভাবে একটি প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারিভাবে গত বছর দুটি থাকলেও এবার ঘোষিত একটি প্যাকেজ অনুযায়ী, হজযাত্রায় প্রত্যেক হজযাত্রীর ছয় লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা ব্যয় হবে। গত বছরের তুলনায় খরচ সর্বোচ্চ এক লাখ ৬১ হাজার ৮৬৮ টাকা বেড়েছে।খরচ কমিয়ে চার লাখ টাকার মধ্যে পুনর্নির্ধারণ করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, চলতি বছর হজের খরচ কমানো কিংবা প্যাকেজ পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জিলহ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে হজচুক্তি অনুযায়ী- এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন ও অবশিষ্ট এক লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করার সুযোগ পাবেন।

post
বাংলাদেশ

নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না, ইইউ রাষ্ট্রদূতদের বিএনপি

বিএনপি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার সকালে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলির গুলশানস্থ বাসভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশে যে শঙ্কা, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে আমীর খসরু বলেন, আগামী নির্বাচনকে কীভাবে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ডেনমার্ক, নরওয়ের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ। সকাল ১০টায় বিএনপি মহাসচিবের গাড়ি গুলশান ২-এর ৫৫ নম্বর সড়কের ১৮ নং হাউসে প্রবেশ করে। আগে থেকে এই ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সাত দেশের রাষ্ট্রদূতরা অবস্থান করছিলেন।

post
বাংলাদেশ

স্থানীয়দের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

বাসের সিটে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে স্থানীয়দের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলছে। শনিবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেট অবরোধ করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় বিনোদপুর গেট পুলিশ বক্সে আগুন দেন স্থানীয়রা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুটি মোটরসাইকেল। সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া থেকে বাসে করে রাজশাহী আসছিলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। সিটে বসাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে ঝামেলা হয় একজনের। পরে বাসটি বিনোদপুর বাজারে আসলে বাস আটকে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে এক দোকানি এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।পরে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় দোকানিরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। বাঁশ-লাঠি নিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করেন। শিক্ষার্থীরা বিনোদপুর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আবার বিনোদপুর গেটের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে দোকানিদের ধাওয়া করেন।পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থল আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও তার কয়েকজন অনুসারী। পরে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল রেখে চলে যান তারা। এ সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন স্থানীয়রা। পরে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন তারা। এছাড়াও বিনোদপুর গেট পুলিশ বক্স ও কয়েকটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়। বর্তমানে মহাসড়কের দুই পাশ থেকে স্থানীয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলছে। বিনোদপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল।রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে রাবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতানা ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

post
বাংলাদেশ

চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ার শঙ্কা নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা কখনোই হবে না। চীনের ঋণের ফাঁদে পড়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। আমরা এই ধরনের আলোচনা এড়িয়ে চলি। আমরা জাপানের কাছ থেকেও অনেক ঋণ নিই, কিন্তু কিছু তো হচ্ছে না।’আজ শনিবার বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের একটি অধিবেশনে সিএনএন সুপরিচিত সাংবাদিক এবং এডিটর–অ্যাট–লার্জ রিচার্ড কোয়েস্টের সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের শুরুতেই রিচার্ড কোয়েস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন, বাংলাদেশ চীনের ঋণের ফাঁদে পড়তে পারে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই উত্তর দেন। এরপর তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে একই বিষয়ে জানতে চান। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমি ওনার (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সঙ্গে পুরোপুরি একমত। এটি নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’‘তাহলে আপনি কী নিয়ে চিন্তিত?’ এরপরই রিচার্ড কোয়েস্ট এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন বাণিজ্যমন্ত্রীর দিকে। জবাবে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমাদের চ্যালেঞ্জ বাড়বে।’অবশ্য অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্নই ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে। রিচার্ড কোয়েস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান কী? বাংলাদেশ তো জোটনিরপেক্ষ দেশ (নন–অ্যালাইন কান্ট্রি) হিসেবে পরিচিত। এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দেন, ‘আমরা একটি কঠিন অবস্থানে আছি। আমাদের মূলনীতি হলো, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। আমাদের মূল্যবোধ হলো, আমরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা জাতিসংঘের শান্তি মিশনে অংশ নিই।’এরপরেই রিচার্ড কোয়েস্ট প্রশ্ন করেন বাণিজ্যমন্ত্রীকে। এবারের প্রশ্ন, ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে? ব্যবসায় পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না? বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘নানা চ্যালেঞ্জ আছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রপ্তানি বাড়ছে। আমরা কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। ইতিমধ্যে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ চিন্তায় আছে। আমরা এ নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’নির্বাচন প্রসঙ্গব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির পর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি আনেন রিচার্ড কোয়েস্ট। তিনি বলেন, সামনের বছর জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী? জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত ১৪ বছরে অবিশ্বাস্য উন্নয়ন করেছি। সব শ্রেণির মানুষ এই সরকার নিয়ে খুশি। এই সময়ে এই সরকার এক হাজারটির মতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করেছি। ভোটারদের ছবিসংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’‘বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কী ভাবছেন?’ সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্ন করেন রিচার্ড কোয়েস্ট। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা কখনোই তাদের নিষেধ করিনি (ডিসঅ্যালাউড করিনি)। তবে তাদের অবশ্যই সংবিধান ও প্রচলিত আইনকানুন মেনে চলতে হবে। মানুষকে আগুনে পোড়ানো, মানুষের সম্পদ ধ্বংস করা—এগুলো আমরা বরদাস্ত করি না। যদি আলোচনার টেবিলে আসতে চাইলে অবশ্যই স্বাগত জানাই।’‘তাহলে কি আপনারা নির্বাচনে লড়াই করতে চাইছেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই।’রিচার্ড কোয়েস্ট এবার প্রশ্ন করেন, ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, অনেকের ধারণা, আপনারা কর্তৃত্ববাদী ও গণতন্ত্রবিরোধী হয়ে গেছেন নাকি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে আপনাদের উদ্যম হারিয়ে যাচ্ছে? এগুলো কি ভোটের ওপর প্রভাব ফেলবে? এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমাদের জনগণ সঠিক লোককে ভোট দেবেন।’

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বার আমি বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। এটি তখনকার যুগে একটা সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, উৎপাদন খাত ছাড়াও এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাফল্যের পেছনে রয়েছে ব্যক্তি খাতে ভোগ বৃদ্ধি, যাকে প্রাথমিকভাবে সহায়তা করেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। দেশের এই অভাবনীয় উন্নতির পেছনে রয়েছে প্রাথমিকভাবে বেসরকারি খাত। মূলত তাদের নেতৃত্বে রপ্তানি আয় ২০০৮ সালের ১৬ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে যদি বেশি গুরুত্ব না দিই, তা হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগে বেশি উন্নতি করা সম্ভব না। সে জন্যই এসব খাতের বিকাশে আমি সব কিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি, বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনীতিক ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং বাণিজ্য সংহিত করণের ওপর ভিত্তি করে আজকের এই অর্থনৈতিক টেকসই ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল একটি দেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি। একসময়কার বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বলে পরিচিতি পেত। তবে এখন আর সেই অবস্থা নেই। এখন বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি আরও বলেন, অন্তত এটুকু দাবি করতে পারি, মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সবার সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ গত ১০ বছরে গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হারে জিডিপি অর্জন করেছে। এমনকি যখন কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাতে সারাবিশ্ব যখন অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে, তখনো বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কোভিডের পূর্বে ২০১৮ থেকে ২০১৯ অর্থবছর আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগে উন্নিত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সেটি কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। কোভিড মহামারি যদি না আসত, অর্থনৈতিক মন্দা যদি না হতো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যে অর্থনৈতিক মন্দা যদি না হতো, তা হলে আমরা আরও অন্তত ২-৩ ভাগ দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হতাম।

post
বাংলাদেশ

হাজারীবাগে গড়ে উঠেছে চামড়া পণ্যের ক্লাস্টার: বছরে লেনদেন প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

পরিবেশ ছাড়পত্র সহজ করা এবং সাভারের ট্যানারি পল্লীর পাশে উদ্যোক্তাদের জায়গা বরাদ্দের চেষ্টা করছে উন্নয়নে সহায়তা করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।রাজধানীর হাজারীবাগে গড়ে উঠেছে বাহারী ও মানসম্পন্ন চামড়া পণ্যের ক্লাস্টার। এই ক্লাস্টারে বছরে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ক্লাস্টারটির পণ্যের মানোন্নয়ন, বহুমুখীকরণ এবং উদ্যোক্তা-কর্মীর দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ০৯ মার্চ ২০২৩ আগারগাঁও পর্যটন ভবনে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘হাজারীবাগ এলাকায় লেদার প্রোডাক্ট ক্লাস্টারের সম্ভাবনা ও করণীয়’ সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান, পরিচালক পর্ষদ সদস্য মির্জা নূরুল গণী শোভন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান এবং হাজারীবাগ লেদার ক্র্যাফটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানিয়া ওয়াহাব।মূল প্রবন্ধে এসএমই ফাউন্ডেশনের উপমহাব্যবস্থাপক আবু মঞ্জুর সাইফ বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্লাস্টার ম্যাপিং স্টাডি অনুযায়ী রাজধানীর হাজারীবাগে পুরনো ট্যানারি পল্লীতে গড়ে ওঠা লেদার ক্লাস্টারটিতে চামড়া থেকে তৈরি জুতা, বেল্ট, মানিব্যাগ, জ্যাকেট, অফিসিয়াল ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়। হাজারীবাগ ট্যানারি মোড় থেকে লেদার টেকনোলজি কলেজ পর্যন্ত হাজারীবাগ বাজার, ধানমণ্ডি ১৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড গলিসহ পুরো এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৫০-৪০০ দোকান, শোরুম ও চামড়াজাত পণ্যের ছোট কারখানা রয়েছে।এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ক্লাস্টারটির বাৎসরিক লেনদেন প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা। দেশীয় বাজারে উন্নত মানের চামড়াজাত পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি ক্লাস্টারটির বেশ কিছু উদ্যোক্তা বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করে থাকেন। হাজারীবাগ লেদার ক্লাস্টারের প্রায় সকল উদ্যোক্তাই নিজস্ব শো-রুম থেকে সরাসরি পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করে থাকেন। পাশাপাশি চুক্তি ভিত্তিতে উদ্যোক্তারা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের জন্য চামড়াজাত বহুমুখী পণ্য সরবরাহ করে থাকেন। ক্লাস্টারের বেশ কিছু উদ্যোক্তা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করেন। এসএমই ফাউন্ডেশন ক্লাস্টারটির উন্নয়নে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফাউন্ডেশনের সহায়তায় অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পণ্যের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণসহ অনলাইনে ক্লাস্টার পণ্য বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন হাজারীবাগ ক্লাস্টারে অনলাইন-মার্কেটিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় ও আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলায় ক্লাস্টারের উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে থাকেন। ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অথবা বিকল্প হিসাবে সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে চামড়া শিল্প। উদ্যোক্তাদের দাবি, চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, পণ্য বহুমুখীকরণ, নীতিগত বাধা দূর করা, কমপ্লায়েন্স অনুসরণ, সহজ শর্তে ঋণ, শুল্ক ও কর অব্যাহতি এবং নগদ প্রণোদনাসহ পরিবহন ও বন্দরে লজিস্টিক সুবিধা প্রদান করা হলে সম্ভাবনাময় এই খাত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ বলেন, এখানকার ছোট চামড়া পণ্যের কারখানার পরিবেশ ছাড়পত্র প্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি সাভারের ট্যানারি পল্লীর পাশে উদ্যোক্তাদের জায়গা বরাদ্দের চেষ্টা করছে সরকার। চামড়া পণ্যের ক্লাস্টারের উন্নয়নে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.