চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা কখনোই হবে না। চীনের ঋণের ফাঁদে পড়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। আমরা এই ধরনের আলোচনা এড়িয়ে চলি। আমরা জাপানের কাছ থেকেও অনেক ঋণ নিই, কিন্তু কিছু তো হচ্ছে না।’
আজ শনিবার বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের একটি অধিবেশনে সিএনএন সুপরিচিত সাংবাদিক এবং এডিটর–অ্যাট–লার্জ রিচার্ড কোয়েস্টের সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের শুরুতেই রিচার্ড কোয়েস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন, বাংলাদেশ চীনের ঋণের ফাঁদে পড়তে পারে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই উত্তর দেন। এরপর তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে একই বিষয়ে জানতে চান। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমি ওনার (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সঙ্গে পুরোপুরি একমত। এটি নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’
‘তাহলে আপনি কী নিয়ে চিন্তিত?’ এরপরই রিচার্ড কোয়েস্ট এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন বাণিজ্যমন্ত্রীর দিকে। জবাবে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমাদের চ্যালেঞ্জ বাড়বে।’
অবশ্য অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্নই ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে। রিচার্ড কোয়েস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান কী? বাংলাদেশ তো জোটনিরপেক্ষ দেশ (নন–অ্যালাইন কান্ট্রি) হিসেবে পরিচিত। এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দেন, ‘আমরা একটি কঠিন অবস্থানে আছি। আমাদের মূলনীতি হলো, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। আমাদের মূল্যবোধ হলো, আমরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা জাতিসংঘের শান্তি মিশনে অংশ নিই।’
এরপরেই রিচার্ড কোয়েস্ট প্রশ্ন করেন বাণিজ্যমন্ত্রীকে। এবারের প্রশ্ন, ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে? ব্যবসায় পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না? বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘নানা চ্যালেঞ্জ আছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রপ্তানি বাড়ছে। আমরা কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। ইতিমধ্যে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ চিন্তায় আছে। আমরা এ নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
নির্বাচন প্রসঙ্গ
ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির পর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি আনেন রিচার্ড কোয়েস্ট। তিনি বলেন, সামনের বছর জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী? জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত ১৪ বছরে অবিশ্বাস্য উন্নয়ন করেছি। সব শ্রেণির মানুষ এই সরকার নিয়ে খুশি। এই সময়ে এই সরকার এক হাজারটির মতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করেছি। ভোটারদের ছবিসংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’
‘বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কী ভাবছেন?’ সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্ন করেন রিচার্ড কোয়েস্ট। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা কখনোই তাদের নিষেধ করিনি (ডিসঅ্যালাউড করিনি)। তবে তাদের অবশ্যই সংবিধান ও প্রচলিত আইনকানুন মেনে চলতে হবে। মানুষকে আগুনে পোড়ানো, মানুষের সম্পদ ধ্বংস করা—এগুলো আমরা বরদাস্ত করি না। যদি আলোচনার টেবিলে আসতে চাইলে অবশ্যই স্বাগত জানাই।’
‘তাহলে কি আপনারা নির্বাচনে লড়াই করতে চাইছেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই।’
রিচার্ড কোয়েস্ট এবার প্রশ্ন করেন, ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, অনেকের ধারণা, আপনারা কর্তৃত্ববাদী ও গণতন্ত্রবিরোধী হয়ে গেছেন নাকি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে আপনাদের উদ্যম হারিয়ে যাচ্ছে? এগুলো কি ভোটের ওপর প্রভাব ফেলবে? এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমাদের জনগণ সঠিক লোককে ভোট দেবেন।’
