post
বাংলাদেশ

গুলিস্তানে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫

গুলিস্তানের ভবনে বিস্ফোরণে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গুলিস্তানে বিআরটিসির বাস কাউন্টারের পাশে সাততলা একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ভবনের নিচতলায় স্যানিটারির দোকান ছিল। নিচতলায় বিস্ফোরণ ঘটে ওপরের কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর গুলিস্তানে একটি ভবনে বিস্ফোরণ

রাজধানীর গুলিস্তানে বাসস্টান্ডের কাছে একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে একজনের নিহত হবার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া বহু লোক আহত হতে পারেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরে মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাজাহান শিকদার জানান, মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজন নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তাৎক্ষণাতভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।

post
বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে চলেছে, তাই যেসব দেশে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ আছে, সেদিকে ‘মনোযোগ’ দেওয়া প্রয়োজন।উন্নয়নশীল দেশের কাতারে টিকে থাকতে এবং উন্নত দেশ হতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর পাশপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে তৎপর হতে বাংলাদশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের (রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক) চোখ খোলা রেখে সব দেশের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করতে হবে। তাহলে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা টিকে থাকতে পারব, আরও এগিয়ে যেতে পারব এবং অবশেষে উন্নত দেশ হতে পারব।'দোহায় সোমবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে এক আঞ্চলিক দূত সম্মেলনে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে চলেছে, তাই যেসব দেশে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ আছে, সেদিকে ‘মনোযোগ’ দেওয়া প্রয়োজন।শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় ‘কূটনীতি’ ছিলে রাজনৈতিক একটি বিষয়। কিন্তু সেই পরিচয়ের বাইরে কূটনীতির পরিচয় এখন ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’। তাই যারা বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন, তাদের দায়িত্ব হল ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করা যায় এমন দেশগুলোকে চিহ্নিত করা। যেসব দেশে আমাদের পণ্যের চাহিদা আছে, যেখানে রপ্তানি ও বিপণনের সুযোগ আছে সে সমস্ত দেশগুলোকে খুঁজে বের করা।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথা ফের স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন 'আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। অন্তত আমি দাবি করতে পারি যে, বাংলাদেশ সঠিকভাবে এই নীতি অনুসরণ করছে।'শেখ হাসিনা বলেন, 'কোন অন্যায় দেখা গেলেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেই বাংলাদেশ নিজেদের বক্তব্য জানাবে, যা মিয়ানমারের সঙ্গে করা হয়েছিল।'মিয়ানমারের সেনা নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কারণও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, 'আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াইনি। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।'পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। এসময় জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবু-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এরপর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।পরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ভবনে ভিড় জমায়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা মিছিল নিয়ে ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মোড়ে জমায়েত হতে থাকে।পরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ তাঁতি লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, শেখ রাসেল শিশু সংঘ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন শ্রমিক কর্মচারী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়।

post
বাংলাদেশ

হজ প্যাকেজ ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে এবারের হজ প্যাকেজ সংশোধন করে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আল কোরআন স্টাডি সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উজ জামান সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর নোটিশটি পাঠিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। আর কোরবানি ছাড়াই এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা। এর আগের বছরে যা ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা।চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী এ বছর হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারিত হয়েছে। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে যেতে পারবেন।

post
বাংলাদেশ

কি ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে

আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কী অন্যায় করেছিলাম, নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করব এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলব, এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর–নারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাংলার ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম। তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাঁকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসব। আমি বললাম, অ্যাসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করব; এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব। জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরও আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করলাম, আপনারা আসুন বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসেন, তাহলে কসাইখানা হবে অ্যাসেম্বলি। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ অ্যাসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, অ্যাসেম্বলি চলবে। তারপর হঠাৎ ১ তারিখে অ্যাসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হলো। ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসাবে অ্যাসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাব। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো। দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্দুকের মুখে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ্। কী পেলাম আমরা? যে আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরিব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু। আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি, তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। টেলিফোনে আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তাঁকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কীভাবে আমার গরিবের উপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলি করা হয়েছে, কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব। আমি বলেছি, কিসের বৈঠক বসবে, কার সঙ্গে বসব? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসব? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন। ভাইয়েরা আমার, ২৫ তারিখে অ্যাসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে ওই শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। অ্যাসেম্বলি কল করেছে। আমার দাবি মানতে হবে: প্রথম, সামরিক আইন মার্শাল ল উইথ ড্র করতে হবে, সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে, যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে, আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে । তারপর বিবেচনা করে দেখব, আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব কি পারব না। এর পূর্বে অ্যাসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না। আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে, সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি গভর্নমেণ্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোনো কিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারব, আমরা পানিতে মারব। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না। আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করব। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকাপয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাত দিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাঁদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো, কেউ দেবে না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান বাঙালি অবাঙালি যারা আছে, তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে। কিন্তু পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন। কিন্তু যদি এ দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে–শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।জয় বাংলা।

post
বাংলাদেশ

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে কাতার

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কাতার বাংলাদেশের পাশে থাকবে। স্বল্পোন্নত দেশসমূহ বিষয়ক জাতিসংঘের ৫ম জাতিসংঘ সম্মেলনের পাশাপাশি রোববার দোহায় অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএনসিসি) কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে এ আশ্বাস দেওয়া হয় । পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাতারের আমির বলেছেন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই। কাতার সবসময় বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। মোমেন বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাতারের কাছ থেকে আরও বেশি জ্বালানি, বিশেষ করে বার্ষিক আরও এক মিলিয়ন টন (এমটিএ) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন— আমরা কাতারের সাহায্য চাই। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি চুক্তি নবায়ন করতে চাই। আমি আরও এলএনজি চাই। জবাবে কাতারের আমির জানতে চান— বাংলাদেশ কতটা জ্বালানি চায়। তাকে বলা হয়, বাংলাদেশ আরেকটি এমটিএ অর্থাৎ ১৬-১৭ কনটেইনার জ্বালানি চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে কাতার আমির বলেন, আপনার কাতার ছাড়ার আগে তার জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনা করবেন। শেখ তামিম বলেন, আমি আজ আমাদের জ্বালানিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিচ্ছি, আপনার কাতার ত্যাগ করার আগে আমার জ্বালানিমন্ত্রী আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আমির আরও বলেন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই, কাতার সবসময় বাংলাদেশকে সাহায্য করবে। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৪০টি কনটেইনার জ্বালানি আমদানি করছে, যার পরিমাণ ১.৮-২.৫ এমটিএ। শেখ হাসিনা কাতারের আমিরকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানালে শেখ তামিম বলেন, তিনি এ বছর বাংলাদেশ সফর করবেন। বৈঠকে আমির বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি যে, আমি এ বছর বাংলাদেশ সফর করব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে এবং বিভিন্ন দেশ সেখানে বিনিয়োগ করছে। কাতার সেই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও বিনিয়োগ করতে পারে। কাতারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে শেখ হাসিনা কাতারের আমিরকে তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে বলেন। কারণ এখানে কিছু শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছেন। জবাবে শেখ তামিম বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশ ও বাঙালির কল্যাণ চান। কিউএনসিসির দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে ইউএনডিপি প্রশাসক আচিম স্টেইনারের সঙ্গে একটি পৃথক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইউএনডিপিকে নেতৃত্ব দিতে বলেছিলেন, যাতে এলডিসি থেকে স্নাতক হওয়া দেশগুলো একবারে এলডিসিগুলোর জন্য এনটাইটেলকৃত সব আন্তর্জাতিক সুবিধা না হারায়। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে যারা স্নাতক হচ্ছে, তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ইউএনডিপির কিছু প্রক্রিয়াকরণ করা উচিত, যাতে দেশগুলোকে একবারে সব সুবিধা হারাতে না হয়। ‘আমাদের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কৃত করা উচিত, কিন্তু আপনি শাস্তি দিচ্ছেন। ইউএনডিপিকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনডিপি প্রশাসক বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকায় নগর সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনের জন্য প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ছেন তা নতুন মডেলে পরিণত হচ্ছে। কিউএনসিসিতে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরেন বোগদান-মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছেন। এ ছাড়া বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনের মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান কিউএনসিসিতে পৃথকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনতে এবং দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আঙ্কটাডের সহায়তা কামনা করেন। তিনি কিউএসিসির প্রদর্শনী হলে বিনিয়োগ এবং অংশীদারত্বের ওপর এলডিসি৫ উচ্চপর্যায়ের মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন।

post
বাংলাদেশ

৭২ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণ

কলকাতা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজের একটি চাকার টায়ার ফেটে গেলে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার সকালে বিমানের বিজি-৩৯২ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, 'উড়োজাহাজটির পেছনের ডান পাশের টায়ার ফেটে গেলে এটি জরুরি অবতরণ করে। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন।' বিমানবন্দর সূত্র জানায়, উড়োজাহাজটি কানাডার ড্যাশ ৮-৪০০ মডেলের। এটি ভারতের স্থানীয় সময় ৯টা ১৯ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নিলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে এটি নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের সময় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট প্রস্তুত ছিল।

post
বাংলাদেশ

নিউমার্কেট এলাকার ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা দুর্ঘটনা, নাশকতা নয়

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, নিউমার্কেট এলাকার ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা নাশকতা নয়, দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের ঘটনাটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রোববার (৫ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফেরার সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে আমরা একটা তদন্ত কমিটি করব। তদন্ত কমিটি ফায়ার সার্ভিসের ও ঘটনাস্থলে কাজ করা এক্সপার্টদের ওপিনিয়ন (মতামত) নেবেন। পরে তারা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মনে হচ্ছে এটি নাশকতা নয়, দুর্ঘটনা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ঘটনাস্থলে স্প্রিন্টার, বিস্ফোরক বা নাশকতার কোনো আলামত মিলেছে কিনা জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, এখনো বিস্ফোরক, নাশকতামূলক বা স্প্রিন্টার জাতীয় কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।সায়েন্সল্যাব এলাকায় বাণিজ্যিক ভবনের বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের পর তাদের পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- শফিকুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ও তুষার। রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে প্রিয়াঙ্গন শপিং মলের পাশের ভবনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কীভাবে এ বিস্ফোরণ হয়েছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢমেক) হাসপাতালে আটজনকে ভর্তি করা হয়। আর দগ্ধ হওয়া ছয়জনকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।  

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে ভবনে আগুন, দেওয়াল ধসে নিহত ৩

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি তিনতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- শফিকুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ও তুষার। এ ঘটনায় আহত হয়ে ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া।এর আগে রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে ও আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।এদিকে এ ঘটনায় আহত হয়ে ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ছয় জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাতজন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।পাশাপাশি গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.