post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের ঝুঁকি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার বক্তব্য নাকচ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কিছু হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে নেই। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্জন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোমেন।এসময় বাংলাদেশ ইস্যুতে মস্কোর মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া কী বলেছে, এটা আমাদের ইস্যু নয়। এটা ওদের জিজ্ঞেস করুন। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, আমরা এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা সার্বভৌম, আমাদের ভারসাম্য পররাষ্ট্রনীতি আছে।‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এটার প্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। কে কী বলল না বলল, এটা তাদের মাথাব্যথা নয়। আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না। আমাদের ভারসাম্য কূটনীতি নিয়ে আমরা চলতে চাই’- বক্তব্যে যোগ করেন মোমেন।আরব বসন্তের সম্ভাবনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার তো মনে হয় না এ ধরনের কোনো সুযোগ আছে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। শেখ হাসিনার কারণে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত আছে। আর আমরা ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করব। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেটা করব। আমরা খুব ভালোভাবে চলছি।মোমেন বলেন, আমাদের যে উন্নয়ন হয়েছে, এটা সম্ভব হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে। আমরা আমাদের লক্ষ্য নিয়ে সামনে যেতে চাই। অন্য কিছু আমাদের দরকার নেই। আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো পরিস্থিতি তেরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার আগে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কয়েকটি চাপ প্রয়োগ করতে পারে ওয়াশিংটন। বাইডেন প্রশাসনের টার্গেট হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার দায়ে অনেক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ আনতে পারে।বাংলাদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সড়কে যান চলাচল বন্ধ, বাস পোড়ানো ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে মারিয়া জাখারোভা বলেন, আমরা এসব ঘটনার সঙ্গে ঢাকায় পশ্চিমা একটি কূটনৈতিক মিশনের সন্দেহজনক কার্যকলাপের সংযোগ দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক, যা নিয়ে গত ২২ নভেম্বরের ব্রিফিংয়ে আমরা কথা বলেছি।

post
বাংলাদেশ

সোমবারের পরিবর্তে মঙ্গলবার হরতাল

আগামীকাল সোমবারের পরিবর্তে পরশু মঙ্গলবার হরতাল পালন করবে বিএনপি। রোববার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির এ পরিবর্তনের কথা জানান।‘জরুরি ঘোষণা’ শিরোনামে রিজভীর বরাত দিয়ে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ১ দফা দাবিতে আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩-এর পরিবর্তে ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে।বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমদ আল সাবাহ-এর মৃত্যুর কারণে দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সোমবারের হরতাল একদিন পিছিয়ে মঙ্গলবার পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সম্মতি রাষ্ট্রপতির

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সেনা মোতায়েনে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল রোববার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেনা মোতায়েনে ইসির আগ্রহের কথা জানান। রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি দেন।পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো.জয়নাল আবেদীন ব্রিফিংয়ে জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সেনা মোতায়নের অনুরোধ জানান। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সম্মতি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে সেনা মোতায়নের তারিখ ও সময় জানানো হবে।এছাড়া সাক্ষাৎকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি আশা করেন সবার সহযোগিতায় দেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য তারা ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। তফসিল অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি: চুন্নু

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে জাতীয় পার্টি। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও অর্থবহ হয় সেই লক্ষ্যে আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব। তবে এই মুহূর্তে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।চুন্নু জানান, এবার আওয়ামী লীগকে ছাড়াই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে জাতীয় পার্টি। ২৮৩ আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন তারা। জাপা মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে আসছিল। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের একটি দাবি ছিল যে, যেন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হয়, যাতে করে মানুষ ভোট দিতে আসতে পারে। তাহলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে আমাদের আস্থা এসেছে যে, তারা নির্বাচনটা ভালোভাবে করতে চান। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব এবং নির্বাচন যেন প্রতিযোগিতামূলক হয় সেই আলোকে আমরা কাজ করে যাব।আমরা আশা করি এদেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোট দেবে। এদেশের মানুষ অনেক সচেতন। আমরা আশা করি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম হবে। আমরা নির্বাচনটা করার জন্য আমাদের সব প্রার্থীকে আজকে চিঠি দিচ্ছি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ২৮৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। কিছু কিছু আসনে সমঝোতা হচ্ছে বা হবে। নির্বাচনে আমরা যাচ্ছি। সব বাধা উপেক্ষা করে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। নির্বাচনে আসার জন্য আপনাদের ওপর কোনো চাপ ছিল কি না, জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, আমাদের ওপর কোনো চাপ ছিল না। জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্র একটা দল, আমাদের নিজস্ব একটা রাজনীতি আছে।

post
বাংলাদেশ

২৬৩ আসনে নির্বাচন করছে আওয়ামী লীগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ২৬৩টি আসনে নির্বাচন করছে বলে জানিয়েছেন দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। রোববার বিকেল ৪টার দিকে আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।বিপ্লব বড়ুয়া জানান, জাতীয় পার্টিকে ২৬টিসহ শরিকদের মোট ৩২টি আসনে আওয়ামী লীগ ছাড় দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মিত্রদের সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করছি আমরা। যাচাই-বাছাই শেষে আমাদের নিজেদের ৫টি আসনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সেসব আসন আমাদের দিক থেকে উন্মুক্ত থাকবে।জাপার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে– ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এ আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থী থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিপ্লব বড়ুয়া। ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে– বগুড়া-৪, রাজশাহী-২, কুষ্টিয়া-২, বরিশাল-২, পিরোজপুর-২, লক্ষীপুর-৪ আসনে। এসব আসনেও নৌকার প্রার্থী থাকবে না।

post
বাংলাদেশ

সরে দাঁড়ানোর কারণ জানাতে এসে হিরো আলম বললেন, ‘নির্বাচন করব’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত বদল করে আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। আজ রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। হিরো আলম বলেন, "আমি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন নির্বাচনে থাকব। এবারও হিরো আলমের ওপর হামলা হবে, মার হবে। তিন দফা নির্বাচন করেছি, তিন দফাই আমাকে মারধর করা হয়েছে।" একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন করা হয় বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের ব্যনারে। এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার ৬ মিনিটের মাথায় হিরো আলম বলেন, "আমি প্রার্থিতা উইথড্রো করবো বলেছি। কেন উইথড্রো করতে চাইছি- এই যে পাতানো নির্বাচন। সারা বাংলাদেশের লোকজন বলে কেউ নির্বাচনে আসছে না, কেন আসছে না? যারা পাতানো নির্বাচন করছে, তারা সুবিধাভোগী আসনগুলো ভাগ করে নিয়ে নির্বাচন করছে। আজকে বলেছিলাম, আমি আর নির্বাচন করবো না ,কারণ এই নির্বাচন করে আমি মার খেয়েছি, লাঞ্ছিত হয়েছি অনেক বার।"এই বক্তব্যের পরক্ষণেই হিরো আলম বলেন, "নির্বাচন করে কোনো লাভ হবে না; কারণ তারা আসনগুলো আগেই ভাগ করে নিয়েছে। তাই আমাদের এই লোক দেখানো নির্বাচনের মনে হয় না কোনো দরকার আছে। আমি আজকে বলেছিলাম, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবো। এখন আমি বলছি, আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবো না।" "আমি প্রার্থিতা উইথড্রো করবো না। আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন কেন করবো না? আপনারাই হিরো আলমকে হিরো বানিয়েছেন এবং আপনারাই আবার হিরো আলমকে জিরো বানিয়ে দেন। আপনারাই বলেছেন, হিরো আলম টাকা খেয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে, মার খাওয়ার ভয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু না, আমি এর আগেও নির্বাচন করেছি," যোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম আরও বলেন, "এই নির্বাচন সরকারের সাজানো নির্বাচন। আমি হিরো আলম নির্বাচনে থাকবো; এই নির্বাচন কত সুষ্ঠু হয়, সেটা দেখবো। প্রতিবারই হিরো আলম মার খায়, এবারও হিরো আলম মার খাবে।" তিনি বলেন, "নির্বাচনে আমি ফেল করবো এটাও জানি। আপনারা দেখবেন এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়। যেটা দেখানোর জন্য নির্বাচনে থাকছি। নির্বাচনে থাকছি প্রতিবাদ করার জন্য।" সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, "প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলতে চাই, ৩০০ আসনের মধ্যে আপনারা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীও নিলেন। কিন্তু আমরা যারা আমজনতা আছি, তাদের আসন কোথায়?" বক্তব্যের ৮ মিনিটের দিকে তিনি বলেন, "আমি নির্বাচন যে কোনো সময় বর্জন করতে পারি।" এদিকে, সম্মেলনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যন মো. আব্দুর রহিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "হিরো আলমের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল, সেই কারণে তিনি এসেছেন। তবে আজকে তিনি বলছেন, নির্বাচন থেকে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতেও পারেন, আবার নাও পারেন। এটি কোনো নেতা সুলভ কথা না।" আব্দুর রহিম দাবি করেন, প্রায় ৩০০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে, তারা নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। তারা সবাইকে এ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে, আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা তিনি। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, 'নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাচ্ছেন হিরো আলম। ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থী উইড্র করবেন তিনি।' এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিলের রায়ে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। গত ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করায় হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এই রায়ের বিপরীতে গত ৬ ডিসেম্বর কমিশনে আপিল আবেদন করেন হিরো আলম। আপিলে তিনি মনোনয়ন ফিরে পান।  

post
বাংলাদেশ

শরিকদের সঙ্গে সাতটি আসনে সমঝোতা: তথ্যমন্ত্রী

আপাতত ১৪ দলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে সাতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৪ দলের যারা নির্বাচিত হওযার যোগ্য, তাদেরকেই তো মনোনয়ন দিতে হবে। যাদের মনোনয়ন দিলে বা প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাদের ক্ষেত্রে তো সমঝোতা করা কঠিন। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করা হয় ১৪ দলকে সাতটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে, এটা আরও বাড়বে কি না? উত্তরে তিনি বলন, সাতটিতে মোটামুটি ১৪ দলের সবাই .....। যারা নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, তাদেরকেই তো মনোনয়ন দিতে হবে, কিংবা ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। যাদের মনোনয়ন দিলে বা ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাদের ক্ষেত্রে তো সমঝোতা করা কঠিন। আপাতত সাতটি আসনেই তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪ দলের সঙ্গে আমরা একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছি। এখনো আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আমরা আলোচনায় আছি। জাতীয় পার্টি আমাদের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছে। ‘জাতীয় পার্টি সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে যারা ব্যাহত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি বরাবর আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং তারা আমাদের রাজনৈতিক সহযোগী বলেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এবার জাতীয় পার্টি স্বাধীনভাবে নির্বাচন করছে। আমরা ২০০৮ সালে মহাজোট হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। ২০১৪ সালে আমাদের সঙ্গে এলায়েন্স হয়েছিল। এবার তারা ইন্ডিপেন্ডেন্টলি নির্বাচন করছে, এরপরও স্ট্র্যাটেজিক্যাল এলায়েন্স যে কারও সঙ্গে হতে পারে। সে নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা আশাকরি খুব সহসা আমরা একটা সমঝোতায় উপনীতি হবো।স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ তো আওয়ামী লীগের নেই। তারা তো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধেই স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে আমরা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো। আমরা দলগতভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর, সেখানে আওয়ামী লীগেরও কেউ কেউ স্বতন্ত্র হয়েছে। আরও অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগের সদস্য বা আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষই স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছে তা নয়। সেখানে অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে, বিভিন্ন আসনে। তাদের ওপর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদের নিয়ন্ত্রণ আমাদের দলীয় প্রার্থীদের ওপর।

post
বাংলাদেশ

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ শিরোপাও তাদের। সেই ভারতকেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করলো বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়নদের ৪ উইকেট আর ৪৩ বল হাতে রেখে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে টাইগার যুবারা। বাংলাদেশের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও একটু দুশ্চিন্তা ছিলই। ১৮৯ তাড়া করতে নেমে যে ৩৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল যুবা টাইগাররা।তবে সেখান থেকে আরিফুল ইসলাম খেললেন চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস। শুরুতে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দিলেন, সেট হয়ে মাঠ গরম করলেন চার-ছক্কায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। ব্যক্তিগত ৯৪ রানে থাকার সময় ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে ফিরতে হয় ডানহাতি এই ব্যাটারকে। তবে আরিফুল ফিরলেও তখন জয় বলতে গেলে নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। শেষদিকে অবশ্য ভারত বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নেয়। নাহলে বাংলাদেশের জয়টা আরও বড় হতে পারতো।ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল যুবা টাইগাররা। প্রথম ওভারেই রাজ লিম্বানির বলে বোল্ড হন ওপেনার জিসান আলম। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন তিনি। ১৯ বলে ১৩ করে নামান তিওয়ারির শিকার হন চৌধুরী মো. রিজওয়ান। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আশিকুর রহমান শিবলির ওপর ভরসা ছিল। কিন্তু ২২ বলে ৭ করে রানআউটে কাটা পড়েন এই ওপেনার।সেখান থেকে আরিফুল ইসলাম আর আহরার আমিনের ১৩৮ রানের জুটিতে ম্যাচ জেতা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। এ জুটিতে মূল ভূমিকা আরিফুলেরই। তবে ৯০ বলে ৯ চার আর ৪ ছক্কায় ৯৪ রান করে ভারতীয় পেসার রাজ লিম্বানিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই ভুল করেছেন তিনি। ক্যাচ হয়ে ফিরতে হয়েছে সাজঘরে। এরপরই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আউট হন মোহাম্মদ শিহাব আর শেষদিকে এসে উইকেট বিলিয়ে আসেন আরিফুলের সঙ্গে ম্যাচ জেতানো জুটি গড়া আহরারও। ১০১ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। এর আগে দারুণ বোলিংয়ে ভারতকে ১৮৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। টাইগার পেসারদের তোপের মুখে শুরুতে দাঁড়াতেই পারছিল না ভারতীয় ব্যাটাররা। ৬১ রানে ভারতের ৬ উইকেট তুলে নেন তারা। শেষদিকে মুশের খান ও মুরুগান অভিশেকের দুই ফিফটিতে সম্মানজনক স্কোরই পেয়ে যায় উদয় শাহারানের দল। ৪২.৪ ওভার খেলে ১৮৮ রানে অলআউট হয়েছে তারা।শুক্রবার আরব আমিরাতের আইসিসি একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। ২ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার আদর্শ সিং। বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর ৬ বলে ১ রান করা আরেক ওপেনার আর্শিন কুলকার্নিকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান মৃধা। অধিনায়ক উদয় শাহারানকে রানের খাতাই খুলতে দেননি মারুফ। অর্থাৎ প্রথম তিন উইকেটের তিনটিই শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার। এরপর দলের হাল ধরান চেষ্টা করেন প্রিয়ানসু মলিয়া ও শচিন দাস। তবে বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি শচিন। ২৩ রানের জুটিটি ভেঙে দেন ডানহাতি পেসার রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ। ৩৬ রানে ছিল না ভারতের ৪ উইকেট। এরপর প্রিয়ানসু মলিয়া ও মুশের খানের ২৫ রানের জুটি দলীয় স্কোর ৬১ রানে নিয়ে যায়। ১৬ তম ওভারে জোড়া আঘাতে মলিয়াকে ১৯ রানে ও অ্যারাভেলি আভিনিশকে ০ রানে ফেরান ডানহাতি পেসার বর্ষণ। তখন মনে হয়েছিল ভারতকে ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ।কিন্তু সেটি হতে দেয়নি মুশের ও মুরুগান অভিশেকের করা সপ্তম উইকেটের জুটি। ১০৮ বলে ৮৪ রানের পার্টনারশিপে তারা দলকে নিয়ে যান ১৪৫ রানে। মুশের ফিফটি হাকিঁয়ে রাব্বির বলে আরিফের হাতে ক্যাচ হন। এরপর ৩ রান দলীয় স্কোরকার্ডে তিন রান যোগ না হতেই ফেরত যান নতুন ব্যাটার সৌমি পান্ডে। মুরুগানও হাকাঁন ফিফটি। অবশেষে ৭৪ বলে ৬২ রান করে মারুফের বলে জিসান আলমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৮৮ রানে অলআউট হয় ভারত। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন মারুফ মৃধা। ২টি উইকেট তুলে নেন রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ ও শেখ পারভেজ জীবন।

post
বাংলাদেশ

মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

নাশকতার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমিত কুমার এ আবেদন করেন। সোমবার গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হবে। শুক্রবার পল্টন থানার আদালতের নিবন্ধন শাখা থেকে জানা যায় এ তথ্য।এর আগে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় ২৯ অক্টোবর গ্রেফতার দেখিয়ে মির্জা ফখরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলাটি করা হয় রমনা মডেল থানায়। এরপর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এরপর ২ নভেম্বর মির্জা ফখরুলের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। আবেদনের পর আদালতে জামিন শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ জামিন শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করে। এরপর আদালত জামিন শুনানি পিছিয়ে ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ওইদিন শুনানি শেষে জজকোর্ট তার জামিন নামঞ্জুর করেন।এরপর ৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। ৭ ডিসেম্বর ফখরুলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। রাষ্ট্রপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনের পর সরকার টিকবে না:মঈন খান

নির্বাচনের পর সরকার পাঁচদিন টিকবে কি না কেউ বলতে পারেন- এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সাল আর ২০২৪ সাল কিন্তু এক না। জনগণের শক্তির কাছে কামান বা বুলেট কিছুই টেকে না। বিশ্বে এমন অসংখ্য নজির রয়েছে। এবার সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। এই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই।’শুক্রবার  বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘মহান বিজয় দিবস, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশকে ভালোবাসলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিক। জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হলে প্রথম আমি অভিনন্দন জানাবো। না হলে এবার জুজুর ভয় দেখিয়ে এই সরকারের কোনো লাভ হবে না।’তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে রাজনীতি বলে কিছু নেই, রয়েছে অপরাজনীতি। এখানে ক্ষমতার নামে চলে দখল ও চাঁদাবাজি আর টাকা পাচার। ৫২ বছর আগে দেশের মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল তার মূলে ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্তু আজ দুটোর কোনোটিই নেই।’বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের সংকটের সমাধান করতে হবে। সরকার মুখে যা বলে কাজে তা করে না। কাজে যা করে তা বলে না। তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক সরকার বলে পরিচয় দেয়। বিএনপিকে বলে সন্ত্রাসী দল! তারা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বার বার বিভ্রান্ত করছে। তারা হিটলারের মন্ত্রী গোয়েবলসের মতো মিথ্যাচার করছে। তবে এভাবে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হলে পায়ের মাটি কখন সরে যায় টের পাওয়া যায় না।’তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মিথ্যাচার নিজেরাই বিশ্বাস করে না। তারা মনে করছে ক্ষমতায় যেহেতু আছে নির্বাচনের দরকার কী? কোনো সরকার গণতন্ত্রের ভান ধরলে সেই সরকার স্বৈরাচারের চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আজ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে।আবদুল মঈন খান আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই স্বৈরশাসককে মানেনি। যার প্রমাণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। সেদিন কিন্তু দেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রের দাবিতে জীবন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে। আমরা আবারও সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন ঘটাবো ইনশাআল্লাহ।আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মান্না বলেন, এই সরকার কী ভোট করছে? এটা তো বানরের পিঠা ভাগাভাগির মতো। ল্যাংড়া কানা খোড়া নিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করছে সরকার। তারা নিজেরা নিজেরা লাইনে দাঁড়িয়ে জটলা পাকিয়ে দেখাবে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে! আসলে এটাতো কোনো নির্বাচন নয়। আজ আওয়ামী লীগের জোট-মহাজোটের নেতাদের আসন ভাগাভাগি দেখলেই বোঝা যায় ওটা বানরের পিঠা ভাগাভাগি। এভাবে সরকার নির্বাচনের নামে নাটক-সিনেমা করবে।তিনি বলেন, এই সরকারকে সরে যেতেই হবে জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। বিএনপি কিন্তু দেশে জনতার অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। যা সারাদেশে দেখা গেছে। এবার বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে সারা ঢাকা কেঁপে উঠবে। রাজপথের কঠোর আন্দোলন ও রক্তের বিনিময়ে হলেও এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। বিশ্বের দেশে দেশে এমনটি হয়েছে। সরকারের পুলিশ বাহিনী যতই অত্যাচার করুক আমরা আমাদের জায়গা ছাড়বো না। কেননা রাজনৈতিকভাবে এই সরকার পচে গেছে। এরা সারাবিশ্বে ঘৃণিত। ম্যাথিউ মিলার বলেছেন- বাংলাদেশের বিরোধীদের ওপর কেমন নির্যাতন চালানো হচ্ছে, আমরা সব খবর রাখি। সুতরাং ওদের সময় বেশি নেই।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.