post
বাংলাদেশ

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, বললেন ড. মোমেন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় এসেছে, এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রেমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, অত্যন্ত ফলপ্রসু ছিলো তাদের আলোচনা। তিনি এই আলোচনায় ভীষণ খুশি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র মানবাধিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন নতুন দিক উন্মোচন হয়েছে। বাংলাদেশে উদারভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পেতে চায়। আলোচনায় র্যাব'এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ এসেছিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি উঠেছে এবং আমরা বলেছি র্যাব গঠনের উদ্দেশ্যই ছিলো সন্ত্রাসদমন। যে সময়টিতে র্যাব গঠিত হয় তখন বাংলাদেশে সারা দেশ জুড়ে বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকার সময় সন্ত্রাসবিরোধী বৈঠকেও গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এ সব দমনে র্যাব বড় ভূমিকা রেখেছে। "র্যাব কোথাও কোথাও বেশি করেছে, এমনটা উল্লেখ করেই আমি বলেছি বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেষ্ট রয়েছি," বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিতে আমি অনেক বেশি আশাবাদী তবে এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র্যাব কে নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টির মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে ড. মোমেন এই বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই যেমন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস সহিংসতা দূর করতে কাজ করে বাংলাদেশে র্যাবও একই ভূমিকা পালন করছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, আমাদের অপেক্ষাকৃত নতুন গণতন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র আড়াইশ' বছর ধরে এর চর্চা করছে, এখানে এখনো সমস্যা হয়। বাংলাদেশে ৫০ বছরের মধ্যে ১৮ বছর সামরিক সরকারের অধীনে ছিলো। বাংলাদেশে একটি দল নির্বাচনে আসে না তাদের নির্বাচনে আনাটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ, উল্লেখ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর হাতে গঠিত একটি দল জাতীয় নির্বাচনে আসতে চায় না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন বলেও জানান ড. একে আবদুল মোমেন। অ্যান্থনি ব্লিংকেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এমনটাও জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি সহযোগিতা করতে পারে এমনটা উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বলেন, শরণার্থীদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আমরা মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। 

post
বাংলাদেশ

৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, মোমেন-ব্লিংকেন বৈঠক সোমবার

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকীর দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার (৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিংকেনের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে যোগ দিতে এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রেমন্ত্রী ড. মোমেন। ঢাকা ত্যাগের আগে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আগামী ৫০ বছরে আমাদের (বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কিভাবে আরো জোরদার হবে সে ব্যাপারে আলোচনা করব।’   একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে অদ্ভুদ্যয়ের পর, ওয়াশিংটনের সাথে অর্ধশত বছরে একটি ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষপটে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর দু’দেশের মধ্যে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও এলিট ফোর্সটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর, এই প্রথমবারের মতো ড. মোমেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। ব্যাপক দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর পাশাপাশি তিনি এই নিষেধাজ্ঞাটি পুনঃবিবেচনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানাবেন। ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা এই (নিষেধাজ্ঞা ) ইস্যু উত্থাপন করব।’ যেহেতু র‌্যাব একটি দক্ষ, কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্ত বাহিনী, তাই তিনি আশা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া আসবে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিরাজ করছে এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু কখনো কখনো আমাদের সফল ঘটনাগুলো বহির্বিশ্বে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। আমরা আমাদের সাফল্যের কথা বৈঠকে তুলে ধরব।’ ড. মোমেন বলেন, তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের মামলায় দ-াদেশপ্রাপ্ত আসামী রাশেদ চৌধুরীকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করবেন। রাশেদ চৌধুরী এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ এবং এজন্য ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে কম আগ্রহী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা গত অংশীদারিত্ব আলোচনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ)’র খসড়াটি পরীক্ষা করে দেখছে।ওয়াশিংটন চায় ঢাকা যেন দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এ দুটি হলো- জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) এবং অ্যাকুইজিশন ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ), যেগুলো দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরো বেশি কিছু করার প্রবেশদ্বার। ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে বহুমুখী বাণিজ্য বিস্তৃত করতে চায়, উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা, নীল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে সম্পৃক্ত থাকতে চায়- যা জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ তার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রেকে আমন্ত্রণ জানাবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি এ বৈঠককালে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ব্যাপারেও আলোচনা করবেন।এদিকে, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুই মন্ত্রীর বৈঠক ছাড়াও একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ রাখা হয়েছে। ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় দূতাবাসের চ্যান্সেরি ভবনে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।  

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাবে ২০২৩ সালের মধ্যে

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২৩ সালের মধ‌্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১৯০টি ইউনিয়ন ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন-সহ দুর্গম পার্বত‌্য অঞ্চল, দ্বীপ, চর এবং হাওরে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) টাঙ্গাইলের মধুপুরের দুর্গম পাহাড়ে উচ্চগতির ব্রডব‌্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আম্বার আইটির উদ‌্যোগে মধুপুরের গারো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে এই সংযোগ প্রদান করে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় একটি জাতীয় দৈনিকে গ্রামবাসীর আকুতি প্রকাশিত হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে ব্রডব‌্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মধুপুরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ সব দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, মধুপুরের মতো সারা দেশে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। তাদেরকে ডিজিটাল সংযোগ দিতে পারলে নতুন নতুন অনেক প্রতিভা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে শতশত বছর পিছিয়ে থাকা এই জাতি আগামী ১০ বছরে পৃথিবীর কোনও দেশ থেকে এক চুলও পিছিয়ে থাকবে না। আমরা ইতোমধ্যে ফাইভ-জি উদ্বোধন করেছি। কৃষি, মৎস‌্য চাষ ও শিল্প বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ফাইভ-জি হবে এগিয়ে যাওয়ার বড় হাতিয়ার বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাকে বিকশিত করতে উচ্চগতির ডিজিটাল সংযোগ সংযোগসহ তাদেরকে সম্ভাব‌্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব‌্যক্ত করেন। উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তরুণ সুবীর নাগরিক বলেন, পাহাড়ে আমরা উচ্চগতির ইন্টারনেট পাচ্ছি এটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

post
বাংলাদেশ

৭ মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে মানুষকে প্রেরণা দিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে যুগে যুগে প্রেরণা দিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সোমবার (৭ মার্চ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ভাষণ বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। একটি ভাষণের মধ্য দিয়ে একটি জাতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার এবং স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে একদিকে আমরা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি হওয়ার পর দীর্ঘ ২৩টি বছর যে শোষণ বঞ্চনার শিকার হয়েছিল বাঙালি জাতি যে অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করেছিল, নিজের অধিকারে কথা বলতে গিয়ে গুলি খেয়ে জীবন দিয়েছিল, সেই কথাগুলি তিনি ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে ঠিক ওই মুহূর্তে কী কী করণীয়, সেই নির্দেশনাও জাতিকে তিনি দিয়েছিলেন। অর্থ্যাৎ অসহযোগের যে আন্দোলনের ডাক দেন বাংলাদেশের মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল।’১৫ আগস্টের পর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর এই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস শুনেছে। আর ২১ বছর ধরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লাখো শহিদের রক্ত দান, আমাদের সংগ্রাম সবকিছু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আজকে এটা প্রমাণিত সত্য যে সত্যকে কেউ কখনো মুছে ফেলতে পারে না। আর ৭ মার্চের ভাষণেই তো জাতির পিতা বলে গেছেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। তাই বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই।’সব বাধা পেরিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান করে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীনতার জন্য যত ভাষণ দেওয়া হয়েছে, তার কোনোটাই কিন্তু পুনরাবৃত্তি হয়নি কখনো। যেদিনের ভাষণ সেদিনেই এটা শেষ হয়েছে। কিন্তু এই ভাষণটা আজকের আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর। এই ৫০ বছর পর্যন্ত কিন্তু এই ভাষণটা বারবার আমাদের প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। কেউ হিসাব করে বের করতে পারবে না, কত ঘণ্টা কত মিনিট কত দিন এই ভাষণটা বাজানো হয়েছে। এটার হিসাব করাটাই হবে একটা কঠিন ব্যাপার। যুগ যুগ ধরে এটাকে আমরা শুনছি এবং বাজানো হচ্ছে।’সরকারপ্রধান বলেন, ‘যতই বাধা দেয়া হয়েছে, ততই যেন এই ভাষণটা আরও উদ্ভাসিত হয়েছে। এখনো এই ভাষণ আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয়। যে ভাষণের প্রতিটি লাইনই হচ্ছে এক একটা যেন কবিতার অংশ। যা মানুষের ভিতরে, অন্তরে একটা অন্য অনুভূতি নিয়ে এসে দেয়, প্রেরণা দেয়।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যখন যুদ্ধ করেছে, এই ভাষণটাই ছিল তাদের প্রেরণা এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এটা নিয়মিত এই লাইন বাজানো হতো। জাতির পিতা তার ভাষণ শেষ করেছেন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে। বাঙালির জয়, বাংলাদেশের জয়, বাংলার মানুষের জয়।’ এই জয় বাংলা স্লোগানটা প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা যখনই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, শত্রুকে আঘাত করতে গেছে, এই জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে বলেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখনই ভাষণ দিতে যাবেন তখন অনেক রাজনৈতিক দল, অনেক ছাত্রনেতা পরামর্শ দিতে থাকে যে, কী করা উচিত। কয়েকটা ছাত্রনেতা তো বলেছিলেন যে আজ সরাসরি তো স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেই হবে। না হলে তো মানুষ হতাশ হয়ে যাবে এমনটাও বলেছিল। আমাদের কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী অনেকে অনেক পয়েন্ট লিখে দিয়ে গেছেন। অনেকেই পরামর্শ দিয়ে গেছেন। আমাদের বাসাটা তখন উন্মুক্ত ছিল। সকলের জন্য খোলা ছিল।’তিনি বলেন, ‘আমার আব্বাকে আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন, সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছে এদেশের মানুষের জন্য। তুমি জানো এদেশের মানুষের জন্য কোনটা ভালো। তোমার মনে যেটা আসবে তুমি ঠিক সেটাই বলবা। তোমার কারো কথা শোনার প্রয়োজন নাই। আজ আপনারা যে ভাষণটা দেখেন তার (বঙ্গবন্ধুর) কাছে কিন্তু কোন কাগজ নাই, কিছু নাই। তিনি একাধারে বঞ্চনার ইতিহাস পড়ে যাচ্ছেন।’সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

post
বাংলাদেশ

শপথ নিলেন বাংলাদেশের সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার

নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং চারজন নির্বাচন কমিশনার শপথ নিয়েছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সিইসি ও চারজন নির্বাচন কমিশনারকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। প্রথমে শপথ নেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। এরপর কমিশনার হিসেবে পর্যায়ক্রমে শপথ নেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন- ২০২২’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে গঠিত সার্চ কমিটির অপর পাঁচ সদস্য ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। এই কমিটি দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেন। সে সব বৈঠকে অংশ নেয়া অধিকাংশের দাবির প্রেক্ষাপটে ইসি গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রস্তাবিত তিন শতাধিক নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি, বিচারক, আইনজীবী, সাবেক আমলা, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তির নাম সেই তালিকায় উঠে আসে। তবে দুইবার সুযোগ দেয়ার পরেও বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইসি গঠনে সার্চ কমিটির কাছে কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। এমন প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদের জন্য দুটি করে মোট ১০টি নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করে সার্চ কমিটি। সেই নামের তালিকা থেকে গতকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চারজন কমিশনারকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেন। ওই দিনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হয়।

post
বাংলাদেশ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষের ঢল

সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষের সারি এদিকে পলাশী মোড় ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। কারও হাতে একটিমাত্র ফুল, কারও হাতে একগুচ্ছ। কারও হাতে ছোট পতাকা। তবে সবার মুখে অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মাইকে সেই সুর ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে। মানুষের এই শ্রদ্ধা বলে দিচ্ছিল, মাতৃভাষা আর দেশের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের টান অকৃত্রিম। আজ সোমবার অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অহঙ্কার আর শোকের এই দিনটি পালন করছে জাতি। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান, তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। এবারও করোনার কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে সশরীরে আসেননি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর পরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তিন বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বিদেশি কূটনীতিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর পুলিশ বাহিনীর পক্ষে আইজি বেনজির আহমদ এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল করা হয় বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এ সময় হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে শহীদ মিনারের দিকে। বিপুলসংখ্যক মানুষের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। গত কয়েক দিন ধরেই একুশের দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো প্রাঙ্গণ ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ যখন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তখন মাইকে অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। মাইকে বিভিন্ন কবির একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তি শিল্পীরা। ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে।

post
বাংলাদেশ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭০ পূর্ণ হল। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিন রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়। এছাড়াও কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন। ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নর ও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘ বরকত, সালামকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালবাসে। ওরা আমাদের ভালবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত। ’ এদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না । কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’ বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল একুশ নিয়ে তার এক লেখায় লিখেছেন ‘মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি। ন্যায়ের দাবি, সত্যের দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বভাবের ব্যাপারে, ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোন আপোষ চলে না, চলে না কোন গোঁজামিল। জীবন-মৃত্যুর ভ্রকুটি উপেক্ষা করেই হতে হয় তার সম্মুখীন। একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি। এদিন দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রং ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করো হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সকল উপাসনালয়ে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানসহ সবাই পূর্বের ঐতিহ্য বজায় রেখে যাতে শহিদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসাথে সর্বোচ্চ ২ জন শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং দিবসটি পালনে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠান ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কদ্বীপ সমূহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা জনক স্থান সমূহে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে। একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং ভাষা শহিদদের সঠিক নাম উচ্চারণ, শহিদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহিদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, ইত্যাদি জনসচেতনতা মূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যম সমূহ প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংবাদপত্র সমূহে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিকে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি পালন করবে দলটি। প্রিয় মাতৃভাষার মর্যাদা-অধিকার রক্ষা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত অগণিত শহীদের রক্তে রঞ্জিত দিবসটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র বাঙালি জাতির সাথে বরাবরের মতো এবারও শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ ও পালন করবে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে, একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৬ টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরী সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও ২২ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩ টায় দলের পক্ষথেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের সর্বস্তরেরনেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। -বাসস

post
বাংলাদেশ

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যৌথ মহড়া

আগামী সপ্তাহে ঢাকা ও সিলেটে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী। ইন্দো-প্যাসিফিকের একটি যৌথ লক্ষ্য অর্জনের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করতে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্যাসিফিক এয়ারফোর্স ১১ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউএসের ৩৭৪তম এয়ারলিফ্ট উইং, ইয়োকোটা এয়ার বেস, জাপান এবং বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (বিএএফ) এর বিমানবাহিনীর সদস্যরা ২২ ফেব্রুয়ারি বিএএফ কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা এবং অপারেটিং লোকেশন-আলফা, সিলেটে কোপ সাউথ অনুশীলনে অংশগ্রহণ করবে। দুটি সি-১০৩জে সুপার হারকিউলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬তম এয়ারলিফ্ট স্কোয়াড্রনের প্রায় ৭৭ জন বিমানবাহিনীর সদস্য এই মহড়ায় অংশ নেবেন। মহড়ায় ২টি সি-১৩০জেসহ বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যোগ দেবেন। মহড়ার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সঙ্গে আন্তঃকার্যকারিতা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করা।

post
বাংলাদেশ

অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলা একাডেমিতে আমরা বইমেলা আয়োজন করে আসছি। এটা আমাদের প্রাণের মেলা। পাকিস্তান সরকার আরবি ও রোমান ভাষায় বাংলা লেখার প্রচলন করতে চেয়েছিল। আমি বলবো, বাংলা যেমন আমাদের আনন্দের ভাষা তেমন আমাদের প্রতিবাদেরও ভাষা। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধার জানান। তিনি বলেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এবারের বইমেলা দেরি করে শুরু করতে হল। যারা বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। ১৯৪৭ সালে করাচিতে এক সভায় বাংলাকে মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালে করাচিতে এক সভায় বাংলাকে মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানানো হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে আন্দোলন করা হবে, এর সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধুই দিয়েছিলেন। পাকিস্তান কখনোই আমাদের ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে চায়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বইমেলা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। বই না পড়লে মনে হয়, অনেক কিছুই হয়নি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের শিখতে হবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য এই মেলাকে অন্যমাত্রা দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কারণ তিনি ভাষার আন্দোলন করতেই কারাগারে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকেও অনেক তথ্য পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোমান ও আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রচলন করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। এমনকি রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাকে নিয়ে গেছিলেন। কানাডা প্রবাসী রফিক ও সালাম বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘে নিয়ে যান। কিন্তু কোনো সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাব না দিলে তা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই আমরা সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ শুরু করি। ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ২০০৮ সালে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট তৈরি করি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়েত জোট এই কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল’- যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। আমরা স্বাধীনভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছি। হাজারো বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারছে। আমাকে শুধু নিজের ভাষা নিয়ে থাকলে চলবে না, অন্য ভাষা সম্পর্কেও জানতে হবে। এজন্য অনুবাদে জোর দিতে হবে। তাদের সাহিত্যকে জানতে হবে। ‘মুজিববর্ষ উদযাপন করার সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা অনেক বই আমার কাছে এসেছে। আমি ওই সব বইয়ের অনেকগুলো সম্পাদনা করে দিয়েছি। করোনার কারণে আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। করোনার কারণে আমরা অনেক কবি, সাহিত্যিকে হারিয়েছি। আশা করছি, এই বইমেলায় যেসব বই প্রকাশিত হবে, তা সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ তারিখে বইমেলা শুরু হয়েছে। তবে আমার ইচ্ছা এই মেলা ১৭ মার্চ পর্যন্ত চালানো। আশা করছি সবাই স্বাস্থ্য-সুরক্ষা মেনে বইমেলায় আসবেন। সবাই টিকা নেবেন। মাস্ক পরে সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাংলাকে পরিচিত করাতে বিভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রকাশনা করতে হবে। আধুনিক এই প্রকাশনা বাদ দিলে চলবে না। সবশেষে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন নতুন কবি সাহিত্যিক খুঁজে পাওয়া যাবে। আর এজন্য গ্রাম এলাকায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে হবে। আমি মনে করি, প্রশাসন থেকেও এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আমি বই মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। ৩৮তম এ বইমেলা চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’।

post
বাংলাদেশ

জনগণ বিএনপির ডাকে সাড়া দেবে না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জনগণ বিএনপির ডাকে সাড়া দেবে না কারণ, যারা গণবিরোধী রাজনীতি করে, জনগণ তাদের পাশে থাকে না। শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডে মন্ত্রী তার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ঈদের পর বিএনপি'র আন্দোলন ও গণ-অভূত্থ্যানে সরকারকে বিদায় জানানোর হুমকি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিগতদিনগুলোতে বিএনপি আন্দোলনের যে হুমকি দিয়েছিল, বর্তমানে সেটার ধারাবাহিতা ছাড়া কিছু নয়। খন্দকার মোশারফ সাহেবসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ এমন বহু ঈদের পরে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাবেন এটা অন্তত ১২ বছর ধরে বলে আসছে।' 'আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার এক বছর পর থেকেই এই ঈদের পরে, এই শীতের পরে, এই বর্ষার পরে, পরীক্ষার পরে -এরকম বহু হুমকি আমরা শুনে আসছি এবং খালি কলসি যে বেশি বাজে, তাদের এই হুমকিগুলোও ঠিক সেরকম ছিল' উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'খন্দকার মোশারফ সাহেবও যে বক্তব্য রেখেছেন, আগামী ঈদের পরে জাতীয় ঐক্য করে, সরকারের পতন ঘটাবেন সেগুলো আগের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ছাড়া আরও অন্য কিছু নয়। মানুষ তাদের এই হুমকি শুনে হাস্যরস করে।' সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ডান-বাম, অতি বাম, সবার সন্নিবেশ ঘটিয়ে একটা জাতীয় ঐক্যের মতো করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই ঐক্য করে কোন লাভ হয় নি। সেটি একেবারে ফানুসের মত নিভে গেছে। কারণ উন্নয়নের ফলে দেশের মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে আছে, ১৪ দলীয় জোটের সাথে আছে। জনগণ তাদের (বিএনপি) ডাকে কখনও সাড়া দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না।’ বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমাপে গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়েছে। আমি মনে করি, দেশ গণতন্ত্র সূচকে আরও অনেক ধাপ এগুতে পারতো কারণ গণতন্ত্র সংহত করা শুধুমাত্র সরকারি দলের কাজ নয়। যারা বিরোধীদলের রাজনীতি করেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন, সরকারবিরোধী রাজনীতি করেন, তাদেরও দায়িত্ব এসব নিয়ে কথা বলার। বিএনপি যদি গণবিরোধী রাজনীতি না করতো, মানুষ ও গাড়িঘোড়া জ্বালাও-পোড়াও না করতো, হরতাল অবরোধের মাধ্যমে জনগণকে অবরুদ্ধ করার রাজনীতি না করতো, গণতন্ত্র সূচকে আমরা আরও বহু ধাপ এগুতে পারতাম।'

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.