post
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান শেখ হাসিনার

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে গণভবনে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ বিজনেস ডেলিগেশনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম আস্থাভাজন উন্নয়ন অংশীদার এবং এদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অবদান রেখে আসছে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি বিদেশি বিনিয়োগের উৎস এবং রফতানি বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইসিটি, অবকাঠামো, হালকা প্রকৌশল পণ্য, মোবাইল ফোন ইলেক্ট্রনিক পণ্য, গাড়ি কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ উৎপাদন, সিরামিক খাতসহ সম্ভবনাময় খাতগুলোত আরও বিনিয়োগ করে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুপারিশ পেয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছ আমাদের। সে লক্ষ্যে আমাদের বন্ধু দেশগুলোর কাছ থেকে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ দরকার। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি, আমরা বিনিয়োগ ও ব্যবসা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন হালনাগাদ ও সহজ করেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে উদার নীতি বাংলাদেশের। আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা চাইলে তাদের জন্য আলাদাভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বেড়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৭৬০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ছিল ৫৮০ কোটি ডলার।

post
বাংলাদেশ

গীতিকার, সাংবাদিক কে জি মোস্তফা আর নেই

গীতিকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট কে জি মোস্তফা আর নেই। রোববার (৮ মে) রাত ৮টার দিকে আজিমপুরে নিজ বাসায় অসুস্থবোধ করলে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার (৯ মে) বাদ জোহর কে জি মোস্তফার মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেওয়া হবে। সেখানে তার জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হবে।কে জি মোস্তফার জন্ম ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষানবিশ হিসেবে তার হাতেখড়ি দৈনিক ইত্তেহাদে, ১৯৫৮ সালে। ওই বছরই ‘দৈনিক মজলুম’-এ সহ-সম্পাদক পদে নিয়োগ পান। পত্রিকাটি বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বহাল ছিলেন।দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৬৮ সালে ফের সাংবাদিকতা শুরু করে সাপ্তাহিক জনতায়। ১৯৭০ সালে সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা কফিলউদ্দীন চৌধুরীর প্রেস সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। সে সময় তিনি সরকারি চাকরি হিসেবে প্রথম শ্রেণির রেডিও সার্ভিসের জন্যও মনোনীত হন। তবে মুক্তিযুদ্ধের কারণে সে চাকরিতে যোগ দেননি তিনি।স্বাধীনতার পর কে জি মোস্তফা প্রথমে ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও পরে ‘দৈনিক স্বদেশ’ পত্রিকায় প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ‘দৈনিক জনপদে’ কাজ করেন কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে। ওই সময় ‘নূপুর’ নামে একটি বিনোদন মাসিকও সম্পাদনা করতেন।১৯৭৬ সালে বিলুপ্ত সংবাদপত্রের একজন সাংবাদিক হিসেবে কে জি মোস্তফা বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত হন এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরে সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে সম্পাদক, পরে সিনিয়র সম্পাদক পদে উন্নীত হন। অবসর নেন ১৯৯৬ সালে।চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা ‘নবারুণ’, সাহিত্য মাসিক ‘পূর্বাচল’, ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সংবাদ’ এবং সবশেষ ‘সচিত্র বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন কে জি মোস্তফা। ওই সময় কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশ স্কাউটসের মুখপত্র ‘অগ্রদূত’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন।গুণী এ মানুষটি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা। বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী এবং জনপ্রিয় দুই গান ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’ এবং ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন’-এর গীতিকার তিনি। প্রথম গানটি এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ এবং দ্বিতীয় গানটি অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি গানেরই সুর করেছেন রবিন ঘোষ। প্রথম গানটি গেয়েছেন তালাত মাহমুদ। দ্বিতীয়টি গেয়েছেন মাহমুদুন্নবী।

post
বাংলাদেশ

ভিডিওবার্তায় ঈদের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আবার এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঈদ-উল-ফিতর মানেই খুশি ও আনন্দ, আসুন আমরা সবাই মিলে ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ উপভোগ ও ভাগাভাগি করি।প্রধানমন্ত্রী ঈদ-উল-ফিতরের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।‘ভাল থাকুন এবং নিরাপদ থাকুন, ঈদ মোবারক’ বলে বার্তাটি শেষ করেন।  বাংলাদেশের আকাশে রবিবার (১ মে) ১৪৪৩ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় মঙ্গলবার (৩ মে) দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (আইএফ) সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমিনকে উদ্ধৃত করে বাসসের খবরে বলা হয় দেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৩ হিজরির শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সোমবার উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ইদ-উল ফিতর। 

post
বাংলাদেশ

মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় গুলশানের কেন্দ্রীয় মসজিদে (আজাদ মসজিদ) এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় সাবেক এ অর্থমন্ত্রীর বড় ছেলে সাহেদ মুহিত, ছোট ভাই পরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ডা. এ কে আব্দুল মুবিন জানাজায় অংশ নেন।এছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমানসহ দলীয় নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে।তার ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহটি সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হবে সিলেটে। সেখানে আগামীকাল রবিবার (১ মে) পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে মুহিতের মরদেহ।এদিকে জাতীয় সংসদ ভবন প্লাজায় সাবেক এই মন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ এপ্রিল) সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে কোনও আয়োজন ছিল না।সংসদের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদে তার জানাজা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও নির্দেশনা ছিল না। এ কারণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

post
বাংলাদেশ

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর নেই

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহ রাজিউন)। রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা, সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১২টায় তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহিদ মিনারে নেয়া হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাফনের জন্য তাঁর মরদেহ সিলেটে নেওয়া হবে। আবুল মাল আবদুল মুহিত মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ। মা-বাবা দুইজনই তৎকালীন সিলেট জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাই। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরনের আওয়াজও পাওয়া গেছে।সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের গেটে এবং ব্যবসায়ীরা চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছে।এর আগে রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকেই সায়েন্সল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর ও মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।সোমবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।তবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ- এমন অভিযোগ করে কলেজের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা হলের ছাদে ও তেলের পাম্প এলাকায় অবস্থান নেন। ফলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।তবে রাত ৩টার পরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীদেরও কোথাও জড়ো হতে দেখা যায়নি। এতে পুরো এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই এলাকার সব সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

post
বাংলাদেশ

বৈশাখ এলো... এলো নতুন বছর

সাদিয়া ইসলাম: বৈশাখ এলো... এলো নতুন বছর। এলো বাংলা নববর্ষ... ১৪২৯ সাল। গাছে গাছে বেড়েছে পত্রপল্লব। সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে চারিদিক। শাখায় শাখায় দোল খাচ্ছে ফুলের সমাহার। মৃদুমন্দ বাতাসে ঝিরি ঝিরি কাঁপছে গাছের পাতা। প্রকৃতিতে এসবই এলেই সাথে বয়ে নিয়ে আসে নতুন বছরের আগমনী সুর। আর আসে কালবৈশাখি। ঝড়ের তাণ্ডবেও বাঙালি মন উতাল হয়... বৈশাখি হাওয়ায় শাড়ির আচল উড়িয়ে মেয়েরা মেলায় যায়। সে মেলার গান চলে-বাজে ঢোল বাজে ঢাক ঐ এলো বৈশাখ !!”” মেলা হবে খেলা হবে হবে কবি গান... এটাই বাংলা। এটাই বাংলার বর্ষবরণ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে আহ্বান জানায় বাঙালি। আর নতুন সূর্যালোকে ধরাকে সুচি করে নিতে চায়। পয়লা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমণ্ডুকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়। আর পহেলা বৈশাখ, বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। ঠিক একদিন আগে চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজন শেষ করে একটি বছরকে বিদায় করে নতুন বছরকে আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়ার তাগীদ থাকে প্রতিটি বাঙালির মনে প্রাণে। তারা মনে করেন, কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। কোভিড-১৯ এর কারণে বন্ধ থাকায় আজ দুইবছর পর পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতবে দেশ। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯' জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা' ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। রমনা বটমূলে রয়েছে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন। এরমধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা আজ বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বাঙ্গালী সংস্কৃতি আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘের সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়। শুধু বাংলাদেশ কেনো বিশ্বের যেখানে যেই দেশেই বাঙালির বাস সেখানেই তাদের মধ্যে এখন বৈশাখ বরণের আমেজ। বিদেশ বিভুঁইয়েও তারা ভুলে যাননি নিজের সংস্কৃতি। তাই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য থেকেও আসছে বর্ষবরণে উৎসবের খবর। এই সার্বজনীন উৎসবে সারা বিশ্বের সকল বাঙালি প্রাণ উচ্ছ্বাস আনন্দে ভাসুক। নতুন বছর আমাদের সকলের জন্য আনন্দ ও মঙ্গল বয়ে আনুক, এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

post
বাংলাদেশ

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই সরকার প্রধান দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। মোবারকবাদ জানান মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজানের।ভাষণে তিনি বলেন সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে চালসহ কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই। সাশ্রয়ী দামে পণ্য কেনার জন্য টিসিবি’র দোকানে মানুষ ভিড় করবে—এটাই স্বাভাবিক। এটাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার কী কারণ থাকতে পারে?বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।‌শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য পরিবহণের ভাড়া ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশেও কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, চলতি পবিত্র রমজান মাসে আমরা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে প্রায় ১ কোটি পরিবারকে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ঢাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫টি ফ্রিজার ভ্যানে করে সাশ্রয়ী দামে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ইতোমধ্যে কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। এছাড়া, সরকার আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ১ কোটি ৩৩ হাজার ৫৪টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১ লাখ ৩৩০ মেট্রিক টনের বেশি চালের বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে।করোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেইকরোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেই এমনটি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিতেও আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৯৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছর রেকর্ড ২৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এ বছরও আশানুরূপ রেমিটেন্স আসছে। গত বছর রফতানি আয় হয়েছে ৪৪ দশমিক দুই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ দশমিক ছয় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ বছর রফতানি আয়ে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে, ইনশাআল্লাহ।বোরোতে বাম্পার ফলনকৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে চাল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বোরো মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।ঋণ যাতে বোঝা না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টিআমাদের মেগাপ্রকল্পগুলো নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে- কোনও ঋণ নেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি। আর শুধু ঋণ নয়, বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। আমরা দেশি-বিদেশি ঋণ নিচ্ছি। তবে তা যাতে বোঝা হয়ে না উঠে সে দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা।দুই বছর হবে অবকাঠামো উন্নয়নের মাইলফলক২০২২ এবং ২০২৩ হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কয়েক মাস পরেই চালু হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতু। এই সেতু জিডিপিতে ১.২ শতাংশ হারে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের শেষ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে মেট্রো রেল চালু হবে। মেট্রো রেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগামী অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর নদীর তলদেশ দিয়ে চালু হবে দেশের প্রথম টানেল। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত মাসে পায়রায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ের আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনায় অর্থনৈতিক অর্জনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত ১৩ বছরে যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে তা অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকগুলো বিবেচনা করলেই স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে জিডিপি’র আকার ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে তা ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৭০২ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২,৫৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনা এবং দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রেখে মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ফলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন করতে অবদান রাখতে পারছি বলে আমরা গর্বিত। যতদিন বেঁচে আছি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে কাজ করার সামর্থ্য দিবেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাব, জনগণের সেবা করে যাব।বাঙালির মুখের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে উপজীব্য করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে একদিন এদেশে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছিল। যার উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। কাজেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা মানে আমাদের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা।দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দের শুভ মুহূর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্নাত হয়ে আসুন বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলি—যেখানে বৈষম্য থাকবে না, মানুষে মানুষে থাকবে না কোন ভেদাভেদ, থাকবে না ধর্মে-ধর্মে কোন বিভেদ। পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসুন বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলা নতুন বছরের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

post
বাংলাদেশ

প্রবাসেও পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়, বললেন প্রধানমন্ত্রী, ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সংঘাত সৃষ্টি না করার আহ্বান

ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সংঘাত সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেকেই ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সংঘাত সৃষ্টি করতে চায়। এটা মোটেও সঠিক কাজ নয়।’বুধবার (১৩ এপ্রিল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নবনির্মিত ৮টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের উদ্বোধনকালে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।সরকার প্রধান বলেন, ‘ধর্ম যার যার। আমরা এটাই বলি ধর্ম যার যার উৎসব সকলের। কাজেই উৎসব সকলে আমরা এক হয়ে পালন করবো।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, আমরা বাঙালি, আমাদের দেশে কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ বাস করে। সেখানে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাইতো আছে।’সকল জাতি-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকশিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই যে সকল ধর্ম-বর্ণ, বিভিন্ন ছোট ছোট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, তাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি, অর্থাৎ শুধু ধর্মালম্বী না, আমাদের যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদেরও কিন্তু নিজস্ব সাংস্কৃতিক চর্চা আছে, সংস্কৃতি আছে। সেগুলোতে যাতে বিকশিত হয়। সেদিকে দৃষ্টি রেখেও কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি এলাকায় তাদের এই সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ আমরা করে দিয়েছি।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবহমান কাল থেকে যেগুলো চলে আসছে এগুলোও যাতে বিকশিত হতে পারে। বিশেষভাবে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, এগুলো আমরা ভুলবো না। কিন্তু আমরা সামনের দিকেও এগিয়ে যাবো। আধুনিক যুগের যত সংস্কৃতি সেটাও আমরা রপ্ত করবো। সেভাবে আমরা করতে চাই।’সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পহেলা বৈখাশ আমরা উদযাপন করি। এই একটা উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে, সকল বাঙালি এক হয়ে আমরা কিন্তু এই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করি। যেখানে সকলের একটা চমৎকার মিলন কেন্দ্র হয়।… আমাদের প্রবাসীরাও এই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেন।’অতিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ, যে পহেলা বৈশাখ পালন করতে যেয়ে আমরা বাধার সম্মুখিন হয়েছিলাম। ১৪০০ সাল বরণ করে যেয়ে আমরা বাধার সম্মুখিন হয়েছিলাম। এটা হচ্ছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য জনক। এমনকি বটমূলে বোমা হামলা করেও মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। যাতে করে আমাদের এই সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ হয়ে যায়।’আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি-ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহ্য আমাদেরকেই ধারণ করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতে চর্চা করতে পারে, বিকশিত করতে পারে এবং আরও এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্মিলন ঘটিয়ে যেন এটাকে যেন আরও বেশি উৎকর্ষ সাধন করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। সেটাই আমরা দিবো।’দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি, অর্থনৈতিক ভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী আমরা হয়েছি আমাদের এই অগ্রযাত্রা অবশ্যই আমাদের ধরে রাখতে হবে।’সংস্কৃতি চর্চাটাকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েই আমাদের সংস্কৃতি চর্চাটাকে আমরা আরো সমৃদ্ধশালী করতে পারি। সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেব।’সংস্কৃতি চর্চায় সহযোগিতা করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রান্ত হতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা ও কুষ্টিয়া, খুলনা, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে একটি আনন্দঘন সন্ধ্যা

পরিবেশটা ছিল বেশ আনন্দঘন। সোমবার (৪ এপ্রিল) উপস্থিত অভ্যাগতরা একটা সুন্দর সন্ধ্যা কাটালেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে। মৃদুমন্দ সুরে বেজে চলছিলো যন্ত্রসঙ্গীত।‌‌‌‌‌ তার মধ্যে মৃদুভাষ্যে মানুষের কথোপকথন। উপলক্ষ্য বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন।জমায়েতটা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬ টা থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই ছিলেন সেখানে। নিমন্ত্রিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। প্রথম কিছুটা সময় কাটে একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময় করে। এরপর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল ইসলাম আরও ছিলেন ইউএসএআইডির ডেপুটি এডমিন্সট্রেটর ইসোবেল কোলম্যান। ততক্ষণে যোগ দেন আরো অভ্যাগত অতিথিরা। তাদের উপস্থিতিতেই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। যার শুরুটা হয়েছিল যন্ত্রে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে।আলোচনার শুরুতেই এই উদযাপন উপলক্ষে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যন্থনি ব্লিংকেনের ভিডিও ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়।এতে ব্লিংকেন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল যে সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে গত ৫০ বছরে তা দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে।জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংকট নিরসনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রসরতা বাংলাদেশের তথা বাংলাদেশিদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে ব্লিংকেন বলেন, ১৯৭২ সালে ফজলুর রহমান খান যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে এসেছিলেন এবং এখানে পিএইচডি এবং দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। ১৯৭২ সালে দুই দেশের সম্পর্ক স্থাপনের এক বছর পর ১৯৭৩ সালে তিনি সিয়ার্স করপোরেশনের মতো অত্যাধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপার ডিজাইন করেছিলেন, তখন থেকেই সেই টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাসিক স্কাইলাইনের প্রতীক হয়ে রয়েছে, স্মরণ করেন ব্লিংকেন। তিনি বলেন, এই একটি বিষয়ই বলে দেয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কি করতে পারে।ব্লিংকেন বলেন, আগামী দিনগুলোতে আমাদের দুই দেশের জনগণ মিলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কটি কিভাবে এগিয়ে নেবে সেদিকেই আমরা তাকিয়ে আছি।এরপর বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের সঙ্গে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে তা অব্যাহতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং ৫০ বছরে তা একটি শক্ত ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বক্তব্যে উল্লেখ করেন শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২২ নাল হচ্ছে সেই সম্পর্কের উদযাপনের বছর। গোটা বছরজুড়ে আমরা দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের শক্তির দিকটি প্রদর্শনের যেমন সুযোগ পেয়েছি তেমনি করে এই সম্পর্ককে আরও গভীরতা দিকে নিয়ে যেতে করণীয় নির্দেশ করতে পেরেছি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসম্পর্ক জোরদারে অংশীদারিত্ব সংলাপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, গত ২০ মার্চ ঢাকায় অষ্টম অংশীদারিত্ব সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে ৮ম নিরাপত্তা সংলাপ এবং ৯ম প্রতিরক্ষা সংলাপ আগামী মেমাসের প্রথম ভাগে অনুষ্ঠিত হবে হাওয়াইয়ে, জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিতীয় বাণিজ্য সংলাপ, এছাড়াও মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্যিক দল বাংলাদেশ সফর করবে।এ সকল কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রসরতা কেবল আমাদের নিজস্ব জনগণের জন্যই উপকার বয়ে আনছে না বিশ্বময় শান্তি সমৃদ্ধি অগ্রসর তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছে, বলেন রাষ্ট্রদূত।অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসেবে রাখা বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইউএস এআইডির ডেপুটি এডমিন্সট্রেটর ইসোবেল কোলম্যান। তিনি বাংলাদেশ যেসব খাতে অগ্রসর হয়ে বিশ্ব অর্থনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে তা উল্লেখ করে বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশ গত কয়েক দশক ধরেই তার জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পেরেছে। এবং বিশ্বের কাছে সাফল্যের উদাহরণ হয়ে ধরা দিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ যে অগ্রসরতা নিশ্চিত করেছে তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ও উদযাপনের দাবি রাখে, বলেন ইসোবেল।তিনি বলেন, আজ বিশ্বের অগ্রসরমান অর্থনীতির কাছে বাংলাদেশ একটি মডেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।সবশেষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, আজ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই সন্ধ্যায় আপনাদের সবার সামনে উপস্থিত হতে পেরে খুশি লাগছে। মোমেন বলেন, আজ দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের সঙ্গে অত্যন্ত সফল একটি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এছাড়া ইউএসএআইডির প্রধান সামান্থা পাওয়ারের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে এবং দুটি বৈঠকই ছিল ফলপ্রসূ।তিনি বলেন, আমরা আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক সম্পর্ক কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি।দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ড. মোমেন। বাইডেন তার চিঠিতে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ- যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিকগুলো উল্লেখ করে বলেছেন বাংলাদেশ এখন অগ্রসরতার দিক থেকে একটি মডেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভালো বন্ধু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বাইডেন আশা প্রকাশ করেছেন আগামী ৫৯ বছরে দুই দেশের জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় থাকবে।বাংলাদেশের জন্মলগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বিশিষ্ট জন বাংলাদেশের পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন তাদের স্মরণ করে ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘে যখন বাংলাদেশের সদস্য পদ নিয়ে ভোটাভুটি হয় তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জর্জ বুশ ১৬ বার ভোটাভুটির মধ্যে ১৫ বারই বাংলাদেশের পক্ষে তার ভোট দিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে এমনটা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংহতি ও সাধারণ মূল্যবোধের ভিত্তিতে গঠিত এই সম্পর্ক‌। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আর্থ- সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দুই দেশ একসাথে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সংসদ সদস্য নাহিন রাজ্জাক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল ওয়ার উজ-জামান, হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিট কাউন্সিলের সিনিয়র ডিরেক্টর সুমনা গুহ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পররাষ্ট্র উপসহকারী মন্ত্রী কেলি কিডারলিং, ইউএসএআইডি'র ডেপুটি অ্যাসিট্যান্ট এডমিন্সট্রেটর মিজ অঞ্জলি কৌর, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, লসএঞ্জেলসের কনসাল জেনারেল সামিয়া আনজুম, বাংলাদেশ নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া গ্রুপ ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়ার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চৌধুরী নাফিস সরাফত, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, সিএফও ফারহানা হানিপ, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন ডাইরেকটর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ এবং কোষাধক্ষ বিশ্ববাংলা টোয়েন্টি ফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ, ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা মোর্শেদ আলম, অধ্যাপক আদনান মোর্শেদ প্রমুখ।পরে একটি কেক কেটে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর সেলিব্রেট করা হয়।সবশেষে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি কবিতা পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের . । এছাড়া পরিবেশিত হয় একটি নৃত্যাল্লেখ্য। যার পরিবেশনায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুরা।মুখোরোচক নৈশভোজের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.