post
বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুর প্রথম লেডি বাইকার রোবায়েত রুবা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই যেন স্বপ্নজয়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছে মানুষ। রোববার (২৬ জুন) সকালে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা চালু হবার পর সেতু পাড়ি দেয়ার উৎসবে মেতেছে সবাই। এদিন প্রথম যে বাহনটি টোল দিয়ে পার হয়, সেটি মোটরসাইকেল। অন্যান্য গাড়ির তুলনায় মোটরসাইকেলের সংখ্যায় বেশি।এদিকে প্রথম লেডি বাইকার হিসেবে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন রোবায়েত রুবা নামে এক নারী। রাজধানী মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে গিয়ে সকালে সেতুতে ওঠেন। সে হিসেবে রোবায়েতই পদ্মা সেতুর প্রথম লেডি বাইকার। টোলপ্লাজা পার হয়ে সেতুতে ওঠার আগে তিনি একটি ফাঁকা জায়গায় এসে দাড়ান। এরপর তার সঙ্গে অন্যান্য বাইকারদের ফ্রেমবন্দি হন। তখন সময় সংবাদের সঙ্গে কথা হয় তার। তিনি জানান, এ অনভূতি প্রকাশ করার মতো না। সকালে মিরপুরের শেওড়া পাড়া থেকে বাইক চালিয়ে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে। বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। যাব পদ্মা সেতুর অপরপ্রান্তে।পেশায় ইউটিউবার রোবায়েত রোবা জানান, আমি পদ্মা সেতু পাড়ি দেবার পাশাপাশি ইউটিবের জন্য কন্টেন্ট বানাতে এসেছি। এখান শ্যুট করে ঢাকায় ফিরে কন্টেন্ট বানাব। সঠিক ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে রোবায়েত আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেতুতে নিয়ম অনুয়ায়ী গাড়ি চালানো উচিত। লিখে দিয়েছে ৮০কিলোমিটার। আমি আইন মান্য করে বাইক চালিয়ে এসেছি। সবাইকেই একই অনুরোধ করব। শনিবার (২৫ জুন) স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মুহূর্তেই অবসান হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি আর যানজটের। প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন দেশের বৃহত্তম এবং পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ এই সেতুটি।অনেক মূল্যে পাওয়া পদ্মা সেতু এখনও উৎসবমুখর। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার (২৬ জুন) সকাল ৬টায় যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। এর আগে গাড়িগুলো ভোর রাত থেকেই জমা হতে থাকে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায়। এরপরই স্বপ্নের সেতু পারাপার হওয়ার আনন্দে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা দেয় মুন্সিগঞ্জের মাওয়া টোল প্লাজায়। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক, প্রাইভেটকার, পিকআপসহ পদ্মা সেতু দেখতে আশা হাজার হাজার মানুষ টোল দিয়ে সেতুতে উঠছে। সবার হাসিমুখ। অনেকের মুখে আবার জয় বাংলা স্লোগান। গতকাল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর আজ রোববার থেকে সেতু পার হওয়ার অনুমতি মেলে সর্বসাধারণের। আর তাই শনিবার সেতুতে চড়তে না পারার আক্ষেপটা আজই পূরণ করে নিচ্ছেন অনেকে।  

post
বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুতে প্রথম টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী, জানা গেলো টাকার পরিমাণ

পদ্মা সেতুতে ১৬ হাজার ৪০০ টাকা টোল দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে নিজের গাড়ির জন্য ৭৫০ টাকা টোল দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ১৮ টি গাড়ি ছিল।আজ শনিবার দুপুর ১২টার একটু আগে মাওয়ায় পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যান।পদ্মা সেতুর টোল কর্মী তানিয়া আফরিন প্রধানমন্ত্রীর ১৬ হাজার ৪০০ টাকা টোল দেওয়ার কথা জানান।কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীই প্রথম ব্যক্তি যিনি টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছেন। পদ্মা সেতু আজ যানবাহন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হলেও আগামীকাল সকাল ছয়টায় সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।এর আগে গতকাল শুক্রবার পদ্মা বহুমুখী সেতুর টোল প্লাজার জন্য মাওয়া প্রান্তে টোল প্লাজা অতিক্রম করে কিছু পাবলিক গাড়ি নিয়ে পরীক্ষা চালায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।পরীক্ষামূলক যানচলাচল প্রক্রিয়া সাত দিন ধরে হয়। কর্তৃপক্ষ এ সময়ের মধ্যে টোল নেওয়া এবং স্লিপ দেওয়ার প্রক্রিয়াটির মহড়া দেয়।

post
বাংলাদেশ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার মধ্যে দিয়ে খুলে গেল দখিনা দুয়ার। শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে মাওয়া প্রান্তে টোল পরিশোধ শেষে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেন।এ সময় সেখানে উপস্থিত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক সেতু সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূঁইয়া।প্রধানমন্ত্রীর পেছনে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে, হেলিকপ্টারে করে সেখানে আয়োজিত সুধী সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন। সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা। উদ্বোধনের আগে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম ও বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মাওয়ায় স্থাপিত টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন।উদ্বোধন শেষে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। পরে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৫টায় হেলিকপ্টারে জাজিরা প্রান্ত থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। গত ২৪ মে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই দৃঢ় মনোবলের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী মূল সেতুর পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করেন। এরপর একে একে সব ধাপ পেরিয়ে পদ্মার বুকে গড়ে ওঠে স্বপ্নের সেতু। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এ সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একইসঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

post
বাংলাদেশ

অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-লোহার কংক্রিটের একটি অবকাঠামো নয়, এ সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব, আমাদের সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক।তিনি বলেন, পদ্মার বুকের লাল-নীল-সবুজ আলোতে জ্বলে ওঠেছে পদ্মা সেতু। সকল অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এই সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহসিকতা, সহনশীলতা এবং আমাদের প্রত্যয়। আর তার সাথে ছিলো আমরা এই সেতু করবোই, সেই জেদ। ষড়যন্ত্রের ফলে আমাদের সেতু নির্মাণ দুই বছর বিলম্বিত হয়েছে, কিন্তু আমরা হতোদ্দম হইনি, বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে যে ৪২ টা পিআর নির্মাণ হয়েছে, তার প্রতিটিই বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার ভিত। পদ্মা সেতু দেশের আত্ম মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতীক।এ সময় যারা পদ্মা সেতুতে যারা জমি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটি কোটি দেশবাসীর সঙ্গে আমিও আজ আনন্দিত, গর্বিত এবং উদ্বেলিত। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহু-কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে গেছে। তারুণ্যের কবি, দ্রোহের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়। জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই বছর দেরি হলেও কিন্তু হতাশায় ভুগিনি। শেষ পর্যন্ত অন্ধকার দূর করে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি।’বাংলাদেশের মানুষের সাহস ও আত্মমর্যাদার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর এক বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাংলাদেশের কোনও সম্পদ নেই, আপনি কীভাবে দেশ গড়ে তুলবেন? বঙ্গবন্ধু এর জবাবে বলেছিলেন, ‘আমার মাটি আছে, মানুষ আছে, তা দিয়েই দেশ গড়বো।’ সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের অর্থনীতি সচল আছে। অনেক প্রকল্প নিয়েছি, পদ্মা সেতু তৈরি করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি করোনা মোকাবিলা করেছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ মোকাবিলা করেও গতিশীল আছে। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ, জনগণ সাহসের ঠিকানা। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট জানাই।তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছিল পদ্মা সেতু সম্ভব না, বিরোধিতা করেছিল, ষড়যন্ত্র করেছিল; আমি মনে করি তাদের চিন্তার ও আত্মবিশ্বাসের দৈন্যতা আছে। তবে আজকের পরে তাদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে বিশ্বাস করি- না, বাংলাদেশ পারে।’

post
বাংলাদেশ

স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন আজ,রাজপথে জনস্রোত

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৫ জুন) সকালে মাওয়া পয়েন্টে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে দুপুরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে আওয়ামী লীগ এক জনসভার আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় যোগ দিয়ে ভাষণ দেবেন। দুপুরে সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই জড়ো হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। এরইমধ্যে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সরব পদ্মার ওপার। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সেখানে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো মাদারীপুর জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো মাদারীপুর।  সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের অংশ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে মিছিলে-স্লোগানে উজ্জীবিত নেতাকর্মীদের স্রোত জনসভাস্থলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লাল-সবুজ টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরে পায়ে হেঁটে বা পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও বাসে বিভিন্ন সড়ক ধরে যেভাবে পারছেন, ঘাটের দিকে আসছেন নেতাকর্মীরা।এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশাল সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত অনুষ্ঠানস্থলটি ১১টি পিলারের ওপর ১০টি স্প্যান বিশিষ্ট একটি প্রতীকী অস্থায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে জমকালোভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতীকী সেতুর সামনে উদ্বোধনী মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। অস্থায়ী সেতুটি ২০০ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া। মঞ্চটি ১৫ ফুট লম্বা এবং ৪০ ফুট চওড়া। মঞ্চের সামনে একটি ৬০ ফুট লম্বা বিশালাকার নৌকা পানিতে ভাসছে। এ ছাড়া সেখানে বেশ কিছু ছোট নৌকাও রয়েছে। প্রায় ১৫ একর জায়গার ওপর ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে।অনুষ্ঠান উপলক্ষে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান মঞ্চ প্রাঙ্গণে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্য, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং এসএসএফ সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে কাজ করছেন।

post
বাংলাদেশ

জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে পদ্মাসেতু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমত্ত পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন হিসাবে অভিহিত করেছেন।স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আগামীকাল ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনকে ‘এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানাই। সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকের করা মামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কানাডার আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সকল দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আমরা বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই।’জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।’’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়াস্থ জাতির পিতার সমাধি সৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।’‘পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে’ বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাসমূহের সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতি বছর ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।’দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’ বলে প্রধানমন্ত্রী তার বাণী শেষ করেন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে রাত পোহালেই পদ্মাসেতুর উদ্বোধন, হবে ১০ লাখ মানুষের সমাগম

রাত পোহালেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। শনিবার (২৫ জুন) স্বপ্নের এই সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বিদেশি কূটনীতিকসহ দেশ বরেণ্য সুধীজনরা উপস্থিত থাকবেন এই অনুষ্ঠানে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে।উদ্বোধন ও এই সমাবেশকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ও শিমুলিয়া ঘাটে সাজ সাজ রব। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে চারপাশ। গৌরবের সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্বপ্নের মতো সেজেছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত। সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি, এখন অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনের।শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে একটি সুধী সমাবেশ করবেন। এরপর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে আরেকটি ফলক উন্মোচন করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার ফেরিঘাট এলাকায় জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। থাকবে দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। র‌্যাব, পুলিশ, সেনা সদস্য, এসএসএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রধানমন্ত্রীর এই সেতু উদ্বোধন ঘিরে দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। সভাস্থলে ৫০০ অস্থায়ী শৌচাগার, ভিআইপিদের জন্য আরও ২২টি শৌচাগার, সুপেয় পানির লাইন, তিনটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, নারীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা, প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের সভাস্থলে দূরের দর্শনার্থীদের জন্য ২৬টি এলইডি মনিটর, ৫০০ মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নদীপথে আসা মানুষের জন্য ২০টি পন্টুন তৈরি করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ করছে।পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসার জন্য অতিথিদের কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আমন্ত্রণপত্রে। অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র সঙ্গে আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং এটি হস্তান্তরযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমন্ত্রণপত্রে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই সবাইকে অনুষ্ঠানস্থলে আসার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে রিপোর্ট সঙ্গে করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে অতিথিদের। চাবি, চাবির রিং, কলম, মোবাইল, ছাতা, হাত ব্যাগ, ক্যামেরা, ইলেক্ট্রনিক বস্তু না নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মাস্ক পরাসহ কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সব প্রটোকল অনুসরণ করতে বলেছে। আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে দেওয়া স্টিকারটি গাড়ির সামনের কাচের বাম পাশে দৃশ্যমান স্থানে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।শনিবার সকাল ৯টায় অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থলে আসন গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর এক মিনিট পরই প্রদর্শন হবে প্রামাণ্য চিত্র। এরপর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০টা পাঁচ মিনিটে সভাপতির বক্তব্য দেবেন। পদ্মা সেতুর থিম সং দেখানো হবে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সোয়া ১০টায় বক্তব্য দেবেন। বক্তব্য শেষে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন তিনি। পরে সেখানে মোনাজাত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা প্রান্তে এসে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। এরই মধ্যে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) সেতুর নির্মাণকাজ শেষে পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিয়েছে।

post
বাংলাদেশ

বন্যায় আমাদের ক্ষতির পাশাপাশি লাভও আছে, সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই যে বন্যা হলো, এতে আমাদের কষ্ট-ক্ষতি হচ্ছে এটা ঠিক, আবার আমাদের লাভও আছে। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এখানে যদি আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার অর্থাৎ ভূগর্ভস্থ পানি যদি কমে যায়, ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার যদি ঠিক থাকে, ভূমিকম্প আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।' আজ মঙ্গলবার সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও তৎসংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর সিলেট সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, 'এই জিনিসটা সবাই জানে যে, এই বন্যায় আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড রিচার্জ হবে। পাশাপাশি যে পলি আসবে, তাতে জমির ফার্টিলিটি বাড়বে।' সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা বলেন, 'এগুলো সবসময় মাথায় আছে আমাদের। যখনই পানিটা টানবে, সঙ্গে সঙ্গে কৃষক যাতে চাষবাস করতে পারে, তার ব্যবস্থা আমরা নেব। যদি বন্যা একটু দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ধানের যে চারা তৈরি করা, তার জন্য বীজ সংরক্ষণ করে রাখা আছে, ফার্টিলাইজার রাখা আছে, সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেব এবং কৃষক যেন আবার ফসল ফলাতে পারে, সে ব্যবস্থাটাও আমরা নেব।' তিনি আরও বলেন, 'মাছের কিছু অসুবিধা, যারা মাছ পালে, সেখানে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এটাও যেমন সত্যি, আবার এই বন্যায় কিন্তু পুকুরে মাছের পোনাও আসে। এটাও মাথায় রাখবেন। আগে তো আর মাছ পালতো না, বন্যার সময় আমাদের বাড়িতেই দেখেছি, পুকুরের একপাশ কেটেই দিতো, যাতে বন্যার পানি ঢুকে এবং বন্যার পানির সঙ্গে মাছের পোনা ঢুকে। দু-দিকটাই আছে, ক্ষতিও হচ্ছে, যারা মাছ চাষ করে তাদের ক্ষতি হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নেব। জুলাই মাস থেকে আবার আমরা মাছের পোনা দেব, পোনা ছাড়ব।'

post
বাংলাদেশ

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের সময় নিউইয়র্কে হবে বিজয় উৎসব, প্রস্তুতি সভা

পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের সময় নিউইয়র্কে বিজয় উৎসবকে সর্বজনীন করার অভিপ্রায়ে ৩ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার এই কর্মসূচি বাংলাদেশের সময়ের সাথে মিলিয়ে ২৪ জুন রাতে জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন গুলশান প্যালেসের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্যে কম্যুনিটি লিডার হাজী জাফরউল্লাহকে আহবায়ক এবং আশরাফ আলী খান লিটনকে সদস্য-সচিব করে একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া। প্রস্তুতি সভায় আরো জানানো হয় যে, রাত ৯টায় শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত চলবে এ অনুষ্ঠান। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা অতিথি হিসেবে থাকবেন। বক্তব্যের চেয়ে গত ১২ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিস্মরণীয় উন্নয়নের অভিযাত্রায় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোকে একটি ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শনকে গুরুত্ব দেয়া হয় প্রস্তুতি সভায়। এছাড়া, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, শহীদ হাসান ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সঙ্গীতে অংশ নেবেন প্রবাসের বিশিষ্ট শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের প্রচারণা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে চালানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।জ্যাকসন হাইটসে ইটজি রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে এ প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক রানা ফেরদৌস চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, কম্যুনিটি লিডার আবুল বাশার ভূইয়া, ইলিয়াস খান, জাফরউল্লাহ, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, নাজিমউদ্দিন, কানু দত্ত, মো. নবী হোসেন, আলমগীর কবীর, মোর্শেদ খান, মাহমুদুল হাসান, হেদায়েতুল ইসলাম, আবু সাঈদ সিদ্দিকী, জাকির হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।  সমাপনী বক্তব্যে আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অতীতের সকল কর্মসূচি সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বিজয় উৎসবকেও ভিন্ন এক আমেজে অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। কাদের মিয়া উল্লেখ করেন, এই উৎসবের সমর্থনে রয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখা, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান-প্রজন্ম ফোরাম। তারা মাঠে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে বহুজাতিক এ সমাবেশে যথাযথভাবে উদ্ভাসিত করতে। একইসাথে, এই প্রবাসেও দেশ-বিরোধী সকল অপতৎপরতা রুখে দিতেও তারা সংকল্পবদ্ধ।

post
বাংলাদেশ

২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে গণভবনে পদ্মা বহুমুখী সেতুর সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় সারসংক্ষেপ দেখে ২৫ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সম্মত হন প্রধানমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ্মা নদীর নামেই নামকরণ করা হবে পদ্মা সেতুর। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু পারাপারের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ১৭ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিবহনের জন্য আলাদা আলাদা টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকার নির্ধারিত টোল হার অনুযায়ী, পদ্মা সেতু পারাপারে মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা, কার ও জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপে এক হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে এক হাজার ৩০০ টাকা টোল পরিশোধ করতে হবে। বাসের ক্ষেত্রে ছোট বাস (৩১ আসন) এক হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) দুই হাজার টাকা, বড় বাস (থ্রি-এক্সেল) প্রতি দুই হাজার ৪০০ টাকা টোল দিতে হবে। এছাড়া ছোট ট্রাককে (পাঁচ টন পর্যন্ত) এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (পাঁচ টনের বেশি ও সর্বোচ্চ আট টন পর্যন্ত) দুই হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (আট টনের বেশি ও সর্বোচ্চ ১১ টন) দুই হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাকে (থ্রি-এক্সেল পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (ফোর-এক্সেল পর্যন্ত) ছয় হাজার টাকা। আর ট্রেইলার (ফোর-এক্সেলের অধিক) ছয় হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা যুক্ত হবে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.