post
বাংলাদেশ

ব্যবসায়ীদের দেশ ও মানুষের কথা ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষের কথা ভাবতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (২৬ অক্টোবর) গণভবনে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।সভায় সরকার প্রধান তেল, চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বাংলাদেশের সকল নাগরিকের কাছে যথাযথ মূল্যে সরবরাহ করতে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯-এ সরকার গঠনের পর আমাদের ব্যবসায়ীরা সে যে দলেরই হোক আমরা কিন্তু ওখানে দল বাছতে যাইনি। যে দলেরই হোক, যাতে তারা ব্যবসাটা ব্যবসায়ী হিসেবে করতে পারে, সেই পরিবেশটা আমি সৃষ্টি করে দিয়েছি। ’তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো হাওয়া ভবনও নেই, আর পিএমও-তে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে) কোনো উন্নয়ন উইংও নাই যে, হাওয়া ভবনে এক ভাগ দিতে হবে, উন্নয়ন ভবনে এক ভাগ দিতে হবে বা অমুক জায়গায় দিতে হবে। এই যন্ত্রণা তো আপনাদের ভুগতে হয় না এখন আর। এটা তো আপনারা নিশ্চয় স্বীকার করবেন, সেই যন্ত্রণা থেকে তো সবাই মুক্ত। ’শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন প্রফিটের (লাভ) ব্যাপারে চিন্তা করেন। আগে তো একটা বড় অংশ হাওয়া হয়ে যেতো। এখন আর সেই হাওয়া হওয়ার ব্যবস্থাটা নাই। সেখান থেকে সবাইকে মুক্ত রেখেছি। তো সেটাই মাথায় রেখে যদি মনে করেন যে, দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে...। ’টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, ‘এতদিন এই ১৪ বছর একটানা ধারাবাহিকভাবে আপনারা লাভজনক ব্যবসাটা করে গেছেন, এখনকার... আমরা কিন্তু করোনার সময়ও সেটা মোকাবিলা করলাম। প্রণোদনা দিলাম, বিশেষ প্রণোদনা, আমার কাছে কেউ এসে দাবি করেননি। কেউ বলে নাই। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার একটা টিম খুব ভালো কাজ করছিল—কোথায় কী করা যেতে পারে। আমার অর্থনীতির চাকাটাকে চলমান রাখতে হবে। ’শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো তাদের ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ, তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ, সব কিছু। আমরা বলেছি, আমরা এখানে বন্ধ হতে দেবো না, আমার এখানে চালু করে রাখতে হবে। শ্রমিকদের বেতন, এই যে গার্মেন্টস, তার বেতন তো আমি দিয়ে দিলাম সব। প্রণোদনা প্যাকেজ করলাম, বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করলাম। ’দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন একটু যখন অপজিশন মাঠে নেমে গেছে হঠাৎ, ব্যবসায়ী মহলে আবার একটু শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে অথবা কারো আসার প্রদীপ জ্বলে উঠছে; যদি আবার হাওয়া ভবন খুলতে পারে তাহলে কি সুবিধা পাবে।’তিনি বলেন, ‘১৪ টা বছর আমরা সরকারে, আমি জানিনা ব্যবসায়ীরা এটা উপলব্ধি করে কি? করে না? এত নিশ্চিন্তে ব্যবসা করার সুযোগ তো আর পান নাই।’বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই এনার্জি ক্রাইসিসে বাংলাদেশ একা না পৃথিবীর সব দেশেই কিন্তু ভুগছে।’তিনি বলেন, ‘ক্রাইসিসটা তো বাংলাদেশের না, ক্রাইসটা তো ইন্টারন্যাশনাল; এটা মাথায় রাখতে হবে। আজকে যেসব জায়গা থেকে আমরা সার, গম, খাবার পণ্য আনি সব জায়গায় সমস্যা।’মেগা প্রজেক্ট এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ সমালোচনা- মেগা প্রজেক্ট, তারপর বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট কেন আনলাম সেটা নিয়ে সমালোচনা। সেখানে নাকি টাকা মেরেই খেয়ে দিলাম। যারা ওরকম টাকা খেয়ে অভ্যস্ত টাকা খাওয়ার বিষয়টা বুঝে ভালো। কিন্তু আমরা যদি তখন এটা না আনি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারতাম না। আমরা বলেছিলাম বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে দেবো, আমরা দিয়েছি। কিন্তু এখন যে ক্রাইসিস সেটা তো বাংলাদেশের না এটা তো ইন্টারন্যাশনাললি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবাই এই ক্রাইসিসে ভুগছে।’ব্রাজিল থেকে সয়াবিন ও চিনি আমদানি করার চেষ্টার কথা জানান সরকার প্রধান।দুর্ভিক্ষ আসতে পারে এমন বক্তব্যের সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিন্তু আগাম কিছু কিছু কথা বলি- অনেকে মনে করেন আমি কেন বলি? কই থেকে বলি? এটা হচ্ছে আমার একটা ধারণা অর্থাৎ দীর্ঘদিনের একটা অভিজ্ঞতা।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধটা হলো সারা বিশ্বে এটার অর্থনৈতিক ধাক্কাটা আসলো কিন্তু। শুধু আমাদের ওপর না পুরো ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে ডেভেলপ কান্ট্রি ওপরে এর প্রভাব আরো ব্যাপকভাবে পড়ল। তখন আমি বললাম যে আগামীতে একটা দুর্ভিক্ষ অবস্থা হতে পারে। এখন তো সবাই সে কথাই বলছে, কালকে বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী গতকালকে তার বক্তব্যে এ কথাটাই বলছে, বলছে যে বিরাট ক্রাইসিস সামনে। এটা যে শুধু আমরা বলছি তা নয়।’টানা তিনবারের সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি যেটা আশঙ্কা করি আমি পাবলিকের কাছে সরাসরি বলি। আমার এখানে লুকানোর কিছু নেই। জনগণ ভোট দিছে ক্ষমতায় আছি, না দিলে থাকবো না। কিন্তু জনগণের জন্যই তো কাজ করতে এসেছি।’গণভবনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংকরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম সফিকুজ্জামান প্রমুখ।ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, আওয়ামী লীগের শিল্পও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ টিকে গ্রুপ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম গ্রুপ, দেশ বন্ধু গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এসিআই লিমিটেড, আকিজ গ্রুপের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ১৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং

শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টি ঝড়িয়ে দুর্বল হয়ে সিত্রাং এখন স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে ভোলার নিকট দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি।সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ৮ জেলায় অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে একটি ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, নিজাম উদ্দিন, তার স্ত্রী ও কন্যাশিশু নুসরাত। পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় একটি গাছ নিজামের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নেজাম ও তার স্ত্রী নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শিশু নুসরাতকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় বরগুনায় ঘরের ওপর গাছ পড়ে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম আমেনা খাতুন। তার বয়স ১১৫ বছর। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাখালি গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় বসতঘরের ওপর গাছ পড়ে শরীয়তপুরের জাজিরায় সাফিয়া খাতুন (৬৫) নামে এক নারী মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান সোহেল। নড়াইলের লোহাগড়ায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে মর্জিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহপরিচারিকার মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্বমোহন ও শিল্পপার্কের মাঝখানে যমুনা নদীর ক্যানেলে ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে নৌকাডুবিতে মা-ছেলে মারা গেছেন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্বমোহন গ্রামের খোকনের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৮) ও তার ছেলে আরাফাত হোসেন (০২)। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভোলায় গাছ ও ঘরচাপায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পুকুরের মাছ। জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়ায় গাছচাপায় মফিজুল ইসলাম নামে এক যুবক এবং দৌলতখানে ঘরচাপায় খাদিজা বেগম নামে এক বৃদ্ধা ও চরফ্যাশনে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে গাছচাপায় মনির খন্দকার নামে একজন মারা গেছে। এছাড়া অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখনো বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ভোলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন ও চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দমকা বাতাসে সোমবার রাতে ঘরের ওপর গাছ পড়ে দুই নারী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামের রেজাউল খাঁর স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হান্নান তালুকদারের স্ত্রী রুমিছা বেগম (৬৫)। সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঘরের ওপর গাছ পড়ে সানজিদ আফ্রিদি আদি নামে এক শিশুর (১) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্ব চরবাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় শিশুটির মা সানজিদা খানম গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আফ্রিদি পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের পূর্ব চরবাটা গ্রামের মো. আবদুল্লার ছেলে।

post
বাংলাদেশ

ঢাকার ফ্লাইট নামল ইয়াঙ্গুন ও সিলেটে, বাতিল ৬০ ফ্লাইট

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সকাল থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বইছে ঢাকাসহ সারা দেশে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।সোমবার বিকেলে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের (সাউদিয়া) একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণে ব্যর্থ হয়ে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এছাড়া সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে সিলেটে অবতরণ করেছে।হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।সূত্র জানায়, সাউদিয়ার এসভি-৮৮৩ ফ্লাইটটি সকালে গুয়াঞ্জু থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেলে ঢাকার আকাশে বেশ কয়েকটি চক্কর দিয়ে নামতে পারেনি। পরে ফ্লাইটটি মিয়ানমারে গিয়ে অবতরণ করে। টরন্টো ও দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটও ঢাকায় ঘণ্টা খানেক চেষ্টার পর সিলেটে অবতরণ করে।এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-৩০৮ ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর থেকে এসে ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে সিলেটে গিয়ে অবতরণ করে। তাদের চেন্নাই থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটিও গেছে সিলেটে।তবে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ফ্লাইট চলাচল সেখানে স্বাভাবিক আছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকায় ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কয়েকটি এয়ারলাইন্সের পাইলটের সিদ্ধান্তে সেগুলো আশপাশের বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। আমরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছি।এদিকে একটি সূত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিকেল ৩টা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ারের প্রায় ৬০টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম রুটের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া বিমানের শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই ও মাস্কাট রুটের ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।আর বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২৮টি এবং নভোএয়ারের ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'সিত্রাং’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'সিত্রাং'র অগ্রভাগ আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানবে। এর কেন্দ্র আঘাত করবে আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায়।আজ দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি গতি পরিবর্তন করে শুধুমাত্র বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে।মন্ত্রী আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩ জেলায় প্রবলভাবে আঘাত করবে।ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা দিয়ে অতিক্রম করবে বলে জানান তিনি।'১৫ জেলায় ৭ হাজার ৩০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে' উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, 'সেখানে ২৫ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।'

post
বাংলাদেশ

শিগগিরই ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু হচ্ছে

শিগগিরই ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু হবে বলে আশা করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।আজ রোববার বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এ সময় দুজনে এ বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল, বিশেষ করে ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা করেন।বেবিচক চেয়ারম্যান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একটি সময়বদ্ধ পরিকল্পনার মাধ্যমে এফএএ ক্যাটাগরি-১ বাস্তবায়নের জন্য দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় দুই দেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টরের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টরে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে রাষ্ট্রদূত জানান।

post
বাংলাদেশ

ঢাকা-মালে রুটে সপ্তাহে ৬ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা

ঢাকা-মালে রুটে সপ্তাহে ৬ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ঢাকা-মালে রুটে সপ্তাহে ৬ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যাত্রী চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শীতকালীন সময়সূচিতে মালদ্বীপপ্রবাসী ও পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সাবলীল করার জন্য বৃহস্পতিবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন ঢাকা থেকে মালে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে ঢাকা-মালে রুটে ৪টি ফ্লাইট চলছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে প্রতি সোম, মঙ্গল ও শনিবার সকাল ৯টায় এবং বুধ, শুক্র ও রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে মালদ্বীপের রাজধানী মালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। প্রতি সোম, মঙ্গল ও শনিবার মালদ্বীপের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে এবং বুধ, শুক্র ও রোববার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মালের ভেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট। মালদ্বীপ ছাড়াও ইউএস-বাংলা চেন্নাই, কলকাতা, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, গুয়াংজু, শারজাহ, দুবাই, মাস্কাট ও দোহায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

post
বাংলাদেশ

শূন্য রেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে চীনকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। আর মূল প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তেমন কোনো ‘সুখবর’ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।বৃহস্পতিবার (২০ অ‌ক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অ‌তি‌থি ভবন পদ্মায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের স‌ঙ্গে বৈঠক ক‌রেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পরে বৈঠকে হওয়া আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলাপ হয়েছে। চীনকে বলেছি, আমাদের সীমান্তের শূন্য রেখায় প্রায় ৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা আছে। আমরা বলেছি, ওদের মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে যাও। কারণ এগুলো এখানে থাকলে আমাদের একটা ভয় থাকে। ওদের শূন্য রেখায় রাখা যাবে না।মোমেন জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীনা দূত আগে বলেছিলেন ‘সুখবর’ দেবেন। কিন্তু আজকের বৈঠকে তিনি কোনো সুখবর দিতে পারেননি।মন্ত্রী বলেন, আমি তাকে বলেছি, ‘আপনি বলেছিলেন, সুখবর দেবেন।’ জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, তিনি আশা করেছিলেন, কিন্তু এখনও কিছু হয়নি। তিনি শুধু বলেছেন, তারা (চীন) এখনো এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রোহিঙ্গাদের নেওয়ার জন্য, এটাই সুখবর।ড. মোমেন বলেন, আমরা বলেছি, আপনারা যে প্রজেক্ট নিয়েছেন (ত্রি-পক্ষীয় উদ্যোগ) সেটা অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে। এটা ভালো নয়। আমাদের কত আশা, আমরা শুধু চিন্তা করি এ মাসে হবে, ওই মাসে হবে। এজন্য একটা তাগাদা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, তারা (চীন) চেষ্টা করছে। তারা (চীন) তো ওই দেশের মালিক নয়। এ সমস্যা মিয়ানমার করেছে। তাদেরকেই সমাধান করতে হবে। এর বিকল্প কিছু নেই।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগে যে চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি আছে মিয়ানমার। তারা (মিয়ানমার) বলেছে, তারা (মিয়ানমার) ভেরিফিকেশনের পর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তারা এখনও বলছে, ‘আমরা ওদের নিরাপত্তা দিতে রাজি।’ তারা রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে স্বেচ্ছায় যেতে পারে।তবে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিতে কতটা আন্তরিক হবে সেটা নিয়ে শঙ্কায় আছেন মোমেন। তিনি বলেন, এতদিন ধরে যে অবস্থা, মনে হয় না তাদের সে আগ্রহ আছে। এর আগে দুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি।পরপর দুবার ব্যর্থ বাংলাদেশ এখন আর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দিন তারিখ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে চায় না বলে জানান মন্ত্রী।

post
বাংলাদেশ

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইএলও’র শক্ত অবস্থান প্রয়োজন : আব্দুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শ্রমিক ইস্যুতে যদি কোথাও কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে, অনুগ্রহ করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে, অস্ত্র হিসেবে তা ব্যবহার করবেন না। সমস্যা মোকাবিলায় উদারভাবে আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসুন।তিনি বলেন, বাংলাদেশ দেখতে চায়, আইএলও সারা বিশ্বে প্রবাসী শ্রমিকদের শ্রম অধিকার রক্ষায় আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকরা আমাদের উন্নয়ন অংশীদার, তারও মানুষ এবং তাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ করা হয়, সেটিও দেখা উচিত।বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কর্মক্ষেত্রে মৌলিক নীতিমালা এবং অধিকার: আইএলওর সঙ্গে বাংলাদেশের ৫০ বছর’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইএলওর নিজস্ব উদ্দেশ্যে কর্মীদের মাধ্যমে কাজ করানোর একটা প্রবণতা আছে, যা প্রায়ই জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে টেকসই প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হয়। আমরা আইএলওকে সক্ষমতা অর্জনে একজন অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই। স্থানীয় বিষয়ে তাদের মাথা ঘামানো দেখতে চাই না।তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, আইএলওসহ আমাদের উন্নয়ন অংশীদাররা একতরফাভাবে নিজেদের মত অনুযায়ী সব কিছুতেই একটি মডেল চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মূল্যবোধকে স্বীকার করে কাজ করবে।আব্দুল মোমেন বলেন, অতীতে দেখা গেছে, আইএলও সরকারি এবং বেসরকারি সেক্টরের সঙ্গে প্রকল্প নিয়েছে। আমরা আইএলওকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে কাজ করতে দেখেছি, দাতা সংস্থার কোনো অ্যাজেন্ডা অথবা অন্য কোনো মহলের স্বার্থরক্ষায় পরিচালিত হতে দেখা যায়নি।বাংলাদেশ সরকার ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন মোমেন।

post
বাংলাদেশ

যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের গ্রহে খাদ্যের অভাব নেই, অভাব কেবল মনুষ্যসৃষ্ট।সোমবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)- এর সদর দফতরে আয়োজিত “বিশ্ব খাদ্য সম্মেলন- ২০২২” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)- এর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে, আমাদের গ্রহে খাদ্যের কোন অভাব নেই। অভাব কেবল মনুষ্যসৃষ্ট। খাদ্য নিয়ে রাজনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থ, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং কীটপতঙ্গ ও রোগের আক্রমণ এ সব কিছু আমাদের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।’ তিনি বলেন, ‘অস্ত্র তৈরিতে বিনিয়োগ করা অর্থের ছোট একটি অংশও যদি খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণে ব্যয় করা হয়, তবে এই পৃথিবীতে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না।’ যুদ্ধ, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি ও অপচয় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করছি- যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন, খাদ্যের অপচয় রোধ করুন। এসবের পরিবর্তে খাদ্য ঘাটতি এবং দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করুন। মানুষ হিসেবে, আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে প্রত্যেকেরই খাদ্য নিয়ে বেঁচে থাকার এবং সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হিসেবে অনুমান করা হয় বিশ্বের ৮০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যায়। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পাল্টা-পাল্টি নিষেধাজ্ঞায় পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যহত করছে এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। প্রচুর সম্পদে পরিপূর্ণ এই বিশ্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অবদান সেই সম্পদকে আরও বাড়িয়েছে; এ রকম বিশ্বে এই বঞ্চনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।’ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত পৃথিবী কামনা করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে উদ্বৃত করে বলেন, ‘আসুন আমরা একসাথে এমন একটি বিশ্ব তৈরি করি যা দারিদ্র্য, ক্ষুধা, যুদ্ধ এবং মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারে এবং মানবতার কল্যাণের জন্য বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন করতে পারে।’

post
বাংলাদেশ

ব্রুনাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

জ্বালানিসমৃদ্ধ ব্রুনেইকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় তার সদ্ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ রোববার ঢাকায় ব্রুনেইয়ের অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রী ড. আওয়াং হাজী মোহাম্মদ আমিন আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।টিপু মুনশি বলেন, 'বাংলাদেশ হতে পারে বিনিয়োগের উপযুক্ত জায়গা। আমার অনুরোধ থাকবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার।'বাণিজ্যমন্ত্রী ভারত ও চীনের কথা উল্লেখ করে জানান, এ দেশগুলো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও বন্দর সুবিধা ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্রুনেইয়ের অর্থমন্ত্রী ড. আমিন বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আছে। পরিবহনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক হাব তৈরির সুযোগগুলো অন্বেষণ করুন। আমরা এই মুহূর্তে আমাদের সমুদ্রবন্দর সম্প্রসারণ করছি। বৈঠকে 'ব্রুনেই হালাল ফুডস ইন বাংলাদেশ' বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ব্রুনেইয়ে বাংলাদেশিদের বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও ব্রুনেইয়ের অর্থনীতিতে ব্রুনেইয়ে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে ব্রুনেইকে পেশাদার ও দক্ষ মানবসম্পদসহ প্রয়োজনীয় কর্মী সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা 'পরিশ্রমী ও আন্তরিক' বলে প্রশংসা করেন ব্রুনেইয়ে সুলতান। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিমন্ত্রী ব্রুনেইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়াকে জানান যে বাংলাদেশ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশে ব্রুনেইয়ের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.