post
বাংলাদেশ

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের প্রথম পর্বের ইজতেমা

আজ রোববার সকাল নয়টার কথা। তুরাগতীরে যত দূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। গলি রাস্তা থেকে মহাসড়ক, সড়কে থেমে থাকা বাস কিংবা তুরাগের দুই তীরে ভিড়িয়ে রাখা নৌকা—সব জায়গাতেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ বসে আছেন। আবার কেউ দাঁড়িয়ে কান পেতে আছেন মাইকের দিকে। সবার অপেক্ষা আখেরি মোনাজাতের জন্য। বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আজ সকালের দৃশ্য ছিল এমনই। সকাল ১০টায় শুরু হলো সেই কাঙ্ক্ষিত মোনাজাত। মাওলানা জুবায়েরের কণ্ঠ ভেসে এল মাইকে। ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ঈমানকে মজবুত করিয়া দেন। আমরা তওবা করিতেছি। আপনি আমাদের রব, আপনি আমাদের গুনাহকে মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি সব উম্মতকে মাফ করিয়া দেন...।’ মাওলানা জুবায়েরের কথাগুলো চারপাশের লাখো মুসল্লিকে যেন ছুঁয়ে যাচ্ছিল। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আবেগাপ্লুত লাখো লাখো মুসল্লির কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হয় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি। গত শুক্রবার শুরু হয়েছিল জুবায়েরপন্থীদের ইজতেমা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ৩০ মিনিট এগিয়ে তা শুরু হয় সকাল ১০টায়। মোনাজাত শেষ হয় ১০টা ২০ মিনিটে। এদিকে মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন সাধারণ মুসল্লিরা। তাঁদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার। দুপুরের পর থেকেই তাঁরা ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন। এর মধ্যে আজ জায়গা পাবেন না—এমন ভাবনায় রাত থেকেই তাঁরা অবস্থান নেন ইজতেমার মাঠসংলগ্ন সড়ক-মহাসড়কে। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। যান চলাচল বন্ধের কারণে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে জড়ো হন মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের ইজতেমার শেষ দিনে ভারতের মাওলানা আকরাম হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ সকালের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর সকাল ১০টায় মোনাজাত শুরু করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের। মোনাজাত শুরু হতেই ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় অন্যরকম এক নীরবতা নেমে আসে। যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থাতেই মোনাজাতে অংশ নেন। লোকসমাগম বেশি হওয়ায় অনেকে ইজতেমা মাঠ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। অনেকের কাছে মাইকের আওয়াজও পৌঁছানো কঠিন ছিল। তাই অনেকেই মুঠোফোনে এফএম রেডিও চালু করে বসে পড়েন মোনাজাতে। তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। শুক্রবার সকালে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে অংশ নিয়েছেন জুবায়েরপন্থীরা। আজ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো প্রথম পর্বের ইজতেমা। এরপর ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। ওই পর্বে অংশ নেবেন সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মতামতের প্রয়োজন নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মতামতের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এ দেশের নির্বাচন ভালো কি মন্দ হবে, সেটা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ। অন্য কেউ না।আজ (শনিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জাপানি স্টাডিজ বিভাগের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। অন্যদের আমাদের গণতন্ত্র শেখানোর প্রয়োজন নেই। আমাদের গণতন্ত্র আছে, মানবাধিকার আছে। এ দেশের নির্বাচন ভালো কি মন্দ হবে সেটা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ। অন্য কেউ না। অন্য কেউ এটা নিয়ে কিছুই করতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ এটা ঠিক করবে। আওয়ামী লীগ সরকার বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে মোমেন বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে ব্যালটের মাধ্যমে। আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করব। আওয়ামী লীগ এমন দল না যে, কোনো বড় দলকে নির্বাচন করতে দেবে না। সবাইকে নিয়ে আমরা নির্বাচন করি।যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সবসময় সরব। দেশটির হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্ধু দেশ বলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের অনেক উপদেশ দেয়। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ ভালো প্রস্তাব পেলে সেটা গ্রহণ করে। আমরা যেটা ভালো সেটা গ্রহণ করি। এতে করে আমাদের অর্জন বাড়ে। দুই দিনের সফরে ভারত হয়ে আজ ঢাকায় আসছেন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মার্কিন অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। লু’র সফরে আলোচনায় বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, আমরা আমাদের যেসব ইস্যু আছে সেগুলো তুলব। তারা তাদের ইস্যু তুলবে। আমেরিকার প্রিন্সিপালের সঙ্গে আমরা একমত। তাদের একটা প্রিন্সিপাল হচ্ছে গণতন্ত্র, তারা গণতন্ত্র চায়; আমরাও চাই। র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা নিয়ে মোমেন বলেন, আমেরিকা অন্য ইস্যুতে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা তুলে ধরছি এবং তুলে ধরব। আমাদের একটা অনুরোধ থাকবে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যেন বিষয়টাকে বিবেচনা করে। আমাদের মনে হয়, আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করতে পারব। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লু’র সফরে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নতুন করে যাতে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করবে বাংলাদেশ। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি না। আমরা জানব কোথা থেকে? তারা তো আমাদের বলেনি। 

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউয়ে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত সংকটজনক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বৃহৎ বাজারগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা এর আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।অর্থের পরিমাণ ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার থাকলেও এর আগের বছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বরে ইইউ থেকে আয় হয়েছে ১১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই তালিকায় যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ পরবর্তীতে ইইউ থেকে ইউকে আলাদা হয়ে গেছে। অথচ ৬ মাস আগেও এর পরিমাণ ছিল ১২ বিলিয়ন ডলার এবং তখন প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তবে, তখন এই তালিকায় যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, চলমান যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু, প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধ শিথিল হতে শুরু করার পর থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে বাংলাদেশ গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো কাটানো যায়নি। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পশ্চিমা অর্থনীতিতে উচ্চতর মুদ্রাস্ফীতির কারণে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার কম করেছে। সেই কারণে আগামী ৩ মাসের মধ্যেও পোশাক রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন নাও হতে পারে।' বাংলাদেশের ৮০ শতাংশেরও বেশি গার্মেন্টস পণ্য যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউতে। ইইউর পরিসংখ্যান বিষয়ক অফিস ইউরোস্ট্যাটের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইউরো অঞ্চলের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে আশা করা হয়েছিল, যা নভেম্বরে ১০ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে ইউরোপের বেশিরভাগ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারে

চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম ছয় মাসে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারে। তবে মন্দার কারণে ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার ফলে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি জুলাই-ডিসেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৫৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ২৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, বিজিএমইএর গৃহীত পোশাক কূটনীতির উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন দেশের রপ্তানিকারকরা।এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএর প্রতিনিধি দল বেশ কয়েকবার ভারত ও কোরিয়া সফর করেছে।তিনি আরও বলেন, এশিয়ার দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। এটা খুবই ভালো দিক। কিন্তু মন্দার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকায় আমাদের রপ্তানি লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না।তারপরও এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ায় লোকসান কিছুটা হলেও কমবে। এখন বিশ্বব্যাপী করোনার চেয়েও খারাপ অবস্থা। জ্বালানি সংকটে কারখানা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে গেছে। গত ২০-৩০ বছরে এত বড় সংকট তৈরি হয়নি। এবার যেটা চলছে।বিজিএমইএ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে মন্দার কারণে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেও কাজ করছে। ২০০৯ সাল থেকে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে বিজিএমইএ। সরকার এবং বিজিএমইএর অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি ২০০৯ সালের ৭ শতাংশ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।ইপিবির তথ্য মতে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে জাপানে পোশাক রপ্তানি ৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৭৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় চীনে পোশাক রপ্তানি ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ১২ কোটি ৭২ লাখ ডলার হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ কোটি ডলার।চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে পোশাক রপ্তানি আয় ২৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। রাশিয়ায় পোশাক রপ্তানি ৪৭ শতাংশ কমে ১৮ কোটি ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি ১২ লাখ ডলার। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইপিবি তথ্য মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৮৭ কোটি ডলার। ইপিবি সূত্র জানায়, জার্মানিতে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩৪৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। স্পেনে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১৭০ কোটি ডলার এবং ফ্রান্সে ৩৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ১৪১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে পোল্যান্ডে রপ্তানি ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে আমেরিকায় রপ্তানি ৪২৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে ২৩৯ কোটি ডলার এবং কানাডায় ৭৭ কোটি ৪১ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আগুনে পুরে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঘরে আগুন লেগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দিনগত রাত ২টার দিকে উপজেলার উত্তর পারুয়া গ্রামের বসাকপাড়ার খোকন বসাকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- খোকন বসাকের বাবা কাঙ্গাল বসাক (৭০), মা ললিতা বসাক (৬০), স্ত্রী লাকী বসাক (৩২), ছেলে সৌরভ বসাক (১২) ও মেয়ে সায়ন্তী বসাক (৪)। এ ঘটনায় গৃহকর্তা খোকন বসাককে (৪২) দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাত ২টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করি। আমাদের রাঙ্গুনিয়া ও আগ্রাবাদ স্টেশন আগুন নেভানোর কাজ করে। ভোর ৪টায় আগুন নির্বাপণ হয়। নিহতদের মধ্যে কাঙ্গাল বসাক ও লাকী বসাক হলেন খোকন বসাকের বাবা-মা, লাকী বসাক স্ত্রী এবং সৌরভ ও সায়ন্তী তার ছেলেমেয়ে।তিনি বলেন, খোকন বসাকের ঘরটি ছিল সেমিপাকা। পাঁচটি থাকার কক্ষ ছিল। কিন্তু তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার দরজা ছিল একটি। বের হওয়ার দরজার সামনে ছিল রান্নাঘর। রাতে রান্নাঘরের চুলার উপর লাকড়ি শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। ওই লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা খবর পান। সে সময় ওই দরজা দিয়ে বের হতে না পেরে সবাই একটি কক্ষে গিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। একস্থানেই সবাই দগ্ধ হন।

post
বাংলাদেশ

সুন্দর ভবিষ্যৎ ও উন্নত বিশ্বের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান শেখ হাসিনার

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিবেচনায় নিয়ে একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও উন্নত বিশ্বের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ভয়েস অব দ্য সাউথ সামিট ২০২৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে (ইন্যাগুরাল লিডারস সেশন) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, টেকসই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) উন্নয়নের জন্য এগুলো সম্মিলিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। মানবতার বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সম্মেলন বিশ্বজুড়ে তাদের সমকক্ষদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশ গ্লোবাল সাউথের একটি দেশ। ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’ ধারণার আওতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য জি২০-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানাই। টেকসই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্রথমত মানবতার বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত একটি নতুন দৃষ্টান্ত প্রয়োজন, যা এসডিজির সমান্তরালে সামগ্রিকভাবে বৈষম্যকে মোকাবিলা করবে। তৃতীয়ত স্বল্পোন্নত দেশ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ অর্থায়নের প্রয়োজন, তাদের উত্তরণের সময় এটি পূরণ করতে হবে। চতুর্থ প্রস্তাবে তিনি নারীসহ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল ডিভাইডস’ সেতুবন্ধ রচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনিয়োগ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা নিন। যার জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সমর্থন অত্যাবশ্যক, তিনি যোগ করেন। তিনি বলেন, পঞ্চমত সব মানুষেরই ভালোভাবে জীবনযাপনের সমান অধিকার থাকা উচিত। বৈশ্বিক সম্প্রদায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতের বিষয়টি যেন ভুলে না যান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাউথ-সাউথ ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করুন। এখানে অংশীদার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, থিংক-ট্যাংক ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘মহান অর্থনৈতিক উত্থান’-এর মুখে একটি ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জরুরি বোধ তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি২০ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়ে পরামর্শমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জি২০ প্ল্যাটফরমকে আরও অর্থবহ করার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি। তিনি ‘ভয়েস অব দ্য সাউথ সামিট’ আহ্বান করার জন্য এবং ‘মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন’বিষয়ক উদ্বোধনী নেতাদের অধিবেশনে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। সূত্র: বাসস

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে কাল শুরু হচ্ছে ইজতেমা, টঙ্গীর তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল

সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা। জেঁকে বসেছে শীত। এর মধ্যেই টঙ্গীর তুরাগতীরে ঢল নেমেছে মুসল্লিদের। আজ বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের সংখ্যাও বাড়ছে। ধীরে ধীরে ভরে উঠছে ইজতেমার মাঠ। গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠে কাল শুক্রবার ফজরের নামাজের পর শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের সবচেয়ে বড় আসর। ইজতেমায় যোগ দিতে গত মঙ্গলবার থেকেই ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসল্লিরা। তবে আজ সকাল থেকে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি।তাবলিগ জামাতের বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা পালন করবেন কাল থেকে। তাঁদের ইজতেমা চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ইজতেমা করবেন জানুয়ারির ২০, ২১ ও ২২ তারিখ। সে হিসাবে এখন যাঁরা মাঠে আছেন বা আসছেন, সবাই জুবায়েরপন্থী। আজ সকাল থেকে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমায় যোগ দিতে মুসল্লিরা তুরাগতীরে আসছেন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে, আবার কেউ পিকআপ ভ্যানে চড়ে এসেছেন ইজতেমা মাঠে। সবার হতেই একাধিক ব্যাগ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র। মুসল্লিরা মাঠে ঢুকছেন ভিন্ন ভিন্ন ফটক দিয়ে। মাঠে ঢুকেই নিজ নিজ খিত্তায় (নির্ধারিত জায়গা) অবস্থান নিচ্ছেন মুসল্লিরা। গত মঙ্গলবার থেকেই ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা। তবে আজ সকাল থেকে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি গত মঙ্গলবার থেকেই ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা। তবে আজ সকাল থেকে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে সবচেয়ে বেশিছবি: প্রথম আলো সকাল নয়টার দিকে মাঠে গিয়ে কথা হয় বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিদের সঙ্গে। এর মধ্যে ৪৫ নম্বর খিত্তায় ওয়ারেস আলী বসে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন পর ইজতেমা হচ্ছে। সবাই খুব আনন্দিত। তাই আমরা সবাই আগেভাগেই চলে এসেছি। আর আগে না এলে নিজ নিজ জায়গা পেতে কষ্ট হয়।’ করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় মুসল্লিরা বেশ উচ্ছ্বসিত। ৩২ নম্বর খিত্তার আবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে ইজতেমা করতে আসছি। এবার আবার সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।’ জুবায়ের অনুসারীদের শীর্ষ পর্যায়ের মুরব্বি খন্দকার মেজবাহ উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর বিপুলসংখ্যক সাথি ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই সাথিরা বাসে, ট্রাকে করে দলে দলে আসছেন। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর ইজতেমা হবে।

post
বাংলাদেশ

কমছে তাপমাত্রা, বাংলাদেশে ১৮ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

শীত আরও বেড়ে দেশের ১৮ জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এ অবস্থায় রাতের তাপমাত্রা আরও কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করতে পারে, একই সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।মঙ্গলবার পাবনা, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ ১১ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। বুধবার পুরো রাজশাহী বিভাগেই শৈত্যপ্রবাহ বইছে।তবে কিছু কিছু অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ে। বুধবার সেখানে এ তাপমাত্রা হয়েছে ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি।বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি থেকে কমে হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

post
বাংলাদেশ

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে গত বছরের তুলনায় উন্নতি ঘটেছে বাংলাদেশের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’ -এর করা ২০২৩ সালের প্রথম সংস্করণের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ যৌথভাবে ১০১তম স্থানে রয়েছে।মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সিটিজেনশিপ ও রেসিডেন্সি পরামর্শক লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স।সূচক অনুযায়ী, গত বছরের মতো শীর্ষে রয়েছে জাপান। এই দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯৩টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে সূচকের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই দুই দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়া অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশ করতে পারেন।এবারের সূচকে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে ১০১তম স্থানে রয়েছে লিবিয়া এবং কসোভো। এর আগে, ২০২২ সালের সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ১০৪তম। বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ৪১টি দেশে অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করা যায়।দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল (১০৩তম), পাকিস্তান (১০৬তম) ও আফগানিস্তানের (১০৯তম) তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। সূচকে ৬১তম স্থানে থাকা মালদ্বীপের নাগরিকরা ৮৯টি দেশে ভিসামুক্ত অথবা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন।বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ ভারত ৮৫তম স্থানে রয়েছে। ভারতের নাগরিকরা বিশ্বের ৫৯টি দেশে ভিসা ছাড়া কিংবা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় একধাপ উন্নতি ঘটেছে ভুটানের। ৯০তম স্থানে থাকা ভুটানের নাগরিকরা ৫৩টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।সূচক অনুযায়ী শক্তিশালী পাসপোর্টের একেবারে তলানিতে আফগানিস্তান ১০৯তম স্থানে আছে। এছাড়া ইরাক ১০৮তম, সিরিয়া ১০৭তম, পাকিস্তান ১০৬তম ও ইয়েমেন ১০৫তম স্থানে রয়েছে।পাসপোর্ট দিয়ে কত দেশে ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশ করা যায়, সেই তথ্যের ভিত্তিতে শক্তিশালী পাসপোর্টের এই সূচক তৈরি করে দ্য হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশি পোশাক খাতের সঙ্গে ‘অন্যায়’ করেছে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো

বিশ্বের বৃহত্তম বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো তাদের পোশাক তৈরির জন্য বাংলাদেশি কারখানাগুলোকে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম টাকা দিয়েছে। বিভিন্ন কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও পোশাক কারখানাগুলোকে মহামারির আগের দামই দিয়েছে অনেক কোম্পানি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের এক হাজার পোশাক কারখানার পরিস্থিতি নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। দাতব্য সংস্থা ট্রান্সফর্ম ট্রেডের সহযোগিতায় এটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল।গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, ওই সময়ে বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ পোশাক কারখানা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২ দশমিক ৩০ পাউন্ড (প্রায় ২৯০ টাকা) দিতে হিমশিম খেয়েছে।গবেষকরা দেখেছেন, চার বা ততোধিক কারখানা থেকে পোশাক কেনে এমন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশই ‘অন্যায় ক্রয় অনুশীলন’-এ জড়িত।এই ‘অন্যায়’ অনুশীলনগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রয়াদেশ বাতিল, অর্থপ্রদানে ব্যর্থতা, অর্থপ্রদানে বিলম্ব, মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দাবি। রয়েছে বাধ্যতামূলক ওভারটাইম ও হয়রানির মতো পরোক্ষ প্রভাবও।বিবিসি জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।বিশ্বজুড়ে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির কারণে এই পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন এ গবেষক। তিনি বলেছেন, ছোট ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় একাধিক কারখানা থেকে পোশাক কেনা বড় ব্র্যান্ডগুলোই ‘অন্যায্য ক্রয় অনুশীলন’-এ বেশি জড়িত বলে জানিয়েছেন সরবরাহকারীরা।বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে পোশাক শিল্প থেকে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.