post
বাংলাদেশ

'যুক্তরাষ্ট্রে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকায় মানববন্ধন সরকার সমর্থন করেনা'

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি সৈয়দ ফয়সাল আরিফ হত্যার প্রতিবাদে হওয়া মানববন্ধন সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সামনে এ ধরনের মানববন্ধন সরকার সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি।সোমবার (৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে সতেচন নাগরিক সমাজ।মানববন্ধন শেষে নিজ দপ্তরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় বিচার ব্যবস্থা ভালো। বাংলাদেশি মৃত্যুর বিষয়ে তারা তদন্ত করবে।মানববন্ধনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি তো জানি না। এ ধরনের মানববন্ধনকে আমরা উৎসাহ বা সমর্থন করি না।পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। মানববন্ধন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানববন্ধন কারা করেছেন পুরো বিষয়টা আমি জানি না। যারা করেছেন তারা এটা আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতে পারতেন।যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল এইলেন লবাখ ও একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। আজ মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার। মার্কিন অ্যাডমিরালের মন্ত্রণালয়ে আসা কেন্দ্র করে এ মানববন্ধন কিনা- জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, কাজের চাপের কারণে আমি মানববন্ধনটা ডিটেইলে দেখতে পারিনি।বাংলাদেশির নিহতের ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন ঢাকাকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের রাষ্ট্রদূত তার কাউন্টারপার্টের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ন্যায়বিচার হবে।তিনি বলেন, যে পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে বাংলাদেশি মারা গেছে, তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে; একটা তথ্য আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশি নাগরিক সুবিচার পাবেন।মানববন্ধনকে কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, আমার মনে হয় না। অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে একটা পাতা নড়লেও অন্যকিছু ভাবে। এটাতে ওভার উৎসাহের কিছু দেখছি না। এটা কোনো হাইলি সেনসেটিভ ইস্যুও না।

post
বাংলাদেশ

'চলতি বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশি হজ যাত্রী হজে যাবেন'

২০২৩ সালে দেশের সম্ভাব্য হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।রোববার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এম আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৬২৮ জন, যা ২০১৯ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২২ সালে হজ যাত্রীর সংখ্যা কমে দাড়ায় ৬০ হাজার ১৪৬ জনে।তিনি জানান, চলতি ২০২৩ সালে হজযাত্রীর সম্ভাব্য কোটা বেড়ে হচ্ছে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। যা ২০০৯ এর তুলনায় ১৪৮ শতাংশ বেড়েছে, যা সরকারের সাফল্যের একটি মাইল ফলক বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

post
বাংলাদেশ

জরুরি পণ্য আমদানিতে ১০০ টাকায় ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে ডলার সংকট চরমে। এ সংকট দূর করতে জরুরি পণ্য আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ) থেকে ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতেই টান পড়ছে রিজার্ভে। রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করা হলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে প্রতিনিয়ত।এদিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলার ১০০ টাকায় বিক্রি করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। জরুরি পণ্য আমদানির জন্য মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) এ দামেই দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে ৭৮ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।রিজার্ভের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার রিজার্ভ থেকে ৭৮ মিলিয়ন ডলার বিক্রির ফলে রিজার্ভ এখন দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে। গত বছর এ সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশের রিজার্ভ কমেছে ১২০০ কোটি বা ১২ বিলিয়ন ডলার।এর আগে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে হঠাৎ ডলার সংকটে পড়তে হয় দেশকে। এতে আমদানিতে সংকট তৈরি হয়। আর আমদানি পরিশোধের সুবিধার্থে গত ২ বছর ধরে বাজারে ডলার বিক্রি করছে।এতেও সংকট কাটছিল না। একের পর এক ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যায়। অস্থির বিশ্ববাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে রাখার চেষ্টাও করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ গত ৩০ মে থেকে উন্মুক্ত অর্থনীতির নিয়মে বাজারই ওপরই মুদ্রা বিনিময় হার ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্যাংকগুলো যে কোনো দরে ডলার নির্ধারণ করে বিক্রি করতে পারছে।সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, ওপেন মার্কেট অনুযায়ী ডলারের দাম ঠিক হবে, ব্যাংকগুলো ঠিক করবে দর। এটা না হলে রেমিট্যান্স কমে যাবার শঙ্কা ছিল। তাই বাজারের ওপর ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশ মনিটরিং করে আসছে।মূলত কোভিড পরিস্থিতি পর থেকে বিশ্বজুড়ে চাহিদা বাড়ায় পণ্যের দামও বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এসব কারণে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এ কারণে অঅন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রাও ডলারের বিপরীতে দর 

post
বাংলাদেশ

২০২২ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৯৯৫১ জন

বিদায়ী ২০২২ সালে বাংলাদেশে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। আগের বছরের চেয়ে এই বছর সড়কে দুর্ঘটনা ১৯.৮৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে গেল বছর।সোমবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য জানিয়েছে। একই সময় রেলপথে ৬০৬ দুর্ঘটনায় ৫৫০ জন নিহত এবং ২০১ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ৩০৭ জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৭৬১৭টি দুর্ঘটনায় ১০৮৫৮ জন নিহত এবং ১২৮৭৫ জন আহত হন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০২২ সালে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। নিবন্ধিত যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্রি-হুইলার সরকারি আদেশ অমান্য করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচলের কারণে বিগত আট বছরের মধ্যে বিদায়ী ২০২২ সালে সড়কে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি। বিদায়ী ২০২২ সালে সারাদেশে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। আগের বছরের চেয়ে এই বছর সড়কে দুর্ঘটনা ১৯.৮৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে গেল বছর। সোমবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য জানিয়েছে। একই সময় রেলপথে ৬০৬ দুর্ঘটনায় ৫৫০ জন নিহত এবং ২০১ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ৩০৭ জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৭৬১৭টি দুর্ঘটনায় ১০৮৫৮ জন নিহত এবং ১২৮৭৫ জন আহত হন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০২২ সালে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। নিবন্ধিত যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্রি-হুইলার সরকারি আদেশ অমান্য করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচলের কারণে বিগত আট বছরের মধ্যে বিদায়ী ২০২২ সালে সড়কে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি। সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত তিন হাজার ৯০ জন চালক, এক হাজার ৫০৩ জন পথচারী, ৭৪২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ২৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এক হাজার ১৫০ জন নারী, ৭৯৪ জন শিশু, ৪৪ জন সাংবাদিক, ৩১ জন চিকিৎসক, ১৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচজন শিল্পী, নয়জন আইনজীবী ও ২৯ জন প্রকৌশলী এবং ১৬৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। নিহত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১১৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৭ জন সেনা সদস্য, ৬২ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন বিজিবি সদস্য, পাঁচজন নৌ-বাহিনীর সদস্য, আটজন আনসার সদস্য, দুইজন ডিজিএফআই সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডি, একজন এনএসআই সদস্য, ১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২৪ জন সাংবাদিক, ৭০৩ জন নারী, ৫৮৮ জন শিশু, ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী, ১১৭ জন শিক্ষক, ২৩৮৩ জন চালক, ৪২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ২৭ জন প্রকৌশলী, নয়জন আইনজীবী, ১৩৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৩১ জন চিকিৎসক। এ সময়ে সংঘটিত দুর্ঘটনায় সর্বমোট এক হাজার ৬১৬টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। যার ১৩.৯৫ শতাংশ বাস, ২৪.৫০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ৬.৯৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৬.২২ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮.৫৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১১.৪২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৮.৩২ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫২.৫৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২১.৬১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৫.৭৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৮.৬৩ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৪০ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৯৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত ২০২১ সালের তুলনায় বিদায়ী ২০২২ সালে ১.৫২ শতাংশ গাড়িচাপা, ০.৫৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ০.১৩ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেছিয়ে, ০.৩৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা কমেছে। ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ০.১২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সংঘটিত যানবাহনের ৩১৯ শতাংশ বাস, ৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২.৭৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক, ২.৫১ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ০.৭৮ শতাংশ কার জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় বেড়েছে। এছাড়া ৫.৯২ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পরি, ১.৩২ শতাংশ নসিমন-মাহিন্দ্রা-লেগুনা দুর্ঘটনা বিগত বছরের চেয়ে কমেছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বছর মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ২৭.৭০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৫২.০২ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১১.৮৮ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৬৭ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৭১ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বাংলাদেশে, ডিসেম্বরে গেছে ১৮০০০ কোটি টাকা

২০২২ সালের বিদায়ি মাস ডিসেম্বরে বাংলাদেশে গেছে ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাবে) প্রায় ১৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স যায় দেশে। পরের চার মাস দেড় বিলিয়ন ডলারের ঘরেই থাকে রেমিট্যান্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার বা ১৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আগের মাস নভেম্বরের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা এক হাজার ৭০ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই মাসের (ডিসেম্বর) তুলনায় সাত কোটি ডলার বেশি। গত অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ডলার।তথ্য বলছে, চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, আগস্টে এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এর পরই কমতে থাকে রেমিট্যান্সপ্রবাহ। পরের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাব বলছে, ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ (রিজার্ভ) কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার বা ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগের একই দিনে ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ২২ লাখ ডলার।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে করোনার নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত

বাংলাদেশে করোনার নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।চীন থেকে আসা ৪ নাগরিকের একজনের শরীরে করোনা এই নতুন ধরন শনাক্ত হয়। চীন থেকে তারা কোভিড নেগেটিভ সনদ সঙ্গে এনেছিলেন। তবে বাংলাদেশে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। 'ওই ফ্লাইটে আরও অনেকের উপসর্গ ছিল। তবে তাদের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। করোনা শনাক্ত হওয়ায় তাদের ঢাকা ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতালে পাঠানো হয়,' বলেছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ। নতুন উপধরনটি অনেক বেশি সংক্রামক। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বিএফ.৭ উপধরনে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির থেকে ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে।

post
বাংলাদেশ

বিছানায় রক্তের দাগ, সংবাদ সম্মেলন করবেন পরিমনি

বিছানায় রক্তের দাগওয়ালা দুটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে ভক্তদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। একই সঙ্গে তিনি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে।রোববার ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে ফেসবুকে ওই ছবি পোস্ট করলেও বিস্তারিত লেখেননি পরীমনি। তবে একদিন আগেই দিয়েছিলেন স্বামী শরিফুল রাজের সঙ্গে সংসারে ভাঙনের খবর। এর আগে শুক্রবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি লিখেছিলেন— ‘হ্যাপি থার্টিফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে।’ আরেক অংশে এ নায়িকা লিখেছেন— ‘জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নাই।’ পরীমনি এ স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। লাইক কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। অনেকেই তাদের সম্ভাব্য বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। স্ট্যাটাসের বিষয়ে পরীর সঙ্গে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে রাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা স্বীকার করেন পরীমনি। পরীমনি বলেন, ‘এখনো বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আজ থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। শিগগির বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে দেব।’ আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পরীমনির ভাষ্য— ‘বেশ কিছু দিন ধরেই সমস্যা হচ্ছিল। সমস্যা কাটিয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারলাম না। তার (রাজ) যে আচার-আচরণ তাতে একসঙ্গে থাকার পরিস্থিতি নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাসা ছেড়ে আলাদা হয়ে গেলাম। আমার মানসিক অবস্থা এখন ভালো নেই; এর বেশি আর কিছু বলতে পারছি না।’ চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি প্রকাশ্যে আসে রাজ-পরীর সম্পর্কের খবর। গত ২২ জানুয়ারি দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ১০১ টাকার দেনমোহরে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। গত চার মাসে তাদের ঘর আলো করে আসে ছেলেসন্তান রাজ্য। ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এক নায়িকাকে ঘিরে সংসারে অশান্তি এমন ইঙ্গিত দিয়ে কিছু দিন আগে একটি পোস্ট করেন পরীমনি। সেটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

post
বাংলাদেশ

নতুন সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর, স্বাগত ২০২৩

মহাকালের আবর্তে বিলীন হয়ে গেল আরেকটি বছর। নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর। স্বাগতম ইংরেজি নববর্ষ ২০২৩। অনেক প্রাপ্তি, হতাশা ও নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় শেষ হলো ২০২২। শনিবারের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে হতাশা, দুঃখ ও না পাওয়ার বেদনাকে বিসর্জন দিয়ে এবং আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে নতুন আশা আর নতুন সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে শুরু হচ্ছে ইংরেজি নতুন বছর ২০২৩। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করছে নতুন বছরকে।খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষে আমি দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রকৃতির নিয়মেই নতুন বছর মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে এবং নব উদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলায় অনুপ্রেরণা যোগায়।’তিনি বলেন, ‘২০২২ বাঙালি জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করি। ১৯৭২ সালে এশিয়ার প্রায় সবকটি দেশ, রাশিয়া, তৎকালীন সোভিয়েত ব্লকের অন্যান্য দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ, ফ্রান্স, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্বাধীন রাষ্ট্র নবীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।’দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় এবং জনগণের কল্যাণ হয়। কারণ একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার সুমহান আদর্শকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে। আসুন আমরা দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ সন্ত্রাসবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি ।এদিকে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পেরিয়ে ১ জানুয়ারি ১২টা বাজার পরপরই রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় নানা আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয় বর্ষবরণ। বিশেষ করে এ সময় চারদিক কাঁপিয়ে বাজি ফোটাতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। আতশবাজির আলোয় মধ্যরাতের আকাশ ঝলমলে হয়ে ওঠে। বাজির শব্দ আর আলো সবাইকে জানিয়ে দেয়, নতুন বছর এসে গেছে।নববর্ষ বরণ ও থার্টি ফার্স্ট উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় নগরবাসীকে থার্টি ফার্স্ট উপলক্ষে কোনো আতশবাজি, পটকা কিংবা ফানুস না ওড়াতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

post
বাংলাদেশ

নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টীয় নতুন বছর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো জোরদার হোক, সকল সংকট দূরীভূত হোক, সকল সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সকলের জীবনে আসুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমন্ধি- এই প্রার্থনা করি।’ খ্রিষ্টীয় নতুন বছর উপলক্ষ্যে আজ শনিবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রকৃতির নিয়মেই নতুন বছর মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে এবং নব উদ্যোমে সুন্দর আগামীর পথচলায় অনুপ্রেরণা যোগায়।’ তিনি বলেন, ‘২০২২ খ্রিষ্টাব্দ বাঙালি জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করি। ১৯৭২ সালে এশিয়ার প্রায় সবক'টি দেশ, রাশিয়া, তৎকালীন সোভিয়েত ব্লকের অন্যান্য দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ, ফ্রান্স, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্বাধীন রাষ্ট্র নবীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।’ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় এবং জনগণের কল্যাণ হয়। কারণ একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার সুমহান আদর্শকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে। আসুন, আমরা দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ সন্ত্রাসবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি । প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলো ২০২২ সালে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শূন্য হাতে সদ্য স্বাধীন দেশকে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে টেনে তুলেছিলেন। তখন ব্যাংকে কোন রিজার্ভ মানি ছিল না, কোন কারেন্সি নোট ছিল না। অবজ্ঞা করে কেউ কেউ বলতো তলা বিহীনঝুড়ি। সেই অবস্থা থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেন।’ ২০২২ সাল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এক স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গত বছর ২৬ জুন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মাসেতু চালু করেছি। ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল যোগাযোগ চালু করেছি। ২১ ডিসেম্বর দেশের ৫০টি জেলায় উন্নয়নকৃত ১০০টি মহাসড়ক উদ্বোধন করেছি।’ তিনি বলেন,২৬ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল'-এর দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজ সম্পন্ন করেছি। ৭ নভেম্বর দেশের ২৫টি জেলায় ১০০টি সেতু নির্মাণ করে উদ্বোধন করেছি। ১৯ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২ এর রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন করেছি। ২১ মার্চ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১ম পর্যায়) উদ্বোধন করেছি। আমাদের অন্যান্য মেগা ও মাঝারিসহ সকল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন হতে পরপর তিন দফা জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে গত ১৪ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও কিছুটা মন্থর হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ সারা পৃথিবীতে নিরীহ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। এই দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা দেশের প্রায় সকল মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা, করোনা ভ্যাক্সিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্যও সরবরাহ করেছি। আমরা ১ কোটি পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্য তেল, ডাল ও চিনি ক্রয়ের সুবিধা দিয়েছি। ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল এবং আরো ৫০ লাখ অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে ভিজিডি ও ভিজিএফ-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৩৫ লাখ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ১৮,৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ৩০ প্রকারের ঔষধ দিচ্ছি। আমাদের ১ কোটি কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে সরাসরি সরকারি ভরতুকির টাকা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি/উপবৃত্তি দিচ্ছি। ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার কারণে বই উৎসবের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন আজ শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অন্যতম সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামাঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করেছি। ফলে আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি আরো মজবুত হয়েছে, দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, মাথাপিছু আয়সহ অন্যান্য সামাজিক সূচকেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছি। ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট’ বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০' বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

post
বাংলাদেশ

বিদেশে বসেই প্রবাসীরা এনআইডি কার্ড পাবেন : এ.কে আব্দুল মোমেন

প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবাগ্রহণ আরও সহজ করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি কার্ড) জন্য প্রবাসীদেরকে আর দেশে আসতে হবে না। বিদেশে বসেই প্রবাসীরা এনআইডি কার্ড পাবেন। এছাড়া প্রবাসীদের সেবা বাড়াতে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল করার প্রস্তাব দিলেও তা এখনো পাস হয়নি। ট্রাইব্যুনাল হলে অনেক সমস্যার সহজেই সমাধান হবে।’আজ বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের একটি হোটেলে সিলেট কর অঞ্চল আয়োজিত সেরা করদাতাদের সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রবাসীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবছর ৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী দিবস হিসেবে পালন করা হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন দিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হবে প্রবাসীদের কথা শোনা ও তাদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা।’করদাতাদের উদ্দেশে এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ৮-১০ শতাংশ কর দেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। দেশে করদাতার সংখ্যা কম। জনসংখ্যার তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ কর দিচ্ছেন। অথচ নতুন আয়কর বাড়ানোর চেষ্টা কম। আবার আয়কর যারা দেন, তাদেরকেও বিরক্ত করা হয়।’এ কে আব্দুল মোমেন আরও বলেন, ‘তিন লাখের উপরে যারা লেনদেন করবেন, বাসা-বাড়িতে ভাড়া আদায় করেন, তাদের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ করা দরকার। কর না দিলে আমরা কোনো কিছুই প্রত্যাশা করতে পারি না। কর দেব না, অথচ সুবিধা নেব, এটা হতে পারে না।’পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, সেখানে আহরিত রাজস্বের অধিকাংশই আসে আয়করের প্রত্যক্ষ কর থেকে। আমেরিকায় আয় ৩ হাজার ডলারের বেশি হলে প্রত্যেককে ট্যাক্স দিতে হয়। আর আইডি পেলেই ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে।’অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা ও সিসিকের ৩৫ ব্যক্তিকে সেরা করদাতা সম্মাননা দেওয়া হয়।সিলেট কর অঞ্চলের কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল-ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদ প্রমুখ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.