বিশ্বের বৃহত্তম বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো তাদের পোশাক তৈরির জন্য বাংলাদেশি কারখানাগুলোকে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম টাকা দিয়েছে। বিভিন্ন কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও পোশাক কারখানাগুলোকে মহামারির আগের দামই দিয়েছে অনেক কোম্পানি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের এক হাজার পোশাক কারখানার পরিস্থিতি নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। দাতব্য সংস্থা ট্রান্সফর্ম ট্রেডের সহযোগিতায় এটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল।
গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, ওই সময়ে বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ পোশাক কারখানা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২ দশমিক ৩০ পাউন্ড (প্রায় ২৯০ টাকা) দিতে হিমশিম খেয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন, চার বা ততোধিক কারখানা থেকে পোশাক কেনে এমন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশই ‘অন্যায় ক্রয় অনুশীলন’-এ জড়িত।
এই ‘অন্যায়’ অনুশীলনগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রয়াদেশ বাতিল, অর্থপ্রদানে ব্যর্থতা, অর্থপ্রদানে বিলম্ব, মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দাবি। রয়েছে বাধ্যতামূলক ওভারটাইম ও হয়রানির মতো পরোক্ষ প্রভাবও।
বিবিসি জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্বজুড়ে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির কারণে এই পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন এ গবেষক। তিনি বলেছেন, ছোট ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় একাধিক কারখানা থেকে পোশাক কেনা বড় ব্র্যান্ডগুলোই ‘অন্যায্য ক্রয় অনুশীলন’-এ বেশি জড়িত বলে জানিয়েছেন সরবরাহকারীরা।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে পোশাক শিল্প থেকে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি।
