post
বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় দূতাবাস চালু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সমর্থনের আবেগ ছুঁয়েছে দেশটির সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক মহল পর্যন্ত। ভৌগোলিকভাবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্বটা ১৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি। কিন্তু আলবিসেলেস্তের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের ভালোবাসায় এ দূরত্বকে বিস্তর মনে হয় না।কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে বাংলাদেশের উন্মাদনা লাতিন আমেরিকার দেশটিকে চমকে দিয়েছে। এ উন্মাদনা আর্জেন্টিনা তো বটেই, সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। আর্জেন্টিনার মানুষও এখন বাংলাদেশকে আপন ভাবছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গভীর করতে বিশ্বকাপজয়ী দেশটি ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় দূতাবাস চালু করতে যাচ্ছে। ঢাকায় দূতাবাসের উদ্বোধন করতে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসছেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়েরো। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি দূতাবাস উদ্বোধন করা হবে। বাংলাদেশে দূতাবাস খোলার পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আর্জেন্টিনা দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত ফ্রাঙ্কো সেনিলিয়ানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার ঢাকায় আসছেন। ফ্রাঙ্কো গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো তিন দিনের সফরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসবেন। সফরকালে দূতাবাস উদ্বোধনের পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত বছরের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জয়ের পর অভিনন্দন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজকে চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিনন্দনবার্তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো। চিঠিতে আলবার্তো বলেন, ২০২৩ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির দৃঢ়বন্ধনে আবদ্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি। ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালুর বিষয়টি মূলত সামনে আসে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি টুইটকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো এক টুইটে লেখেন, ঢাকায় ১৯৭৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁর দেশের দূতাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে মেসির গোলের পর উল্লাসরত বাংলাদেশি সমর্থকদের একটি ভিডিও ফিফার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করার পর তা বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি ফলাও করে প্রচার করা হয়। পরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের টুইটারে বলা হয়, ‘আমাদের দলকে সমর্থন করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ! ওরা (বাংলাদেশিরা) আমাদের মতোই পাগল!’বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মনে করেন, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধন দৃঢ় হবে। দূতাবাস চালুর ফলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্জেন্টিনার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ লাতিন আমেরিকার অভিন্ন বাজার মারকোসুরে প্রবেশেধাকিরার উদ্যোগ নিতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সয়াবিন উৎপাদনকারী দেশ আর্জেন্টিনা। সম্পর্কের নতুন প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে বাংলাদেশের সয়াবিন তেল আমদানি সহজতর হতে পারে। পাশাপাশি চিনি আমদানির সুবিধা বাড়বে। সূত্র- প্রথম আলো

post
বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আসছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার নব নিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটাই হতে যাচ্ছে তার প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার দেশটির নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সৌজন্য বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন তার আসন্ন বাংলাদেশ সফর ঘিরে আলোচনা করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এছাড়া তারা স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে আরও অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগের ক্ষেত্রে দুপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অ-নথিভুক্ত বাংলাদেশিদের যাতে রিক্যালিব্রেশনের আওতায় সহজ প্রক্রিয়ায় বৈধতা দেওয়া হয়, তার জন্য মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। প্রত্যুত্তরে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি সহানভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

post
বাংলাদেশ

'তিন ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি'

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি তিন ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-অব্যাহতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মানে নিম্নমুখীর প্রবণতা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়-ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়ছে। যা অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত করে যাচ্ছে।এ কারণে সরকারের সার্বিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বাড়তি ব্যয় মেটাতে বেড়েছে সরকারের ঋণনির্ভরতা। বৈদেশিক মুদ্রা আয়, রাজস্ব বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানোর মাধ্যমেই এই চাপ কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ঋণ আলোচনা চূড়ান্ত করার জন্য গত ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অ্যান্তইনেত এম সায়েহ। তিনি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা সফর করেন। ওই সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে আইএমএফ একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আইএমএফের অ্যাকশন প্ল্যানও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশ কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক। তবে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, এ ধরনের ঋণের কারণে ঝুঁকি বাড়বে। অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ পাচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঋণ প্রস্তাব আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় অনুমোদন হতে পারে। এটি হলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়া যেতে পারে। আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে বেশিমাত্রায়। এর বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমেছে। বৈশ্বিক অস্থিরতায় সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ কমে গেছে। এতে আমদানি ব্যয়ের প্রবল চাপে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। অব্যাহতভাবে রিজার্ভ কমে যাওয়াটা অর্থনীতির জন্য শঙ্কার কারণ। রিজার্ভ কমে গেলে বাজারে ডলারের চাপও বাড়বে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাবে। যা এশিয়ার প্রায় সব দেশেই হচ্ছে। টাকার মান কমে গেলে সব খাতেই সরকারের ব্যয় বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বাড়বে আমদানি ব্যয় ও পণ্যমূল্য। যা মূল্যস্ফীতির হারকে আরও উসকে দেবে। যা পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে চাপে ফেলতে পারে। আমদানি ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে আয় বাড়ছে না। এতে সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। এ ঘাটতি কমাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতিতে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে দুদিক থেকে আয় বাড়াতে হবে। বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে হবে। এজন্য রপ্তানিবহুমুখীকরণ ও রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে হবে। অভ্যন্তরীণভাবে ব্যয় বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খাতে ভর্তুকি কমাতে হবে। তাহলে দুই খাতেই ভারসাম্য রক্ষা করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকট মোকাবিলায় রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সব ধরনের বিলাসী পণ্য আমদানি কমানো হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আমদানিও কমে গেছে। মূল্যস্ফীতির অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের আয় কমেছে ও সরকারি সংস্থাগুলোর ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে তেল, গ্যাস আমদানি কমানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎসহ সব ধরনের জ্বালানির ঘাটতি হয়েছে। যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সংকুচিত করেছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতিতে কঠোরতা আরোপ করায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও কমেছে। এতে চাহিদা যেমন কমছে, তেমনি ক্রয়ক্ষমতাও কমছে। এতে মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী হলেও সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গত বছরের চেয়ে বাড়বে। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্ভাব্য গতিতে ফিরবে বলে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পণ্যের সরবরাহ খাতে নতুন করে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সার্বিকভাবে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েই গেছে। এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক (এফআরবি) তাদের নীতি সুদের হার যেভাবে বাড়িয়ে যাচ্ছে তাতেও বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এতে ডলারের দাম আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে সংকটও।প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ ঋণ পাচ্ছে। এতে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার চাপে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ভর্তুকি কমাতে হবে। তাহলে সরকার সুফল পাবে। এসব উদ্যোগের ফলে বৈশ্বিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে বৃহৎ জুমার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে জামাত শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন দিল্লি নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাদের বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভী।ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।এছাড়া টঙ্গীর বিভিন্ন উঁচুভবনের ছাদে থেকেও মুসল্লিরা জুমার নামাজে শরিক হন। বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটে আসেন জুমার নামাজ আদায় করার জন্য। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলিগলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।শুক্রবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা ওসমানের আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।আজ জুমার পর সংক্ষিপ্ত বয়ান করবেন কাকরাইলের শুরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, আসরের পর বয়ান করবেন মাওলানা সাদের মেঝ ছেলে মাওলানা সাঈদ বিন সাদ কান্দলভী, মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভী।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ইজতেমা ময়দানকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ময়দানের আশপাশে প্রায় ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম পর্বে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবারও ঠিক আগের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট থাকবে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু শুক্রবার

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুক্রবার ২০ জানুয়ারি বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইজতেমা মাঠের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লির জমায়েত হবেন বলে আশা করছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটির। আগামী রোববার ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২৩ সালের বিশ্ব ইজতেমা। বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, পায়ে হেঁটে, ট্রাকে, পিকআপ গাড়ি নিয়ে যে যেভাবে পারছেন ইজতেমায় পৌঁছেছেন। মুসল্লিরা তাদের প্রয়োজনীয় মালছামানা নিয়ে নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। মাওলানা সাদ অনুসারী তাবলিগ জামাতের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম জানান, ইজতেমায় বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলিগ জামাতের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেন। এখানে তাঁরা শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, দেশের সব জেলা থেকে ৮৫ খিত্তার নজমের জামাত ইতিমধ্যে ময়দানে চলে এসেছেন। প্রতি খিত্তার জামাত, সেন্ট্রাল জামাতসহ দুই জামাতের প্রায় ২০ হাজার সাথি ময়দানে অবস্থান করছেন। তাঁদের নিয়ে সকাল থেকে ময়দানের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান হয়েছে। এ বিষয়ে জিএমপি পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল শুক্রবার ২০ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। ইজতেমায় লাখ লাখ মানুষ আসবেন। আমাদের কাজ হলো যেকোনো মূল্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কুমিল্লা জেলা থেকে আসা মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, মহান আল্লাহকে রাজি খুশি করাতে ইজতেমা ময়দানে এসেছি। ময়দানে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের বয়ান শোনার পাশাপাশি নামাজ, তসবিহ-তাহলিল, জিকির-আসগার ও নফল ইবাদতে মশগুল থাকব। মালয়েশিয়া থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসল্লি জানান, দুই বছর পর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে আসতে পেরে আমরা খুবই খুশি। আমরা বাংলাদেশেকে ভালোবাসি। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাকে ভালোবাসি। এ আয়োজনে সহায়তা করায় বাংলাদেশের সরকারকে অভিনন্দন জানাই। বিদেশগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেওয়ার জন্য আখেরি মোনাজাতের দিন অর্থাৎ আগামী ২২ জানুয়ারি ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় একটি বড় মাইক্রোবাস পদ্মা ইউলুপ, ২টি মিনিবাস নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেটে এবং একটি বড় মাইক্রোবাস কুড়াতলী লুপ-২ এ বিনামূল্যে পরিবহন সার্ভিসের জন্য ভোর ৪টা থেকে মোতায়েন থাকবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির কিডনি অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন

দেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির দান করা কিডনি অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টা পর্যন্ত দুটি কিডনির একটি প্রতিস্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ); অন্যটি প্রতিস্থাপন করা হয় কিডনি ফাউন্ডেশনে। সারাহ ইসলাম নামের (২০) এক তরুণীর দান করা কিডনি দুই নারীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ওই তরুণী কর্নিয়াও দান করে গেছেন। প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন বিএসএমএমইউর রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। আজ সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার বাসিন্দা সারা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কে টিউমারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর শিক্ষক মা বলেন, সারা মৃত্যুর আগে তাঁর দেহের সবকিছুই দান করে দিতে বলেছেন। তবে তাঁর কিডনি ও কর্নিয়া নেওয়া হয়েছে। সারাকে বীরের মর্যাদা দেওয়া উচিত। মরণোত্তর কিডনি দানে উদ্বুদ্ধ করতে সারার এই দান মানুষের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।’হাবিবুর রহমান আরও বলেন, সারা তিন দিন আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা দেওয়া হয়। হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর কিডনির সঙ্গে ম্যাচ করতে কয়েকজন কিডনি রোগীর তথ্য মেলানো হয়। এর মধ্যে ৩৪ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মিলে যায়। আত্মীয় না হওয়ায় এর বেশি মেলেনি। বাকিটা ওষুধ প্রয়োগে উপযোগী করা হয়েছে। বিএসএমএমইউতে কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার দলে আরও ছিলেন হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদ মো. সাইফুল হোসাইন, সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র ঘোষসহ ১৫ চিকিৎসক। তাঁরা জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাতার কাছ থেকে কিডনি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অস্ত্রোপচারে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। এরপর কিডনিটিকে প্রতিস্থাপনযোগ্য করতে আধা ঘণ্টা লাগে। কিডনি প্রতিস্থাপনে সময় লাগে আরও দুই ঘণ্টা। কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলমের নেতৃত্বে ৩৭ বছর বয়সী নারীর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। মৃত ব্যক্তি বলতে এখানে ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষিত ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ‘ব্রেন ডেথ’ অনেক রোগী থাকেন। তাঁরা আর বাঁচেন না। তাঁদের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস ফ্লুইডের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে কিছুদিন চালু রাখা যায়।কোনো ব্যক্তি ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষিত হওয়ার পর কিডনি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎ বা লিভার, অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ও খাদ্যনালির মতো অঙ্গগুলো দান করলে অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। তবে হৃৎপিণ্ড থেমে গেলেও কর্নিয়া, অস্থি, অস্থিমজ্জা ও চর্ম প্রতিস্থাপন করা যায়। এগুলোকে ক্যাডাভেরিক প্রতিস্থাপন বলা হয়। এমন ব্যক্তিদের কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনে দিকনির্দেশনা, তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার কাজ করে ‘ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি’।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে সরিষা চাষ

বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা পাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলায় সরিষার আবাদ বেড়েছে।কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে গত মৌসুমে ৩৯ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে এই ৫ জেলায় ৫২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষক। তাদের মতে, গত বছর আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এবং কৃষি বিভাগ সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়ায় কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ বছর রংপুর অঞ্চলে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক। বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছিল ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। ফলন পেয়েছিলেন ১৭ মণ। প্রতি মণ সরিষা ৩ হাজার দরে ৫১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। সরিষা চাষি আব্দুল মালেক বলেন, 'গত বছর সরিষা চাষে আশানুরূপ লাভ হওয়ায় এবার ৭ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করছি। আশা করছি এবারও ভালো ফলন ও ভালো দাম পাব।' মালেক জানান, আগে অনেক কৃষক সরিষা চাষ করতেন। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তারা চাষ কমিয়ে দিয়েছিলেন। 'বাজারদর ৩ হাজার টাকার বেশি থাকলে কৃষকরা সরিষা চাষে আরও বেশি উৎসাহী হবেন,' বলেন তিনি। লালমনিরহাট শহরে সরিষা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, গত বছর সরিষার ব্যাপক চাহিদা ছিল। আমরা প্রতিমণ সরিষা ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছিলাম। এ বছরও সরিষার চাহিদা আছে। 'আমরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরিষা কিনে বিভিন্ন স্থানে পাইকারদের কাছে বিক্রি করি,' বলেন আলমগীর। এবারের সরিষা চাষ বিষয়ে কুড়িগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, 'কৃষকদের সরিষা চাষে ফিরিয়ে আনতে এ বছর তাদের বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। গেল বছর সরিষার আশানুরূপ ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকরা উৎসাহী হয়েছেন। সরিষা চাষ কৃষির জন্য শুভ বার্তা। যারা সরিষা চাষ করছেন আমরা তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।' 'সরিষা চাষ একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা বাড়ায়, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরিষা ৩ মাস মেয়াদি ফসল। কৃষক কম খরচ ও কম পরিশ্রমে সরিষা চাষ করতে পারেন। বর্তমানে সরিষা চাষ কৃষকের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে,' বলেন লালমনিরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিদুর রহমান। এজে/

post
বাংলাদেশ

র‍্যাব কিছু উল্টাপাল্টা করেছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ও শক্তিশালী করতে ডোনাল্ড লু ঢাকা সফরে এসেছিলেন, ‘ডোনাল্ড লু এসেছেন আমাদের সম্পর্কের উন্নতিতে সহযোগিতা করার জন্য। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে।র‌্যাব আগে কিছু ‘উল্টাপাল্টা’ যে করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে র‌্যাবের জবাবদিহি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আর আমরাও বলেছি যে আমাদের কিছু কিছু দুর্বলতা আছে। উনিও স্বীকার করেছেন যে আমেরিকাতেও তাদের অনেক দুর্বলতা আছে, এটা পারফেক্ট নয়। সুতরাং আমরা একই রকম অবস্থানে।’আজ মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সফরে র‌্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল মোমেন এ মন্তব্য করেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় দুই দিনের ঢাকা সফরে এসেছিলেন ডোনাল্ড লু।আব্দুল মোমেন বলেন, ‘র‌্যাবের ওপরে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে। র‌্যাবও তো কিছু উল্টাপাল্টা কাজ করেছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারবেন না তো। এখন অনেক ম্যাচিউরড (র‌্যাব)। আগে প্রথম দিকে র‌্যাব অনেক লোকজনকে খামোখা কী করে ফেলেছে, কিন্তু বিষয়গুলো পরিবর্তন হয়েছে। র‌্যাব জবাবদিহির ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে।’পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বিএনপির শাসনকালে ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের শুরুর দিকে এ ধরনের অভিযোগ বেশি ছিল। র‌্যাবের জবাবদিহির ক্ষেত্রে উন্নতির উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় তিন শ কর্মকর্তার পদাবনতি বা চাকরিচ্যুতির প্রসঙ্গ টানেন।গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাবসহ এই বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।লুর সঙ্গে খুব ভালো, ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন চাচ্ছেন, আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা যেন অত্যন্ত উন্নত হয়। আর আমরা বড় ইকোনমি হয়ে যাচ্ছি, ৩৫ নম্বর ইকোনমি। সুতরাং তারা চায় আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে এবং আমেরিকার মূল্যবোধ, নীতি আমাদের সঙ্গে তো এক…তারা গণতন্ত্র চায়, আমরাও চাই, আমরা গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছি। তারা মানবাধিকার চায়, আমরাও চাই। কিছু কিছু ব্যত্যয় ঘটে…তোমাদের যদি কোনো সমস্যা থাকে, শুধু আমাদের জানাও।

post
বাংলাদেশ

মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে লাশ হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লিমা

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লুৎফুন্নাহার লিমা (৩০)। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে এক বছর আগে বাংলাদেশে আসেন। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু মায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মা জাহানারা বেগম, চাচাতো ভাই ফজলে রাব্বির সঙ্গে লিমাও মারা যান। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের চালক, সহকারী ও আরেক পরিচিতজন মারা গেছেন।লিমার স্বজনেরা বলেন, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আনারসিয়া গ্রামের লতিফ মল্লিক ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় থাকেন। ২০১০ সালে বাবার কাছে যান লুৎফুন্নাহার লিমা। পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার লিমা ফ্লোরিডায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। তার মা জাহানারা বেগম গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। জাহানারা কিডনি রোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে লিমা গত বছর বাংলাদেশে মায়ের কাছে ফিরে আসেন। মায়ের চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। জাহানারা বেগম কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শহরের বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সোমবার চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হন লিমা, তার চাচাতো ভাই ফজলে রাব্বি ও ফজলে রাব্বির শিক্ষক স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা।পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা, শিবচর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিউল ইসলাম অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার কাছে আসে। টোল প্লাজার ৩০০ মিটার সামনে নাওডোবা এলাকায় এলে অ্যাম্বুলেন্সটি চলন্ত একটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। অ্যাম্বুলেন্সটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। তাদের লাশ উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা হাসপাতালে যান। লিমার মামাতো ভাই রুবেল খান সুত্রকে বলেন, ‘দুই-তিন মাসের মধ্যে মাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল লিমার। জীবনের কী নির্মম বাস্তবতা, আমার বোনটি মাকে নিয়ে না–ফেরার দেশে যাত্রা করল।’ শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। জাজিরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে টাকা হস্তান্তর করেন। হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর সার্কেলের এএসপি মো. মারুফ হোসেন সুত্রকে বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ফেলে চালক পালিয়ে যান। পুলিশ ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে শিবচর হাইওয়ে থানায় নিয়ে জব্দ করে রাখে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।প্রসঙ্গত পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার কাছে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন চালক রবিউল ইসলাম (২৮)। তাঁর বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, তিনি টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রোগী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে চলন্ত ট্রাককে ধাক্কা দিলে তিনিসহ ছয়জন মারা যান।সূত্র- প্রথম আলো

post
বাংলাদেশ

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে ঋণ পেতে যাচ্ছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন তহবিল থেকে প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বে প্রথম এই ঋণটি পায় বার্বাডোজ, তারপর কোস্টারিকা, আর সবশেষে রুয়ান্ডা। এরপরই ঋণ পাওয়ার তালিকায় আছে আরও পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। নতুন এই ঋণ তহবিলের নাম রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আইএমএফের বোর্ড এই তহবিলের অনুমোদন দেয় আর কার্যকর হয় পয়লা মে থেকে। যেসব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্যই এই তহবিলের সৃষ্টি। আইএমএফ বলছে, যেসব দেশের আয় কম, ঋণ পরিশোধের দায় বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, এতে উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতি পড়ে, তাদের জন্যই এই তহবিল। সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯-এর পরে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশেরই ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এই তহবিলের প্রয়োজনও অনেক বেড়ে গেছে। জলবায়ু ঝুঁকি যেভাবে দায় বাড়াচ্ছে আইএমএফের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি একটি দেশের ঋণসংকটকে তীব্রতর করে। দুইভাবে সরকারের এই ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে তার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ মান সংস্থাগুলো সম্প্রতি কোনো কোনো দেশের ঋণ ঝুঁকি (কান্ট্রি রিস্ক) যাচাইয়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো ভৌত পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনার মধ্যে আনছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ঋণ গ্রহণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সুদ। জাতিসংঘের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রতি ১০ ডলারে অতিরিক্ত আরও ১ ডলার ব্যয় করতে হয়। অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বাংলাদেশের রাজস্ব আয় অত্যন্ত কম। দেশের রাজস্ব আয় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। বিপুল অঙ্কের এ ঋণদায় মেটাতে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারও ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হয় বলে জলবায়ু অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকছে। বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। আর এর আগের দুই অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে সরকারের চলমান বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।অর্থনৈতিক মন্দাদশার চাপ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। এর ৫৮ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এক যৌথ প্রতিবেদনে ঋণের স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো নিম্ন ঋণ ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরজুড়েই ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা এখন ৮ শতাংশের বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে আছে নানা উদ্বেগ। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ওঠানামা রয়েছে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। ফলে আড়ালেই চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি বনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ পরিচালিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক’ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দশকে এ ক্ষেত্রে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭২ কোটি ডলার। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে কৃষি খাতের অবদান এখনো মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশ আজও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়েছে পটাশিয়ামসহ মাটির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত ৩০ বছরে মাটিতে সারের ব্যবহার ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ৩০ বছরের মধ্যে দেশে খাবার পানীয় ও সেচব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। এতে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত চাল উৎপাদন কমে যেতে পারে। চাল ছাড়াও গম, সবজি ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ প্রভাব পড়বে।শুধু বাংলাদেশই নয় উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপে জলবায়ু অর্থায়নে রাজস্ব সক্ষমতা হারাচ্ছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ একা নয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে এমন ৫৫টি স্বল্প ও উন্নয়নশীল দেশ মিলে গঠন করেছে ভালনার‍্যাবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি ২০)। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। গ্রুপের ২২টি দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে আছে। ভি ২০ গ্রুপের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এসব দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যৌক্তিক সমাধান করা না গেলে আগামী দশকে একটি বড় বৈশ্বিক ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন তহবিল কতটা সহায়ক বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ থেকে চেয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। নিয়ম হচ্ছে, আইএমএফের কোনো একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে থাকলেই কেবল আরএসটি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশই এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ঋণ চেয়েছে। ঋণের অর্থ দেওয়া হবে ১৮ মাসে। পরিশোধের সময় ২০ বছর, আর এর বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে সাড়ে ১০ বছর। এই ঋণের সঙ্গেও শর্ত থাকবে। ঋণ পেতে আইএমএফের ভাষায় বেশ কিছু উচ্চ মানের বা ‘হাই কোয়ালিটি’ সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করার মতো কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এই তহবিল কি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হবে। বাংলাদেশই বা লাভবান হবে কতটা। আসলে এর উত্তর পাওয়া যাবে সামনের দিনগুলোতেই। সুত্র- প্রথম আলো 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.