post
আন্তর্জাতিক

শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারে কমলা ও ট্রাম্প কী বললেন

ভোটের আগের দিন গতকাল সোমবার পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপালিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। উভয়ই নিজের জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এবারের মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণায় মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সমাবেশ চলাকালে রিপালিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্পের ওপর দুবার গুলি চলেছে। গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারের মাঝপথে হঠাৎ করেই সামনে চলে আসেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা। নিজ দলের ভেতর থেকে চাপের মুখে ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। বাইডেন সরে দাঁড়ালে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট সামনে চলে আসেন।অ্যানালিটিকস ফার্ম অ্যাডইমপ্যাক্টের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মার্চ থেকে নির্বাচনী প্রচারে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। অধিকাংশ জনমত জরিপে কমলা (৬০) ও ট্রাম্পের (৭৮) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোটের দিনই তাই ভোটের ফলাফল পাওয়া না–ও যেতে পারে। যদিও ট্রাম্প এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন, তিনি নিজের পরাজয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত। উভয় প্রার্থী গতকাল পেনসিলভানিয়ায় সমাবেশে ভোটের দিন সমর্থকদের ভোট দিতে যেতে বলেছেন। মঙ্গলবার ভোট হলেও কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। তবে যাঁরা এখনো ভোট দিতে যাননি, তাঁদের ভোট দিতে যেতে বলেছেন কমলা ও ট্রাম্প।যে সাত অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্র বলা হয়, তার একটি পেনসিলভানিয়া। এই সাত রাজ্যের মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট সবচেয়ে বেশি। ভোট শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পিটসবার্গে বিশাল এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চার বছর ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছি।’ প্রতিদ্বন্দ্বী কমলাকে আক্রমণ করতে গিয়ে এদিন তিনি আরও বলেন, কমলা জিতলে সঙ্গে করে অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে আসবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ট্রাম্পকে একটি ভোট দেওয়ার অর্থ আপনাদের নিত্যপণ্যের দাম কমবে, আপনাদের বেতন বাড়বে, আপনাদের সড়ক অধিক নিরাপদ হবে, জাতি হিসেবে আপনারা আরও সমৃদ্ধ হবেন এবং আগের তুলনায় আপনার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।’ অ্যালেনটাউনে সমাবেশে কমলা নিজের জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি ‘সব আমেরিকানের’ প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

post
আন্তর্জাতিক

মার্কিন নির্বাচন কেন নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার হয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই দিন মঙ্গলবার। ১৮৪৫ সাল থেকে নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরদিন মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এই ভোট গ্রহণ কেন নভেম্বর মাসে, আর কেনই–বা প্রথম সোমবারের পরদিন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়! এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস। যে কারণে নভেম্বরে ভোট ১৮৪০ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের জন্য কোনো আলাদা দিন নির্ধারিত ছিল না। এ সময় নির্বাচনের তারিখ অঙ্গরাজ্যগুলো ঠিক করত। এতে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক দিন ভোট হতো। তবে বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যই ভোট গ্রহণের জন্য নভেম্বর মাসকে বেছে নিত। এতে নানা ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতো। এসব সংকট কাটাতে ১৮৪৫ সালে দেশে একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন পাস হয়। শুরুর দিকে শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ মেনে চললেও পরে সব ধরনের নির্বাচনেই এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয়। নভেম্বরে ভোট দেওয়ার কারণ বেশ সহজ। শুরুতে ফেডারেল আইনের অধীনে ইলেকটোরাল কলেজের নির্বাচকদের ডিসেম্বরের প্রথম বুধবার পৃথক রাজ্যে মিলিত হওয়ার রীতি ছিল। ১৭৯২ সালের ফেডারেল আইন অনুসারে, রাজ্যগুলোর নির্বাচন (যাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন, এমন নির্বাচকদের ভোট) সেই দিনের আগে ৩৪ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম চালু হয়। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪৫ সালে যখন নতুন এ আইন পাস হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিভিত্তিক সমাজ ছিল। এ কারণে দেশটির শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় অংশ কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। বছরের অধিকাংশ সময় কৃষকেরা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতে কৃষকের ঘরে ফসল উঠে যায়। সময়টা কৃষকদের জন্য অবসর থাকে। আর আবহাওয়াও বেশ অনুকূল থাকে। এ কারণে কৃষকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নভেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়। নতুন এই আইনের আগে রাজ্যে বিভিন্ন দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। তখন যোগাযোগব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য কয়েক দিন বা সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো। নিউ জার্সিতে ভোটদানকারী লোকেরা মেইন বা জর্জিয়ার ভোটে কে জিতেছেন, তা জেনে প্রভাবিত হতে পারতেন না। কিন্তু ১৮৪০ সালের দিকে সবকিছু বদলে যেতে লাগল। রেলপথ নির্মাণের কারণে ডাক ও সংবাদপত্র পরিবহন অনেক দ্রুততর হয়ে ওঠে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যেটা সমাজকে বদলে দিয়েছে, তা হলো টেলিগ্রাফ। কয়েক মিনিটের মধ্যে শহরের যেকোনো খবর পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠল। এর ফলে একটি রাজ্যের নির্বাচনের ফল অন্য রাজ্যের ভোটকে প্রভাবিত করতে শুরু করল। এতে একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। ভোটাররা রাজ্য থেকে রাজ্যে ভ্রমণ করে একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে শুরু করেন। নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই ১৮৪০ দশকের শুরুর দিকে কংগ্রেস সারা দেশে নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য একটি একক দিন নির্ধারণ করে। কেন প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার? ১৮৪৫ সালে কংগ্রেস আইন পাস করে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রতি চার বছর পর নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পর প্রথম মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সোমবারের পর প্রথম মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া মানে ভোট কখনোই ১ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ, ১ নভেম্বর খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা ‘অল সেইন্টস ডে’ পালন করে। এটি ক্যাথলিক অনুসারীদের একটি পবিত্র দিন। এ ছাড়া ওই দিন ব্যবসায়ীরা আগের মাসের হিসাব মেলানোর কাজ করেন। দিনটি ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক কর্মচঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে ভোট গ্রহণ হলে ব্যবসার ক্ষতি হবে ভেবে তা বাদ দেওয়া হয়। নতুন এই আইনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৪৮ সালের ৭ নভেম্বর। মঙ্গলবার যে কারণে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য বলছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দুই দিন বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু শুরুতেই তা বাতিল করা হয়। কারণ, অধিকাংশ আমেরিকানই রোববারকে উপাসনার দিন হিসেবে আলাদা করে রাখেন। অনেক স্থানে বুধবার ছিল বাজারের দিন। এদিন কৃষকেরা তাঁদের ফসল নিয়ে শহরে বিক্রি করতে যান। এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকায় নিকটতম ভোটকেন্দ্র কয়েক মাইল দূরে থাকত। সেখানে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যেত। তাই, ভ্রমণের জন্য রোববার ও বুধবার এড়িয়ে সোমবার করা হয়। যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে মঙ্গলবারে ভোট দিতে পারেন। এর পর থেকেই চার বছর পরপর নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পর মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জন্য ভোট দেওয়ার দিনের ঐতিহ্য ১৮৪৮ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, থট কো, হিস্টোরি ডটকম ও সিএনবিসি অবলম্বনে সুজন সুপান্থ

post
বাংলাদেশ

শপথ নিলেন চসিকের নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।রোববার (৩ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।ডা. শাহাদাত হোসেনের একান্ত সচিব মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, শপথগ্রহণ শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতে যাবেন চসিক মেয়র।আগামী ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম ফিরে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র।

post
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ পদ্ধতি কী?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে পাঁচই নভেম্বর। কিন্তু যে প্রার্থী সবথেকে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই যে জয়ী হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। এর কারণ হল ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না। ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ নামে এক পদ্ধতিতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যখন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন, বেশিরভাগই হয় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস অথবা রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। তবে এদের দুজনের মধ্যে কে জয়ী হবেন, সেটা ভোটারদের দেওয়া ভোটে সরাসরি নির্ধারিত হবে না। জাতীয় স্তরের নির্বাচনি লড়াইয়ের বদলে জয়ী-পরাজিত নির্ধারিত হবে একেকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি লড়াইয়ের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ ভোট পেয়ে যাবেন। ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। সেই প্রার্থীর রানিং মেট হয়ে যাবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেক্টোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার হাতে সর্বাধিক ৫৪টি, এবং ভায়োমিং, আলাস্কা এবং নর্থ ডাকোটা (এবং ওয়াশিংটন ডিসি)-র মতো যেসব অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা খুবই কম, তাদের হাতে অন্তত তিনটি ইলেক্টোরাল ভোট আছে। সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের হাতে থাকা ইলেক্টোরাল ভোট সেই প্রার্থীকেই দেয়, যিনি ওই অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ধরা যাক, টেক্সাসে একজন প্রার্থী ভোটারদের সরাসরি ভোটের ৫০.১% পেয়েছেন, তাকে ওই অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা ৪০টি ইলেক্টোরাল ভোটের সবগুলিই সেই প্রার্থী পেয়ে যাবেন। একটি অঙ্গরাজ্যে জয়ের ব্যবধান যদি বিরাট হয়ও, তাহলেও জয়ী প্রার্থী অতগুলি ইলেক্টোরাল ভোটই পাবেন। তবে একজন প্রার্থী সারা দেশে হয়ত কম ভোট পেয়েছেন, কিন্তু বেশ কতগুলি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়ে একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ কম ভোট পেয়েও মিসেস ক্লিনটনকে পরাজিত করেছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০০ সালে আল গোরকে পরাজিত করেছিলেন, যদিও সাধারণ ভোটে তার জয়ের ব্যবধান ছিল পাঁচ লক্ষেরও বেশি। ওই দুজনের আগে আর মাত্র তিনজন সাধারণ ভোটে না জিতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সেগুলি উনবিংশ শতাব্দীর ঘটনা। একেক রাজ্যের হাতে একেক সংখ্যক ভোট থাকার কারণে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যাপারে এমনভাবে ছক তৈরি করেন যেখানে তারা বেশি ভোট আছে এমন রাজ্যগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ‘কলেজ’ শব্দটির অর্থ এখানে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যারা একটি অঙ্গরাজ্যের ভোট দেওয়ার অধিকারী। 'ইলেকটোরাল কলেজ' হচ্ছে কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল, যাদের 'ইলেকটরস্' বলা হয়। এরা এক কথায় নির্বাচক মণ্ডলী। প্রতি চার বছর পর পর এটি গঠন করা হয়, এবং এরাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাছাই করেন। কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে প্রতিটি স্টেটের ইলেকটরসের সংখ্যা নির্ধারিত হয়: যা নির্ধারিত হয় স্টেটে সেনেটরের সংখ্যা (প্রত্যেক স্টেটে দুইজন) এবং প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিনিধির (যা জনসংখ্যার অনুপাতে) যোগফল মিলে। ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি অনুযায়ী যেসব রাজ্যে জনসংখ্যা বেশি, সেসব রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোটও বেশি। এই প্রথা শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যই ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় সরাসরি মানুষের ভোটেই।

post
আন্তর্জাতিক

বিশ্বনেতাদের সমর্থন কার দিকে, কমলা নাকি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হতে যাচ্ছেন, তার ওপর নজর পুরো বিশ্বের। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প যিনিই ক্ষমতায় আসুন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবছেন বিশ্বনেতারা। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী কে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় সবার আগে আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম। তিনি হোয়াইট হাউসে কাকে দেখতে চান? পুতিনের পক্ষ থেকে মজা করে কমলাকে পছন্দের কথা বলা হলেও তাঁর পছন্দের মানুষ যে ট্রাম্প, তার অনেক ইঙ্গিত দেখা গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া এবং ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ আল-জাজিরাকে বলেছেন, পুতিন নানা কারণে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমত, পুতিন মনে করেন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি নমনীয় এবং ইউক্রেনের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তিতে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধ ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন।অ্যাশ বলেন, ‘আমি মনে করি, ট্রাম্পের মধ্যে নিজের কর্তৃত্ববাদী হিসেবে নিজের ছবি দেখেন পুতিন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পকে তিনি বুঝতে পারেন।’ তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জিতুন, মস্কো মনে করে, রাশিয়ার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই থাকবে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরাসরি কমলা বা ট্রাম্প কাউকেই সমর্থন দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের সময় চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই আবার ট্রাম্প জিতলে সে পরিস্থিতি তৈরি হবে। ডেমোক্র্যাটরাও এখন বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বাণিজ্যযুদ্ধ থাকলেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চেয়েছেন ট্রাম্প। গত ১৪ জুলাই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর বিশ্বনেতাদের অনেকেই তাঁকে বার্তা দিয়েছিলেন। ওই সময় সি চিন পিংয়ের বার্তাও পেয়েছিলেন তিনি। সির বার্তা ট্রাম্প পেলেও চীনের কর্মকর্তারা আবার কমলাঘেঁষা বেশি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কাউকে সরাসরি সমর্থন না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পের প্রতিই ঝুঁকে রয়েছেন তিনি। ইউরোপের নেতাদের মধ্যে অনেকেই এবার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছেন। কারণ, ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ কমলাকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘আমি তাঁকে ভালোভাবে চিনি। তিনি দারুণ প্রেসিডেন্ট হবেন।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ। কিছুদিন আগেও ট্রাম্প মোদিকে প্রশংসা করে টুইট করেছেন। তবে চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো চৈতজ্ঞ বাজপেয়ী বলেন, ‘আমি মনে করি না, মোদির কোনো পছন্দের প্রার্থী আছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে দুই দলেরই মত রয়েছে।’ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল কাউকেই সরাসরি সমর্থন দেননি। তবে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ট্রাম্পের সময় কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় খরচ না বাড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছিল। জাপানের পক্ষে ট্রাম্প জয়ী হলে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কমবে। ট্রাম্প শুল্ক বাড়াবেন এবং জাপানকে সামরিক বাজেট বাড়াতে বলবেন। কমলা প্রেসিডেন্ট হলে তাদের নীতি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্রাম্প জয়ী হলে নানা প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাই ট্রাম্পের পক্ষে তাদের না যাওয়াই স্বাভাবিক।

post
নারী ও শিশু

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে নারী ও শিশু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউট বাংলাদেশে ২০ জন মায়েদের নিয়ে নারী মৈত্রী আয়োজিত “তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম” গঠন বিষয়ক সভায় এ দাবি জানান তারা। তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম এর আহ্বায়ক ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য্য। যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং একজন সফল সাংবাদিক মা শাহনাজ পলি ও একজন শিক্ষিকা মা আফসানা নওরিন।নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন মো. আব্দুস সালাম মিয়া,প্রোগ্রামস ম্যানেজার,ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রীর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাছরিন আকতার। তিনি বলেন,বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ লোক তামাক ব্যবহার করে এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ করা প্রয়োজন। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়ায় যে বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সব পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা; তামাক পণ্যের প্রচার বন্ধ করার জন্য বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট আমদানি, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা; তামাক পণ্যের সব ধরনের খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা; ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা। দেশকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আজকের এই তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন যা তামাকমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ফোরামের সদস্যগণ যথাযথ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করেন ফোরাম এর আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ধূমপান না করেও পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ। যার মধ্যে বেশি ক্ষতির শিকার হন নারী ও শিশুরা। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারীদের অকালে গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্ম, স্বল্প ওজনের শিশু, গর্ভকালীন রক্তক্ষরণ, প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মৃত শিশুর জন্ম দেয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় এই ফোরাম তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের দাবিতে নিরলস সমর্থন ও পরামর্শ দিবে। পাশাপাশি নিজের পরিবারকে তামাকের প্রভাবমুক্ত রাখবে এবং অন্যান্য মায়েদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবে। এছাড়া, তামাক কোম্পানির কূটকৌশল বা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বাধাগ্রস্ত করার বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস জানান তিনি।যুব সমাজকে তামাকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষায় মায়েরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন আবদুস সালাম মিয়া। তিনি বলেন,"তামাকের প্রতি আসক্তি যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার জগতে। গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো জরিপ এ ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে পরিচালিত প্রতিবেদনে দেখা যায় ভারত,ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশে ধূমপান আসক্ত কিশোর-কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রায় ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত।তাই প্রত্যেক মায়েদের এই বিষয়ে সোচ্চার এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের জন্য নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।এছাড়াও ফোরামের অন্যান্য সদস্যগণ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী প্রস্তাব দ্রুত পাশের জোর দাবি জানান।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, লেখক ও কলামিস্ট সপ্না রেজা,ভিউজ বাংলাদেশ এর নিউজ এডিটর মারিয়া সালাম, ইত্তেফাক এর সিনিয়ির রিপোর্টার রাবিয়া হোসেন বেবি এবং খেয়া মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা এর প্রেসিডেন্ট ফারজানা শাম্মি সহ বিভিন্ন পেশার মায়েরা।

post
টেক মেন্টর

ইউএপির সঙ্গে সিয়াস ও ডব্লিউইউএসটির সমঝোতা স্মারক সই

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সঙ্গে চীনের সিয়াস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) চীনের বেইজিং কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টসের (আইএইউপি) সাধারণ পরিষদের অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের সূচনা হয়েছে।চীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বারা স্বীকৃত সিয়াস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। ইউএপির উপাচার্য কামরুল আহসান এবং সিয়াস ইউনিভার্সিটির প্রভোস্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক লুসি লু নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারক সই করেন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চশিক্ষার একটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়। ডেভিড সোহন ২০০৮ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। একই দিনে ইউএপির উপাচার্য কামরুল আহসান এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইউএপির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি যৌথভাবে একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক সামগ্রী এবং প্রকাশনাগুলো বিনিময় করবে। একই সঙ্গে ছাত্রদের জন্য যৌথ সম্মেলন ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেবে এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালা, অনুষদ, কর্মী এবং ছাত্রবিনিময় প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করবে।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি ও রঙহীন ভবিষ্যৎ - আবুবকর হানিপ

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি এক কঠিন বাস্তবতা এবং গভীর আবেগপূর্ণ বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সময়ের ব্যবধানে ছাত্ররাজনীতি আমাদের একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের আলো ম্লান করে দিয়েছে এবং তরুণদের ভবিষ্যেক ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। ছাত্ররাজনীতির ক্ষতিকর দিকগুলোই হয়ে উঠেছে প্রকট। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, সৌদি আরব বা এমনকি ভারতের মতো দেশগুলোর দিকে তাকাই, এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের এক তীব্র বৈপরীত্য দেখতে পাই।ওই সব দেশে ছাত্ররাজনীতি নেই বললেই চলে। অথচ বাংলাদেশে তা শিক্ষাব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত হয়ে রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কোমলমতি শিক্ষার্থীর মন ও হৃদয় রাজনীতির জালে জড়িয়ে পড়ে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিপরীত মেরুর দিকে নিয়ে যায়। একসময়ে তা জাতীয় ঐক্যে আঘাত হানে আর ভেঙে দেয়।তখন সহপাঠী আর এক বেঞ্চিতে বসতে পারে না। এক পর্যায়ে এই বিভাজন কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এমন শত্রুতার বীজ বপন হয়, যা নাগরিক সমাজেও প্রতিফলিত হতে থাকে। ফলে একসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকা মানুষের মাঝেও সৃষ্টি করে বিরোধ।বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার পরপরই স্রেফ হলের আসন পাওয়ার মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবল চাপে পড়ে যায়যারা কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় থাকে না, তারা ভালো আসন পেতে চরম বৈষম্যে পড়ে। বলা চলে, পায়ই না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি পরিবেশ বিরাজ করে, যা মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর তা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীর জন্য ক্ষতিকর।ছাত্ররাজনীতির সবচেয়ে মর্মন্তুদ দিকটি হলো শিক্ষার্থীর মেধার ওপর এর গভীর কালো ছায়া ফেলার ক্ষমতা।পুলিশ, সামরিক বাহিনী, শিক্ষকতা, চিকিৎসা এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রের নিয়োগে সরকারি প্রভাব। বিশেষ করে বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রায়ই একাডেমিক মেধাকে ছাপিয়ে যায়। এই সমস্যা শুধু নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। একাডেমিক বিষয়ে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর, বিশেষত শাসকদলের সম্পৃক্ততা শিক্ষাজীবনের বাইরেও প্রভাব ফেলে। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের (উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য) নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মেধাভিত্তিক নিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে, যার ফলে শিক্ষার গুণগত মানের অবনতি ঘটছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রায়ই রাজনৈতিক আনুগত্য একাডেমিক মেধাকে ছাপিয়ে যায়, যা বৈশ্বিক শিক্ষাগত র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে ক্রমাগত অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপক সম্পৃক্ততা ও প্রভাব ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং অনৈতিক কার্যকলাপের জন্ম দিয়েছে। এই সমস্যাগুলো শুধু একাডেমিক কার্যক্রমকেই ব্যাহত করছে তা নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মঙ্গলকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। লক্ষ করা গেছে, শাসকদল যখন কাউকে গুরুদায়িত্ব দেয়, সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে পদের গুরুত্বটি প্রায়ই অগ্রাধিকার হারায়, বরং সব প্রচেষ্টা থাকে পদ ধরে রাখার বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের আখের গোছানোর দিকে কেন্দ্রীভূত হয়, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শিক্ষাব্যবস্থার ওপর এই রাজনৈতিক প্রভাব মেধার বিকাশকে রুদ্ধ করছে। ফলে মেধাবীরা যথাযথ স্বীকৃতি এবং সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে দেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল মেধাবীরা হতাশায় ভুগতে শুরু করে এবং অনেকেই দেশের স্বপ্ন ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেয় কিংবা বেআইনি পথে পা বাড়ায়। মেধার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে জাতির ভবিষ্যৎ তরুণরা হতাশার গভীরে তলিয়ে যেতে থাকে, যা দেশের জন্য একটি গভীর সংকট তৈরি করছে। এহেন পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে যখন রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে প্রকৃত যোগ্যতার মূল্যায়ন উপেক্ষিত হয়, তখন একটি পুরো জাতির সম্ভাবনা ব্যাহত হয় এবং দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।যখন শিক্ষক নিয়োগ হয় তার রাজনৈতিক সংযোগের ভিত্তিতে এবং মেধার মূল্যায়ন উপেক্ষিত হয়, তখন এর প্রভাব শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক শিক্ষাগত অভিজ্ঞতার ওপর গভীরভাবে পড়ে। এই মানসিকতা বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এর মূল্য দিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রমাণ মেলে যখন আমরা দেখি অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করছে, আর আমাদের রাষ্ট্রীয় এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে পড়ছে।উপযুক্ত পরিবেশ ও সহায়তা পেলে বাংলাদেশিরা বিশ্ব পর্যায়ে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, বিদেশে অধ্যয়ন করা বাংলাদেশিরা; যেমন—নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মাইক্রোক্রেডিট এবং সামাজিক ব্যবসার পথিকৃৎ; ড. ফজলুর রহমান খান, উঁচু ভবনের জন্য ‘টিউবুলার ডিজাইনের জনক’, যিনি বিখ্যাত সিয়ার্স টাওয়ার ডিজাইন করেছিলেন এবং যাঁকে প্রায়ই ‘স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইন’ এবং ‘বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার’ বলা হয়; ড. মোহাম্মদ আতাউল করিম, একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী; ইন্টেলের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক; সোনো আর্সেনিক ফিল্টারের উদ্ভাবক ড. আবুল হুসাম এবং টেভোজেন বায়োর সিইও ড. রায়ান সাদি বিশ্বব্যাপী যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের এই অসামান্য সাফল্য আমাদের গর্বিত করে, যা আমাদের জাতির অসীম সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। এ ছাড়া শিক্ষা, প্রকৌশল, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আইটি, এমনকি ব্যবসাক্ষেত্রেও অসংখ্য বাংলাদেশি রয়েছেন, যাঁরা প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশের স্থানীয় রাজনীতিতেও আমরা অনেক বাংলাদেশিকে দেখি তাঁদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। এটিই মেধার বিকাশ। সঠিক পরিবেশই তাঁদের এই অগ্রগতিতে সহায়তা করেছে।অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের অসামান্য ও প্রশংসনীয় ভূমিকা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনীতিতে বিভাজন, সংঘাত, রাজনৈতিক নেতাদের আড়ালে চাঁদাবাজি, র্যাগিং, বুলিং, সহিংসতা, অসাধু ভর্তি বাণিজ্য এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয় সৃষ্টির মতো নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট। বর্তমান ছাত্ররাজনীতির ভয়াবহ থাবা শিক্ষার মূল লক্ষ্য—শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবন থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে।জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নেই বললেই চলে, যা তাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই দেশগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের শক্তিকে একাডেমিক উত্কর্ষ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে ধাবিত করেছে রাজনৈতিক জটিলতায় জড়িয়ে না ফেলে। জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার গুণমানকে অগ্রাধিকার দেয়, জার্মানির ছাত্রসংগঠনগুলো মূলত কল্যাণ ও প্রশাসনিক বিষয়ে কাজ করে। দক্ষিণ কোরিয়া, যা একসময় ছাত্র আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত ছিল, এখন একাডেমিক বিষয়ে মনোনিবেশ করেছে। সিঙ্গাপুরে সরকারের কঠোর নিয়মাবলি শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে ছাত্ররাজনীতিকে দূরে রেখে।এই দেশগুলো তাদের ছাত্রদের গঠনমূলক বিকাশ এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য কাজে লাগিয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশও এই উদাহরণগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারে। যদি আমরা সত্যি আমাদের দেশের উন্নতি চাই, তবে আমাদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিরুৎসাহ করে মেধা এবং একাডেমিক উত্কর্ষের ওপর জোর দিতে হবে। বাংলাদেশ তার শিক্ষার্থীদের সেই নেতৃত্বের দিকে ধাবিত করতে পারে, যা শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং জাতি গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখবে, রাজনৈতিক বিভাজনের খেলায় নয়।এখনই সময় বাংলাদেশ এই সফল দেশগুলোর পথ অনুসরণ করে শিক্ষায় মেধার বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ছাত্ররাজনীতির ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা চরমপন্থা মনে হতে পারে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা এবং মেধাতন্ত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার এক জরুরি আহ্বান জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে অনুপ্রাণিত করার মানেই হচ্ছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য পথ প্রশস্ত করা। বর্তমান ছাত্ররাজনীতি চর্চার পরিবর্তে আমি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ছাত্রসংসদ’ নামে পরিচিত স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এসজিএ) কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব করছি। তবে এই সংস্থাগুলো অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক থাকতে হবে। এসজিএগুলো প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারে, এমনকি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেগকে চালিত করতে পারে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, মুক্তচিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলতেও এরা ভূমিকা রাখতে পারে।ছাত্রশক্তিকে একত্র করতে যে ছাত্রদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে না তার প্রমাণ আমরা সম্প্রতি বিশ্বপরিমণ্ডলে পেয়েছি গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হতে দেখেছি একটি অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে তথা মানবতার বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে। আর বাংলাদেশে আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীদের জাগরণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়ে নিশ্চিত করেছে তাদের বিজয়। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির বর্তমান জটিলতা জাতীয় বিভাজন, মেধাতন্ত্রের ক্ষয় এবং শিক্ষার অঙ্গীকারের হ্রাস ঘটিয়েছে। ছাত্ররাজনীতি যেখানে কম প্রভাব রাখে এমন দেশের সঙ্গে এই বাস্তবতার বৈপরীত্য আমাদের জন্য একটি জাগরণী হিসেবে কাজ করা উচিত। এখন সময় এসেছে দেশপ্রেমিক এবং সচেতন মানুষের একত্র কণ্ঠে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার।আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি, যাতে আমরা শিক্ষিত, উদ্ভাবনী এবং ঐক্যবদ্ধ মানুষের একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি, যারা জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আশাভরা হৃদয়ে আমাদের তরুণদের মাঝে নতুন সম্ভাবনার আগুন প্রজ্বালিত করতে হবে, তাদের দ্রুত উত্থিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।লেখক : চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র (www.wust.edu) এবং প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পিপলএনটেক (www.peoplentech.com)

post
বাংলাদেশ

ঢাবিতে বিপ্লবীদের আঁকা গ্রাফিতি পরিদর্শন ড. ইউনূসের

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা বর্ণিল ও বিচিত্র গ্রাফিতি ঘুরে দেখেছেন।এ সময় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের দেয়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের আঁকা সেরা গ্রাফিতি নিয়ে একটি আর্ট বুক প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামের একটি আর্ট বুক প্রকাশ করা হয়।বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তরুণ চিত্রশিল্পীদের আঁকা-লেখায় ঢাকা সারা দুনিয়ার গ্রাফিতি রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পায়। দেয়ালগুলো পরিণত হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বিশাল ক্যানভাসে। সরকারকে নানা শক্তিশালী বার্তা দিতে তাঁরা বিভিন্ন সৃজনশীল ও হৃদয়গ্রাহী স্লোগান ও কবিতা লিখেছেন। এসব বার্তা যেন বিপ্লবের চেতনা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার শিল্পিত প্রতিফলন। ছাত্ররা দেশবাসীর সমর্থন আদায়ে শিল্পকর্মের মাধ্যমে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলকে এই আর্ট বুক উপহার দিয়েছেন। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেন তিনি।এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময়ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের হাতে দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ নামের আর্ট বুকটির কপি তুলে দেন।

post
টেক মেন্টর

মাইক্রোসফটের নামে ই-মেইল পাঠিয়ে যেভাবে প্রতারণা করছে হ্যাকাররা

মাইক্রোসফটের কর্মী বা মাইক্রোসফট অনুমোদিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে ভুয়া ই-মেইল পাঠিয়ে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করছে একদল হ্যাকার। এরই মধ্যে মাইক্রোসফটের ভুয়া পরিচয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ভুয়া ই–মেইল পাঠানোর ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট রিসার্চ। চেক পয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, ভুয়া ই-মেইলে মাইক্রোসফটের প্রাইভেসি নীতিমালাসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয় হুবহু লেখা থাকে। এমনকি মাইক্রোসফটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া থাকে। ফলে অনেকেই ই-মেইলটিকে মাইক্রোসফটের পাঠানো বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু ভুয়া ই-মেইলে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে এক বা একাধিক ভুয়া লগইন পেজ বা ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করতে বলা হয়। লিংকগুলোতে ক্লিক করলেই যন্ত্রে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে পাসওয়ার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে হ্যাকারদের কাছে পাঠাতে থাকে। পরে এসব তথ্য বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ দাবি করে হ্যাকাররা।জানা গেছে, মাইক্রোসফটের নামে পাঠানো ই-মেইলগুলো এমনভাবে লেখা হয়, যা দেখে প্রথমে আসল বলেই মনে হয়৷ কারণ, ভুয়া ই-মেইলগুলো যেসব ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়, সেগুলোর ডোমেইন নেম প্রায় মাইক্রোসফটের ডোমেইন নেমের মতোই। অর্থাৎ মাইক্রোসফটের ডোমেইন নেমের কিছু শব্দ পরিবর্তন করে এসব ডোমেইন নেম তৈরি করা হয়েছে। ফলে ভালোভাবে খেয়াল না করলে যে কেউ এ ধরনের প্রতারণার কবলে পড়তে পারেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.