post
বাংলাদেশ

মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় গুলশানের কেন্দ্রীয় মসজিদে (আজাদ মসজিদ) এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় সাবেক এ অর্থমন্ত্রীর বড় ছেলে সাহেদ মুহিত, ছোট ভাই পরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ডা. এ কে আব্দুল মুবিন জানাজায় অংশ নেন।এছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমানসহ দলীয় নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে।তার ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহটি সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হবে সিলেটে। সেখানে আগামীকাল রবিবার (১ মে) পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে মুহিতের মরদেহ।এদিকে জাতীয় সংসদ ভবন প্লাজায় সাবেক এই মন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ এপ্রিল) সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে কোনও আয়োজন ছিল না।সংসদের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদে তার জানাজা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও নির্দেশনা ছিল না। এ কারণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

post
এনআরবি বিশ্ব

চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে 'ইয়ুথ সেলুন' অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অংশগ্রহণে ‘উন্নয়নের জন্য সংহতি এবং শান্তির দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা’ প্রতিপাদ্যে ১১তম চীন-দক্ষিণ এশিয়া আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ফোরামের ‘ইয়ুথ সেলুন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়ুথ সেলুনে তরুণ প্রতিনিধিরা ‘আঞ্চলিক উন্নয়ন’ এবং ‘জনগণের মধ্যে বন্ধন’ এ দুটি বিষয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ১১তম চীন-দক্ষিণ এশিয়া আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ফোরামের ইয়ুথ সেলুন ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত হয়।ইয়ুথ সেলুনটি চাইনিজ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজ (সিপিএএফএফসি) এবং ইউনান প্রাদেশিক জনগণের সরকারের উদ্যোগে ইউনান প্রভিন্সিয়াল পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজ এবং কুনমিং মিউনিসিপাল পিপলস গভর্নমেন্ট আয়োজন করে।ইয়ুথ সেলুনে বাংলাদেশ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত শিক্ষার্থীরা হলেন, চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মো. সাদ্দাম হোসেন, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মো. তরিকুল ইসলাম।চাইনিজ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ উইথ ফরেন কান্ট্রিজের সভাপতি রাষ্ট্রদূত লিন সোংথিয়ান, চীনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মইন উল হক, ইউনান প্রাদেশিক পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ডেপুটি ডিরেক্টর লুও হংচিয়াং, চীনে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন কে. কে.যোগানদান উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত লিন সোংথিয়ান বলেন, চীন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ভৌগলিকভাবে সংযুক্ত এবং সাংস্কৃতিকভাবে একই রকম। করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় উভয় দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে একে অপরকে সাহায্য করেছে; যৌথভাবে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে। তিনি আশা করেন, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার তরুণরা পরিস্থিতিকে স্পষ্টভাবে চিনবে; "এশিয়া এক পরিবার" ধারণার অনুশীলন করবে; সক্রিয়ভাবে ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার বজায় রাখাসহ একটি শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতামূলক, ঐক্যবদ্ধ এশিয়া এবং বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা করবে।চীনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মইন উল হক তার আলোচনার শুরুতে সম্প্রতি পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত চীনা নাগরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংলাপের প্রচার, আদর্শিক বৈচিত্র্যের প্রচার এবং বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সেতু নির্মাণের জন্য আন্তঃসাংস্কৃতিক আদান-প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। "ইয়ুথ সেলুন" প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক মন্তব্য চীনা-দক্ষিণ এশীয় যুবকদের "এশিয়ান স্পিরিট" গভীরভাবে বুঝতে, ভুল বোঝাবুঝি এবং বাধা দূর করতে, আঞ্চলিক শান্তি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে। 

post
এনআরবি বিশ্ব

অষ্ট্রেলিয়ার ফেডারেল নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি নারী প্রার্থী সাজেদা

অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি সাজেদা আক্তার। আগামী ২১মে অনুষ্ঠেয় ফেডারেল নির্বাচনে ওয়াটসন আসন থেকে প্রথম বাংলাদেশি মহিলা হিসেবে তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন।  বিজ্ঞজনদের মতে, এই নির্বাচনী এলাকায় দলমত নির্বিশেষে সবাই সাজেদা আক্তারকে সমর্থন করলে ইতিহাস সৃষ্টি করে বিজয় আনা সম্ভব। এই নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ ও ক্ষমতায়নের প্রশ্ন।একই সঙ্গে এটি বহুজাতিক উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের নেতৃত্ব গ্রহণের যোগ্যতারও পরিচয় বহন করে।  সাজেদা আক্তার বর্তমানে ক্ষমতাসীন লিবারেল দলের কাউন্সিলর।নির্বাচনী ইশতেহারে সাজেদা আক্তার বলেছেন, বিজয়ী হলে তিনি ওয়াটসন এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং নির্মাণ, রাস্তাগুলোতে নতুন কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করবেন। এ ছাড়া মানসম্মত বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার তৈরির অঙ্গীকার করেন তিনি।নির্বাচনে তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সব বাংলাদেশিদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।ব্যক্তিজীবনে স্বামী সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ জামান টিটু আর দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর ছোট সংসার।  উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন ওয়াটসনের নাম অনুসারে ওয়াটসন নির্বাচনী এলাকার নামকরণ করা হয়। ৪৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নির্বাচনী এলাকায় বহুজাতিক অভিবাসীদের আবাসস্থলে বাংলাদেশিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলা কালচারাল সেন্টার পাচ্ছেন মিশিগানের প্রবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা পেতে যাচ্ছেন একটি কালচারাল সেন্টার। বাংলা সংস্কৃতি চর্চার জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক ড. দেবাশীষ মৃধা ও তার সহধর্মিণী চিনু মৃধা এ সেন্টার গড়ছেন। নাম ‘মৃধা বেঙ্গলি কালচারাল সেন্টার’। এর অবস্থান ওয়ারেন শহরের ৯ মাইলের ২২০২১ মেমফিস এভিনিউয়ে। জানা গেছে, ১১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেন্টারের উদ্বোধন করা হবে। ড. দেবাশীষ মৃধা এ সেন্টার গড়তে প্রায় তিন লাখ ডলার খরচ করেছেন। ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। মৃধা পরিবার জানায়, সেন্টারের জন্য আরও দুই লাখ ডলারের বাজেট রয়েছে।    ড. দেবাশীষ মৃধার বাড়ি বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলায়। তিনি ইউক্রেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক্তারি পাস করে ১৯৯১ সালে আসেন আমেরিকায়। তিনি সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনির্ভাসিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। এছাড়া সাগিনা সিটিতে তার নিজস্ব ক্লিনিক রয়েছে।   মৃধা বেঙ্গলি কালচারাল সেন্টারে থাকছে, বাংলা ভাষা শিক্ষার স্কুল, বাংলা গানের স্কুল, নাচের স্কুল, শেখানো হবে গিটার বাজানো। এ সেন্টারে থাকছে বাংলা সাহিত্য সংসদ। বসবে কবিতা পাঠের আসর। উদযাপন করা হবে জাতীয় দিবসগুলো। আয়োজন করা হবে বাংলা মেলার। সরেজমিনে নির্মাণাধীন সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, সেন্টারের মিলনায়তনটি খুবই চমৎকার। এখানে জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী পালন, সভা-সেমিনারসহ ছোটখাটো অনুষ্ঠান করার বাড়তি সুবিধা রয়েছে। সেন্টারের পাশেই রয়েছে একটি মাঠ এবং পার্ক। ছোট্ট এ মাঠে শিশু-কিশোররা খেলতে পারবে এবং পার্কে বিনোদন পাবে।  এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. দেবাশীষ মৃধা বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্যই এ প্রয়াস। এখানে আমাদের প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। তারা বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখার কোনো মাধ্যম পাচ্ছে না। তাদের নিজ জাতির সংস্কৃতি চর্চায় মনোনিবেশ করার জন্য এ কালচারাল সেন্টার। 

post
ক্যাম্পাস লাইফ

লাইলাতুল কদর ও এ রাতের করণীয়?

পবিত্র কোরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কী জান? কদরের রাত সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তি বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।  স্বাভাবিকভাবেই এ জায়গাটিতে এসে পৃথিবীর যেকোনো বিবেকবান, সজাগ ও সচেতন মানুষ স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়াবে। একটি রাতÑ যে রাতের মূল্য আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর কাছে হাজার মাসের চাইতে উত্তম। অর্থাৎ তিরাশি বছরেরও বেশি সময় থেকে উত্তম। এ রাতটি যদি কোনো ব্যক্তি ইবাদত বন্দেগি ও সৎ কল্যাণ সাধনার ভেতর দিয়ে পালন করতে পারে তাহলে সে ব্যক্তি যেন তিরাশি বছরেরও বেশি সময় সৎ ও কল্যাণ সাধনার ভেতর দিয়ে পার করল। এটা খুব সহজ কথা নয়। আমরা যারা এ মাটির পৃথিবীতে বাস করি আমরা খুব ভালো করে জানি একজন ব্যক্তি একটি মাসও নিশ্চিদ্রভাবে কল্যাণ কর্মের ভেতর দিয়ে পার করতে পারে না। তাকে নানা রকমরে বাঁধা ও প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে পার করতে হয়। নানা রকমের অন্যায়ের ভেতরে পড়তে হয় ইচ্ছায় কী অনিচ্ছায়। কিন্তু একটি রাতে যদি কোনো মানুষ স্বপথে বলিয়ান হয় এবং সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়—রাতটি সে ভালোর ভেতর দিয়ে কাটাবে তাহলে এটা কোনো অস্বাভাকি বিষয় নয়। অথচ আল্লাহ জাল্লা জালালুহু সুযোগ করে দিয়েছেন যদি কেউ এ রাতটি কল্যাণ কামনার ভেতর দিয়ে কাটাতে পারে সে এ কল্যাণের অধিকারী হতে পারে। এক মহা সুযোগ মানুষের জন্য এ রজনীটি।অপরদিকে এ রাতে অজ¯্র ধারায় আল্লাহর খাস রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করতে থাকে। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হযরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাযরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।  হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে দ-ায়মান হয়, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।  একজন সচেতন, একজন পরকাল বিশ^াসী এবং নিজের জীবনের সফলতার স্বপথে বলিয়ান মানুষের জন্য এ যে কত বড় কল্যাণের বার্তা ও নিমন্ত্রণ তা আমরা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করে কুলিয়ে উঠতে পারব না। কবে এ রজনী?যে রাতটি লাইলাতুল কদর হবে, সেটি বোঝার কিছু আলামত হাদীসে বর্ণিত আছে। সেগুলো হলো—  ১. এ রাতটি রমযান মাসে নিহিত।  ২. এ রাতটি রমযানের শেষ দশকে রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্থ : রমযানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ করো। ৩. এটি রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্থ : তোমরা রমযানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ করো।  ৪. এ রাত রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ৫. রমযানের ২৭ রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উবাই ইবনে কাব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে রজনীকে ‘কদরের রাত’ হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো রমযানের ২৭ তম রাত।  ৬. কদরের রাত হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনার দিক থেকে পরবর্তী দ্বিতীয় সম্ভাবনা ২৫ তারিখ, তৃতীয় ২৯, চতুর্থ ২১ এবং পঞ্চম হলো ২৩ তারিখের রজনী।  ৭. সর্বশেষ আরেকটি মত হলো, মহিমান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল। অর্থাৎ প্রতিবছর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয় না এবং শুধু ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়। আল্লাহর হেকমত ও তাঁর ইচ্ছায় কোনো বছর তা ২৫ তারিখে, কোনো বছর ২৩ তারিখে, কোনো বছর ২১ তারিখে, আবার কোনো বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে।  ৮. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না এবং নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।  ৯. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে এবং সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে। ১০. কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন। ১১. ওই রাতে বৃষ্টি হতে পারে। ১২. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয় কেন?শব ফারসি শব্দ, এর অর্থ রাত। আর কদর অর্থ নিবারণ করা বা মর্যাদা। পবিত্র কোরআনে রাতটিকে নাম দেওয়া হয়েছে লাইলাতুল কদর। আরবী লাইলাতুন অর্থ রাত। তাহলে শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের অর্থ দাঁড়ায় নিবারণের রাত বা মর্যাদার রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের আগামী এক বছরের ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করেন, সে জন্য অথবা যেসব ব্যক্তি নিজেদের গুনাহর কারণে মূল্যহীন ছিল, তারা এ রাতের ইবাদত-বন্দেগি আর তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে উঁচু মার্যাদার অধিকারী হন বলেই এ রাতের নামকরণ করা হয়েছে ‘শবে কদর’ বা ‘লাইলাতুল কদর’। এ রাতের ফজিলতআল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থ : রমযান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে আল-কোরআন, যা মানব জাতির জন্য হেদায়াত ও সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী।  মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হওয়ার কারণে অন্যসব মাস ও দিনের চেয়ে রমযান মাস বেশি ফজিলতময় হয়েছে। আর রমযানের রাতগুলোর মধ্যে কোরআন নাজিলের রাত—লাইলাতুল কদর সবচেয়ে তাৎপর্যম-িত একটি রাত। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থ : আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জান কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।  এ আয়াতের ব্যাখায় মুফাসসিরকুল শিরোমণি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, ‘এ রাতের ইবাদত অন্য হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’। তাবেঈ মুজাহিদ (রাযি.) বলেন, এর ভাবার্থ হলো, ‘এ রাতের ইবাদত, তেলাওয়াত, কিয়াম ও অন্যান্য আমল লাইলাতুল কদর ছাড়া হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম।’ মুফাসসিররা এমনই ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। সূরা কদরের শানে নুজুল সম্পর্কে ইবনে কাসির (রাযি.) বলেন, আলী ইবনে উরওয়া (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনি ইসরাঈলের চারজন আবেদ সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা আশি বছর ধরে অনবরত আল্লাহর ইবাদত করছিল। এর মধ্যে মুহূর্ত সময়ের জন্যও ইবাদত থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হননি। বিখ্যাত এ চারজন আবেদ হলো আল্লাহর নবী জাকারিয়া (আ.), আইউব (আ.), হাজকিল ইবনে আ’জূজ (আ.) এবং ইউশা ইবনে নূহ (আ.)। এমনটি শুনে সাহাবীরা (রাযি.) রীতিমতো অবাক হলেন। এ সময় জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতরা এ কথা শুনে অবাক হচ্ছে? তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন। এরপর সূরা কদর পাঠ করা হয়। কদরের রাতের খোঁজে...একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনি ইসরাঈলের একজন মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি এক হাজার বছর দীর্ঘ হায়াত পেয়েছিলেন। দীর্ঘ এ আয়ুষ্কাল তিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে রত ছিলেন। একবারের জন্যও অস্ত্র সংবরণ করেননি। সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) ঘটনা শুনে বিস্মিত হলেন এবং আফসোস করতে লাগলেন যে, বনি ইসরাঈল সুদীর্ঘ হায়াত পাওয়ার কারণে অনেক বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতে পেরেছে। অনেক সওয়াব অর্জন করতে পেরেছে। আমাদেরও যদি তাদের মতো দীর্ঘ হায়াত দেওয়া হত, তাহলে আমরা তাদের মতো অনেক ইবাদত করতে পারতাম, অনেক বেশি পুণ্য লাভ করতে পারতাম। এ সময় মহান আল্লাহ সূরা কদর নাজিল করেন এবং বুঝিয়ে দেন যে, যদিও উম্মতে মুহাম্মদিকে হায়াত কম দেওয়া হয়েছে, তথাপি তাদের সওয়াব হাসিলের ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এত বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। উম্মতে মুহাম্মদি যদি শুধু একটি রাত (লাইলাতুল কদর) ইবাদত করে, অর্থ : তাহলে তারা এক হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। হযরত আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,অর্থ : তোমরা রমযান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’  তবে রমযান মাসের ২৭তম রাতটি শবে কদর হিসেবে বিশেষভাবে সমগ্র মুসলিম সমাজে পালিত হয়। আর ব্যাপক প্রসিদ্ধ এ মতটিও হাদীস দ্বারা সমর্থিত। কদরের রাত ইবাদতের রাত। তবে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতের জন্য রাতটি নির্ধারিত নয়। যে কোনো ইবাদতই এ রাতে করা যেতে পারে। নফল নামায, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ইস্তেগফারসহ যেকোনো ইবাদতই করা যেতে পারে। সালাতুত তাসবিহ শবে কদরের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট না হলেও যেহেতু এ নামায আদায়ে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়, আর লাইলাতুল কদরে সারা রাতই অধিকাংশ মুসলমান জেগে থাকেন, তাই কদরের রাতে সালাতুত্ তাসবিহ আদায় করা যেতে পারে।  এ রাতটি কীভাবে কাটাতে হবে? এ মহা সৌভাগ্যের রাতটি কীভাবে কাটাতে হবে, কীভাবে পাব, কীভাবে সেটাকে আমরা অধিকার করব তার পথ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এঁকে দেখিয়েছেন। তিনি রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইতেকাফ করেছেন। ইতেকাফ করে তিনি উম্মতকে শিখিয়েছেন কীভাবে সহজে নিশ্চিন্তে লাইলাতুল কদর অর্জন করতে হয়। তুমি যদি লাইলাতুল কদরকে দখল করতে চাও, অধিকার করতে চাও, তার সমূহ কল্যাণ তোমার জীবনে তুলে আনতে চাও তাহলে সহজ পথ হচ্ছে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্যে তুমি মসজিদে এসে ইতেকাফ করো। এর ভেতর দিয়ে তিরাশি বছর একাধারে ইবাদত করলে যে পুণ্য অর্জিত হবে এক রাতের ভেতর দিয়েই তা অর্জিত হবে।যদি বিষয়টি সহজভাবে দেখি, একজন মানুষ তার জীবনের ষাট বা সত্তর বছর কাটিয়েছে। কিন্তু সে এ ষাট বা সত্তর বছরে সতর্ক সাধনার ভেতর দিয়ে পেয়েছে মাত্র দু’টো কদর। যদি আমরা সহজ অঙ্কেও চিন্তা করি তাহলে সে এ দু’টো ইতেকাফের মাঝ দিয়ে একশ সত্তর বছরের কাছাকাছি সময় একাধারে নিñিদ্র ইবাদতের ভেতর দিয়ে কাটিয়ে দিলো। এটা কোনো সহজ কিংবা স্বাভাবিক কোনো কথা নয়। আল্লাহ তাআলা বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করার তাওফিক দিন। আরও পড়ুন: যাকাত না দেওয়ার পরিণাম ও শাস্তি

post
এনআরবি বিশ্ব

আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাস আল খাইমাহতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেনে। সোমবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে রাস আল খাইমাহ-র মাসাফি সড়কে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম (৪৯) ও রতন মিয়া (৫০)।জাহাঙ্গীর চট্টগ্রাম জেলার বোয়াল খালি থানার ফুলতলা ইউনিয়নের গোমদন্ডি গ্রামের বহদ্দার পাড়ার আব্দুল মোতালেবের ছেলে। রতন মিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিনিহত জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই মোরশেদ আলম জানান, রাস আল খাইমাহ থেকে মাসাফি মিউনিসিপালিটি অফিসে যাওয়ার পথে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা অপর একটি মালবাহী গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয় জাহাঙ্গীরের গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির অপর আরোহী রাস আল খাইমাহ মিউনিসিপালিটির বিদ্যুৎ মিস্ত্রী রতন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে শেখ খালিফা হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। জাহাঙ্গীর রাস আল খাইমাহ মিউনিসিপ্যালিটির একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ফোরম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি আরব আমিরাতে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং চার মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। জাহাঙ্গীরের লাশ শেখ সাকর হাসপাতালে এবং রতন মিয়ার লাশ শেখ খালিফা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুবাই কন্স্যুলেটে ফোন করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

post
এনআরবি বিশ্ব

কানাডার অন্টারিও নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩ প্রার্থী

আগামী ২ জুন কানাডার অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো প্রদেশে এখন ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিভিন্ন কারণে প্রদেশের বাসিন্দাদের জন্য এবারের নির্বাচনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এর আলাদা একটি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। কারণ এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ডলি বেগম। এর আগেও তিনি ২০১৮ সালে এনডিপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং-এ এবারও তিনি প্রার্থী। ডলি বেগমের বাইরে আরও দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী এবার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে ইটোবিকো-লেকশোর থেকে প্রার্থী হয়েছেন এনডিপি প্রার্থী ফারহিন আলিম এবংর ওকভিল নর্থ বারলিংটন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কানিজ মৌলি। বিজয়ী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এনডিপি প্রার্থী ডলি বেগম বলেন, গত চার বছর তিনি অন্টারিয়ানদের বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদে সোচ্চার থেকেছেন। অভিবাসীদের সমস্যা নিয়ে সরব থেকেছেন। তার চার বছরের কাজের মূল্যায়নে ভোটাররা এবারো তাকে বিজয়ী করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ডলি বেগম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা মূলত অভিবাসী। নিজে একজন অভিবাসী পরিবারের সদস্য হিসেবে তার সমস্যা, তাদের চাওয়া আমি সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারি। ওকভিল নর্থ বারলিংটন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী কানিজ মৌলি বলেন, অন্টারিওর মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য সবচেয়ে প্রগতিশীল এবং অগ্রসর ভাবনার কর্মসূচি নিয়ে অন্টারিও লিবারেল পার্টি এবার নির্বাচন করছে। তিনি আশা করছেন, তাদের কর্মসূচির কারণেই জনগণ তাদের এবার ভোট দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সক্রিয় রাজনীতি করা কানিজ মৌলি বলেন, রাজনীতি এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ইটোবিকো-লেকশোর থেকে এনডিপি প্রার্থী ফারহিন আলিম বলেন, আমি একজন হাই স্কুল শিক্ষক, পেশাদার রাজনীতিক নই। কিন্তু কোভিড মহামারিতে আমার ছাত্রছাত্রীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা দেখে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। নিজের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ফারহিন আলিম বলেন, অভিবাসী, মধ্যবিত্ত নাগরিকদের সমস্যা নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রার্থিতা নিয়ে কানাডার নতুন দেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজনের মনোনয়ন পাওয়ায় প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক এবং সম্মানের বিষয়। তিনি কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের আরও বেশি অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু প্রার্থী নয়, ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি বিজয়ী প্রবাসীদের কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে দেখতে চাই, যাতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে একটি সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত হলো কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে। সোমবার দিবসটি পালন করা হয়।  ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তোলা হয়। তৎকালীন উপহাইকমিশনার হোসেন আলী দূতাবাসে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তুলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। সেই দিনটিকে স্মরণ করে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস’ পালিত হলো। সোমবার সকালে এই উপহাইকমিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তোলেন বর্তমান উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। এ সময় পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এর আগে উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে দূতাবাসের চারদিক প্রদক্ষিণ করেন। পতাকার চার কোনা ধরেন উপহাইকমিশনের চার কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মো. বসিরউদ্দিন, কাউন্সিলর রিয়াজুল ইসলাম (শিক্ষা ও ক্রীড়া), প্রথম সচিব (বাণিজ্য) মোহাম্মদ শামসুল আরিফ ও প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন। মধ্যে ছিলেন উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সারি শামীমা ইয়াসমীন স্মৃতিসহ দূতাবাসের অন্য কর্মীরা। উপহাইকমিশনের চারপাশ প্রদক্ষিণ শেষে নিয়ম মেনে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দূতাবাসের উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। পতাকা উত্তোলনের পর উপহাইকমিশনার বলেন, ‘সেদিন এই দূতাবাসই প্রথম পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।আজ ছিল সেই ঐতিহাসিক দিনটি। আমরা ওই দিনের স্মরণে আজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পেরে গর্বিত।’ একাত্তর সালে যে মিশনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল আজ সেই মিশনেই পতাকা তুলতে পেরে গর্ববোধ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরনের আওয়াজও পাওয়া গেছে।সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের গেটে এবং ব্যবসায়ীরা চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছে।এর আগে রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকেই সায়েন্সল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর ও মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।সোমবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।তবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ- এমন অভিযোগ করে কলেজের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা হলের ছাদে ও তেলের পাম্প এলাকায় অবস্থান নেন। ফলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।তবে রাত ৩টার পরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীদেরও কোথাও জড়ো হতে দেখা যায়নি। এতে পুরো এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই এলাকার সব সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

জমে উঠেছে প্রবাসীদের ঈদের কেনাকাটা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কানাডার ক্যালগেরির ফলকনরিজ কমিউনিটি সেন্টারে মেগা ঈদ মেলায় জমে উঠেছে প্রবাসীদের ঈদের কেনাকাটা। মেলায় আছে রঙ-বেরঙের বাহারী শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের পোশাকের স্টল, জুয়েলারি সরঞ্জাম, মেহেদীসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন ধরণের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্টল। এছাড়াও মেলায় ইফতারির সুব্যবস্থাও রয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কালেকশন নিয়ে হাজির হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের প্রচুর শাড়ি কাপড় ও সালোয়ার কামিজ এর পাশাপাশি ছেলেদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। দীর্ঘ দুই বছর পর নতুন করে মেলা শুরু হওয়ায় কমিউনিটির অনেকেই কুশল বিনিময় করছেন একে অপরের সাথে। অনেক স্টলেই ক্রেতাদের জন্য উপহারের পাশাপাশি ডিসকাউন্টেরও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। মেগা ঈদ মেলার আয়োজক ইকবাল রহমান জানান, মেগা ঈদ মেলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবাই যেন এই মেলা থেকে তাদের পছন্দের পোশাক ও বিশেষ করে নারীরা তাদের পোশাকসহ সাজসজ্জার সবকিছুই কিনতে পারে। বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের তৈরি পোশাক ও মেলায় স্থান পেয়েছে। করোনাকালীন গত দুই বছরে অনেকেই কেনাকাটা থেকে ছিল বঞ্চিত। এ বছর তা হচ্ছে না। মেলায় অনেকেই এসে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা করেছে। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.