post
এনআরবি বিশ্ব

বিদেশ পাঠিয়ে দু'বছরেও খোঁজ মিলেনি মিরাজুলের, ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা

গত দুই বছরেও সন্ধান মেলেনি মালয়েশিয়া প্রবাসী মিরাজুল মন্ডলের। ছেলেকে ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিচ্ছেন তার বাবা-মা। কিন্তু এখনো জানতে পারেননি ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ মিরাজুল কেমন আছেন। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ তার মা।মিরাজুল পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চৌকিবাড়ী গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৫৪৯) মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।দেশটিতে পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার ‘ইয়াংসিং ইন্ডাস্ট্রিজ-ইপু এসডিএন. বিএইচডি’ কোম্পানিতে সাধারণ কর্মী হিসেবে যোগ দেন মিরাজুল।এরপর প্রথম দিকে তিনি নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাতেন ও বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজনের খোঁজ নিতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই বছর কেটে গেলেও আর খোঁজ মেলেনি মিরাজুলের। পরিবার বা আত্মীয় কেউই জানে না তিনি এখন কেমন আছেন। বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।মিরাজুলের বাবা দুলাল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, মালয়েশিয়া যাওয়ার পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাসহ টাকা পাঠাতো সে। তবে মাঝেমধ্যে ফোনে আমাকে বলতো তার রুমমেট পাবনার মিলন, কুমিল্লার ফরহাদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সজিব নামে তিনজন তাকে নির্যাতন করে। তার টাকা কেড়ে নেয়। এমনকি তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি আমার সঙ্গে শেষ কথা হয় মিরাজুলের। এরপর আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সন্ধান পাইনি।এদিকে মিরাজুলের মা একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে ঢাকার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অনেকেই আশা করছেন, ছেলেকে ফিরে পেলে হয়তো আবারও সুস্থ হতে পারেন তিনি।মিরাজুলের বাবা জানান, ছেলের সন্ধান চেয়ে বাংলাদেশে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং থানায় লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো সহায়তা পাননি। এছাড়া রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল থেকেও কিছু বলা হয়নি।এদিকে মিরাজুলকে খুঁজে পেতে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত হোসেন আলাল।মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা পেতে নেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ। খুব শিগগির মিরাজুলের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশের উন্নয়ন-প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা করেছে কানেক্ট বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার’ স্লোগান নিয়ে আলোচনা সভা করেছে কানেক্ট বাংলাদেশ। সম্প্রতি অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কানেক্ট বাংলাদেশের সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, গত ৬ বছরের কানেক্ট বাংলাদেশের কার্যক্রমের মূল্যায়ন, শ্রমিক দিবস স্মরণে কানেক্ট বাংলাদেশের দাবি সমূহের যৌক্তিকতা, প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ। এসব বিষয়ের ওপর বিষদ আলোচনা করেন উপস্থিত বক্তারা। এসময় আলোচকরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, গত ৬ বছরের ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ এর কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ ইত্যাদি। বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষের শুরু হওয়ার পটভূমি ও বাঙালি জীবনে এর গুরুত্ব এবং বাংলা নববর্ষ আজ আমাদের সামাজিক ও জাতীয় জীবনে একটি উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা পৃথিবীতে বসবাসরত সমগ্র বাঙালি সমাজ খুব আনন্দের সাথে দিবসটি উদযাপন করে যাচ্ছে। তারা বলেন, ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’এর প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও গত ৬ বছরের কার্যক্রম বর্ণনা তুলে ধরেন। ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ আয়োজিত ৪টি বিশ্ব সম্মেলন ও একটি অনলাইন সম্মেলনের সফলতা তুলে ধরেন। বিশ্বের ২৩টি দেশে সংগঠনের কমবেশি তৎপরতা তুলে ধরেন সভায়। এই বছর থেকে চারটি জাতীয় দিবসে নিয়মিত অনলাইন সভা অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। এছাড়াও করোনা মহামারি সংকটে সংগঠনের সহযোগিতা কার্যক্রম, প্রবাসীদের ওপর নানা অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ, দেশের উন্নয়নে নিয়মিত আলোচনা, বিতর্ক, প্রস্তাবনা, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দলসমূহে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চাসহ সার্বিক তৎপরতার প্রশংসা করেন বক্তারা। নির্দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ সত্যি অনন্য। এসময় প্রবাস জীবনে ঈদের আনন্দ এই বিষয়ে অনেকে নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পৃথিবীর অনেক দেশে সম্মিলিতভাবে ঈদ উদযাপন সম্ভব হচ্ছে। ঈদের জামাতে নামাজ পড়া, পাস্পরিক কৌশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় আজ দেশে দেশে সম্ভব হচ্ছে। প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সম্মিলিতভাবে আনন্দও ভাগাভাগি করে যাচ্ছেন। একই সাথে বিশ্বের অপরাপর জাতির সহিত সৌহাদ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলছেন। মে দিবস স্মরণে আলোচকরা দেশ ও প্রবাসের শ্রমিকদের নানাহ সমস্যা ও অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তারা বলেন, শিশু শ্রম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। নারী শ্রমিকদের ওপর সবধরনের নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে সৌদিসহ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক বিশেষ যত্ন নিতে হবে ও তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি করেন। আই এল ও সনদ স্বীকৃত বিধান মোতাবেক ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, যা কমপক্ষে বিশ হাজার টাকা হতে হবে। কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না। এর বেশি হলে দ্বিগুণ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। বেতনের এক-তৃতীয়াংশ আবাসন ভাতা চালু করতে হবে। দেশব্যাপী সর্বজনীন চিকিৎসা সুবিধা চালু করা। শ্রমজীবী, কর্মজীবীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, সর্বজনীন, কর্মমুখী, বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, কর্মজীবীদের সন্তানদের শিক্ষা অবৈতনিক, সর্বোপরি সকল কর্মক্ষেত্রে যৌথ ব্যবস্থাপনা (মালিক প্রতিনিধি, শ্রমজীবী/কর্মজীবীদের প্রতিনিধি, কলাকৌশলীদের প্রতিনিধি চালু এবং পৌর এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারিভাবে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

post
এনআরবি বিশ্ব

এক মাস পেছাল দুবাইয়ে বাংলাদেশ বইমেলা

এক মাস পেছাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ বইমেলা ও বৈশাখী উৎসবের তারিখ। আগামী ২৭ থেকে ২৯ মে এর পরিবর্তে মেলা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ থেকে ২৬ জুন। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বইমেলা ও বৈশাখী উৎসবের সময় পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি অবগত করে দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট।একই বিজ্ঞপ্তিতে বইমেলা ও বৈশাখী উৎসবে স্টল বরাদ্দের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে আবেদন ফরম পূরণের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। আগ্রহীরা আগামী ১৫ জুন বিকাল ৪টা পর্যন্ত ই-মেইলের মাধ্যমে স্টল বরাদ্দের আবেদন করতে পারবেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

নিউইয়র্কের বাংলা বইমেলায় কাদরী পুরস্কারের জন্য বই আহ্বান

প্রতিবারের মতো ৩১তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলায় এবারও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে অভিবাসী লেখকদের প্রকাশিত সেরা বইয়ের জন্য শহীদ কাদরী পুরস্কার ২০২২। এ লক্ষ্যে ১৫ জুন এর মধ্যে বই জমা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আর্থিক মূল্যমান ৫০০ ইউএস ডলার।আগ্রহীরা তাদের বাংলা ভাষায় রচিত ২০২১ সালে প্রকাশিত যেকোনো একটি শিরোনামের বই পাঠাতে পারবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গের বিশিষ্ট লেখকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিচারক সভা সেরা বই নির্বাচন করবেন। শহীদ কাদরী পুরস্কার ২০২২-এ অংশগ্রহণের জন্য লেখককে নিচের শর্তগুলো অনুসরণ করতে হবে:১. লেখককে অবশ্যই বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরের কোনো দেশে অভিবাসী হতে হবে।২. লেখকেরা তাদের বাংলাভাষায় রচিত একটিমাত্র শিরোনামের বই জমা দিয়ে এই পুরস্কার প্রত্যাশী হতে পারবেন। ৩.বইটি অবশ্যই ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হতে হবে। ৪. লেখককে নিজ খরচে তার বইয়ের ৩ কপি নিচের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।৫. অভিবাসী লেখকদের সেরা বই পুরস্কারের জন্য অংশগ্রহণ করতে হলে ১৫ জুনের মধ্যে বইটি পাঠাতে হবে। উল্লেখ্য, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ৩১তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা আয়োজন করছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বাইরে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বইমেলা হিসেবে স্বীকৃত 'নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা'র ৩১তম আসরের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম ফারুক ভুঁইয়া। বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লেখক, শিল্পী, প্রকাশক বরাবরের মতো এ বইমেলায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। বই পাঠানোর ঠিকানা:USA: শহীদ কাদরী পুরস্কার ২০২২, Muktadhra Foundation 37-69, 74th St, 2nd Floor, Jackson Heights, NY 11372Bangladesh: শহীদ কাদরী পুরস্কার ২০২২, Muktadhra Foundation , 44 Arambagh, 2nd Floor, Motijheel, Dhaka 1000, Bangladesh. 

post
এনআরবি সাফল্য

মিশিগানে সম্মাননা পেয়েছেন সাত বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সম্মাননা পেয়েছেন সাত বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট। মিশিগান রাজ্যের ওয়ারেন শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় ওয়ারেন সিটি অব কাউন্সিল তাদেরকে এ সম্মাননা দেয়।    মঙ্গলবার রাতে শহরের ইউক্রেনিয়ান কালচারাল সেন্টারে ওয়ারেন সিটির ২৫তম বার্ষিক সিটি কমিশনের নৈশভোজ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সিটির বিভিন্ন কমিশন ও বোর্ড মেম্বারদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননার সনদপত্র তুলে দেন ওয়ারেন সিটির মেয়র জেমস ফাউন্টস এবং কাউন্সিল চেয়ার গ্রেইন পেট্রিক। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, ওয়ারেন সিটির বোর্ড অব রিভিউ ভাইস চেয়ার ফয়ছল আহমেদ, বোর্ড অব রিভিউ সদস্য আজিজ চৌধুরী, ক্রাইম কমিশন সুমন কবির, বিউটিফিকেশন কমিশন খাজা সাহাব আহমেদ, প্ল্যানিং কমিশন মাহমুদা মৌরী, ক্রাইম কমিশন নিজাম আহমেদ এবং কালচারাল কমিশন সীমা বেগম।

post
এনআরবি বিশ্ব

কানাডার অন্টারিওর নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আহ্বান

অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন কানাডার মূলধারায় বাংলাদেশিদের অবস্থান সুসংহত করতে রাজনীতিতে বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের প্রতিনিধিত্বের বিকল্প নেই। কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় শ্ওগাত আলী সাগর লাইভের আলোচনায় তারা এই আহ্বান জানান। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন সিনিয়র সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম বিশ্লেষক সৈকত রুশদী, প্রোগ্রেসিভ অ্যাকশন ফর কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক ইমামুল হক। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।বক্তারা বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশি কানাডিয়ান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আমাদের উচিত এই যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা। প্রসঙ্গত, আগামী ২ জুন অনুষ্ঠিতব্য অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে এনডিপির মনোনয়নে স্কারবোরো সাউথওয়েষ্ট আসনে ডলি বেগম এবং ইটোবিকো-লেকশোর আসনে ফারহিন আলিম এবং লিবারেল পার্টির মনোনয়নে ওকভিল নর্থ – বারলিংটন থেকে কানিজ মৌলী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ডলি বেগম দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে গণমাধ্যম বিশ্লেষক সৈকত রুশদী মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের বেশি বেশি অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কারবোরোর প্রায় প্রতিটি রাইডিংয়ে শ্রীলঙ্কান কানাডিয়ানদের প্রার্থী আছে। অথচ পুরো প্রভিন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মাত্র তিনজন প্রার্থী। তিনি বলেন, কেবল প্রার্থী হওয়াটাই বড় কথা নয়, নিজেদের যোগ্য করে তুলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে। আর যোগ্য হয়ে ওঠার জন্য প্রস্তুতি দরকার, কাজ করা দরকার। স্কুল, কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করে নিজেদের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য করে তুলতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি কানাডিয়ান প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈকত রুশদী বলেন, যারা অন্য নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন তারাও বাংলাদেশি কানাডিয়ান প্রার্থীদের পক্ষে ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থেই প্রভিন্সিয়াল সংসদে বাংলাদেশি কানাডিয়ান প্রতিনিধি থাকা দরকার বলে তিনি মত দেন।কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট সংগঠক ইমামুল হক ২০১৫ সালে পরিচালিত তাদের সংস্থার একটি সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন সেই সময় মূলধারার রাজনীতির ব্যাপারে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে ডলি বেগম প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের মধ্যে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতি এবং নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কানাডিয়ান তরুণ-তরুণীকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। শওগাত আলী সাগর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি কানাডিয়ান তিন প্রার্থীই যোগ্য এবং দক্ষ। ডলি বেগমের কর্মতৎপরতা কানাডার মূলধারার মিডিয়ায় সবসময়ই দৃশ্যমান ছিল। প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টে তিনি নিজেকে ইমিগ্র্যান্ট’স ভয়েস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

post
বাংলাদেশ

একুশে গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা বিশিষ্ট সাংবাদিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে একাত্তরকে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের প্রেসিডেন্ট সুলতান মাহমুদ শরিফ।১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়ার চৌধুরীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তার বাবা হাজী ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা জহুরা খাতুন। ১৯৫০ সালে গাফফার চৌধুরী পরিপূর্ণভাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ সময়ে তিনি ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মহিউদ্দিন আহমদ ও কাজী আফসার উদ্দিন আহমদ তখন ‍‘দৈনিক ইনসাফ’ পরিচালনা করতেন। ১৯৫১ সালে ‘দৈনিক সংবাদ’ প্রকাশ হলে গাফফার চৌধুরী সেখানে অনুবাদকের কাজ নেন। এরপর তিনি বহু পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। মাসিক সওগাত, দিলরুবা, মেঘনা, ইত্তেফাক, আজাদ, জেহাদ ও পূর্বদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন বরেণ্য এই সাংবাদিক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা পৌঁছান। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলায় লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি কলকাতায় দৈনিক আনন্দবাজার ও যুগান্তর পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক জনপদ বের করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলজিয়ার্সে ৭২ জাতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যান তিনি। দেশে ফেরার পর তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কলকাতা নিয়ে যান। সেখানে সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনে যান। এরপর তার প্রবাসজীবনের ইতিহাস শুরু হয়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশী’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে আছে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’, ‘একজন তাহমিনা’ ও ‘রক্তাক্ত আগস্ট’। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফফার চৌধুরী। ১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পান তিনি। এছাড়া বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ আরও অনেক পদকে ভূষিত হয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর শোকবিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও স্বাধীনতাপদক প্রাপ্ত লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী তাঁর মেধা-কর্ম ও লেখনিতে এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখেছেন, ও বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মননকে ধারণ করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সমর্থন করে জাতির সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত সাপ্তাহিক জয় বাংলা পত্রিকায় বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। পরবর্তীতে তিনি প্রবাসে থেকেও তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাঙালির স্মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।শেখ হাসিনা আরও বলেন, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সঙ্গে আমার বহু স্মৃতি। অনেক পরামর্শ পেয়েছি। একজন বিজ্ঞ ও পুরোধা ব্যক্তিত্বকে হারালাম যিনি তাঁর লেখা ও গবেষণায় আমাদের বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

post
বাংলাদেশ

প্রবাস ফেরত দুই ছেলেকে আনতে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় এক নারীর মৃত্যু

প্রবাস ফেরত দুই ছেলেকে আনতে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় আম্বিয়া খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ৭ যাত্রী। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকাল ৭টার দিকে মহাসড়কের বালুয়াকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আম্বিয়া কুমিল্লার বুড়িচং এলাকার সুলতান আহমেদের স্ত্রী। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সৌদি ফেরত ছেলে দুলাল ও জসিমকে আনতে মাইক্রোবাসে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন মা আম্বিয়াসহ অন্য স্বজনরা। পথে বালুয়াকান্দি এলাকায় যাত্রাবিরতীর জন্য সড়কের পাশে পার্কিং করা হয় মাইক্রোবাসটি। কিছুক্ষণ পর দ্রুত গতির একটি কংক্রিটবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আম্বিয়ার মৃত্যু হয়।আহত হন- গাড়িচালক ইউসুফ আলী (২৭), সুলতান (৬৫), আলী (২৫), ইয়াসমিন (১০), কাউয়ুম (১৯), মুরশেদ (৩৫) ও সবুজ (১৬)। খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার্স সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভবেরচর হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে লন্ডন ও বার্মিংহামে

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত করতে ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সঙ্গে আরো সম্পৃক্ত করতে এ বছর লন্ডনে দুটি এবং বার্মিংহামে একটি নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে।আরো পড়ুন- মালয়েশিয়ায় সফল গবেষকের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি তারিকুল আগামী ২১ আগস্ট ইটনের ডর্নি লেইকে একটি এবং ডকল্যান্ডের রিগেট্টা সেন্টরে আরেকটি নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে দুটি ভিন্ন সংগঠন। এছাড়া আগামী ২৪ জুলাই মধ্য ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এগবাস্টন রিজার্ভরে নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে স্থানীয় নৌকা বাইচ কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি।রাজধানী লন্ডনে ১২তম ন্যাশনাল নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে আয়োজক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ ও তার সহকর্মীরা। এবারের প্রতিযোগিতার জন্য ভেন্যু হিসেবে বাছাই করা হয়েছে বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইটনের কোলঘেষা ডর্নি লেইক। এ লেকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। ভেন্যুর ধারণক্ষমতা প্রায় সাত হাজার বলে জানা গেছে। গত ৭ মে ইটনের ডর্নি লেইকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নৌকা বাইচের পরিবর্তিত তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি এবারের আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন আয়োজক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। পুরো আয়োজনটি ব্রিটেনের রানীর সিংহাসনে আরোহণের প্লাটিনাম জুবিলিকে উৎসর্গ করা হবে। আর একই সঙ্গে এই আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে ব্রিটেন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সুবর্ণজয়ন্তী। তাই এবারের আয়োজনকে নানাভাবে বর্ণাঢ্য করে তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন আয়োজকরা। বাংলাদেশের একসময়ের কোচ ক্রিকেট কিংবদন্তী স্যার গর্ডন গ্রীনিজ, ব্রিটেনের হাউজ অব লর্ডসের সদস্য পলা মঞ্জিলা উদ্দিন এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক আনোয়ার চৌধুরী এবারের নৌকা বাইচ আয়োজনের সম্মানিত অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া এবারের আয়োজনের পেট্রন হিসেবে রয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। তারা নিজ নিজ পরিসরে এবারের প্রতিযোগিতার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে মোট ১৮টি দল নেওয়া হবে। একসঙ্গে ছয়টি করে নৌকা প্রতিযোগিতায় নামবে। চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে পাঁচ হাজার পাউন্ড, সঙ্গে রয়েছে সোনার মেডেল এবং ১৮ ক্যারেটের সোনায় মোড়ানো ট্রফি।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, কোনো প্রবেশ ফি ছাড়াই দর্শকরা এবারের ন্যাশনাল নৌকা বাইচ উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। এদিকে আগামী ২১ আগস্ট তিনটি চ্যারিটি সংগঠনের আয়োজনে লন্ডনের সিটি এয়ারপোর্টের কাছে রিগেট্টা সেন্টারে আরেকটি নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে চ্যারিটি বোট রেইস নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের সিইও রশিদ আলী জানান, গিফট অব নলেজ, সিস্টার্স ফোরাম এবং নিউহ্যাম ইয়ুথ লিংক নামে তিনটি চ্যারিটি সংগঠনের যৌথ সহায়তায় ওই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। নৌকা বাইচের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ বাংলাদেশে আর্তমানবতার সেবায় ব্যয় করা হবে। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিতব্য নৌকা বাইচ মধ্য ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে ৬ষ্ঠ বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠান। আগামী ২৪ জুলাই সেখানকার এগবাস্টন রিজার্ভরে নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে স্থানীয় নৌকা বাইচ কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি। এ উপলক্ষে গত ২১ মার্চ বার্মিংহামের ক্রাউন ব্যাংকুইটিং হলে গালা ডিনারের মাধ্যমে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে আয়োজন কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌকা বাইচের থিম সং প্রকাশ করা হয়। এবারের থিম সংয়ে সুর দিয়েছেন বাংলাদেশের শিল্পী শিখ দিনার এবং নতুন ব্র্যান্ড গ্রুপ চারকোনের লোকমানসহ অতিথি শিল্পীরা। সেহেল আহমেদের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বহুজাতিক সমাজে নৌকা বাইচের গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন কমনওয়েল্থ গেমসের সিইও আয়ান ফিল্ড, রিভাল ট্রাস্টের সিইও রিচার্ড পেরী, ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভের সফিনা জাগত, বশির আহমেদ এমবিই এবং আরো অনেকে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া বার্মিংহামের ওই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে বন্ধ থাকলেও এবার আবার আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। আয়োজক কমিটির চেয়ারপারসন আব্দুল কুদ্দুস রাজু জানান, আবহমান বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তাদের এই আয়োজন। এই অনুষ্ঠানে শুধু নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হবে না, সেখানে থাকবে বাংলাদেশের দেশাত্মবোধক গান। ছোট-ছেলে মেয়েদের জন্য থাকবে বাংলাদেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক খেলাধুলার আয়োজন।

post
এনআরবি সাফল্য

মালয়েশিয়ায় সফল গবেষকের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি তারিকুল

মালয়েশিয়ায় সফল গবেষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম। বুধবার (১৮ মে) ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) এর ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুল ওয়াহাব মোহাম্মদের হাত থেকে স্বীকৃতি সনদ ও অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন তারিকুল ইসলাম। আরো পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার গল্প শোনালেন আবুবকর হানিপএসময় উপস্থিত ছিলেন- রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের ডিরেক্টর প্রফেসর ড. ইসমানিজান ইসমাইল। তারিকুল ইসলাম এ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি গবেষকরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এতে ইউকেএম ও মালয়েশিয়াতেও এর ব্যতিক্রম নয়। তারিকুল একটি গবেষণা গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার অধীনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে নিয়োজিত আছেন। ইউকেএম-এ তার গবেষণাগার পৃথিবীর উন্নত দেশের সমতুল্য ও এই গবেষণাগার ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্ন মেজারমেন্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তিনি এই স্বীকৃতিতে অনেক আনন্দিত। বাংলাদেশি গবেষকদের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।তারিকুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ার (ইউকেএম) ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক ও সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একজন ভিজিটিং প্রফেসর। তিনি অ্যান্টেনা, মেটাম্যাটেরিয়ালস ও মাইক্রোওয়েভ ইমেজিং সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় ৫০০টি গবেষণা জার্নাল নিবন্ধের লেখক ও ২২টি ইনভেন্টরি পেটেন্ট দাখিল করেছেন। এরই মধ্যে অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বেশ কয়েকটি স্বর্ণপদক পেয়েছেন। বহু বছর ধরে ইইকেএমএর-এর শীর্ষ গবেষক হিসেবে রয়েছেন। তিনি প্রায় ৩০ জন পিএইচডি ২০ জন এম এসসি থিসিস তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি ১০টিরও বেশি পোস্টডক্স ও ভিজিটিং গবেষককে পরামর্শ দিয়েছেন।প্রফেসর তারিকুল নটরডেম কলেজ ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি স্তন ও মাথার টিউমারের মতো রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রের জন্য জাপান, সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতারের মতো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক গবেষণা পরিচালনা করছেন। তিনি ন্যানো স্যাটেলাইটের জন্য ছোট অ্যান্টেনা উন্নয়নেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ‘মালয়েশিয়া রিসার্চ অ্যাসেসমেন্ট’ যা ২০০৬ সালে প্রথম চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ায় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতির মাধ্যমে গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষমতায়নের জন্য একটি এজেন্ডা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইউকেএম ২০০৬ সাল থেকে গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষিত ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.