post
ক্যাম্পাস লাইফ

লাইলাতুল কদর ও এ রাতের করণীয়?

পবিত্র কোরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কী জান? কদরের রাত সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তি বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।  স্বাভাবিকভাবেই এ জায়গাটিতে এসে পৃথিবীর যেকোনো বিবেকবান, সজাগ ও সচেতন মানুষ স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়াবে। একটি রাতÑ যে রাতের মূল্য আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর কাছে হাজার মাসের চাইতে উত্তম। অর্থাৎ তিরাশি বছরেরও বেশি সময় থেকে উত্তম। এ রাতটি যদি কোনো ব্যক্তি ইবাদত বন্দেগি ও সৎ কল্যাণ সাধনার ভেতর দিয়ে পালন করতে পারে তাহলে সে ব্যক্তি যেন তিরাশি বছরেরও বেশি সময় সৎ ও কল্যাণ সাধনার ভেতর দিয়ে পার করল। এটা খুব সহজ কথা নয়। আমরা যারা এ মাটির পৃথিবীতে বাস করি আমরা খুব ভালো করে জানি একজন ব্যক্তি একটি মাসও নিশ্চিদ্রভাবে কল্যাণ কর্মের ভেতর দিয়ে পার করতে পারে না। তাকে নানা রকমরে বাঁধা ও প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে পার করতে হয়। নানা রকমের অন্যায়ের ভেতরে পড়তে হয় ইচ্ছায় কী অনিচ্ছায়। কিন্তু একটি রাতে যদি কোনো মানুষ স্বপথে বলিয়ান হয় এবং সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়—রাতটি সে ভালোর ভেতর দিয়ে কাটাবে তাহলে এটা কোনো অস্বাভাকি বিষয় নয়। অথচ আল্লাহ জাল্লা জালালুহু সুযোগ করে দিয়েছেন যদি কেউ এ রাতটি কল্যাণ কামনার ভেতর দিয়ে কাটাতে পারে সে এ কল্যাণের অধিকারী হতে পারে। এক মহা সুযোগ মানুষের জন্য এ রজনীটি।অপরদিকে এ রাতে অজ¯্র ধারায় আল্লাহর খাস রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করতে থাকে। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হযরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাযরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।  হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে দ-ায়মান হয়, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।  একজন সচেতন, একজন পরকাল বিশ^াসী এবং নিজের জীবনের সফলতার স্বপথে বলিয়ান মানুষের জন্য এ যে কত বড় কল্যাণের বার্তা ও নিমন্ত্রণ তা আমরা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করে কুলিয়ে উঠতে পারব না। কবে এ রজনী?যে রাতটি লাইলাতুল কদর হবে, সেটি বোঝার কিছু আলামত হাদীসে বর্ণিত আছে। সেগুলো হলো—  ১. এ রাতটি রমযান মাসে নিহিত।  ২. এ রাতটি রমযানের শেষ দশকে রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্থ : রমযানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ করো। ৩. এটি রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্থ : তোমরা রমযানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ করো।  ৪. এ রাত রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ৫. রমযানের ২৭ রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উবাই ইবনে কাব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে রজনীকে ‘কদরের রাত’ হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো রমযানের ২৭ তম রাত।  ৬. কদরের রাত হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনার দিক থেকে পরবর্তী দ্বিতীয় সম্ভাবনা ২৫ তারিখ, তৃতীয় ২৯, চতুর্থ ২১ এবং পঞ্চম হলো ২৩ তারিখের রজনী।  ৭. সর্বশেষ আরেকটি মত হলো, মহিমান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল। অর্থাৎ প্রতিবছর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয় না এবং শুধু ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়। আল্লাহর হেকমত ও তাঁর ইচ্ছায় কোনো বছর তা ২৫ তারিখে, কোনো বছর ২৩ তারিখে, কোনো বছর ২১ তারিখে, আবার কোনো বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে।  ৮. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না এবং নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।  ৯. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে এবং সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে। ১০. কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন। ১১. ওই রাতে বৃষ্টি হতে পারে। ১২. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয় কেন?শব ফারসি শব্দ, এর অর্থ রাত। আর কদর অর্থ নিবারণ করা বা মর্যাদা। পবিত্র কোরআনে রাতটিকে নাম দেওয়া হয়েছে লাইলাতুল কদর। আরবী লাইলাতুন অর্থ রাত। তাহলে শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের অর্থ দাঁড়ায় নিবারণের রাত বা মর্যাদার রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের আগামী এক বছরের ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করেন, সে জন্য অথবা যেসব ব্যক্তি নিজেদের গুনাহর কারণে মূল্যহীন ছিল, তারা এ রাতের ইবাদত-বন্দেগি আর তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে উঁচু মার্যাদার অধিকারী হন বলেই এ রাতের নামকরণ করা হয়েছে ‘শবে কদর’ বা ‘লাইলাতুল কদর’। এ রাতের ফজিলতআল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থ : রমযান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে আল-কোরআন, যা মানব জাতির জন্য হেদায়াত ও সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী।  মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হওয়ার কারণে অন্যসব মাস ও দিনের চেয়ে রমযান মাস বেশি ফজিলতময় হয়েছে। আর রমযানের রাতগুলোর মধ্যে কোরআন নাজিলের রাত—লাইলাতুল কদর সবচেয়ে তাৎপর্যম-িত একটি রাত। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থ : আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জান কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।  এ আয়াতের ব্যাখায় মুফাসসিরকুল শিরোমণি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, ‘এ রাতের ইবাদত অন্য হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’। তাবেঈ মুজাহিদ (রাযি.) বলেন, এর ভাবার্থ হলো, ‘এ রাতের ইবাদত, তেলাওয়াত, কিয়াম ও অন্যান্য আমল লাইলাতুল কদর ছাড়া হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম।’ মুফাসসিররা এমনই ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। সূরা কদরের শানে নুজুল সম্পর্কে ইবনে কাসির (রাযি.) বলেন, আলী ইবনে উরওয়া (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনি ইসরাঈলের চারজন আবেদ সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা আশি বছর ধরে অনবরত আল্লাহর ইবাদত করছিল। এর মধ্যে মুহূর্ত সময়ের জন্যও ইবাদত থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হননি। বিখ্যাত এ চারজন আবেদ হলো আল্লাহর নবী জাকারিয়া (আ.), আইউব (আ.), হাজকিল ইবনে আ’জূজ (আ.) এবং ইউশা ইবনে নূহ (আ.)। এমনটি শুনে সাহাবীরা (রাযি.) রীতিমতো অবাক হলেন। এ সময় জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতরা এ কথা শুনে অবাক হচ্ছে? তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন। এরপর সূরা কদর পাঠ করা হয়। কদরের রাতের খোঁজে...একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনি ইসরাঈলের একজন মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি এক হাজার বছর দীর্ঘ হায়াত পেয়েছিলেন। দীর্ঘ এ আয়ুষ্কাল তিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে রত ছিলেন। একবারের জন্যও অস্ত্র সংবরণ করেননি। সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) ঘটনা শুনে বিস্মিত হলেন এবং আফসোস করতে লাগলেন যে, বনি ইসরাঈল সুদীর্ঘ হায়াত পাওয়ার কারণে অনেক বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতে পেরেছে। অনেক সওয়াব অর্জন করতে পেরেছে। আমাদেরও যদি তাদের মতো দীর্ঘ হায়াত দেওয়া হত, তাহলে আমরা তাদের মতো অনেক ইবাদত করতে পারতাম, অনেক বেশি পুণ্য লাভ করতে পারতাম। এ সময় মহান আল্লাহ সূরা কদর নাজিল করেন এবং বুঝিয়ে দেন যে, যদিও উম্মতে মুহাম্মদিকে হায়াত কম দেওয়া হয়েছে, তথাপি তাদের সওয়াব হাসিলের ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এত বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। উম্মতে মুহাম্মদি যদি শুধু একটি রাত (লাইলাতুল কদর) ইবাদত করে, অর্থ : তাহলে তারা এক হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। হযরত আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,অর্থ : তোমরা রমযান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’  তবে রমযান মাসের ২৭তম রাতটি শবে কদর হিসেবে বিশেষভাবে সমগ্র মুসলিম সমাজে পালিত হয়। আর ব্যাপক প্রসিদ্ধ এ মতটিও হাদীস দ্বারা সমর্থিত। কদরের রাত ইবাদতের রাত। তবে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতের জন্য রাতটি নির্ধারিত নয়। যে কোনো ইবাদতই এ রাতে করা যেতে পারে। নফল নামায, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ইস্তেগফারসহ যেকোনো ইবাদতই করা যেতে পারে। সালাতুত তাসবিহ শবে কদরের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট না হলেও যেহেতু এ নামায আদায়ে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়, আর লাইলাতুল কদরে সারা রাতই অধিকাংশ মুসলমান জেগে থাকেন, তাই কদরের রাতে সালাতুত্ তাসবিহ আদায় করা যেতে পারে।  এ রাতটি কীভাবে কাটাতে হবে? এ মহা সৌভাগ্যের রাতটি কীভাবে কাটাতে হবে, কীভাবে পাব, কীভাবে সেটাকে আমরা অধিকার করব তার পথ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এঁকে দেখিয়েছেন। তিনি রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইতেকাফ করেছেন। ইতেকাফ করে তিনি উম্মতকে শিখিয়েছেন কীভাবে সহজে নিশ্চিন্তে লাইলাতুল কদর অর্জন করতে হয়। তুমি যদি লাইলাতুল কদরকে দখল করতে চাও, অধিকার করতে চাও, তার সমূহ কল্যাণ তোমার জীবনে তুলে আনতে চাও তাহলে সহজ পথ হচ্ছে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্যে তুমি মসজিদে এসে ইতেকাফ করো। এর ভেতর দিয়ে তিরাশি বছর একাধারে ইবাদত করলে যে পুণ্য অর্জিত হবে এক রাতের ভেতর দিয়েই তা অর্জিত হবে।যদি বিষয়টি সহজভাবে দেখি, একজন মানুষ তার জীবনের ষাট বা সত্তর বছর কাটিয়েছে। কিন্তু সে এ ষাট বা সত্তর বছরে সতর্ক সাধনার ভেতর দিয়ে পেয়েছে মাত্র দু’টো কদর। যদি আমরা সহজ অঙ্কেও চিন্তা করি তাহলে সে এ দু’টো ইতেকাফের মাঝ দিয়ে একশ সত্তর বছরের কাছাকাছি সময় একাধারে নিñিদ্র ইবাদতের ভেতর দিয়ে কাটিয়ে দিলো। এটা কোনো সহজ কিংবা স্বাভাবিক কোনো কথা নয়। আল্লাহ তাআলা বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করার তাওফিক দিন। আরও পড়ুন: যাকাত না দেওয়ার পরিণাম ও শাস্তি

post
এনআরবি বিশ্ব

আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাস আল খাইমাহতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেনে। সোমবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে রাস আল খাইমাহ-র মাসাফি সড়কে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম (৪৯) ও রতন মিয়া (৫০)।জাহাঙ্গীর চট্টগ্রাম জেলার বোয়াল খালি থানার ফুলতলা ইউনিয়নের গোমদন্ডি গ্রামের বহদ্দার পাড়ার আব্দুল মোতালেবের ছেলে। রতন মিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিনিহত জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই মোরশেদ আলম জানান, রাস আল খাইমাহ থেকে মাসাফি মিউনিসিপালিটি অফিসে যাওয়ার পথে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা অপর একটি মালবাহী গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয় জাহাঙ্গীরের গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির অপর আরোহী রাস আল খাইমাহ মিউনিসিপালিটির বিদ্যুৎ মিস্ত্রী রতন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে শেখ খালিফা হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। জাহাঙ্গীর রাস আল খাইমাহ মিউনিসিপ্যালিটির একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ফোরম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি আরব আমিরাতে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং চার মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। জাহাঙ্গীরের লাশ শেখ সাকর হাসপাতালে এবং রতন মিয়ার লাশ শেখ খালিফা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুবাই কন্স্যুলেটে ফোন করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

post
এনআরবি বিশ্ব

কানাডার অন্টারিও নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩ প্রার্থী

আগামী ২ জুন কানাডার অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো প্রদেশে এখন ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিভিন্ন কারণে প্রদেশের বাসিন্দাদের জন্য এবারের নির্বাচনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এর আলাদা একটি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। কারণ এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ডলি বেগম। এর আগেও তিনি ২০১৮ সালে এনডিপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং-এ এবারও তিনি প্রার্থী। ডলি বেগমের বাইরে আরও দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী এবার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে ইটোবিকো-লেকশোর থেকে প্রার্থী হয়েছেন এনডিপি প্রার্থী ফারহিন আলিম এবংর ওকভিল নর্থ বারলিংটন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কানিজ মৌলি। বিজয়ী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এনডিপি প্রার্থী ডলি বেগম বলেন, গত চার বছর তিনি অন্টারিয়ানদের বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদে সোচ্চার থেকেছেন। অভিবাসীদের সমস্যা নিয়ে সরব থেকেছেন। তার চার বছরের কাজের মূল্যায়নে ভোটাররা এবারো তাকে বিজয়ী করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ডলি বেগম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা মূলত অভিবাসী। নিজে একজন অভিবাসী পরিবারের সদস্য হিসেবে তার সমস্যা, তাদের চাওয়া আমি সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারি। ওকভিল নর্থ বারলিংটন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী কানিজ মৌলি বলেন, অন্টারিওর মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য সবচেয়ে প্রগতিশীল এবং অগ্রসর ভাবনার কর্মসূচি নিয়ে অন্টারিও লিবারেল পার্টি এবার নির্বাচন করছে। তিনি আশা করছেন, তাদের কর্মসূচির কারণেই জনগণ তাদের এবার ভোট দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সক্রিয় রাজনীতি করা কানিজ মৌলি বলেন, রাজনীতি এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ইটোবিকো-লেকশোর থেকে এনডিপি প্রার্থী ফারহিন আলিম বলেন, আমি একজন হাই স্কুল শিক্ষক, পেশাদার রাজনীতিক নই। কিন্তু কোভিড মহামারিতে আমার ছাত্রছাত্রীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা দেখে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। নিজের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ফারহিন আলিম বলেন, অভিবাসী, মধ্যবিত্ত নাগরিকদের সমস্যা নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রার্থিতা নিয়ে কানাডার নতুন দেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজনের মনোনয়ন পাওয়ায় প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক এবং সম্মানের বিষয়। তিনি কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের আরও বেশি অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু প্রার্থী নয়, ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি বিজয়ী প্রবাসীদের কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে দেখতে চাই, যাতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে একটি সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত হলো কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে। সোমবার দিবসটি পালন করা হয়।  ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তোলা হয়। তৎকালীন উপহাইকমিশনার হোসেন আলী দূতাবাসে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তুলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। সেই দিনটিকে স্মরণ করে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস’ পালিত হলো। সোমবার সকালে এই উপহাইকমিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তোলেন বর্তমান উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। এ সময় পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এর আগে উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে দূতাবাসের চারদিক প্রদক্ষিণ করেন। পতাকার চার কোনা ধরেন উপহাইকমিশনের চার কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মো. বসিরউদ্দিন, কাউন্সিলর রিয়াজুল ইসলাম (শিক্ষা ও ক্রীড়া), প্রথম সচিব (বাণিজ্য) মোহাম্মদ শামসুল আরিফ ও প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন। মধ্যে ছিলেন উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সারি শামীমা ইয়াসমীন স্মৃতিসহ দূতাবাসের অন্য কর্মীরা। উপহাইকমিশনের চারপাশ প্রদক্ষিণ শেষে নিয়ম মেনে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দূতাবাসের উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। পতাকা উত্তোলনের পর উপহাইকমিশনার বলেন, ‘সেদিন এই দূতাবাসই প্রথম পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।আজ ছিল সেই ঐতিহাসিক দিনটি। আমরা ওই দিনের স্মরণে আজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পেরে গর্বিত।’ একাত্তর সালে যে মিশনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল আজ সেই মিশনেই পতাকা তুলতে পেরে গর্ববোধ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরনের আওয়াজও পাওয়া গেছে।সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের গেটে এবং ব্যবসায়ীরা চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছে।এর আগে রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকেই সায়েন্সল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সায়েন্সল্যাব, আজিমপুর ও মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।সোমবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।তবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ- এমন অভিযোগ করে কলেজের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা হলের ছাদে ও তেলের পাম্প এলাকায় অবস্থান নেন। ফলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।তবে রাত ৩টার পরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীদেরও কোথাও জড়ো হতে দেখা যায়নি। এতে পুরো এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই এলাকার সব সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

জমে উঠেছে প্রবাসীদের ঈদের কেনাকাটা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কানাডার ক্যালগেরির ফলকনরিজ কমিউনিটি সেন্টারে মেগা ঈদ মেলায় জমে উঠেছে প্রবাসীদের ঈদের কেনাকাটা। মেলায় আছে রঙ-বেরঙের বাহারী শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের পোশাকের স্টল, জুয়েলারি সরঞ্জাম, মেহেদীসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন ধরণের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্টল। এছাড়াও মেলায় ইফতারির সুব্যবস্থাও রয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কালেকশন নিয়ে হাজির হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের প্রচুর শাড়ি কাপড় ও সালোয়ার কামিজ এর পাশাপাশি ছেলেদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। দীর্ঘ দুই বছর পর নতুন করে মেলা শুরু হওয়ায় কমিউনিটির অনেকেই কুশল বিনিময় করছেন একে অপরের সাথে। অনেক স্টলেই ক্রেতাদের জন্য উপহারের পাশাপাশি ডিসকাউন্টেরও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। মেগা ঈদ মেলার আয়োজক ইকবাল রহমান জানান, মেগা ঈদ মেলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবাই যেন এই মেলা থেকে তাদের পছন্দের পোশাক ও বিশেষ করে নারীরা তাদের পোশাকসহ সাজসজ্জার সবকিছুই কিনতে পারে। বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের তৈরি পোশাক ও মেলায় স্থান পেয়েছে। করোনাকালীন গত দুই বছরে অনেকেই কেনাকাটা থেকে ছিল বঞ্চিত। এ বছর তা হচ্ছে না। মেলায় অনেকেই এসে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা করেছে। 

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুবীর চৌধুরী

প্রকৌশল ব্যবস্থাপনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সোসাইটি অব অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর (এসএই)মর্যাদাপূর্ণ ‘আর্নল্ড ডব্লিউ সাইগেল হিউম্যানিটারিয়েন’ সম্মাননা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুবীর চৌধুরী। গত ৫ এপ্রিল মিশিগানের মোটর সিটি হিসেবে খ্যাত ডেট্রয়েটের গার্ডেন থিয়েটারে এসএই-র প্রেসিডেন্ট শ্রী শ্রীনাথ তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মানান তুলে দেওয়ার আগে শ্রীনাথ বলেন, “কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানেজমেন্টে আরো উৎকর্ষ সাধনে সুবীর চৌধুরী তার অসাধারণ মেধার খাটিয়ে সারাবিশ্বে বড় বড় কলকারখানায় নিজের অবস্থানকে সংহত করেছেন।” “তার পরামর্শ পেয়ে জরাজীর্ণ অনেক কর্পোরেশন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যমী যুব সমাজের মধ্যে তার স্টেম প্রচারের জন্য অসামান্য কাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈশ্বিক জনহিতকর কাজের কথাও এখন কর্পোরেট জগতে উচ্চারিত হচ্ছে।” শ্রীনাথ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সুবীর চৌধুরীর তার সিক্স সিগমা (প্রায় ৯৯ ভাগ ত্রুটিমুক্ত যন্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাপনা) এবং সিক্স সিগমার জন্য ডিজাইন প্রক্রিয়ার উন্নতিতে অবদান এখন অনস্বীকার্য। এসএই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা যেটি সারাবিশ্বে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রকৌশলীদের পেশাদারি মান উন্নয়নে কাজ করছে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যক্তি, সংস্থা, দল বা সত্তাকে সম্মাননা জানাতে ‘সাইগেল হিউম্যানিটারিয়েন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। সুবীর চৌধুরীর মালিকানাধীন এএসআই কন্সাল্টিং গ্রুপ অপারেশনারল এক্সিলেন্স, কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সাল্টিং ও প্রশিক্ষণের মতো কৌশলগত উদ্যোগে বিশ্বব্যাপি শীর্ষ সংস্থাগুলোর একটি।সুবীর চৌধুরী গত এক দশকে তার ক্লায়েন্টদের জরাজীর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের গুণগত মানের উৎকর্ষ সাধন এবং বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পথ দেখিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ‘থিঙ্কারস-ফিফটি’র মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ইতিমধ্যেই সুবীর চৌধুরী নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ভারতের খড়গপুরে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) স্থাপন করেছে ‘সুবীর চৌধুরী স্কুল অব কোয়ালিটি অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’। এটি হচ্ছে সারাবিশ্বে প্রথম একটি শিক্ষালয় যেখানে গবেষণার গুণগত মান ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, বাঙালিদের জীবন ব্যবস্থা এবং বাঙালির উত্থানের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ক্যাম্পাসে স্থাপিত হয়েছে ‘সুবীর অ্যান্ড মালিনি চৌধুরী সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ সেন্টার’। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি প্রথম একটি প্রতিষ্ঠান। ‘দ্য পাওয়ার অব সিক্স সিগমা’, ‘দ্য আইসিক্রিম ম্যাকার’, ‘দ্য ডিফারেন্স’ সহ ১৫টি বই লিখেছেন সুবীর চৌধুরী। এর সবকয়টি ভালো বিক্রি হয়েছে।সুবীর চৌধুরী বিশ্বব্যাপী সমাদৃৃত ১০টি পেশাজীবী সংগঠনের অনারারি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ‘আউস্ট্যান্ডিং আমেরিকান বাই চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’, সোসাইটি অব ম্যানফ্যাক্চারিং ইঞ্জিনিয়ারর্স’ এর ‘গোল্ড মেডেল’, যুক্তরাজ্যের আইটি কর্তৃক ‘মেনস্ফোর্থ ম্যানুফ্যাক্চারিং গোল্ড মেডেল’সহ ডজনখানেক সম্মাননা পেয়েছেন এ বাংলাদেশি-আমেরিকান। সম্প্রতি সুবীর চৌধুরীর সহযোগিতায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে।

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাজ্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর কন্যার মৃত্যুতে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের শোক

৫২'র মহান ভাষা আন্দোলনের অমর সঙ্গীত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী' -এর রচয়িতা, একুশের জীবন্ত কিংবদন্তী, যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর, বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক জনাব আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর তৃতীয়া কন্যা মিজ্ বিনীতা চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যে নিজুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম। গতকাল শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, পিতা জনাব গাফফার চৌধুরীর পরম স্নেহের এবং সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী সুপ্রিয় কন্যা বিনীতা চৌধুরীর এই অকাল মৃত্যুতে আমি বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শ্রদ্ধেয় আব্দুল গাফফার চৌধুরীসহ মরহুমার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন মিজ্ বিনীতা চৌধুরী তার নামের মতোই ছিলেন একজন অত্যন্ত বিনয়ী, মিষ্টভাষী এবং বন্ধুবৎসল নারী, যিনি তার শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধ পিতার সার্বক্ষণিক দেখভাল ও সেবাযত্নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। জনাব আব্দুল গফফার চৌধুরীর সাথে আমার ও হাই কমিশনের সকল যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন তার কন্যা বিনীতা চৌধুরী। তার এ অকালমৃত্যু তার পিতা ও ভাই-বোনসহ পরিবারের সকলের এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি মরহুমা বিনীতা চৌধুরীর প্রতি আমার অন্তিম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমীন।

post
বাংলাদেশ

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই সরকার প্রধান দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। মোবারকবাদ জানান মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজানের।ভাষণে তিনি বলেন সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে চালসহ কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই। সাশ্রয়ী দামে পণ্য কেনার জন্য টিসিবি’র দোকানে মানুষ ভিড় করবে—এটাই স্বাভাবিক। এটাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার কী কারণ থাকতে পারে?বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।‌শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য পরিবহণের ভাড়া ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশেও কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, চলতি পবিত্র রমজান মাসে আমরা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে প্রায় ১ কোটি পরিবারকে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ঢাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫টি ফ্রিজার ভ্যানে করে সাশ্রয়ী দামে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ইতোমধ্যে কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। এছাড়া, সরকার আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ১ কোটি ৩৩ হাজার ৫৪টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১ লাখ ৩৩০ মেট্রিক টনের বেশি চালের বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে।করোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেইকরোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেই এমনটি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিতেও আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৯৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছর রেকর্ড ২৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এ বছরও আশানুরূপ রেমিটেন্স আসছে। গত বছর রফতানি আয় হয়েছে ৪৪ দশমিক দুই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ দশমিক ছয় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ বছর রফতানি আয়ে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে, ইনশাআল্লাহ।বোরোতে বাম্পার ফলনকৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে চাল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বোরো মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।ঋণ যাতে বোঝা না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টিআমাদের মেগাপ্রকল্পগুলো নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে- কোনও ঋণ নেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি। আর শুধু ঋণ নয়, বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। আমরা দেশি-বিদেশি ঋণ নিচ্ছি। তবে তা যাতে বোঝা হয়ে না উঠে সে দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা।দুই বছর হবে অবকাঠামো উন্নয়নের মাইলফলক২০২২ এবং ২০২৩ হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কয়েক মাস পরেই চালু হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতু। এই সেতু জিডিপিতে ১.২ শতাংশ হারে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের শেষ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে মেট্রো রেল চালু হবে। মেট্রো রেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগামী অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর নদীর তলদেশ দিয়ে চালু হবে দেশের প্রথম টানেল। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত মাসে পায়রায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ের আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনায় অর্থনৈতিক অর্জনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত ১৩ বছরে যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে তা অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকগুলো বিবেচনা করলেই স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে জিডিপি’র আকার ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে তা ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৭০২ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২,৫৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনা এবং দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রেখে মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ফলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন করতে অবদান রাখতে পারছি বলে আমরা গর্বিত। যতদিন বেঁচে আছি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে কাজ করার সামর্থ্য দিবেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাব, জনগণের সেবা করে যাব।বাঙালির মুখের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে উপজীব্য করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে একদিন এদেশে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছিল। যার উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। কাজেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা মানে আমাদের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা।দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দের শুভ মুহূর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্নাত হয়ে আসুন বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলি—যেখানে বৈষম্য থাকবে না, মানুষে মানুষে থাকবে না কোন ভেদাভেদ, থাকবে না ধর্মে-ধর্মে কোন বিভেদ। পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসুন বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলা নতুন বছরের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

post
অনুষ্ঠান

কানাডার ক্যালগেরিতে বাংলাদেশিদের চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলা উদযাপিত

বাংলা বছরের শেষ দিনকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে কানাডার ক্যালগেরিতে বাংলাদেশ পূজা পরিষদ অব ক্যালগেরির আয়োজনে গ্রামবাংলার চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলা উদযাপিত হয়েছে।দিনব্যপী অনুষ্ঠানে ছিল হেনা আর্ট, ফেইস পেন্টিং, বাংলা সংস্কৃতির হরেক রকমের খাবার ও বিভিন্ন ধরনের স্টলে ছিল বাহারি রকমের শাড়ি।মেলায় কোমলমতি শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। প্রবাসী বাঙালিরা নানা রঙে সেজে শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। প্রবাসীদের আয়োজন যেন গ্রাাম-গঞ্জের ঘাটে, মাঠে, বয়সী বটের তলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের সেই দিনগুলোর কথাই যেন মনে করিয়ে দেয়। বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়। দীর্ঘ দুই বছর করোনা বিরতির পর প্রবাসীরা যেন নতুন করে জেগে উঠেছিল। গ্রাম বাংলার মতোই তারা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে আনন্দে মিলিত হয়েছে একে অপরের সান্নিধ্যে। বিনিময় করছেন কুশলাদি। পরিবার-পরিজনের শিশু-কিশোরদের পদচারণায় পরিণত হয়েছিল এক মিলন মেলার। মুহূর্তেই বাংলাদেশ সেন্ট্রার পরিণত হয়েছিল একখণ্ড বাংলাদেশে। চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠানের আয়োজক লীনা বৈরাগী জানান, অনেক দিন পর সবার সঙ্গে মিলিত হয়ে এক অন্য রকম আনন্দ উপভোগ করছি। তাছাড়া ক্যালগেরিতে আমরা প্রথমবারের মতো চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠান করছি। আবহমান বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরাই আমাদের এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই, যেন আমরা আমাদের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যাই। মা মাটি ও দেশ যেন থাকে আমাদের হৃদয়ে। অন্যতম আয়োজক প্রনব দাস জানান, শৈশবের চৈত্র সংক্রান্তির মেলা কে খুব মিস করি। হয়তো আর কোনোদিন সেই মেলা ফিরে আসবে না, কিন্তু আমরা চাই আমাদের প্রজন্মের মাঝে আমাদের সংস্কৃতি যেন জীবিত থাকে। ছোটবেলার সেই যাত্রা, সার্কাস, বায়োস্কোপ, পুতুলনাচ, ঘুড়ি ওড়ানো চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা এখানে না থাকলেও দেশ যেন থাকে হৃদয়ে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, দিনটিকে গণ্য করা হয় মহবিষুব সংক্রান্তি নামে। হিন্দুরা পিতৃপুরুষের তর্পণ করে থাকে, নদীতে বা দিঘীতে পূণ্যস্নান করে থাকে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে চৈত্রসংক্রান্তির দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পূণ্যজনক বলে মনে করা হয়। ক্যালগেরির প্রবাসী বাঙালিরা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলেছেন তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.