post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুবীর চৌধুরী

প্রকৌশল ব্যবস্থাপনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সোসাইটি অব অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর (এসএই)মর্যাদাপূর্ণ ‘আর্নল্ড ডব্লিউ সাইগেল হিউম্যানিটারিয়েন’ সম্মাননা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুবীর চৌধুরী। গত ৫ এপ্রিল মিশিগানের মোটর সিটি হিসেবে খ্যাত ডেট্রয়েটের গার্ডেন থিয়েটারে এসএই-র প্রেসিডেন্ট শ্রী শ্রীনাথ তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মানান তুলে দেওয়ার আগে শ্রীনাথ বলেন, “কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানেজমেন্টে আরো উৎকর্ষ সাধনে সুবীর চৌধুরী তার অসাধারণ মেধার খাটিয়ে সারাবিশ্বে বড় বড় কলকারখানায় নিজের অবস্থানকে সংহত করেছেন।” “তার পরামর্শ পেয়ে জরাজীর্ণ অনেক কর্পোরেশন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যমী যুব সমাজের মধ্যে তার স্টেম প্রচারের জন্য অসামান্য কাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈশ্বিক জনহিতকর কাজের কথাও এখন কর্পোরেট জগতে উচ্চারিত হচ্ছে।” শ্রীনাথ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সুবীর চৌধুরীর তার সিক্স সিগমা (প্রায় ৯৯ ভাগ ত্রুটিমুক্ত যন্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাপনা) এবং সিক্স সিগমার জন্য ডিজাইন প্রক্রিয়ার উন্নতিতে অবদান এখন অনস্বীকার্য। এসএই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা যেটি সারাবিশ্বে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রকৌশলীদের পেশাদারি মান উন্নয়নে কাজ করছে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যক্তি, সংস্থা, দল বা সত্তাকে সম্মাননা জানাতে ‘সাইগেল হিউম্যানিটারিয়েন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। সুবীর চৌধুরীর মালিকানাধীন এএসআই কন্সাল্টিং গ্রুপ অপারেশনারল এক্সিলেন্স, কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সাল্টিং ও প্রশিক্ষণের মতো কৌশলগত উদ্যোগে বিশ্বব্যাপি শীর্ষ সংস্থাগুলোর একটি।সুবীর চৌধুরী গত এক দশকে তার ক্লায়েন্টদের জরাজীর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের গুণগত মানের উৎকর্ষ সাধন এবং বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পথ দেখিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ‘থিঙ্কারস-ফিফটি’র মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ইতিমধ্যেই সুবীর চৌধুরী নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ভারতের খড়গপুরে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) স্থাপন করেছে ‘সুবীর চৌধুরী স্কুল অব কোয়ালিটি অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’। এটি হচ্ছে সারাবিশ্বে প্রথম একটি শিক্ষালয় যেখানে গবেষণার গুণগত মান ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, বাঙালিদের জীবন ব্যবস্থা এবং বাঙালির উত্থানের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ক্যাম্পাসে স্থাপিত হয়েছে ‘সুবীর অ্যান্ড মালিনি চৌধুরী সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ সেন্টার’। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি প্রথম একটি প্রতিষ্ঠান। ‘দ্য পাওয়ার অব সিক্স সিগমা’, ‘দ্য আইসিক্রিম ম্যাকার’, ‘দ্য ডিফারেন্স’ সহ ১৫টি বই লিখেছেন সুবীর চৌধুরী। এর সবকয়টি ভালো বিক্রি হয়েছে।সুবীর চৌধুরী বিশ্বব্যাপী সমাদৃৃত ১০টি পেশাজীবী সংগঠনের অনারারি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ‘আউস্ট্যান্ডিং আমেরিকান বাই চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’, সোসাইটি অব ম্যানফ্যাক্চারিং ইঞ্জিনিয়ারর্স’ এর ‘গোল্ড মেডেল’, যুক্তরাজ্যের আইটি কর্তৃক ‘মেনস্ফোর্থ ম্যানুফ্যাক্চারিং গোল্ড মেডেল’সহ ডজনখানেক সম্মাননা পেয়েছেন এ বাংলাদেশি-আমেরিকান। সম্প্রতি সুবীর চৌধুরীর সহযোগিতায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে।

post
এনআরবি বিশ্ব

যুক্তরাজ্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর কন্যার মৃত্যুতে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের শোক

৫২'র মহান ভাষা আন্দোলনের অমর সঙ্গীত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী' -এর রচয়িতা, একুশের জীবন্ত কিংবদন্তী, যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর, বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক জনাব আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর তৃতীয়া কন্যা মিজ্ বিনীতা চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যে নিজুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম। গতকাল শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, পিতা জনাব গাফফার চৌধুরীর পরম স্নেহের এবং সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী সুপ্রিয় কন্যা বিনীতা চৌধুরীর এই অকাল মৃত্যুতে আমি বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শ্রদ্ধেয় আব্দুল গাফফার চৌধুরীসহ মরহুমার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন মিজ্ বিনীতা চৌধুরী তার নামের মতোই ছিলেন একজন অত্যন্ত বিনয়ী, মিষ্টভাষী এবং বন্ধুবৎসল নারী, যিনি তার শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধ পিতার সার্বক্ষণিক দেখভাল ও সেবাযত্নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। জনাব আব্দুল গফফার চৌধুরীর সাথে আমার ও হাই কমিশনের সকল যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন তার কন্যা বিনীতা চৌধুরী। তার এ অকালমৃত্যু তার পিতা ও ভাই-বোনসহ পরিবারের সকলের এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি মরহুমা বিনীতা চৌধুরীর প্রতি আমার অন্তিম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমীন।

post
বাংলাদেশ

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই সরকার প্রধান দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। মোবারকবাদ জানান মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজানের।ভাষণে তিনি বলেন সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে চালসহ কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই। সাশ্রয়ী দামে পণ্য কেনার জন্য টিসিবি’র দোকানে মানুষ ভিড় করবে—এটাই স্বাভাবিক। এটাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার কী কারণ থাকতে পারে?বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।‌শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য পরিবহণের ভাড়া ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমাদের দেশেও কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে স্বস্তি নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, চলতি পবিত্র রমজান মাসে আমরা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে প্রায় ১ কোটি পরিবারকে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ঢাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫টি ফ্রিজার ভ্যানে করে সাশ্রয়ী দামে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ইতোমধ্যে কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। এছাড়া, সরকার আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ১ কোটি ৩৩ হাজার ৫৪টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১ লাখ ৩৩০ মেট্রিক টনের বেশি চালের বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে।করোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেইকরোনার মধ্যেও উন্নয়নের চাকা থেমে নেই এমনটি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিতেও আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৯৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছর রেকর্ড ২৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এ বছরও আশানুরূপ রেমিটেন্স আসছে। গত বছর রফতানি আয় হয়েছে ৪৪ দশমিক দুই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ দশমিক ছয় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ বছর রফতানি আয়ে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে, ইনশাআল্লাহ।বোরোতে বাম্পার ফলনকৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে চাল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বোরো মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।ঋণ যাতে বোঝা না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টিআমাদের মেগাপ্রকল্পগুলো নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে- কোনও ঋণ নেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি। আর শুধু ঋণ নয়, বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। আমরা দেশি-বিদেশি ঋণ নিচ্ছি। তবে তা যাতে বোঝা হয়ে না উঠে সে দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা।দুই বছর হবে অবকাঠামো উন্নয়নের মাইলফলক২০২২ এবং ২০২৩ হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কয়েক মাস পরেই চালু হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতু। এই সেতু জিডিপিতে ১.২ শতাংশ হারে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের শেষ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে মেট্রো রেল চালু হবে। মেট্রো রেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগামী অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর নদীর তলদেশ দিয়ে চালু হবে দেশের প্রথম টানেল। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত মাসে পায়রায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ের আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনায় অর্থনৈতিক অর্জনপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত ১৩ বছরে যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে তা অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকগুলো বিবেচনা করলেই স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে জিডিপি’র আকার ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে তা ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৭০২ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২,৫৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনা এবং দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রেখে মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ফলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন করতে অবদান রাখতে পারছি বলে আমরা গর্বিত। যতদিন বেঁচে আছি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে কাজ করার সামর্থ্য দিবেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাব, জনগণের সেবা করে যাব।বাঙালির মুখের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে উপজীব্য করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে একদিন এদেশে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছিল। যার উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। কাজেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা মানে আমাদের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা।দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দের শুভ মুহূর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্নাত হয়ে আসুন বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলি—যেখানে বৈষম্য থাকবে না, মানুষে মানুষে থাকবে না কোন ভেদাভেদ, থাকবে না ধর্মে-ধর্মে কোন বিভেদ। পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসুন বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলা নতুন বছরের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

post
অনুষ্ঠান

কানাডার ক্যালগেরিতে বাংলাদেশিদের চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলা উদযাপিত

বাংলা বছরের শেষ দিনকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে কানাডার ক্যালগেরিতে বাংলাদেশ পূজা পরিষদ অব ক্যালগেরির আয়োজনে গ্রামবাংলার চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলা উদযাপিত হয়েছে।দিনব্যপী অনুষ্ঠানে ছিল হেনা আর্ট, ফেইস পেন্টিং, বাংলা সংস্কৃতির হরেক রকমের খাবার ও বিভিন্ন ধরনের স্টলে ছিল বাহারি রকমের শাড়ি।মেলায় কোমলমতি শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। প্রবাসী বাঙালিরা নানা রঙে সেজে শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। প্রবাসীদের আয়োজন যেন গ্রাাম-গঞ্জের ঘাটে, মাঠে, বয়সী বটের তলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের সেই দিনগুলোর কথাই যেন মনে করিয়ে দেয়। বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়। দীর্ঘ দুই বছর করোনা বিরতির পর প্রবাসীরা যেন নতুন করে জেগে উঠেছিল। গ্রাম বাংলার মতোই তারা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে আনন্দে মিলিত হয়েছে একে অপরের সান্নিধ্যে। বিনিময় করছেন কুশলাদি। পরিবার-পরিজনের শিশু-কিশোরদের পদচারণায় পরিণত হয়েছিল এক মিলন মেলার। মুহূর্তেই বাংলাদেশ সেন্ট্রার পরিণত হয়েছিল একখণ্ড বাংলাদেশে। চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠানের আয়োজক লীনা বৈরাগী জানান, অনেক দিন পর সবার সঙ্গে মিলিত হয়ে এক অন্য রকম আনন্দ উপভোগ করছি। তাছাড়া ক্যালগেরিতে আমরা প্রথমবারের মতো চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠান করছি। আবহমান বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরাই আমাদের এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই, যেন আমরা আমাদের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যাই। মা মাটি ও দেশ যেন থাকে আমাদের হৃদয়ে। অন্যতম আয়োজক প্রনব দাস জানান, শৈশবের চৈত্র সংক্রান্তির মেলা কে খুব মিস করি। হয়তো আর কোনোদিন সেই মেলা ফিরে আসবে না, কিন্তু আমরা চাই আমাদের প্রজন্মের মাঝে আমাদের সংস্কৃতি যেন জীবিত থাকে। ছোটবেলার সেই যাত্রা, সার্কাস, বায়োস্কোপ, পুতুলনাচ, ঘুড়ি ওড়ানো চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা এখানে না থাকলেও দেশ যেন থাকে হৃদয়ে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, দিনটিকে গণ্য করা হয় মহবিষুব সংক্রান্তি নামে। হিন্দুরা পিতৃপুরুষের তর্পণ করে থাকে, নদীতে বা দিঘীতে পূণ্যস্নান করে থাকে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে চৈত্রসংক্রান্তির দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পূণ্যজনক বলে মনে করা হয়। ক্যালগেরির প্রবাসী বাঙালিরা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলেছেন তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে।

post
এনআরবি বিশ্ব

লন্ডন বইমেলায় ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অন বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম লন্ডন বইমেলায় ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অন বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের আন্তর্জাতিক সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।শুক্রবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়।স্থানীয় সময় মেলার বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে গত বুধবার যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশক টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস প্রকাশিত বইটির ৮, ৯ এবং ১০ম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের পরিচালক জেরেমি নর্থ, বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসীম কুমার দে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ এবং হাক্কানি পাবলিশার্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অন বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে এবারই প্রথম বাংলাদেশ লন্ডন বইমেলায় অংশ নিয়েছে এবং জাতির পিতাকে উৎসর্গ করে ‘বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন’ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫ হাজারের বেশি প্রকাশক, লেখক এবং পুস্তক সমালোচক তাদের বই এবং অন্যান্য প্রকাশনা নিয়ে লন্ডন বইমেলায় অংশ নেন।বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনের স্থল ক্লারিজেস হোটেলে গত নভেম্বরে লন্ডন হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঐতিহাসিক দলিলের আন্তর্জাতিক সংস্করণের প্রথম সাত খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন। এবার টেলর এবং ফ্রান্সিসের সহযোগিতায় লন্ডন বইমেলায় ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস’র আরও তিনটি খণ্ডের আন্তর্জাতিক সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন হলো।সাইদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস’ বইটিকে যুক্তরাজ্যের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচার ও গবেষণার জন্য এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে সেজন্য কমিউনিটি লাইব্রেরিতে বিতরণের লক্ষ্যে আমরা টেলর এবং ফ্রান্সিসের সঙ্গে কাজ করছি।‘সিক্রেট ডকুমেন্টস’ বইটিকে বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য একটি অনুসরণীয় ম্যানুয়াল হিসেবে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম খান।

post
এনআরবি সাফল্য

মালয়েশিয়ার কুইসে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হাসিবুর

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সেলাঙ্গর, মালয়েশিয়ার (কুইস) ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক ওয়েবিনারে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।হাসিবুর পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ী গ্রামের শাহাদত হোসেন ও মরিয়ম খাতুনের ছেলে হাসিবুর রহমান, জগতলা দাখিল মাদরাসা থেকে জিপিএ ৫ ও চাটমোহর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ২০১৫ সালে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সেলাঙ্গর, মালয়েশিয়ায় ব্যাচেলর অব হিউম্যান রিসোর্সের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর। এছাড়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয় ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থী ফারাজিল্লাহকে। কমিটিতে পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ইউএসএ, ব্রুনাই, কানাডার প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়েছেন।মালয়েশিয়ার এপিটমি কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। হাসিবুর রহমান বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়েশিয়ার (বিএসইউএম) কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

post
সংবাদ

লেখক সাংবাদিক দিলারা হাশেম আর নেই

লেখক সাংবাদিক দিলারা হাশেম আর নেই। শনিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক প্রধান ও দিলারা হাশেমের এক সময়য়ের সহকর্মী রোকেয়া হায়দারের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিউইয়র্ক প্রবাসী ভয়েস অব আমেরিকার অপর সাবেক সাংবাদিক আকবর হায়দর কিরণ। দিলারা হাশেম বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯৩৬ সালের ২১ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তার প্রথম উপন্যাস ‘ঘর মন জানালা’ ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগে কাজ করে ২০১১ সালে অবসর নেন। দিলারা হাশেমের রচিত অন্য উন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- একদা এবং অনন্ত, স্তব্ধতার কানে কানে, আমলকীর মৌ, বাদামী বিকেলের গল্প, কাকতালীয়, মুরাল, শঙ্খ করাত, অনুক্ত পদাবলী, সদর অন্দর, সেতু, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসগুলো। তার গল্পগ্রন্থগুলো হচ্ছে- হলদে পাখির কান্না, সিন্ধু পারের কান্না, নায়ক। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থের নাম ফেরারি। সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

post
সংবাদ

আজ পবিত্র শবে বরাত

আজ হিজরি বছরের ১৪ই শাবান। পবিত্র শবে বরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর রহমত কামনায় ‘নফল ইবাদত-বন্দেগীর’ মধ্যদিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালন করবেন।হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত সৌভাগ্যের রজনী। মহিমান্বিত এ রাতে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা এ রাতে মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজগারসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগী করেন। শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেন, ‘মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়। শবেবরাতের এই পবিত্র রজনিতে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উন্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা জানাই। সৌভাগ্যমন্ডিত পবিত্র শবেবরাতের পূর্ণ ফজিলত আমাদের ওপর বর্ষিত হোক।’ পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে পবিত্র শবেবরাতের মহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। অপরদিকে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আজ শুক্রবার বাদ মাগরিব ও বাদ এশায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে “পবিত্র শবেবরাত এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাবে ২০২৩ সালের মধ্যে

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২৩ সালের মধ‌্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১৯০টি ইউনিয়ন ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন-সহ দুর্গম পার্বত‌্য অঞ্চল, দ্বীপ, চর এবং হাওরে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) টাঙ্গাইলের মধুপুরের দুর্গম পাহাড়ে উচ্চগতির ব্রডব‌্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আম্বার আইটির উদ‌্যোগে মধুপুরের গারো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে এই সংযোগ প্রদান করে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় একটি জাতীয় দৈনিকে গ্রামবাসীর আকুতি প্রকাশিত হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে ব্রডব‌্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মধুপুরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ সব দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, মধুপুরের মতো সারা দেশে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। তাদেরকে ডিজিটাল সংযোগ দিতে পারলে নতুন নতুন অনেক প্রতিভা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে শতশত বছর পিছিয়ে থাকা এই জাতি আগামী ১০ বছরে পৃথিবীর কোনও দেশ থেকে এক চুলও পিছিয়ে থাকবে না। আমরা ইতোমধ্যে ফাইভ-জি উদ্বোধন করেছি। কৃষি, মৎস‌্য চাষ ও শিল্প বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ফাইভ-জি হবে এগিয়ে যাওয়ার বড় হাতিয়ার বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাকে বিকশিত করতে উচ্চগতির ডিজিটাল সংযোগ সংযোগসহ তাদেরকে সম্ভাব‌্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব‌্যক্ত করেন। উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তরুণ সুবীর নাগরিক বলেন, পাহাড়ে আমরা উচ্চগতির ইন্টারনেট পাচ্ছি এটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

post
নারী ও শিশু

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানান আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপিত হচ্ছে। নারীর অধিকার রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সমতাভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর এই দিনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। জাতিসংঘ ২০২২ সালের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘নারীর সুস্বাস্থ্য ও জাগরণ।’ এই মূল প্রতিপাদ্যের আলোকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- ‘টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য’ দিবসের এই প্রতিপাদ্যটিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯(৩) অনুচ্ছেদে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নারীদের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার নারী শিক্ষার বিস্তার, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। রাষ্ট্রপতি দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সহযাত্রী হিসেবে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার আশা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব গড়ার কাজে পুরুষের মতো সমান অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়ে নারীর এগিয়ে চলা আগামীতে আরো বেগবান হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পৃথক এক বাণীতে বিশ্বের সকল নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে। সারাবিশ্বে তাই আজ বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারীর কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এদেশের নারী-পরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেমন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তেমনিভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলাও সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, নারী দিবস উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চলে সরকারের লাঠিয়াল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। এরপর ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.