post
দূতাবাস খবর

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এ উপলক্ষে সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণিতে অবস্থিত মিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। এরপর পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং সংলগ্ন বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্রের সামনে থেকে সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের করা হয়। সেটি এ জে সি বোস রোডের ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তা ঘুরে শেষ হয় মিশন প্রাঙ্গণে এসে। এরপর শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেনসহ মিশনের কর্মকর্তারা। তৌফিক হাসান বলেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমরা খুবই আনন্দিত যে, ১৯৯৯ সালে এটি ইউনেস্কো থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং সারা বিশ্বে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মাধ্যমে আজকের দিনের সূচনা হলো। এরপর সুদৃশ্য প্রভাতফেরি শুরু হয়েছে। পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হবে। এছাড়াও দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শান্তি নিকেতনে অবস্থিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাস, বাংলাদেশ-ভারত পেট্রাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে নানা সংগঠন-ক্লাবের পক্ষ থেকেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। বিকেলে দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

post
বাংলাদেশ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষের ঢল

সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষের সারি এদিকে পলাশী মোড় ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। কারও হাতে একটিমাত্র ফুল, কারও হাতে একগুচ্ছ। কারও হাতে ছোট পতাকা। তবে সবার মুখে অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মাইকে সেই সুর ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে। মানুষের এই শ্রদ্ধা বলে দিচ্ছিল, মাতৃভাষা আর দেশের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের টান অকৃত্রিম। আজ সোমবার অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অহঙ্কার আর শোকের এই দিনটি পালন করছে জাতি। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে। রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান, তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। এবারও করোনার কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে সশরীরে আসেননি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর পরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তিন বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বিদেশি কূটনীতিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর পুলিশ বাহিনীর পক্ষে আইজি বেনজির আহমদ এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল করা হয় বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এ সময় হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে শহীদ মিনারের দিকে। বিপুলসংখ্যক মানুষের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। গত কয়েক দিন ধরেই একুশের দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো প্রাঙ্গণ ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ যখন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তখন মাইকে অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। মাইকে বিভিন্ন কবির একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তি শিল্পীরা। ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে।

post
বাংলাদেশ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭০ পূর্ণ হল। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিন রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়। এছাড়াও কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন। ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নর ও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘ বরকত, সালামকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালবাসে। ওরা আমাদের ভালবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত। ’ এদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না । কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’ বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল একুশ নিয়ে তার এক লেখায় লিখেছেন ‘মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি। ন্যায়ের দাবি, সত্যের দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বভাবের ব্যাপারে, ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোন আপোষ চলে না, চলে না কোন গোঁজামিল। জীবন-মৃত্যুর ভ্রকুটি উপেক্ষা করেই হতে হয় তার সম্মুখীন। একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি। এদিন দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রং ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করো হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সকল উপাসনালয়ে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানসহ সবাই পূর্বের ঐতিহ্য বজায় রেখে যাতে শহিদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসাথে সর্বোচ্চ ২ জন শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং দিবসটি পালনে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠান ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কদ্বীপ সমূহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা জনক স্থান সমূহে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে। একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং ভাষা শহিদদের সঠিক নাম উচ্চারণ, শহিদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহিদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, ইত্যাদি জনসচেতনতা মূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যম সমূহ প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংবাদপত্র সমূহে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিকে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি পালন করবে দলটি। প্রিয় মাতৃভাষার মর্যাদা-অধিকার রক্ষা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত অগণিত শহীদের রক্তে রঞ্জিত দিবসটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র বাঙালি জাতির সাথে বরাবরের মতো এবারও শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ ও পালন করবে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে, একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৬ টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরী সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও ২২ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩ টায় দলের পক্ষথেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের সর্বস্তরেরনেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। -বাসস

post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সামনে শহীদ মিনারে প্রবাসীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে জাতিসংঘ এলাকা প্রকম্পিত করে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করলেন প্রবাসীরা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনের পার্কে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ’ নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে রোববার বেলা ১টা ০১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ০১ মিনিট অর্থাৎ একুশের প্রথম প্রহরে) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’র এ কর্মসূচির শুভ সূচনা ঘটায় তিথি দেব। গত ৩১ বছর ধরেই এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে প্রবাসীদের সর্বজনীন উদ্যোগ হিসেবে। এ সময় একুশ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য এবং দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিণত হবার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান। কর্মসূচির পরিচালনায় ছিলেন শহীদ সন্তান ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর এবং বাঙালির চেতনামঞ্চের সংগঠক আব্দুর রহিম বাদশা।হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, মহিলা সম্পাদক সবিতা দাস, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুবাইয়া শবনম প্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফরউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব, বোর্ড অব ট্রাস্টির কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহাবউদ্দিন চৌধুরী লিটন, মানবাধিকার সংগঠক এ টি এম রানা, আরশাদ ওয়ারিশ, মো. আলাউদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ, নাজিমউদ্দিন, জেবিবিএর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুন নূর বারভ’ইয়া, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাবেক সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, সাবেক সেক্রেটারি ফরিদ আলম, যুবলীগ নেতা ইফজাল চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি ড. এনামুল হক এবং সেক্রেটারি সিরাজউদ্দিন সোহাগ, উপদেষ্টা অধ্যাপিকা হোসনেআরা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোর্শেদা জামান, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মতুজির রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি শাহীন আজমল, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট দরুদ মিয়া রনেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল, বিয়ানিবাজার সমিতির উপদেষ্টা বোরহানউদ্দিন কফিল,আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, সেক্রেটারি আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য কানু দত্ত, এমসি কলেজ এলামনাইয়ের নেতা শফিক চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সুশীল সাহা, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান প্রমুখ। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার, ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকাতে নিউইয়র্ক সময় রাত ১২টা এক মিনিটে আরো কয়েকটি অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রবাসীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। বেশ কটি স্থানে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল আশাব্যঞ্জক। তবে, নিউইয়র্ক সিটিতে তিন লাখের অধিক বাংলাদেশী বাস করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী একটি শহীদ মিনার স্থাপনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ নিয়ে অঙ্গিকারের ফুলঝুরি রয়েছে প্রচুর, তা বাস্তবায়িত করার আন্তরিক প্রয়াসে সীমাহীন গাফিলতি দেখা যাচ্ছে অনেক আগে থেকেই।

post
যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির ভ্যাকসিন কর্মসূচি

জ্যাকসন হাইটসে বিনামূল্যে বাংলাদেশিদের মাঝে বুস্টার টিকা প্রদান করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটি। করোনা মহামারীর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রভাব বাড়তে থাকায় বুস্টার টিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিডিসি এবং নিউইর্য়ক হেলথ ডিপার্টমেন্ট। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির সেবায় বুস্টার টিকা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটি। প্রথম ধাপে জ্যাকসন হাইটসের ইসলামিক সেন্টারের সামনে গত ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বুস্টার টিকা প্রদান করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিটি কাউন্সিল মেম্বার কস্টা কস্টান্টিনিডস, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, জেবিবিএ’র নির্বাচিত সভাপতি গিয়াস আহমেদসহ আরও অনেকে। সার্বিক আয়োজনে ছিলেন বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আমিন মেহিদী বাবু।

post
বাংলাদেশ

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যৌথ মহড়া

আগামী সপ্তাহে ঢাকা ও সিলেটে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী। ইন্দো-প্যাসিফিকের একটি যৌথ লক্ষ্য অর্জনের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করতে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্যাসিফিক এয়ারফোর্স ১১ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউএসের ৩৭৪তম এয়ারলিফ্ট উইং, ইয়োকোটা এয়ার বেস, জাপান এবং বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (বিএএফ) এর বিমানবাহিনীর সদস্যরা ২২ ফেব্রুয়ারি বিএএফ কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা এবং অপারেটিং লোকেশন-আলফা, সিলেটে কোপ সাউথ অনুশীলনে অংশগ্রহণ করবে। দুটি সি-১০৩জে সুপার হারকিউলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬তম এয়ারলিফ্ট স্কোয়াড্রনের প্রায় ৭৭ জন বিমানবাহিনীর সদস্য এই মহড়ায় অংশ নেবেন। মহড়ায় ২টি সি-১৩০জেসহ বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যোগ দেবেন। মহড়ার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সঙ্গে আন্তঃকার্যকারিতা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করা।

post
দূতাবাস খবর

খুনি রাশেদের বিষয়ে নিজ দেশে কথা বলব: কানাডিয়ান হাইকমিশনার

কানাডায় অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি নুর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কানাডার সরকারকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির নতুন হাইকমিশনার লিলি নিকোলস। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন নতুন এই হাইকমিশনার। কানাডার হাইকমিশনার বলেন, “নুর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বুঝতে পারি, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমার সরকারকে বিষয়টি জানাবো।” খুনি নুর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কানাডা সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে লিলি বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেবেন। তবে আমি বলতে চাই যে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। খুনি নুর চৌধুরী ইস্যুতে হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর খুনি নুর চৌধুরীকে আশ্রয় দিয়েছে কানাডা। কানাডা পৃথিবীর সব খুনিকে আশ্রয় দেওয়ার জায়গা হওয়া উচিত নয়। আমি কানাডিয়ানদের বললাম, পৃথিবীর সব খুনিকে আশ্রয় দেওয়ার স্থান কানাডা হওয়া উচিত নয়। এই লোকটাকে ফেরত দিয়ে বদনাম থেকে তোমরা মুক্ত হও।” বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে পাঁচ জনকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা খুনি রাশেদ চৌধুরী ও কানাডায় অবস্থান করা নুর চৌধুরীর বিষয়ে তথ্য জানা থাকলেও বাকি তিন জনের সঠিক অবস্থান জানা নেই সরকারের। খুনিদের ফেরানোর অগ্রগতি জানতে চাইলে মোমেন বলেন, “দুজনের একজন কানাডায় এবং আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রে আছে। তাদের আনার জন্য যা যা প্রচেষ্টা, আমরা সেটি চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যখনই তাদের (রাষ্ট্রদূত) সঙ্গে আলাপ করি, এ বিষয়টি উত্থাপন করি।” আগামী ৮ মার্চ আমিরাত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সম্প্রতি দেশটি সফর করে দেশে ফিরেছেন ড. মোমেন। তার সেই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, “তাদের সঙ্গে অনেক ইতিবাচক আলাপ হয়েছে। আমরা চাইছি তাদের সঙ্গে সরাসরি শিপিং যোগাযোগ। তারাও বলেছে, ডাইরেক্ট শিপিং হলে ভালো। আমরা ওই দেশ থেকে আমদানি করি প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য এবং গত বছর আমরা প্রায় ৫০ কোটি ডলারের মতো পণ্য পাঠিয়েছি। আমাদের যথেষ্ট সবজি আছে, কৃষিজাত পণ্য আছে এবং সেগুলো আমরা আরও বেশি করে পাঠাতে চাই।” র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। চিঠির কোনো জবাব আছে কি না— জানতে চাইলে মোমেন বলেন, “ওটার ওপরে আমরা কাজ করছি।”

post
এনআরবি বিশ্ব

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি ২ সহোদর নিহত

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি ২ কিশোর সহোদর নিহত হয়েছে। এ ছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছে তাদের সতীর্থ আরও ২ কিশোর। গত সোমবার গভীর রাতে ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে সেনাও শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছে জারা (১৪) ও আদিব (১২)। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তাদের মা প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. তানিয়া সিনাও হাসপাতালে কর্মরত। মায়ের কর্মস্থলের সূত্রে তারা ওমানে থাকতো। তাদের বাবা নাহিদুল ইসলাম তুহিন বাংলাদেশে থাকেন। বাংলাদেশ দূতাবাস ও কমিউনিটি সংগঠকরা জানান, সিনাওয়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শেখ জসিমের ছেলে জিহাদ (১৪) পরিবারের অগোচরে বাবার গাড়ির চাবি নিয়ে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুরতে বের হয়। এ সময় সে জারা, আদিব এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. করিমের ছেলে আতিককে সঙ্গে নেয়। তবে তাদের কারোও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। জারা ও আদিব মায়ের হাসপাতালে রাতের শিফটে ডিউটিতে থাকার সুযোগে বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়। ফাঁকা রাস্তায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল জিহাদ। এক পর্যায়ে সিনাও শহরের আদম রোডে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় গাড়ির পেছনে থাকা ২ ভাই জারা ও আদিব। গুরুতর আহত হয় চালকের আসনে থাকা জিহাদ ও তার পাশের আসনে থাকা আতিক। জিহাদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাস্কাটের খৌলা হাসপাতালে এবং আতিককে সিনাওয়ের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত সবাই বাংলাদেশ স্কুল সিনাওয়ের শিক্ষার্থী। ২ কিশোর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবার। তাদের বাবা নাহিদুল ইসলাম তুহিন ওমানের পথে রওনা হয়েছেন। ওমানে বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠকরা সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলেছেন, যেন এমন বিয়োগান্ত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

post
বাংলাদেশ

অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলা একাডেমিতে আমরা বইমেলা আয়োজন করে আসছি। এটা আমাদের প্রাণের মেলা। পাকিস্তান সরকার আরবি ও রোমান ভাষায় বাংলা লেখার প্রচলন করতে চেয়েছিল। আমি বলবো, বাংলা যেমন আমাদের আনন্দের ভাষা তেমন আমাদের প্রতিবাদেরও ভাষা। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধার জানান। তিনি বলেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এবারের বইমেলা দেরি করে শুরু করতে হল। যারা বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। ১৯৪৭ সালে করাচিতে এক সভায় বাংলাকে মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালে করাচিতে এক সভায় বাংলাকে মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানানো হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে আন্দোলন করা হবে, এর সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধুই দিয়েছিলেন। পাকিস্তান কখনোই আমাদের ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে চায়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বইমেলা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। বই না পড়লে মনে হয়, অনেক কিছুই হয়নি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের শিখতে হবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য এই মেলাকে অন্যমাত্রা দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কারণ তিনি ভাষার আন্দোলন করতেই কারাগারে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকেও অনেক তথ্য পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোমান ও আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রচলন করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। এমনকি রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাকে নিয়ে গেছিলেন। কানাডা প্রবাসী রফিক ও সালাম বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘে নিয়ে যান। কিন্তু কোনো সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাব না দিলে তা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই আমরা সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ শুরু করি। ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ২০০৮ সালে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট তৈরি করি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়েত জোট এই কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল’- যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। আমরা স্বাধীনভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছি। হাজারো বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারছে। আমাকে শুধু নিজের ভাষা নিয়ে থাকলে চলবে না, অন্য ভাষা সম্পর্কেও জানতে হবে। এজন্য অনুবাদে জোর দিতে হবে। তাদের সাহিত্যকে জানতে হবে। ‘মুজিববর্ষ উদযাপন করার সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা অনেক বই আমার কাছে এসেছে। আমি ওই সব বইয়ের অনেকগুলো সম্পাদনা করে দিয়েছি। করোনার কারণে আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। করোনার কারণে আমরা অনেক কবি, সাহিত্যিকে হারিয়েছি। আশা করছি, এই বইমেলায় যেসব বই প্রকাশিত হবে, তা সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ তারিখে বইমেলা শুরু হয়েছে। তবে আমার ইচ্ছা এই মেলা ১৭ মার্চ পর্যন্ত চালানো। আশা করছি সবাই স্বাস্থ্য-সুরক্ষা মেনে বইমেলায় আসবেন। সবাই টিকা নেবেন। মাস্ক পরে সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাংলাকে পরিচিত করাতে বিভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রকাশনা করতে হবে। আধুনিক এই প্রকাশনা বাদ দিলে চলবে না। সবশেষে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন নতুন কবি সাহিত্যিক খুঁজে পাওয়া যাবে। আর এজন্য গ্রাম এলাকায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে হবে। আমি মনে করি, প্রশাসন থেকেও এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আমি বই মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। ৩৮তম এ বইমেলা চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’।

post
শিক্ষা

পহেলা ফাল্গুনে পিপলএনটেকের বিভিন্ন কোর্সে ৫০% স্কলারশীপ

পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক দিচ্ছে বিভিন্ন কোর্সে ৫০% স্কলারশীপ। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ভোজন রসিক বাঙ্গালীর এতিহ্যের সাথে যেন মিশে আসে গ্রামের বিভিন্ন পিঠার নাম। শীত শুরু থেকেই যেন পিঠার ধুম পরে গ্রামে গ্রামে। শহুরে জীবনে যেন অনেকটা অপরিচিত এই দৃশ্য। তাই আগামীকাল সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশের স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের পান্থপথ ক্যাম্পাসে বাঙ্গালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এ পিঠামেলা। মেলায় পিপলএনটেক শিক্ষার্থীদের জন্য আইটির ৫০টির বেশি কোর্সে ৫০% পর্যন্ত স্কলারশিপ দেওয়া হবে। জানা গেছে, পিঠা মেলায় ঘুরতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভালপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং সার্ভার, লারাভেল, এএসপিডটনেট,পাইথন, ডাটাবেজ, নেটওয়ার্ক সিস্টেম এডমিনিস্টেশনসহ প্রায় ৫০টির বেশি কোর্সে থাকছে এ ৫০% স্কলারশীপ। মেলা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এ ছাড়ের রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন লিঙ্কঃ https://forms.gle/QhDtuBFUYf5Zv5tZA আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারবে ০১৭৯৯৪৪৬৬৫৫, ০১৮৮৫৯৮১২৫০ নম্বরে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.