post
শিক্ষা

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাথে আইসিটি বিভাগের সমঝোতা স্মারক সই

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার ২১ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ারে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক চুক্তি অনুযায়ী এখন থেকে দুই প্রতিষ্ঠান একে অপরের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। বক্তারা বলেন, বর্তমানে, আইসিটি বিভাগ বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ করে মহিলা এবং সুবিধাবঞ্চিত লোকদের জন্য আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদানের বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আইসিটি এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ আইসিটি অধিদপ্তরের সিনিয়র সচিব জিয়াউল আলম, আইসিটি বিভাগের ডিজি মোস্তফা কামাল, প্রোগামার হারুন উর রশিদ, ইঞ্জি. এ এস এম হোসনে মোবারক, পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অব আইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশরুল হোসেন খান লিওন, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাসুমা ভুইয়া ফারহা, প্রীতি সরকার ও আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৩০ জনেরও বেশি প্রোগ্রামার উপস্থিত ছিলেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে চীনে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ট্যুর

‘নতুন যুগে দুর্দান্ত গুয়াংশি বিনির্মাণে নতুন যাত্রায়, নতুন পরিস্থিতি এগিয়ে যান’ থিম নিয়ে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে চীনে সাত দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক মিডিয়ার চোখে গুয়াংশি - ২০২২’ ট্যুর সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ থেকে ২১ নভেম্বরের ট্যুরটি চীনের গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পাইস এবং ছিংঝো শহরে অনুষ্ঠিত হয়। শহর দুটি সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য সুপরিচিত।এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ হলো সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য চীনের গুয়াংশির স্বায়ত্তশাসিত এলাকার অর্জন ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানানো। বন্ধুত্বের সেতু এবং সাংস্কৃতিক বার্তাবাহক হয়ে গুয়াংশি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আদান-প্রদান করা, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন এবং সহযোগিতা বাড়ানো। এই ট্যুরটি গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পার্টি কমিটির প্রচার বিভাগ এবং চীনের মর্যাদাপূর্ণ সংবাদ মাধ্যম চায়না নিউজ এজেন্সির যৌথ স্পন্সরে সম্পন্ন হয়। গুয়াংশি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পার্টি কমিটির প্রচার বিভাগের সহকারী পরিচালক সুই জুওজুন, চীন সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক ঝাং মিংশিন, কম্বোডিয়া-চীন সাংবাদিক সমিতির চেয়ারম্যান এবং আশিয়ান নিউজ এজেন্সির সভাপতি লিও শিয়াওগুয়াং ‘আন্তর্জাতিক মিডিয়ার চোখে গুয়াংশি’ ইভেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং বক্তৃতা দেন।সাত দিনের সফরে পরিদর্শনকারী দলের সদস্যরা উচ্চ মানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, শিল্প এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং পরিবেশগত সুরক্ষায় গুয়াংশির অর্জন সম্পর্কে জানতে পারেন। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কানাডা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান এবং মায়ানমারসহ ১৭টি দেশ ও অঞ্চলের বিদেশি মূলধারার সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিত ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি দল এই সফরে যোগ দেয়।

post
এনআরবি সাফল্য

প্রভাবশালী বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি গবেষক ড. এম এ হান্নান

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান। নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাকে। ৬৯টি দেশের গবেষকদের এমন স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্যভিত্তির অ্যানালিটিক্স কোম্পানি ‘ক্লারিভেট’। ড. এম এ হান্নান ইউনিভার্সিটি তেনাগা মালয়েশিয়ার (ইউনিটেন) অধ্যাপক। তার এই অর্জনে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা গর্বিত। এক বিবৃতিতে ইউনিটেন জানায়, ৬৯টি দেশের গবেষকরা এই স্বীকৃতি পান। তাদের মধ্যে একজন এম এ হান্নান। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ২০১১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই ১১ বছরে এম এ হান্নানের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এম এ হান্নান ধারাবাহিকভাবে ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সে সাত হাজার ৯১১টি উদ্ধৃতিসহ ২৫৫টি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ইউনিটেনের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নূর আজুয়ান আবু ওসমান বলেন, এই সাফল্য ইউনিটেনকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উৎকর্ষতায় বৈশ্বিক মঞ্চে এনেছে। ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে পড়াশোনা করেন এম এ হান্নান। একই সঙ্গে এমএসসি করেন। পিএইচডি করেন ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) থেকে। তার ২৮ বছরেরও বেশি শিল্প ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং সম্মেলনের কার্যক্রমে প্রকাশিত ৩০০টিরও বেশি নিবন্ধের লেখক বা সহ-লেখক তিনি। এম এ হান্নানের গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে- ইনটেলিজেন্ট কন্ট্রোলার, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স, হাইব্রিড যানবাহন, এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, ইমেজ এবং সিগন্যাল প্রসেসিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

post
এনআরবি বিশ্ব

কুয়েতে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রাষ্ট্রদূত

বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোয় বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সে কারণে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) কুয়েতে বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত এ হুঁশিয়ারি দেন।তিনি বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধে আমাদের অবস্থান কঠোর। এ ব্যবসায় জড়িতদের অনেকের তথ্য আমাদের কাছে আছে। হুন্ডি ব্যবসায় জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে দেশ ও প্রবাসীদের কারোরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। করোনা মহামারি পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে। দেশের ব্যাংকগুলোর অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে প্রভাবিত না হতে অনুরোধ জানান তিনি। সেইসঙ্গে দেশের উন্নয়নে ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় কুয়েতে থাকা আড়াই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বিভিন্ন সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসী মাহবুব দেশে ফিরেছেন

অবশেষে দেশে ফিরছেন মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত প্রবাসী মাহবুব আলম (৪৮)। পাঁচমাস ধরে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মাহবুব সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন মালয়েশিয়ার চিকিৎসক ও নার্স।গত ২২ জুন মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলম শহরের পানির পাইপ ঠিক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রবাসী মাহবুব। সেই থেকে স্থানীয় শাহ আলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনায় প্রচণ্ড আঘাতে তার মুখের হাড় ভেঙে গেছে, ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে ও শিরা ছিঁড়ে মাথার ব্রেইনের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।চিকিৎসকদের মতে— মাহবুবের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু, বিদেশে ব্যয়বহুল চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়া তার পরিবারের সাধ্যের বাইরে। তাই সব মিলিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই ছিল বেশি প্রয়োজন।শুরুতেই ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসা অব্যাহত না রাখলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু, মালয়েশিয়ার হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না।১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মাহবুবের বিল হয়েছে ৭৭ হাজার রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ টাকা পরিশোধ করতে পরিবারের পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়েছিল। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে বাঁচাতে, দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার-বিত্তবানদের কাছে আকুতি জানান মাহবুবের পরিবার।মাহবুবের স্ত্রী সিমা আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ৯ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি ২ লাখ টাকা) সহায়তা করেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল খুবই অপ্রতুল।অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা দিলেও হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ বিল মেটাতে এগিয়ে আসেন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া, প্রবাসী ব্যবসায়ী মোস্তাফা হুসেইনসহ অনেকে। হাসপাতালের ৭৭ হাজার রিঙ্গিতের মধ্যে সবার সহযোগিতায় ৪৭ হাজার রিঙ্গিত বিল পরিশোধ করা হয়।এ ছাড়া আহত মাহবুবকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান ভাড়া চিকিৎসক ও নার্সসহ আরও ২৭ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। যা হাইকমিশন ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে।ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়— ২০১৬ সালে ওয়ার্ক পারমিটে পাম অয়েল বাগানে কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসেন মাহবুব। পাম অয়েল বাগানের ভিসা শেষ হলে অবৈধ হন তিনি। তবে সরকারের রিক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়ায় বৈধ হয়েছেন। মাহবুবের তিন মেয়ে ও স্ত্রী থাকেন গাজীপুর বোর্ডবাজারে একটি ভাড়া বাসায়। পুরো সংসার নির্ভরশীল মাহবুবের ওপর।অসহায় এ রেমিট্যান্সযোদ্ধার স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করবেন। তিন মেয়েকে ভালো কলেজে পড়ালেখা করাবেন। কিন্তু তার সব স্বপ্ন নিমিষেই উবে গেলো। অবশেষে স্ট্রেচারে করে দেশে ফিরছেন মাহবুব।মালয়েশিয়ায় থাকা মাহবুবের ভাতিজা আনোয়ার বলেন, মাহবুব সাব এজেন্ট নেওয়া এক ইন্দোনেশিয়ানের অধীনে কাজ করতেন।রাওয়াংয়ে থাকা ভাতিজা আনোয়ার নিজেও একজন শ্রমিক। কাজের ফাঁকে চাচাকে দেখতে যান। নিজের সামান্য আয় থেকে এরই মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন

post
বাংলাদেশ

পতাকা বৈঠক শেষে বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে গেছে বিএসএফ

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় পতাকা বৈঠক শেষে বাংলাদেশি কৃষক মোহাম্মদ মেজবাহারের (৪৭) মরদেহ নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর ৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম আরিফুল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে।ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় উত্তর বাঁশপদুয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় ১৬ ঘণ্টা পড়েছিল মেজবাহারের মরদেহ। তিনি পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গুথুমা গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। কৃষি কাজের পাশাপাশি তিনি গরুর ব্যবসা করতেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে মেজবাহারের মরদেহ দেখতে পায়। গুথুমা সীমান্ত ফাঁড়ি সূত্র জানায়, আজ ভোররাত ৩টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে গুথুমা সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডার সুবেদার ওমর ফারুক ও ভারতের পক্ষে ত্রিপুরার শাড়াসিয়া সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডার সত্য পাল উপস্থিত ছিলেন। মেজবাহারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মেজবাহার ধান কাটতে উত্তর বাঁশপদুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ধান কাটার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে ডাকতে থাকে। এতে ভয় পেয়ে মেজবাহার দ্রুত নিজের এলাকার দিকে চলে আসার চেষ্টা করেন। বিএসএফ সদস্যরা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বিষয়টি সীমান্ত ফাঁড়ি ও পরশুরাম থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। জানতে চাইলে পরশুরাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পার্থ প্রতীম দেব জানান, মৌখিকভাবে জানানো হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবি বা থানায় লিখিতভাবে অবহিত করা হয়নি।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে পাসপোর্ট ভোগান্তিতে ২ হাজার বাংলাদেশি

গ্রিস প্রবাসী আব্দুল কালাম চলতি বছরের মার্চ মাসের ২ তারিখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)-এর জন্য আবেদন করেছিলেন। গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আব্দুল কালামের নতুন পাসপোর্টের আবেদনটি গ্রহণ করে পরের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের ২৫ তারিখ পাসপোর্টটি সংগ্রহ করার জন্য একটি রসিদ দিয়েছিল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয় তার। কিন্তু ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনোও পাসপোর্টটি ছাপা হয়নি তার। দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্ভারে দেখাচ্ছে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আসেনি। তাদের সার্ভারে পুলিশ ভেরিফিকেশন পেন্ডিং দেখাচ্ছে। অথচ আবেদনকারী হিসেবে আবেদনের অবস্থা সার্ভারে যাচাই করতে গেলে সেখানে লেখা দেখাচ্ছে- পুলিশ ভেরিফিকেশন অ্যাপ্রুভড। অপরদিকে, পুলিশও বলছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি তাৎক্ষনিক পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। ১২ বছর পূর্বে হাতের লেখা পাসপোর্ট নিয়ে গ্রিসে পাড়ি দেওয়া প্রবাসী আব্দুল কালাম বলেন, এক যুগ ধরে অবৈধভাবে থাকায় দেশেও যেতে পারছি না। এবার গ্রিসে বৈধ হওয়ার সুযোগ এসেছে। কিন্তু পাসপোর্ট না পেলে আমরা এ সুযোগটি হারাবো। দূতাবাসে গেলে কর্মকর্তারা বলেন পাসপোর্ট ঢাকা অফিসে আটকে আছে। জেলা পুলিশের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন গত এপ্রিলেই তদন্ত করে পক্ষে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন, আমাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা নেই, এমনকি পাঠানোর প্রমাণও দেখিয়েছেন। কিন্তু দূতাবাসের কমকর্তারা অনলাইনে দেখে বলছেন পুলিশ রিপোর্টের জন্য আটক আছে। তারা কিছু জানেন না। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছেন এই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। শুধু আব্দুল কালামই নয়, গ্রিসে পাসপোর্ট জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ। রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ইউরোপে বৈধ হতে পাসপোর্টের ভুল তথ্যের কারণে পড়ছেন নানা বিড়াম্বনায়। এমনকি অনেকেই অবৈধ পথে এনালগ পাসপোর্ট নিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন কিন্তু তাদের কাছে বর্তমানে নেই কোন পাসপোর্ট। নতুন করে পাসপোর্ট করার সুযোগও পাচ্ছে না তারা। এমন সমস্যা প্রতিকারের আশায় দৌড়ঝাঁপ করে সদুত্তর না পেয়ে অনেকটা হতাশায় ভুগছেন। গ্রিসে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। কিন্তু এদের মধ্যে সিংহভাগই অনিয়মিত। নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। দূতাবাসের তথ্য মতে- গ্রিসে পাসপোর্ট নেই এমন পরের শত থেকে দুই হাজার বাংলাদেশি আছেন। যাদের অনেকেই এমআরপির জন্য আবেদন করেছেন। প্রায় ৫০০ আবেদন আছে যারা বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু এসব সকল আবেদনই আটকে আছে ঢাকায়। পাসপোর্টের জন্য গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও আটকে থাকা পাসপোর্টগুলো ছাপা হচ্ছে না। এদিকে নানা জল্পনা কল্পনার পর বাংলাদেশ ও প্রাচীণ সভ্যতার দেশ গ্রিসের সমঝোতা চুক্তিটি গ্রিক সংসদে অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছরে ৪ হাজার করে কর্মী মৌসুমি কর্মভিসায় নেওয়ার পাশাপাশি গ্রিসে থাকা অবৈধ ১৫ হাজার অভিবাসীদেরকেও বৈধতা দেয়া হবে। অনিয়মিত বাংলাদেশীদের নিয়মিতকরন বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্স কর্তৃক আরেকটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে- নিয়মিত হওয়ার জন্য ২ বছরের বেশি মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট, দূতাবাস হতে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি লাগবে। কিন্তু যাদের পাসপোর্ট নেই তারা এখন মহা বিপদে পড়েছেন। এ নিয়ে অনেকেই হতশায় ভুগছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলে অনিয়মিতদের বৈধ করণের সুযোগ আসছে। এ বছরই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে বাংলাদেশিদের বৈধ হতে প্রথম শর্ত হচ্ছে মূল পাসপোর্ট লাগবে। বর্তমানে অনেকের কাছেই পাসপোর্ট নেই। এক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসর্পোটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনের দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ইউরোপের প্রথম মিশন হিসাবে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ার কিছুদিন পর পাসপোর্ট অধিদপ্তর অত্র দূতাবাস থেকে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রিস-বাংলাদেশ দ্বীপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে গ্রিসে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত আনুমানিক ১৫ হাজার বাংলাদেশীর বৈধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় প্রেক্ষিতে অনিয়মিতদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদানের জন্য দূতাবাসের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ মাসের জন্য এমআরপি পাসপোর্ট কার্যক্রম পুনরায় চালু করে যা আগামী জানুয়ারি ২০২৩ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে। যদি এই অনুমোদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা না হয়, তবে জানুয়ারি ২০২৩ সালের পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এই সময়সীমার মধ্যে যারা এমআরপি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করেছেন বা করবেন তারা তাদের পাসপোর্ট যথা নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ব্যাপারে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিষ্টার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ২০২১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি তাদের পাসপোর্টে নাম, ঠিকানা ও জন্ম সালসহ বিভিন্ন ধরনের এক বা একাধিক তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন এবং এসময় তারা তাদের আবেদনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পেশ করেন। এই সকল পাসপোর্ট আবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রবাসীদের অবস্থা বিবেচনা করে এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই অনিষ্পন্ন পাসপোর্ট এর আবেদনসমূহ দ্রুত নিষ্পন্ন করে প্রবাসীদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে এই সকল অনিষ্পন্ন পাসপোর্ট এর আবেদন সমূহ ভবিষ্যতে নিষ্পন্ন হবে। এদিকে বর্তমানে গ্রিসে অনেক বাংলাদেশি আছেন যাদের কাছে কোন পাসপোর্ট নেই। ১০-১৫ বছর পূর্বে অনেকেই হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে ইরান-তুরস্ক হয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন। দালালের কথায় সেই পাসপোর্টও সীমান্তে ফেলে দিয়েছিলেন। শূন্য হাতে প্রবেশ করেছিলেন গ্রিসে। এসব এনালগ পাসপোর্টধারীদের কোনও তথ্য নেই পাসপোর্ট অধিদফতরের সার্ভারে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দেড় সহস্রাধিক লোক আছে যাদের কাছে পাসপোর্ট নেই। এদের অনেকেই এক থেকে দেড় বছর আগে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু পাসপোর্ট পাননি। বর্তমানে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তাদের উপায় কি হবে? এ প্রসঙ্গে দূতাবাসের মিনিষ্টার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, গ্রিসে বিদ্যমান প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশীদের যাদের পাসপোর্ট নেই বা পূর্বে হাতে লেখা পাসপোর্ট থাকলেও তার কোনও রেকর্ড নেই। এমন আবেদনকারীদের পাসপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা এখনো পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলো যথাশীঘ্র নিষ্পন্ন করা না গেলে এই সমস্ত প্রবাসীরা গ্রিস ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

post
বাংলাদেশ

বাংলা‌দে‌শের আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দেখতে চায় তুরস্ক

বাংলা‌দে‌শের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দেখতে চায় তুরস্ক। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা শুধু বাংলাদেশেরই সিদ্ধান্ত, বিদেশিদের নয়। বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান।তুর্কি রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা বিদেশিদের কোনো বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করে। এটা শুধু বাংলাদেশেরই সিদ্ধান্ত, বিদেশিদের নয়। রাজনৈ‌তিক দলগু‌লোর ম‌ধ্যে মতপার্থক্য থাক‌তেই পা‌রে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রাজ‌নৈ‌তিক মতপার্থক্যের সমাধান কর‌তে হ‌লে আলোচনার মাধ‌্যমে কর‌তে হ‌বে। সরকার একা সব কিছু করতে পারে না।রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে যাতে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। বিরোধী দল অংশ না নিলে বাংলাদেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার সুযোগ হারাবে। নির্বাচন সব পক্ষের অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সরকার এ দেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে। মোস্তাফা তুরান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর আগামী নির্বাচনে যে দলই জয়লাভ করুক, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্রের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। একইসঙ্গে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব আছে। গণতন্ত্রে দুটি পক্ষ থাকে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে সমস্যা আছে। এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা তুরান ব‌লেন, বাংলাদেশে এমন কোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেই যে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কমিয়ে দেবে। ডি‌জিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, অ‌নেক দে‌শেই এ সমস্যা আছে। আমা‌দের দে‌শেও আছে। ত‌বে যারা সরকার ব্যবস্থায় থা‌কে, তারা য‌দি মত প্রকা‌শের সু‌যোগ দেয় টেনশন অ‌নেকটাই প্রশ‌মিত হয়। প্রতিরক্ষা সহযো‌গিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, সহযোগিতা শুধু সামরিক সরঞ্জাম কেনা-বেচার বিষয় নয়, এটা কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ও। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চাই। বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে ড্রোন, পেট্রোল ভেসেল কিনেছে। আমি ম‌নে করি, সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যে‌তে পা‌রে। রো‌হিঙ্গা ইস্যুতে তি‌নি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমর্থন কর‌ছে। তুরস্ক ওআইসি, আইসিজেতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন ও সহযোগিতা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে আঙ্কারার অবস্থান নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমের মুখোমু‌খি হতে হয় ব‌লে জানান মোস্তাফা তুরান। তি‌নি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। তবে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসানও হয়েছে। আমরা সে সময় বন্ধু দেশ হিসেবে শুধুমাত্র আমাদের মতামত দিয়েছিলাম। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গেল সোমবার সিজিএস আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেছিলেন, নির্বাচন নিয়ে বৈশ্বিক মতামতের একটা গুরুত্ব আছে। জাপান ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরপর উদ্বেগ জানিয়েছিল। আমরা নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কথা শুনেছি, যা পৃথিবীর আর কোথাও শুনিনি। আমি আশা করব, এবার তেমন সুযোগ থাকবে না বা এমন ঘটনা ঘটবে না। ইতো নাওকির ওই বক্তব্যের জন্য তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহ‌রিয়ার আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক‌টি বেসরকা‌রি টে‌লি‌ভিশ‌নের স‌ঙ্গে আলাপকা‌লে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূ‌তের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। ওই বক্তব্যের জন্য জাপানের রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন শাহরিয়ার আলম।

post
এনআরবি বিশ্ব

ডলার–সংকটে আতঙ্কিত কানাডায় পড়তে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশে ডলার–সংকটে আতঙ্কিত কানাডায় পড়তে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। অধীকাংশ শিক্ষার্থীকে নিজ দেশ থেকে ডলার এনে পড়তে হয়। এখানকার টিউশন ফি অনেক বেশি এবং থাকা-খাওয়ার খরচ বেশি হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এখন হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কানাডার ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা বিপাকে। কানাডায় পড়তে এসে পড়াশোনা না করলে ভিসা বাতিল হয়ে যায় আর কানাডায় অবৈধ হয়ে থাকা বেশ কঠিন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী জানিয়েছেন, ‘কয়েক মাস আগেও আমার বাবা বাংলাদেশি ৮৬ টাকার বিনিময়ে ১ আমেরিকান ডলার পাঠাতে পারতেন।কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থী এখন ১ আমেরিকান ডলার পাঠাতে ১১০ বাংলাদেশি টাকা খরচ হয়। কয়েক দিন পর আমার ছয় হাজার আমেরিকান ডলার টিউশন ফি দিতে হবে। যার ফলে আমার বাবার অতিরিক্ত বাংলাদেশি টাকা খরচ করতে হবে। তারপর থাকা–খাওয়ার খরচ তো রয়েছেই।’ অন্য দিকে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাঠানোর সমস্যার কারণে হুন্ডির প্রবণতা বেড়ে যাবে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আরও বেশি টাকা জোগাড় করতে হবে যা অনেক অভিভাবকেই পারবে না। উল্লেখ্য, কানাডার প্রায় সব ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগে দিতে হয় আর না দিতে পারলে সে ক্লাস করতে পারে না। আর সেমিস্টার ড্রপ করলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বেশ কঠিন। অন্য দিকে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন কানাডায় পড়তে আসা গ্রাজুয়েশন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আগে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারতেন। আজ ১৫ নভেম্বর থেকে তাঁরা তাঁদের ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারবেন। তবে পড়াশোনার চাপ বেশি থাকার কারণে কাজ বেশি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এখনো কানাডার আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী কাজ করার অনুমতি পান না। তাদের সম্পূর্ণ খরচ নিজ দেশ থেকে আনতে হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

আরব আমিরাতে ভবন থেকে পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযান চলার সময় একটি ভবনের তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন (৩৪) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন সজিব নামে আরও এক বাংলাদেশি। নিহত আনোয়ারের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যায়। তার বাবার নাম আব্দুল হাই জমাদ্দার। দুর্ঘটনায় আহত একই জেলার অপর বাংলাদেশি মুহাম্মদ সজিব (২৮) স্থানীয় শেখাবুত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবার নাম সিকান্দর মাতবর।আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মদ আব্দুল আলীম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত আনোয়ার আট বছর ধরে আবুধাবিতে বসবাস করছিলেন এবং ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। ‘নিয়মিত বেতন না পাওয়ায়’ তিনি কোম্পানি থেকে পালিয়ে আসেন এবং অবৈধ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে সজীব ভিজিট ভিসায় আবুধাবি এসে অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মদ আব্দুল আলীম মিয়া জানান, নিহতের মরদেহ সোমবার স্থানীয় সময় রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হবে। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.