post
এনআরবি বিশ্ব

সৌদিতে তৈরি পোশাক খাতে প্রভাব বাড়ছে বাংলাদেশিদের

প্রবাসীরা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপনির্ভর হলেও, এই অঞ্চলেও রয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের কদর রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রভাব রয়েছে মেড ইন বাংলাদেশের। এবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। রাজধানী রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের শপিংমলে শোভা পায় বাংলাদেশি পোশাক। সৌদি আরবের পোশাক খাতে ভারত, চীন ও পাকিস্তানিদের প্রভাব থাকলেও, এই খাতে এখন বিনিয়োগ বাড়ছে বাংলাদেশিদেরও। বর্তমানে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি করছেন এই ব্যবসা।বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের অন্যতম খাত তৈরি পোশাক। মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ ভাগ আসে এই খাত থেকে। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাক রফতানির নতুন বাজার হতে পারে সৌদি আরব। আগামী অর্থবছরে কেবল সৌদি আরব থেকেই রফতানি আয় হতে পারে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার

তৌসিফ শাহারিয়ার দ্বীন ইসলামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। গত চার বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে নিজের জীবন এবং আয়-উপার্জনে বেশ খুশি তিনি। তিনি বলেন, বেতনের দিক থেকে এই দেশ এগিয়ে। জীবনমান এখানে অনেক উন্নত। আমার প্রতি মাসের বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। আর ওভারটাইম করলে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় মাসে। এই দেশে কাজ করলে অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো পরিস্থিতিতে থাকা যায়। দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়। তৌসিফ শাহারিয়ার দ্বীন ইসলামের মতো আরও শত শত বাংলাদেশি এখন অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া যেতে উন্মুখ। মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে যখন বাংলাদেশিরা নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে, তখন সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া এক আদর্শ শ্রমবাজার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া এখন অনেকের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে। সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কর্মীরা যেসব দেশে কাজ করছেন তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সেরা। আদর্শ গন্তব্য নুরুল ইসলাম বলেন, অভিবাসী কর্মীর সংখ্যার দিকটা বিবেচনা না করে যদি আপনি জীবনমান, বেতন এসবের কথা চিন্তা করেন, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়া এখন এক নম্বরে আছে। কারণ যারা যাচ্ছে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কোম্পানি সিলেক্ট করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের বেতন এক লাখের ওপরে। ওভার টাইমে যে টাকা পান সেটা দিয়ে বেতন আরো বেশি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যেমন সাফল্য পেয়েছে এবং সেখানে যাওয়া কর্মীরাও যে রকম খুশি- সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এখন এই বাজারের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার আরও আড়াইশো বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী হিসেব কাজ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। আর এরা সবাই সেখানে গেছেন দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তির অধীনে বোয়েসেলের তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয় দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা-চুক্তি অনুযায়ী। যে কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেখানে কর্মী পাঠায় তার নাম এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম বা ইপিএস। বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি জনশক্তি রফতানি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল ২০০৮ সাল থেকে ইপিএস কর্মসূচির আওতায় স্বল্প ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ইপিএস-এর আওতায় নির্ধারিত ১৬টি দেশ থেকে কোরীয় ভাষা দক্ষতা ও স্কিল টেস্টের মাধ্যমে অদক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। তবে কোভিড মহামারির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সব কটি দেশ থেকে কর্মীদের কোরিয়ায় যাওয়া বন্ধ রেখেছিল। বাংলাদেশে সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন কোভিড পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির পর নির্ধারিত কোভিড বিধি অনুসরণ করে গত বছরের ডিসেম্বর হতে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বরে প্রথম যে দলটি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয় সেখানে ছিল ১১১ জন কর্মী। আর এ বছরের প্রথম ধাপের জন্য বাংলাদেশকে ১৯৪১ জন কর্মী পাঠানোর কোটা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কোটা পূরণের পর আরও অতিরিক্ত তিন হাজার কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে ইপিএস কর্মসূচির আওতায় এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটা রেকর্ড করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে যা করতে হবে কেউ যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান তাহলে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করতে হয়। এরপর লটারির মাধ্যমে আগ্রহীদের মধ্য থেকে কর্মী বাছাই করা হয়। যারা লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তাদের কোরিয়ান ভাষা শিখতে হয়। সাধারণত প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে নিবন্ধন শুরু হয়। লটারিতে নাম উঠলে ভাষা শেখার জন্য গড়ে প্রায় দুই মাস সময় পান প্রার্থীরা। এরপর ভাষা পরীক্ষায় বসতে হয়। দুশো নম্বরের এই পরীক্ষার মধ্যে রিডিং টেস্টের জন্য থাকে একশো নম্বর, আর লিসেনিং টেস্টের জন্য একশো নম্বর। ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কাজের দক্ষতার পরীক্ষা বা স্কিল টেস্ট নেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরাই প্রার্থীদের কাজ করার দক্ষতা যাচাই করেন। এরপর প্রার্থীর নিজ জেলায় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নিজ থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। কোন খাতে কর্মী নেওয়া হয় কর্মকর্তারা বলছেন, কেউ দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা বোয়েসেলের নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি প্রতিষ্ঠান যখন তাদের প্রতিষ্ঠানে বাইরে থেকে কর্মী এনে নিয়োগ দিতে চান, তখন তাদের সে দেশের শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। মন্ত্রণালয় তখন চাহিদা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেয়। বাৎসরিক কোটা অনুযায়ী চাহিদার ভিত্তিতে তখন দৈবচয়ন পদ্ধতিতে জব রোস্টার থেকে লেবার কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার চাকরিদাতা হলো সেখানকার ছোট ছোট বেসরকারি কোম্পানি। কোন কোম্পানি কোন কর্মীকে জব অফার প্রদান করলেই কেবল তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় চাকরি পান। ভাষা খুব গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ কোরিয়ার ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে আছেন ম্যাক্সিম চৌধুরি। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অবশ্যই ভালো দেশ। তবে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখানে ভাষার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আগের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের পরিবেশ ভালো। একজন বেতন-ওভারটাইম মিলিয়ে দুই লাখের মদো আয় করতে পারেন। তবে যারা এখানে আসেন তারা বইয়ের ভাষা শিখে আসেন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে দেখা যায় এখানকার প্রচলিত ভাষায় তারা সেভাবে কথা বলতে পারেন না। তাই ভাষাটা আরো ভালো করে রপ্ত করে আসলে সমস্যা কম হয়। কত মানুষ কোরিয়াতে গেছেন বোয়েসেলের ২০১৯ সালের সর্বশেষ তথ্যে বলা হচ্ছে, ২০০৮ সাল থেকে কোরিয়ার ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট ২৭ হাজার ৩৬৩ জন যোগ্য কর্মীর তথ্য জব রোস্টারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে থেকে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৬৯ জন কোরিয়াতে গেছেন। বাকিরা যাওয়ার প্রক্রিয়াতে আছেন।বোয়েসেল বলছে চলতি বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪ হাজার ৯৪১ জন কর্মী পাঠিয়ে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তারা। কত খরচ হয় তৌসিফ শাহারিয়ার দ্বীন ইসলাম চার বছর আগে যখন দক্ষিণ কোরিয়াতে যান তখন তার খরচ হয়েছিল দুই লাখ টাকা। এর মধ্যে এক লাখ জামানত রাখতে হয়েছিল বোয়েসেলের কাছে। এই এক লাখ টাকা ফেরত যোগ্য। কন্ট্রাক্ট শেষে বাংলাদেশে গিয়ে বোয়েসেলের কাছে আবেদন করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। বাকি এক লাখ টাকা বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য বিষয়ে খরচ হয়েছিল। বোয়েসেলের কাছে জমা রাখা জামানতের পরিমাণ অবশ্য এখন বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। কেউ যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে কন্ট্রাক্ট শেষ হওয়ার আগেই কোম্পানি পরিবর্তন করেন, তাহলে আবার এই জামানতের অর্থ ফেরত পাবেন না। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীরা এই নিয়মের পরিবর্তন চাচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

post
খেলা

কাতারে বিশ্বকাপে পর্যটকদের সেবা দেবে আট হাজার বাংলাদেশি

আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ। এ উপলক্ষে কাতারে আগত পর্যটকদের সেবা দিতে সম্মুখসারিতে থাকবেন যেসব পেশার মানুষেরা- গাড়ি চালকেরা তাদের মধ্যে অন্যতম। এর আওতায় বাংলাদেশি চালকদের ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন ও সুন্দর আচার-ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ উপলক্ষে কাতারের রাজধানী দোহায় প্রবাসী বাংলাদেশি গাড়ি চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খবর আরব নিউজের। জানা গেছে, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ বিশ্বকাপ উপভোগ করতে কাতারে আসবেন বলে প্রত্যাশা আয়োজক দেশটির। আর যদি তা হয়, তাহলে বিশ্বকাপ মৌসুমে কাতারের জনসংখ্যা বেড়ে যাবে ৫০ শতাংশ! ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতারে আগত পর্যটকদের সেবা দিতে সম্মুখ সারিতে থাকবেন যেসব পেশার মানুষেরা, গাড়ি চালকেরা তাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন ট্যাক্সি কোম্পানি ও রাইড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আওতায় কর্মরত চালকদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৮০০০ বাংলাদেশি। তাই দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই চালকদের জন্য তিন সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় তাদেরকে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন ও সুন্দর আচার-ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) ডা. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গাড়ি চালকেরা যদি পর্যটকদের ভালো সেবা দিতে পারে, তাহলে তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং এর মাধ্যমে আমাদের দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং করা হবে। কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাংলাদেশি শিক্ষকরা এসে ১৫টি পরিবহন কোম্পানির ৪২০ জন অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ দেন। যেসব চালক সরাসরি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারবে না, তারা অনলাইনেও এ প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারী চালকদের একজন আবদুল মোতালেব। প্রায় এক দশক ধরে কাতারে কাজ করছেন তিনি। মোতালেব বলেন, যাত্রীদের সাথে কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে এসে আমরা ভাষা ব্যবহারের ব্যাপারে কিছু পরামর্শ পেয়েছি। কিভাবে যাত্রীদেরকে সুন্দর করে অভিবাদন জানাতে হবে এবং এই দেশ সম্পর্কে সাধারণ কিছু তথ্য দিতে হবে, সেগুলো শেখানো হয়েছে আমাদের। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের খুবই উপকার হয়েছে। আরেকজন গাড়িচালক সাইদুল ইসলাম জানান, বিদেশিদের সাথে কথপোকথনের ব্যাপারে তার যে জড়তা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে এই প্রশিক্ষণ। তিনি বলেন, আগে আমি বিদেশিদের সাথে কথা বলতে ভয় পেতাম। কিন্তু এই প্রশিক্ষণের পর সেটা সহজ মনে হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে কাতারে অভিবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি বড় প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এই মুহূর্তে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ৪০০,০০০। এদের মধ্যে অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা, ভবন নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন সেবা খাতে নিযুক্ত আছেন।

post
বাংলাদেশ

বিদেশি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিয়োগ ও সোর্সিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিতে বিদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের সেরা অনুকূল গন্তব্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানীকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক-২০২২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এই আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। এরফলে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন বিনিয়োগ এবং সোর্সিং-এর জন্য সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আমি দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকেও অনুরোধ করছি। আপনারা তাদের প্রযুক্তি, জ্ঞান আপনাদের শিল্প খাতে গ্রহণ করুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণই আমাদের সাহসের উৎস। জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার এখন মাথাপিছু আয়। ক্রয় ক্ষমতাও এদেশের মানুষের বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের নিজস্ব বাজার তৈরী হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু রপ্তানী করলেই চলবেনা, নিজের দেশের ভেতরেও বাজার সৃষ্টি করতে হবে এবং করোনাকালিন তাঁর সরকার যতটা সম্ভব তৃণমূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়া ও সরবরাহ করা যায় সেটা করেছে। এরফলে মানুষের ভেতর হাহাকার আসেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পদধ্বনি শুনছি আমরা। যারা শ্রম দেয় তারা আমার বাংলাদেশেরই মানুষ তাদেরকে আমরা আরো উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে চাই । কারণ এখন বিজ্ঞানের কারণে প্রযুক্তির নতুন নতুন আবির্ভাবে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের উপযুক্ত করে দক্ষ মানব সম্পদ আমাদের গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং উদ্যোক্তাও সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এই ৪র্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানে যে প্রভাব ফেলবে সেজন্য আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করা হয়েছে। আমাদের তৈরী পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে, সেজন্য আমরা প্রস্তুত, আমরা তৈরী করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মাথায় আমাদের এই চিন্তাও ঢোকাতে হবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের দেশে-বিদেশে দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন পড়বে। তারা যাতে প্রযুক্তি জ্ঞানেও দক্ষ হয় সেজন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি তৈরী পোশাক রপ্তানীকারকদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কাপড়ের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শ্রম বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর রাজনীতিই হচ্ছে এদেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহেনতি মানুষের জন্য। তাদের কল্যাণই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আমাদের যে বিপুল শ্রমশক্তি রয়েছে তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা এবং মেধা কাজে লাগানোরও ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে জোর দিয়ে বলেন, আমাদের সাড়ে ১৬ কোটির ওপরে মানুষ এবং তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। কিন্তু আমরা কারো কাছে ভিক্ষা করে চলতে চাইনা। নিজের খাদ্য উৎপাদন নিজে করবো। সেজন্য ফসলি জমি রক্ষা করা, যততত্র শিল্প গড়ে না তোলা এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্প গড়ে তোলার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) হল অফ ফেম-এ ‘কেয়ার ফর ফ্যাশন’ থিম নিয়ে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে। ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এর প্রচার করাই এই ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য কারণ। বিজিএমইএ তার মার্কেট শেয়ার ধরে রাখতে এবং বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পোশাকের মার্কেট শেয়ার বাড়াতে চায়। সপ্তাহব্যাপী এই মেগা ইভেন্ট গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের অংশীদারদের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুটি কফি টেবিল বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন, যার ওপর বিজিএমইএ চলতি বছরের শুরু থেকে কাজ করছে। পোশাক রপ্তানীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪ জন তৈরী পোশাক প্রস্তুতকারককে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ইন্টারন্যাশনাল এ্যাপারেল ফেডারেশন (আইএএইফ) সভাপতি সেম অলটান এবং বিজিএমইএ সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি বক্তৃতা করেন। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। দেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক পৃথক দুটি ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।সূত্রঃ  বাসস 

post
বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌদি উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল-দাউদ। রোববার (১৩ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা পদ্মায় সৌদি উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ড. নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। পরে এ বিষয়ে মোমেন বলেন, নারী পুলিশসহ পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব একসঙ্গে কাজ করবে। আমি ভেবেছিলাম এটি নতুন চালু করা। আমাদের নারী পুলিশরা ভালো করছে। এটা (এ ধরনের সহযোগিতা) ভালো।উভয় পক্ষ শ্রমিক সমস্যা সমাধান এবং কিংডম অব সৌদি আরব (কেএসএ) থেকে কম দামে এলএনজি আমদানি নিয়েও আলোচনা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সৌদি উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নাসের বিন আবদুল আজিজ আল-দাউদ দুই দিনের সফরে শনিবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। তার সফরে দেশটির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দুটি চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ ১৩ নভেম্বর রাতে তিনি দেশে ফিরে যাবেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কর্মী নিবে সৌদি আরব

বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি সরকার। শনিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের ডেপুটি ইন্টেরিয়র মিনিস্টার ড. নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদ।সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দুটি চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি সরকার। রোড টু মক্কা চুক্তি অনুসারে এখন দীর্ঘ সময় ধরে ইমিগ্রেশনের কোনও হয়রানি ছাড়াই প্লেন থেকে নেমেই হাজিরা মক্কা শরীফে চলে যেতে পারবেন।মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে রুট টু মক্কা সার্ভিস চুক্তি করতে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, আরেকটি নিরাপত্তা বিষয়ে কথা হয়েছে। দুই দেশের পুলিশের মধ্যে ট্রেনিং বিনিময় হবে। তাদের নারী পুলিশ সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে ট্রেনিং নেবেন। এ দেশের নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের দেশ থেকে ট্রেনিং নেবেন।এর আগে, শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সৌদি আরবের উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল-দাউদ দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি উপমন্ত্রী রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় তার সৌদি আরব ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালদ্বীপে আগুনে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বিদেশি শ্রমিকদের একটি আবাসস্থলে আগুনে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। নিহতরা হলেন— টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের জরিফ আলীর মেয়ে আসিয়া বেগম এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের গোলামের ছেলে উজ্জ্বল। মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব সোহেল পারভেজ শুক্রবার (১১ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গুরুতর আহত হয়ে মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের রোকন মোল্লা ও রহিমার ছেলে তৈয়ব। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) ভোরে মালের মাফান্নু ও ইস্কান্দার মাগুর কাছে একটি ভবনের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে দুই বাংলাদেশিসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অনেকে দগ্ধ হয়েছেন। এ বিষয়ে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শহিদ ফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে সমবেদনা জানিয়েছেন। মালদ্বীপ পুলিশ জানিয়েছে— অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১ জনের মধ্যে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার নারী ও পাঁচ পুরুষ রয়েছেন। চার নারীর মধ্যে তিনজন ভারতীয় ও একজন বাংলাদেশি। এছাড়া পাঁচজন পুরুষের মধ্যে চারজন ভারতীয় ও একজন বাংলাদেশি। এখনো দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দেশটির ফায়ার সার্ভিস জানায়— সেনরোজ নামের ওই ভবনের নিচে গ্যারেজে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভবনটিতে বেশিরভাগ অভিবাসী নারী শ্রমিকেরা থাকতেন

post
বাংলাদেশ

পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনেয়োগের আহ্বান

পাকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার বলে মন্তব্য করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রুহুল আলম সিদ্দিক। এছাড়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করার প্রচেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একইসঙ্গে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনেয়োগের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রুহুল আলম সিদ্দিক। সেখানেই এসব মন্তব্য করেন তিনি। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, বুধবার মুলতান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (এমসিসিআই) ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে হাইকমিশনার রুহুল আলম পাকিস্তানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে যেখানে বিনিয়োগকারীদের কর ছাড় ও অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়া হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরাও (অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগে) অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সমান সুযোগ উপভোগ করতে পারে।’ অবশ্য এর আগে ২০২০ সালেও একবার রপ্তানি শিল্পে পাকিস্তানি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সেসময় পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান এই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ‘বাংলাদেশে রপ্তানি এবং বিনিয়োগ’ ইস্যুতে পাকিস্তানের করাচিতে আয়োজিত এক সেমিনারে তৎকালীন হাইকমিশনার তারিক আহসান বলেন, ‘আমি পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ থেকে আরও আমদানি করার জন্য আমন্ত্রণ জানাই।’ আহসান আরও বলেন, পাকিস্তানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া তার দেশ বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধার্থে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে। অবশ্য সাম্প্রতি বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে পাকিস্তানের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছিল। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ডন সেসময় আরও জানায়, পাকিস্তানের এই রপ্তানি আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকের ১২৭ দশমিক ৪৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ২০২১ সালের একই সময়ে ১৭৫ দশমিক ৩৮৯ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি একই সময়সীমায় বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের আমদানিও ব্যাপক বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের আমদানির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে ১৭ দশমিক ৪৪৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালদ্বীপের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ ১১ জনের মৃত্যু

মালদ্বীপের রাজধানী মালের মাফান্নু এলাকায় একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশিসহ এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানী মালের মাফান্নু এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মালদ্বীপ সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে এ তথ্য জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে যারা মারা গেছে তাদের জাতীয়তা সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ৯ জন ভারতীয় ও দু’জন বাংলাদেশি নারী শ্রমিক রয়েছেন। তবে এখনও আহত অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অনেকেই। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, যে ভবনের নিচতলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেই ভবনে অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক। এদিকে, মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রথম সচিব মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ ও কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান, জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থল ও মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুরুষ শ্রমিকসহ আরও দুইজন রোগীর খোঁজ খবর নিয়েছেন।

post
শিক্ষা

ডেনমার্কে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেভাবে যাবেন

৫৭ লাখেরও বেশি মানুষের নর্ডিক দেশ ডেনমার্ক মূলত ৪৪৩টি দ্বীপের এক দ্বীপপুঞ্জ। নিম্নভূমির এই দেশটির আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক অন্যতম। শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়। বরং দেশটির উচ্চমানের জীবনযাত্রার কারণে হাজারো শিক্ষার্থী ডেনমার্ক অভিমুখী হন উচ্চশিক্ষার জন্য। এই ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষার নানা দিক নিয়েই আজকের আয়োজন। ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতাবাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তরের জন্য ডেনমার্ক গেলেও, সেখানে স্নাতক করারও বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে। এইচএসসি পাস বা মাধ্যমিক ডিপ্লোমাধারীরা তাদের সনদ দিয়ে ডেনমার্কে ব্যাচেলরের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সনদ ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমমূল্য কিনা তা যাচাই করা হয়। এখানে মূলত একাডেমিক মার্কশিটের প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত গ্রেড ও জিপিএ (গ্রেড পয়েন্টের গড়) ডেনমার্কের পরীক্ষার নম্বর ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। ডেনিশ এজেন্সি ফর সায়েন্স অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন তাদের আন্তর্জাতিক পরীক্ষার হ্যান্ডবুকের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি গ্রেডগুলোকে ড্যানিশ গ্রেডিং স্কেলে রূপান্তর করে। তাই এই যোগ্যতা পূরণ হয়েছে কিনা তা জানতে শিক্ষার্থীদের তাদের পছন্দের বিষয়ের জন্য পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ভালো ভাবে অধ্যয়ন করে নেওয়া উচিত। এছাড়া ডেনমার্কের স্নাতক শিক্ষার জন্য এখানে নিবন্ধন করে যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে। অথবা এই ফর্মটি পূরণ করে সরাসরি ইউনিভার্সিটিতে পাঠালে তারা ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই করে দেয়। মাস্টার্স ও পিএইচডিসহ যে কোনো স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য যোগ্যতা ন্যূনতম ৪ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রী। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এক্ষেত্রে ডেনিশ ডিগ্রীগুলোর সমতূল্য বাংলাদেশের ব্যাচেলর ডিগ্রীগুলো একটা স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারে। ভাষাগত যোগ্যতা ইংরেজি ভাষার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা ন্যূনতম ইংরেজি-বি ক্যাটাগরির হতে হবে। এটি মূলত ডেনিশ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রণীত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাই ব্যবস্থা। কোনো কোনো প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ইংরেজি-এ প্রয়োজন হয়। ইংরেজি-বি এর সমতূল্য আইইএলটিএস স্কোর ৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট, যেটা ইংরেজি-এ এর ক্ষেত্রে ৭ পয়েন্ট। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডেনমার্কের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডেনমার্ক বোলোগনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তাই শিক্ষার্থীরা ডেনিশ প্রতিষ্ঠানে যে ডিগ্রি অর্জন করেন তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ২০২৩-এর কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮২-তম অবস্থানে আছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডেনমার্কের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- - আরহাস বিশ্ববিদ্যালয় - ডেনমার্কের কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় - ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ডেনমার্ক - আলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় - কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুল - রসকিল্ড ইউনিভার্সিটি এছাড়াও ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক ভাবে স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদেরকে তাদের পছন্দ অনুসারে বিভিন্ন বিষয় বেছে নেওয়ার জন্য স্বাগত জানায়। ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন পদ্ধতি ডেনমার্কে পড়াশোনার জন্য যাবতীয় যোগ্যতা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা স্বীকৃত হওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। এক্ষেত্রে আগে থেকেই যোগ্যতা প্রমাণের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি যোগাড় করে রাখা আবশ্যক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র - স্নাতকের জন্য শুধু এইচএসসি/ডিপ্লোমার মূল প্রশংসাপত্র - আইইএলটিএস/টোফেল স্কোরের সনদ - যদি কোনো নথিতে নামের পরিবর্তন থাকে তাহলে নাম পরিবর্তনের নথি প্রয়োজন হবে; যেমন: বিবাহের সনদপত্র - যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য দ্বিতীয়বার আবেদন করা হয়ে থাকলে পূর্বের মূল্যায়ন এবং স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের নথি সংযুক্ত করতে হবে - স্নাতকোত্তরের জন্য উপরোক্ত নথিপত্রের সাথে স্নাতক ডিগ্রি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সংযুক্ত করতে হবে| এছাড়াও বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ডেনিশ এজেন্সি ফর হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড সায়েন্স শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ের নিমিত্তে আরও কাগজপত্র চাইতে পারে। ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনের উপায় ডেনমার্কে স্নাতক উচ্চশিক্ষার আবেদনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত হয়। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদেরকে সরাসরি একক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন না করে জাতীয় ভর্তির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এই অনলাইন আবেদন চলাকালে কাগজপত্র আপলোড করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। - মূল নথিগুলোর প্রতিটি আলাদা ভাবে উভয় পিঠ স্ক্যান করতে হবে। - স্ক্যান করা নথির ছবি অবশ্যই রঙিন হতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে যেন, নথির তথ্যগুলো স্পষ্ট পড়া যায়। - শুধুমাত্র পিডিএফ ফাইল গ্রহণযোগ্য - স্ক্যানের পর প্রতিটি নথির ফাইলের তার স্ব-স্ব নাম দিয়ে কম্পিউটারে রাখতে হবে। তারপর আবেদনের সময় প্রয়োজন অনুসারে আপলোড করতে হবে| প্রতিটি প্রোগ্রামে আবেদনের বেলায় শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পৃথক পৃথক স্বাক্ষর করা পৃষ্ঠা পাঠাতে হবে। ডিজিটাল আবেদন সম্পন্ন করার পর সেই জাতীয় ভর্তির ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে স্বাক্ষর করার পৃষ্ঠা। সেটি প্রিন্ট করে স্বহস্তে স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় পাঠাতে হবে। তবে মাস্টার্স বা পিএইচডির বেলায় শিক্ষার্থীকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এখানেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বাক্ষর করার নথি পাবেন। এখানেও একই ভাবে প্রিন্ট করে স্বহস্তে স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দিতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায়। সাধারণত স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আবেদনগুলো স্নাতক ডিগ্রির আবেদনের তুলনায় সহজ। অনলাইন আবেদনের পর কাগজপত্র পাঠানোর উপায় স্নাতকের ক্ষেত্রে সমস্ত নথি পাঠানোর ঠিকানা হলো- Danish Agency for Higher Education and Science, Haraldsgade 53, 2100 Copenhagen কুরিয়ারের সময় খামের ওপর শিক্ষার্থীর পুরো নাম এবং জন্ম তারিখ উল্লেখ করতে হবে। স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে সব একই শুধু ঠিকানার জায়গায় থাকবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল নথিগুলো ডাকযোগে আবেদনে উল্লেখিত শিক্ষার্থীর ঠিকানায় ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ডেনমার্কে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামের উপর নির্ভর করে পড়াশোনার খরচ প্রতি বছরে প্রায় ৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার ইউরো হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ লাখ ৮ হাজার থেকে ১৮ লাখ ২৪ হাজার। সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছর ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার ইউরোর (প্রায় ৬ লাখ ৮ হাজার থেকে ৯ লাখ ১২ হাজার বাংলাদেশি টাকা) মধ্যে চার্জ করে থাকে। স্বভাবতই স্নাতক ডিগ্রীগুলো স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর চেয়ে কম খরচের হয়ে থাকে। ডেনমার্কে জীবনযাত্রার জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা শুধু ডেনমার্কেই নয়; জীবনযাত্রার খরচ সাধারণত মানুষের জীবনধারণের পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। ডেনমার্কে বাসা ভাড়া, খাবার, যাতায়াত এবং কেনাকাটা সব মিলিয়ে মাসে খরচ পড়তে পারে প্রায় ৭৫০ থেকে ৯০০ ইউরোর মত, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭৫ হাজার ৯৭০ থেকে ৯১ হাজার ১৬৪ টাকা। কোপেনহেগেনের মত উচ্চ খরচের শহরে যা সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ ইউরোর (এক লাখ ২১ হাজার ৫৫২ বাংলাদেশি টাকা) মতো উঠতে পারে। ডেনমার্কে পড়াশোনার পাশাপাশি খন্ডকালীন চাকরির সুযোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরা ডেনমার্কে পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে এরকম কোনো বিধিনিষেধ নেই; পুরোটা সময়ই কাজ করা যায়। ডেনমার্কে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপের সুবিধা ডেনমার্কের ব্যয়বহুল উচ্চশিক্ষার খরচ চালানোর জন্য সেরা উপায় হচ্ছে স্কলারশিপ। আর ডেনমার্ক তার আন্তর্জাতিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ভালো স্কলারশিপের ব্যবস্থা রেখেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও স্কলারদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে এই স্কলারশিপগুলোতে সহজেই আবেদন করা যেতে পারে। সবচেয়ে জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ইরাসমাস মুন্ডাস/জয়েন্ট মাস্টার ডিগ্রি এবং ডেনিশ সরকারি বৃত্তি অন্যতম। এছাড়াও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ডেনমার্কের বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপের সুযোগ আছে।স্নাতক হওয়ার পরে চাকরি খুঁজে পেতে ৬ মাস সময় পাওয়া যায়। আর এর মধ্যেই রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। উত্তম উপায় হলো ডেনমার্কে পড়াশোনা করার জন্য রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করার সময়েই ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা। এছাড়া পরবর্তীতে ডেনমার্ক ইমিগ্রেশন সার্ভিস নেওয়ার সময়েও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়।সুত্রঃ ইউএনবি

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.