ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোলজিতে এবার সম্পন্ন হলো আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন আইট্রিপলই-আইকস্টি ২০২৫ (ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাসটেইনেবল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। গত ২-৪ ডিসেম্বর তিন দিন ব্যাপী এই সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে ৯০টিরও বেশি গবেষণাপত্র। বিশ্বের এক ডজনেরও বেশি দেশের গবেষক, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রথম ও তৃতীয় দিনে গবেষকরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। দ্বিতীয় দিনে ছিলো ইন-পার্সন সেশন। এইদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা ডব্লিউইউএসটি ক্যাম্পাস মিলনায়তনে উপস্থিত হন ও তাদের পেপার উপস্থাপন করেন।
মানবতার জন্য টেকসই প্রযুক্তি, এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। গেস্ট অব অনার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক। প্রধান আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির ভাইস চ্যান্সেলর ড. শওকত আলী এবং সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার ছিলেন ডব্লিউইউএসটি'র অধ্যাপক ও স্কুল অব আইটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ড. তৌহিদ ভূঁইয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রিন কম্পিউটিং, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমিত সম্পদ, টেকসই উন্নয়ন, ডিজিটাল ডিভাইড, নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো উঠে আসে সম্মলনে উপস্থাপিত পেপারসমূহে।
আবুবকর হানিপ তার বক্তৃতায় শিক্ষার্থীদের আগামী কর্মজগতের জন্য তৈরি করে তুলতে এসব গবেষণালব্দ জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ডব্লিউইউএসটির ট্রিপল মিশন- ডিগ্রি, স্কিল ও ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর গবেষণা উদ্যোগের মধ্য দিয়েই ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের পথ সুগম করা সম্ভব।
প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনেই আরো বেশি করে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান তৈরির ওপর জোর দেন এবং ডব্লিউইউএসটির পক্ষ থেকে গবেষণাভিত্তিক কাজ ও উদ্যোগসমূহে সকল সহযোগিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এদিন ডব্লিউইউএসটি ক্যাম্পাসে তিনটি টেকনিকাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিটি সেশনে পাঁচটি করে পেপার উপস্থাপন করা হয়। সেশনচেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্কুল অব আইটির অধ্যাপক ড. জিনেব কোরাচি ও অধ্যাপক মাহমুদ মেনন খান এবং স্কুল অব বিজনেসের সহকারী পরিচালক ড. আমালিশা আরিদি।
এবারের সম্মলনে থেকে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড পায় দুটি পেপার ও তার লেখকরা। এরা ছিলেন- ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাকসেস কন্ট্রোল ইউজিং ব্লকচেইন অ্যান্ড স্মার্ট কনট্রাক্টস ফর এনহ্যান্সড সাইবার সিকিউরিটি' শিরোনামের পেপারটির লেখক আহমেদ আফিফ মোনরাত ও কার্ল এন্ডারসন। মাল্টিলোকেশন সিকুয়েন্সিয়াল নেভিগেশন ফর অটোনোমাস মোবাইল রোবোটস বেজড অন আইআর-ইউডব্লিউবি রেঞ্জিং শিরোনামের অপর পেপারটির লেখক হুয়ান ব্যাঙ- লি, তাকেশি মাটসুমুরা, ইওসুকি তাকিগুচি ও চিতাকি কারাকি।
এবারের সম্মেল উপলক্ষে মোট ৩৫০টি পেপার জমা পড়ে। যার মধ্য থেকে ১০৫টি পেপার গৃহীত হয়। সম্মেলনের জন্য গৃহিত ও উপস্থাপিত সবগুলো পেপারই আইট্রিপলই-ইনডেক্সড ডিজিটাল লাইব্রেরির অংশ হবে এবং টপ র্যাংকড পূর্ণাঙ্গ পেপারগুলো মর্যাদাকর এসসিআইই ও স্কুপাস ইডডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হবে। যার মধ্যে রয়েছে আইট্রিপলই সিস্টেমস জার্নাল, এনার্জিস, সাসটেইন্যাবিলিটি, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইন্টলিজেন্ট সিস্টেম ও অন্যান্য।
আইট্রিপলই-আইকস্টি ২০২৫ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপনে তার অঙ্গীকার আরও জোরদার করলো। এটি ছিলো ২০২৫ সালে ডব্লিউইউএসটির আয়োজনে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এর আগে গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্লায়েড ইন্টলিজেন্স অ্যান্ড ইনফরমেটিকস এবং আগস্টে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাডভান্সেস ইন কম্পিউটেশনাল ইন্টলিজেন্স।
