post
এনআরবি লাইফ

জাঁকজমকভাবে বার্ষিক বনভোজন করলো নাঙ্গলকোট সোসাইটি ইউএসএ সংগঠন

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে বার্ষিক বনভোজন করলো নাঙ্গলকোট সোসাইটি ইউএসএ সংগঠন। ২৭ আগষ্ট রকল্যান্ড লেক স্টেস পার্কে নিউইয়র্ক ও এর আশেপাশে থাকা নাঙ্গল কোটবাসীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় এই বনভোজন। দিনব্যাপী ছিলো চমকপ্রদ নানা আয়োজন। পরিবার ও বন্ধুবান্ধব মিলে দারুন উপভোগ করেন পুরো দিনটি। নারীদের জন্য চামচে মার্বেল ব্যালেন্স করা, বালিশ খেলা, পুরুষদের জন্য মোরগের লড়াই, বস্তা রেস, কাপল এ্যাগ থ্রো, ফুটবল খেলাসহ মজাদার নানা ইভেন্ট ছিলো পিকনিকে। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহনকারী সকলের হাতে তুলে দেয়া হয় পুরস্কার। সেই সাথে ছিলো র্যাফেল ড্রয়ের আকর্ষনীয় ইভেন্ট। যেখানে প্রথম পুরস্কার ছিলো নিউইয়র্ক টু নাঙ্গল কোটের ভ্রমন টিকিট। বাকি পুরস্কারগুলোও ছিলো বেশ আকর্ষনীয়। সেখানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গল কোটের উপজেলা চ্যায়ারম্যান মো: সামছূদ্দিন কালু। বিশেষ অতিথী ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। ব্যস্ততার কারণে যদিও শেষ মুহুর্তে তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডা.সফি চৌধুরী ,ডিরেক্টর পিপল এন্ড টেক।তবে বিশেষ অতিথী হিসেবে এদিন উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক বিন সাদ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কনট্রাকটিং কম্পানীর সিইও উমর ফারুক মানিক। বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীসহ অংশগ্রহনকারী সবার হাতে পুরস্কার তুলে দেন আগত অতিথীগণ। আর পিকনিকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো খাবারের আয়োজন। দেশীয় এতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ছিলো আরও হরেক রকমের খাবাারের বাহার। আর সবকিছুর মতো মধ্যাহ্ণ ভোজও উপভোগ করেছেন সকলে। নাঙ্গল কোট সোসাইসিট ইউএসএ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট প্রৌকশলী মনির রহমান বলেন সবাইকে এক ছাতার নীচে এনে সর্ম্পকের একটা ব্রীজ তৈরিই ছিলো এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আয়োজনের আহবায়ক ছিলেন আবুল কালাম ভূইয়া ও সদস্য সচিব ইউএস বাংলা গ্রোসারির স্বত্তাধিকার শাহ আলম। এছাড়াও পুরো আয়োজনকে সফল করে তুলতে কাজ করেছেন অনেকে তারা হলেন কজী আনাম, কামাল হোসেন, জাকের হোসাইন মজুমদার, হাজী আব্দুল মান্নান, শাহ আলম হাজী আলী আক্কাস, মোহাম্মদ আলী আক্কাস, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল লতিফ, শাহজান সিরাজ। আনন্দময় এক দিন কাটিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন সবাই।

post
এনআরবি লাইফ

নিউজার্সিতে প্রাণের আমেজে অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম প্রবাসীদের বনভোজন-২০২৩

প্রতিবছরের মতো এবছরও উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নিউজার্সি বাংলাদেশী কমিউনিটির বনভোজন। ঐতিহ্যের টানে,ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে, প্রবাসেও আমরা “হ্রদয়ে বাংলাদেশ স্লোগানে এ বছর বনভোজনের আয়োজন করেছে প্রবাসেও চট্টগ্রাম। বৃহস্পতিবার প্যানিংটনের রোসডেল পার্কে অনুষ্ঠিত এই বনভোজনে নিউজার্সির বসবাসরত নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোররা দিনভর খোলা মাঠে খেলাধুলাসহ নানান আনন্দে মেতে ওঠেন। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ পেনসিলভানিয়ার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি যোগ দেন।বনভোজনের প্রবেশমুখে আয়োজকদের আন্তরিক আতিথেয়তায় সবাই মুগ্ধ হন। দীর্ঘদিন পর প্রবাসীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে মেতে ওঠেন সুখ-দুঃখের আলাপনে। অনেকে ঘুরে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়েদের জন্য আয়োজন করা হয় খেলাধুলার। মহিলাদের জন্যও ছিল বিশেষ মিউজিক বালিশ খেলা ও অন্ধের হাঁড়ী ভাঙ্গার আয়োজন। বনভোজনের বিশেষ আকর্ষন ছিলো ঘরোয়া ক্যাটারিংয়ের সুস্বাদু রান্না। যেখানে খাবারের মেনুতে ছিল চিংরী দোপেয়াজা, শুটকী র্ভতা, সবজি সহ অন্যান্য খাবার। এর বাইরে ছিলো ঝাল মুরি ও আইসস্কিম ও চা।প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতারা দারুণভাবে উপভোগ করেন। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন জলি দাস ও মৃদুল ।  আয়োজক দিদার চৌধুরী বলেন, নিউজার্সির চট্টগ্রাম প্রবাসীরা একটি পরিবারের মত। ব্যাস্ত জীবনের ভিরে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হতে। সবার মাঝে একটি বন্ধন তৈরি ছিলো এই আয়োজনের লক্ষ্য। একসাথে কিছুটা সময় আনন্দে কাটানো যায় তার জন্য প্রতিবছরের মতো এবারো আয়োজন করা হয়েছে এই বনভোজনের। বনভোজনের বিশেষ আকর্ষনীয় রেফেল ড্র । প্রথম পুরস্কার ছিলো ল্যাপটপ ও সোনার চেইনসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার। অনুষ্ঠানের শেষে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারি মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ঘোষণা করা হয় রেফেল ড্রয়ে জয়ীদের নাম। আয়োজকদের আন্তরিক আতিথেয়তায় সবাই মুগ্ধতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়ে মুক্ত মন নিয়ে বাড়ি ফেরেন সবাই। ২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল চট্ট্রগ্রাম প্রবাসীদের এই বনভোজনের আয়োজন। যেই ধারায় ১৫ বছর ধরে এই আয়োজন হয়ে আসছে নিয়মিত।

post
এনআরবি লাইফ

স্ট্রোকের লক্ষণ কি? হলেই কি করবেন?

স্ট্রোক হলো ব্রেইন বা মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিস্কের রক্তনালীর অন্যতম একটি রোগ হলো স্ট্রোক। রক্তনালীতে কখনো রক্ত জমাট বেঁধে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণের কারণে ব্রেইনের একটি অংশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। স্ট্রোক দুই ধরনের এক. মস্তিস্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ দুই. রক্তনালী ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিস্কে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছানো যার ফলে ওই অংশ শুকিয়ে যায়। স্ট্রোকের কারণ অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরাগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি বা অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতির কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এগুলোর থেকেও অন্যতম একটি কারণ হল ধূমপান। স্ট্রোকের লক্ষণইদানীং অনেক কম বয়সী মানুষজনকেও স্ট্রোক করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে এই স্ট্রোকগুলো মাইনর পর্যায়ের হয়। কিন্তু অজ্ঞতার কারনে, ভুল চিকিৎসায় এই স্ট্রোকের ভয়াবহতা বাড়তে পারে। প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি মাইনর স্ট্রোক ধরতে না পারা যায়। তাই সকলের উচিৎ স্ট্রোকের লক্ষন সমূহ জেনে রাখা। এতে মাইনর স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা ও উপযোগী চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে। মুখমণ্ডলের এক পাশ ঝুলে পড়া স্ট্রোকের প্রধান ও প্রথম লক্ষন রোগীর মুখমণ্ডলে ধরা পড়ে।মুখের বাম পাশের মাংস পেশি ঝুলে পড়ে। যার ওপর রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রন থাকে না। লক্ষণটি ভালো করে বুঝতে হলে রোগীকে হাসতে বলুন। তিনি যদি না হাসতে পারেন তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাতে দুর্বলতা অনুভবঅনেক সময় আমরা হাতের দুর্বলতা অনুভবকে পাত্তা দিই না। কিন্তু এটা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষন। স্ট্রোক করার আগে রোগী দুই হাতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন। রোগীকে সাথে সাথে হাত মাথার উপরে তুলে ধরতে বলুন। যদি রোগী বলেন তিনি হাত তুলতে পারছেন না। কিংবা যদি লক্ষ্য করেন হাত ছেড়ে দিচ্ছেন তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করুন। কথা জড়িয়ে যাওয়ামস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে বা খুব কমে গেলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের আগে কথা জড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লক্ষণটি ধরা পড়ে। যদি কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ অস্পষ্ট কথা কিংবা জড়িয়ে যাওয়া গলায় কথা বলতে থাকেন তবে অবশ্যই তা লক্ষণীয়। রোগীকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করে দেখুন। যদি আসলেই জড়ানো কথা হয় তবে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করুন। তীব্র মাথা ব্যথাস্ট্রোকের আগে রোগীরা তীব্র মাথা ব্যথার শিকার হয়ে থাকেন। তীব্র মাথা ব্যথা অনেক কারনেই হতে পারে। অনেকের মাইগ্রেন আছে। তীব্র মাথা ব্যথা মাইগ্রেনেও হয়। কিন্তু যদি হঠাৎ করে কোন ধরনের কারণ ছাড়াই মাথার বাম অংশে তীব্র ব্যথা শুরু হয় তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকামস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের বাঁধা পাবার ফলে শরীরের সাধারণ কাজ করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। ফলে হাত পা কিংবা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর স্ট্রোকের রোগীরা নিয়ন্ত্রন হারান। রোগীকে উঠে দাড়াতে বলুন। স্ট্রোকের লক্ষন হিসেবে তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। সুতরাং স্ট্রোক অবশ্যম্ভাবী। তাকে সাথে সাথে হসপিটালাইজড করতে হবে। শর্ট মেমোরি লসস্ট্রোকের আগে রোগীরা তাদের আপনজনকেও চিনতে পারেন না এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যান। ডাক্তারদের ভাষায় একে শর্ট মেমোরি লস বলে থাকেন। রোগীকে তার নিজের নাম জিজ্ঞেস করুন। তার পরিবারের লোকজনকে চিনতে পারেন কিনা তা দেখুন। তা না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন। ধন্যবাদ সবাইকে ।কেন দ্রুত হাসপাতালে নেবেন? কারণ স্ট্রোকে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটে ১৯ মিলিয়ন নিউরোন মারা যায়। স্ট্রোকের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে আসলে আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, যেটাকে বলে আইভি থ্রোম্বলাইসিস। দেশের অনেক হাসপাতালে সীমিত পরিসরে হলেও এ আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে। স্ট্রোক হলে কোন হাসপাতালে যাবেন? স্ট্রোক করলে অনেকে ভুলে রোগীকে হৃদরোগের চিকিৎসা হয় এমন হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা মনে করেন স্ট্রোক বুঝি হার্টের রোগ। আসলে তা নয়। স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের বা ব্রেনের রোগ। তাই স্ট্রোক করলে রোগীকে নিতে হবে এমন হাসপাতালে যেখানে মস্তিষ্কের চিকিৎসা হয়। রোগীকে নিতে হবে নিউরোলজিস্টের কাছে। স্ট্রোকের চিকিৎসা যেকোনো মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগে স্ট্রোকের চিকিৎসা সম্ভব। স্ট্রোকে কেউ আক্রান্ত হলে দেরি না করে নিউরোলজি বিভাগে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ, হার্টের নয়।

post
এনআরবি লাইফ

অদম্য উদ্যোক্তার খোঁজে দে স্ট্যার্ক এন্ট্রেপ্রেনিউরস বাংলাদেশ

ক্ষু্দ্র এবং অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশনের আয়োজন করে ডি স্টার্ক অনটারপ্রনার বাংলাদেশ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির বেক ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের ২ মাসব্যাপী আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হলো। আইনসেবা এবং বি টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ হাবের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়৷ টেকসই এবং অদম্য উদ্যোক্তাদের খু্ঁজে বের করতেই এ ধরনের আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।  আইন সেবার ফাউন্ডার ব্যরিস্টার রহিমা হক বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ করা। কেননা উদ্যোক্তারা পণ্য কেনা বেচা করছেন কিন্তু কোনো রকম পরিকল্পনা করছেন না৷ যার কারণে টেকসই উদ্যোক্তা হচ্ছেন না। আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন কিন্তু টেকসই উদ্যোক্তা না থাকায় অনেকেই ঝরে যাচ্ছেন।  তিনি আরো বলেন, অনেক উদ্যোক্তা জানেন না বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসেব কিভাবে করতে হয়। কত টাকা ইনভেস্ট করতে হবে, কোন কোন খাতে তার অর্থের প্রয়োজন এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। আমরা সেই উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করতে চাই যারা ঝড় বৃষ্টি যাই আসুক অদম্য গতিতে কাজ করতে পারবেন এবং তাদের যে সকল সেক্টরে ঘাটতি রয়েছে আমরা সেগুলো মনিটরিং এবং ট্রেনিং এর মাধ্যমে টেকসই করার চেষ্টা করবো। বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশনে ১৫ জন উদ্যোক্তা থেকে চূড়ান্ত পর্বে আটজন উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে সেরা ৩ নির্বাচন করা হয়৷ ফাইনাল পর্বে বিচারক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উদ্দিন আকবর; ট্রিম টেক্স এর স্বত্ত্বাধিকারী এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা শাহীদা পারভীন; প্রাইম ব্যাংক এর ওমেন অন্ট্রাপ্রেনিয়র ডেভেলপমেন্ট ইউনিট হেড সাজিয়া আফরিন। ফাইনাল পর্বে প্রতিযোগীরা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাদের উদ্যোগের বাজেটিং, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান প্রক্রিয়া, বাজার রিসার্চ, ব্যবসায় সম্প্রসারণের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে আলোচনা করেন । বিচারকদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর, বিগত ২ মাসের বিভিন্ন এ্যাসেসমেন্ট, ট্রেইনিং, সঠিক পরিকল্পনা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে সেরা ৩ নির্বাচন করা হয়। তিন সেরা উদ্যোক্তার মধ্যে প্রথম হয়েছেন বেনে বৌ এর কর্ণধার মুনমুন, ১ম রানার আপ হাউজ অফ জামদানি'র স্বত্ত্বাধিকারী মুন দাস এবং ২য় রানার আপ জোহরা'স ভ্যানিটির ফাতেমা তুজ জোহরা৷ সেরা বিজয়ীর জন্য পুরস্কার হিসেবে ছিল; • ল্যাপটপ • ফ্রি ওয়েবসাইট (১ বছর) • ই-ট্রেডলাইসেন্স নবায়ন সেবা• ডিজিটাল মার্কেটিং প্যাকেজ • উদ্যোগ ও উদ্যোক্তার নামে ক্রেস্ট রানার-আপ বিজয়ীর জন্য ছিল:• ফ্রি ওয়েবসাইট (১ বছর) • ই-ট্রেডলাইসেন্স নবায়ন সেবা• ডিজিটাল মার্কেটিং প্যাকেজ • উদ্যোগ ও উদ্যোক্তার নামে ক্রেস্ট প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা মুনমুন উদ্যোক্তা বার্তাকে জানান, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি আগেও অনেক বিষয়ে পরিকল্পনা ছাড়াই সিদ্বান্ত নিতাম যা অনেক ভুল ছিল আমার জন্য। আমি ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আমরা সবাই অনেক কিছু শিখেছি যা আমাদের উদ্যোগের জন্য খুবই কার্যকরী৷

post
এনআরবি লাইফ

চীনে তুষার আনন্দে মেতেছে বাংলাদেশিরা

আরও একটি শীতকাল এসেছে, সঙ্গে বছর ঘুরে এলো চন্দ্র নববর্ষ। নববর্ষ উপলক্ষে চীনজুড়ে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বসন্ত উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি উদ্দীপনায় বরফ ও তুষার ক্রীড়ার আনন্দ উপভোগ করছে চীনা নাগরিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চীনে এখন চলছে পুরোদমে শীতকাল। অনেক শহরের তাপমাত্রা এক থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠা-নামা করে। আবার কোনো কোনো শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। শীতকালে বেইজিং, হেবেই, হেইলংচিয়াং, চিনলিন, ইনার মঙ্গোলিয়া, চিয়াংসু, লিয়াওনিং, হুবেইসহ অধিকাংশ প্রদেশে প্রচুর তুষারপাত হয়।প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বরফ ও তুষার বিনোদন বর্তমানে বাংলাদেশসহ চীনা মানুষের বসন্ত উৎসবের ছুটি কাটানোর পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যাবতীয় বিধিনিষেধ শিথিল করার বরফ ও তুষার আনন্দ উপভোগ অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।তুষার পড়ার সময় বাইরের পরিবেশ সাদা স্নিগ্ধ কাশফুলের বাগানের মতো দেখায়। রাস্তার গাছগুলো তুষারকে আলিঙ্গন করে নিয়েছে। তুষারের ভারে নুয়ে পড়ে মগডাল, পাতারাও ঝুলে আছে দোলনার মতো। বাংলাদেশে তুষারপাত দেখা, তাও আবার নিজের চোখে দেখা, হাত দিয়ে স্পর্শ করা! তুষার নিয়ে খেলা করা! এসবইতো কল্পনার বাইরে। কিন্তু চীনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কল্পনাকেও হার মানিয়ে নরম পালকের মতো ধবধবে সাদা তুষারে আনন্দ উপভোগ করছে। আর স্মৃতিগুলো ক্যামেরায় বন্দি করছে অনেকে। আগে আমরা বিভিন্ন হলিউড মুভিতে বরফ পড়া দেখতাম। তখন খুব ইচ্ছে ছিল ধবধবে সাদা তুষারে আনন্দ উপলদ্ধি করা কিন্তু এই স্বপ্নটা বাস্তবায়ন হয়েছে চায়নাতে এসে। শীতকালে চায়নাতে প্রায় সব জায়গাতেই বরফ পরেছে, এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন শুঝৌ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রাফিদ ইবনে মাজহার।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বরফ পড়ে না। সেখানে শীতকালে অনেক কুয়াশা হয়। কিন্তু চায়নাতে শীতে কুয়াশা কম হলেও এখানে বরফ পড়ে। শুধু বাঙালি নয়, চীনে বসবাসরত অন্যান্য বিদেশিরা বরফ পড়ার আনন্দ উপভোগ করে এবং সবাই নিজের মতো ছবি, ভিডিও করে নিজের স্মৃতি ধারণ করে থাকে। বাঙালী হিসেবে এই ‘স্নো-ফল’ দেখতে পেরে আমি খুবই খুশী। কথা হয় চীনা নাগরিক ওয়াং তানহোং যিনি বেইজিংয়ে বসবাস করছেন, তার বাংলা নাম রুবিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বরফ না দেখলেও শীতকালীন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করেছি। শীতকালে পিঠা উৎসবে গিয়ে বিভিন্ন রকমের পিঠা খেয়েছি, বিশেষ করে ভাপা পিঠা।চীনে করোনাভাইরাস শিথিল হওয়ায়, এই প্রথম আমরা বরফ ও তুষারের নান ধরনের খেলাধুলার আনন্দ উপভোগ করতে পারছি। বেইজিংয়ের সামার প্যালেস, ওল্ড সামার প্যালেস, শি ছা হাই ও বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক পার্কসহ বিভিন্ন জায়গায় চীনা নাগরিকরা নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বায়েজিদ বোস্তামি বলেন, গত তিন বছর করোনা মহামারির কারণে চাইনিজ নিউ ইয়ার এবং স্নো ফলের যে উৎসব কোনোটাই উদযান করতে পারিনি। কিন্তু এই বছর কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় চাইনিজ জনগনসহ আমরা বাংলাদেশিরা খুব ভালোভাবে এই উৎসবগুলো উদযাপন করতে পারছি। চাইনিজ নিউ ইয়ার এবং বরফ ও তুষার আনন্দ উপভোগ, এক কথায় অসাধারণ।

post
এনআরবি লাইফ

একতারা'র সাথে এমওইউ সই, কমিউনিটিকে নিয়ে একসাথে বেড়ে উঠতে চায় ডব্লিউইউএসটি

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে পাশে নিয়েই বেড়ে উঠতে চায় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এটি কমিউনিটির সকলের বিশ্ববিদ্যালয়, এভাবেই বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। ভার্জিনিয়াস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'একতারা'র সঙ্গে একটি সহযোগিতা স্মারক সই করার সময় এসব কথা বলেন তিনি। একতারা'র উদ্যোগে আয়োজিত একটি নাট্ট প্রযোজনায় টাইটেল স্পন্সর হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আবুবকর হানিপ। সে উপলক্ষে একটি অনাড়ম্বর আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় সই করা হয় সমঝোতা স্মারক। একতারা'র পক্ষে এর অন্যতম প্রধান সংগঠন গোলাম মাওলা মিলন স্মারকে সাক্ষর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানতম লক্ষ্যই হচ্ছে এর ডাইভার্সিটি। বহুসংস্কৃতি থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সম্মৃদ্ধ করছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির ঋদ্ধতার প্রশংসা করে ড. কারাবার্ক বলেন, এমন একটি উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব বোধ করছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পাশাপাশি আবুবকর হানিপের নেতৃত্বে পরিচালিত অপর দুই প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক ও এনআরবি কানেক্ট টিভিও এই সমঝোতার অংশিদারীত্বে রয়েছে।আবুবকর হানিপ তার বক্তৃতায় আরও বলেন, তার পরিচালনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই একটি মানি মেকিং মেশিন হবে না। সংস্কৃতি ও শিক্ষার ওপর যুগপৎ গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার পথ চলছে। গোলাম মাওলা মিলন তার বক্তৃতায় বিশ্ববিদ্যালয় তথা এর চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। একটি উন্নত সংস্কৃতির চর্চার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পৃষ্ঠপোষকতা কমিউনিটি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি জানান এবারের নাটকটি হবে বাংলার এক সময়ের ধনাঢ্য জমিদার ও পরে আধ্যাত্মিক সাধক হাসন রাজার জীবনালেখ্য নিয়ে লেখা গল্প হাসন জনের রাজা। যার নাট্টরূপ দিয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা স্থপতি ও লেখক শাকুর মজিদ।একতারার অতীতের সকল প্রযোজনার ভূয়সী প্রশংসা করে আবুবকর হানিপ বলেন, এবছরও প্রতিষ্ঠানটি কমিউনিটির জন্য একটি মানসম্মত কর্মসূচি দিতে পারবে এমনটাই তার প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান হোসে ওর্তেগা ও একতারার অপর সংগঠন মিস. রচনা বক্তব্য রাখেন। পরে একটি কেক কেটে ও অতিথিদের মধ্যে ফুল ও বিশেষ উপহারসামগ্রী বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি শেষ হয়।

post
এনআরবি লাইফ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অজানা এক বীরত্বগাঁথা ‘নওফেলরা কখনো মরে না’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন সতেরো থেকে আঠারোতে পা দেওয়া অসীম সাহসী যুবক মেজবাহ উদ্দিন নওফেল। ৯ ডিসেম্বরে ফরিদপুর জেলা সদরের করিমপুরে পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে দিনভর যুদ্ধ করেন কাজী সালাউদ্দিন ও মেজবাহ উদ্দিন নওফেলের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা। লক্ষ্য একটাই, প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করা। তুমুল গোলাগুলির এক পর্যায়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে সবুজের কপালে লাল টিপ পরিয়ে দেন বাংলা মায়ের সূর্য সন্তান মেজবাহ উদ্দিন নওফেল। আমরা কজনেইবা জানি, কজনেইবা স্মরণ করি নওফেলের আত্মত্যাগের কথা! মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জন দেওয়া আরও লাখো মায়ের সন্তানের মতো নওফেল যেন ইতিহাস থেকে হারিয়ে না যায়, সেই দুরূহ কাজটিই করেছেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা নাদিম ইকবাল। তৈরি করেছেন প্রামাণ্যচিত্র ‘নওফেল কখনো মরে না’।যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আয়োজনে রবিবারে (৬ নভেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে প্রদর্শিত হল নাদিম ইকবালের সেই প্রামাণ্যচিত্র। সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী। নিউইয়র্কে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ছাড়াও, লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে ভরপুর জুইস সেন্টারে অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের টাইটেল স্পন্সরে নির্মিত 'ফিরে এসো বঙ্গবন্ধু' সঙ্গীত চিত্রটি দেখানো হয়। এরপরেই পরিবেশন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেলকে নিয়ে নাদিম ইকবালের নির্মিত ৪০ মিনিটের প্রামাণ্য চিত্রটি। পিনপতন নীরবতায় ছল ছল চোখে উপস্থিত সবাই প্রামাণ্য চিত্রটি দেখেন এবং নওফেলের করুন বীরত্বগাঁথার ইতিহাস জেনে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এই অনন্য অসাধারণ প্রামাণ্য চিত্রটি তৈরি ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সভাপতি ড. নুরুন নবী নির্মাতা নাদিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানান এবং আবেগাপ্লুত হয়ে যেন নাদিম ইকবালের মাঝেই নওফেলকে দেখতে পাচ্ছিলেন।  প্রধান অতিথির বক্ত্যবে খ্যাতিমান কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। আবারও ১৯৭১ সালে অনেক রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছি স্বাধীনতা। গৌরবময় এই অর্জন যেমন আনন্দের, তেমন বেদনার। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে আছে বিজয় গাঁথার পাশাপাশি নির্যাতন-নিপীড়ন গণহত্যার বীভৎসতা। এই প্রামাণ্যচিত্র থেকে বুঝা যায় স্বাধীনতা অর্জনটা কত ত্যাগের বিনিময়ে হয়েছে। এই ভাষা, এই দেশ রক্ষার, স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম বলেন, প্রামাণ্য চিত্রটি দেখে আমি বারবার একাত্তরে ফিরে যাচ্ছিলাম। নওফেলের মতো আরও কতো বীর সন্তানেরা আমাদের থেকে হারিয়ে গেছেন। আমাদের সকলের বয়স বাড়ে, ধীরে ধীরে আমরা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হই। কিন্তু নওফেল? নওফেল যেই মুহূর্তে শহীদ হয়েছে, সেই মুহূর্তেই তার বয়স স্থির হয়ে গেছে। বাংলার আর বাঙালির ইতিহাসে নওফেলের বয়স আর বাড়বে না, চির যুবক হয়েই সে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফুন নাহার লতা বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর হয়ে গেল, মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী অনেক বীরের কথা আমাদের জানা নেই। এখন যেসব মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন, তারাও ধীরে ধীরে প্রকৃতির নিয়মে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু আমরা যদি তাদের ত্যাগের কথা ধরে রাখতে না পারি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা তেমন কিছু দিতে পারবো না। তাই আসুন আমরা খুঁজে খুঁজে তাদের ত্যাগের কথা, তাদের বীরত্বগাঁথা সংরক্ষণ করি।  আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরান মজুমদার রুনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা জারিফ আশরাফ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রামাণ্য চিত্র নির্মাতা নাদিম ইকবাল, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সমাজ চিন্তক বেলাল বেগ ও শুক্লা গাঙ্গুলি। বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ। কবিতা আবৃত্তি করেন গোপন সাহা ও স্বাধীন মজুমদার। অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ড. জিনাত নবী, ফাহিম রেজা নূর, জাকিয়া ফাহিম, মাহাবুবুর রহমান টুকু, কবি মিশুক সেলিম ও ছড়াকার খালেদ সরফুদ্দীন।

post
এনআরবি লাইফ

বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত, ওজন পার্কে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সোসাইটির নতুন কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা গত ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া। সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন সিদ্দিকীর পরিচলনায় সভায় অন‍্যান‍্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি-মোঃ মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি- ফারুক চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক- আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ- মোঃ নওশেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক- আবুল কালাম ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- ডাঃ শাহনাজ আলম লিপি, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ, সাহিত্য সম্পাদক- ফয়সল আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- প্রদীপ ভট্টাচার্য, কার্যকরী সদস্য- ফারহানা চৌধুরী, মোঃ আখতার বাবুল, আবুল বাশার ভূঁইয়া, মোঃ সাদী মিন্টু, শাহ মিজানুর রহমান।নতুন কমিটির প্রথম এই কার্যকরী সভায় শুরুতেই দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া। তিনি বলেন, শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নানান সংকট মোকাবেলা করে আজকের এই কার্যকরী কমিটির সভায় আমরা সকলে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আর এই সুযোগটি সোসাইটির সম্মানিত ভোটার প্রবাসী বাংলাদেশীরা আমাদের কেন দিয়েছেন তা আমাদের সব সময় স্মরণ রাখতে হবে। নিরঙ্কুশ এই বিজয়ে আমাদের সকলের দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা অনেক অনেক গুন বেড়েছে তাও মনে রাখতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত কার্যকরী কমিটির সকল কর্মকর্তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ববোধের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তা পালন করার জন্য অনুরোধ করেন।সভাপতির বক্তব্যের পর একে একে কার্যকরী কমিটির সকল কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একে অন্যের সাথে পরিচিত হন এবং সংক্ষিপ্তভাবে সংগঠন নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর ওজন পার্কের দেশী সিনিয়র সেন্টারে উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফারুক চৌধুরীকে আহবায়ক আবুল কালাম ভূঁইয়াকে সদস্য সচিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, যুগ্ম সদস্য সচিব টিপু খান প্রধান সমন্বয়কারী আবুল বাশার ভূঁইয়া ও সমন্বয়কারী প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং শাহ মিজান কে দিয়ে উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। অনুষ্ঠান সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয় ।এদিকে সভায় মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বৃহৎ পরিসরে উদযাপনের লক্ষ্যে মহিউদ্দিন উদ্দিন দেওয়ান কে আহবায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক চৌধুরী, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহানা চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী মাইনুল উদ্দিন মাহবুব ও সমন্বয়কারী সাদী মিন্টু এবং আক্তার বাবুল।কার্যকরী কমিটির প্রথম এই সভা সমাপ্তির পূর্বে সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন সিদ্দিকী কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সোসাইটির আজীবন সদস্য হননি তারা আগামী কার্যকরী মিটিং এর আগেই তা সম্পূর্ণ করবেন। একই সাথে কমিউনিটির অন্যান্য মানুষদেরও আজীবন সদস্যপদ গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। 

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্কে শুরু ১৪ দিনব্যাপী ৩৪ শিল্পীর চিত্রপ্রদর্শনী

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা আলোকে ১৪ দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়েছে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এ্যান্ড লার্নিং’ এ। ‘শিল্পের সাথেই থাকুন’ স্লোগানে উজ্ঝীবিত ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম’র এই প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর যাপিত জীবনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ৮ অক্টোবর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোস্তফা সারোয়ার। বাংলাদেশের এক সময়ের সেরা মেধাবিদের অন্যতম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘ ৩৯ বছর শিক্ষকতায় (ডীন, ভাইস চ্যান্সেলর) নিয়োজিত থাকা মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমি সমাজ-সংস্কৃতির গভীরে অনেক কিছু দেখেছি। লিবারেল আর্টস এ্যান্ড ফাইন আর্টসের সাথেও আমি পরিচিত। তবে আজকের এই শিল্পীবৃন্দের আয়োজনে আমি অভিভূত এবং বিনয়ের সাথে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি সকলের প্রতি। তিনি বলেন, এখানে বিচক্ষণতার অপূর্ব উপস্থাপন ঘটেছে। সর্বজনীনতার ঘটনাবলি দৃশ্যমান হয়েছে আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থানকারি নিউইয়র্ক সিটিতে। সারাবিশ্বের মানবতার উৎকর্ষ সাধনের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হতে পারে এসব চিত্র, মত দেন অধ্যাপক মোস্তফা সারোয়ার। তিনি বলেন, বাঙালি শিল্পীরা এভাবেই বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এজন্যে আমি গৌরববোধ করছি। এরপর সকল বিশিষ্টজনকে সাথে নিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোস্তফা সারোয়ার।এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের কর্মকর্তা আলমা লিয়া বলেন, এটি শুধু স্মৃতিকথা নয়, সকল শিল্পীর জীবনের ধারাবিবরণী, যা পরিণত হয়েছে চমৎকার একটি কানভাসে। সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উঠেছে প্রদর্শনী স্থানটি।শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন ড. মহসিন পাটোয়ারি এবং মূলধারায় প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলমও এমন আয়োজনের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন এবং বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্যে এটি হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস। তারা উভয়েই শিল্পীদের অসীম ধৈর্য এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যার শিল্পীরা হলেন আর্থার আজাদ, আলমা লিয়া, আজমীর হোসাইন, বশিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দীনা জামান, ফারহানা ইয়াসমীন, কীয়ো চি মঙ, কায়সার কামাল, কানিজ হুসনা আকবরী, কাউসার ফেরদৌসী, কাজী রকিব, লায়লা আঞ্জুমান আরা, মুতলুব আলী, মোহাম্মদ টুকন, মাসুদুল আলম, মাসুদা কাজী, মোহাম্মদ হাসান রুকন, মোস্তফা টি আরশাদ, নুরুল হক মিন্টু, নাজ হোসাইন পলি, জাহাঙ্গির রুদ্র, সাঈদ এ রহমান, সাজেদা সুলতানা, মোহাম্মদ সাঈদুল হাসান, শামীম সুবর্ণা, সালমা কানিজ, শামীমা এ রহমান, সুজিত কুমার সাহা, তাজুল ইমাম, তারিক জুলফিকার, তাসনোভা রহমান, ওয়াহিদ আজাদ, জেবুন্নেসা কামাল এবং ইকবাল হোসাইন।প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ২২ অক্টোবর।

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়ায় উদযাপন শারদীয় দুর্গোৎসব

‘যা দেবী সর্বভুতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা/নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমো’ মন্ত্রে গোটা মানবতার সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধি কামনায় যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হলো শারদীয়া দুর্গোৎসব। নিউইয়র্কে শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, ভার্জিনিয়ায় নীলাচল সর্বজনীন শারদ উৎসববের পূজা অর্চনা গেল সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা সমিতির ‘৩৩তম দুর্গাপূজা’র অনুষ্ঠান হবে নিউইয়র্ক সিটির ফ্রেশ মেডোজে গুজরাট সমাজ মিলনায়তনে ৮ ও ৯ অক্টোবর। এ ছাড়া নিউইয়র্ক, নিউজার্সি এবং পেনসিলভেনিয়া স্টেটের প্রবাসীদের উদ্যোগে আরো ৩০টির মত মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের সংবাদ এসেছে। প্রতিটি মন্ডপেই বিপুল লোকসমাগম ঘটে। সকলেই ছিলেন ধর্মীয় সম্প্রীতির পরম বন্ধনে। নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘বাংলা ক্লাব’র পূজানুষ্ঠানের আয়োজনেও ছিলেন কয়েকজন মুসলমান যুবক। এভাবেই বাঙালি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত হয়েছে বহুজাতিক এ সমাজে। জ্যামাইকায় শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের পূজা-অর্চনায় নেতৃবৃন্দপূজা-অর্চনা চলাকালে সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের শীর্ষ নেতারা সেখানে গিয়ে সকলের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অন্যতম উপদেষ্টা একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট জাকির হোসেন বাচ্চু এবং ভার্জিনিয়ার নীলাচল সার্বজনীন শারদ উৎসবের অন্যতম সংগঠক শুভ রায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস, সাংবাদিক কানু দত্ত, আদিত্য শাহীন, সুজন আহমেদ প্রমুখ। জ্যামাইকা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি আনিসুর রহমান জানান, শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে প্রতিদিনই বিপুল লোক-সমাগম ঘটে পূজা-অর্চনায়। ভার্জিনিয়ায় নীলাচল সর্বজনীন পূজা উৎসবে মেতেছিল নতুন প্রজন্ম১ অক্টোবর শুরু এ দুর্গোৎসব শেষ হয় মঙ্গলবার ৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে। প্রতিদিনই অঞ্জলী, সন্ধ্যা আরতী,প্রসাদ বিতরণ, কোজাগরী লক্ষীপূজা,শ্যামা পূজার আয়োজন ছিল লক্ষনীয়। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে অভিভাবকের সকলেই মুগ্ধ। পূজা-অর্চনার মূল লক্ষ্য এভাবেই অর্জিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের কর্মকর্তারা। সমাপনীতে সিঁদুর দান উৎসব,শুভ বিজয়ের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান, মিষ্টি বিতরণ ছিল উল্লেখ করার মতো। মন্ডপ প্রাঙ্গণে সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন কৃষ্ণাতিথি, সবিতা রায়, রুনা রায়, জয়শ্রী রায়, অর্পণা রায়, সম্পা রায়, উইলি নন্দী, অঞ্জলী সরকার, মমতা ভৌমিক, বিথিকা কুন্ডু, মিনাক্ষী রায়,শিপ্রা রায়, অঞ্জলি সরকার, প্রিনা নন্দী,অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, স্নেহা দেবনাথ প্রমুখ। এই পূজা আয়োজক সংগঠন ছিল ‘শ্রীকৃষ্ণ ভক্তসংঘ’। দুর্গোৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কর্মসূচিগুলোর পরিচালনায় ছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ডা. প্রভাত চন্দ্র দাস, আহবায়ক সুভাস কুমার সাহা, যুগ্ম আহ্বায়ক ইন্দ্রজিৎ মজুমদার, পঙ্কজ রায়, সুমন মিত্র, নিতাই পাল, সঞ্জয় কর, জয়শ্রী রায়, অমরেন্দু নাথ দাস, রঞ্জিত বণিক এবং সুরঞ্জন বণিক, সমন্বয়কারি রঞ্জিত রায়। এছাড়াও ছিলেন সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি অজিত চন্দ, সাধারণ সম্পাদক অর্ধেন্দু কিশোর বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন ভট্টাচার্য। অর্থ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুরেশ চন্দ্র রায়। আয়োজনের সহায়তায় আরো ছিলেন সুশীল সাহা এবং রূপকুমার ভৌমিক।  ভার্জিনিয়া থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে সবথেকে বড় উৎসব শারদীয়া। শরৎকালের মনোরম আবহাওয়ায় দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত থাকেন বঙ্গ সন্তানেরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর শনিবার ভিয়েনায় কিলমার মিডল স্কুল মিলনয়াতনে অনুষ্ঠিত হয় ‘নীলাচল সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। জ্যাকসন হাইটসে বাংলাক্লাবের পূজা উৎসবে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতৃবৃন্দষোড়শোপচারে দেবী বোধনের মধ্যে দিয়ে যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে পূজিত হলেন দুর্গতিনাশীনি দেবী দুর্গা। দুর্গাপূজার পোরহিত্য করেন বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির "ঢাকেশ্বরী মন্দিরের" সাবেক পুরোহিত রণজিৎ চক্রবর্তী এবং সহযোগিতায় ছিলেন সাধক চক্রবর্তী ও মিতা চক্রবর্তী। ঢাকের তাল, মন্ত্র উচ্চারণ, চন্ডীপাঠ, কাঁসর ঘন্টা থেকে শুরু করে শঙ্খ ধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মন্দির থেকে মন্ডপগুলো রীতিমতো ভক্তদের পদভাওে সরব হয়ে ওঠে সকাল থেকেই। বেলা ১২টায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন আগত ভক্তরা। দুপুর ২টায় এবং সন্ধা ৭টায় আগত হাজারো ভক্ত’র মাঝে ভোগ এবং সুস্বাদু প্রসাদ বিতরন করা হয় বলে জানান সংগঠনের সভাপতি বাবু প্রানেশ হালদার।প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও দৃষ্টিনন্দন মন্ডপ ও কারুকাজে দশ প্রহরণধারিণীর বন্দনায় থিম ছিল "কুড়ে ঘরে মা রাজ রাজেশ্বরী"। বিগত দেড়মাস যাবৎ নীলাচল টিম নিরলসভাবে কাজ করেছেন শোলা ও রংয়ের কারুকাজে। এ তথ্য জানান মঞ্চ ও মন্ডপ কমিটির নিত্যানন্দ সরকার ও আকাশ সরকার। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে বিকেল ৪টায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমবেতসংগীত "দুর্গে দুর্গে দূর্গতিনাশিনী" পরিবেশনায় ছিল নীলাচল পূজা পরিবার। শিশু কিশোরদের মনমাতনো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিল নুতন প্রজন্মের পুনম ও মালিশা।ওয়াশিংটন ডি.সি'র অনতম্য পারফর্মিং আর্ট ইষ্টিটিউট "মুদ্রা"র নিবেদন " অজ্ঞলী" ছিল মনোমুগ্ধকর। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও ভারত থকে আগত ইন্ডিয়ান আইডল বিজয়ী " রাহুল দত্তের মন মাতানো গানে মুহুর্মুহ করতালি আর নাচে মেতে উঠেছিলেন সকলে। স্থানীয় শিল্পীর মধ্যে ছিলেন ক্লেমেন্ট গমেজ, মনোজ দাস, রোজমেরী মিতু, জুয়েল বড়োয়া, রুম্পা বড়োয়া, স্বপ্না শর্মা, হ্যাপি দেবনাথ, রিজয়া রায়, প্রিয়াঙ্কা সরকার, সিনথিয়া গমেজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এবং সার্বিক তত্বাবধয়ক সোমা হালদার এবং ক্লেমেন্ট গমেজ জানান, ধমীয় সম্প্রীতির বন্ধনে এবারের দুর্গোৎসবের এ আয়োজন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে সফল হয়েছে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রানেশ হালদার এবং অপর কর্মকর্তা নিত্যানন্দ সরকার, মনোজ দাশ, সুমন দেবনাথ, পরিতোষ মৃধা, বিজন সিংহ, সনজিৎ সাহা, অখিল নাগ, বিমল রাহা, শুভ রায়, আকাশ সরকার, অলক রাহা, অমিত কর্মকার, অঙ্শুমান চক্রবর্তী, দীপংকর দেবনাথ, জীবন সরকার, রাজ বাজগেইন, উত্তম সরকার এবং বিদ্যুৎ ব্যাণার্জী ছিলেন অভ্যর্থনাসহ কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয়ে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.