এনআরবি লাইফ

স্ট্রোকের লক্ষণ কি? হলেই কি করবেন?

post-img

স্ট্রোক হলো ব্রেইন বা মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিস্কের রক্তনালীর অন্যতম একটি রোগ হলো স্ট্রোক। রক্তনালীতে কখনো রক্ত জমাট বেঁধে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণের কারণে ব্রেইনের একটি অংশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

স্ট্রোক দুই ধরনের

এক. মস্তিস্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ

দুই. রক্তনালী ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিস্কে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছানো যার ফলে ওই অংশ শুকিয়ে যায়।

স্ট্রোকের কারণ

অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরাগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি বা অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতির কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এগুলোর থেকেও অন্যতম একটি কারণ হল ধূমপান।

স্ট্রোকের লক্ষণ

ইদানীং অনেক কম বয়সী মানুষজনকেও স্ট্রোক করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে এই স্ট্রোকগুলো মাইনর পর্যায়ের হয়। কিন্তু অজ্ঞতার কারনে, ভুল চিকিৎসায় এই স্ট্রোকের ভয়াবহতা বাড়তে পারে। প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি মাইনর স্ট্রোক ধরতে না পারা যায়। তাই সকলের উচিৎ স্ট্রোকের লক্ষন সমূহ জেনে রাখা। এতে মাইনর স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা ও উপযোগী চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

মুখমণ্ডলের এক পাশ ঝুলে পড়া

স্ট্রোকের প্রধান ও প্রথম লক্ষন রোগীর মুখমণ্ডলে ধরা পড়ে।

মুখের বাম পাশের মাংস পেশি ঝুলে পড়ে। যার ওপর রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রন থাকে না। লক্ষণটি ভালো করে বুঝতে হলে রোগীকে হাসতে বলুন। তিনি যদি না হাসতে পারেন তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাতে দুর্বলতা অনুভব

অনেক সময় আমরা হাতের দুর্বলতা অনুভবকে পাত্তা দিই না। কিন্তু এটা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষন। স্ট্রোক করার আগে রোগী দুই হাতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন। রোগীকে সাথে সাথে হাত মাথার উপরে তুলে ধরতে বলুন। যদি রোগী বলেন তিনি হাত তুলতে পারছেন না। কিংবা যদি লক্ষ্য করেন হাত ছেড়ে দিচ্ছেন তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করুন।

কথা জড়িয়ে যাওয়া

মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে বা খুব কমে গেলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের আগে কথা জড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লক্ষণটি ধরা পড়ে। যদি কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ অস্পষ্ট কথা কিংবা জড়িয়ে যাওয়া গলায় কথা বলতে থাকেন তবে অবশ্যই তা লক্ষণীয়। রোগীকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করে দেখুন। যদি আসলেই জড়ানো কথা হয় তবে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করুন।

তীব্র মাথা ব্যথা

স্ট্রোকের আগে রোগীরা তীব্র মাথা ব্যথার শিকার হয়ে থাকেন। তীব্র মাথা ব্যথা অনেক কারনেই হতে পারে। অনেকের মাইগ্রেন আছে। তীব্র মাথা ব্যথা মাইগ্রেনেও হয়। কিন্তু যদি হঠাৎ করে কোন ধরনের কারণ ছাড়াই মাথার বাম অংশে তীব্র ব্যথা শুরু হয় তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা

মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের বাঁধা পাবার ফলে শরীরের সাধারণ কাজ করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। ফলে হাত পা কিংবা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর স্ট্রোকের রোগীরা নিয়ন্ত্রন হারান। রোগীকে উঠে দাড়াতে বলুন। স্ট্রোকের লক্ষন হিসেবে তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। সুতরাং স্ট্রোক অবশ্যম্ভাবী। তাকে সাথে সাথে হসপিটালাইজড করতে হবে।

শর্ট মেমোরি লস

স্ট্রোকের আগে রোগীরা তাদের আপনজনকেও চিনতে পারেন না এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যান। ডাক্তারদের ভাষায় একে শর্ট মেমোরি লস বলে থাকেন। রোগীকে তার নিজের নাম জিজ্ঞেস করুন। তার পরিবারের লোকজনকে চিনতে পারেন কিনা তা দেখুন। তা না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে ।কেন দ্রুত হাসপাতালে নেবেন?

কারণ স্ট্রোকে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটে ১৯ মিলিয়ন নিউরোন মারা যায়। স্ট্রোকের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে আসলে আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, যেটাকে বলে আইভি থ্রোম্বলাইসিস। দেশের অনেক হাসপাতালে সীমিত পরিসরে হলেও এ আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে।

স্ট্রোক হলে কোন হাসপাতালে যাবেন?

স্ট্রোক করলে অনেকে ভুলে রোগীকে হৃদরোগের চিকিৎসা হয় এমন হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা মনে করেন স্ট্রোক বুঝি হার্টের রোগ। আসলে তা নয়। স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের বা ব্রেনের রোগ। তাই স্ট্রোক করলে রোগীকে নিতে হবে এমন হাসপাতালে যেখানে মস্তিষ্কের চিকিৎসা হয়। রোগীকে নিতে হবে নিউরোলজিস্টের কাছে।

স্ট্রোকের চিকিৎসা

যেকোনো মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগে স্ট্রোকের চিকিৎসা সম্ভব। স্ট্রোকে কেউ আক্রান্ত হলে দেরি না করে নিউরোলজি বিভাগে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ, হার্টের নয়।

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.