post
আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হচ্ছে

শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির শিশুদের রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোও একই ধরনের খাদ্যঘাটতিতে পড়তে পারে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে। খবর এএফপির। নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কায় আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেই। এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে তাদের বেল আউট (অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সহায়তা) নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন অবস্থায় খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতিতে আছে দেশটি। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার (ইউনিসেফ) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক জর্জ লারিয়া আদজেই বলেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রচণ্ড রকমের এ অর্থনৈতিক সংকটের পরিণাম ভোগ করতে হচ্ছে। রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারছে না তারা। এমন অবস্থায় প্রতি বেলার খাবার জোগাড় করা তাদের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়েছে। জর্জ লারিয়া আদজেই সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই ঘুমাতে যাচ্ছে শিশুরা। ইউক্রেনে রুশ অভিযানকে কেন্দ্র করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে শ্রীলঙ্কার প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিতেও। লারিয়া আদজেইর আশঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও পুষ্টিজনিত সংকট দেখা দিতে পারে। জর্জ লারিয়া আদজেই বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রচণ্ড অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি শিশুদের জীবনকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দেবে। শ্রীলঙ্কায় আমি যা দেখেছি, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা।’ ইউনিসেফ বলছে, শ্রীলঙ্কার শিশুদের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আড়াই কোটি ডলার সহায়তা প্রয়োজন। শিশুদের অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চলতি মাসে খোদ শ্রীলঙ্কার সরকারও সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কায় সরকারিভাবে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশটিতে ৫ লাখ ৭০ হাজার প্রাক্‌-স্কুলের শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজারই অপুষ্টিতে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, পরবর্তী সময়ে খাদ্যঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির পূর্ণাঙ্গ প্রভাবে এ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে গত মাসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এরপর পদত্যাগ করেন তিনি।

post
দূতাবাস খবর

ফ্রান্সে প্রবাসীদের পাসপোর্ট জটিলতা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরবে দূতাবাস

ফ্রান্সে প্রবাসীদের পাসপোর্ট প্রাপ্তিসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরবে দূতাবাস, এমনটাই বলেছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিকালে ফ্রান্সে পাসপোর্ট জটিলতায় ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন। এ সময় দূতাবাসের সব কর্মকর্তার পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেনইউরোপের বিভিন্ন দেশে বয়স সংশোধনকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হতে থাকা সমস্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভুক্তভোগী প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে ফুল দিয়ে দূতাবাসের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ সময় তথ্য সংশোধন জটিলতায় পাসপোর্ট না পাওয়ার বিষয়টি তারা রাষ্ট্রদূতের নিকট ব্যক্ত করেন এবং পাসপোর্ট না পাওয়ায় সৃষ্ট অভিবাসন জটিলতা তুলে ধরেন। পাসপোর্ট প্রদানকে কেন্দ্র করে দেশে একটি দালালচক্রের প্রতারণার কথাও ভুক্তভোগী প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে জানান এবং তা প্রতিকারের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। রাষ্ট্রদূত তালহা উপস্থিত প্রত্যেক ভুক্তভোগীর কথা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়ায় দূতাবাসের আইনী সীমাবদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করেন।রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট সমস্যার কথা দূতাবাস নিয়মিতভাবে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অবহিত করে। রাষ্ট্রদূত তাদের ভোগান্তির কথা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় তুলে ধরবেন মর্মে আশ্বাস দেন। এ সময় ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাশেম, সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন কয়েছ, কমিউনিটি নেতা সাত্তার আলী সুমনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং এ সমস্যা নিরসনে দূতাবাসের স্বপ্রণোদিত প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।উল্লেখ্য, আগামী ২৯ আগস্ট ২০২২ তারিখে পাসপোর্ট জটিলতায় বৈধতার জন্য অপেক্ষমাণ একদল বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে আন্দোলনের ডাক দেন, যা পরে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

post
বাংলাদেশ

অক্সিজেন স্বল্পতায় সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলে ও মেয়ের মৃত্যু- পুলিশ সুপার

সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাবা, ছেলে ও মেয়ে ‘অক্সিজেন-স্বল্পতায়’ মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে মৃত্যুর এ কারণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।গত ২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইসলাম (৫০), তাঁর স্ত্রী হোসনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুর রহমান (২৫), মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০) ও ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এরপর ৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিরা ইসলাম মারা যান।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, নিহত তিনজনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ২০টি আলামতের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পর্যালোচনা করেছেন। পরে তাঁরা একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেটি বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, প্রথমত লোকজনের আশঙ্কা ছিল, এ ঘটনা বিষক্রিয়ায় হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিহত তিনজনের শরীরে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, যেহেতু সেটি আবদ্ধ ঘর ছিল এবং এক ঘরে পাঁচজন মানুষ বসবাস করেছেন। রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, তাঁরা ঘরের ভেতরে জেনারেটর চালিয়েছিলেন। যেহেতু ঘরের দরজা-জানালা সব কটি বন্ধ ছিল। সেহেতু জেনারেটরের ধোঁয়ার কারণে এমনটি ঘটতে পারে। প্রথম থেকে ঘটনাস্থল পর্যালোচনা করে যেটি বলে আসছিলাম ‘সাফোকেশন’। সে সাফোকেশনে তাঁরা দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে আমরা নিশ্চিত। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী তদন্তের সঙ্গে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে এটি মিলে যাচ্ছে।’এর আগে ২৩ আগস্ট পুলিশ সুপার নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে একই পরিবারের তিন প্রবাসীর মৃত্যু এবং দুই সদস্য অসুস্থ হওয়ার ঘটনা জেনারেটরের ধোঁয়া থেকে হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সে সময় চিকিৎসকদের প্রতিবেদন না আসায় সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন।রফিকুল ইসলাম ওসমানীনগর উপজেলার বড় দিরারাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি বেশ আগেই যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১২ জুলাই রফিকুল স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন। পরে ১৮ জুলাই তিনি ওসমানীনগরে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই ঘটনার পর চিকিৎসা শেষে ৩ আগস্ট বাড়িতে ফিরেছেন রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনারা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম। সূত্র : প্রথম আলো

post
এনআরবি বিশ্ব

দুবাইয়ে ৪৫ জন প্রবাসীকে ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করতে দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরিতে ৪৫জন প্রবাসীকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দূতালয় প্রধান মো. মোজাফফর হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাস সময়ের মধ্যে শুধু বৈধপথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীগণ ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরির মধ্যে মাসিক ১২’শ দিরহাম বেতনের সমপরিমাণ ও এর নিচে সাধারণকর্মীদের থেকে ১০জন, ১২’শ দিরহামের উপরের সাধারণকর্মীদের ১০জন, ব্যবসায়ী (পুরুষ) ১০ জন, ব্যবসায়ী (নারী) ৫জন ও পেশাজীবীদের মধ্যে প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যাংকার, কনসালটেন্ট, সাংবাদিক, ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কর্মরত প্রবাসীদের থেকে ১০জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডের জন্য কনস্যুলেট কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রমাণক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে হবে।দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, শারজাহ ও ফুজাইরাতে বাংলাদেশ সমিতি, রাস আল খাইমাহতে বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুলে সরাসরি অথবা [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় আবেদন দাখিল করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ প্রবাসী ওয়াহিদ

ইউরোপের দেশ গ্রিসে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মো. ওয়াহিদ আলী (২৭) নামে এক প্রবাসী। তার পরিবার ও গ্রিসে থাকা স্বজনদের অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের জন্য তাকে গুম করেছে একটি চক্র। ঘটনার পর থেকে দোকান বন্ধ করে পালিয়েছে অভিযুক্ত তিন সহোদর ও তাদের সহযোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে মিনি বাংলাদেশ নামে পরিচিত মানোলাদার লাপ্পা গ্রামে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিখোঁজের মামা রমিজ মিয়া। নিখোঁজ ওয়াহিদ হবিগঞ্জ জেলার অনন্তপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জের ওয়াহিদ আলী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গ্রিসের কৃষি কাজের জন্য প্রসিদ্ধ গ্রাম মানোলাদার পাশে লাপ্পা নামক গ্রামে বসবাস করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসের লাপ্পায় ‘লিটন মিনি মার্কেট’ নামের একটি বাংলাদেশি মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন তিনি। দোকানটি পরিচালনা করতেন কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের ইউনুস মিয়া ওরফে লিটন, মো. ইদ্রিস ও কুদ্দুস মিয়া নামে তিন সহোদর ও তাদের বন্ধু সুলতান আহমেদ এবং পলাশ মিয়া। তাদের দোকানে কর্মরত ওয়াহিদের সততায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মাঝে সৎ ব্যক্তি হিসেবে খুব অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করে। তাই বিশ্বাস করে তার মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপার্জিত অর্থ জমা রাখতেন এবং বিকাশ-মানিগ্রামের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতেন। লাপ্পায় বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেননি, তাই কৃষি কাজের মতো পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ নিরাপদ মনে করে জমা রাখতেন লাপ্পায় বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আর সেই ইউরো ওয়াহিদ তার মালিকের কাছেই রাখতেন, যা মালিক পক্ষ তাদের ব্যবসায় খাটাতেন বলেও জানা গেছে। দীর্ঘ লেনদেনের সূত্রে এক সময় বড় অংকের ইউরো জমা হয়ে যায়। জানা গেছে, নিরাপদ ও জিম্মা হেফাজতের চিন্তায় গেল ঈদুল আজহার আগে তার কাছে আরও প্রায় ৬১ জন বাংলাদেশির লক্ষাধিক ইউরো জমা রাখেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের এক কোটি টাকার চেয়েও বেশি। ওয়াহিদ সেই ইউরোগুলোও তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন মো. ইদ্রিস ও কুদ্দুস মিয়ার নিকট জমা রাখেন। এ অবস্থায় গত ৭ জুলাই রাত থেকে ওয়াহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পায় স্বজনরা। মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে পরের দিন গ্রিসে থাকা ওয়াহিদের স্বজনরা সরেজমিনে ওই দোকানে গেলে দোকানের মালিক পক্ষ তাদের জানান, সে রাতে ঘুমিয়ে ছিল, সকালে তারা দেখতে পান সে ঘরে নেই। এ ছাড়া আর কোনো সুদুত্তর দিতে পারেনি মালিক পক্ষ। এ খবরে হতাশ হয়ে পড়েন ওয়াহিদের স্বজনরা। এক পর্যায়ে ঘটনার ৬ দিন পর স্থানীয় আখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিখোঁজের মামা রমিজ মিয়া। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়াহিদ কর্তৃক জমাকৃত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আমানতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় লোভের বশীভূত হয়ে অর্থগুলো হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন লিটন, ইদ্রিস, কুদ্দুস, সুলতান ও পলাশ মিয়াদের চক্রটি। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াহিদকে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে তিন ভাই ও তাদের দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এই খবরটি সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সকলেই আতংকিত হয়ে পড়েন এবং ওয়াহিদকে খুঁজে বের করার জোর দাবী জানান । ঘটনার খবর জানতে এ প্রতিনিধি মানোলদার লাপ্পা গ্রামে পৌঁছালে ওয়াহিদের স্বজনরাও এমনই বর্ণনা দেন এবং সাংবাদিকের উপস্থিতির খবরে সেখানে বসবাসরত শত শত বাংলাদেশিরা জড়ো হয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আখাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষনিক-ভাবে অভিযান পরিচালনা করে গ্রিক পুলিশ। এরপরই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সবাই। পরে পুলিশ ওয়াহিদের কর্মস্থল ও বাসস্থান পরিদর্শন করেছে। এ সময় অভিযুক্ত কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এ ছাড়া এথেন্সের প্লাথিয়া ভাতিসে অবস্থিত তাদের আরেকটি দোকান রয়েছে অভিযুক্ত লিটনের। সেই দোকানটিও বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় লিটন। এ ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য নিতে লাপ্পার ‘লিটন মিনি মার্কেটে’ গেলে দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া এথেন্সের প্লাথিয়া ভাতিসে অবস্থিত মিনি মার্কেটে একাধিকবার গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান ওই ঘটনার পরপরই তালা দিয়ে পালিয়েছে লিটন। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘ধারণা করা যাচ্ছে জমাকৃত টাকার জন্য এমন ঘটনা হতে পারে।’ তিনি বলেন ‘তাকে খুঁজে পেতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা করা এবং স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলা হয়েছে।’ তাকে খুঁজে পেতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের পক্ষ থেকে যা কিছু করা দরকার বা যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাবেন বলে আশ্বাস দেন কমিউনিটির সভাপতি। এ ব্যাপারে এথেন্সে অবস্থিত দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করলে- দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিৎ কুমার পাল ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের সাথে সহযোগিতার কথা জানান। এ বিষয়ে জানতে লাপ্পার আখাইয়া থানায় গেলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ ওয়াহিদকে খুঁজে বের করতে তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এছাড়া দূতাবাস থেকেও তাদের বেশ কয়েকবার ফোন করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করার অনুরোধ করা হয়েছে। এদিকে হোয়াটসআপে অভিযুক্ত ইউনুস মিয়া ওরফে লিটন দাবি করেন, তাদের কেউই এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণে তাদের প্রতিপক্ষ ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তবে আত্মগোপনে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, তারা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে এইভাবে তাদের আত্মগোপন করা ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জড়িতদের সনাক্ত করে ওয়াহিদকে উদ্ধার করাসহ আত্মসাৎকারীদের কবল থেকে প্রবাসীদের অর্থ উদ্ধার করে তা ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও গ্রিক প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালেতে ফয়সাল ইমরান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে মো. ফয়সাল ইমরান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে ব্রেন স্ট্রোক করে তিনি মারা যান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মো. হারুন মিয়ার ছেলে। জানা যায়, গতকাল বুধবার রাতের খাবার শেষে স্বাভাবিক অবস্থায় ফয়সাল ঘুমাতে যান। এর এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপর তার সহকর্মীরা তাকে দেশটির রাজধানী মালের আইজিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ফয়সাল ইমরানের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইমরানের সাত মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে।  

post
এনআরবি বিশ্ব

দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহরণ আতংকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের অপহরণের ঘটনা বহু গুণ বেড়েছে। আবার অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রধান শহর জোহানসবার্গ, কেপটাউন, ডারবান, ব্লুমফ্রন্টেন্ট ছাড়াও ৯টি প্রদেশেই বাংলাদেশি ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা অপহরণ শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি জোহানসবার্গে নিজ দোকানের সামনে ৪ দেহরক্ষীর মধ্য থেকেই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সালাউদ্দীনকে উঠিয়ে নিয়ে যায় অপহরণকারীদের একটি দল। অপহরণের প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও তার কোনো হদিস মেলেনি। তা ফিরে না আসা বা অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে যোগাযোগ না করায় বিষয়টিকে অন্যান্য অপহরণের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না প্রবাসী বাংলাদেশিরা।গত ১৯ আগস্ট দেশটির ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্স টাউনের একটি সড়ক থেকে রিংকু, সুজন, মানিক ও ইসমাইল নামের চার বাংলাদেশি অপহৃত হওয়ার তিন দিন পর ২ লাখ ৮০ হাজার রেন্ড (স্থানীয় মুদ্রা) মুক্তিপণ দিয়ে তারা ফিরে আসেন। ফিরে আসাদের কেউ কেউ মাফিয়াদের আগের দেওয়া হুমকির বাস্তবরূপ দেখলেও বর্তমানে টার্গেটের বাইরেও রাস্তা থেকে আচমকা তুলে নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। অপহৃত হওয়ার পর আইনি পথে না গিয়ে নিরীহ প্রবাসীরা চক্রের দাবি মেনে সামর্থ্য অনুযায়ী দক্ষিণ আফ্রিকা বা বাংলাদেশিদের কাছে দাবিকৃত টাকা মিটিয়ে প্রাণে বেঁচে আসার চেষ্টায় থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহৃত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সপ্তাহে দুই থেকে চারটা অপহরণের ঘটনা আমরা শুনে থাকি। বাস্তবে দেশটিতে এর চেয়ে বেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা অপহরণের শিকার হচ্ছেন। বেশিরভাগ ফিরে আসার পর আর মুখ খুলেন না। শুধু ধনীরা অপহরণ হচ্ছেন এমন নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরাও অপহৃত হচ্ছেন।শফিকুর বলেন, এটা শুধু বড় বড় গ্যাংস্টার বা মাফিয়ারা করছে বিষয়টি এমন নয়। ক্ষেত্র বিশেষে পাকিস্তানি, ভারতীয়, আফ্রিকান, এমনকি কিছু এলাকায় বাংলাদেশিরা অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছেন। শুধুমাত্র অপরাধমূলক চিন্তা থেকে তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসীদের কমিউনিটি সংগঠন বাংলাদেশ পরিষদের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা সালাউদ্দীনের অপহরণের ঘটনাসহ বিষয়গুলো নিয়ে দেশটির পুলিশসহ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিছু ঘটনায় সফল হয়েছি। এই সমস্যা শুধু আমাদের নয়, এটা এখানকার বড় সমস্যা। যার কিছুটা খারাপের শিকার আমরাও হয়ে যাচ্ছি। তারপরও কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধ থাকলে, একে অপরকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে চললে আশা করছি ভালো ও নিরাপদ থাকতে পারব। দক্ষিণ আফ্রিকা শাখা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. লুৎফর রহমান রূপন বলেন, সম্প্রতি দূতাবাসের সহযোগিতায় আইনি লড়াইয়ে দেশটিতে প্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুর রহমানকে (৪৭) অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আফ্রিকানকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা সঠিক পথে আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে দেশটিতে বাংলাদেশিরা ভবিষ্যতে নিরাপদে থাকতে পারবেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বাংলাদেশি যুবকেরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়াটা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিদেশি ভাষায় কথা বলতে বা রোগের বর্ণনা করতে না পারায় অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা পান না তারা।প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন তিন বাংলাদেশি যুবক। তিন বন্ধুর বিনিয়োগে গড়ে তুলেছেন ‘আমার ক্লিনিক’ হাসপাতাল। যেখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।আমিরাতে আজমানের সানাইয়ায় স্থাপিত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওষুধ বিতরণ কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে অসহায় প্রবাসীদের যেকোনো সময় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে এখানে।শারজাহ ও আজমানে দুটি চিকিৎসা কেন্দ্রে বর্তমানে বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ ২০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে আগামীতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবায় আরো বেশ ডাক্তার ও সেবিকা নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে ফেসবুক লাইভে এসে প্রবাসী বাংলাদেশির আত্মহত্যা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে মুহাম্মদ খায়রুল বাশার রানা (৫৫) নামে একজন প্রবাসী ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২২ আগস্ট) আমিরাতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।ওই প্রবাসী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মৃত বদিউল আলমের ছেলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের লাকী রাউন্ড নামক এলাকার একটি ভাড়া বাসার কক্ষে ভাড়ায় থাকতেন। ফেসবুক লাইভে এসে তার মৃত্যুর জন্য একই উপজেলার সুয়াবিল গ্রামের রফিক নামের এক প্রবাসীকে দায়ী করেন। রফিকের বিরুদ্ধে তার দোকান ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন। 

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর বাসায় ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট

মাদারীপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার এ দাবি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগম ও তার স্বামী মিল্টন শিকদার আমেরিকা প্রবাসী। তারা গত ৩০ জুন ছুটি কাটাতে মাদারীপুরের পৈতৃক বাড়ি মহিষেরচর এলাকায় আসেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বাসার দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে ৮ জন মুখোশধারী ডাকাত। এসময় ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ডলার ও মোবাইল ও ল্যাপটপসহ ২০ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী আমেরিকার নাগরিক। গত ২ মাস আগে ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি আসি। গতকাল মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে ডাকাতরা আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুল, বালা, হারসহ ৬ থেকে ৭ ভরি স্বর্ণ, ১০ হাজার ডলার, আমেরিকা থেকে নিয়ে আসা ৫টি ফোন ও ১টি ল্যাপটপ নিয়ে যায়। প্রশাসনের কাছে দাবি, তারা যেন দ্রুত ডাকাতদের গ্রেফতার করে মালামাল উদ্ধার করে’। মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বায়োজিদ হাওলাদার বলেন, ‘রাতে আমার বোন খাদিজার বাড়িতে মুখোশধারী ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি’। জানতে চাইলে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) চাইলাউ মারমা জানান, ‘ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে’।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.