post
এনআরবি বিশ্ব

দুবাইয়ে ট্যাক্সি চালান বাংলাদেশি শিউলী

চারদিকে উঁচু সুরম্য দালান। রাস্তায় গতিময় নামিদামি গাড়ি। শহরের বাঁকে বাঁকে চাকচিক্য, আভিজাত্য। চোখ ধাঁধানো রোশনাই নিয়ে সন্ধ্যা নামে মায়াবী শহর দুবাইয়ে। সেই আলোর বাগানে বাংলাদেশি অদম্য শিউলীও ছড়ান সুবাস। ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৫টা বাজতেই জ্বলে ওঠে তাঁর জীবিকার গাড়ির হেডলাইট। রাতজাগা পাখি হয়ে ট্যাক্সি চালান দুবাইয়ের পথে পথে। ভোর ৫টায় নেভে সেই আলো। শিউলী আক্তার ফরিদপুরের বোয়ালমারীর বারানখোলা গ্রামের মেয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থিতু, তাও হবে বছর আট। ২০১৪ সালে দেশটিতে পাড়ি জমান এই নারী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দুবাইয়ে পা রাখার পাঁচ মাসের মাথায় বাবাকে হারান শিউলী। তখন থেকেই নিজের ও স্বামীর সংসারের 'চালক'ও তিনি। দুই পরিবারের একক সহযোগী আর অর্থের জোগানদাতা হিসেবে দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। এই দায়িত্ব পালনে পাচ্ছেন সবার সহযোগিতা। নারীর জন্য বিশ্বের তৃতীয় নিরাপদ শহর দুবাইয়ে বাংলাদেশি প্রমীলা ট্যাক্সিচালক হিসেবে এখন অন্যরকম বিজ্ঞাপন তিনি। প্রতিদিন তাঁর ট্যাক্সিতে ওঠানামা করেন অন্তত ২০ যাত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মস্থলে নারীদের অবাধ স্বাধীনতা থাকায় দুবাই শহরে বাংলাদেশি শিউলী নিজেকে মেলে ধরেছেন আপন আলোয়। দুবাইয়ের যাপিত জীবন আর নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন সমকালের কাছে। শিউলী জানান, দুবাই আসার প্রস্তুতি নিতে গেলে ২০১২ সালে তাঁকে ঋণ সহযোগিতা দেয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ওই ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ পান তিনি। কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই রাখেন আমিরাতে পা। তবে কাজ পেতে আট মাসের মতো সময় লেগে যায়। সে সময় নিজ থেকে বহন করতে হয় থাকা ও খাওয়ার খরচ। কাজে যোগ দেওয়ার পর বদলে যেতে থাকে শিউলীর জীবন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক কোম্পানিতে নির্ধারিত বেতনে চাকরি করলেও এখন শিউলী কাজ করছেন কমিশনভিত্তিক চুক্তিতে। শিউলী বলেন, শুরুর দিকে আর্থিক সমস্যা তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠেছি। বাবা না থাকায় নিজের পরিবারে যেমন আর্থিক সহায়তা দিতে হয় তেমনি স্বামীর পরিবারের দায়িত্বও নিতে হয়েছে। নিজের আয়ের অংশ দুই পরিবারে ভাগ করে দিচ্ছি। নারীকর্মী হিসেবে আমিরাত সরকারের প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা। শিউলী বলেন, এখানে নিজের মতো করে থাকা যায়। ইচ্ছে করলে সম্মানের সঙ্গে বাঁচা যায়। যার প্রমাণ আমি নিজেই। দুবাইয়ে কাজ করে গর্ববোধ করি। কারণ, আমাদের যে কোনো বিপদ-আপদে এখানের প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা এখানে একই রকম। ভয় সংশয়হীনভাবে কাজ করা যায়। বাংলাদেশেও নারীরা এমন স্বাধীনতা ও সম্মান পেলে গর্বের সঙ্গে যে কোনো পেশায় কাজ করতে পারবে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে লেকের পানিতে ডুবে ২ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

নিউইয়র্কে লেকের পানিতে ডুবে একই পরিবারের ২ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। গত রোববার নিউইয়র্কের টাউন অব বেথেলের হোয়াইট লেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠক বরুড়া উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা রুহুল আমীনের বড় মেয়ের জামাই আফরিদ হায়দার (৩৪) ও ছেলে বাছির আমীন (১৮)।রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাসরিন আমীনকে (২১) লেক থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় গারনেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাসরিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরুড়া উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুল হক আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, গত শনিবার রুহুল আমিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাউন অব বেথেলে বেড়াতে যান। তাদের সবাই লেকের ধারে মেয়ের জামাই আফরিদের বাসায় উঠেন। পরদিন দুপুরে আফরিদ লেকে গোসল করতে নামেন। সে সময় হঠাৎ তিনি পানিতে ডুবে যেতে থাকেন। ভগ্নীপতিকে বাঁচাতে শ্যালক বাছির পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে যান রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাসরিন। এরপর তারা ৩ জনই ডুবে যান। দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আফরিদ ও বাছিরকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি তরুণী হত্যায় স্বামী সুমন গ্রেপ্তার

দক্ষিণ আফ্রিকার পুমালাঙ্গা প্রদেশের লাইডেনবার্গে বাংলাদেশি নারী শান্তা ইসলাম ওরফে সিনথিয়া শিকদার (২২) হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে তার স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শান্তা ইসলামের আত্মীয় দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী পলাশ সিকদার গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার সময় লাইডেনবার্গ পুলিশ একটি জঙ্গল থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।লাইডেনবার্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমন-শান্তা। ২৮ আগস্ট ওই বাসা থেকে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। শান্তার দেশের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ফলপাড়া গ্রামে। সুমন মিয়ার বাড়ি একই জেলার বাসাইল থানার কাঞ্চনপুর গ্রামে। শান্তার এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে কমিউনিটি নেতা শফিকুর রহমান এর আগে জানিয়েছিলেন শান্তা তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। টেলিফোনে সুমনের সঙ্গে বিয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে আসেন শান্তা।শান্তার পরিবারের অভিযোগ শান্তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন সুমন। বিভিন্ন সময় শান্তার পরিবারকে মোটা অংকের টাকা পাঠাতে বাধ্য করেন সুমন। শান্তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক আলামত পেয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে সুমনকে দু’একদিনের মধ্যে আদালতে বিচারের মুখামুখি করা হবে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে শান্তা ইসলামের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠন বাংলাদেশ পরিষদ, মুক্তবাংলা ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল কমিউনিটি অব প্রিটোরিয়া, ইসলামি ফোরাম অব আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ডেট্রয়েটের বাংলাদেশি মেলায় হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীর মহামিলন ঘটেছে। বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ড পরিণত হয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে। প্রবাসীরা দেশে ফেলে আসা ঐতিহ্যর স্বাদ পেয়েছেন মেলায় এসে। নতুন প্রজন্ম মেলায় এসে বাংলাদেশি কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তারাও নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে। ডেট্রয়েট সিটির বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ডে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ফেস্টিভ্যাল এ মেলার আয়োজন করেছিল।রোববার শেষের দিনে হাজারো বাংলাদেশির মহামিলন ঘটেছে মেলায়। মিশিগানের বিভিন্ন সিটিতে বসবাসরত শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী বাংলাদেশিরা পরিবার নিয়ে মেলায় হাজির হন। আয়োজকরা বলেছেন, বাংলাদেশি ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই ২১ বছর ধরে এ মেলা হয়ে আসছে। দীর্ঘ একটি বছর মিশিগানের বাংলাদেশিরা অপেক্ষায় থাকেন এ মেলার জন্য।বাংলার ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন নাচে গানে মাতিয়ে রাখেন মেলায় আগত দর্শকদের। ছোট ছোট শিশুরাও নেচে গেয়ে প্রাণভরে আনন্দ উপভোগ করেছে। মেলার মঞ্চ দাপিয়ে গান গেয়েছেন জনপ্রিয় প্রবাসী শিল্পী নীলিমা শশী ও শাহ মাহবুব। মেলায় ছিল রকমারি স্টলসহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি পণ্যের সমাহার। পোশাক, ‍জুয়েলারি, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প ও দেশীয় স্বাদের খাবারের দোকান। স্টল মালিকরা জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে। পোশাক ও দেশি খাবার বেশি বিক্রি হয়েছে। অন্য দেশের মানুষেরাও মেলায় এসে কেনাকাটা করছেন। মেলায় অনেক দর্শক রিকশায় চড়ে দারুণ আনন্দ পেয়েছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের স্টল ও বাংলাদেশি হুক্কা দর্শকদের নজর কেড়েছে। র‌্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার ছিল অন্যতম আকর্ষণ। নতুন গাড়ি ও বিমানের টিকিটসহ নানা পুরস্কার দেওয়া হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

মোবাইলে বিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে খুন বাংলাদেশি তরুণী

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজ বাসায় থেকে শান্তা ইসলাম (২২) নামে প্রবাসী বাংলাদেশি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রাথমিক আলামত পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সুমন মিয়া পলাতক। দেশটির পুমালাঙ্গা প্রদেশের লাইডেনবার্গে এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন শান্তা ইসলাম। সিনথিয়া শিকদার নামে এক টিকটক আইডিতে তিনি বেশ সরব ছিলেন।রোববার (২৮ আগস্ট) ঘরের দরজা ভেঙে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। জানা গেছে, শান্তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ফলপাড়া গ্রামে। সুমন মিয়ার বাড়ি একই জেলার বাসাইল থানার কাঞ্চনপুর গ্রামে। নিহত শান্তার এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে কমিউনিটি নেতা শফিকুর রহমান জানান, শান্তা তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। সুমনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় সুমনের কাছে চলে আসেন শান্তা।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই শান্তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন সুমন। বিভিন্ন সময় শান্তার পরিবার থেকে ব্যবসার জন্য মোটা অংকের টাকা পাঠাতে বাধ্য করেন সুমন। ওই অর্থ দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন সুমন। শফিকুর রহমান বলেন, শান্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক আত্মীয়কে খোঁজ নিতে পাঠায় তার পরিবার। শান্তার ওই আত্মীয় বাসার দরজা তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙে মেঝেতে পড়ে থাকা শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে পু্লিশ। তিনি বলেন, কী কারণে এ হত্যা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে সুমন মিয়ার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ধরতে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ কাজ করছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে পোশাক কারখানা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশিরা

পোশাক রপ্তানির জন্য সারা বিশ্বেই বিখ্যাত বাংলাদেশ৷ পশ্চিমা দেশগুলোর পোশাকের দোকানগুলোতে সারি বেঁধে ঝুলানো থাকে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লোগো লাগানো নানান পোশাক৷ তবে ইরোপের দেশ গ্রিসে দেখা গেল কারখানা গড়ে তুলে পোশাক রপ্তানি করছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা৷ ২৭ বছর আগে ইউরোপের দেশ গ্রিসে এসেছেন বাংলাদেশি অভিবাসী নুরুল আমিন দেওয়ান৷ আসার পর কয়েক বছর এখানে কাজ করেছেন তিনি৷ এরপর তার মাথায় আসে পোশাক কারখানা গড়ে তোলার ভাবনা৷ সেই ভাবনা থেকেই তিনি নেমে পড়লেন কাজে৷ গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে গড়ে তুললেন ফিমা ফ্যাশনস নামে একটি পোশাক কারখানা৷ ‘‘২৭ বছর আগে আমি গ্রিসে এসেছি৷ এরপর নিজের পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি এই কারখানাটি,’’ বলেন নুরুল আমিন দেওয়ান৷ নুরুল আমিনের এই কারখানাটিতে বর্তমানে প্রায় দেড়শ শ্রমিক কাজ করেন৷ তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি৷ কারখানা পরিদর্শন করে দেখা গেল সারি সারি মেশিন৷ সেসব মেশিনে দল বেঁধে পোশাক সেলাইয়ের কাজ করছেন শ্রমিকেরা৷ জানা গেছে, শুধু নুরুল আমিন নন, গ্রিসে এমন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসীই ছোট ও মাঝারি আকারের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন৷ আর সেই ফ্যাক্টরিগুলোতে কর্মরতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি৷ বর্তমানে ওই পোশাক কারখানাগুলোয় বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কমরত আছেন৷নুরুল আমিন জানান, ইউরোপের ক্রেতাদের অনেকেই আগে চীন কিংবা ভিয়েতনামে কার্যাদেশ দিতেন, এখন তারা গ্রিসের এসব কারখানা থেকে পোশাক কিনতে চাইছে৷ এ কারণে এই কারখানাগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে কাজের চাপ৷ ফলে বাড়ছে শ্রমিকের চাহিদাও৷ তার মতে, গ্রিসের বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলোতে এই মুহূর্তে ১০ থেকে ১২ হাজার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে৷ এদিকে এমন কারখানা গড়ে উঠায় বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব শ্রমিক গ্রিসের কৃষিখাতে কাজ করছেন তাদের জন্যও একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে৷ কৃষিজমিতে সারা বছর কাজ থাকে না আর তাই কৃষিখাতে কর্মরতদের অনেকেই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় এসব কারখানায় কাজ করতে আসেন৷ তাছাড়া কারখানার কাজে অন্যান্য খাতের তুলনায় আয়ও বেশ ভালো বলে জানা গেছে৷ সাত বছর ধরে গ্রিসে আছেন বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আসিফ৷ বর্তমানে তিনি নুরুল আমিনের পোশাক কারখানায় কর্মরত৷ তিনি জানান, দৈনিক ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করে তার মাসিক আয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা৷ চলাফেরা বাবদ তার মাসিক খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আর বাকি টাকা তার সঞ্চয় হয়৷বছরের পর বছর ধরে গ্রিসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনেকেই ভুগছেন বৈধ কাজগপত্রের সংকটে৷ দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তাদের৷ এথেন্সের ফিমা ফ্যাশনস নামের পোশাক কারখানার বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ দুই বছর ধরে পোশাক কারখানাটিতে কাজ করেন বাংলাদেশের অভিবাসী আলমগির হোসেন৷ তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে৷ আলমগিরের অভিযোগ, নতুন পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশে দূতাবাসে আবেদন করে তিনি মাসের পর মাস ধরে ঘুরছেন৷ ‘‘দুই বছর ধরে পাসপোর্টের জন্য ঘুরতেছি আমি৷ না আমার আবেদন জমা হইতাছে, না আমার কিছু হইতাছে৷ আমি জমা দিয়া আসছি দরখাস্ত, সেই দরখাস্ত হারায়ে ফেলছে৷ এখন আমি আবার দরখাস্ত জমা দিয়ে আসছি৷ এখন বলছে, আপনি অপেক্ষা করেন৷’’ আলমগিরের অভিযোগ, পাসপোর্ট না থাকায় তিনি দেশেও টাকা পাঠাতে পারছেন না৷ সেইসাথে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তো আছেই৷ আর পাসপোর্ট না থাকায় দেশেও যেতে পারছেন না তিনি৷ পাসপোর্ট পেতে গিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিড়ম্বনার অভিযোগের বিষয়টি নাকচ করে দেননি গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ৷ তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে দূতাবাসের কিছু করার নেই কেননা পাসপোর্ট বাংলাদেশ থেকে প্রদান করা হয়৷সুত্র- ইনফো মাইগ্রান্টস

post
এনআরবি বিশ্ব

আবুধাবিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আলী হোসেন (৫২) নামের এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবুধাবির হামিম এলাকায় মারা যান আলী হোসেন। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বদর জায়েদ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখনো তার মরদেহ ওই হাসপাতালে রয়েছে। টাকা ও মোবাইল পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।জানা গেছে, মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়িতে টাকা পাঠাতে কর্মস্থল থেকে মানি এক্সেচেঞ্জ অফিসে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার হামিদ আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছোট ছেলে আলী হোসেন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। তার স্ত্রী এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। আলী হোসেনের ভাতিজা মুহাম্মদ জহির উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, চাচাতো বোনের বিয়ের কথা চলছে। শনিবার কাজ শেষ করে বেতন নিয়ে বিয়ের জন্য টাকা পাঠাতে যাওয়ার পথে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এখান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পর মরদেহ বাড়িতে আনা হবে। মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আলী হোসেন ভাইয়ের কফিন বাড়িতে নেওয়ার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। সমিতির দায়িত্বশীল শহিদ ভাই হাসপাতালে রয়েছেন। দেশ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখানে আসার পর মরদেহ দেশের বাড়িতে পাঠানো হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, ৫ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ

অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (২৭ আগস্ট) ভারতের আসামের দক্ষিণ সালমারা মানকাচার জেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। অবশ্য আটকের পর মানবিক কারণে তাদেরকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। রোববার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সেন্টিনেল আসাম এবং রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড।আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে বিএসএফ জানিয়েছে, আটককৃতরা অনিচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেছিল এবং মানবিক কারণে তাদেরকে পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট একই জেলায় একই ধরনের একটি ঘটনায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দুই বাংলাদেশি নাগরিক। পরে তাদেরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন দক্ষিণ সালমারা মানকাচরের জেলা ও দায়রা আদালত। এছাড়া আবদুল হাই ও নিরঞ্জন ঘোষ নামের ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ১০ হাজার রুপি করে জরিমানাও করেছেন আদালত। আদালত আরও বলেছে, জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে উভয় বাংলাদেশি নাগরিককে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।এর আগে গত ১২ আগস্ট ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও তিনজন অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের পর তাদেরকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায় সেখানকার কর্তৃপক্ষ। তদন্তের সময় জানা যায়, তারা তিনজনই বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং ২০১৩ সালে অবৈধপথে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। আটককৃত ওই তিনজনকে শয়ন দাস (২৫), নিখিলেশ দাস (৩৪) এবং আমিন মোহাম্মদ চৌধুরী (২৭) নামে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত সন্দেহের ভিত্তিতেই অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের আটক করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুলাইয়ে লোকসভায় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ২ হাজার ৩৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে ভারতে জাল নথি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আধার কার্ড বানানো অবৈধ অভিবাসীদের নির্দিষ্ট বিবরণ সামনে এনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

লেবাননে ২ শিশু সন্তানসহ এক বাংলাদেশি নারীকর্মীর 'বিষপান' মা-মেয়ের মৃত্যু

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ২ শিশুসন্তানসহ এক বাংলাদেশি নারীকর্মী 'বিষপান' করায় তিনি ও তার এক মেয়ে মারা গেছেন। 'বিষক্রিয়া' কম থাকায় অপর শিশুসন্তানটি বেঁচে গেছে এবং এখন শঙ্কামুক্ত।বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ১৬ আগস্ট বৈরুতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত সাবরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিরিন খাতুনের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার। স্বামীর দেনা পরিশোধে জেরে সেই নারী 'আত্মহত্যার' পথ বেছে নেন উল্লেখ করে প্রতিবেশী বাংলাদেশিরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন দুপুরে শিরিন খাতুন ছেলে মাহমুদ ও মেয়ে খাদিজাকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপান করেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে শিরীন ও তার ২ সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাসা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত বৈরুতের মাকাসাদ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ দিন পর শিশুকন্যা খাদিজা মারা যায়। এর একদিন পর মা শিরীন খাতুনের মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা আরও জানান, শিরীন খাতুন তার স্বামী রাজু উদ্দিনের সঙ্গে অনেকদিন ধরে সাবরা এলাকায় আছেন। ২ বছর আগে রাজু স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকে ঋণের কথা বলে অর্থ নিয়ে বাংলাদেশে চলে যান। তখন থেকেই পাওনাদাররা অর্থের জন্য শিরীনকে চাপ দিতে থাকেন। ভিডিও বার্তায় শিরীনের মা মনোয়ারা বেগম তার মেয়ে ও নাতির মৃত্যুর জন্য রাজুকে দায়ী করে তাদের মরদেহ ফিরে পেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু খাদিজার মরদেহ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে লেবাননে দাফন করা হয়েছে। শিরীনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে এক বছরে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু, অধিকাংশই মারা গেছেন হৃদরোগে

প্রবাসে স্ট্রোকে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব মৃত্যু যেন অনেকটাই নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং নানা কারণে মানসিক চাপে হতাশায় স্ট্রোক করেন এসব প্রবাসী। ইউরোপের দেশ গ্রিসেও বেড়েই চলছে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সংখ্যা। এথেন্স দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গ্রিসে ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১০৯ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৫ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ২০২১-২২ অর্থ ৩৭ জন এবং ২০২২ সালের সর্বশেষ ৮ মাসে প্রায় ২৭ জন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেছেন বিভিন্নভাবে। জরিপে দেখা গেছে এদের মাঝে বেশির ভাগই স্ট্রোকে মৃত্যু। আঞ্চলিক কমিটি ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের তত্ত্বাবধায়নে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী কয়েকজনের মরদেহ গ্রিসেই দাফন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় বেশিরভাগ ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আরো জানান, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ঋণ করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে এসেছেন। বৈশ্বিক করোনা মহামারির মন্দা পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে গ্রিসে আসার পর কর্মহীন প্রবাসীরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে মানসিক চাপে ভোগেন। বেশিরভাগ প্রবাসীই মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেইন স্ট্রোকে। তাদের অনেকের বয়সই ৩০-৪০ বছর। এমন মৃত্যু পরিবারের কাছেও অপ্রত্যাশিত। বর্তমানে গ্রিসে বৈধভাবে আসার সুযোগ তৈরী হয়েছে তাই অবৈধভাবে কেউ যেন কাজের ক্ষেত্র নিশ্চিত না হয়ে বিদেশে পাড়ি না জমান, এজন্য অনুরোধ করেছেন দূতাবাসের এই কর্মকর্তা। অনেকেই মনে করেন, ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে অনেক প্রবাসীর মধ্যে। অবৈধভাবে থাকা অনেকেই কোনো কাজ করার সুযোগ না পেয়ে বেকার অবস্থায় থাকেন। থাকা ও খাবারের টাকা দেশ থেকে নিয়ে পরিশোধ করেন। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘুমানোর সুযোগ পান না প্রবাসীরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রিস প্রবাসী অভিবাসন বিশ্লেষক কামরুজ্জামান ভূইয়া ডালিম বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকের কাজ ছিল না, অর্থনৈতিক সংকট ছিল। আবার অনেকে গ্রিসের পারমিট নবায়ন করতে পারেনি। তাই দেশেও পরিবার পরিজনের কাছে যেতে পারেনি। হতাশায় প্রবাসীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়ে, অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত।' গ্রিস অবৈধ হয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়মিত বা বৈধকরণের কার্যক্রম আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ-গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির অধীনে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের বড় অংশের দুশ্চিন্তা অনেকাংশে কমে যাবে বলে বিশ্বাস কমিউনিটি নেতাদের। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে কর্মসূচির সফলতার ওপর। এক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসর্পোটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনে দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।’ চুক্তির আওতায় প্রতিবছর ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই অবৈধভাবে কেউ যেন গ্রিসে পাড়ি না দেন সে আহ্বান জানিয়েছেন দূতাবাস কর্মকর্তা, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি নেতারা।সুত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.