post
বিনোদন

বিচ্ছেদের পর কেমন কাটছে, জানালেন নুসরাত ফারিয়া

বাগদানের তিন বছরের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। ১ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়ে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে এই কঠিন সময়ে তার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ চান। তিনি ভালো আছেন এবং ভীষণ ব্যস্ততায় সময় কাটছে তার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন নুসরাত। সেখানেই সংবাদমাধ্যমকে ফারিয়া জানান, ভীষণ ব্যস্ততায় সময় কাটছে তার। গত একমাসে তিনি পাঁচটি গানের শুটিং করেছেন। বাংলাদেশে অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘ফুটবল ৭১’ সিনেমার শুটিং করেছেন। এর মধ্যে কলকাতায় ‘বিবাহ অভিযান ২’ সিনেমার শুটিং করেছেন। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফারিয়া বলেন, আসলে আমি আমার ফ্যানদের বিষয়টি জানিয়েছি। আমার জানানো উচিত ছিল তাই জানিয়েছি। এটাই যথেষ্ট। এখন আমি অনেক ভালো আছি। তিনি বলেন, এত ভালো আছি যে আমাকে যদি কেউ বলে নুসরাত ফারিয়া হতে চাও নাকি অন্যকিছু হতে চাও? আমি বলব, যতবার জন্মাবো এই নুসরাত ফারিয়া হয়েই জন্মাতে চাই।

post
আন্তর্জাতিক

এবার অর্থনৈতিক সংকটে ৯০ হাজার পাকিস্তানি হজ করতে পারবেন না

অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করায় এ বছর ৯০ হাজার পাকিস্তানি হজ পালন করতে পারবেন না। রিজার্ভ-সংকট আর মুদ্রার বড় পতনের কারণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চরমে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে বিদেশে বসবাসরত প্রায় ৯০ হাজার পাকিস্তানিকে হজের কোটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ পাকিস্তান থেকে এ বছর হজে যেতে পারবেন না। পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছেই। মূল্যস্ফীতি চরম পর্যায়। ভয়াবহ দুঃসময় কাটাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটি। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এক ধরনের ফ্যানের উৎপাদন বন্ধ করেছে। রাতে দোকানপাট বন্ধসহ নানাভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে শাহবাজ সরকার। এর মধ্যে দেশটির হজের কোটা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের প্রবাসী নাগরিকদের। এর ফলে এই ৯০ হাজার কোটা হিসেবে সুযোগ পাবেন বিদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানিরা। দেশ থেকে অর্থ বাইরে যাওয়া ঠেকাতে এ উদ্যোগ বলে সরকারের সূত্রগুলো বলছে। এ উদ্যোগের ফলে প্রায় ৪০ কোটি ডলার (৪০০ মিলিয়ন ডলার) দেশের বাইরে যাওয়া বন্ধ করা যাবে বলে ভাবছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মুফতি আবদুল শাকুরের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে কোটার অর্ধেক বা ৮৯ হাজার ৬০৫ অনাবাসী পাকিস্তানিদের হজের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। এ উদ্যোগের ফলে অনাবাসী পাকিস্তানিরা হয় নিজেরাই কোটা নিতে পারেন বা পাকিস্তান থেকে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন।

post
এনআরবি বিশ্ব

অর্থ আত্মসাত করতে প্রবাসী লিটনকে হত্যার পর সাগরে ফেলে দেওয়া হয়

মালদ্বীপপ্রবাসী বাংলাদেশি লিটন (৩৫) হত্যা মামলায় মালদ্বীপের নাগরিক মোহাম্মদ নিজামের (৪৫) বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।অভিযোগপত্রে বলা হয়, অর্থ আত্মসাত করতে লিটনকে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেয় তার সহকর্মী মালদ্বীপের ওই নাগরিক। গতকাল শুক্রবার মালদ্বীপের একটি ফৌজদারি আদালতে একমাত্র আসামি নিজামকে হাজির করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর আগে, তাকে ৬০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিসের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে নিজামের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক হত্যাসহ ৩টি অভিযোগ এনেছে পুলিশ। নিহত লিটন জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার আমানপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ হন। এরপর তার আরও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অভিযোগপত্রের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে এ হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়। নৌকায় রাখা লিটনের ৫১ হাজারেরও বেশি মালদ্বীভিয়ান রুপি আত্মসাৎ করে নিজাম। লিটনের পরিবার ও প্রবাসী খালাতো ভাই জিল্লুর রহমানের সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি লিটন জ্বালানি তেল সরবরাহের বোটে (নৌকা) কাজ করতেন। সমুদ্রপথে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে তেল সরবরাহ করতেন। মালদ্বীপের নাগরিক মোহাম্মদ নিজাম (৪৫) তার সহকর্মী এবং ওই জ্বালানি তেলের নৌকায় কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর লিটন নিখোঁজ হন। ওই দিন থেকে নিজামও নিরুদ্দেশ হন। ৩১ ডিসেম্বর দুজনের খোঁজে স্থানীয় পুলিশ টুইট করে। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি মালদ্বীপের রাজধানী মালের একটি গেস্ট হাউজে নিজামকে পাওয়া যায়। কিন্তু, বাংলাদেশি লিটনের খোঁজ মেলেনি। মালদ্বীপ পুলিশ বলছে, নিজামকে যেদিন পাওয়া যায় সেদিনই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে লিটনের নিখোঁজ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। প্রসিকিউটরের অফিস বলেছে, নিজামের ভাড়া করা একটি রুম থেকে পুলিশ ৩ দশমিক ২৫ গ্রাম ডিমরফিন উদ্ধার করার পর তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ আরও বলেছে, এর আগে ২০০৮ সালে থিনাধু থেকে মাদক ও চুরির অপরাধে নিজামকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই বছরই মাদক সংক্রান্ত মামলায় তাকে ৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর, ২০১৪ সালে চুরি ও মাদকের জন্য দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নিজাম। ২০১৫ সালে মাদক সেবন এবং গত ৩ বছরে চুরির একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হন নিজাম। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

post
আন্তর্জাতিক

ফাগুনের আমেজে নিউইয়র্কে হয়ে গেলো ফাগুন পিঠা উৎসব

৬১ রকমের পিঠার সমাহার নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘ফাগুন ও পিঠা উৎসব’। কুইন্স প্যালেসে ‘শো-টাইম মিউজিক’র বর্ণাঢ্য এ উৎসবে জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রবাসীরা । বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে ফিতা কেটে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে এ পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন যৌথভাবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবু বকর হানিফ এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী। হোস্ট সংগঠনের কর্ণধার আলমগীর খান আলমসহ সহযোগিতাকারিরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।  এই উৎসবের উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা এটর্নী ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা মঈন চৌধুরী। দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কুইন্স কাউন্টিতে ১৯০টি দেশের ৩৬৫টিরও অধিক ভাষার মানুষ বাস করছে। অর্থাৎ বর্ণাঢ্য সংস্কৃতির তীর্থ ভূমি হচ্ছে আমাদের এই কুইন্স। এমন একটি বহুজাতিক সমাজে বাঙালিদের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে শো-টাইম মিউজিকের সকল কর্মকাণ্ডে আমার সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পিঠা উৎসবের অন্যতম অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম ইউনিভার্সিটি ‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’র চ্যান্সেলর আবু বকর হানিফ বলেন, এ উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির ধারা ভিন্ন ভাষার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে সক্ষম বলে মনে করছি। তিনি উল্লেখ করেন, শো-টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি, মূল্যবোধকে আমেরিকার মূলধারায় বিকাশ ঘটাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। এজন্যে সকলে যেনে তার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সেই অনুরোধ জানান।  সোনিয়ার সঞ্চালনায় এ আয়োজনে স্বাগত বক্তব্যে সর্বস্তরের প্রবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান আলমগীর খান আলম। উৎসবে বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা এতে পারফর্ম করেন। গেয়ে শুনান জনপ্রিয় বেশ কিছু গান। এই উৎসব আয়োজিনে ছিল শাড়ি-কাপড়ের স্টলও। অর্থাৎ পিঠার আমেজে গৃহিনীরা কেনাকাটাও করেছেন ভিন্ন এক আমেজে। আয়োজকরা জানিয়েছেন সামনে আরও বড় পরিসরে উৎসব আয়োজন করা হবে।

post
বাংলাদেশ

আবারও প্রাকৃতিক তরল গ্যাস কিনছে বাংলাদেশ

টানা আট মাস বন্ধ রাখার পর আবারও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি চালান কিনেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাজারে গ্যাসের দাম আকাশ ছোঁয়ার পর গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয় সরকার। কিন্তু দাম কমায় আবারও অতি জরুরি এ পণ্যটি আমদানি শুরু করছে ঢাকা।বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। দাম কমায় উন্নয়নশীল দেশগুলো আবারও নিজেদের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গ্যাস কিনতে সক্ষম হচ্ছে— বাংলাদেশের গ্যাস কেনার বিষয়টি এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য গত সপ্তাহে ‘স্পট মার্কেট’ থেকে বাংলাদেশ এ গ্যাস কিনেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত গ্যাসের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ার পরই বাংলাদেশ গ্যাস কিনল। যদিও এশিয়ান এলএনজি স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে চড়া। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের মূল্যহ্রাসের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি আশীর্বাদই। কারণ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সারা দেশে ভাগে ভাগে স্বল্পসময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাকআউট) রাখতে হয়েছে সরকারকে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর গত বছরের জুনে বাংলাদেশ অধিক তরলীকৃত গ্যাস কেনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোরতার ঘোষণা দেয়। মূল্য বেড়ে যাওয়ার পর শুধু বাংলাদেশ নয়, আরও যেসব উন্নয়নশীল দেশ আছে সেগুলোও তরলীকৃত গ্যাস কেনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। এর বদলে কয়লার মতো কমদামী জ্বালানির দিকে ঝুঁকে দেশগুলো। এছাড়া গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে গ্যাস সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে কিছু দেশ। ব্লমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আর এ ঋণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ঢাকার সক্ষমতা বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে যায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্লুমবার্গ। এজে/

post
এনআরবি বিশ্ব

মালদ্বীপে সাততলা থেকে পড়ে এক প্রবাসী শ্রমিক আহত

মালদ্বীপে এসি লাগাতে গিয়ে সাততলা থেকে পড়ে এক প্রবাসী শ্রমিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই শ্রমিক বাংলাদেশি নাগরিক। তবে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। বয়স ২৫ বছর বলা হয়েছে। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে দেশটির রাজধানী মালে শহরে ঘটে এ ঘটনা। তবে রোববার (২৯ জানুয়ারি) পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যম।বর্তমানে আহত ওই শ্রমিককে মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটি মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাশেদ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (আরসিসি) ইউনিফর্ম পরা ওই কর্মী এসি লাগাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। এরপর এলাকাবাসী ও আরসিসি কর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।হাসপাতালের একজন মিডিয়া অফিসার গণমাধ্যমকে জানান, আহত ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি।মালদ্বীপের পুলিশ জানিয়েছে, তারা শনিবার বিকেলে ভবন থেকে এক ব্যক্তির পড়ে যাওয়ার খবর পায়।এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই কোম্পানির কর্মী কাজ করতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তখন ওপর থেকে রড পড়ে তার কপালে ঢুকে যায়। পরে মালের এডিকা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় তার।

post
বাংলাদেশ

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে ঋণ পেতে যাচ্ছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন তহবিল থেকে প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বে প্রথম এই ঋণটি পায় বার্বাডোজ, তারপর কোস্টারিকা, আর সবশেষে রুয়ান্ডা। এরপরই ঋণ পাওয়ার তালিকায় আছে আরও পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। নতুন এই ঋণ তহবিলের নাম রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আইএমএফের বোর্ড এই তহবিলের অনুমোদন দেয় আর কার্যকর হয় পয়লা মে থেকে। যেসব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্যই এই তহবিলের সৃষ্টি। আইএমএফ বলছে, যেসব দেশের আয় কম, ঋণ পরিশোধের দায় বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, এতে উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতি পড়ে, তাদের জন্যই এই তহবিল। সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯-এর পরে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশেরই ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এই তহবিলের প্রয়োজনও অনেক বেড়ে গেছে। জলবায়ু ঝুঁকি যেভাবে দায় বাড়াচ্ছে আইএমএফের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি একটি দেশের ঋণসংকটকে তীব্রতর করে। দুইভাবে সরকারের এই ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে তার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ মান সংস্থাগুলো সম্প্রতি কোনো কোনো দেশের ঋণ ঝুঁকি (কান্ট্রি রিস্ক) যাচাইয়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো ভৌত পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনার মধ্যে আনছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ঋণ গ্রহণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সুদ। জাতিসংঘের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রতি ১০ ডলারে অতিরিক্ত আরও ১ ডলার ব্যয় করতে হয়। অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বাংলাদেশের রাজস্ব আয় অত্যন্ত কম। দেশের রাজস্ব আয় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। বিপুল অঙ্কের এ ঋণদায় মেটাতে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারও ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হয় বলে জলবায়ু অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকছে। বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। আর এর আগের দুই অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে সরকারের চলমান বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।অর্থনৈতিক মন্দাদশার চাপ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। এর ৫৮ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এক যৌথ প্রতিবেদনে ঋণের স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো নিম্ন ঋণ ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরজুড়েই ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা এখন ৮ শতাংশের বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে আছে নানা উদ্বেগ। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ওঠানামা রয়েছে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। ফলে আড়ালেই চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি বনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ পরিচালিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক’ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দশকে এ ক্ষেত্রে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭২ কোটি ডলার। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে কৃষি খাতের অবদান এখনো মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশ আজও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়েছে পটাশিয়ামসহ মাটির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত ৩০ বছরে মাটিতে সারের ব্যবহার ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ৩০ বছরের মধ্যে দেশে খাবার পানীয় ও সেচব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। এতে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত চাল উৎপাদন কমে যেতে পারে। চাল ছাড়াও গম, সবজি ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ প্রভাব পড়বে।শুধু বাংলাদেশই নয় উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপে জলবায়ু অর্থায়নে রাজস্ব সক্ষমতা হারাচ্ছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ একা নয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে এমন ৫৫টি স্বল্প ও উন্নয়নশীল দেশ মিলে গঠন করেছে ভালনার‍্যাবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি ২০)। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। গ্রুপের ২২টি দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে আছে। ভি ২০ গ্রুপের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এসব দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যৌক্তিক সমাধান করা না গেলে আগামী দশকে একটি বড় বৈশ্বিক ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন তহবিল কতটা সহায়ক বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ থেকে চেয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। নিয়ম হচ্ছে, আইএমএফের কোনো একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে থাকলেই কেবল আরএসটি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশই এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ঋণ চেয়েছে। ঋণের অর্থ দেওয়া হবে ১৮ মাসে। পরিশোধের সময় ২০ বছর, আর এর বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে সাড়ে ১০ বছর। এই ঋণের সঙ্গেও শর্ত থাকবে। ঋণ পেতে আইএমএফের ভাষায় বেশ কিছু উচ্চ মানের বা ‘হাই কোয়ালিটি’ সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করার মতো কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এই তহবিল কি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হবে। বাংলাদেশই বা লাভবান হবে কতটা। আসলে এর উত্তর পাওয়া যাবে সামনের দিনগুলোতেই। সুত্র- প্রথম আলো 

post
অভিবাসন

প্রবাসীদের হুন্ডি করে দেশে টাকা না পাঠানোর অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

প্রবাসীদের হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (০৪ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা অনুরোধ করবো- যে এখন যারা রেমিট্যান্স পাঠায় যেন হুন্ডি না পাঠিয়ে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে যাতে পাঠায় সে ব্যবস্থাটা করা।’ প্রবাসীদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা তো যৌথ উদ্যোগে দিচ্ছি, এখন তো অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। সেখানে কিন্তু যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে চায় তারা কিন্তু সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে। সে জন্য পার্টনার খুঁজে নিয়ে আসলে আরও ভালো হয়। বিনিয়োগ যত আসবে তত ভালো।’ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ ভালোই আসছে। বিদেশী বিনিয়োগ, সবার একটা ভালো আকাঙ্খা, বাংলাদেশের দিকে সকলের দৃষ্টি। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে।’ মানুষের যাতে খাওয়ার কষ্ট না হয় সেজন্য সরকারের আন্তরিকতার জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যতটাকা লাগুক, যেখান থেকে পারি খাবার জিনিস আমরা কিনে নিয়ে আসছি। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য আমাদের একটু সমস্যা। আর তা না হলে আমাদের কোন সমস্যা থাকার কথা না। মানুষের খাওয়ার কষ্ট আমরা হতে দেবো না।’ দেশে মূল্যস্ফীতি কমতির দিকে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা তো সব জায়গায় লেগেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষের খুবই কষ্ট। মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। তবে আমাদের এই এখন কিছু মূল্যস্ফীতি কমেছে। একটু ভালোর দিকে।’ এবার ফসল ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর আল্লাহর রহমতে ফসল ভালো হইছে। আমনও খুব ভালো বাম্পার ফলন। এখন বোরো লাগানোর জন্য সবাই খুব ব্যস্ত। ’ দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই খুব ভালো কাজ করছে বলে জানান তিনি।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিদেশিদের প্রবাসী আয় নেওয়ার পরিমাণ ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের বৈধভাবে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় নেওয়ার পরিমাণ বছর বছর বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে তা প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্থ দেশীয় মুদ্রায় ৮৫০ কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা হিসাবে)। বাংলাদেশে কাজ করে বিদেশিরা যে পরিমাণ রেমিট্যান্স নিয়ে গেছেন, তা দেশের একই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত দ্য গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (নৌম্যাড) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স নিজেদের দেশে পাঠান বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা। সেটি গত বছর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ১০ লাখ উঠেছে।নৌম্যাডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা ২০১২ সালে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স নিজ দেশে নিয়েছিলেন। পরবর্তী এক দশকের মধ্যে এক বছর ছাড়া সংখ্যাটি কেবলই বেড়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশিদের রেমিট্যান্স নেওয়ার পরিমাণ বেড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়ায়। পরের বছরে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স নিজেদের দেশে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা। অবশ্য নৌম্যাডের পরিসংখ্যানটি আংশিক। এর কারণ ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়াও অবৈধভাবে রেমিট্যান্স নিজ নিজ দেশে পাঠান বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতার নামে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। কম করে ধরলেও বাংলাদেশে আড়াই লাখ বিদেশি কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে পর্যটক ভিসায় এসে কাজ করেন ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মী। এসব বিদেশি কর্মী প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেন।টিআইবি জানায়, এ দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে গেলে জনপ্রতি নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৩ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। বৈধভাবে বিদেশি কর্মী আনা হলে আটটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী আনা হলে তিন ধাপেই নিয়োগ চক্র শেষ হয়। সে জন্য বেশির ভাগ পর্যটক ভিসায় এসে এ দেশে কাজ করেন।টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আট ধরনের কাগজপত্র ঠিক করতে এই নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন করতে হয়। সেগুলো হচ্ছে ভিসার সুপারিশপত্র, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভিসা সংগ্রহ, বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন, কর্ম অনুমতির জন্য আবেদন, নিরাপত্তা ছাড়পত্র (এসবি পুলিশ), নিরাপত্তা ছাড়পত্র (জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা), নিরাপত্তা ছাড়পত্র (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ও ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ঘুষ দিতে হয়।

post
আন্তর্জাতিক

চীনে হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

চীনে হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। কাউকে দেশটিতে না ঢোকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘যদি এই মুহূর্তে চীনের বাইরে থাকেন, তাহলে ফিরে আসবেন না’—এমনই আহ্বান জানিয়েছেন চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক ব্যবহারকারী।সম্প্রতি চীনে ফিরে কয়েক দিনের মধ্যেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এই ব্যক্তি। এবং জানিয়েছেন চেনা-পরিচিত সবার করোনা হচ্ছে এবং শরীরে জ্বর। বিধি নিষেধ না মানার কারণেই পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে বলে মত অনেকের। খবরে বলা হয়েছে, করোনা রুখতে চীন সরকারের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন দেশটির বাসিন্দারা। এরপর চলতি বছরের শুরুতে অনেক বিধিনিষেধ তুলেও নেওয়া হয়। এতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। পরিস্থিতি এখন এতটাই খারাপ যে দেশটির হাসপাতালগুলো রোগীর চাপ সামলাতে পারছে না। শুধু করোনার ধাক্কাই নয়। বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর নতুন একটি ঘোষণা দেয় ঝেজিয়াং ও আনহুই প্রদেশ এবং চংকিং শহর কর্তৃপক্ষ। ঘোষণা অনুযায়ী, কারও শরীরে যদি করোনার অল্প উপসর্গ থাকে কিংবা কোনো উপসর্গ না থাকে, তাকে কাজে যেতে হবে। গত সোমবার থেকে এই ঘোষণা সংশ্লিষ্ট হ্যাশট্যাগ চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে ৩ কোটি ৩০ লাখ বারের বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ওই হ্যাশট্যাগ ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগই আতঙ্ক ও ভয়ের কথা প্রকাশ করেছেন। যেমন উইবোতে একজন লিখেছেন, ‘গত তিন বছরে আমাদের অফিসে যাওয়ার কোনো প্রস্তুতি ছিল না। হঠাৎ করে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলো, আর বলা হলো, আপনি অসুস্থ হয়েও কাজে যেতে পারবেন। পিঁপড়ার মতোই আমাদের জীবনেরও যেন কোনো মূল্য নেই।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মাত্র কয়েক মাস আগেও লোকজন করোনা পজিটিভ হয়ে কাজে গেলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতো।’ শরীরে করোনা নিয়ে চীনারা কীভাবে দিন পার করছেন, গত দুই সপ্তাহে এমন সব ভিডিওতে ছেয়ে গেছে দেশটির ইন্টারনেটে। চীনের গণমাধ্যমের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীরা তাঁদের অসুস্থ বাবা-মায়ের জন্য খাবার ও পানি নিয়ে যাচ্ছেন। একই বাড়ির মধ্যে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনেককে দেখা গেছে ভিন্ন সব কৌশল বেছে নিতে। অনেকেই আবার ব্যথানাশক ওষুধ কিনে তা পৌঁছে দিচ্ছেন অসুস্থ মানুষের কাছে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.