post
এনআরবি বিশ্ব

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ পালন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের একযোগে কাজ করার বিকল্প নেই।” ১৫ আগস্ট সোমবার জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটির কর্মসূচি। এরপর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতসহ উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ। এর পর শুরু হয় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে বাঙ্গালী জাতি। এমন একজন মহান ও বিশ্বনন্দিত নেতাকে যারা স্বপরিবারে হত্যা করেছে, তারা এখনো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করে জাতিকে কলংকমুক্ত করতে সকলকে সরকারের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবার কথা বলেন তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠণের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের মধ্যে যারা এখনও বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা চাই জাতির পিতার কোনো খুনীই যেন বিচারের হাত থেকে পার না পায়”। বক্তাগণ পনের আগস্টের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

post
খেলা

আনুষ্ঠানকিভাবে নেইমার এখন আল হিলালের; ব্রাজিলিয়ান তারকা মনে করেন, তার ক্লাব এশিয়ার সেরা

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল স্টার নেইমার। তার যোগদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছে তার ক্লাব। ক্লাবের টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে আছি। আমি আল হিলালি।’ নেইমার জানান, তার লক্ষ্য হলো ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস লেখা। সাবেক এই পিএসজি তারকা মনে করেন সৌদি প্রো লিগে এখন দুর্দান্ত উদ্যম এবং বিশ্বের তারকা অনেক ফুটবলার এখানে আছেন , সামনে আসবেন। নেইমার আরও বলেন, ‘আল হিলাল অনেক বড় ক্লাব, তাদের দুর্দান্ত সমর্থক রয়েছে এবং এশিয়ার মধ্যে এটা সেরা ক্লাব। আমার মনে হচ্ছে আমি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক ক্লাবকেই বেছে নিয়েছি। আমি জিততে এবং গোল করতে ভালোবাসি। সৌদি আরবে আল হিলালের হয়েও সেটা অব্যাহত রাখতে চাই। নেইমার চলে আসায় মন খারাপের এক বিবৃতি দিয়েছেন পিএসজির সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। সেখানে তিনি বলেছেন, 'নেইমারের মতো বিশ্বনন্দিত একজন ফুটবলারকে হারানো এবং বিদায় বলা খুব কঠিন কাজ। সে বিশ্বসেরাদের একজন। আমাদের দারুণ কিছু মুহূর্ত আছে এবং নেইমার সবসময় আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’ ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। বারবার চোটে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে অর্জনের হিসেব বেশ ভালো। ১৭৩ ম্যাচে করেছেন ১১৮ গোল। জিতেছেন পাঁচটি লিগ ওয়ান এবং তিন ফ্রেঞ্চ কাপের শিরোপা। ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি না হারলে ক্লাবের হয়ে ইতিহাসও গড়া হয়ে যেতো নেইমারের।

post
খেলা

মেসি ম্যাজিকে প্রথমবারের মতো লিগস কাপের ফাইনালে ইন্টার মিয়ামি

আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের সকার লিগ এলএমএসের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবার পর থেকে দারুণ ফর্মে আছে দলটি। জিততে ভুলে যাওয়া দলটি ম্যাচের পর ম্যাচ জিতেই চলছে। নিজের ফুটবল জাদুতে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে আবিষ্ট করে রেখেছেন লিওনেল মেসি। ১৩ আগষ্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি যে দেখালন তা ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে অনেক অনেক দিন। এদিন পেনসিলভ্যানিয়ার সুবারু পার্কে লিগস কাপের সেমি-ফাইনালের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে ৪-১ গোলের হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে মেসির মিয়ামি। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলবে তারা। মেসি ছয় ম্যাচে নয় গোল করে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলকে নিয়ে গেছেন লিগ কাপের ফাইনালে। মিয়ামিতে মেসি যোগ দেওয়ার পর দলটি ছয়টি ম্যাচে ২১টি গোল করেছে। ম্যাচের প্রথম গোলটি অবশ্য এসেছিল হোসেফ মার্টিনেজের পা থেকে। মেসি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ২০ মিনিটে। মিয়ামির জার্সিতে নবম গোলটি মেসি করেছেন ৩০ মিটার দূর থেকে মাটি কামড়ানো এক শটে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মিয়ামির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন জর্ডি আলবা। প্রথমার্ধেই ৩ গোলে পিছিয়ে পড়া ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের পক্ষে ঘুরে দাড়ানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ১টি গোল করে ব্যবধান কমায় তারা। ৮৪ মিনিটে মিয়ামির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন দাভিদ রুইজ।  ১৯ আগষ্ট শনিবার প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে খেলতে নামবে অপ্রতিরোধ্য মেসির দল। ফুটবল বিশ্ব দেখার অপেক্ষায় আছে ইন্টার মিয়ামীর প্রথম শিরোপা মেসির হাতে উঠে কিনা। 

post
প্রযুক্তি

এক মাসের ব্যবধানে ব্যবহারকারী হারাতে শুরু করেছে থ্রেডস!

লোগো পরিবর্তন হলেও মাইক্রোব্লগিং বাজার দখল করে রেখেছে টুইটার। টুইটারকে টক্কর দেওয়ার জন্য মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গ জুলাইয়ের শুরুতে থ্রেডস অ্যাপ চালু করেন। প্রথমদিকে বিশ্ব জুড়ে দৈনিক নতুন ব্যবহারকারীর হিসেবে টুইটারকে ভালোই টক্কর দিয়েছিল এই নতুন অ্যাপ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর একমাসের মধ্যেই থ্রেডসের ব্যবহারকারীর সংখ্যায় ব্যাপক ধস নেমেছে। প্রথম ৩০ দিনেই প্রায় ৭৯ শতাংশ ব্যবহারকারী হারিয়েছে থ্রেডস।সিমিলারওয়েবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই এই থ্রেডস অ্যাপের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৯.৩ মিলিয়ন। সেখানে ঠিক একমাসের ব্যবধানে ৭ আগস্টে ওই অ্যাপে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৩ মিলিয়নে। আবার ৭ জুলাইয়ের হিসাবে বিশ্ব জুড়ে থ্রেডস অ্যাপের সক্রিয় ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৪ মিনিট সময় ওই অ্যাপে ব্যয় করতো। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই থ্রেডস ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২১ মিনিট সময় ওই অ্যাপে ব্যয় করত। সাম্প্রতিক রিপোর্টে সেই সময়টা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ মিনিটে।প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, টুইটারের দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যার কাছে থ্রেডসের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় কিছুই নয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টুইটারের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ মিলিয়নেরও বেশি। যারা টুইটারে প্রতিদিন গড়ে ২৫ মিনিট সময় কাটান। আনুষ্ঠানিক যাত্রার সময় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই অ্যাপকে ‘টুইটার কিলার’ হিসেবে অভিহিত করছিল। উন্মুক্ত হওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ ব্যবহারকারী এতে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। মার্ক জুকারবার্গ বলেছিলেন, ‘এটি বড় হতে সময় নেবে। কিন্তু আমি মনে করি ১০০ কোটি ব্যবহারকারী সমৃদ্ধ একটি কথোপকথন অ্যাপস থাকা উচিত। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও টুইটার এটি করতে পারেনি। তবে আশা করি আমরা পারব।’

post
এনআরবি বিশ্ব

সাড়ে সাত হাজার মাইল দূরে , তবু হৃদয় জুড়ে বাংলাদেশ!

লেখক: ফারহানা হানিপআর আট দশটা সাধারন মেয়ের মত বেড়ে ওঠা আমার। অস্তিত্ত্বের মাঝে একাত্তর একটা আলাদা জায়গা নিয়ে ছিল আমার চিরদিন। আমাকে ছোটবেলায় সবাই ফারহা নামে ডাকতো। ফারহা থেকে ফারহানা হানিপ, এতগুলো বছরের পথচলা আমাকে একদিনের জন্যও দেশ কিংবা দেশের মাটি থেকে আলাদা করতে পারেনি। বরং প্রতিটি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি মাটি, মা আর একাত্তরকে। আমার কাছে বাঙালীয়ানা শব্দটার পূর্নতা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের ৭ই মার্চের ভাষনে আর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটা একটুকরো বাংলাদেশ। আমি সবসময় চাইতাম আমার সন্তান যেন ঠিক আমার মত করেই দেশ, মাটি, একাত্তর, বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নেয় হৃদয়ের অন্ত:স্তলে।লেখালেখি আমি তেমন একটা করিনা। সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় আর সংসার সামলে ঠিক হয়েও ওঠেনা। কিন্তু মার্চ মাস এলেই কেমন জানি লাগতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল এই মার্চ মাসেই। দেশাত্মবোধক গানগুলো শুনে আজও আমার রোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। ‘৭১ এ আমার জন্ম হয় নি, কিন্তু বাবা-মার কাছে অনেক শুনেছি সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। অনেকের মতই জীবন সংগ্রামে আজ বসতি গড়েছি বিদেশের মাটিতে, কিন্তু শিকড়টা ঠিকই পড়ে আছে আমার মাতৃভূমি, বাংলাদেশে।তাই দেশকে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ পেয়ে লোভ সামলাতে পারলাম না। আমার তিন মেয়ে। নাফিসা, প্রিয়েতা আর ইলাফ। ছোট মেয়েটা তখন খুবই ছোট। গত বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে বেড়াতে। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের সাথে ঈদ করা আর বিদেশে যে জিনিসটা খুব মিস করি; মেয়েদের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস আর সংস্কৃতির সংযোগ তৈরি করে দেয়া। মাত্র কয়েক সপ্তাহর ছুটি। কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যেও এবার চেয়েছিলাম মেয়েদেরকে কিছু হলেও ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখাব। লিস্ট করলাম কোথায় কোথায় যাওয়া যায়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল ইত্যাদি ইত্যাদি।ঢাকায়পৌঁছানোর পরই নানা কাজের ব্যাস্ততায় দেখতে দেখতে সময়টা শেষ হয়ে এলো! কিন্তু এবার না হলেই নয়... দিনটি ছিল আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ। জাতীয় শোক দিবস আবার সরকারি ছুটির দিনও। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে প্রাণ হারান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। ভাবছিলাম আজকের দিনটায় কি করা যায়। দেখতে দেখতে চলে যাবার সময় হয়ে গেলো, আর কিছুদিন পরেই আমেরিকায় ফিরতে হবে। ভাবলাম সময় নষ্ট না করে আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে রাখার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে যদি ওদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘরটা ঘুরে আসা যায়। ওরাও জানলো মাতৃভূমি জন্মের ইতিহাস। কয়েকজন বন্ধুদেরকে ফোন দিলাম কিন্তু কাওকেই পেলাম না, সবাই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও ছুটি কাটাতে গিয়েছে। অতঃপর আমাদের যাত্রা ধানমণ্ডি৩২ নং এর ঐতিহাসিক বাড়ি। ড্রাইভার বেশ অবাক হয়ে বলল, আপা আজ তো সব বন্ধ- শপিং মল, দোকানপাট সব বন্ধ। আমি বললাম ধানমণ্ডি ৩২এ চল। গাড়িতে আমি, দুই মেয়ে আর আমার ভাগ্নে লিংকন। ঘুরতে বের হয়ে প্রথমে বাচ্চাদের আগ্রহ যমুনা ফিউচার পার্ক বা হাতিরঝিল ফ্লাইওভারে থাকলেও পরের ঘটনা ছিল একেবারে ভিন্নরকম!কথা বলতে বলতে কখন যে গাড়ি পৌঁছে গেলো টেরই পাইনি। যদিও ধানমণ্ডি এলাকায় বেশ ট্রাফিক এ পড়তে হয়েছিল। কয়েক বছরে আশেপাশের পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। ধানমন্ডির লেক সার্কাসে৩২ নম্বর রোডেই সেই স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি। এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সপরিবারে ছিলেন। এই বাড়ি থেকেই পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি এখান থেকেই দেশ পরিচালনার কাজ করতেন। বাড়ির প্রতিটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের সব চিহ্নগুলোকে সেভাবেই রেখে দেয়া হয়েছে।১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের ধানমণ্ডি ৩২ এর এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ট্রাস্ট তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সেটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করে আর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ১৯৯৭ সালে। গেটে ঢুকতেই সিকিউরিটি চেকিং। ব্যাগ, মোবাইল, ক্যামেরা সব রেখে ঢুকতে হয়। মেয়েরা ছোট, তাই ক্যামেরা সাথে নেয়ার জন্য খুব বায়না ধরল, কিন্তু ওদেরকে না বললাম। বাসার নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর অফিস রুম। গুলির আঘাতে সব ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সব ঠিক সেভাবে সংরক্ষণ করা আছে। এছাড়া তার বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিবিজড়িত ছবি দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। জাদুঘরটিতে গাইডের ব্যাবস্থাও আছে যিনি জাদুঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে এর ইতিহাসও বর্ণনা করলেন আমাদের কাছে। আমি বুঝতে পারলাম মেয়েরা তখন আগ্রহ পাচ্ছে। ওদের জন্য বাংলা, আর ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছিল। কিন্তু ওদেরকে আমাদের দেশের ইতিহাস পড়ে শোনাতে আমার খুব ভাল লাগছিল। দোতলায় বঙ্গবন্ধুর বেডরুম। এতো বড় মাপের একজন মানুষ, কিন্তু তাঁর কী সাধারণ আটপৌরে জীবন। কোন বিলাসিতা নেই! বাড়ির ভেতরটা ছিল খুবই শান্ত, বিশেষ দিন হওয়াতে লোকজনের বেশ ভিড় ছিল। তবু আমি ওদেরকে পুরো বাড়ির সবগুলো ঘর ঘুরে দেখালাম। হায়নাদের গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল চারপাশের সব দেয়ালগুলো। সেই গুলিতে একতলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাশেই পড়ে থাকা তাঁর ভাঙা চশমা ও পছন্দের তামাকের পাইপটি আজও একিভাবে রাখা আছে। রিসেপশান, বেডরুমের সামনে, সিঁড়িতে, বাথরুমে সব জায়গায় নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সপরিবারে হত্যা করে খুনিরা। বাচ্চারা প্রতিটি জিনিস খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল, শুনছিল আর কাগজে নোট করছিল। একটা সময়ে হঠাত খেয়াল করলাম, বড় মেয়েটা খুব ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। আমি বুঝতে পারলাম, কিন্তু কিছু বললাম না। সবশেষে গেলাম শেখ রাসেলের রুম এ। তার সেই ব্যবহৃত খেলনা বাই সাইকেল সব ওভাবেই পড়ে আছে। তখন নাফিসা আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না। আমাকে জরিয়ে ধরে হাঁটছে, ছবি আর জিনিসের কাপশান পড়ছে আর তার চোখ দিয়ে পানি পড়েই যাচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা চলে গেলাম বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলের রুমের পাশের ছাঁদে। কেন জানি না, এমন এক মুহূর্তে বাইরে ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল। মনের অবস্থা আর পুরো পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টিটা। অচেনা বাতাস আর একটা দীর্ঘশ্বাস। লিওন তখন আমাকে বলল, ফুপ্পি, আমার স্কুল এখানেই। আমরা এখানে আসে পাশে অনেক আসি। কিন্তু এই জাদুঘরে আগে আসা হয়নি। সত্যি, এখানে এসে আমাদের দেশ নিয়ে অনেক কিছু জানলাম। থ্যাঙ্ক ইউ।বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমার সন্তানদের জানাতে চাই ওদের মাতৃভূমি সম্পর্কে, কিভাবে জন্ম হল, কিভাবে স্বাধীন হল, কাদের অবদানের জন্য আমরা আজ বাংলায় কথা বলতে পাড়ি, আমার দেশের ইতিহাস অবশ্যই জানা উচিত। মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। ৯ মাস সংগ্রাম, আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি, মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষার জন্য এই আত্মত্যাগের উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনকরে বলতে চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমদের দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের ইতিহাস জানে, দেশের জন্য কাজ করে। তাহলেই তারা খুশি হবেন। গ্রীষ্মের ঐ ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাওয়া ছিল আমাদের জন্য সত্যিই সেরা সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা। - ফারহানা হানিপ, ওয়াশিংটন প্রবাসী।

post
বিনোদন

বিয়ে করলেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ

বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ১৪ আগষ্ট সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী। স্বামীর শেখ রেজওয়ান থাকেন দেশের বাইরে। তবে তিনি কি করেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি এখনো। ফেইসবুকে দেয়া স্বামীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, 'সাড়ে আট বছরের সম্পর্কের পর ১১ আগস্ট আমরা অফিসিয়ালি একত্রে হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' অভিনেত্রী নিজের স্বামীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “আমরা কলেজে পড়ার সময় প্রেমে পড়েছিলাম। প্রথম ক্যামেরার সামনে আসার আগে তুমি ছিলে আমার জন্য ছায়ার মতো'। আমার কাজের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং আমাকে সমর্থন জুগিয়েছো। আমাদের কিশোর প্রেম অবশেষে প্রাপ্য সমাপ্তি পেয়েছে। এটা এখনও অবাস্তব মনে হয় যে আমি এমন স্বামী পেয়েছি। আমার মনে হয় আমি বেঁচে থাকা সবচেয়ে ভাগ্যবান মেয়ে। আমাকে বিয়ে করার জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমি তোমাকে আমার বাকি জীবন লালন করব।” অভিনেত্রী আরো জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ পরিবার পরিবেষ্টিত একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাদের আকদ হয়েছে।তার স্বামী বর্তমানে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আবার দেশে ফিরে এলে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহকর্মীদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে উদযাপন করবেন এই জুটি।

post
খেলা

নেইমার এখন আল হিলালের

জল্পনাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হতে চললো। ইউরোপ ছেড়ে যাচ্ছেন আরেক বিশ্বসেরা তারকা নেইমার। পিএসজি ছেড়ে এই ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লেখাতে যাচ্ছেন সৌদি ক্লাব আল হিলালে। ক্লাবটির সঙ্গে এরই মধ্যে নেইমার দুই বছরের চুক্তি সই করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত দৈনিক এল ইকুইপে। ফ্রান্সের পত্রিকাটি জানিয়েছে, বছরপ্রতি নেইমারের পারিশ্রমিক হবে ১৬০ মিলিয়ন ইউরো। টাকার হিসেবে যা দাড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। দুই বছরে অঙ্কটা দাঁড়াবে ৩১০ মিলিয়ন ইউরো। জানা গেছে, নেইমারকে বিক্রির ব্যাপারে এরই মধ্যে আল হিলালের প্রস্তাব গ্রহণ করে নিয়েছে পিএসজি। সৌদি ক্লাবে যাওয়ার ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেতও দিয়েছেন নেইমার। দলবদল নিয়ে নির্ভরযোগ্য ইতালিয়ান সংবাদকর্মী ফ্যাব্রিজিও রোমানো টুইটে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আল হিলালে চুক্তি করবেন নেইমার। সৌদিতে যাবেন ব্রাজিল তারকা এবং আজই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার কথা। আল হিলালে ১০ নম্বর জার্সি পরবেন নেইমার। এই সপ্তাহের শেষে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আল হিলালের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতে পারে। সুতরাং, খুব শিগগির সৌদি প্রো লিগে নেইমারকে খেলতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আল হিলাল ক্লাবও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো ফুটবলারকে দলে নিতে সক্ষম হচ্ছে। প্রথমে তারা চেষ্টা করেছিল লিওনেল মেসির ব্যাপারে। বছরপ্রতি ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল তাকে। দুই বছরের চুক্তির বিষয়ে আল হিলালের সঙ্গে প্রায় একমতও হয়ে গিয়েছিলেন মেসি। তবে শেষ মুহূর্তে মত পরিবর্তন করে তিনি যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে। এরপর আল হিলাল চেষ্টা করে কিলিয়ান এমবাপেকে দলে নিতে। পিএসজি রাজিও ছিল তাকে বিক্রি করার ব্যাপারে। কিন্তু এমবাপে যেতে রাজি হননি। তিনি আল হিলাল কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখাই করেননি। শেষ পর্যন্ত নেইমারের দিকে হাত বাড়িয়ে সফল হলো আল হিলাল। ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে দলে নিয়ে এবার নিজেদের লিগে শক্তিশালী একটা অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে আল হিলাল। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। সে থেকে ট্রান্সফার মার্কেটে এখনও পর্যন্ত নেইমারই সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। সে থেকে গত ৬টি মৌসুম পিএসজিতে কাটিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। ক্লাবের হয়ে গত মার্চ থেকেই মাঠের বাইরে রয়েছেন তিনি। যে কারণে পিএসজিও চাচ্ছে তাকে ছেড়ে দিতে। নেইমারও চান পিএসজি ছেড়ে যেতে। আল হিলালে গিয়ে কালিদু কৌলিবালি, রুবেন নেভেস এবং সাবেক বার্সা উইঙ্গার ম্যালকমের সঙ্গে একত্রিত হবেন ৩১ বছর বয়সী নেইমার।

post
খেলা

এশিয়া ও বিশ্বকাপে সাকিবই অধিনায়ক

জল্পনা-কল্পনা শেষ। আসন্ন এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য সাকিব আল হাসানকেই অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এটি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এর আগে গত বছর টি-টোয়েন্টি ও টেস্টেও অধিনায়কত্ব পান সাকিব। সবমিলিয়ে তিন ফরম্যাটেই টাইগারদের অধিনায়ক এখন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। গত ৩রা আগস্ট ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন তামিম ইকবাল। এরপর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে কে? অবশেষে ৮ দিন পর উত্তর মিললো। এর মধ্যে একই প্রশ্নে কখনও সাকিব, কখনও বর্তমান সহ অধিনায়ক ও ৫টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়া লিটন কুমার দাস বা মেহেদী হাসান মিরাজের নামও শোনা গেছে। যদিও অভিজ্ঞতা, পারফর্মেন্স, গ্রহণযোগ্যতা, সবমিলিয়ে বাকিদের তুলনায় সাকিবই এগিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের হাতেই অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব দিলো দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদিও তামিম অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে সাকিবকেই ‘অবধারিত’ পছন্দ বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি পাপন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সাকিবকে নেতৃত্বে পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সাকিবকেই বেছে নেয়া হলো। এ নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করবেন সাকিব। এর আগে ঘরের মাঠে ২০১১’র বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ২০১৫ সালে দুটি ও ২০১৭ সালে একটি ওয়ানডে ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিলেও সেটা ছিল নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে। ২০০৯ সালে প্রথম ওয়ানডে অধিনায়কত্ব করেন সাকিব আল হাসান। মাশরাফি বিন মুর্তজার চোটে এই সিরিজে অধিনায়কত্ব পান তিনি। এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত, খণ্ডকালীন সবমিলিয়ে ৫০ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব। যেখানে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ২৩ ম্যাচে আর হেরেছে ২৬ ম্যাচে। বাকি ১ ম্যাচ পরিত্যক্ত। অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের সাফল্যের হার ৪৬%। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এরপর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব ছিল তার। সর্বশেষ ২০১৭ সালে এ সংস্করণে অধিনায়কত্ব করেছিলেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। অধিনায়ক হিসেবে ৫০ ম্যাচে সাকিবের পারফর্মেন্সও উজ্জ্বল। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারার দক্ষতা তাকে আলাদা করেছে বাকিদের থেকে। অধিনায়ক সাকিবের ৪৮ ইনিংসে ব্যাট হাতে রান ৩৫.৯৭ গড়ে ১৫৪৭, স্ট্রাইক রেট ৮৭.৩০। এ সময় এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সেঞ্চুরি করেছেন ৩টি আর ফিফটি ৯টি। বল হাতে ৪৯ ইনিংসে সাকিবের শিকার ৬৮ উইকেট। ইকোনোমি ৪.৩৩ আর ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন ৩ বার। সেরা বোলিং ফিগার ৩৩ রানে ৪ উইকেট।

post
খেলা

বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচসহ বিশ্বকাপের মোট নয়টি ‌ম্যাচের সূচিতে পরিবর্তন

অনেকটা দেরি করেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করেছিল ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক ১০০দিন আগে সূচি প্রকাশ করে তারা। তবে সে সূচি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে সময় লাগেনি। ফলে শেষ সময়ে এসে সূচি বদলের গুঞ্জন ডালপালা মেলেছিল। অবশেষে এটাই সত্যি হলো। বিশ্বকাপের মোট ৯টি ম্যাচের সূচিতে পরিবর্তন এসেছে।বিশ্বকাপে দর্শক চাহিদার তুঙ্গে থাকা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সূচি একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে। বড় পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের ম্যাচের সূচিতেও। টাইগারদের মোট তিনটি ম্যাচের সূচি বদলে গিয়েছে। পরিবর্তিত তারিখ অনুযায়ী বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ হবে ১০ অক্টোবর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের বিপক্ষে র ম্যাচ হবে ১১ নভেম্বর আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ অক্টোবর মাঠে নামবে সাকিব-লিটনরা।পুরনো সূচি অনুযায়ী বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ১৫ অক্টোবর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাইভোল্টেজ ম্যাচটি একদিন এগিয়ে ১৪ অক্টোবর একই ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে। এর ফলে বদলে গেছে ইংল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচের সূচিও। ১৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।এশিয়ার সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিতান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ ১২ অক্টোবরের পরিবর্তে ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে, তবে বদলাচ্ছে না ভেন্যু। হায়দরাবাদেই হবে ম্যাচটি। লখনৌয়ে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটিও একদিন এগিয়ে ১২ অক্টোবর আয়োজন করা হবে।বাংলাদেশের মোট তিনটি ম্যাচের সূচি বদলেছে আইসিসি ও বিসিসিআই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে ১৪ অক্টোবর খেলার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু নতুন সূচি অনুযায়ী একদিন আগেই মাঠে নামতে হচ্ছে টাইগারদের। ধর্মশালায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির দিন তারিখ অপরিবর্তিত থাকলেও বদলে গেছে সময়। আগের সূচি অনুযায়ী এই ম্যাচটি দিবারাত্রির হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী যা সকাল ১১টা।পরিবর্তন হয়েছে রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচের সূচিতেও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি ১২ নভেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও নতুন ঊচি অনুযায়ী হবে ১১ নভেম্বর। তবে ভেন্যু আগের মতো পুনেতেই থাকছে।

post
খেলা

পদ্মা সেতু ঘুরে গেল ওয়ানডে বিশ্বকাপ ট্রফি

৬ আগস্ট রবিবার মধ্যরাতে ঢাকায় আসে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফি। ৭ থেকে ৯ আগস্ট এই তিনদিন বাংলাদেশে ছিলো ট্রফিটি। তিন দিনের সফরে তিনটি ভিন্ন তিনটি জায়গায় প্রদর্শনী হয়েছে ট্রফিটি।  ৭ আগষ্ট সোমবার বিকেল চারটায় পদ্মা সেতুর মাওয়া পয়েন্টে ১ নম্বর পিলারের পাশে রাখা হয়। সেখানে আইসিসির আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনের পর সংবাদমাধ্যমকে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে নিয়ে হোটেলে রাখা হয় ট্রফিটি।পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রদর্শন করা হয় ট্রফি। যেখানে জাতীয় দল, নারী দল, বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটার, ক্রিকেট কর্মকর্তা এবং সংগঠক এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ করে দেয়া হয়।শেষের দিন বুধবার ঢাকার পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের জন্য ট্রফি প্রদর্শন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় বিশ্বকাপ ট্রফি। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে ছবি তুলেছেন ভক্তরা। এ জন্য লাগেনি কোনো টিকিট। বেশি সংখ্যক মানুষকে ট্রফি দেখা ও ছবি তোলার সুযোগ করে দিতেই বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে ট্রফি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিসিবি।গত ২৭ জুন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফি ভূপৃষ্ঠ থেকে এক লাখ ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় মহাশূন্যে উন্মোচন করে নামানো হয় ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। এরপর নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ করেছে ট্রফিটি। বাংলাদেশ থেকে এটি যাবে কুয়েতে। সব মিলিয়ে এবার ১৮টি দেশে ঘুরবে ট্রফিটি।আসছে ৫ অক্টোবর আহমেদাবাদ নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের আসর।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.