post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী: গৌরব আর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার সংকল্প

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব আর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ১৪ হাজার এলামনাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত ২৪০ শিক্ষকের সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের উদাত্ত আহবান জানিয়ে নিউইয়র্কে লাগোায়ার্ডিয়া প্লাজা হোটেলের বলরুমে ২৫-২৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনী অনুষ্ঠান হলো।দু’ শতাধিক রেজিস্টার্ড এলামনাইয়ের মনোমুগ্ধকর এ অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণকে অবিকল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপট উপস্থাপন করা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করার সময়েই আন্তরিক অভ্যর্থনা জ্ঞাপণে ব্যস্ত ছিলেন হোস্ট সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদালয় এলামনাই এসোসিয়েশন’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান। তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তেমনি এই প্রাণপ্রিয় শিক্ষালয় থেকে বেরিয়ে হাজারো আলোকিত মানুষগুলো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব আরো উজ্জ্বলতর করেছেন দেশে এবং প্রবাসের মাটিতে স্বীয় মহিমায়। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্জন ও প্রাপ্তির গৌরবকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের পথে, বিশ্বায়নের স্রোতধারায় যোগ করবে আরো বলিষ্ঠ মাইলফলক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়। আর তা সম্ভব হবে শুধুমাত্র প্রাক্তনদের প্রাণের স্পর্শে, আন্তরিক সহযোগিতায়। অতিথি হিসেবে ছিলেন এলামনাইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোল্লা কাওসার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম এ মোহিত, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম। স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সমসাময়িক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত কারিক্যুলাম চালুর পরামর্শ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধন পুন:প্রতিষ্ঠার তাগিদ উচ্চারিত হয় এই চমৎকার সমাবেশের মূল বক্তব্যে এবং তা উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক এবং সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোস্তফা সারওয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাথা উপস্থাপনকালে ড. মোস্তফা সারওয়ার বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কালীন ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে গর্বিত। পৃথিবীতে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানের আত্মত্যাগী ছাত্রদের অবদানে একটি ভাষা বিশ্ব ভাষার মর্যাদা পেয়েছে, একটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রগামী সৈনিকের ভূমিকা রেখেছে, এবং স্বৈরতন্ত্রের পতনে রেখেছে নিদারুণ অবদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই হল একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি এই সব মহান অর্জনে মহিমান্বিত হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশচুম্বী খরচ বহন করার মত সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি এমনি হাজার হাজার ছাত্রদের শিক্ষাদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেখেছে মহান ভূমিকা। আমি গর্বিত। ড. সারওয়ার উল্লেখ করেন, আজকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিতদের শতকরা কতজন সুহৃদয় চরিত্রবান মানুষ হিসেবে পরিচিত? কতজন ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি, চামচাগিরির মত ঘৃণিত জীবনকে বেছে নিয়েছে? সভ্য দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বাধ্যতামূলকভাবে এথিকস পড়ানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখা প্রয়োজন। ড. সারওয়ার আরো বলেন, এককালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পৃথিবীতে র‌্যাংকিং কেন নয় শত সাতাত্তর? এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং কেন দু শ তেষট্টি? এই র‌্যাংকিং আপনারা দেখতে পাবেন ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ড রিপোর্ট ওয়েব সাইটে। নানাবিধ পরিস্থিতির অসহায় ভিকটিম হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মেধাবি শিক্ষার্থীর অন্যতম ড. সারওয়ার ক্ষোভের সাথে আরো উল্লেখ করেন, নিয়োগ ও প্রমোশনে দলবাজি, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি, চামচাগিরির প্রভাব কতটা? সুষ্ঠু নিয়োগ ও প্রমোশন হচ্ছে না বলেই কি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর আজ এই করুন পরিণতি? অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপনকালে যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান এটর্নী ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার মঈন চৌধুরী বলেন, পারিবারিক কোটায় ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসবো বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ হয়নি। তবে জেনেছি স্বজনের কাছে তার গৌরবোজ্জল ইতিহাস-ঐতিহ্য। আমার নামে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরো কলেজে একটি স্কলারশিপ চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তপক্ষের আপত্তি না থাকলে সেখানেই একটি স্কলারশিপ চালু করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিষয়ক অভিজ্ঞ এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, শতবর্ষের জন্যে অপেক্ষা নয়, প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হলে নিজেদের দায়বদ্ধতা লাঘবের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। কারণ, এখন সময় হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছুটা ফেরৎ দেয়ার। সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এ এন্ড এম ইউনিভার্সিটির বায়ো মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. নাসের বলেন, করোনাকালে সর্বপ্রথম যে কীট আবিস্কৃত হয়, তা বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এরপর ভ্যাকসিনের ব্যাপারেও সম্মিলিত একটি প্রয়াস চালাই। যে দেশটি আমাকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনেক ত্যাক স্বীকার করেছে, তার জন্যে কিছু করার তাগিদ সব সময় অনুভব করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, একসময় দক্ষিণ এশিয়ার সেরা শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। আজ এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে যখন নেতিবাচক কথাবার্তা শুনি, এর চত্বরে বিসম্বাদ ও হানাহানির ঘটনা ঘটে, তখন কষ্ট পাই আমরা। পারভেজ বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অহংকারের জায়গা নতুনভাবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিয়ে আসতে পারবে এটাই আমাদের বিশ্বাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি এডভোকেট মোল্লা কাওসার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪০ জন শিক্ষকতা করছেন এবং বসতি গড়েছেন আরো ১৪ হাজারের মত। সকলকে এলামনাইয়ের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পারলে অনেক প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন ঘটানো সম্ভব হবে। আয়োজনের প্রধান সমন্বয়কারি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, বাঙালি জাতির বৃদ্ধিবৃত্তিক মনন গড়নের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র যে শক্তি ও চেতনার জন্মদিয়েছে, শতবর্ষব্যাপী সেই চেতনার আলো আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। ৩৬ বছরের পুরনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার বর্তমান সভাপতি সাঈদা আকতার লিলি বক্তব্যে বলেন, জন্ম থেকেই আমাদের অনেক ঋণ-যা সুধিবার নয়। রয়েছে অনেক দায়িত্ব। পরবর্তী প্রজন্ম এবং পরবর্তী এলামনাইদের জন্য রেখে যেতে হবে সুন্দর মসৃণ পথ। যোগসূত্র তৈরী করতে হবে নবাগতদের সাথে পুরনোদের। আরো আধুনিক চিন্তা-ভাবনার মধ্যদিয়ে সেতুবন্ধ তৈরী করতে হবে শেকড়ের সাথে। আজকের এ সমাবেশ সে তাগিদই দিচ্ছে। উদ্বোধনী ডিনার পার্টির মত সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বাঙালির দিপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলার জয়ধ্বনি উচ্চারিত হয়। প্রাণের সাথে প্রাণ মিশিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা মেটানোর সংকল্প ব্যক্ত করার মধ্যদিয়ে দুদিনের অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়। হোস্ট কমিটির সদস্য-সচিব গাজী সামসউদ্দিন, কো-কনভেনর মো. তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, এম এস আলম, বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রমুখ-কে অতিথি আপ্যায়ন থেকে উপস্থাপনায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে দেখা যায়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সাহিত্য একাডেমির’ যুগপূর্তি উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রে দুই দিনব্যাপী যুগপূর্তি অনুষ্ঠান করেছে প্রবাসী সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, নিউ ইয়র্ক’। শুক্র ও শনিবার নিউ ইয়র্কের গুলশান ট্যারেস ও জুইশ সেন্টারে এ উপলক্ষে নানা আয়োজন করেন তারা।প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মুমু আনসারী ও আনোয়ারুল হক লাভলু। রাণু ফেরদৌসের পরিচালনায় যুগপূর্তির কেক কাটেন সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ ও সাফওয়ান নাহিন। এদিন বক্তব্য দেন লেখক ফেরদৌস সাজেদীন। কবিতা আবৃত্তি করেন মুন জাবিন হাই। গান শোনান শাহ মাহবুব, ম্যারিস্টলা আহমেদ শ্যামলী, রুপাই, আলভান চৌধুরী ও সবিতা দাস। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী। মিশুক সেলিম ও রওশন হাসানের সঞ্চালনায় প্রবাসীদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ.বি.এম সালেহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন হাসান ফেরদৌস, মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ও পলি শাহীনা। বেনজির শিকদারের সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রথম পর্বের সূচনা বক্তব্য দেন তমিজ উদ্দীন লোদী। মিশুক সেলিমের সঞ্চালনায় ‘কেন লিখি’ মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন খালেদ সরফুদ্দীন, রিমি রুম্মান, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, স্মৃতি ভদ্র ও মনিজা রহমান। পারভীন সুলতানার সঞ্চালনায় কবিতা আবৃত্তির সূচনা বক্তব্য দেন আবৃত্তিকার মিথুন আহমেদ। নজরুল কবীরের উপস্থাপনায় স্বরচিত কবিতা পাঠ দ্বিতীয় পর্বের সূচনা বক্তব্য দেন ফকির ইলিয়াস। গান শোনান তাহমিনা শহীদ। এছাড়া বক্তব্য দেন মনজুর আহমেদ ও নিনি ওয়াহেদ।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে কেনার পরপরই ১২৫টি আইফোন ছিনতাই

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অ্যাপল স্টোর থেকে ৩০০টি আইফোন কেনার পর স্টোরের বাইরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন এক ক্রেতা। ছিনতাইকারীরা তার থেকে ১২৫টি আইফোন ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।ম্যানহাটনের একটি ওই অ্যাপল স্টোর থেকে আইফোনগুলো কিনে নিজের গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি। তখনই ঘটে বিপদ। ওই সময়ই ছিনতাই হয়ে যায় প্রায় ৯৫,০০০ ডলার মূল্যের ১২৫টি স্মার্টফোন। অ্যাপেলের এই স্টোরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং ওই সময় ব্ল্যাক ফ্রাইডের সেল চলছিল বলে জানা গেছে। যা ছিনতাইকারীরা হয়তো আগে থেকেই জানতো। নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ একটি বিবৃতিতে জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ফিফথ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত অ্যাপলের দোকান থেকে নিয়মিত ফোন কিনতেন। কারণ তিনি ফোন কেনা বেচার একটি ছোট ব্যবসা করতেন। দোকান থেকে কিনে আবার বিক্রি করতেন। কিন্তু কেন রাত পৌনে দুই টায় তিনি ফোন কিনতে গিয়েছিলেন সেটি একটি রহস্য রয়ে গেছে। পুলিশ আরো বলেছে, ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি তিনটি ব্যাগে আইফোন ভরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় দুই অপরিচিত ব্যক্তি তার হাতে থাকা ব্যাগ টেনে নিয়ে যায়। ব্যাগ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে টানাহ্যাঁচড়া হয়। শেষে ভুক্তভোগী ব্যক্তির মুখে ঘুষি মেরে একটি ব্যাগ নিয়ে যেতে সক্ষম হয় ছিনতাইকারীরা। পুলিশ ধারনা করছে তাকে বেশ কিছু দিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। কারণ তিনি এই স্টোর থেকেই নিয়মিত ফোন কিনতেন। থানায় মামলা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে অনুরোধ করছেন, এই বিষয়ে কোরো কোন তথ্য জানা থাকলে এগিয়ে আসতে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

এফটিএক্স প্রতিষ্ঠাতা ব্যাংকম্যান-ফ্রিড গ্রেপ্তার, জামিন বাতিল

ক্রিপ্টো কারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান ‘এফটিএক্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিড গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বাহামাস কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সোমবার এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।এদিকে, মঙ্গলবার ব্যাংকম্যানকে বাহামা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। বাহামাসের অ্যাটর্নি জেনারেল রায়ান পিন্ডারের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘অবহিত করা খবর এবং সঙ্গে পাঠানো সামগ্রী হাতে পাওয়ার পর মনে হয়েছে যে স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিডকে গ্রেপ্তার করা এবং আমাদের দেশের প্রত্যর্পণ আইন মেনে তাকে আটকে রাখা ন্যায্যতার মধ্যে পড়ে। কয়েক মাস আগেও এফটিএক্স বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল। কিন্তু নভেম্বরে তিন দিনের মধ্যে বিনিময়কারীরা ৬০০ কোটি ডলার উত্তোলন করার পর দেউলিয়াত্ব সুরক্ষার জন্য আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। একই দিনে প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্যাংকম্যান-ফ্রিড। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি বরাবরই কোনো ধরনের প্রতারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত মাসে আদালতে দায়ের করা কাগজপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, ৫০ টি বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে এফটিএক্সের দেনার পরিমান তিনশো কোটি ডলারের বেশি। এফটিএক্স-কে দেউলিয়া ঘোষণার যে প্রক্রিয়া চলছে, সেটি সম্পন্ন হওয়ার পর লোকজন সেখান থেকে তাদের গচ্ছিত অর্থ কতটা ফেরত পাবে তা এখনো পরিস্কার নয়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, লোকজন যে পরিমান অর্থ জমা রেখেছে, তার সামান্য অংশই হয়তো তারা ফেরত পাবে। এফটিএক্স এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মানুষ বিটকয়েনের মতো ক্রিপটোকারেন্সি সাধারণ মূদ্রা দিয়ে কেনা-বেচা করতে পারতো।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে হয়ে গেলো ইউএসবিসিসিআই নারী উদ্যোক্তা সামিট ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান

নারী উদ্যেক্তাদের স্বীকৃতি ও তাদের উৎসাহিত করতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র (ইউএসবিসিসিআই) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'ইউএসবিসিসিআই উইমেন্স এন্টারপ্রেনিউর সামিট এবং উইমেন এন্টারপ্রেনিউর অ্যাওয়ার্ডস-২০২২'।শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে এ অনুষ্ঠিত হয়। ২য় বারের মতো নারী উদ্যেক্তাদের স্বীকৃতি ও তাদের উৎসাহিত করতে আয়োজন করা হয়েছে ‘উইম্যান এন্টারপ্রেনিউর অ্যাওয়ার্ড - ২০২২। নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর তারিখটিকে নারী উদ্যেক্তা দিবস বা উইম্যান এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডে হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১৩ জন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা জানিয়েছে ইউএসবিসিসিআই। এতে সম্মাননা প্রাপ্ত ১৩ জন নারী উদ্যোক্তারা হলেন, সুমনা রিমি প্রতিষ্ঠাতা স্টাইল উইথ মি, ডিম্পল উইলাবাস প্রেসিডেন্ট ও সিইও রিদম নেশন এন্টারটেইনমেন্ট, রোকসানা আহমেদ প্রতিষ্ঠাতা, রোকসানা হালাল ডেলাইটস, পুজা রাই প্রতিষ্ঠাতা স্টেটস ভেনচার করপোরেশন, নাহিদ আহমেদ, প্রেসিডেন্ট ও সিইও আরবান সাটার, মাহবুবা রহমান সিইও ইনফিনিটি বিউটি বার, আনা গাজারা, চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার ভারসাইলস ভেনচার, অর্পি আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা ব্রাইড বাই অর্পি, মেহেজাবিন মাহাবুব মেহা, সিইও ওমেনস ফ্যাশন, সাহেরা চৌধুরী কো ফাউন্ডার এস জে ইনোভেশন, ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা, প্রতিষ্ঠাতা প্রিসিলা নিউইয়র্ক আই এন সি, মেগডালিনা কুলিটস, সিইও অরেঞ্জ রিভার মিডিয়া ও ফারজানা হক চেয়ারম্যান হাইমোকান্তি ট্রেড করপোরেশন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, মেকডালিনা কুলসিজ, ও চেম্বারের পরিচালক শেখ ফরহাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের প্রধান কার্যনির্বাহী ও প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লুইস, নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলিম্যান ডেভিড আই. ওয়েপ্রিন, দিলীপ চৌহান, ডেপুটি কমিশনার, দ্যা নিউইয়র্ক সিটি, মেয়র অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল এফ্যায়ার, অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী, ডেমোক্রেট ডিস্টিক লিডার, এট লার্জ কুইন্স নিউইয়র্ক। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লীসা সরিন, প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও, ব্রঙ্কস চেম্বার অফ কমার্স। অতিথি বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সাহেরা চৌধুরী, কো-ফাউন্ডার, এস জে ইনোভেশন, পুজা রায়, ফাউন্ডার এন্ড সিইও, স্ট্যাটস ভেঞ্চার্স ইনক, মেকডালিনা কুলসিজ, নাহিদ আহমেদ, প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও, উরবান সেটার, আহাদ আলী, সিইও, আহাদ এন্ড কোং-সিপিএ, ইমরান ভূঁইয়া, ডাইরেক্টর অব সেলস, এক্সিট রিয়েলিটি প্রিমিয়াম, সাহেদ ইসলাম, ফাউন্ডার এস জে ইনোভেশন সহ আরো অনেকে। স্বাগত বক্তব্যে ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান কার্যনির্বাহী, মো. লিটন আহমেদ বলেন, আমরা সবাই এখানে জড়ো হয়েছি এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও নারী উদ্যোক্তা দিবসের অর্জন উদযাপন করতে। আজকের সামিটে নতুন উদ্যোক্তারা তাদের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে কিভাবে কাজ করেছে তা বিভিন্ন শ্রোতাদের জন্য একটি ইন্টারেক্টিভ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ এবং তথ্য গ্রহণ করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দেয়। এই ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের নানান পেশাদারদের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে এবং তাদের সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির নিয়ে আলোচনা করারও সুযোগ পেয়েছে। এই সামিট নতুন নারী উদ্যোক্তাদের তাদের পরবর্তী পরামর্শদাতা, বন্ধু এবং ক্লায়েন্টদের সাথে সংযুক্ত করবে, বলেন তিনি। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি লক্ষ করা যায়। কারণ সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা বিশেষ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না বলে অনলাইন ভিত্তক উদ্যোগে নারীরা খুব স্বচ্ছন্দেই পদচারণা করতে পারে। এ আয়োজনে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সহ সভাপতি ইউএসবিসিসিআই-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট বখত রুম্মান বিরতীজ, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সংগঠনের পরিচালক শেখ ফরহাদ, উইমেন এম্পাওরমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন রুমা আহমেদ, একসপো ইউএসবিসিসিআই বদরুদুজ্জা সাগর, শেখ ফারজানা প্রমুখ।

post
যুক্তরাষ্ট্র

পশ্চিম নিউইয়র্ক ঢাকা পড়েছে বরফে, জীবন বিপর্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শীতকালীন ঝড়-বৃষ্টি ও বরফে ঢাকা পড়েছে বিভিন্ন অঞ্চল। বিশেষ করে নিউইয়র্কের পশ্চিমাঞ্চলের বাফেলো শহরের গাছপালা-দালান কোঠাও বরফে আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের রেকর্ড করা হয়েছে এই অঞ্চলে। ঠান্ডার মাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে গেছে। অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়িগুলোতে আটকা পড়েছেন বাসিন্দারা। অনেক সড়কে যানবাহন আটকা পড়ে, গাড়িতেই অবস্থান করতে হচ্ছে আরোহীদের। আর উদ্ধারকারী সদস্যদের পক্ষেও অনেক স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বাফেলোতে এমন তুষার-ঝড় কয়েক দশকেও দেখা যায়নি। সেখানে বাতাস ৭০ মাইল বেগে বইছে। কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। যা রোববারেও অব্যহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক স্থান ছয় ফুট পর্যন্ত তুষারে ঢাকা পড়েছে। অনেক গাড়ি তুষারের নিচে চাপা পড়ে আছে। গাছগুলোও তুষারে ঢাকা। আর ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ। পুরো অঞ্চলই এখন অচল। সরকারি দফতর থেকে সতর্ক করা হয়েছে রবিবার রাত পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আজ (মঙ্গলবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত হয়েছে।সকালে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান কর্তৃক দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দূতাবাসের দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।পরে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে অবস্থিত জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (পলিটিক্যাল-1) ও দূতালয় প্রধান দেওয়ান আলী আশরাফ এবং কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-3) শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি। পরে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে পরে বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যিক ভাষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।তিনি ৭ই মার্চকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু সেই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদানের মাধ্যমে কার্যত স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দেন।তিনি বলেন, 'ঐতিহাসিক এই ভাষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) এর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা ‌‍‍‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল’ রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে'। রাষ্ট্রদূত ইমরান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার অনুরোধ জানান।বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি মোঃ আতাউর রহমান।

post
যুক্তরাষ্ট্র

ভ্রমণকারীদের জন্য করোনার টিকার বিধি তুলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিধি উঠে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, আকাশপথে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য করোনার টিকার বিধিটি ১১ মে শেষ হবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ও ঠিকাদারদের জন্য টিকা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিধিও একই দিন শেষ হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।এ ছাড়া একই দিন (১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রে করোনা-সংক্রান্ত জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থাও শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা মহামারি প্রায় শেষ। করোনা মহামারির জেরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নানা ধরনের বিধিনিষেধ জারি করে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ধীরে ধীরে বিধিনিষেধগুলো তুলে নিতে থাকে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে করোনায় মৃত্যু ৯৫ শতাংশ কমেছে। হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে, বিশ্বে করোনায় মৃত্যু এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, বাধ্যবাধকতার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকাদানকে জোরদার করেছে। ব্যাপকভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অভ্যন্তরীণ বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না, কারণ তারা এই নির্বাচনকে 'অভ্যন্তরীণ, ঘরোয়া নির্বাচন' হিসেবে উল্লেখ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, 'অভ্যন্তরীণ, ঘরোয়া নির্বাচন হওয়ায় এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই।'বাংলাদেশে অন্য একটি দল জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরে এটিকে 'অন্যায্য ও অন্যায় নির্বাচন' বলে দাবি করতে পারে এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে মোকাবিলা করবে তা জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্যাটেল বলেন, যেহেতু এটি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই যুক্তরাষ্ট্র চায় যে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হোক এবং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হোক। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'তবে আমি বিস্তৃতভাবে বলব যে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ গত বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করেছে এবং আমরা এই সম্পর্ককে আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।' প্যাটেল বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে তাদের ব্যাপক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা রয়েছে - তা জলবায়ু পরিবর্তন হোক, অর্থনীতি হোক, মানবিক সংকট মোকাবিলা এবং অন্যান্য বিষয়ও হোক।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তার উদ্যোগে ডব্লিউইউএসটি ফাউন্ডেশন

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে এবং ঈদ উল ফিতর সামনে রেখে নিউইয়র্কের কুইন্সে নিম্নআয়ের তিন শতাধিক পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ডব্লিউএসটি ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন-প্রতিষ্ঠান।পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের একটি মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে গত রবিবার ৭ এপ্রিল। জীবনযুদ্ধে অব্যহত লড়াই চালিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর দিকে সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই উদ্যোগ।ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র উদ্যোগে গড়ে তোলা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএসটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কমিউনিটির সুবিধাবনচিত মানুষের পাশে থাকছে। নিউইয়র্কে সেইভ দ্য পিপল ও মুনা সোশ্যাল সার্ভিসেস নামের দুটি সংগঠনের সাথে যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলো ডব্লিউইউএসটি।এইদিন সকাল থেকেই কুইন্সের জামাইকায় নিম্নআয়ের মানুষগুলো জড়ো হতে থাকেন। আগেই তাদের এই খাদ্য সহায়তার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে। পরে তা সংগ্রহ করতে তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে একের পর এক তুলে দেওয়া হয় নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। আয়োজকরা জানান, বিশ ধরনের খাদ্যপণ্য দিয়ে একেকটি থলে তৈরি করে তা বিতরণ করা হয়। আর সহায়তা যারা পেলেন তাদের একজন জানালেন, পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য সহায়তা তারা পেয়েছেন। যা দিয়ে একটি ছোট পরিবারের এক মাসের খোড়াক হয়ে যাবে। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সহায়তাপ্রাপ্ত একাধিকজন বলেছেন, তারা খুশি। খুশি ছিলো সহায়তা নিতে আসা ছোট শিশুরাও। কারণ খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে তাদের প্রিয় আইটেমও রয়েছে। নানা বয়সের নারীপুরুষ এসেছিলো খাদ্য সহায়তা নিতে। তারা সকলেই সহায়তা পেয়েছেন। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই খাদ্য সহায়তা বিচরণ করা হয়। আর সে কাজে নিয়োজিত ছিলেন এক ডজনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবকের একটি দল। করেমসূচির প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন সেভ দ্য পিপল এর কর্ণধার মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের আয় কম। ফলে এই মানুষগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পান না। এমন অনেকে আছেন যাদের আয়-ব্যয়ের হিসাবেই আটকে থাকে জীবন। ভালো কিছু খাবার খেতে পারেন না। কমিউনিটির এসব অসহায় মানুষ ও নতুন যারা আমেরিকায় আসেন, প্রবাসী বাঙালি সবার কথা চিন্তা করেই এই সহযোগিতার উদ্যোগ।  এই উদ্যোগের পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য ডব্লিউইউএসটি ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার কারণে অনেক পরিবারের মুখে ফুটেছে হাসি। জীবন হয়েছে সহজ। রমজানের পরেও প্রতি মাসে এই কর্মসূচি চলবে বলে জানান আয়োজকরা। একই সঙ্গে সামাজিক এই মহৎ উদ্যোগে অবদান রাখায় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডব্লিউইউএসটি) চ্যান্সেলর ও ডব্লিউইউএসটি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আবুবকর হানিপসহ অন্যান্য দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের নিম্ন আয়ের মানুষ, নব্য অধিবাসীরা কিছুটা হলেও খাদ্যচিন্তামুক্ত থাকবে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রোসারি আইটেমের ২০টির বেশি খাদ্যপন্ন বিতরণ করা হলে। আর যারা এই সহায়তা পাওয়ার যোগ্য সেই অসহায় মানুষগুলোকেই তালিকাভূক্ত করে এই সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। শুধু কুইন্স নয়, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তিন শতাধিক পরিবার এখানে খাবার নিতে আসে। খাদ্যপণ্যের মধ্যে ছিলো দুধ, তেল, আলু-পেঁয়াজসন অন্যান্য গ্রোসারি আইটেম। ছিলো ফলসহ নানা ধরনের উপাদেয় খাবার। খাবার নিতে আসা মানুষের প্রবাসী বাঙালি পরিবারও ছিলো। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, এমন সাহায্য পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত। বিতরণ করা খাবারের মান ও পরিমাণেও তারা খুশি। খাদ্য বিতরণের এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন শর্শিনার হুজুর শাহ মুহম্মদ শফিউল্লাহ সিদ্দিকী, সেভ দ্য পিপল এর উপদেষ্টা আনিসুল কবির জাসির, পিস সেন্টার অব ইউএসএ’র ভেরোনিকা হোসেইন, কুইনস পাওয়ার এর উম্মা সিদ্দিকা, দারুস সালাম মসজিদের ইমাম আবদুল মুকিত, নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কেনি আর প্লেসিনসিও, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের উপদেষ্টা ফরহাদ সোলায়নান, সেফেস্ট এর প্রেসিডেন্ট মাজেদা উদ্দিন, ফার্মাসিস্ট কায়সার সজীব, ইউএনও-ইউএসএ’র প্রতিনিধি শারমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুবায়ের আবদুল্লাহ এবং এনওয়াইসি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিং এর ফয়সল আহমেদ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.