post
যুক্তরাষ্ট্র

‘ঈদ মোবারক’ লাইটিংয়ে ঝলসে উঠল জ্যাকসন হাইটস

১৩ বছর পর আবারও ‘ঈদ মোবারক’ লাইটিংয়ে ঝলসে উঠলো উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস। অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে ঈদ উপলক্ষে এই বিশেষ আলোক সজ্জার উদ্বোধন করেন ‘জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশন, এনওয়াই’র (জেবিবিএ) কর্মকর্তাসহ প্রবাসীরা। ‘ওয়েল কাম জ্যাকসন হাইটস’ লেখার নিচেই ‘ঈদ মোবারক’ ঝলসে উঠছে আলোক-প্রক্ষেপণে। এরমধ্য দিয়ে করোনায় বিপর্যস্ত প্রবাসীরা ঈদ আমেজে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুপ্রেরণা পেলেন বলে অনেক পথচারি মন্তব্য করেন।ফিতা কেটে আলোক-সজ্জা কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় ছিলেন জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট হারুন ভূইয়া, সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলম নমী, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কামরুজ্জামান বাচ্চু, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ পিয়ার, কাজী মন্টু, মহসিন ননী, সেলিম হারুন, ড. রফিক আহমেদ, মোহাম্মদ দুলাল, বারি হোমকেয়ারের কর্ণধার আসিফ বারি টুটুল, হাসিনা বারি, সাখাওয়াত বিশ্বাস প্রমুখ। ইফতারের পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ‘ঈদ মোবারক’ আলোক রশ্মিতে ভিন্ন এক আমেজে আপ্লুত হচ্ছেন ক্রেতা-সাধারণ। জেবিবিএর উদ্যোগে এর আগেও ঈদ উপলক্ষে রমজানের শুরুতে আলোকসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি জেবিবিএর নেতৃত্বে হারুন-ফাহাদ আসার পরই জ্যাকসন হাইটসে ক্রেতা-সাধারণের কাছে আরো বেশি আকৃষ্ট করতে নানামুখী পদক্ষেপের এটি অন্যতম একটি। জেবিবিএর সেক্রেটারি এবং কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের ডেলিগেট ফাহাদ সোলায়মান বলেন, অনেক স্বপ্ন রয়েছে জ্যাকসন হাইটসকে ঘিরে। পর্যায়ক্রমে তার বাস্তবায়ন ঘটাতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চাই। ফাহাদ বলেন, এটি শুধু ঈদে নয়, সারা বছরই চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ভিন্নভাবে। এটি যে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এলাকা, তা অন্য কম্যুনিটিকেও জানান দিতে চাই। সকলে যাতে সম্প্রীতির বন্ধনে আবব্ধ থেকে কেনাকাটা করতে পারেন-তারও একটি প্রয়াস।

post
যুক্তরাষ্ট্র

‘মুজিব আমার পিতা’র প্রিমিয়ার শো নিউইয়র্কে

বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’র বিশেষ প্রদর্শনীতে থাকা প্রবাসীরা বিশেষ এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পিনপতন নিরবতায় তা দেখলেন। পিতার সাথে সন্তানের মায়ার বন্ধনকে ছাড়িয়ে যায় টুঙ্গিপাড়ার দূরন্ত ছেলে খোকার বঙ্গবন্ধু থেকে বাঙালি জাতিরজনক হয়ে উঠার ধারাবিবরণীতে। বিশ্বের অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষদের কন্ঠস্বর হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারি শেখ মুজিবের সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের খুবই ছোট্ট একটি অধ্যায়ের মধ্যদিয়ে ‘মুজিব আমার পিতা’ ছবিটি তৈরী হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থের অবলম্বনে। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যেকার ভাষা আন্দোলনকে মূলতঃ প্রেক্ষাপট করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত ছবিটি প্রদশিত হয় ৮ মে রোববার নিউইয়র্ক সিটির ফ্লাশিংয়ে বম্বে থিয়েটারে। ফ্রি প্রবেশাধিকারের এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাসহ শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। শেষে ছবির ওপর নিজের মতামত ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক। ছবিটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আলোকপাত করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।বিদগ্ধ দর্শকেরা অভিমত দিয়েছেন যে, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরো আকর্শনীয়ভাবে উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রের দৃশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সামনে প্রতীয়মান হয়েছেন এক ভিন্ন আঙ্গিকে। একজন কন্যার চোখ দিয়ে আমরা পিতাকে দেখতে পেলাম এই মুভিতে, বলেন তারা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দৃষ্টিতে পিতা শেখ মুজিবকে কীভাবে দেখেছেন, কীভাবে বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন তা এতে বিবৃত হয়েছে বস্তুনিষ্ঠভাবে। সেই অবিসংবাদিত নেতার শৈশব, কৈশোরসহ তাঁর কর্মময় জীবনের নানাদিক বিভিন্ন আঙ্গিকে উঠে এসেছে ছবিতে। মূলত: বঙ্গবন্ধুর জন্ম থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত সময়কে এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাইগার নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া ছোট্ট খোকা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কীভাবে স্বাধীনতার সেইপথে তিনি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠলেন, সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই চলচ্চিত্রে উপস্থাপিত হয়েছে।এটি পরিচালনা করেছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রেরর এক নতুন দ্বার উম্মোচিত হয়েছে বলেও অনেকে উল্লেখ করেছেন। অতিথি-দর্শকের মধ্যে আরো ছিলেন অপরাজিত হক এমপি. নুরুল আমিন এমপি এবং নাহিদ ইজাহার খান। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটেও প্রদর্শিত হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী পলক।

post
যুক্তরাষ্ট্র

এনওয়াইপিডিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার: গর্ব ও সাফল্যের নতুন অধ্যায়

নূর এলাহী মিনা, নিউইয়র্কযতদুর জানা যায় সংস্থা হিসেবে প্রথম পুলিশি ব্যবস্থার সুত্রপাত হয় খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে, মিশরীয় সভ্যতায়। ঠিক সমসাময়িক সময়ে ইউরোপীয় সভ্যতাসমূহেও কোনো না কোনো ধারায় পুলিশি ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। নরম্যানদের ইংল্যান্ড বিজয়ের আগে ১০৬৬ সাল থেকে ইংল্যান্ডে সূচনা হয়েছিল অপেক্ষাকৃত পরিশীলিত এক পুলিশি ব্যবস্থা। এটি ছিল সম্প্রদায়ভিত্তিক। স্যাক্সন ফ্র্যাঙ্কপ্লেজ (অ্যাংলো-স্যাক্সন সিস্টেম) এর আওতায় পরিচালিত এই ব্যবস্থায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ একে অপরের সদাচরণের জন্য দায়ী থাকতেন এবং তাদের আরও দায় ছিল একত্রিতভাবে সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখার। আরও পরে ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ রবার্ট পিল, আধুনিক পুলিশিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে যার কথা বলা হয়ে থাকে, ‘গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের নীতি’ চালু করেন। পুলিশ শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ polis থেকে, যার অর্থ "শহর"।এসব তথ্যে ধারণা করা যায়, সভ্যতার সূচনালগ্নে যে সকল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, পুলিশ তার মধ্যে অন্যতম। যুগে যুগে কালে কালে সকল তর্ক-বিতর্কের বাইরে এসে একটিই প্রতিষ্ঠিত সত্য পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য, তা হলো ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’। ‘পরিক্ষীত বন্ধু’।২০১৭ সালের কথা। তখন কোনো এক কারণে আমার থার্ড গ্রেডার কন্যাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাস্তায় বিপদে পড়লে প্রথমে কার কাছে সাহায্য চাইবে? তার সহজ উত্তর ছিল ‘পুলিশ’। কারন ক্লাস টিচার এটি তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। সকালে বাচ্চাদেরকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় দেখি প্রতিটি ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করেন স্কুল পুলিশ সদস্যরা। পরম যত্নে ও নিরাপত্তার সাথে বাচ্চাদের স্কুল অব্দি পৌঁছে দেন তাঁরা। স্কুল চলাকালে ফ্রন্ট ডেস্কেও দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ সদস্যরা। ‘৯১১’ নিউইয়র্কের বিশ্বস্ত তিনটি ডিজিট। যার ওপর ভরসা করে বাঁচেন এই নগরবাসী। কল হলে মূহুর্তের মধ্যে পৌঁছে যাবে পুলিশ আপনার ঠিকানায়, পরের সকল দায়িত্ব তাঁদের। এমন হাজারো মানবীয় উদাহরণ রয়েছে পুলিশকে ঘিরে, সারা পৃথিবীতেই।আমার এই আলোচনা অবশ্য সকল পুলিশ কিংবা পুলিশ বাহিনী নিয়ে নয়। বরং সুনির্দিষ্ট করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)’-তে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসারদের গৌরবগাঁথা নিয়ে। এটি আমেরিকার মতো দেশে বাংলাদেশিদের একটি বড় অর্জন বলেই আমি বোধ করি। ডেটলাইন ৩১ মে ২০২২, সন্ধ্যা। লোয়ার ম্যানহাটানের ওয়ান পুলিশ প্লাজা। এটি এনওয়াইপিডি’র সদরদপ্তর। এর সুপরিসর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “এশিয়ান হেরিটেজ সেলিব্রেশন ২০২২”। অনুষ্ঠানটিতে আমার উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। এনওয়াইপিডি’র ভ্রাতৃবৎ (Fraternal) সংস্থাসমূহের এশিয়ান অংশ সেদিন প্রদর্শণ করেছিল তাদের সম্মৃদ্ধ ঐতিহ্যের নানা দিক। সাথে ছিল আবহমান সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ ‘খাবার’। একে একে মঞ্চে এলো এশিয়ান জাদে (Jade), কোরিয়ান আমেরিকান অফিসার্স এসোসিয়েশন, দেশি সোসাইটি, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান অফিসার্স সোসাইটি, পাকিস্তানি অ্যামেরিকান ল' এনফোর্সমেন্ট সোসাইটি, ও শিখ (Sikh) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। নিউইয়র্কের খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক সংগঠন “বাপা” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করল বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে। হল জুড়ে ভেসে এলো রবীন্দ্র সঙ্গীতের মূর্ছনা... “চেনা শোনার কোন বাইরে..”; আর হাল সময়ের দুর্দান্ত জনপ্রিয় “চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে চলো বাংলাদেশ..”। গানের সাথে মনকাড়া নৃত্য।একটি টেবিলে বসে আছি। আশেপাশে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ। খাবারের প্লেটে বিরিয়ানি, বাংলাদেশি মিষ্টি, মুরগির কোর্মা, ও বিভিন্ন দেশি ফিঙ্গার ফুড। এছাড়া রয়েছে ভারতীয়, কোরীয়সহ অন্যান্য আমেরিকান-এশিয়ান সংমিশ্রণের খাবার। পাশের সাংবাদিক বন্ধুটি বলে উঠলেন, “ভাবা যায়, এনওয়াইপিডি হেডকোয়ার্টারে বসে বাঙালি খাবার খাচ্ছি!”। মৃদ্যু হেসে বললাম, যা ভাবা যেতনা, তা এখন বাস্তবতা। সুদীর্ঘ পথচলায় এনওয়াইপিডির বাঙালি অফিসার ভাইয়েরা এটি অর্জন করেছেন, আমরা আজ তার স্বাক্ষী। দৃঢ়তার সাথে বললাম, হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশি অফিসারদের মধ্য থেকে কেউ চিফ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট হবেন, পুলিশ কমিশনার হবেন।বর্তমানে ১৬০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি অফিসার এনওয়াইপিডির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৩২ জন ইউনিফর্মড অফিসার এবং ১১০০ সিভিলিয়ান। রয়েছেন ৪ জন ক্যাপ্টেন, ১ জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, ১০ জন লেফটেন্যান্ট, ৪০ সার্জেন্ট ও ১২ জন ডিটেক্টিভ। সিভিলিয়ান (আন-আর্মড) পুলিশ সদস্যরা স্কুল সেফটি এজেন্ট, ট্রাফিক এজেন্ট, স্কুল ক্রসসিং গার্ড হিসাবে কর্মরত।এখানে পুলিশ বাহিনীর পদক্রমের প্রাথমিক ধাপে যোগ দিতে হয় ক্যাডেট প্রবেশনারি পুলিশ অফিসার হিসেবে। প্রশিক্ষণ ও প্রবেশনারি পেরিয়ড শেষে পুলিশ অফিসার হিসবে পদায়িত হন। এরপর সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট, লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন, ক্যাপ্টেন থেকে ডেপুটি ইন্সপেক্টর, ডেপুটি ইন্সপেক্টর থেকে ডেপুটি চিফ এবং ডেপুটি চিফ থেকে অ্যাসিসট্যান্ট চিফ, সেপদ থেকে চিফ হয়ে হন চিফ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট এবং সবশেষে সর্বোচ্চ পদ পুলিশ কমিশনার। এছাড়া ডিটেকটিভদের জন্য রয়েছে সার্জেন্ট থেকে ক্যাপ্টন পর্যন্ত আলাদা পদবিন্যাস। অফিসার থেকে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। ক্যাপ্টেন থেকে শীর্ষপদ পর্যন্ত আর কোনো পরীক্ষা নেই। দক্ষতা ও যোগ্যতার আলোকে সিটি মেয়রের সুপারিশে এসকল কর্মকর্তা চিফ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট এমনকি পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত হতে পারেন। তবে বলে রাখা ভালো চিফ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট হচ্ছেন ইউনিফর্মধারী পুলিশের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ পদ, এটি চার তারকা মর্যাদার। পুলিশ বাহিনীর অভিভাবক হিসেবে সিটি মেয়র পুলিশ কমিশনার নিয়োগ দেন। তিনি যে কোনো ব্যক্তি হতে পারেন, তবে অব্যশই আইন-শৃঙ্খলা বা পুলিশিং সংক্রান্ত পড়াশোনা বা জ্ঞানধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটি পাঁচ তারকা মর্যাদার। এছাড়া ডেপুটি কমিশনার বা ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার পদে যে কোনো কাউকে (প্রযোজ্য যোগ্যতাসম্পন্ন) নিয়োগ দিতে পারেন মেয়র। ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার পদটি সিভিলিয়ান পদ হলেও তা চার-তারকা মর্যাদার। বর্তমানে একজন সাংবাদিক জন মিলার এনওয়াইপিডি’র ডেপুটি কমিশনার এর দায়িত্ব পালন করছেন।যাহোক আবার ফিরে আসি বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সফল্যগাঁথা নিয়ে। এনওয়াইপিডির ৬৯ প্রিসিঙ্কট'র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন খন্দকার আব্দুল্লাহ। প্রথম বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা স্কোয়াডে লেফট্যানেন্ট কমান্ডার পদে দায়িত্ব পালন করছেন শামসুল হক। এছাড়া ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন মিলাদ খান, ক্যাপ্টেন পারুল আহমেদ নগরীর বিভিন্ন ডিভিশনে নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোহাম্মদ রহমান ও আনোয়ারুল কাদির। সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস এর এক্সিকিউটিভ ডিটেইলে রয়েছেন সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী ও সার্জেন্ট হুমায়ুন কবীর।১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এনওয়াইপিডি যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম পুলিশি প্রতিষ্ঠান, যার রয়েছে ৩৬ হাজার অফিসার এবং ১৯ হাজার সিভিলিয়ান সদস্য। প্রত্যাশা, হাডসন ও ইস্ট নদীর প্রবাহের মতো অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবেন এনওয়াইপিডিতে কর্মরত বাংলাদেশি অফিসাররা। কোন একদিন হয়তো নির্ঘুম এই নিউইয়র্ক নগরীর জল-স্থল-অন্তরীক্ষের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধানের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন কোনো এক বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার; যাঁর অবয়বে থাকবে বজ্রকঠিন দৃঢ়তা, অসম সাহস- কারণ তার পূর্বপুরুষগণ যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেটি অদম্য এক জাতিরাষ্ট্র, যেটি অদম্য এক দেশ -বাংলাদেশ; যার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান।আবার এমনই উষ্ণ বা শীত শীত কোন সন্ধ্যায় আলোঝলমল নিউইয়র্কের মঞ্চ কাঁপিয়ে সমস্বরে গেয়ে উঠবে বাংলাদেশি কোনো দল .. “চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে চলো বাংলাদেশ..”। কৃতজ্ঞতা জামিল সারোয়ারের প্রতি। খ্যাতনামা ডিটেকটিভ, এনওয়াইপিডি। তিনি লেখাটিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

বিএসপি'র নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট লং আয়ল্যান্ডে, পিপলএনটেকের অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ আমেরিকা সোসাইটি অব প্রফেশনালস (বিএসপি)'র উদ্যোগে সামার নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট হয়ে গেলো নিউ ইয়র্কের লং আয়ল্যান্ডে। গত ২৪ জুলাই বেলমন্ট পার্কে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, ব্যাংকার, সফটওয়্যার ডেভেলপা, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, রিয়েলটর ও মার্কেটিং পেশায় সম্পৃক্ত এমন অনেকেই।এখানে নানা পেশার মানুষ কিভাবে একে অন্যের উপকারে আসতে পারেন, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে পারেন সে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিএসপি সভাপতি ও সিটকো গ্রুপের ম্যানেজার মাহদী ভূঁইয়া, ভ্যালি ব্যাংকের প্রফেশনাল প্র্যাকটিসেস স্পেশালিস্ট ইমতিয়াজ চৌধুরী, এসজে ইনোভেশন'র সিইও সাহেদ ইসলাম, পিপলএনটেক'র পরিচালক শফি চৌধুরী, গ্রিন রিয়েলটর প্রোগ্রামের পরিচালক দেলোয়ার খান, সিপিএ মিজানুর রহমান, ক্রেডিট এগ্রিকোল'র ভিপি অনিতা খবির, আইনজীবী লুৎফর রহমান লিমন প্রমুখ। এতে পিপলএনটেক ও ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে কথা বলেন নিউইয়র্কে পিপলএনটেক'র পরিচালক শফি চৌধুরী। তিনি এসময় বলেন, পিপলএনটেক তার কর্মসূচির মাধ্যমে ৭০০০ বাংলাদেশিকে আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি আধুনিক আইটি শিক্ষার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এসময় অনেকেই পিপলএনটেক থেকে তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। কমিউনিটির সুবিধার্ধে কাজ করতে কিভাবে একে অন্যের সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন সে ব্যাপারে জোর দেন আলোচকরা। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সার্জেন্ট ফারুককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তের গুলি, তবে একটিও তার গায়ে লাগেনি

সশস্ত্র দুর্বৃত্তের তাক করা তিন রাউন্ড গুলির একটিও বিদ্ধ হয়নি বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের (৩৫) শরীরে। প্রথম গুলির শব্দ শুনেই তিনি নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানের ব্যস্ততম স্ট্রিটে শুয়ে পড়েন। দ্বিতীয় গুলি তার পায়ের কাছ দিয়ে চলে যায়। তৃতীয় গুলি কাছে আসার আগেই দৌড়ে নিউইয়র্ক পুলিশের গাড়ির কাছে যান। সেই গুলি বিদ্ধ হয় রাস্তার পার্শ্ববর্তী গাছে।১৭ আগস্ট স্থানীয় বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের লেক্সিংটন এভিনিউ এবং ১১২ স্ট্রিটে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণের ঘটনায় পথচারীরাও হতবাক। কেউ ভেবেছেন হয়তো সিনেমার শুটিং চলছে। কারণ, এই এজেন্ট সে সময় কোনও গাড়িতে জরিমানার টিকিট দেননি। তাছাড়া ইন্টারসেকশনে রাস্তার জ্যাম কমানোর অহর্নিশ প্রয়াসে ছিলেন তিনি। গুলি বর্ষণের সংবাদ পেয়েই আশপাশের টহল পুলিশ সেখানে জড়ো হয় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বন্দুকধারী দৃর্বৃত্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় বলে এ সংবাদদাতাকে জানালেন ভীত-সন্ত্রস্ত্র ট্রাফিক এজেন্ট ফারুক হোসেন। ঝিনাইদহের সন্তান ফারুক মাত্র চার মাস আগে ঢুকেছেন এই চাকরিতে। বেআইনিভাবে পার্ক করার জন্য অনেকের গাড়িতে জরিমানার টিকিট দিয়েছেন কিন্তু কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। কোনও টিকিট ইস্যু না করেও এমনভাবে আক্রান্ত কেন হলেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। পরপর তিন রাউন্ড গুলি তাকে লক্ষ্য করে ছোঁড়ায় প্রতিয়মান হয় যে, তাকে টার্গেট করেই আক্রমণ করা হয়েছিল। পুলিশ গ্রেফতারকৃত দুর্বৃত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মোটিভ উদঘাটনের। জানা গেছে, ফারুকের স্ত্রী এবং একপুত্র ও এক কন্যা বাংলাদেশে বাস করেন। তিনি পরম করুণাময়ের শোকরিয়া আদায় করছেন গুলি থেকে বেঁচে যাওয়ায়। এই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ইউনিয়ন-সিডব্লিউ লোকাল-১১৮২’র পক্ষ থেকে একটি পোস্টিং দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কর্তব্যরত সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ এবং মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের জন্যে সকলের দোয়া চেয়েছেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশে তিন হাজারের মত ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টের প্রায় এক হাজার জনই হলেন বাংলাদেশি। প্রতিনিয়ত তারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ডেট্রয়েটের বাংলাদেশি মেলায় হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীর মহামিলন ঘটেছে। বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ড পরিণত হয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে। প্রবাসীরা দেশে ফেলে আসা ঐতিহ্যর স্বাদ পেয়েছেন মেলায় এসে। নতুন প্রজন্ম মেলায় এসে বাংলাদেশি কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তারাও নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে। ডেট্রয়েট সিটির বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ডে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ফেস্টিভ্যাল এ মেলার আয়োজন করেছিল।রোববার শেষের দিনে হাজারো বাংলাদেশির মহামিলন ঘটেছে মেলায়। মিশিগানের বিভিন্ন সিটিতে বসবাসরত শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী বাংলাদেশিরা পরিবার নিয়ে মেলায় হাজির হন। আয়োজকরা বলেছেন, বাংলাদেশি ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই ২১ বছর ধরে এ মেলা হয়ে আসছে। দীর্ঘ একটি বছর মিশিগানের বাংলাদেশিরা অপেক্ষায় থাকেন এ মেলার জন্য।বাংলার ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন নাচে গানে মাতিয়ে রাখেন মেলায় আগত দর্শকদের। ছোট ছোট শিশুরাও নেচে গেয়ে প্রাণভরে আনন্দ উপভোগ করেছে। মেলার মঞ্চ দাপিয়ে গান গেয়েছেন জনপ্রিয় প্রবাসী শিল্পী নীলিমা শশী ও শাহ মাহবুব। মেলায় ছিল রকমারি স্টলসহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি পণ্যের সমাহার। পোশাক, ‍জুয়েলারি, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প ও দেশীয় স্বাদের খাবারের দোকান। স্টল মালিকরা জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে। পোশাক ও দেশি খাবার বেশি বিক্রি হয়েছে। অন্য দেশের মানুষেরাও মেলায় এসে কেনাকাটা করছেন। মেলায় অনেক দর্শক রিকশায় চড়ে দারুণ আনন্দ পেয়েছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের স্টল ও বাংলাদেশি হুক্কা দর্শকদের নজর কেড়েছে। র‌্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার ছিল অন্যতম আকর্ষণ। নতুন গাড়ি ও বিমানের টিকিটসহ নানা পুরস্কার দেওয়া হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে লেকের পানিতে ডুবে ২ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

নিউইয়র্কে লেকের পানিতে ডুবে একই পরিবারের ২ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। গত রোববার নিউইয়র্কের টাউন অব বেথেলের হোয়াইট লেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠক বরুড়া উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা রুহুল আমীনের বড় মেয়ের জামাই আফরিদ হায়দার (৩৪) ও ছেলে বাছির আমীন (১৮)।রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাসরিন আমীনকে (২১) লেক থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় গারনেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাসরিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরুড়া উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুল হক আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, গত শনিবার রুহুল আমিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাউন অব বেথেলে বেড়াতে যান। তাদের সবাই লেকের ধারে মেয়ের জামাই আফরিদের বাসায় উঠেন। পরদিন দুপুরে আফরিদ লেকে গোসল করতে নামেন। সে সময় হঠাৎ তিনি পানিতে ডুবে যেতে থাকেন। ভগ্নীপতিকে বাঁচাতে শ্যালক বাছির পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে যান রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাসরিন। এরপর তারা ৩ জনই ডুবে যান। দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আফরিদ ও বাছিরকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

করোনায় আমেরিকানদের গড় আয়ু কমেছে ৩ বছর, ১০০ বছরের রেকর্ড

করোনাভাইরাস মহামারি এবং অন্যান্য কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে আমেরিকানদের যে হারে গড় আয়ু কমেছে, তা গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিক্স’ সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর গড় আয়ু কমেছে ৩ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ছিল ৭৯ বছর, গত বছর হয়েছে ৭৬ বছর। নেটিভ আমেরিকান এবং আলাস্কার আদিবাসীদের গড় আয়ু কমার হার আরও বেশি। ২০২০ সালে তাদের গড় আয়ু চার বছর কমেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারীর সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য গবেষকরা বুধবার আরও জানান, করোনায় বহু আমেরিকানের প্রাণহানির ফলে গড় আয়ু উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার অন সোসাইটি এ্যান্ড হেলথ’র পরিচালক ড. স্টিভেন উফ বলেছেন, গড় আয়ু কমার এ ঘটনা অবশ্যই ‘ঐতিহাসিক’ একটি বিপর্যয়। অবশ্য বিশ্বের অন্য ধনী দেশসমূহেও ২০২০ সালে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয় করোনা মহামারির জন্যে। তবে আমেরিকার মতো এত বেশি গড় আয়ু অন্য দেশে কমেনি। চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা বলেছেন, করোনাকালে হৃদরোগ, পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এবং মানসিক হতাশার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর, মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন সামনে রেখে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজন করতে যাচ্ছে, ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো-২০২২। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে। আর সে কর্মসূচি সামনে রেখে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজন করে মিট দ্য প্রেস। তাতে কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য দেন চেম্বারের পরিচালক শেখ ফরহাদ (পরিচালক, ইউএসবিসিসিআই), অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মো. লিটন আহমেদ (সভাপতি, ইউএসবিসিসিআই)। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST)'র চেয়ারম্যান ও সিইও আবুবকর হানিপ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-বিবিএফ এবং বিবিএফ গ্লোবাল (অফিসিয়াল পার্টনার বিডা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এর চেয়ারম্যান মাসুদ-এ-খান , ইউএসবিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট বখত রুম্মান বিরতীজ, ইউএসবিসিসিআই এর পরিচালক প্রফেসর হেনা সিদ্দিক, রাজিব খান ও আব্দুল কাদের শিশির এবং ফিনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি, ইউএসবিসিসিআই এর চেয়ারম্যান কাজী হেলাল আহমেদ।এসময় আবুবকর হানিপ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা বিনিয়োগে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছেন এমনটা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ীরা এখন শিক্ষা-চিকিৎসা খাতে বড় বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। শিক্ষাখাতে তার প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বড় সুযোগ।এবারের ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো'র প্রতিপাদ্য-‘এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট অপর্চুনিটি ফর ইউএস-বাংলাদেশ সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’। এই এক্সপো একটি B2B ট্রেড শো, কনফারেন্স এবং নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট।উদ্যোক্তারা জানান, তাদের লক্ষ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িকদের রপ্তানি-প্রস্তুত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রসারিত করতে সহায়তা করা।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আমাদের বিজনেস এক্সপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায় নতুন ক্রেতা, সরবরাহকারী এবং বিনিয়োগ সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। অতীতেও আমরা নানান ইভেন্ট আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছে ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো ২০২২-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাদার এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকছে। এছাড়া এক্সপোতে বিভিন্ন কর্মশালা থাকবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা প্রসারিত করার নানান কৌশল সম্পর্কে জানা যাবে। এই এক্সপোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ব্যবসার সবচেয়ে আধুনিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের আপডেট রাখা।বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ শতাধিক প্রতিনিধি এবং স্টেকহোল্ডার ইউএসবিসিআই বিজনেস এক্সপোতে অংশ নেবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসাকে একে অন্যের দেশে প্রসারিত করার পাশাপাশি কীভাবে বিশ্ববাজারেও নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন, ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারেন এসব বিষয়ে এক্সপোতে আলোচনা করা হবে। এখানে সফল ব্যবসায়ীরা নিজেদের সফলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। তাছাড়া এই এক্সপোর মাধ্যমে ব্যবসায়িরা নিজেদের ব্যবসার ব্র‍্যান্ডকে কীভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া যায়, সেসব বিষয়ে জানতে পারবেন। সর্বোপরি এই এক্সপো হলো ব্যবসা উন্নয়নের একটা প্লাটফর্ম।এক্সপোতে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের মেজরিটি লিডার চাক শ্যুমার, নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর ক্যাথি হকুল, নিউইয়র্কের মেয়র এরিক এডামস্, নিউইয়র্ক স্টেট কংগ্রেস উইম্যান গ্রেস ম্যাং, সিনেটর জন লু, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডস্, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নী মেলিন্দা কাটজ্, এসেম্বলিম্যান ক্যাটেলিনা ক্রুজ, জেনিফার রাজকুমার, এডওয়ার্ড সি ব্রাউনস্টেইন এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলামকে। এছাড়াও নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এক্সপোতে উপস্থিত থাকবেন।ইউএসবিসিসিআই চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে বিজনেস এক্সপো-২০২২ এর কো-পার্টনার হয়েছে- শিল্প মন্ত্রণালয় (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার) এবং এনওয়াইসি ডিপার্টমেন্ট অফ স্মল বিজনেস সার্ভিসেস। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার-বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-বিবিএফ এবং বিবিএফ গ্লোবাল (অফিসিয়াল পার্টনার বিডা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)। আর সহযোগিতায় রয়েছে- ইউএস চেম্বার অব কমার্স, ব্রুকলিন চেম্বার অব কমার্স এবং কুইন্স চেম্বার অব কমার্স।অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ আগামি ২৩, ২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর আসন্ন ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো-২০২২ এ সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সকল পেশাজীবীদের আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাগ্রত রাখার সংকল্প

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সংহত করার সংকল্প ব্যক্ত করা হলো ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার সমাবেশে।২০২২-২০২৫ মেয়াদের নয়া কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের ‘গুলশান টেরেস’র মিলনায়তনে এ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা। ছিলেন নতুন প্রজন্মের সদস্যরাও। এসময় ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৩১ সদস্যের কার্যকরী কমিটির সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ফলে বহুজাতিক এ দেশে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এ সমাবেশ পরিণত হয় লাল-সবুজের একখন্ড বাংলাদেশে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াল সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং হামলাকারিদের প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে শুরু এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের সদস্যরা। নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি এবং মহিলা সম্পাদিকা সবিতা দাস। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তিন কন্ঠযোদ্ধা এ সময় দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গানে সকলকে আপ্লুত করেন। প্রবীন প্রবাসী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সকলেই ৫২ বছর আগের স্মৃতির অতলে হারিয়ে যান রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরি কিবরিয়া আর শহীদ হাসানের গানে। প্রথিতযশা এই ৩ শিল্পীর গানে মাতোয়ারা মিলনায়তনকে আরেক দফা নাচিয়ে নেয় নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের দরাজকন্ঠের গান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’র চ্যান্সেলর এবং মার্কিন আইটি সেক্টরে বাংলাদেশিদের কাজ পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালনরত পিপলএনটেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবুল মোহিতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা।অনুষ্ঠানে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্কে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখতে চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরালো করার আহবান জানান প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ সমুন্নত রাখতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন প্রবাসীগণের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি। আবুবকর হানিপ নয়া কমিটির কর্মকর্তাগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির কোর্স গ্রহণে ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদেরকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। তার ভার্সিটিতে পড়তে উচ্ছুকদেরকেও বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন বিপুল করতালির মধ্যে। এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে ৭ হাজারের অধিক প্রবাসীকে বিশেষ কোর্স প্রদানের মধ্যদিয়ে লাখ ডলারের অধিক বেতনের চাকরি সংগ্রহ করে দিয়েছে পিপল এ্যান্ড টেক। গত দু’বছরে বাংলাদেশ থেকে তার ভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার জন্যে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থী। নূরএলাহি মিনা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কার্যক্রমকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় অনন্য এক সহযোগি হিসেবে অভিহিত করেন। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে। তার এই সফরের সময় যে কোন মহলের অপতৎপরতা রুখে দিতে সচেতন প্রবাসীদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আয়োজনে নতুন কমিটির পরিচিতি পর্বে সকলকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আহবান করা হয়। ছোট্টমণি আলিশা খান, নিহাল হাসান, আরিয়া হাসান, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, উর্নিষা হাওলাদারের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছাকালে পুরো অডিটরিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা হলেন ক্যাপ্টেন (অব:) ডা. সিতারা রহমান বীর প্রতিক, মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমদ বীর প্রতীক, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা কাদেরি কিবরিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ পাটোয়ারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মলিনচন্দ্র সাহা এবং হারুন ভূইয়া। নয়া কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুৃন্নু, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া এবং আলিম খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ হাজী জাফরউল্লাহ, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. রফিক খান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক তানভির হাবিব শুভ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, যুব সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন। নির্বাহী সদস্যরা হলেন : বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা গুলজার হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, আবুল হাসান মিলন, মোহাম্মদ শামীম শরিফ, নুরুন্নাহার নিশা খান, কাজী মনসুর খৈয়াম, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, নাহিদ রেজা জন এবং আবু সাঈদ সিদ্দিক জামি। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ গত ৫ বছর দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় নয়া কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার দায়িত্ব গ্রহণ পর্বে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এবং ফোবানার আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার ও সাবেক চেয়ারপার্সন জাকারিয়া চৌধুরি এই ফোরামের নয়া কমিটির সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তথা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারনা দিতে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেছে, সামনের দিনগুলোতে তা আরো প্রস্ফুটিত হবে। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর মানুষের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বাঙালির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই ফোরাম। মুক্তচিন্তার কলামিস্ট ও কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এই প্রবাসে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। ওদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। আলোচনা সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেন, জয় বাংলা হচ্ছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলাদেশের সমার্থক। তাই প্রবাসে জন্মগ্রহণকারিদেরকে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে একাকার করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। যারা বাংলাদেশের সংবিধান মানে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে থামিয়ে দিতে বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত-তাদের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে প্রবাসীদের পাশে থাকবে এই ফোরাম। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশেদ আনোয়ার বাবলু, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমেদ বীর প্রতিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া এবং অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, সহ-সভাপতি শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ, ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ, এটর্নী জান্নাতুল রুমা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সমিরুল ইসলাম বাবলু, সুলতানা রহমান, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন, আবুধাবির আল আইন সেন্ট্রাল বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার উত্তম কুমার হাওলাদার, মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলম, নিউ আমেরিকান ডেমক্র্যাট আহনাফ আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মনিকা রায় চৌধুরী, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সদস্যপ্রার্থী সিরাজদৌলাহ হক বাশার, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ওসমান চৌধুরী, কম্যুনিটি লিডার শাহিন খান, নাসরীন শিল্পী, এটিএম মাসুদ প্রমুখ। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.